মেয়র আতিক সবাইকে সাথে নিয়েই গড়তে চায় আগামীর ঢাকা

মেয়র আতিক: চালকদের 'ডোপ টেস্ট' করা ...
ডেস্ক: সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকল্পে ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে জনগণকে সাথে নিয়েই আগামীর ঢাকা গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম। এছাড়া সিটির উন্নয়নে যে কারো যে কোন প্রকার সুন্দর মতামত গ্রহণ করবেন বলেও জানান। বুধবার দুপুর ১২ টায় মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দায়িত্ব গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে জুম ভিডিও কনফারেন্সে করা এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এসব কথা বলেন। করোনা মহামারীর পরিস্থিতিতে স্বল্প পরিসরে কম লোক সমাগম করে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন প্যানেল মেয়র মো. জামাল মোস্তফা। এসময় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আবদুল হাই,সচিব রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়া ও বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

ভবিষষ্যত ডিএনসিসি কেমন হবে তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন আতিকুল ইসলাম। এ সময় রাজধানীর দখলে থাকা বিভিণœ খাল দখলমুক্ত করে খনন করা, রাস্তাঘাট সংস্কার করা, সড়কবাতি সর্বাবস্থায় চালূ রাখা, ডেঙ্গু চিকনগুণিয়া সহ সকল প্রকার মশক নিধনে বছরব্যাপি কাজ করা, নিয়মিত শরীরচর্চা,খেলাধুলা, হাঁটাচলা করতে পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরী ও সংস্খার করা, ৩৬টি ওয়ার্ডে মশা নিধন, প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সহ অগ্নি নির্বাপণে ১টি করে স্যাটেলাইট অগ্নি নির্বাপণ স্টেশন স্থাপন, রাস্তায় আধুনিক এলইডির সড়কবাতি লাগানো, জলঅবদ্ধতা নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা,নাগরিকদের কাছ থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অভিযোগ গ্রহণ ও তথ্য প্রদান করা, ডিজিটালি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকল্পে সবার ঢাকা অ্যাপ এর কার্যক্রম চালূ করা, অনলঅইনে হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করার কথাও বলেন। এছাড়া ফেইসবুক লাইভে প্রতিমাসে একবার নাগরিকদের সমস্যা শোনাও সাথে সাথেই সমাধানের ব্যবস্থা সহ নির্বাচনী প্রতিটি ইশতেহার বাস্তবায়নের আম্বাস প্রদান করেন। তিনি যে কোন প্রকার নাগরিক সমস্যায় সরকারের সহযোগীতা নিয়ে কাজ করবেন বলেও জানান।

মেয়র আতিক বলেন, ঘন বসতিপুর্ণ আমাদের এই নগরীতে মশাবাহিত ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া প্রতি বছরের সমস্যা। প্রতি বছর বর্ষাকালীন সময়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ দেখা দেয়। করোনা ভাইরাসের মত ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়াও প্রাণঘাতী রোগ। ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া যেন অন্যান্য বছরের মত ভয়াবহ রূপ নিতে না পারে সেইজন্য আগে থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া থেকে শহরবাসীকে রক্ষা করতে আমাদের মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন,করোনা ভাইরাস সংক্রমণ কমাতে আপনারা যেমন বাসায় থাকছেন, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলছেন, ঠিক তেমনি ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া রোধেও সহযোগীতা করুন। আমরা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত লার্ভিসাইডিং, অ্যাডাল্টিসাইডিংসহ সচেতনতামুলক কার্যক্রম যেমন মাইকিং, ডিএনসিসির ফেইসবুক পেইজ এবং গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জনসাধারণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানোর লক্ষ্যে ডিএনসিসি একটি হটলাইন চালু করেছে। নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে বিনামূল্যে ডিএনসিসি এলাকার ৫টি নগর মাতৃসদন ও ২২টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১১ মে থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা যাবে। এছাড়া আগামী ১৬ মে থেকে পরিচ্ছন্নতা ও মশককর্মী দ্বারা চিরুনী অভিযান পরিচালনা করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

বিদ্যমান এই মহামারী পরিস্থিতিতে আমি নগরবাসীকে আশ্বস্থ করে মেয়র আতিক বলেন, ডিএনসিসির প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ফগার মেশিনের সাহায্যে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এছাড়া বছরব্যাপি মশক নিধনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় ডেঙ্গু রোগবাহী এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে গত ৭ অক্টোবর থেকে মশার প্রজননস্থল অর্থাৎ হটস্পট চিহ্নিত করার জন্য ২জন কীটতত্ত্ববিদ এবং ১০জন শিক্ষানবিস কীটতত্ত্ববিদ নিয়োজিত করা হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে গবেষণা করে কোন এলাকায় মশার তীব্রতা কত তা নির্ধারণ করেছেন এবং সে অনুযায়ী মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সেই সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওয়াসা, রাজউক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরগণও এই কাজের সাথে যুক্ত হবেন। নিজ-নিজ ওয়ার্ডের মশক নিয়ন্ত্রণ, পরিছন্নতাসহ যে কোনো বিষয়ে কাউন্সিলরগণ ব্যক্তিগতভাবে মনিটরিং করবেন। যদি কেউ তার দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করেন বা ব্যর্থ হন তবে তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএনসিসি’র কর্মকা- তুলে ধরে বলেন, বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ডিএনসিসির আওতাধীন সকল রাস্তাঘাট সংস্কার করা হচ্ছে। বর্ষাকালে রাস্তায় যেন পানি না জমে সেই জন্য নগরীর ড্রেন, খাল পরিষ্কার এবং খনন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কালশি খাল খনন করা হয়েছে। ধীরে ধীরে সিটি কর্পোরেশনের ভিতরে থাকা বাকি খালগুলো দখলমুক্ত করে খনন করা হবে। নগরীর রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডিএনসিসির রাস্তায় বসানো হচ্ছে আধুনিক এলইডিবাতি। নগরবাসী যেন নিয়মিত শরীরচর্চা খেলাধুলা হাঁটাচলা করতে পারে সেই লক্ষ্যে অনেকগুলো পার্কের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।বাকি পার্কগুলোর সংস্কার কাজ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন,ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৬টি ওয়ার্ডে ১টি করে ৩৬টি স্যাটেলাইট অগ্নি নির্বাপণ স্টেশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। এ স্যাটেলাইট স্টেশনে মশা নিধন, প্রাথমিক চিকিৎসা ইত্যাদির ব্যবস্থাও থাকবে।

মেয়র বলেন, ডিজিটালি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকল্পে “সবার ঢাকা” অ্যাপ এর কার্যক্রম শুরু হবে। ‘সবার ঢাকা’ অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী যে কোনো স্থান থেকে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সেবা এবং কাজের ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ সমাধানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। তাছাড়া নাগরিকরা যাতে অনলাইনে যে কোনো স্থান থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধনসহ অনেক নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতি মাসে একবার ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরবাসীর অভিযোগ, চাওয়া-পাওয়া, সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে সরাসরি তাদের সাথে কথা বলবো। ফলে নগরবাসীর সমস্যাগুলোর ব্যাপারে তাৎক্ষণিক বা দ্রুততম সময়ে সমাধান করা সম্ভব হবে।

আতিক বলেন, দেশ, দেশের জনগণ এবং এ ঢাকা শহরকে ভালোবেসে নগরবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি। গত মেয়াদের ৯ মাসে আমি অনেক কাজ করেছি। কিছু কাজ চলমান রয়েছে। আমার পূর্বের অসম্পন্ন কাজ এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি সবাইকে নিয়েই সবার ঢাকা বাস্তবায়নে যা যা প্রয়োজন তাই করবেন বলে জানান।

-জেকে

Post a Comment

[blogger]

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget