লেখক-সাহিত্যিক


কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের গর্ব
মুহাম্মাদ এমদাদুল্লাহ

বাংলা সাহিত্য জগতে যার কাব্য নানা রঙে রঙিন, নানা বর্ণে বর্ণিল। যার শব্দ, কথামালা এবং ভাষাশিল্পে রয়েছে নান্দনিকতা, নিপুণ কৌশল। যার কবিতা ও গানে মানুষ জেগে ওঠে নতুন করে। ফিরে পায় স্বপ্নযাত্রার মসৃণ পথ। তিনি আমাদের প্রিয় কবি, জাগৃতির কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

পুষ্প প্রস্ফুটিত হয়েছিল সেই কতদিন আগে! কিন্তু তার সুবাসে আজও সুবাসিত উদ্যান; সাহিত্য উদ্যান। তাঁর পাঁপড়ি ছুঁয়ে তরুণ হৃদয়ে সঞ্চারিত হয় নবচেতনা। তাঁর কাব্যে বেজে ওঠে দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবোধ। তাঁর ছন্দমালায় উদ্ভাসিত হয় সভ্যতা ও সংস্কৃতি। মানুষ খুঁজে পায় আত্মার প্রশান্তি।

যেখানে মিথ্যা ভেঁড়াজাল, সেখানে তাঁর কবিতার ঝংকারে নেচে উঠেছিল সত্যের স্থবির মূর্তি। আলোর ঝাণ্ডা ওড়াতে গিয়েই শিকলবদ্ধ হতে হয়েছিল বৃটিশদের কাছে। এ শৃঙ্খল বড় নিষ্ঠুর জেনেও লড়ে গিয়েছেন আমাদের জাতীয় কবি। এমন প্রতিভাবান সাহসী কবি বাংলার উদ্যানে আর আসবে কিনা সন্দেহ। দীর্ঘস্বরে যুলুম- অত্যাচারের বিরুদ্ধে 'অগ্নিবীণা' আর কে রচনা করবে? আর কে আমাদের শোনাবে 'বল বীর, বল উন্নত মম শির'? নজরুলের সুরে 'বিষের বাঁশি' বাজানোর সাধ্য আছে কারও? 'সর্বহারা' 'সন্ধ্যা'য় 'সাম্যবাদী' একজন কবি ছিলেন আমাদের গর্বের ধন কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আজ সেই প্রিয় কবির জন্মদিনে তাঁকে খুবই মনে পড়ছে। দেখতে ইচ্ছে করছে এক পলক। কিন্তু তা সম্ভব নয় জানি। তবে কবিতার শব্দে শব্দে আজীবন তাঁকে দেখি হৃদয়ের মাঝখানে। তিনি অমর, তাঁর কর্ম ও প্রতিভা অমর। সারাজীবন তিনি বেঁচে থাকবেন বাংলার মাটিছোঁয়া মানুষের অন্তরে, সাহিত্য ও কবিতার ঝংকারে।

[ আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ছোট্ট একটি নদীঘেঁষা গ্রাম চুরুলিয়াতে। অখণ্ড ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমায় এই গ্রাম। কে জানত শতাব্দীর এক মহান কবি এপথ হয়ে আসছেন, যিনি অন্ধকার পৃথিবীতে সম্ভাবনার আশার আলো ছড়াববেন? দিনটি ছিল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ অনুযায়ী ১৮৯৯ ইংরেজী সালের ২৫ মে তারিখ । মা জাহেদা খাতুন ও বাবা কাজী ফকির আহমদের ভালোবাসার প্রতীক নজরুল পীরপুকুর সংলগ্ন বিখ্যাত কাজী পরিবারে জন্মলাভ করেন। তাঁর শৈশবের দিনগুলোও এখানেই অতিবাহিত হয়। তখন কবির ডাকনাম ছিলো দুখু মিয়া।

শৈশবের কবি নজরুল ছিলেন প্রচণ্ড ডানপিঠে ও চঞ্চল প্রকৃতির। একসময় দারিদ্রের তাড়নায় রুটির দোকানে খেটে খেতে হয়েছিল তাঁকে। জীবনমুখী সংগ্রাম। পড়ালেখা ছিল দশম শ্রেণী পর্যন্ত। মেধার জোরে ক্লাসে প্রথম হতেন সবসময়। ধর্ম-কর্মেও নজরুল কম ছিলেন না। তৎকালীন মক্তবে প্রাথমিক ইসলামি শিক্ষার পাঠ প্রদানও করেছেন তিনি। পরবর্তিতে ইসলামি জাগরণের অসংখ লিখনী ও কবিতায় তিনি বাংলা সাহিত্যাঙ্গণকে সমৃদ্ধ করেন। বাংলার পাশাপাশি আরবী ও ফার্সী ভাষাতেও তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল।

নজরুল আমাদের জাতীয় কবি, তিনি ভালবাসার প্রতিচ্ছবি হয়েই আজীবন বেঁচে থাকবেন আমাদের অন্তরে, হৃদয়ের গভীরে]

Post a Comment

[blogger]

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget