04/28/20

|ইশতিয়াক সিদ্দিকী: ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর নামে একটি ভুয়া বিবৃতি (বার্তা/বক্তব্য) ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে হেফাজত মহাসচিবের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনটি পয়েন্টে বলা হয়, তিনি বলেছেন-

১. ১৫০ বছর ধরে যেই আল্লাহ কওমী আলেমদের রিযিকের ব্যবস্থা করে আসছেন, সেই আল্লাহ তো মরে যাননি, তিনি চিরঞ্জীব। তিনিই কওমী আলেমদের রিযিকের ব্যবস্থা করবেন।
২. কওমী সনদের স্বীকৃতি এই শর্তের উপর দেওয়া হয়েছে যে, সরকারের কোনো দান-অনুদান গ্রহণ করা হবে না। কওমী স্বীকৃতির প্রজ্ঞাপনে এই শর্ত স্পষ্ট উল্লেখ আছে। এখন কেউ কওমী মাদরাসার নামে সরকারী অনুদান গ্রহণ করলে কওমী স্বীকৃতির স্বকীয়তা রইল কোথায়?
৩. ঈদের পর পরই সমস্ত কওমী মাদরাসা ও মসজিদ খুলে দিতে হবে। বাধা দিলে কঠিন আন্দোলন করা হবে। বাজার খোলা, গার্মেন্টস খোলা, ব্যাংক খোলা। সবকিছু খোলা থাকার পরও মাদরাসা-মসজিদ বন্ধ থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বিবৃতির শেষে বলা হয়, ‘‘দেশের সমস্ত ওলামায়ে কেরাম ও তাওহিদি জনতার কাছে আমার এই স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেন’’।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী ইনআমুল হাসান ফারুকী জানান, বিবৃতিটি ভুয়া, ভিত্তিহীন। এ জাতীয় কোন বিবৃতি হযরতের এখান থেকে দেয়া হয়নি।

ফেসবুকে ভুয়া বার্তা


ভারতেও করোনা ভাইরাস আতঙ্ক, আক্রান্ত ১১

|প্রবচন: দিন দিন জটিল হচ্ছে ভারতে করোনা পরিস্থিতি। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। বর্তমানে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে করোনা সংক্রমণে উৎপত্তিস্থল চীনের পরেই অবস্থান ভারতের।

মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। যা এশিয়ায় তৃতীয় অবস্থান। মৃত্যু হয়েছে প্রায় এক হাজার। আক্রান্তের সংখ্যায় এশিয়ায় শীর্ষে আছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৯১ হাজার ৪৭২ জন, মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৮০৬ জনের। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে উৎপত্তিস্থল চীন। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ৮৩৬ জন, মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৩ জনের।

আক্রান্ত বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, লকডাউনের শেষ পর্যায়ে এসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে লকডাউন তোলা কঠিন হয়ে পড়বে।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ২৯ হাজার ৪৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যা আগের দিনের তুলনায় ১৫শ’ ৪৩ জন বেড়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬ হাজার ৮৬৯ জন। আর মারা গেছে ৯৩৪ জন।

এদিকে সীমিত আকারে খামার ও শিল্পকারখানা চালু করার অনুমতি দিয়েছে ভারতের মোদির সরকার। একই সঙ্গে যে সব গ্রামীণ অঞ্চলে করোনা প্রাদুর্ভাব কম সেখানেও লকডাউন শিথিল করতে বলা হয়েছে।

সূত্র- ওয়ার্ল্ডওমিটার।

190245
|প্রবচন ডেস্ক: গাজীপুর মহানগরীতে মসজিদগুলো মুসল্লিদের জন্য খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বোর্ড বাজার আঞ্চলিক অফিস থেকে এক ভিডিও বার্তায় এ ঘোষণা দেন মেয়র।

ভিডিও বার্তায় মেয়র বলেন, যেহেতু গাজীপুরের গার্মেন্টসগুলো খুলে দেয়া হয়েছে তাই এ রমজান মাসে এখন আর মসজিদের অল্পসংখ্যক মুসল্লিদের জন্য সীমাবদ্ধ রাখার কোন প্রয়োজন নেই। শুক্রবারের জুমার নামাজ ও রমজানের তারাবির নামাজে মুসল্লিগণ অংশ নিতে পারবেন। এতে সিটি করপোরেশনের কোন বাধা থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, এখন যেহেতু রমজান মাস, আমরা সবাই রোজা রাখি সে হিসেবে আগামী শুক্রবার থেকে যে সব ওয়ার্ডে করোনা ভাইরাসের কোন পজিটিভ পাওয়া যায়নি সেসব এলাকার মসজিদে যদি মুসল্লিরা নামাজ পড়তে চায় তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে কোন সমস্যা হবে না। তবে ওই সব এলাকায় যেন বাইরে থেকে কোন লোক করোনার উপসর্গ নিয়ে আসতে না পারে সে দিকে সকলকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের নগরে আমরা সবাই নিরাপদে থাকব। আমাদের পরিবার ও সন্তানদের নিরাপদে রাখব।

‘গাজীপুরের গার্মেন্টস ও আশপাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যেহেতু খোলা হয়েছে সেহেতু এ এলাকার মানুষকে আর বন্দী রাখা ঠিক হবে না। ওয়ার্ড ভিত্তিক ধান কাটাসহ অন্যান্য কৃষি কাজ যেগুলো আছে তা যেন তারা করতে পারে।’

এ ব্যাপারে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস.এম তরিকুল ইসলাম জানান, মসজিদ খুলে দেয়ার ব্যাপারে সরকারিভাবে কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তবে নগর পিতা হিসেবে মেয়র সাহেব তার নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেছেন।
-ওআই 

| মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী 
বর্তমানে আমাদের দেশে তিন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে। এক. শুধু জাগতিক শিক্ষা। দুই.  ধর্মীয় ও জাগতিক উভয়ের সমন্বিত শিক্ষা। তিন. শুধু ধর্মীয় শিক্ষা।  শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড বলে আমাদের সমাজে যে বচন চালু আছে তার বাস্তব চিত্রগুলো ফুটে ওঠে জাগতিক শিক্ষার কেন্দ্রগুলোতে। যদি আরো একটু ব্যাখ্যা করি তা হলো; শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড আর একটি রাষ্ট্রের  মেরুদণ্ড হচ্ছে অর্থ।  শিক্ষা ছাড়া জাতি যেমন মেরুদণ্ডহীন, তেমনি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল রাষ্ট্রও মেরুদণ্ডহীন। একটি জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাইলে যেমন শিক্ষার প্রয়োজন, ঠিক তেমনি একটি রাষ্ট্রকে অন্য রাষ্ট্রের উপর প্রভাব বিস্তার করতে হলে অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হওয়াটাও অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।  মোটকথা জাতি ও রাষ্ট্র,  শিক্ষা এবং অর্থ একটি অপরটির সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। একটি অন্যটি ছাড়া অচল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলেও ধ্রুব সত্য যে, বর্তমানে আমাদের দেশে শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক যে ধ্বস শুরু হয়েছে,  এর সাথে জড়িত সিংহভাগ জাগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত। যারা শিক্ষিত হয়ে জাতির মেরুদণ্ড হবার পরিচয় দিচ্ছে তাঁরাই আবার রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড ভাঙ্গার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে। দেশের কোটি কোটি টাকা রাতের আঁধারে লুটপাট করছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের  পরিসংখ্যানগুলো দেখলে বিষয়টা আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, খুন-গুম, ধর্ষণ  চুরি-ডাকাতি, দুর্নীতি-চাদাবাজী, টেন্ডারবাজী ও কালোবাজারিসহ সকল অপরাধের মূলে অধিকাংশ  জাগতিক শিক্ষায় শিক্ষিতরা। এমনকি বহির্বিশ্বে স্বাধীন এই দেশটির সুনামও চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে তারাই! 

আর এর পুরো বিপরীতে রয়েছে কওমী মাদরাসা। সৎ, দক্ষ, আল্লাহভীরু ও সত্যিকারের দেশপ্রেমিক গড়ে তোলার এক অনন্য প্রতিষ্ঠান এই কওমী মাদরাসা। পদ্ধতিগতভাবে  ভারতের ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম দেওবন্দ কওমী মাদরাসার মূল মারকায বা কেন্দ্র হলেও শুরুটা হয়েছিল ১৪শ বছর আগে মসজিদে নববীর আঙিনায় মাদরাসা সুফ্ফা নামে। হযরত সাহাবায়ে কেরাম রা. ছিলেন সেই মাদরাসার ছাত্র আর আল্লাহর রাসুল সা. ছিলেন শিক্ষক। 

মাদরাসা সুফ্ফার নমুনায় সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বলিষ্ঠ চেতনায় উজ্জীবিত ও দীনি চেতনায় উদ্দীপ্ত একদল আত্মত্যাগী সৎ-দক্ষ, কর্মঠ, খোদাভীরু দেশপ্রেমিক গড়ে তোলার মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইশারায় হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা কাসেম নানুতুবী রহ. এর নেতৃত্বে যুগশ্রেষ্ঠ বুজুর্গানে দীনের হাতে ১৮৬৬ খৃষ্টাব্দের ৩০ মে ভারতের উত্তর প্রদেশস্থ সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক গ্রামে, ঐতিহাসিক সাত্তা মসজিদ প্রাঙ্গণে একটি   ডালিম গাছের নীচে, বর্তমান কওমী মাদরাসাগুলোর মূল কেন্দ্র বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়!

কওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই ঈমান আকিদা, ইসলামি তাহযিব-তামাদ্দুন, ইসলামের হেফাজত, প্রচার-প্রসার ও দেশের স্বাধীনতা  সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ অতীব জরুরি বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।  বিশেষ করে উপমহাদেশের রাজনৈতিক তৎপরতা,  উপনিবেশিক শক্তি ও পরাধীনতার জিঞ্জির ভাঙার লক্ষ্যে আযাদী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক চিন্তা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সঠিক  শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবেশ তৈরিসহ সর্বমহলে কওমী মাদরাসা ও  উলামাদের অবদান অপরিসীম। 

ভাষা আন্দোলনে কওমী উলামায়ে কেরামদের অবদান
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের মধ্যে  অন্যতম হলেন কওমী মাদরাসার সূর্যসন্তান  মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ। দারুল উলুম  দেওবন্দের কৃতীসন্তান মাওলানা তর্কবাগীশ ছিলেন ভাষা আন্দোলনের অগ্রনায়ক।  ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার নিরীহ ছাত্রদের উপর যখন পাকিস্তানের হানাদারবাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায় তখন সর্বপ্রথম পার্লামেন্টের অধিবেশন ত্যাগ করে রাস্তায় নেমে আসেন মাওলানা তর্কবাগীশ এবং মাওলানা তর্কবাগীশই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সর্বপ্রথম  পাকিস্তানের গণপরিষদে বাংলায় বক্তৃতা করেন এবং বাংলাকে গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য করেন। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় তাঁর ত্যাগ অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে অনন্তকাল। (সূত্র: আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে)

স্বাধীনতাযুদ্ধে কওমী মাদরাসা ও উলামায়ে কেরামের অবদান
১৯৭১ সাল। পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন এদেশের মুক্তিকামী সর্বশ্রেণীর মানুষ। যাদের অবদান অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই। দেশের মুক্তিকামী সৈনিকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ রক্ষায় দ্বিধাহীনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এবং পিছিয়ে ছিলেন না এদেশের আলেম-ওলামা। নিজে যুদ্ধ করার পাশাপাশি উৎসাহিত করেছেন লাখো মানুষকেও। যাঁদের মাঝে উল্লেখ্যযোগ্য- মাওলানা আব্দুল হামীদ খান ভাসানী, মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ, মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ, মাওলানা উবায়দুল্লা­হ বিন সাঈদ জালালবাদী, মাওলানা ওলীউর রহমান, মুহাদ্দিস আব্দুস সোবাহান, পটিয়ার শহীদ আল্লামা দানেশসহ অসংখ্য ওলামায়ে কেরাম। শুধু কি আলেমসমাজ? মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মাদরাসাসমূহ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের একেকটি ক্যাম্প। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শহীদ  মেজর জিয়াউর রহমান পটিয়া মাদরাসায় অবস্থান নিয়েই চালু করেছিলেন কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র। আজও সেই অস্থায়ী বেতার কেন্দ্র ‘পটিয়া মাদরাসার মেহমানখানা’ ইতিহাসের বিরল সাক্ষী হয়ে আছে।

যশোর রেলস্টেশন মাদরাসা প্রাঙ্গণে ২১ শহীদের গণকবরও এটাই সাক্ষী দেয় মুক্তিযোদ্ধারা মাদরাসায় অবস্থান করতেন। বরিশালের চরমোনাই মাদরাসা ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রাগার। ছিল তাদের আশ্রয় কেন্দ্র। এমন অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে যা এখানে বলে শেষ করা সম্ভব নয়।
অথচ, দুঃখের সাথে বলতে হয় আজ স্বাধীনতার ইতিহাস রচনা হয়েছে সেই মহান ব্যক্তিবর্গকে বাদ দিয়ে। সুকৌশলে বাদ দেয়া হয়েছে হযরত ওলায়ে কেরামকে। রাজাকার, আল বদর আর দেশদ্রোহীদের কাতারে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে তাদেরকে। আক্রমণ করা হচ্ছে বিভিন্নভাবে। আঁকা হয়েছে/হচ্ছে বিভিন্ন কালিগ্রাফি। নির্মাণ করা হয়েছে, এখনো হচ্ছে অসংখ্য মুভি, নাটক ও কমেডি ভিডিও! ওলামায়ে কেরামকে উপস্থান করা হচ্ছে ব্যঙ্গাত্মকভাবে। যার মূলে রয়েছে স্বাধীনতা ও দেশবিরোধী শক্তি গভীর ষড়যন্ত্র। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে আজও মেনে নিতে পারছে না।

আমাদের মনে রাখতে হবে, আলেম-ওলামা কখনো দেশবিরোধী ছিলেন না। এদেশ স্বাধীনের পেছনে যেমন আলেম-ওলামার প্রয়োজন হয়েছে, ঠিক দেশকে এগিয়ে নিতে হলেও আলেম-ওলামার প্রয়োজন আছে। আলেম-ওলামাকে এড়িয়ে দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। 

শিক্ষাব্যবস্থায় কওমী মাদরাসার অবদান
যে যাই বলুন না কেন, আমাদের মতে বর্তমান সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষা ও সুন্দরভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে কওমী মাদরাসার অবদান অপরিসীম। দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, হল দখল, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মিনি ক্যান্টনমেন্ট বা পতিতলায় তৈরি করাসহ শিক্ষার পরিবেশকে বিনষ্ট বা প্রশ্নবিদ্ধ করার যে প্রয়াস জাগতিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে চোখে পড়ে তা কওমী মাদরাসাগুলোতে কখনো কল্পনাও করা যায় না! মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, সম্প্রীতি, সহানুভূতি, একে অপরের প্রতি কল্যাণকামীতা ও সর্বোপরি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টাই একমাত্র কওমী শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য।  
একশ্রেণির জ্ঞানপাপী বুদ্ধিজীবী রয়েছেন, যারা সময়ে-অসময়ে কওমী শিক্ষাব্যবস্থা ও কওমী ওলামাদের দিকে আঙ্গুল তুলে কওমী মাদরাসাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার হীন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন-খারাবি, মাস্তানি, ধর্ষণ, গুম-হত্যা, দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ, হরতালের নামে ভাঙচুর ও উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয় তখন তাদের কলম বা মুখ কোনটাই চলে না। তারা তখন বধির ও বোবা হয়ে যায়। অথচ, কওমী ওলামাগণ যাঁরা সবসময় কুরআন-হাদিসের জ্ঞান চর্চায় লিপ্ত, প্রয়োজন ছাড়া কখনো বাইরেও যারা বের হন না, তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীর তকমা। তাদের কেন এই অপতৎপরতা, এগুলো উদ্দেশ্য কী ভাবতে হবে দেশের সচেতন মহলকে।

নিরক্ষরতা দূরিকরণে কওমী ওলামায়ে কেরাম
আমাদের দেশে বিদ্যা এখন পণ্যের মত বিক্রি হয়। বিদ্যানের কোন কদর নেই। এখন বিদ্যার্জনের আগেই বিদ্যান হওয়ার প্রতিযোগিতা হয়। আর সেজন্য পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ফাঁস এখন মামুলি ব্যাপার। আবার শোনা যায় সনদপত্র বিক্রির কথা। একজনের পরীক্ষা অন্যজন দিয়ে দেয়া বা অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেয়া এখন নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার। তাই তো দেশের মেধাবীরা বুক ফুলিয়ে বলে 'আই অ্যাম জিপিএ ফাইভ। কারণ, তারা বিদ্যার্জনের আগেই বিদ্যান হওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল আর অর্থের বিনিময়ে পেয়েছে জিপিএ ফাইভ। এ তো গেলো যাদের অর্থবিত্ত আছে তাদের কথা; অর্থের বিনিময়ে হলেও জিপিএ ফাইভটা পেয়েছে।  কিন্তু দরিদ্র্যতার কষাঘাতে জর্জরিত এই দেশের সিংহভাগ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে। স্কুল-কলেজে যাওয়া তো দূরের কথা,  ঘরে বসে প্রাথমিক শিক্ষাটুকুও তাদের মেলে না। পরীক্ষায় অর্থের হাতবদলে জিপিএ ফাইভ পাওয়ার পর  যে বইগুলো ঠোঙার দোকানে বিক্রি করে, তখন দরিদ্রতার চাপ সহ্য করতে না পেরে দেশের হাজারো শিশু সেই বইগুলো দিয়ে ঠোঙা বানাতে ব্যস্ত থাকে। অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী যখন স্কুলে যায়, তখন দেশের শতশত হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা রাস্তায় কাগজ কুড়ায়। অর্থের অভাবে যেন কোন শিশু জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই দেশের কওমী মাদরাসাগুলো শত-সহস্র  হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করছে। যা জাগতিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে বিরল। যে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে সেটি কওমী মাদরাসা সুন্দরভাবে আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে যুগ যুগ ধরে। দেশের হাজার হাজার নুরানী মাদরাসা থেকে প্রতি বছর প্রায় লক্ষাধিক কোমলমতি শিশু প্রাথমিক জ্ঞানার্জন করছে।

বেকারত্বরোধে কওমী উলামায়ে কেরাম
বেকারত্ব একটি অভিশপ্ত শব্দ। হাজারো মানুষের স্বপ্ন ভঙ্গের শব্দ বেকারত্ব। দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বেকারত্বে সর্বোচ্চ হারের দিক দিয়ে বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে। তবে বাংলাদেশের চেয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তান ও দ্বীপদেশ মালদ্বীপে বেকার মানুষের হার বেশি।

আইএলওর হিসাবে ২০১০ সালে বাংলাদেশে ২০ লাখ লোক বেকার ছিল। ২০১২ সালে ছিল ২৪ লাখ। ২০১৬ সালে তা ২৮ লাখে উঠেছে। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ৩০ লাখে ওঠার আশঙ্কা করেছিল আইএলও। (প্রথম আলো অনলাইন সংস্করণ ২৪ জানুয়ারি ২০১৮)

বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে সবাই সচেষ্ট হলেও আন্তরিকতার বড় অভাব। লাগামহীন দুর্নীতি,  চাঁদাবাজি,  চাকরির ক্ষেত্রে ঘুষের ছড়াছড়ি, নানান অনিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে আছে দেশের কর্মসংস্থানগুলো। যে দেশে জ্ঞানীর কদর নেই সে দেশে বেকারত্ব থাকাটা আশ্চর্যের কিছু নয়! এসএসসি ফেল ছাত্র যখন এসি রুমে বসে দুর্নীতির আখড়া খুলে বসে, ঠিক তখন বিসিএস ক্যাডার একটা চাকরির জন্য মানুষের দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে জুতার তলা ক্ষয় করছে। একটা চাকরি জন্য মারামারি,  রাস্তা অবরোধ, বিভিন্ন কার্যালয়ে স্মারকলিপিসহ নানান প্রতিবাদমূলক কর্মসূচি চোখে পড়ে। সর্বশেষ কোটা সংস্কার আন্দোলন আমরা সবাই প্রত্যক্ষ করেছি।

কিন্তু এর পুরো বিপরীত চিত্র দেশের কওমী মাদরাসাগুলোতে। বেকারত্বের কোন ছাপ বা কোন অভিযোগ অনুযোগ নেই কওমী ওলামাদের।  চাকরির জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম বা মিছিল-মিটিংয়ের কোন প্রয়োজন হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা শেষ করে  প্রতিবছর কওমী মাদরাসা থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বের হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন শিক্ষার্থী চাকরির জন্য কারো কাছে কোন অভিযোগ বা অনুযোগ দেয়নি। কোন আন্দোলন-সংগ্রামেরও প্রয়োজন পড়েনি। এমনকি কোন কওমী শিক্ষার্থী বেকার বসে আছে এমন চিত্রও কোথাও দেখা যায় না। মোটকথা কওমী শিক্ষার্থীরা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে নিজেদের বের করে নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে নিয়েছে। সরকার বা কোন মন্ত্রণালয়ে চাপ সৃষ্টি,  রাস্তা অবরোধ কিংবা কোন সংগ্রামের প্রয়োজন পড়েনি।  

মোটকথা, বেকারত্বদূরীকরণসহ জাতীয় প্রায় সকল ক্ষেত্রেই কওমী মাদরাসার ভূমিকা অপরিসীম।

লেখক:
মুহাদ্দিস, হাটহাজারী মাদরাসা
কেন্দ্রীয়  সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

রাশিদুল ইসলাম: চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় এই প্রথম এক ব্যক্তির (৬৯) শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি চট্টগ্রাম নগরীর সঙ্গে লাগোয়া হাটহাজারী উপজেলাধীন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ১নং জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলীর শাহ আমানত কলোনিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।
তিনি একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। মঙ্গলবার সকালেই আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করেছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমতিয়াজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনা উপসর্গ থাকায় আক্রান্ত ব্যক্তি তার পারিবারিক চিকিৎসকের পরামর্শে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষা করান। এতে তার করোনা পজেটিভ আসে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
তবে আক্রান্ত ব্যক্তি হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেননি বলে যোগ করেন ডা. ইমতিয়াজ।
এদিকে মঙ্গলবার সকালেই আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ আলম
-এস


190148| প্রবচন ডেস্ক:

উসমানীয় সাম্রাজ্যের গৌরবময় উত্থানের সত্য কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত জনপ্রিয় তুর্কি সিরিজ ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
রোববার টুইটারে এক ভিডিওবার্তায় ইমরান খান বলেন, আমাদের যুবদের উন্নত চরিত্র গঠনে ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ দারুণ অবদান রাখছে এবং এর মাধ্যমে তারা ইসলামের গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারছে।

ভিডিওতে ইমরান খানকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভিতে সম্প্রচারিত দিরিলিস আরতুগ্রুল দেখতে দেখা যায়। পাকিস্তানি যুবকদের জনপ্রিয় এই সিরিজ দেখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে পাক প্রধানমন্ত্রী এই কৌশল অবলম্বন করেন।

এর আগে গত রোববার পিটিভি ঘোষণা দেয়, ১ রমজান থেকে তারা প্রতিদিন এক পর্ব করে দিরিলিস আরতুগ্রুল দেখানো শুরু করবে এবং প্রতিটি পর্ব দৈনিক তিন বার প্রদর্শিত হবে।

পিটিভি জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় আমরা দিরিলিস আরতুগ্রুল সম্প্রচার শুরু করেছি।

গত বছরের ডিসেম্বরে ইমরান খান তুর্কি ভাষার সিরিজটিকে পিটিভিকে উর্দুতে ডাবিং করার নির্দেশ দেন এবং ওই নির্দেশনায় তিনি বলেন, সত্য ইতিহাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিরিজ পিটিভিতে সম্প্রচার করবো, আর এর উদ্দেশ্য হল, জাতিকে ইসলামি ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়া। কারণ, ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ ইসলামি সভ্যতা ইতিহাস ও মুসলিম বীরদের অত্যন্ত নিপুণতার সঙ্গে উপস্থাপন করতে পেরেছে।

এছাড়া, দিরিলিস আরতুগ্রুলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এখন পর্যন্ত একাধিক মানুষ ইসলামধর্ম গ্রহণ করেছেন। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে যে, দিরিলিস আরতুগ্রুলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এক মেক্সিকান দম্পতি মুসলিম হয়েছেন ।

তুরস্কের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মেক্সিকান দম্পতি স্বেচ্ছায় মুসলিম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তাদেরকে পবিত্র কালিমা পাঠ করান ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ এর অন্যতম চরিত্র আব্দুর রহমানের অভিনয় করা জনপ্রিয় অভিনেতা জালাল আল।

কিন্তু এর আগে মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী একাধিক ফতোয়া বিভাগ দিরিলিস আরতুগ্রুলসহ ইসলামী ট্যাগ লাগানো সকল সিনেমা-মুভি দেখা হারাম ফতোয়া দিয়েছে। পাকিস্তান থেকেও দিরিলিস আরতুগ্রুল দেখা হারাম বলে একটি প্রখ্যাত ইফতা বোর্ড সিদ্ধান্ত প্রদান করে। কয়েক পৃষ্ঠার বিস্তারিত ফতোয়ায় সেখানে বলা হয়, দিরিলিসে প্রচারিত সমস্ত ঘটনাই ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত নয়।

ইসলামের একটি সোনালি যুগকে এভাবে সত্যমিথ্যার মিশ্রণে উপস্থাপন প্রশংসিত হতে পারেনা। ইতিহাসপ্রেমিক মানুষদের এ সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য বই পড়ে জ্ঞানার্জনের আহবান জানায় ওই পাক-ইফতা বোর্ড।

পরবর্তীতে পাকিস্তানি আলেমদের এই সিদ্ধান্তের সমর্থন জানিয়ে ফতোয়া প্রদান করে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ ও মিশরের দারুল ইফতা। মোটকথা, বিশ্ব ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে একমত যে, দিরিলিস আরতুগ্রুলসহ ইসলামী ট্যাগ লাগানো সকল সিনেমা-মুভি দেখা সম্পূর্ণ হারাম।

সূত্র: আনাদুলু, আল জাজিরা


আরো ৩ মৃত্যু করোনায়, নতুন শনাক্ত ৫৪৯ | প্রবচন ডেস্ক:

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন শনাক্ত হয়েছে ৫৪৯ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৫৫ জনের। আর সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছে ছয় হাজার ৪৬২ জন।

আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন প্রকাশে অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

ডা. নাসিমা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় দেশে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুবরণকারীরা সবাই ঢাকা শহরের। বয়সে তাঁরা সবাই ষাটোর্ধ। এ নিয়ে করোনায় দেশে এ পর্যন্ত ১৫৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ ছাড়া হাসপাতালে থাকা করোনা রোগীদের ভেতর থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন আরো আটজন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ১৩৯ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

ডা. নাসিমা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে চার হাজার ৩০৯টি। আর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে চার হাজার ৩৩২টি। এর মধ্যে করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে ৫৪৯ জনকে। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ছয় হাজার ৪৬২ জন।

আইসোলেশন প্রসঙ্গে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ১১১ জনকে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত হাসপাতালের আইসোলেশনে আছেন এক হাজার ২৪৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪৭ জন এবং এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৮৫ জন। সারা দেশে আইসোলেশন শয্যা আছেন ৯ হাজার ৭৩৮টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে তিন হাজার ৯৪৪টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে আছে পাঁচ হাজার ৭৯৪টি।

কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গেও তথ্য দেওয়া হয় বুলেটিনে। বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে গেছেন দুই হাজার ৩৯২ জন। এ পর্যন্ত হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে গেছেন এক লাখ ৮১ হাজার ৭৯৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন তিন হাজার ২৩১ জন। বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৭৬ হাজার ৮৪০ জন।

সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬০১টি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে ৩০ হাজার ৬৩৫ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা প্রদান যাবে বলে জানানো হয় বুলেটিনে।

বুলেটিনে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বাতায়ন এবং আইইডিসিআর'র হটলাইনে কল এসেছে ৭২ হাজার ৪৪৭টি। এসব কলে যারা কভিড-১৯ বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছেন তাদেরকে সে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোন এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ৩১ হাজার ১২৪ জনকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর এ পর্যন্ত এ দুই মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ২১৭ জনকে।
-কেকে

| ইশতিয়াক সিদ্দিকী

করোনাভাইরাসের মহামারি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের দেশেও এর প্রকোপ দিনদিন বাড়ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। চার দফা বাড়ানো হয়েছে সরকারি ছুটি। কার্যত পুরো দেশ এখন স্তব্ধ-স্থবির। দিনমজুর থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারের সবার কপালে ভাজ পড়েছে। অভাব অনটন দেখা দিয়েছে বহু পরিবারে। আর এমন দুর্বিষহ ও দুর্যোগময় মুহূর্তে গণমানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মহাপুরুষ হাজী শরীয়তুল্লাহ রহ. এর সপ্তম পুরুষেরা।

'হাজী শরীয়তুল্লাহ (রহ.) সমাজ কল্যাণ পরিষদ বাংলাদেশ' এর ব্যানারে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন তারা। করোনার চলমান পরিস্থিতিতে নগদ অর্থ ও খাদ্য বিতরণ করছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে হাজী শরীয়তুল্লাহ (রহ.) এর বংশের সপ্তম পুরুষ মাওলানা মোহাম্মদ ত্বহা ও মহাসচিব হিসেবে মাওলানা মোহাম্মদ হানজালা দায়িত্ব পালন করছেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকা,গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ,শিবচরসহ অনেক এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ ত্বহা জানান, দুর্যোগ-দুর্ভোগে দেশের আপামর জনগণের পাশে দাঁড়ানো আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। শতবর্ষ ধরে হাজী শরীয়তুল্লাহ রহ. এর বংশধরেরা ধর্মীয় ও মানবিক ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। করোনা পরিস্থিতিতেও আমরা সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সংগঠনের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে মহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ হানজালা জানান, আমরা ৩ হাজার পরিবারকে চাল,ডাল,তেল,আলু ও পেয়াজসহ জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। ইনশাআল্লাহ অতিশীঘ্রই ৬শ আলেম পরিবারকে নগদ অর্থ ও জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। এভাবে আমরা আরো কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। হাজী শরীয়তুল্লাহ রহ. এর বংশধর এবং তাঁর নামে গঠিত 'হাজী শরীয়তুল্লাহ (রহ.) সমাজ কল্যাণ পরিষদ' সংগঠনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছি!


| মুহা. জয়নাল আবেদীন, রংপুর প্রতিনিধি:
গত ২৪ ঘন্টায় রংপুর মেডিকেলে ১৮৮ টি নমুনা পরীক্ষা করে আরও ১৯ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম. নুরুন্নবী লাইজু সোমবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে, রংপুরে – ০৯ জন (সদর-৫, তারাগঞ্জ -৩, বদরগঞ্জ-১), দিনাজপুরের হাকিমপুরে ১ জন, ঠাকুরগাঁও – ০৭ জন (পীরগবঞ্জ ২ জন, বালিয়াডাংগী ১ জন, হরিপুর ৪ জন) এবং পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ- ০২ জন। এর মধ্যে একজন ইন্টার্নসহ দুজন চিকিৎসক পজিটিভ হয়েছেন।
বিভাগের আট জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো  ১০৫ জনে।

আক্রান্তদের মধ্যে মধ্যে রংপুরে ৩০, গাইবান্ধায় ১৬, দিনাজপুরে ১৫, নীলফামারীতে ১১, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৬, কুড়িগ্রামে ৯, লালমনিরহাটে ২ এবং পঞ্চগড় জেলার ৬ জন রয়েছেন

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget