May 2018


কুতুবমিনারের সেই দিন
তাওহীদ আদনান

হিন্দুস্তান এসেছি মাস কয়েক হয়ে গেলো৷ এখানে আসার মূল উৎস হলো দারুল উলুম দেওবন্দ৷ মাদারে ইলমীতে ইলমের স্বাদ নেয়ার আগ্রহ সেই বাল্যকাল থেকেই৷ অবশেষে চলেও এলাম আল্লাহর ফজল ও করমে৷ আল্লাহ পাকের শুকরিয়া যে, তিনি কবুল করেছেন আমাকে আমার এই স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে৷

 আকাঙ্খা ছিলো, হিন্দুস্তান যেহেতু এসেছি, এবার মুসলিম ঐতিহ্যের নিদর্শনগুলোও পর্যবেক্ষণ করবো৷ তবে সময় যেন আর হয়েই উঠছিলো না৷ দিন গড়িয়ে যাচ্ছে৷ পড়া লেখায় ব্যস্ততাও ক্রমশ বাড়ছে৷ মনটা কেমন যেন ভেঙ্গে যেতে লাগলো৷ ঐতিহ্যের কুতুবমিনার, জামে মসজিদ আর লালকেল্লার নাম শুনেছিলাম বহু আগেই৷ এমন স্থান মিস করা যেন মেনেই নিতে পারছিলাম না৷

দিনটি ছিলো ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর। বাংলাদেশ থেকে দেওবন্দ সফরে এলেন দু'জন ব্যক্তিত্বশীল মানুষ৷ এবার যে তাদের নিয়ে যেতেই হবে ছোটখাট কোন ট্যুরে৷ মনে মনে ভালোই লাগছিলো৷ কিন্তু পড়ালেখার কী হবে; ভাবনায় পড়ে গেলাম৷ এরই মধ্যে পেলাম আশার বাণী৷ ১২ ও ১৩ নভেম্বর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের বার্ষিক সভা হবে রাজস্তানে৷ সে হিসেবে আগে পরে দু'একদিনসহ সভার দিনগুলোতে মাদরাসায় কিছুটা শীথিলতাও থাকতে পারে। ব্যস, প্রোগ্রাম বানিয়ে নিলাম ঝটপট৷

১১ নভেম্বর। সকাল সকাল রওয়ানা হলাম৷ উদ্দেশ্য দিল্লির কুতুবমিনার৷ দেওবন্দ থেকে  ফার্স্ট প্যাসেঞ্জার এক্সপ্রেসে পৌঁছলাম নয়া দিল্লি। সফরসঙ্গী আগত মেহমানদ্বয়সহ মোট পাঁচজন আমরা৷ মেহমানদের আবার ১২ ও ১৩ তারিখের প্রোগ্রামে রাজস্তান যাবার ইচ্ছেও প্রচুর৷ তাই হাতে সময়ও কিছুটা কম৷ ফলে নয়া দিল্লি থেকে  ঘন্টা খানেকের মধ্যেই ছুটলাম কুতুবমিনারের পথে৷ সকলের পরামর্শক্রমে আব্দুল হাই ভাইয়ের চেনা পথে আমরা চেপে বসলাম মেট্রোতে৷ হিন্দুস্তানে মেট্রো-সফর এক মজাদার অনুভূতি। এখানে এসে এ সফর না হলেই নয়৷ দিল্লি শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই কুতুবমিনার৷ যেতে যেতেই কেটে গেলো বেশ কিছুটা সময়৷ কুতুবমিনার যখন পৌঁছলাম সূর্যটা তখন ঠিক মাথার উপর৷

টিকেট কিনে ঝটপট ঢুকে পড়লাম ভেতরে৷ প্রধান গেট দিয়ে ঢুকতেই সামনে খোলা মাঠ৷ হাতের ডানে 'কুওয়াতুল ইসলাম' মসজিদ আর বামে সুন্দর সবুজঘেরা সমতল মাঠ৷ মাঠের বরাবর বামেই ঐতিহাসিক কুতুবমিনার। গাছ-গাছালীর ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো স্বপ্নের সেই মিনারটি। ভেতরে ঢুকতেই আমাদেরকে স্বাগত জানালো কিছু বাদামী গোলাপ ও নাম না-জানা অন্যান্য ফুল৷ ফুলেল শুভেচ্ছা যেন একেই বলে৷ ফুলের গন্ধে মৌ মৌ করছিলো চারদিক৷ মাতোয়ারা ছিলাম আমরা সবাই৷ বেশ কিছু গাছের পাতায় পাতায় বসে থাকা পাখিগুলো ডেকে উঠছিলো থেমে থেমে৷ মনমাতানো সুরে গেয়ে যাচ্ছিলো অবিরাম৷ হেলে দুলে ধীর পায়ে এগিয়ে চললাম সামনের দিকে৷

 প্রবেশ করলাম মূল সৌধের অভ্যন্তরে৷ চোখের সামনে ভেসে উঠলো আশপাশের বেশ কিছু প্রাচীন এবং মধ্যযুগীয় স্থাপনা ও ধ্বংসাবশেষ৷  যেগুলো একত্রে কুতুব কমপ্লেক্স হিসেবেই পরিচিত। এই কমপ্লেক্সটি ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাবদ্ধ৷ দিল্লির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের অন্যতম এই কুতুব মিনার৷ সৌধের ভেতরেই আছে বাদশা ইলতুতমিশের কবর৷ কুতুব মিনার ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ পরিদর্শিত সৌধ, যা তাজমহলের চেয়েও বেশি৷ ২০১৬ তে  যেখানে তাজমহলে পর্যটকের সংখ্যা ছিলো ২৫.৪ লাখ, সেখানে কুতুবমিনারে পর্যটক সংখ্যা ছিলো ৩৮.৯৫ লাখ৷

একটু ডানে এলাম৷ দেখলাম কুতুবমিনারের অপর পাশেই রয়েছে আরো একটি অসমাপ্ত ইটের মিনার৷ যার ব্যাপারে তেমন কোনো তথ্যই পেলাম না কারো কাছে৷ তবে এ'টুকু জানা গেলো যে, এর নির্মাণ কাজ শুরু করার পর বিশেষ কোন কারণে তা আর সমাপ্ত করা সম্ভব হয়নি৷

কুতুবমিনারের আরেক পাশে দেখা গেলো একটি লোহার পিলার৷ এটা নাকি প্রাচীন ভারতীয় লৌহকারদের অসাধারণ দক্ষতার একটি নিদর্শন৷ ধারণা করা হয় ১৬০০ বছর আগে তৈরি করা হয়েছিলো এই লৌহ স্তম্ভটি। এর উচ্চতা মোট ২৩ ফুট আট ইঞ্চি, যার তিন ফুট আট ইঞ্চিই রয়েছে মাটির নিচে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এতো বছর পরেও  এতে  জং ধরেনি একটুও৷ বিশেষজ্ঞরা এর বিশ্লেষণ করে অনেক তথ্য তুলে ধরেছেন। এতো বছর আগেও উন্নতমানের লোহার পাশাপাশি তাদের বিজ্ঞানসম্মত নির্মাণ কৌশলের কারণে নাকি স্তম্ভটি আজও বহাল তবিয়তে আছে। ব্রাহ্মণ লিপিতে খোদাই করা স্তম্ভে সংস্কৃত ভাষাতেও একটি প্রাচীনতম লিপি দেখা যায়৷  প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে এই প্রাচীনতম লেখাটি গুপ্ত রাজাদের রাজত্বকালের। লিপিতে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী জানা যায়, স্তম্ভটি উৎসর্গ করা হয়েছে ভগবান বিষ্ণুকে।

১১৯২ খ্রিস্টাব্দে চৌহান রাজা তাঁর সমকালীন এক রাজাকে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পরাজিত করেন। চৌহান রাজার এ বিজয়ের কিছুদিন পর ১১৯৩ সালে মুহাম্মাদ ঘুরির সেনাপতি ও প্রতিনিধি কুতুবুদ্দিন আইবেক ভারতবর্ষে অাধিপত্য অর্জন করতে সক্ষম হন৷ তিনিই ছিলেন ভারতের প্রথম মুসলিম শাসক৷ সে সময় তিনি দিল্লিতে 'কুওয়াতুল ইসলাম' নামে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন৷ আর তার পাশেই নির্মাণ আরম্ভ করেন একটি সুউচ্চ মিনারের, যা বর্তমান বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনার হিসেবে বিবেচিত৷ 
১১৯৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি কুতুবমিনারের গোড়াপত্তন করলেও তাঁর তত্ত্বাবধানে কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় তলাই নির্মিত হয়। এরপর ১২১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২৩৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুতমিশের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মিনারের তৃতীয় ও চতুর্থ তলা এবং শেষে সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের হাতে পঞ্চম তলার নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। পরবর্তীকালে কুতুবুদ্দীন আইবেকের নামানুসারেই এর নামকরণ করা হয় 'কুতুবমিনার'৷

মূলত কুতুবমিনার একটি বিজয়স্তম্ভ৷ এটি মুসলমানদের ভারত বিজয়ের এক অনন্য স্মারক৷ স্মরণিকা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সাতশো বছর ধরে৷ এ মিনারটি ভারতবর্ষের মুসলিম ঐতিহ্যের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে নির্মিত এই কুতুবমিনারই ভারতবর্ষের সর্বোচ্চ টাওয়ার। এর উচ্চতা ৭২.৫ মিটার। মিনারের অভ্যন্তরে উপরে উঠার সিঁড়ি রয়েছে ৩৭৯ টি। মিনারের ব্যাস নিচের দিকে ১৪.৩ মিটার এবং উপরের দিকে ২.৭৫ মিটার। কুতুবমিনারের দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে ২৫ ইঞ্চির একটি ঢাল, যা 'নিরাপদ সীমা' বলে বিবেচিত৷

কুতুবমিনার মিনারটি তৈরী করা হয়েছে পরিপূর্ণ লাল বেলে পাথর দিয়ে৷  এসব পাথরের উপরে খোদাই করে লেখা হয়েছে পবিত্র কুরআনের আয়াত। বেলে পাথরের উপরে আয়াতসমৃদ্ধ এসব আকর্ষণীয় ক্যালিওগ্রাফি মিনারের সৌন্দর্য বাড়িয়ে কয়েকগুণ। এছাড়াও মিনারের প্রাচীরকে দেখা যাচ্ছিলো নানা প্রকারের অলঙ্করণ দ্বারা সুশোভিত। 

ঐতিহাসিকদের অভিমত হচ্ছে, 'কুওয়াতুল ইসলাম মসজিদ' এর মুসুল্লিদের সুবিধার্থে আযান দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হতো কুতুবমিনার। প্রথম তলায় আযান দেয়া হতো নিয়মিত। সর্বাধিক উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে  নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার হিসেবেও এর ব্যবহারের উপযোগিতাও লক্ষণীয়।

ভূমিকম্পের কারণে কুতুবমিনার বেশ ক'বার বিধ্বস্ত হলেও মুসলিম শাসকগণ পুনঃনির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নিতে বিলম্ব করেননি বিন্দুমাত্রও। ১৫০৫ সালে উপরের দু'টি তলা ভূমিকম্পের কারণে বিধ্বস্ত হলে সুলতান ইলতুতমিশ পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১৭৯৪ সালে ভূমিকম্পের ফলে এর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হলে সুলতান সিকান্দর লোদী আবার সংস্কারের ব্যবস্থা করেন।

১০০ একর জমির উপর কুতুব কমপ্লেক্সে  কুওয়াতুল ইসলাম মসজিদ, কুতুব মিনার ও লৌহ পিলার ছাড়াও রয়েছে আলাই মিনার ও আলাই গেট৷ রয়েছে সুলতান ইলতুতমিশ, সুলতান গিয়াস উদ্দীন বলবন, সুলতান আলাউদ্দিন খালজী ও ইমাম জামিনের সমাধি৷ 

সময়ের স্বল্পতা ছিলো শুরু থেকেই। তাই যথেচ্ছা ঘোরাঘুরির ফুরসত আর হয়ে উঠলো না৷ তবুও এই স্বল্প সময়ে কুতুবমিনারকে দেখেছিলাম মন ভরে৷ তার দৃশ্য ছিলো মোহনীয়৷ দেখছিলাম চাতক পাখির ন্যায়। লোভাতুর দৃষ্টি মেলে কেবল তাকিয়ে ছিলাম তার রূপ-সৌন্দর্যের পানে৷

বেলা গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যা৷ ফিরতে হবে এখনি৷ যাত্রা বহুদূর৷ বেরিয়ে এলাম কুতুব কমপ্লেক্স থেকে৷ পথ ধরলাম সোজা নয় দিল্লির৷ দেখতে দেখতে আকাশে ছেঁয়ে গেছে লালিমায়। সূূর্যটা কুসুম বর্ণ ধারণ করে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলো পশ্চিমাকাশে৷ দেখতে দেখতে কখন যে হারিয়ে গেলো সূর্যটা, টেরই পেলাম না। এরই মধ্যে পৃথিবীকে ঢেকে নিলো আঁধার৷

 দেওবন্দ, ভারত।


কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের গর্ব
মুহাম্মাদ এমদাদুল্লাহ

বাংলা সাহিত্য জগতে যার কাব্য নানা রঙে রঙিন, নানা বর্ণে বর্ণিল। যার শব্দ, কথামালা এবং ভাষাশিল্পে রয়েছে নান্দনিকতা, নিপুণ কৌশল। যার কবিতা ও গানে মানুষ জেগে ওঠে নতুন করে। ফিরে পায় স্বপ্নযাত্রার মসৃণ পথ। তিনি আমাদের প্রিয় কবি, জাগৃতির কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

পুষ্প প্রস্ফুটিত হয়েছিল সেই কতদিন আগে! কিন্তু তার সুবাসে আজও সুবাসিত উদ্যান; সাহিত্য উদ্যান। তাঁর পাঁপড়ি ছুঁয়ে তরুণ হৃদয়ে সঞ্চারিত হয় নবচেতনা। তাঁর কাব্যে বেজে ওঠে দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবোধ। তাঁর ছন্দমালায় উদ্ভাসিত হয় সভ্যতা ও সংস্কৃতি। মানুষ খুঁজে পায় আত্মার প্রশান্তি।

যেখানে মিথ্যা ভেঁড়াজাল, সেখানে তাঁর কবিতার ঝংকারে নেচে উঠেছিল সত্যের স্থবির মূর্তি। আলোর ঝাণ্ডা ওড়াতে গিয়েই শিকলবদ্ধ হতে হয়েছিল বৃটিশদের কাছে। এ শৃঙ্খল বড় নিষ্ঠুর জেনেও লড়ে গিয়েছেন আমাদের জাতীয় কবি। এমন প্রতিভাবান সাহসী কবি বাংলার উদ্যানে আর আসবে কিনা সন্দেহ। দীর্ঘস্বরে যুলুম- অত্যাচারের বিরুদ্ধে 'অগ্নিবীণা' আর কে রচনা করবে? আর কে আমাদের শোনাবে 'বল বীর, বল উন্নত মম শির'? নজরুলের সুরে 'বিষের বাঁশি' বাজানোর সাধ্য আছে কারও? 'সর্বহারা' 'সন্ধ্যা'য় 'সাম্যবাদী' একজন কবি ছিলেন আমাদের গর্বের ধন কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আজ সেই প্রিয় কবির জন্মদিনে তাঁকে খুবই মনে পড়ছে। দেখতে ইচ্ছে করছে এক পলক। কিন্তু তা সম্ভব নয় জানি। তবে কবিতার শব্দে শব্দে আজীবন তাঁকে দেখি হৃদয়ের মাঝখানে। তিনি অমর, তাঁর কর্ম ও প্রতিভা অমর। সারাজীবন তিনি বেঁচে থাকবেন বাংলার মাটিছোঁয়া মানুষের অন্তরে, সাহিত্য ও কবিতার ঝংকারে।

[ আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ছোট্ট একটি নদীঘেঁষা গ্রাম চুরুলিয়াতে। অখণ্ড ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমায় এই গ্রাম। কে জানত শতাব্দীর এক মহান কবি এপথ হয়ে আসছেন, যিনি অন্ধকার পৃথিবীতে সম্ভাবনার আশার আলো ছড়াববেন? দিনটি ছিল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ অনুযায়ী ১৮৯৯ ইংরেজী সালের ২৫ মে তারিখ । মা জাহেদা খাতুন ও বাবা কাজী ফকির আহমদের ভালোবাসার প্রতীক নজরুল পীরপুকুর সংলগ্ন বিখ্যাত কাজী পরিবারে জন্মলাভ করেন। তাঁর শৈশবের দিনগুলোও এখানেই অতিবাহিত হয়। তখন কবির ডাকনাম ছিলো দুখু মিয়া।

শৈশবের কবি নজরুল ছিলেন প্রচণ্ড ডানপিঠে ও চঞ্চল প্রকৃতির। একসময় দারিদ্রের তাড়নায় রুটির দোকানে খেটে খেতে হয়েছিল তাঁকে। জীবনমুখী সংগ্রাম। পড়ালেখা ছিল দশম শ্রেণী পর্যন্ত। মেধার জোরে ক্লাসে প্রথম হতেন সবসময়। ধর্ম-কর্মেও নজরুল কম ছিলেন না। তৎকালীন মক্তবে প্রাথমিক ইসলামি শিক্ষার পাঠ প্রদানও করেছেন তিনি। পরবর্তিতে ইসলামি জাগরণের অসংখ লিখনী ও কবিতায় তিনি বাংলা সাহিত্যাঙ্গণকে সমৃদ্ধ করেন। বাংলার পাশাপাশি আরবী ও ফার্সী ভাষাতেও তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল।

নজরুল আমাদের জাতীয় কবি, তিনি ভালবাসার প্রতিচ্ছবি হয়েই আজীবন বেঁচে থাকবেন আমাদের অন্তরে, হৃদয়ের গভীরে]

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget