04/06/20



সতর্কতার জন্য সরকার উলামায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করে, যে কোনো ধরনের বড় জমায়েতকে নিষেধ করেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আদেশ দিয়েছে। জামাত ও জুমার উপস্থিতিকে সীমিত রাখার আদেশ জারি করেছে। শরয়ী দৃষ্টিতে এসকল সতর্কতামূলক নির্দেশনা সঠিক ও যথার্থ। সরকার কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনাকে মূল্যায়ন করা এবং তা উত্তমরূপে গ্রহণ ও পালন করা মানবতার কল্যাণে আমাদের অপরিহার্য কর্তব্য।

তবে সতর্কতা ও ব্যবস্থা গ্রহণই আমাদের একমাত্র কাজ নয়। বরং আমাদের কৃতপাপ ও সমূহ অন্যায় থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। ভবিষ্যতে সকল অপরাধ থেকে দূরে থাকার প্রতিজ্ঞা করে খালিছ দিলে তওবা করতে হবে। ঘরে বসে দুআ,ইস্তেগফার ও নফল ইবাদাতে মাশগুল থাকতে হবে। যেন আল্লাহ তাআলা অনতিবিলম্বে আমাদের থেকে এমহামারি তুলে নেন। নিরাপদে জীবন যাপন করার তওফীক দান করেন। আমাদেরকে ও সারা বিশ্বকে এ মহামারি থেকে প্ররিত্রাণ দেন।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা যেদিন রেকর্ড ছাড়ালো, সেদিনই সরকারের দায়িত্বশীল দুই কর্মকর্তা দিলেন সংখ্যা নিয়ে দুরকমের তথ্য।
আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা প্রথমদিকে এককভাবেই করোনাভাইরাস সংক্রান্ত দৈনিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসছিলেন, কিন্তু সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও এতে যোগ দিচ্ছিলেন।
যদিও পূর্ব নির্ধারিত ব্রিফিংয়েই প্রতিদিনকার তথ্য জানানো হয়, কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী মি. মালেক সোমবার এক অনির্ধারিত অনুষ্ঠানে আকস্মিকভাবেই নতুন আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন গত চব্বিশ ঘণ্টায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তার উল্লেখ করা নতুন শনাক্ত রোগী ছিলেন ২৯ জন, এই সংখ্যাও এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
কিন্তু এর দুই ঘণ্টা পর নিয়মিত অনলাইন সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসে সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩ জন।
নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩৫ জন।
স্পষ্টতই দুই রকম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে দুজনের কাছ থেকে, যদিও দুজনেই দায়িত্বশীল পদে আছেন এবং এই দুজনের যে কোন একজনের দেয়া তথ্যই এতদিন করোনাভাইরাস সংক্রান্ত গ্রহণযোগ্য তথ্য হিসেবে গণ্য করে আসা হচ্ছিল।
এখন দেখা যাচ্ছে জাহিদ মালেকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট মৃতের সংখ্যা ১৩, শনাক্ত রোগী ১১৭।
কিন্তু মিজ ফ্লোরার দেয়া হিসেব অনুযায়ী মোট রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১২৩ জন।
তাঁর হিসেবে, নতুন যারা শনাক্ত হয়েছেন তার মধ্যে পুরুষ ৩০ জন, পাঁচজন মহিলা
এখন পর্যন্ত যারা শনাক্ত হয়েছেন তার মধ্যে ঢাকায় ৬৪ জন, নারায়ণগঞ্জে ২৩ জন।
দুরকম তথ্যের ব্যাখ্যা
মন্ত্রী ও পরিচালকের দেয়া তথ্যের মধ্যে যে অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, "মন্ত্রী ব্রিফিং করেননি। তার বক্তৃতার অংশ হিসেবে তিনি সেটা বলেছেন।"
একটি নাম ভুল করার কারণে এই ভুলটি হয়েছে, বলেন তিনি।
যদিও আইইডিআরের ওয়েবসাইটে মোট মৃতের সংখ্যা ১৩ বলে উল্লেখ রয়েছে, যা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেয়া তথ্যের সাথে মেলে, আইইডিসিআর পরিচালকের দেয়া তথ্যের সাথে নয়।

সর্বশেষ তথ্য:

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৪০১১ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে।
আর গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৪৬৮টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে।
গত চব্বিশ ঘন্টায় ৭৩৯ জনকে কোয়ারিন্টনে রাখা হয়েছে।
আইসোলেশনে আছেন ১০৭ জন।
হটলাইনে টেলিফোন এসেছে ৬৭২১০।
-bbc

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস সংক্রমণে আরো তিনজন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ১২জন। 
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে করোনাভাইরাস বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। যদিও এই ব্রিফিংয়ের কয়েক ঘণ্টা আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে নতুন করে চারজনের মৃত্যু হয়েছে আর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২৯ জন।   
আজও ব্রিফ করেন ব্রিফ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ। এতে অন্যদের মধ্যে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাও উপস্থিত ছিলেন।
ফ্লোরা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে মোট ১২ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ৩৫। এ পর্যন্ত মোট সংক্রমিত হয়েছে ১২৩ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কেউ সুস্থ হননি। তিনি বলেন, যে তিনজন সর্বশেষ মারা গেছেন তাঁদের একজন এক সপ্তাহ আগে থেকে হাসপাতালে ছিলেন। আর বাকি দুইজন হাসপাতালে আসার সাথে সাথেই মৃত্যুবরণ করেছেন। আর সর্বশেষ আক্রান্ত ৩৫ জনের মধ্যে ১১ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ছয়জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ পর্যন্ত মোট ৬৬ হাজার ৫১১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন এবং ২৯৯ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬৬ হাজার ৮১০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
ডা. আজাদ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৭০৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন আর ৩০ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় উভয় কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে ৭৩৯ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে মোট ৫৫ হাজার ৪৮০ জনকে। বর্তমানে ১১ হাজার ৩৩০ জন কোয়ারেন্টিনে আছেন। 
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৩ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। এই সময়ে কাউকে আইসোলেশন থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এ পর্যন্ত মোট ৪৪৩ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৬ জনকে আইসোলেশন থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১০৭ জন আইসোলেশনে রয়েছেন। 

করোনাভাইরাস ছড়ানো ঠেকাতে এখন থেকে মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুধু মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমরা মসজিদে নামাজ আদায় করবেন। একই নির্দেশনায় অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়ে সমবেত না হয়ে নিজ নিজ বাসস্থানে উপাসনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেউ এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাখাওয়াৎ হোসেন সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ভয়ানক করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা ছাড়া অন্য সব মুসল্লি নিজ নিজ বাসায় নামাজ আদায় করবেন। জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায় করবেন। এটা সরকারের নির্দেশ। মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ অনধিক পাঁচজন এবং জুমার জামাতে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। বাইরের মুসল্লি মসজিদে জামাতে অংশ নিতে পারবেন না। এই নির্দেশ কেউ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিষয়ে ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঠেকাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবাই কঠোরভাবে এই নির্দেশনা মানবেন বলে তিনি মনে করেন। অন্যথায় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ সময় সারা দেশে কোথাও ওয়াজ মাহফিল, তাফসির মাহফিল, তাবলিগ তালিম বা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা যাবে না। সবাই ব্যক্তিগতভাবে তিলওয়াত, জিকির, ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করবেন। অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও এ সময় কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক আচার–অনুষ্ঠানের জন্য সমবেত হতে পারবেন না।

সব ধর্মের মূলনীতির আলোকে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কমিটিকে অনুরোধ করা হলো। কোনো প্রতিষ্ঠানে এই নির্দেশ লঙ্ঘিত হলে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণান করতে গিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় বলেছে, করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশে যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে ব্যাপক সংক্রমণ এবং বিপুল প্রাণহানির আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ধর্ম মন্ত্রণালয় বলেছে, বিভিন্ন দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটেছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও এ ধরনের বিস্তার ও প্রাণহানির ঘটনার উদাহরণ আছে। পবিত্র মক্কা, মদিনাসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের মসজিদে মুসল্লিদের আগমন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সর্বসাধারণের আগমন বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। গত ২৯ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং শীর্ষস্থানীয় আলেমরা মসজিদে মুসল্লি কম রাখার আহ্বান জানিয়েছিল। পরিস্থিতি এখন দ্রুত ভয়ংকর অবনতির দিকে যাচ্ছে।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget