04/27/20

মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী

বছরে এক মাস রমজানের রোজা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি স্তম্ভের একটি। ইসলামি শরিয়তে সুবহে সাদেক থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত পানাহার এবং নফসের কুমন্ত্রণা ও প্রবৃত্তিবাসনা পূর্ণ করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকাকেই রোজা বলা হয়।

প্রত্যেক মুসলমান জ্ঞান, প্রাপ্তবয়স্ক, পুরুষ-নারী, যার রোজা রাখার মত শক্তি রয়েছে- তার উপর রোজা রাখা ফরজ। মান্নত, কাযা এবং কাফ্ফারার রোজাও ফরজ। এছাড়া বাকি সব রোজা নফল। যা রাখলে সাওয়াব পাওয়া যাবে, না রাখলে কোন গুনাহ হবে না। তবে মনে রাখতে হবে- রমজানের ঈদের দিন, কোরবানির ঈদের দিন এবং কোরবানির ঈদের পরের তিন দিন, সর্বমোট পাঁচ দিন রোজা রাখা হারাম।

সর্বাবস্থায় ঘরে বসে এই দোয়া বেশি বেশি করে পাঠ করি-
حسبنا الله ونعم الوكيل نعم المولا ونعم النصير
উচ্চারণ- “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল, নি’মাল মাওলা ওয়া নি’মান নাসির”।
এ বছরের রোজা সারা পৃথিবীর মুসলমানরা অত্যন্ত স্পর্শকাতরভাবে আদায় করতে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ বা করোনা নামক ভাইরাসে যখন সারা পৃথিবী আক্রান্ত, ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত, ঠিক এমন সময় এসে গেলো পবিত্র মাহে রমজান।

এই রমজান মাসে রোজা অবস্থায় আমরা বেশি বেশি ইবাদত, তিলাওয়াত ও দান-সদকা করব এবং মহান আল্লাহর দিকে ফিরে আসার চেষ্টা করব। আল্লাহ তাআলা ছাড়া এই মহামারি থেকে কেউ আমাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঘরে পড়বো না মসজিদে পড়বো? জুমার নামাজ মসজিদে পড়বো না ঘরে জুমার স্থলে জোহরের নামায আদায় করবো? তারাবিহ মসজিদে পড়বো না ঘরে? ইফতার মসজিদে না ঘরে? এ সকল প্রশ্ন সিয়াম সাধনার এই মাসে পরিহার করে যার যেখানে সুযোগ হয় মসজিদে বা ঘরে এ সকল ইবাদত আদায় করার চেষ্টা করব।

এই মহামারি ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় ঘরে তারাবিহর নামাজ আদায় করলে নামাজ হবে না, জুমার দিনে জুমার নামাজের স্থলে জোহরের নামায ঘরে আদায় করে নিলে নামাজ আদায় হবে না, পাঁচ ওয়াক্ত নামায ঘরে আদায় করলে নামায আদায় হবে না; এমন ফতওয়া এই পর্যন্ত কেউ দেয়নি।

সুতরাং ‘মসজিদ খোলা থাকবে, নামাজ চলবে, জুমা চলবে, ইতিকাফ চলবে। সরকার নয় পৃথিবীর কোন শক্তি বাধা দিতে পারবে না।’ এ সকল দায়িত্বহীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত, আবেগী ও রাজনৈতিক বক্তব্য পরিহার করতে হবে।

কারণ, বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ, মসজিদ-মাদরাসার দেশ, ওলামা-মাশায়েখদের দেশ। মসজিদ বন্ধ করতে হবে, নামাজ চলবে না, জুমা চলবে না, ইতিকাফ চলতে পারে না, মসজিদে ইফতার করতে পারবে না- এধরণের কথাতো এই পর্যন্ত কেউ বলেননি। বলার সাহসও নেই।

তাই আসুন, স্বাস্থবিধি ও অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ মেনেই ইবাদত ও তিলাওয়াত জারি রাখি। তাতে পরিপূর্ণ সাওয়াবের আশা করা যায়। কাদা ছোঁড়াছুড়ি না করে তাওবা ও সিয়াম সাধনার মাধ্যমে  এই মাসে আমরা আল্লাহর দিকে ফিরে আসি। এই মাসেই দুর্দিন কেটে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

সী‌মিত আকা‌রে চালু, ধাপে ধা‌পে খুলবে ...
নতুন করে উৎপাদন শুরুর প্রথম দিনে রোববার প্রায় ৪শ’ তৈরি পোশাক কারখানা খুলেছে। উদ্যোক্তারা দাবি করেছেন, সামাজিক দূরুত্ব নিশ্চিত করতে কারখানার অভ্যন্তরের যন্ত্রপাতি স্থানান্তর করে পরিবর্তনের মাধ্যমে গড়ে ৩০ শতাংশ শ্রমিক দিয়ে প্রথম দিনের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। 
তবে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, যত বেশি সংখ্যক  কারখানা খুলে দেওয়া হবে বলে আশঙ্কা ছিল তত বেশি শেষ পর্যন্ত রোববার খোলা হয়নি। ঢাকার ভেতরের খুব কম কারখানাই খোলা হয়েছে। তার অভিযোগ, সব কারখানায় স্বাস্থ্য বিধি পুরোপুরি মানা সম্ভব হয়নি।

এই ৩০ শতাংশ শ্রমিকদের বেশিরভাগই  কারখানার আশে-পাশে বসবাস করেন। তবে কিছু শ্রমিক গণপরিবহন বন্ধ থাকার মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিল্পাঞ্চলে ফিরেছেন। এ মুুহূতে ঢাকার বাইরের শ্রমিকদের কারখানায় না আনার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর পক্ষ থেকে।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, সীমিত পরিসরে কারখানা খোলা রাখার সুযোগ চেয়ে ৮৫৮টি কারখানা কর্তৃপক্ষ থেকে সংগঠনের কাছে আবেদন আসে। তবে করোনা সংক্রমণের পর রপ্তানি আদেশ বাতিলের সাধারণ ঘটনার পর কোন কারখানায় এই মুহূর্তে কি ধরনের কাজ রয়েছে- সে বিষয়ে একটি জরিপ চালিয়েছে বিজিএমইএ। গত কয়েক দিন ধরে পরিচালিত  এই জরিপের ফলের ভিত্তিতে জরুরি কাজের কারখানাগুলোকে খুলে দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে খোলার অনুমতি পাওয়া কারখানার সংখ্যা প্রায় ৪শ’। ঢাকা মেট্রো এলাকা, এবং নারায়ণগঞ্জের তুলনামূলক বড় কারখানাগুলোকে এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকেই মাস্ক এবং হাত মোজা পড়ে  কারখানায় ঢুকতে দেওয়া হয়েছে শ্রমিকদের। প্রবেশ মুখে শ্রমিকদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়। হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত উপকরণও ছিল। সব মিলিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই প্রথম দিনের উৎপাদন কার্যক্রম চলেছে।  

কারখানা খোলার শর্ত হিসেবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ একটি গাইডলাইন করেছে । এই গাইডলাইন সদস্য কারখানায় পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়, কারখানায় প্রবেশের আগে শ্রমিকদের শরীরের তাপমাত্রা  মেপে  দেখতে হবে। কারখানা ভবনের বাইরে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। শ্রমিক কর্মচারীসহ কারখানায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সকলের জুতায় জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। এছাড়া কারখানায়  প্রবেশের আগে  জুতাগুলো  যেন পলিব্যাগে  রেখে একটি নির্দিষ্ট  রাখতে হবে। এসব স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছে কিনা তা তদারক করতে মনিটরিং টিম গঠন করেছে বিজিএমইএ। তবে রপ্তানি আদেশের কাজ না থাকা কিংবা কম থাকা কারখানাগুলো সরকারি সাধারণ ছুটির সঙ্গে মিল রেখে আগামী ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জানতে চাইলে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি আরশাদ জামাল দীপু গণমাধ্যমকে বলেন, গতবারের দুঃখজনক অভিজ্ঞতার কারণে এবার আগে-ভাগেই বিজিএমইএ  এ বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিয়েছে। সব সদস্য কারখানাকে বলে দেওয়া হয়েছে যাতে দূর দূরান্তের কোন শ্রমিককে এ মুহূর্তে  আনা না হয়।

শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম রনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক শ্রমিক শিল্পাঞ্চলে আসতে শুরু করেছে। ঝুঁকি নিয়ে তারা আসছে। কারো কোনো বাধা তারা মানছে না। আসলে চাকরি হারানোর  আতঙ্ক থেকেই এই ঝুঁকিটা নিচ্ছেন তারা। 

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget