04/11/20

নোয়াখালী জেলাকে লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। আগামীকাল শনিবার সকাল ছয়টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে।

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ–সংক্রান্ত জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ শুক্রবার বিকেলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় দাস এ–সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন।

আদেশ অনুসারে, সড়ক ও নৌপথে অন্য জেলা থেকে কেউ এই জেলায় প্রবেশ করতে পারবেন না। একইভাবে এ জেলা থেকেও কেউ বের হতে পারবেন না। একই সঙ্গে জেলার ভেতরে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায়ও আসা–যাওয়া করা যাবে না। 
তবে জরুরি পরিষেবা, যেমন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, টেলিফোন, ইন্টারনেট সেবায় নিয়োজিত কর্মী ও গাড়ি; চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত কর্মী ও যানবাহন, ওষুধশিল্প–সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাদ্যসামগ্রী, কৃষিপণ্য, সার-কীটনাশক, জ্বালানি ইত্যাদি পণ্য পরিবহনকাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এ আদেশের আওতামুক্ত থাকবে।
এক প্রশ্নের জবাবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, মুদিদোকান ও কাঁচাবাজার আগের মতো দিনের বেলায় সীমিত সময়ের জন্য খোলা রাখা যাবে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতা–বিক্রেতাকে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

করোনা বিশ্বজুড়ে জৈব-সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটতে পারে : জাতিসংঘ

অ্যান্তনিও গুতেরেস
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেছেন, বিশ্বজুড়ে কীভাবে জৈব-সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটতে পারে, তা দেখার সুযোগ করে দিয়েছে করোনা মহামারী।
বিশ্ববাসীকে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রহীন গোষ্ঠীগুলোর হাতে প্রাণঘাতী জীবাণু অস্ত্র চলে যেতে পারে। তখন তা করোনাভাইরাস রোগের মতোই বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে।
ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হয়েছে। এতে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইকে ‘একটি প্রজন্মের যুদ্ধ’ বলে আখ্যায়িত করেন অ্যান্তনিও গুতেরেস।
বৈশ্বিক করোনা মহামারীর কারণে বিশ্বে যেসব ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে তিনি সেই তালিকা দেন। গুতেরেস বলেন, কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) সবার আগে স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। কিন্তু এই ভাইরাসের প্রভাব আরও সুদূর-প্রসারী।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন,‘এটা জাতিসংঘের নিজেরই অস্তিত্বের লড়াই। আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার বড় হুমকি এই মহামারী। এতে পরিস্থিতিকে সামাজিক অস্থিরতার দিকে নিয়ে যাবে। সহিংসতা বাড়বে। যাতে রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সক্ষমতা খর্ব হয়ে যেতে পারে।’
তিনি বলেন, এই মহামারী যেভাবে দুর্বলতা ও প্রস্তুতির অভাবের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসছে, তাতে জৈব-সন্ত্রাসী হামলা কীভাবে হতে পারে, তা দেখার একটি সুযোগ করে দিয়েছে। এতে ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রহীন গোষ্ঠীগুলোর হাতে জীবাণু অস্ত্র চলে যেতে পারে, যা দিয়ে তারা সমাজে বিপর্যয় তৈরি করতে পারে।’

বিশ্বজুড়ে নোভেল করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা শুক্রবার এক লাখ ছাড়িয়েছে। সেইসঙ্গে দুনিয়াজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যাও ১৬ লাখে পৌঁছেছে। আক্রান্তের মধ্যে ৩ লাখের কাছাকাছি সেরেও উঠেছেন। গত আট দিনে মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। তার একটা বড় কারণ আমেরিকা, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও ব্রিটেনের মতো কয়েকটি দেশ।
আমেরিকায় শেষ চার দিনে প্রায় ৮ হাজার মানুষ করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। ফ্রান্স ও ব্রিটেনেও গতকয়েক দিন ধরে গড়ে প্রায় হাজার জন করে মারা যাচ্ছেন। ইতালি ও স্পেনে অতিমারির প্রকোপ গত এক সপ্তাহে খানিক কমলেও, মৃত্যু রোজ ৫০০-৬০০ মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, গোটা বিশ্বে এই মুহূর্তে করোনায় মৃতের সংখ্যাটা ১ লাখ ১ হাজার ৭৬২। আক্রান্ত বেড়ে হয়েছে ১৬ লাখ ৮০ হাজারা ৪৮৯। সম্পূর্ণ সেরে উঠেছেন ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫৩৮।
করোনা মৃত্যুতে আমেরিকা ও ইতালির মধ্যে ফারাক কমে উনিশ আর বিশ। এতদিন ইতালিই মৃত্যুর শিখর ছুঁয়েছিল। গতকয়েক দিনে মৃত্যুর সেই হার নেমে এসেছে। উল্টো দিকে, আমেরিকায় গড়ে গতকয়েক দিনে রোজ ২ হাজার করে মানুষ মারা যাচ্ছেন। ফলে, আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে মৃত্যুর শিখরেও উঠে আসছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবারও ১,৯০০ জন মারা গিয়েছেন ট্রাম্পের দেশে।
ইতালিতে মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার ৮৪৯। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৫৭০ জন। একদিনে আরও ৩,৯৫১ আক্রান্ত বেড়ে সংখ্যাটা হয়েছে এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৭৭। সেই হিসেবে ইতালির থেকে আমেরিকায় করোনায় মৃত্যুহার কম। কারণ, মার্কিন মুল্লুকে মোট ১৮ হাজার ০৩৪ মৃত্যু হলেও, আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। শুক্রবার রাত পর্যন্ত আমেরিকায় করোনা পজিটিভ ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪৬। স্পেনে মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ১৫ হাজার ৯৭০। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন ৫২৩ জন। অন্যদিকে, ব্রিটেনে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতের হিসেবে আরও ৯৮০ যোগ হয়েছে।
অন্যদিকে, ফ্রান্সে একদিনে বেডেছে আরও ৯৮৭ মৃত্যু। ফ্রান্স ও ব্রিটেনে মৃত্যু বেড়ে হয়েছে যথাক্রমে ১৩ হাজার ১৯৭ ও ৮ হাজার ৯৫৮। বেলজিয়ামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯৬ জন মারা গেছেন।
জার্মানিতে আরও ৮১টি মৃত্যুসহ মৃত বেড়ে হয়েছে ২,৬৮৮। গত ২৪ ঘণ্টায় গোটা বিশ্বে ৬ হাজার ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই সংখ্যাটা ছিল ৭ হাজার ২৩৪।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এক বিবৃতিতে বলেন, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ভয়াবহভাবে বিস্তার ঘটায় গণমাধ্যম, বিশেষ করে সংবাদপত্র, টেলিভিশন, ডিজিটাল নিউজ পেপার, বার্তা সংস্থার সাংবাদিক কর্মচারীদের কর্তব্য পালন হুমকির মুখে পড়েছে।
ইতিমধ্যে তিনজন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের শরীরে কোভিড-১৯ পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। এ অবস্থায় গোটা গণমাধ্যম পরিবারে তীব্র উদ্বেগ-উৎকণ্টা ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে, অজানা আতঙ্ক। 
বিবৃতিতে, আরো বলা হয়, একথাও কারো আজানা নয়, বেশিরভাগ গণমাধ্যমে বেতন-ভাতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধাদি অনিয়মিত। স্বাস্থ্যঝুঁকির কোনো ধরনের নিরাপত্তা নেই। নেই, পরিবহন সুবিধাও। তারপরেও, পাঠক চাহিদা, প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা এবং রাষ্ট্রের চতুর্থস্তম্ব হিসেবে পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে সংবাদকর্মিরা কর্তব্য পালন করে যাচ্ছেন। কিন্তু বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে সংবাদকর্মিদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে নতুন করে জরুরিভাবে চিন্তা করতে হবে। 
বিবৃতিতে ডিইউজের এই দুই নেতা বলেন, যদি রাষ্ট্র ও গণমাধ্যমের মালিকানা প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ, স্বাস্থ্যঝুঁকির নিরাপত্তা ও করোনা উপযোগী পরিবহন সুবিধা করতে না পারে, তাহলে কোনো অবস্থাতেই সাংবাদিকদের কাজে বাধ্য করাতে পারবে না। একই সঙ্গে ডিইউজে নেতারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদ্যদের চিকিৎসা ব্যয় সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে বহনের দাবি জানিয়েছেন।
ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু বিবৃতিতে আরও বলেন, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান চালু রাখা হলেও স্বগোত্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিউজ শেয়ারিং করা ও কম গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্ট পরিহার করতে হবে। তাছাড়া, ঝুঁকি কমিয়ে আনা ও অফিসের সহকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পথে-ঘাটে-মাঠে বাইরে নিউজ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকের জন্য সুরক্ষিত আলাদা নিভৃত বার্তাকক্ষের (আইসোলেশান নিউজরুম) ব্যবস্থা করতে হবে।
একই সঙ্গে, করোনা দুর্যোগের সময়ে হোটেল-রেস্টেুরেন্ট খোলা না থাকায় অফিসের অভ্যন্তরে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সকল সাংবাদিক ও কর্মিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানান নেতারা। 

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget