ব্যস্ত স্বাধীনতা
কাজী হামদুল্লাহ

এই ব্যস্ত নগরেও মানুষ অলস পড়ে আছে,
ড্রাইভারের অলস গতি টপকে যায় পথিক,
রোড পারাপারে উদ্যমী মানুষের দলছুট দশা
উপেক্ষা করে যায় ট্রাফিক পুলিশ ও ড্রাইভার।
উড়ালসেতুর পাতালে ব্যস্ত কিছু প্রাণীর দীর্ঘঃশ্বাস,
তবে ব্যস্ততা অবৈধ দখলের, অবৈধ আবাসনের(!)

শপিং কমপ্লেক্সের সিঁড়িঘেঁষা ব্যস্ত দু'জন নারী আর
ছেঁড়া জামা পরিহিত একটি ফুটফুটে শিশু,
হন্তদন্ত ছোটা দারোয়ান, ব্যস্ত তার চলার গতি।
ব্যস্ত শহরে এ'টুকু ব্যস্ততা যে না হলেই নয়!

দৈনিক পত্রিকার অফিসে টিমটিমে আলো
একপাশের আবছা আঁধারে  লাঠি হাতে বসা
একজন বয়োবৃদ্ধ ভিক্ষুক কিংবা একজন মানুষ।
গ্রাম থেকে এসেছে সেই পাঁচ-ছ'মাসের বেশি,
বড় ছেলে দুবাই ফেরত তাই উত্তাপ সারা দেহে;
চোখের জলে পিতা শীতল করছে তা অথবা দগ্ধ।
অলস সময় কাটে তার হেডনিউজকারী ভবনটায়,
একপাশের ময়লা দেয়ালঘেঁষা পাঁজর ছুঁয়ে।

একজন ব্যস্ত সংবাদকর্মী বা সাংবাদিকের হাসি,
ফুরফুরে মেজাজ, লাফিয়ে মাড়ায় সিঁড়িগুলো।
অতপর হেডলাইনের নিচে একপাশে নিজের নাম;
তৃপ্তি-পরিতৃপ্তিতে উচ্ছ্বসিত হয় তার ব্যস্ত চেহারা।

থলে হাতে ব্যস্ত ক্রেতার ছুটোছুটি দোকান-দোকান,
কতোক্ষণ চালের জন্যই ঘুরোঘুরি আর দৌড়ঝাঁপ;
অন্যকিছুর জায়গা হয়তো থলেতে নেই কিংবা পকেটে...
ঘন্টা তিনেক পর অলস পায়ে বাড়ি ফেরে ক্রেতা,
রান্নার কাজে ব্যস্ত হতে তার গিন্নী যে উদগ্রীব!

এই ব্যস্ত নগরের আলসেমী আমাদের স্বাধীনতা?
এই  অলসপ্রহরে ব্যস্ততা আমাদের উন্নতি?
অলস লোকগুলো আর ব্যস্ত মানুষ
যেদিন একাকার হবে,
সেদিন বুঝবো আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি,
আমরা মানুষ হয়েছি, মানুষের বন্ধু হয়েছি।

১৯ মার্চ ২০১৮, রাত ১০.১৯ মিনিট
আগ্রাবাদ থেকে হাটহাজারীর পথে