ডিজিটাল প্রাইভেসি আইনে গ্রেপ্তার নিয়ে কূটনৈতিকদের উদ্বেগ, ক্ষুব্ধ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে পারব না ...
ডেস্ক: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে গ্রেপ্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং মত মপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাত দেশের কূটনৈতিকদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং ঢাকায় কর্মরত কূটনীতিকদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দুর্ভাগ্যজনক।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর প্রিন্সিপ্যিাল ডেপুটি অ্যাসিস্যান্ট সেক্রেটারি এলিস ওয়েলস এক টুইট বার্তায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ডিজিটাল আইনের অধীনে নতুন করে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে  বাংলাদেশে মত প্রকাশে রুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।

বাংলাদেশের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে সেটি নিশ্চিত করার আহবান জানিয়ে টুইট বার্তায় তিনি বলেন, বাক স্বাধীনতাই গণতন্ত্রের ভিত্তি এবং এই মহামারির সময়ে এটি মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে।

ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার অপর এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে মুক্ত ও স্বাধীন মিডিয়ার নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবভিত্তিক তথ্য পরিবেশন করতে পারার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে বাকস্বাধীনতা সমুন্নত রাখা এবং সাংবাদিকদের ঠিকমতো কাজ করতে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার আহবান জানিয়ে শুক্রবার আরও টুইট করেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপিয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনসে তেরিঙ্ক,যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত রবার্ট ডিকসন, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভেরওয়েজ, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শার্লোট স্লাইটার এবং ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এসট্রাপ পিটারসন। 

রাষ্ট্রদূত রেনসে তেরিঙ্ক তার টুইট বার্তায় বলেন, এই সংকটজনক সময়ে বাক স্বাধীনতা অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্যই সাংবাদিকদের স্বাধীন ও মুক্তভাবে তাদের কাজ করতে দিতে হবে, যদিও ফেক নিউজ একটি বড় ধরনের সমস্যা।  

রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন টুইট বার্তায় লিখেছেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ অপরিহার্য। অন্য চারজন রাষ্ট্রদূতও একই ধরনের টুইট বার্তা দিয়েছেন। তারা আরও লিখেছেন, তথ্যভিত্তিক সংবাদের জন্য স্বাধীন সাংবাদিকতার নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

ইউএনবি জানিয়েছে, ঢাকায় কর্মরত কূটনীতিকদের টুইট বার্তার প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমন বলেন, কূটনীতিকদের এ ধরনের বক্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। তাদের কিছু বলার থাকলে সেটা কূটনৈতিক রীতিতে সরকারকে বলতে পারতেন। তারা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন সেটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

হিউম্যান রাইট ওয়াচের বিবৃতি: করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে কার্টুনিস্ট, লেখক সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

শুক্রবার সংস্থার ওয়েব সাইটে এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, কেবলমাত্র ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ পোস্ট করার কারণে মামলা দায়ের না করে বরং আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনাগুলো গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে কোভিড -১৯-এর বিষয়ে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থায় কোন কোনো ফাঁক থাকলে তা বন্ধ করার চেষ্টা করা উচিত। সাংবাদিক, ডাক্তার এবং নার্স ও অ্যাক্টিভিস্টদের সরকারের হয়রানি করা বন্ধ করা উচিত এবং এর পরিবর্তে সহায়তা, স্বচ্ছতা এবং সম্পদ নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করা যায়গাগুলোতে কাজ করা উচিত।'

বিবৃতিতে আরও বলা হয়,  মত প্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে এমন যেকানো পদক্ষেপ গ্রহণ বন্ধ করতে হবে। ১১ জনের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে  এবং কারাগারে থাকা চারজনকে মুক্তি দিতে হবে। এ ছাড়া বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানায় হিউম্যান রাইট ওয়াচ। 

Post a Comment

[blogger]

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget