04/03/18


      ঘষামাজা       
আইয়ুব বিন মঈন


(সূচনা পর্ব)
বাংলাভাষা অন্য যে কোনো ভাষার চেয়ে বহুলাংশে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিশেষ করে বর্ণ, অক্ষর ও শব্দের দিক থেকে। জোড়াতালি দিয়ে কোনো বর্ণ বা শব্দ তৈরি করতে হয় না। প্রতিটি উচ্চারণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অক্ষর বা বর্ণ আছে। সম্বোধনের ক্ষেত্রে সম্বোধিত ব্যক্তির স্তর ও মর্যাদা অনুসারে রয়েছে স্বতন্ত্র শব্দমালা। যেমন ইংরেজিতে সবার জন্য শুধু You ব্যবহার হয়, অথচ বাংলায় ব্যবহার হয় তুই, তুমি ও আপনি। 
আপনি সম্মানসূচক শব্দ। ক্রিয়াপদের ক্ষেত্রে তার শেষে ‘ন’ যোগ করে সেই সম্মান দেখাতে হয়। তবে সবার জন্যই এমন সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা চলে না। এ জন্য তার বয়স আঠার বছর পেরুতে হয়। এছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার বেলায়ও তা প্রযোজ্য নয়। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা আবশ্যক আর সেটি হল “মহামান্য আদালত’’। আর হ্যাঁ, এই “মহামান্য” শব্দটাও কিন্তু শুধু দু’টি জায়গা ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। সেই দুই জায়গার একটি হল ব্যক্তি অন্যটি হল প্রতিষ্ঠান তথা রাষ্ট্রপতি ও আদালত। এক্ষেত্রে বলতে হবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি/প্রেসিডেন্ট ও মহামান্য আদালত। এছাড়া অন্য কোথাও, এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্যও “মহামান্য” শব্দটি ব্যবহার করা যাবে না।


জিজ্ঞেস
কোন ব্যক্তিকে ‘আপনি’ বলাটা সঠিক হবার জন্য আঠার বছর পার হতে হবে?
জবাব
এটা সাধারণ নিয়ম। আঠার পেরুলে তিনি অন্যের কাছ থেকে সম্মান পাওয়ার অধিকার ভোগ করেন। এছাড়া এটা অনেকটা নির্ভর করে উভয়ের সম্পর্কের ওপর। (সংক্ষিপ্ত জবাব)

জিজ্ঞেস
কেউ যদি “মহামান্য পোপ” বলে সম্মোধন করে, তাহলে সঠিক হবে? অনেকের ফেসবুক ‘পোষ্টে’ এমনটা দেখা যায়।
জবাব
কেউ “মহামান্য চৌকিদার” বললেও তো তার মাথায় কুড়াল মারা যাবে না। নিয়ম এক জিনিস আর তা মেনে চলা আরেক জিনিস। 
এই যে আপনি “পোস্ট”কে বানিয়ে দিয়েছেন “পোষ্ট”, এটা কে কীভাবে ঠেকাবে? তবে নিয়ম জানতে চাইলে বলা যাবে মাত্র...  
    (চলমান)

সাহিত্য সাময়িকী প্রবচন
পড়ুন, লিখুন ও বিজ্ঞাপন দিন

সাহিত্য সাময়িকী প্রবচন ৫ম সংখ্যায় প্রকাশিত


ধৈর্যের পাহাড়
সাহাবি হযরত আবু তালহা রাযিয়াল্লাহু আনহু। তাঁর স্ত্রী একজন গুণবতী নারী। তিনি সব সময় আল্লাহর ইচ্ছার ওপর সন্তুষ্ট থাকেন। তাঁদের একটি শিশু ছেলে আছে। ছেলেটিকে তাঁরা অনেক ভালোবাসেন। একদিন ছেলেটি অসুস্থ হয়ে পড়ল। কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর ছেলেটি একদিন মারা গেল।
প্রিয় ছেলের মৃত্যুতে মায়ের মন হাহাকার করে উঠল। তবুও তিনি আল্লাহর ইচ্ছার ওপর ধৈর্য ধরলেন। ছেলের লাশ কাপড় দিয়ে ঢেকে একপাশে রেখে দিলেন। প্রতিদিনের মতো সংসারের সব কাজ সারলেন। হযরত আবু তালহা রাযিয়াল্লাহু আনহু কোনো কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবর পাননি। তাঁর স্ত্রী প্রতিবেশীদের বলে রাখলেন, ছেলের বাবা বাড়িতে এলে কেউ যেন তাঁকে ছেলের মৃত্যুর খবর না দেয়, সময় মত আমিই বলব।
সন্ধ্যার সময় হযরত আবু তালহা রাযিয়াল্লাহু আনহু বাড়িতে ফিরলেন। তখনও তাঁর খাওয়া-দাওয়া হয়নি। তিনি প্রথমে ছেলের অবস্থা জিজ্ঞেস করলেন। বুদ্ধিমতি স্ত্রী জবাব দিলেন, ছেলে আগের চেয়ে অনেক শান্তিতে আছে।
হযরত আবু তালহা রাযিয়াল্লাহু আনহু নিশ্চিন্ত মনে খেয়ে শুয়ে পড়লেন। স্ত্রী সকালবেলা স্বামীকে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা বলুন দেখি, কেউ যদি আপনাকে কোনো জিনিস ধার দেয় এবং সময় শেষ হওয়ার পর তার জিনিস ফেরত চায়, তাহলে আপনি কি তা ফেরত দেবেন না?
হযরত আবু তালহা জবাব দিলেন, তা কেমন করে হতে পারে? তার জিনিস সে ফেরত নেবে, আমি তা আটকে রাখব কেন?
স্ত্রী বললেন, তাহলে আপনার কাছে আল্লাহ যে শিশু ছেলেটি আমানত রেখেছিলেন তার সময় শেষ হওয়ার পর তিনি তা ফেরত নিয়েছেন। তার জন্য সবর করুন।
হযরত আবু তালহা রাযিয়াল্লাহু আনহুও  স্ত্রীর মত সবর করলেন। ধৈর্যের পাহাড় হলেন। ছেলের কাফন দাফন শেষ হওয়ার পর তারা স্বামী-স্ত্রী মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে সব ঘটনা বললেন। নবীজি তাঁদের সবর দেখে অনেক খুশি হলেন। তাঁদের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন। আল্লাহ তাঁদের সবরের পুরস্কার হিসেবে আরেকটি ছেলে সন্তান দান করলেন। আগের সব কষ্ট ভুলিয়ে দিলেন।

শিক্ষা: পৃথিবীতে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, মা-বাবার সামনে সন্তানের মৃত্যু। এমন কষ্টের সময়ও সাহাবায়ে কেরাম ধৈর্য ধরেছেন। আমরাও বিভিন্ন দুঃখ-কষ্টের সময় ধৈর্য ধরব। এর বিনিময়ে আল্লাহ তা’লা আমাদেরকে অনাবিল সুখ-শান্তি দান করবেন।


সাদাসিধে জীবন
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু। তিনি দ্বিতীয় খলিফা উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহুর ছেলে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদিন আমি নিজের ঘরে খাবার খাচ্ছি। এর মধ্যে আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু এলেন। আমি তাঁর জন্য দস্তরখানে জায়গা করে দিলাম। তিনি সেখানে বসে পড়লেন। এরপর ‘বিসমিল্লাহ’ বলে এক লোকমা খাবার নিলেন। দ্বিতীয় লোকমা নিয়ে বললেন, আমার মনে হচ্ছে, এই তরকারিতে এমন চর্বি আছে, যা গোশতের নয়। তা আলাদাভাবে দেয়া হয়েছে।
আমি বললাম- আমিরুল মুমিনীন, আমি আজ দুই দিরহাম নিয়ে বাজারে গিয়েছিলাম। আমার ইচ্ছা ছিল, ভালো মানের চর্বিওয়ালা গোশত কিনব। কিন্তু তা অনেক দাম ছিল। তাই এক দিরহাম দিয়ে সাধারণ গোশত, আর এক দিরহাম দিয়ে ঘি কিনে গোশতের মধ্যে ঢেলে দেই। 
একথা শুনে হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গোশত ও ঘি উভয়টা একসঙ্গে এলে, তিনি একটি খেতেন অপরটি দান করে দিতেন। উভয়টি একসঙ্গে খেতেন না। তাই আমিও এই তরকারি খাব না। এতে গোশত ও ঘি দু'টোই আছে। 
আমি বললাম- আমিরুল মুমিনীন, এখন আপনি এটা খেয়ে নিন। আগামীতে যখনই গোশত ও ঘি একসঙ্গে মিলবে, তখন তাই করব। একটি নিজের জন্য রাখব এবং অপরটি দান করে দেব।
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন- না, আমি তা খাবই না।

শিক্ষা: আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে দুনিয়ার মোহ স্পর্শ করতে পারেনি। পারেনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ থেকে চুল পরিমাণ দূরে সরাতে। ফলে তাঁরা হয়েছেন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। তাই আমাদেরও উচিত তাঁদের আদর্শ গ্রহণ করা। তাঁদের মত ও পথ অনুসরণ করা।

দরিয়ার নামে চিঠি
হযরত উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহুর শাসনকালে মিশর জয় হলো। মিশরের অধিবাসীরা আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেল। তখন তিনি মিশরের গভর্নর। ‘বু-নাহ’ মাস শুরু হয়ে গেছে। তখনকার আঞ্চলিক মাসসমূহের একটি মাসের নাম বু-নাহ। মিশরীয়রা আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আরজ করল- আমিরুল মুমিনীন, আমাদের নীল দরিয়ার ব্যাপারে একটি প্রথা রয়েছে, এটা ছাড়া এই মৌসুমে এতে পানি প্রবাহিত হয় না।
আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, কী সেই প্রথা?
মিশরীয়রা বলল, বু-নাহ মাসের বারো তারিখ চলে গেলে, কোনো মা-বাবার কাছ থেকে তাদের একমাত্র অবিবাহিত মেয়েকে আমরা নিয়ে আসি। তাকে উত্তম পোশাক এবং অলংকার পরিয়ে সাজিয়ে তুলি। এরপর মেয়েটিকে নীল দরিয়ায় ফেলে দেই। তখন এতে পানি প্রবাহিত হয়। 
একথা শুনে আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু আশ্চর্য হয়ে বললেন, এই ধরনের কাজ ইসলামে নিষেধ। ইসলাম তো জাহেলি যুগের সব কুপ্রথা মুছে দিয়েছে।
মিশরীয়রা আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহুর কথায় দরিয়ায় মেয়ে ফেলা বন্ধ রাখল।
কিন্তু নীল দরিয়া প্রবাহিত হচ্ছে না। তাই তারা কষ্টে পড়ে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু বিস্তারিত অবস্থা উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে লিখে পাঠালেন। প্রতি উত্তরে হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু লিখলেন, এই ব্যাপারে আপনি যেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা ঠিক আছে। আপনি আপনার সিদ্ধান্তের ওপর অটল থাকুন। আমি এই চিঠির ভেতরে একটি চিরকুট পাঠালাম। আপনি এটা নীল দরিয়ায় ফেলবেন।
হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কথামতো আমর ইবনুল আস চিরকুটটি নীল দরিয়ায় ফেললেন। হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু চিরকুটে লিখেছেন, ‘হে নীল দরিয়া, তুমি যদি আল্লাহর হুকুমে চল, তাহলে প্রবাহিত হও।’ হঠাৎ পরদিন ভোরে আল্লাহ তা’লার কুদরতে নীল দরিয়ায় প্রচুর পানি বয়ে যেতে লাগল। এক রাতের মধ্যে ষোলহাত পানি এসে ভরে গেল। নীল দরিয়ার পানি এখনো বয়ে চলেছে। মিশরবাসীর জন্য এটা আল্লাহ তা’লার বড় নেয়ামত।

শিক্ষা: আল্লাহ তা’লার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকলে, আল্লাহ সেই আস্থা ও বিশ্বাসের পুরস্কার দেন। কথায় আছে না, ‘ভক্তিতে মুক্তি, বিশ্বাসে দরিয়া পার’।


সাহসের প্রতিবাদ
খোলাফায়ে রাশেদিনের শাসনকাল শেষ হয়ে সবেমাত্র বনু উমাইয়ার শাসনকাল শুরু হয়েছে। খোলাফায়ে রাশেদিনের শাসনকাল মানে প্রধান চার খলিফার শাসনকাল। প্রধান চার খলিফা হলেন, হযরত আবু বকর সিদ্দিক, হযরত উমর ফারুক, হযরত উসমান গণি এবং হযরত আলী মুরতাজা [রাযিয়াল্লাহু আনহুম]।
তখন মারওয়ান মদিনার গভর্নর। মদিনায় যারা বনু উমাইয়াদের শাসনের বিরুদ্ধে ছিল, তাদের ওপর সমানে জুলুম চালাচ্ছে। সরকারের হুকুমের বিরুদ্ধে কাউকে টু শব্দটিও করতে দিচ্ছে না। মদিনার লোকেরা মারওয়ানের ওপর বিরক্ত হয়ে উঠল। তাকে কেউ পছন্দ করে না। মারওয়ান মসজিদে নামাজ পড়ায়। লোকেরা তার পেছনে নামাজ পড়ে। কিন্তু নামাজের পর সে কিছু বলতে চাইলে লোকেরা উঠে উঠে চলে যায়। জুমআর নামাজের খুতবা হয় নামাজের আগে। খুতবা মানে বক্তৃতা। লোকেরা বাধ্য হয়ে তার খুতবা বা বক্তৃতা শোনে। কিন্তু ঈদের নামাজের পর কেউ খুতবা শোনে না। নামাজের পর নীরবে লোকেরা চলে যেতে থাকে। 
মারওয়ান দেখল, ঈদের নামাজে তার খুতবার সময় লোকেরা চলে যায়। তাই সে এক ফন্দি বের করল। সে নামাজের আগে খুতবা পড়ে ফেলার ইচ্ছা করল। তাহলে আর কেউ চলে যেতে পারবে না। মারওয়ান নামাজের আগে খুতবা পড়তে দাঁড়াল। সে মনে করল, তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারো নেই। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই হযরত আবু সাঈদ রাযিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি সাহসী কণ্ঠে প্রতিবাদ জানালেন। বললেন- ‘মারওয়ান, তুমি যত বড় গভর্নরই হওনা কেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিয়মে কোনো পরিবর্তন করার অধিকার তোমার নেই। নবীজি ঈদের জামাতে নামাজের পর খুতবা দিয়েছেন। তুমি নামাজের আগে খুতবা দিতে পারো না।’
মারওয়ান আগে খুতবা দিতে অনেক চেষ্টা করল। কিন্তু উপস্থিত জনতার রাগ-ক্ষোভ দেখে তার ইচ্ছা বদলাতে হলো। এরপর মারওয়ান আর কোনো দিন মহানবী সাল্লাল্লাহু    আলাইহি    ওয়াসাল্লামের   কোনো   নিয়ম পরিবর্তনের কথা ভাবতে পারেনি। তার সব ক্ষমতা এখানে এসে দুর্বল হয়ে পড়ে।

শিক্ষা : মাত্র একজন সাহাবির প্রতিবাদে সেদিন ইসলাম বিরাট ক্ষতি থেকে বেঁচে গেল। হযরত আবু সাঈদ রাযিয়াল্লাহু আনহু সেদিন প্রতিবাদ না জানালে হয়তো আজ ইসলামের মধ্যে অনেক পরিবর্তন ও কাটছাঁট দেখা দিত। আমরাও ইসলাম ও দেশের বিরুদ্ধে অন্যায় দেখলে সাহস ও প্রজ্ঞার সাথে প্রতিবাদ জানাব।

সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম।


সাহিত্য সাময়িকী প্রবচন
নিয়মিত পড়ুন, লিখুন ও বিজ্ঞাপন দিন

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget