04/15/20

বাংলাদেশিসহ ৪৬ তাবলিগ জামাত সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে ভারতভিসার নিয়ম লঙ্ঘন করায় বাংলাদেশিসহ তাবলিগ জামাতের ৪৬ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে ভারত। নিয়ম লঙ্ঘন করে তারা বিহারের বিভিন্ন মসজিদে দাওয়াতি কাজ করে আসছিল। সেখান থেকে তল্লাশি করে তাদের আটক করে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। কোয়ারেন্টিন শেষে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর তাবলিগ জামাত নিয়ে কঠোর অবস্থান নেয় ভারত সরকার। এরপর বিহার পুলিশ আড়িয়া থেকে ১৮, বাক্সার জেলায় ১০ জন এবং পাটনা থেকে বাকি বিদেশিদের আটক করে। অন্য যারা আছেন তাদেরও সন্ধান চলছে।
আটক বিদেশিদের সবাই পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিল। তবে তারা ফরেনার্স অ্যাক্ট ১৯৪৬ লঙ্ঘন করে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। কারাগারে পাঠানো ৪৬ জনের মধ্য বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, কিরগিজস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন। গত মাসে তারা সবাই দিল্লির মারকাজে তাবলিগের জমায়েতে যোগ দিয়েছিল।
কারাগারে পাঠানোর আগে ৪৬ বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথি জব্দ করেছে পুলিশ।
সূত্র- নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

চাঞ্চল্যকর তথ্য, ভারতে ২ প্রজাতির বাদুড়ের শরীরে মিলল করোনাকরোনাভাইরাস যে বিশেষ প্রজাতির বাদুড়ের শরীরে রয়েছে তার সন্ধান পেলেন ভারতের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চের গবেষকরা। দেশটির কেরালা, পুদুচেরীর, তামিলনাড়ু এবং হিমাচল প্রদেশে রয়েছে এই ধরনের বাদুড়। তবে এই বাদুড় থেকে যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মানুষের শরীরে ছড়িয়েছে তার কোনো প্রমাণ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যানি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, একাধিক বাদুড়ের নমুনা সংগ্রহ করেছেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চের গবেষকরা। দেশটির প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরও এই বিষয়ে গবেষকদের সাহায্য করছে বলে জানা গেছে। 
ভারতে দুই প্রজাতির বাদুড়- ইন্ডিয়ান ফ্লায়িং ফক্স এবং ফল খাওয়া বাদুড় অর্থাৎ রসেটাস বাদুড়ের শরীরে মিলেছে বিটা-করোনাভাইরাসের ভাইরাল স্ট্রেনের খোঁজ। করোনাভাইরাসের উৎসের কারণ বাদুড় হতে পারে কি-না, আসলে সেই বিষয়টি নিয়েই গবেষণা চালাচ্ছিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (এনআইভি)। 
এই দুই গবেষক সংস্থার পক্ষ থেকে কেরালা, তামিলনাড়ু, হিমাচলপ্রদেশ এবং পুদুচেরীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ইন্ডিয়ান ফ্লায়িং ফক্স এবং রসেটাস-এই ২ প্রজাতির বাদুড় সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছিল। তবে এক্ষেত্রে উল্লেখ্যযোগ্য হলো, এই ২ প্রজাতিরই ২৫টি বাদুড়ের গলা থেকে পাওয়া নমুনার রিভার্স-ট্রান্সক্রিপশন পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন (আরটি-পিসিআর) পরীক্ষা করে এই মারণ ভাইরাসের ভাইরাল স্ট্রেনের খোঁজ পাওয়া গেছে। 
আইসিএমআরের তথ্য অনুযায়ী, মনে করা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের বাহক কিংবা উৎস এই দুই প্রজাতির বাদুড় হলেও হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এই ২ প্রজাতির বাদুড়ের থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে কি-না, সেটা এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত করে জানায়ানি দুই গবেষণা সংস্থা। চাঞ্চল্যকর এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব মেডিক্যাল রিসার্চে।

ফেসবুক লাইভে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী আটক
ফেনীতে ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন স্বামী। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর স্বামী টুটুলকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ফেনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বারাহীপুর পূর্ব বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতকের পুরো নাম ওবায়দুল হক টুটুল ভূঁইয়া, আর নৃশংসতার শিকার নারীর নাম তাহমিনা আক্তার।
ভিডিওতে দেখা যায়, খুন করার আগে টুটুল বলছিল- একজনের জন্য তার পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। ৮ মাস বয়সে তার মেয়েকে রেখে চলে যায় সে। তার সারাজীবন ধ্বংস হয়ে গেছে তার স্ত্রীর জন্য এমন দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করতে করতে এক পর্যায়ে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে টুটুল। কোপানোর পরপরই নিস্তেজ হয়ে যান ভুক্তভোগী নারী।
এরপরই টুটুল বলতে থাকে, সে এখন শেষ। আপনারা আমার বাবা-মা ও এতিম মেয়েকে দেখে রাখবেন। এই খুনের সাথে তিনি নিজেই জড়িত এবং অন্য কেউ এরসাথে সংশ্লিষ্ট নয়, এমনটা বলতে থাকেন তিনি। লাইভ ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, সবাই আমাকে ক্ষমা করবেন। আমার বাবা-মা, ভাই-বোন ও অনাথ মেয়েটার খেয়াল করবেন।
খুন করার লাইভ ভিডিওর পর, একটি মেয়েকে নিয়ে আরেকটি ভিডিও পোস্ট করে টুটুল ভুইয়া। সেখানে তার দাবি, তার মেয়ের যখন ৮ মাস বয়স তখন সে (তার স্ত্রী) ছেড়ে চলে যায়। এখন আবার সে ফেরত এসেছে। তার পুরো পরিবার ব্ল্যাকমেইল করে অনেক সমস্যায় ফেলেছে। বাচ্চা মেয়েটাকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। এরপর তিনি নিজেও আত্মহত্যার ইঙ্গিত দেয় ওই ভিডিওতে।
এই ঘটনার পরপরই টুটুলকে ফেনীর বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। ফেনী সদর থানার ওসি আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, হত্যায় অভিযুক্ত টুটুল ভুইয়ার বাড়ি ফেনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়াঈপুর এলাকায়। টুটুল ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করতো। সন্তানদের নিয়ে তার স্ত্রী বাড়িতেই থাকতো। সে ঢাকায় থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী তাহমিনা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এটা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। তাহমিনার বাড়ি থেকে টাকা চেয়ে মানসিক হয়রানি করা হতো বলে দাবি করেন টুটুল। আটকের পর টুটুল পুলিশের কাছে খুনের কথা স্বীকার করে।
এদিকে, খুন করার লাইভ ভিডিওটি ঘটনার ঘণ্টাখানেক পর আর টুটুলের ফেসবুক প্রোফাইলে পাওয়া যায়নি। পুলিশ এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, টুটুলের প্রোফাইলে লাইভ ভিডিও তারা পায়নি। তবে, তার পোস্টগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। নিহতের স্বজনরা মামলা করলে এ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget