05/04/20


তুর্কমেনিস্তানে 'করোনা' শব্দ ...

নিউজ ডেস্ক: সরকার সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়িয়েছে আরো ১১ দিন। ছুটি কার্যকর থাকবে ১৬ মে পর্যন্ত। নতুন ছুটির সময় থেকে রাত ৮টা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত বিশেষ প্রয়োজন (চিকিৎসা, লাশ দাফন, জরুরি সেবার কাজ) ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবে না।

সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আলাদা আদেশ জারি করে এ নির্দেশনা দিয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা ছিল।


প্রবচন ডেস্ক: গত কয়েকদিন আগে খবর রটে বলিউড সুপারস্টার আমির খান দিল্লির একটি বস্তি এলাকার অসহায় পরিবারকে আটার ব্যাগের মধ্যে ১৫ হাজার টাকা করে সাহায্য পাঠিয়েছেন। এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আমিরের প্রশংসায় মেতে উঠেন অনেকে। ভক্তরা এই তারকার প্রশংসা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

কিন্তু সব শেষে এটি আমির খানের কাজ নয় বলেই জানালেন তিনি।  কাজটি তার নয় বলে মন্তব্য করে টুইট বার্তায় জানান আমির খান। পাঠানো ব্যক্তি তিনি নন বলেও জানিয়েছেন।

টুইটারে আমির খান লেখেন, আটার ব্যাগের মধ্যে টাকা দেওয়ার মানুষটি আমি নই। হয় এটা সম্পূর্ণ গুজব, নয় তো সেই রবিনহুড নিজের নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক। সবাই সুস্থ থাকুন, ভালোবাসা রইলো।

ঘটনাটির সূত্রপাত হয় এক টিকটক ব্যবহারকারীর মাধ্যমে। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, আমির খান দিল্লির বস্তি এলাকায় আটার ব্যাগের মধ্যে ১৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। মুহূর্তেই বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। চলে আসে আলোচনায়।

আমির খান ব্যাগের মধ্যে টাকা না পাঠালেও করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ডে বড় অংকের সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়া সিনেমার শ্রমিকদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন তিনি।


সাজা কমিয়ে সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

নিউজ ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ওই শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ সোলায়মান ইসলাম (৪০)। তিনি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী কে এন ইনস্টিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক।

ওসি আশরাফুল আলম জানান, সোলায়মান ইসলামের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের আবুডাঙ্গা গ্রামে। গত শনিবার রাতে ফেসবুকে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে তিনি স্ট্যাটাস দেন। পরদিন (রোববার) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান।
-ওআই

দোকান-শপিংমল খোলা রাখা যাবে বিকেল ...
প্রবচন ডেস্ক: আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কেনাকাটা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য শর্তসাপেক্ষে দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। তবে তা সর্বোচ্চ বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে দেয়া এক আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়।

দোকানপাট খোলা রাখার বিষয়ে বলা হয়, রমজান ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে সীমিত পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখার স্বার্থে দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। তবে বেচাকেনার সময় পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। বড় শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিং মলে আসা যানবাহনকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। দোকানপাট এবং শপিং মল বিকেল ৫টার মধ্যে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

এ বিষয়ে মন্ত্রপরিষদ সচিব খন্দকাল আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সর্বোচ্চ পাঁচটা পর্যন্ত বলা হয়েছে। কিন্তু নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন তাঁদের সুবিধামতো নির্দেশনা দিতে পারবে। অর্থাৎ তার আগেই বন্ধ রাখার কথা বলতে পারে।

আদেশে আরও বলা হয়, সাধারণ ছুটির সময় এক জেলা থেকে আরেক জেলা এবং এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। ছুটির সময় আন্তজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।
আগে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত বাইরে যাওয়ার বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও নতুন আদেশে বলা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাত আটটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে আসা যাবে না।


রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তার দাবিতে সড়ক অবরোধ ও সিটি করপোরেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকসহ নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষ। এ সময় বিক্ষুব্ধরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে নগরীর গুরুত্ব সড়কের দু'পাশের যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

সোমবার (৪ মে) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত রংপুর সিটি করপোরেশনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল চলে। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রিকশা, ভ্যান, ঠেলা ও অটোবাইক শ্রমিকসহ শত শত দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ অংশ নেন।

নগরীর সিটি বাজারের কাছ থেকে টাউন হল চত্বর সড়ক এলাকা পর্যন্ত বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়াতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মহামারি করোনা মোকাবিলায় লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা বেকার হয়ে পড়ে আছেন। সরকারি, বেসরকারিভাবে তেমন ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন না। এতে হাত গুটিয়ে বসে থাকায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই পরিস্থিতিতে তারা বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছেন।

দিনমজুর ও শ্রমিকরা জানান, পাঁচ কেজি চাল আর সামান্য তেল ডাল দিয়ে এক মাস সংসার চালানো অসম্ভব। ঘরে রাখতে হলে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা দিতে হবে। অন্যথায় উপার্জনের বাহন নিয়ে সড়কে নামার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

এ সময় অনেকেই অভিযোগ করেন, ত্রাণ দেয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্র কার্ডের ফটোকপি নেয়া হলেও ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছেনি। খাদ্যের ব্যবস্থা করে দিতে না পারলে লকডাউন তুলে নেয়ার দাবি জানান তারা।

এদিকে বিক্ষোভকারীরা সিটি করপোরেশনের ভেতরের প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসময় সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন মিঞা, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সাফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডলসহ সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা সেখানে উপস্থিত হন। তাদের দাবি-দাওয়া শোনার পরে মেয়রের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা চলে যান। পরে স্থানীয় শ্রমিক নেতাদের সাথে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়।
-বি২


Top WhatsApp Features To Expect In 2020! - News Case

প্রবচন ডেস্ক: কভিড-১৯-এর কারণে মানুষ যখন বন্ধুবান্ধব ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নভাবে জীবনযাপন করছে, তখন যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ হয়ে উঠেছে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ডাক্তার, শিক্ষক ও দূরবর্তী প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এ সময়ে আপনার সব বার্তা এবং কলগুলোর গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। গত বছর একাধিকবার ফরোয়ার্ড করা হয়েছে- এমন মেসেজ নির্দেশ করতে 'ডাবল অ্যারো' চিহ্নটি হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করা হয়েছে। এই চিহ্নের অর্থ মেসেজটি যে পাঠিয়েছে তার নিজের লেখা নয়; বরং অন্য কারও কাছ থেকে আসা মেসেজ। কার্যত হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো সাধারণ বার্তাগুলোর তুলনায় এই বার্তাগুলো কম ব্যক্তিগত। এ সময়ে হোয়াটসঅ্যাপের এক মুখপাত্র বলেন, আমরা এখন একটি সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছি, যাতে এই বার্তাগুলো একবারে শুধু একটি চ্যাটেই ফরোয়ার্ড করা যায়।

ব্যক্তিগত মেসেজিং সার্ভিস হিসেবে আমরা চ্যাটগুলোর গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে কয়েক বছর ধরে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছি। উদাহরণস্বরূপ, মেসেজগুলো ভুল মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়া রোধ করতে ফরোয়ার্ডকৃত মেসেজগুলোর জন্য একটা সীমা নির্ধারণ করার ফলে বিশ্বব্যাপী অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ ফরোয়ার্ড হ্রাস পেয়েছে ২৫ শতাংশ।

কিন্তু সব ফরোয়ার্ডকৃত মেসেজ ভুয়া নয়। অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, মজার ভিডিও, মিম এবং যে দোয়াগুলো তাদের কাছে অর্থবোধক বলে মনে হয় সেগুলো ফরোয়ার্ড করেন। সম্প্রতি ব্যবহারকারীরা ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষে জনসমর্থন পাওয়ার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছে। তবে ফরোয়ার্ডিংয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের কাছে কখনও কখনও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভুল তথ্য ছড়াতে ভূমিকা রাখছে। হোয়াটসঅ্যাপের ওই মুখপাত্র আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই মেসেজগুলো ছড়ানোর গতি কমানোর মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপকে ব্যক্তিগত যোগাযোগের একটি মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।

এই পরিবর্তন ছাড়াও মানুষ যাতে সঠিক তথ্য পেতে পারে সে জন্য এনজিও এবং স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছে এমন ২০টিরও বেশি জাতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। এই বিশ্বস্ত মাধ্যমগুলো সেই আগ্রহী ব্যবহারকারীদের সরাসরি তথ্য ও পরামর্শ সংবলিত মেসেজ প্রেরণ করেছে। কীভাবে ভুয়া তথ্য ও গুজব করোনাভাইরাস ইনফরমেশন হাবের ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থাগুলোর কাছে রিপোর্ট করতে হবে সে সম্পর্কেও জানতে পারেন। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই পরিস্থিতিতে মানুষের একে অন্যের সঙ্গে আগের চেয়েও বেশি সংযুক্ত থাকা প্রয়োজন। এই বিশ্বব্যাপী সংকটের সময়ে হোয়াটসঅ্যাপ যাতে নির্ভরযোগ্যভাবে মানুষের যোগাযোগে ভূমিকা রাখতে পারে সে জন্য আমাদের টিম কঠোর পরিশ্রম করছে। আমরা ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া শুনে সে অনুযায়ী আপনার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করতে থাকব।

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

প্রবচন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রখ্যাত মুফাচ্ছেরে কোরআন, বাংলাদেশ খেলাফত ইসলামের সাবেক সিনিয়র নায়েবে আমির ও জামিয়া রাহমানিয়া বেড়তলা সরাইল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মরহুম আল্লামা হাফেজ যুবায়ের আহমাদ আনসারীর জানজায় অংশগ্রহণকারীদের করোর করোনা উপসর্গ দেখা দেয়নি।

জানযায় অংশগ্রহণকারী জনস্রোতকে কেন্দ্র করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানাযাস্থলের আশপাশের ১০টি গ্রাম লকডাউন করা হয়। ১০ গ্রামে করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ১৮ এপ্রিল লকডাউন করা ১০ গ্রামের জনসাধারণের সীমিত চলাচলের পাশাপাশি সেখানকার জনগণকে ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার আদেশ শুক্রবার (১ মে) শেষ হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জানাযার আশেপাশের ১০টি গ্রামে গত ১৪ দিনে কোনো উপসর্গ না পাওয়ায় কোনো ব্যক্তি সনাক্ত হয়নি। গ্রামগুলো আপাতত ঝুঁকিমুক্ত ও স্বাভাবিক মনে করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল শুক্রবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মার্কায পাড়ায় নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন আল্লামা হাফেজ যুবায়ের আহমদ আনসারী। পরদিন সকাল ১০টায় সরাইল উপজেলার জামিয়া রাহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

করোনা পরিস্থিতিতে পুরো জেলা লকডাউন থাকা সত্বেও স্বতস্ফূর্তভাবে হাজার হাজার আলেম-ওলামা, মাদরাসার ছাত্র, শিক্ষক ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ তৌহিদি জনতা উক্ত জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় জানাযার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে পার্শ্ববর্তী ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মহাসড়কে কাতারবন্দী হয়ে মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।

জনতার ঢল থামাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে সরাইল সার্কেলের এএসপি মাসুদ রানা, সরাইল থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো ও একই থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল হককে প্রত্যাহার করা হয়। সেই সাথে এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করে পুলিশ বিভাগ।

জানাযার পর বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের মন্তব্য করার পাশাপাশি জানাজা স্থলের আশপাশে করোনা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা করেন অনেকেই। কিন্তু ১০ গ্রামের হোম কোয়ারান্টাইনের ১৪ দিন পার হলেও সেখানে কোনো প্রকার করোনা শনাক্তের লক্ষণ দেখা না যাওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আলিয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এই আলেমেদ্বীনের জানাজাকে কেন্দ্র করে লকডাউন করা গ্রামগুলোতে করোনা লক্ষণ দেখা না যাওয়ার খবরে খুশি এলাকাবাসী।



মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও তারেকুল ইসলাম: আজ ঐতিহাসিক ৫ মে। ২০১৩ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেম শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে ‘হেফাজতে ইসলাম’ নামক একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ইসলামবিদ্বেষী ও নবী সা:-এর অবমাননাকারী ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলে। তারা দাবি আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ ‘ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি’ পালন করে শাপলা চত্বরে জমায়েত হন। কিন্তু সরকার হেফাজতের মূল দাবি আমলে না নিয়ে সেদিন মধ্যরাতে ওই এলাকার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে অন্ধকারে কাপুরুষের মতো নিরস্ত্র লাখ মানুষের ওপর বর্বরোচিত অভিযান পরিচালনা করে। এই ক্র্যাকডাউনে অনেক নিরীহ আলেম-হাফেজ-মুফতি-মুহাদ্দিস-কারি ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান শাহাদতবরণ করেন বলেই জনগণের বিশ্বাস।

যৌথবাহিনীর গুলিতে আহতের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। এখনো আহত অনেকে বুকে ও শরীরে বুলেট বহন এবং অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ব বরণ করে যন্ত্রণাকাতর জীপন যাপন করছেন। সরকার কর্তৃক বহু লাশ গুম করার অভিযোগ উঠেছিল। পরে হামলা-মামলা ও পেশিশক্তির জোরে হেফাজতের নিরীহ নেতাকর্মীদের হয়রানি ও জেল-জুলুমের মাধ্যমে এবং নানা কৌশল ও হুমকি-ধমকি দিয়ে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়। এমনকি সরকারের নানামুখী চাপে শাপলা চত্বরে নিহতদের সঠিক সংখ্যা এবং তাদের সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যাদি সংগ্রহের ক্ষেত্রেও হেফাজতকে চরমভাবে বাধা দেয়া হয়। নিবর্তনমূলক রাষ্ট্রযন্ত্রের চরম দমনপীড়ন সত্ত্বেও হেফাজতে ইসলাম শানে রেসালাত সম্মেলন, ওয়াজ-মাহফিল, তাফসির মাহফিল ও সিরাতুন্নবী সা: সম্মেলনের মাধ্যমে দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। এসব কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগম লক্ষণীয় ।

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশে মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ এবং ইসলামপন্থীদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় উদাহরণ, শাপলা চত্বরে নিহতদের সংখ্যা প্রকাশ করার ‘অপরাধে’ অধিকার-এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান শুভ্রকে গ্রেফতার করা হয়। শাপলা চত্বরের গণহত্যার ব্যাপারে সরকার মূলত দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অন্ধকারে রাখতে চায়; কিন্তু ইনশাআল্লাহ সত্য এক দিন স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হবেই।

হেফাজতের মূল দাবির সত্যতা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও মহান আল্লাহ পাক ও তাঁর রাসূল সা:-এর অবমাননাকারী, ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সরকার আদৌ মেনে নেয়নি। গণ-আন্দোলনের মুখে কয়েকজন চিহ্নিত ব্লগারকে গ্রেফতারের নাটক সাজালেও তাদের শাস্তি না দিয়ে পরে সুযোগমতো জামিনে ছেড়ে দেয়া হয়। এর পরিণতিতে ‘সুবহানাল্লাহ’ নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ধর্মদ্রোহী লতিফ সিদ্দিকী, ইসলামের সুদ তথা রিবা নিয়ে অপব্যাখ্যাদানকারী ও কওমি মাদরাসাবিরোধী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুুহিত, পর্দাবিদ্বেষী সমাজকল্যাণমন্ত্রী মহসিন আলীরা খোদ রাষ্ট্রের কোটর থেকেই একে একে স্বরূপে বেরিয়ে এসেছেন। যদি সরকার হেফাজতের দাবি আমলে নিয়ে ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারদের বিচার করত, তাহলে কোনো মন্ত্রী বা নেতা ইসলামি মূল্যবোধ ও তৌহিদি জনতার ঈমান-আকিদায় আঘাত করে কথা বলার সাহস পেতেন না।

হেফাজতে ইসলাম মুসলমানদের ঈমান-আকিদা রক্ষার লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। ঈমান-আকিদার সঠিক চর্চা, সংরক্ষণ ও লালন করা না হলে মানবজীবন অভিশপ্ত ও নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। ঈমান-আকিদাই হচ্ছে মুসলিম জীবনের সামগ্রিক ব্যবস্থার মূলভিত্তি। শুধু কালেমায়ে শাহাদাত পড়ে মুসলিম নাম ও বেশ ধারণ করলেই ঈমান-আকিদার শর্তগুলো পূরণ হয় না। আল্লাহর একক অস্তিত্বের প্রতি নিরঙ্কুশ বিশ্বাস ও তাকওয়া এবং একইসাথে মানব জাতির জন্য আল্লাহ প্রেরিত নির্দেশনামূলক সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা তথা কুরআন ও রাসূল পাক সা:-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে জীবন যাপন করাই হলো ঈমান-আকিদা মোতাবেক চলা। এখান থেকে বিচ্যুত হলেই ইহজীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে বাধ্য; কেননা ঈমান-আকিদার প্রতি উদাসীনতা এবং এর অনুপস্থিতি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বেইনসাফি ও জুলুম কায়েম হওয়ার পথ সুগম করে দেয়। ঈমান-আকিদা সার্বিক ন্যায় ও ইনসাফের কথা বলে। শুধু ভোগের মধ্যেই নয়, ত্যাগেও যে সুখ আছে সেটার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। ঈমান-আকিদা হচ্ছে মহান প্রভুর কাছে দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার ব্যাপারে উন্মুখ থাকা। ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতা ও উন্নাসিকতা দমন করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে এটা। আধ্যাত্মিক সঞ্জীবনী ও অন্তরের আত্মশুদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে শত আইন-কানুনেও মানুষের সহজাত রিপুর তাড়না ও পঞ্চ ইন্দ্রিয় সংযত করা অসম্ভব। মুসলমানদের আধ্যাত্মিক চেতনা তথা তাকওয়ার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির মূল নিয়ামক হলো ঈমান-আকিদা। ইসলাম গ্রহণের বা মুসলমান হওয়ার মূল শর্তই হলো ঈমান-আকিদার সর্বব্যাপী চর্চা ও সংরক্ষণ করা। আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম ধর্মপ্রাণ জনতাকে সাথে নিয়ে সমকালীন ফিতনা এবং ভোগবাদী ও বস্তুবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ঈমান-আকিদার চর্চা ও সংরক্ষণের লড়াই করে যাচ্ছে।

জনগণ যখন ঈমান-আকিদার ব্যাপারে উদাসীন বা অসচেতন হয়ে পড়ে, সেই সুযোগে রাষ্ট্রক্ষমতায় জালিম শাসকের অধিষ্ঠান সম্ভব হয়- এটা এক ধরনের খোদায়ী অভিশাপ। আল্লাহর জমিনে বাস করে এবং তাঁর অপার নেয়ামত ভোগ করে বান্দা কর্তৃক অবাধ্যতা ও বিরোধিতা কখনোই আল্লাহ তায়ালা বরদাশত করেন না। ঈমান-আকিদা চর্চার ফলে শাসক ও শাসিত উভয়ের মধ্যেই তাকওয়া বা আল্লাহভীতি সৃষ্টি হয়, ফলে জনগণ যখন ঈমান-আকিদার চর্চা করে, তখন তাকওয়ার কল্যাণে শাসকের পক্ষেও জুলুম-শোষণের পথে পা বাড়ানো সম্ভব হয় না। তাই ঈমান-আকিদার চর্চা এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের কর্তব্যকে হেফাজত রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে অবশ্য পালনীয় মনে করে। বিপুল ত্যাগ স্বীকার এবং প্রাণদানের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলাম ঈমান-আকিদা রক্ষার আপসহীন লড়াইয়ের পথ ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কায়েমি স্বার্থান্বেষী সব রাজনৈতিক শক্তির বিকল্প হিসেবে নিজের সম্ভাবনাকে ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

হেফাজতে ইসলাম ভুঁইফোঁড় কোনো সংগঠন নয়। হেফাজতের উত্থান এবং শাপলা চত্বরে অপরিমেয় ত্যাগ স্বীকারÑ ইতিহাস-বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনাও নয়; অধিকন্তু উপমহাদেশের ওলামায়ে কেরামের বিশাল এক সংগ্রামী ও আত্মদানের ইতিহাসের ধারাবাহিকতারই নব উপাখ্যান সৃষ্টি হয়েছে। স্বেচ্ছাচারী রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে মজলুম জনতার সঙ্ঘবদ্ধ সংগ্রামের প্রেরণা নিয়ে প্রতি বছর ঐতিহাসিক ৫ মে ফিরে আসে। এই প্রেরণা যুগে যুগে মানবিক ও নাগরিক মর্যাদা নিয়ে ঈমান-আকিদায় পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বাঁচার তাগিদে সংগ্রামী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বারবার উজ্জীবিত করে তুলবে।

শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের রক্ত ও প্রাণ বিসর্জন বৃথা যাবে না ইনশাআল্লাহ। ইতিহাসের পর্যালোচনায় দেখা যায়, পলাশীর বিপর্যয়ের পর একের পর এক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনগুলো, তথা ফরায়েজী আন্দোলন, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার ধ্বংস, বালাকোটের শাহাদতবরণ, রক্তাক্ত সিপাহি বিদ্রোহ কোনোটিই শেষ বিচারে ব্যর্থ হয়নি, বরং উপমহাদেশের ওলামায়ে কেরামের এই সুদীর্ঘ রক্ত, আত্মদান ও শাহাদতের পথ ধরেই ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির কবল থেকে ভারতকে স্বাধীন করা সম্ভব হয় এবং যথাক্রমে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সৃষ্টির পথ সুগম হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র তথা পাকিস্তান বানানো গেলেও সেটা ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি ইসলামি সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি। ঠিক তেমনই পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জুলুম-শোষণের নিগড় থেকে মুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে ৯ মাসের রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হলেও এখানে মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার ও ন্যায়-ইনসাফ নিশ্চিত করে একটি শোষণ-বঞ্চনাহীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে। তবে হেফাজতের রক্ত ও প্রাণ বিসর্জনের বদৌলতে এ দেশে শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিপীড়িত সাব-অলটার্নরা ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান হয়ে রুখে দাঁড়ানোর হিম্মত অর্জন করেছে।
বাংলাদেশে বিশুদ্ধ কুরআন-হাদিস ও ইসলামি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হলো কওমি মাদরাসা; আর এই কওমি মাদরাসার আলেম ও ছাত্র-শিক্ষকরাই ন্যায়-ইনসাফ ও শান্তির পক্ষে এবং সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, জুলুম ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কুরআন-হাদিসের বাণী প্রচার করে যাচ্ছেন। তারাই শাহ ওয়ালীউল্লাহর সংগ্রামী আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের পর উপমহাদেশে আলেম সমাজের ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ কিছুটা স্তিমিত হলেও তারা ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা-চেতনা, ইসলামি শিক্ষা, মূল্যবোধ ও দ্বীনি সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে মাদরাসা স্থাপনের কাজে ব্যাপৃত হন। হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা কাসেম নানতুবী (রহ:) ১৮৬৬ সালে ওলামায়ে কেরামের বহুল কাক্সিক্ষত প্রথম মাদরাসা বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেন। উল্লেখ্য, মাওলানা কাসেম নানতুবী (রহ:) সিপাহি বিদ্রোহের সময় ঐতিহাসিক থানাভবন ফ্রন্টে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। তিনি সুকৌশলে গ্রেফতার এড়িয়ে তার কার্যক্রম গোপনে অব্যাহত রাখেন। পর্যায়ক্রমে এই ধারার অজস্র মাদরাসা সমগ্র উপমহাদেশে গড়ে ওঠে। বাংলাদেশে এগুলো ‘কওমি মাদরাসা’ নামে পরিচিত। বিশেষত চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায় বাংলাদেশের বৃহত্তম কওমি মাদরাসা তথা দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসা ১৮৯৬ সালে স্থাপিত হয়। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ কওমি মাদরাসা। এই মাদরাসার বর্তমান মুহতামিম শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (দা.বা.)। তিনি দেওবন্দ মাদরাসার সাবেক শায়খুল হাদিস, আওলাদে রাসূল সা: সাইয়েদ হোসাইন আহমদ মাদানীর একজন সুযোগ্য ছাত্র ও শিষ্য এবং আধ্যাত্মিক জগতে তার খেলাফত লাভ করেছেন।

শায়খুলহিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসানের ইন্তেকালের পর দেওবন্দ থেকে পরিচালিত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম ত্যাগী যোদ্ধা ছিলেন সাইয়েদ হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ:)। অসহযোগ আন্দোলন থেকে শুরু করে ভারত স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত মাওলানা মাদানীর সংগ্রাম অব্যাহত থাকে। দখলদার ইংরেজ রাজশক্তি কর্তৃক ১৯২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর করাচির খালেকদিনা হলে এক নিবর্তনমূলক মামলার শুনানিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মাওলানা মাদানী নির্ভীক চিত্তে বলেছিলেন : ‘‘ধর্মীয় উত্তেজনার ফলে ১৮৫৭ সালে ভারতে সর্বত্র যখন বিপ্লবের আগুন জ্বলে উঠেছিল, তখন রানী ভিক্টোরিয়া অর্থাৎ ইংরেজ সরকার ভারতীয়দেরকে যে প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণা প্রচার করে তাদের সান্ত্বনা দিয়েছিলেন, তাতে উল্লেখ ছিল, ‘কারো ধর্মের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না, বরং ধর্মীয় বিষয়ে দেশবাসীর পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে।’ ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও তা স্বীকৃত হয়েছিল। এমনকি পরবর্তীকালে সপ্তম অ্যাডওয়ার্ড এবং পঞ্চম জর্জও এ ঘোষণা সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান সরকার যদি রানী ভিক্টোরিয়া, পরবর্তী সম্রাট ও তাদের পার্লামেন্টের প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণার কোনো মর্যাদা না দেন আর ভারতবাসীর ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপকে সঙ্গত মনে করেন, তাহলে এ দেশের কোটি কোটি মুসলমানকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে যে, তারা মুসলমান হিসেবে বেঁচে থাকতে চায়, না নিরেট ইংরেজের বশংবদ প্রজা হিসেবে। ভারতের ৩৩ কোটি হিন্দুকেও অনুরূপ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মুসলমানদের তরফ থেকে ইংরেজ সরকারকে সতর্ক করে দিতে চাই, যদি সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তাহলে মুসলমানেরা নিজের ধর্ম রক্ষার খাতিরে জীবন উৎসর্গ করে দিতেও কিছুমাত্র ইতস্তত করবে না। আর এ জন্য আমিই সর্বাগ্রে জীবন উৎসর্গ করতে এগিয়ে আসব’’ (সূত্র : আজাদি আন্দোলনে আলেম সমাজের সংগ্রামী ভূমিকা, জুলফিকার আহ্মদ কিস্মতি, পৃ: ৪৬-৪৭)। বাংলাদেশের বর্তমান আওয়ামী সরকার বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তারা আলেমসমাজ ও তৌহিদি জনতার বিশ্বাস ভঙ্গ করে একের পর এক কুরআন-সুন্নাহবিরোধী পদক্ষেপ নিয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে দেশকে ধর্মহীন করার উদ্দেশ্যে বিতর্কিত নারীনীতি ও শিক্ষানীতি প্রণয়ন, সংবিধানের মূলনীতি থেকে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ বাক্যটি বাদ দেয়া, জঙ্গিবাদের ধুয়া তুলে আলেম-ওলামা গ্রেফতার, জেল-জুলুম ও হয়রানি, কওমি মাদরাসা বন্ধের প্রয়াস ইত্যাদি সবই ছিল তৌহিদি জনতার ঈমান-আকিদার জন্য চরম হুমকি। দীর্ঘ দিন ধরে অনলাইন মাধ্যমে গোপনে চলে আসা ইসলামবিরোধী কার্যক্রম রুখতে এবং নবী সা: ও ইসলাম অবমাননাকারীদের বিচারের দাবিতে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম রাজপথে গণ-আন্দোলনের সৃষ্টি করে। শাপলা চত্বরে শহীদদের রক্ত কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছিল না। তাই এই পবিত্র রক্তধারা বৃথা যাবে না ইনশাআল্লাহ। আমিরে হেফাজত আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছিলেন, ‘শাপলা চত্বরের গণহত্যার বিচারের ভার আল্লাহর ওপর দিয়ে দিলাম। নিশ্চয়ই তিনি মজলুমের সাথে আছেন। জালিমরা একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। শাপলা চত্বরে শহীদদের রক্তের পথ বেয়েই এ দেশে একদিন ইসলামের বিজয় ঘটবে, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি দলীয় নেতৃবৃন্দ ও তৌহিদি জনতাকে ধৈর্য ধারণ করতে বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, হেফাজতের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে জাস্টিস আল্লামা ত্বকী উসমানী, ড. ইউসুফ আল কারজাভি, ভারতের দেওবন্দের মুহাদ্দিস ও জমিয়ত সভাপতি আল্লামা সৈয়দ আরশাদ মাদানীসহ বিশ্ব ওলামা যৌথ বিবৃতি দিয়েছিলেন।

বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা ইদানীং অব্যাহতভাবে ইসলাম ও ইসলামি বিধিবিধানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করে যাচ্ছেন। ইসলামের ফরজ বিধান হজ নিয়ে কটূক্তি এবং রাসূল সা:-এর নামে চরম অবমাননামূলক মিথ্যাচার, ইসলামে নিষিদ্ধ ‘সুদ’ নিয়ে আপত্তিকর অপব্যাখ্যা, পর্দাবিদ্বেষী বক্তব্য, কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় কারসাজি ইত্যাদি বর্তমান সরকারের ইসলামবিদ্বেষী অবস্থানকে আরো জোরালো করে তুলেছে।
(লেখাটি ২০১৫ সালে লিখিত বিশেষ কলাম)

লেখক : সাংগঠনিক সম্পাদক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ


ব্রিটেনে আরও এক ভারতীয় চিকিৎসকের মৃত্যু হল করোনায়

প্রবচন ডেস্ক: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হেমাটোলজিস্ট কর্নেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় প্রাণ হারালেন দেশের দুই চিকিৎসক।

রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। 

বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ডা. মনিরুজ্জামান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আবাসিক চিকিৎসক ছিলেন।

পীরগাছায় ট্রেনের ইঞ্জিনের ...
প্রবচন ডেস্ক: গাইবান্ধার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যুর ৬ দিন পর খবর প্রকাশ করল সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

মৃত কিশোর জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে গত ২৫ এপ্রিল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। ওই তারিখেই তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ২৬ এপ্রিল সে মারা যায়। গত ২৭ এপ্রিল তার নমুনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ পর রবিবার আইইডিসিআর এর পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়। 

কিশোরে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম খান। এদিকে, রংপুর মেডিকেলে নমুনা পরীক্ষায় চিকিৎসক-নার্স, পুলিশসহ নতুন করে ১১ জন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। 
আক্রান্তরা হলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসক (৫৪), সদর উপজেলার এক চিকিৎসক (৪২), রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা (৫৪), রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র নার্স (৪০), বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মকর্তা (৫৮), নগরীর মেডিকেল পাকার মাথা এলাকার এক যুবক (২৫), শালবন মিস্ত্রিপাড়া এলাকার সাড়ে ৩ বছরের এক শিশু, দক্ষিণ বাবুখাঁ এলাকার এক পুরুষ (৪৭), সেনপাড়ার এক বৃদ্ধ (৬৫), বিনোদপুর হলদিটারী এলাকার এক পুরুষ (৫২) ও পীরগাছা উপজেলার এক যুবক (২৫)। 

রবিবার রংপুর মেডিকেল কলেজে নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ওই ১১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। 

রবিবার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. একেএম নুরুন্নবী লাইজু বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিকেল কলেজে দুই দফায় ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে নতুন করে ১১ জন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে।

তিনি জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজে করোনা শনাক্তে পিসিআর মেশিন স্থাপন করা হয় গত ২ এপ্রিল। এরপর থেকে আজ ৩ মে পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৭৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখানে এখন পর্যন্ত ১৫৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আইইডিসিআরে মাধ্যমে রংপুর বিভাগে আরও ছয় জনের করোনা শনাক্ত করা হয়। এছাড়া দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয় পাঁচ জনের। 

এ নিয়ে রংপুর বিভাগের আট জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬৭ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে রংপুরে ৬৪, গাইবান্ধায় ১৮, দিনাজপুরে ২২, নীলফামারীতে ১৪, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৮, কুড়িগ্রামে ২২, লালমনিরহাটে তিন এবং পঞ্চগড় জেলার ছয়জন রয়েছেন।

-বিডিপি


10m people with low income to get Rs12,000 stipend in lump sum ...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে চলমান লকডাউনে চাকরি হারানো বেকারদের নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তার জন্য একটি কর্মসূচি চালু করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ওই কর্মসূচির আওতায় দেশটির নিবন্ধনকৃত বেকারদের সর্বোচ্চ ১২ হাজার রুপি দেওয়া হবে।

শনিবার থেকে এই কর্মসূচির কার্যক্রম চালু করেছেন ইমরান খান।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, বেকারদের তালিকা নিবন্ধনের জন্য ওয়েব পোর্টাল চালু করেছে সরকার। সেখানে এ মাস নগদ কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ১২ হাজার রুপি পর্যন্ত নগদ সহায়তা করা হবে।
ইমরান খান বলেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর করোনা ত্রাণ তহবিলে অর্থ জমা দিয়েছেন তাদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করছি, এসব অর্থ স্বচ্ছ উপায়ে ব্যয় করা হবে। এসব অর্থ কোথায় ব্যয় করা হয়েছে আপনারা জানতে পারবেন। আমি নিজেই এটা পর্যবেক্ষণ করব এবং সম্পূর্ণ খরচের বিস্তারিত বিবরণ সরবরাহ করব।

তিনি বলেন, যারা শ্রমিক হিসেবে অথবা রেস্টুরেন্টের চাকরি হারিয়েছেন তাদের নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করছে সরকার। তবে তাদের আগের চাকরির সব তথ্য সরবরাহ করতে হবে।


বিটিভি মহাপরিচালক স্ত্রীসহ করোনায় ...

প্রবচন ডেস্ক: করোনার থাবা এবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে। বিটিভির মহাপরিচালক এসএম হারুন অর রশীদ নিজের স্ত্রী ও কন্যাসহ সপরিবারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল রবিবার এ তথ্য জানা গেছে।

হারুন অর রশীদের শরীরে করোনার সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় তার সংস্পর্শে আসা বিটিভির সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এ কারণে বিটিভির নির্ধারিত কিছু অনুষ্ঠান সম্প্রচার বাতিল করে পুরনো অনুষ্ঠান চালানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত শনিবার রাত পর্যন্ত বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির মোট ১৩ জন আক্রান্ত বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দুজন রিপোর্টার, একজন নিউজ এডিটর, ছয়জন ক্যামেরাম্যান ছাড়াও নিউজ প্রেজেন্টার ও মেকাপম্যানসহ আরো চারজন রয়েছেন। তবে অনেকের রিপোর্ট এখনো আসেনি।

দেশে করোনাভাইরাস হানা দেওয়ার পর রবিবার পর্যন্ত ৫৪ সংবাদকর্মী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজন সিনিয়র সাংবাদিক মারা গেছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ১১ জন।

গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান দৈনিক সময়ের আলোর প্রধান প্রতিবেদক হুমায়ুন কবির খোকন।


ইরানের দৃষ্টিনন্দন সাইয়্যেদ মসজিদ ...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সোমবার থেকে ইরানের কিছু অঞ্চলের মসজিদ খোলা হচ্ছে। যেসব অঞ্চলকে শঙ্কামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে সেখানকার মসজিদগুলোকে খোলার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানী।

টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাতকারে হাসান রুহানী জানান, ১৩২ টি জেলা; যেখানে করোনা ছড়ানোর শঙ্কা খুব কম সেখানে শুক্রবারে জুমার নামায মসজিদে আদায় করতে পারবে ধর্মপ্রাণ মানুষ। এদিকে চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ১ মাসের জন্য স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।



মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন: সর্বক্ষেত্রে দেওবন্দীধারার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওবন্দের মূলনীতি বিসর্জন না দেয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ। 
৩ মে রবিবার তানযীমুল মাদারিসের দফতর সম্পাদক আহসান হাবীব প্রেরিত এক বার্তায় এ আহ্বান জানানো হয়।
প্রেরিত বার্তায় বলা হয়, উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দ্বীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলাফগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান সরকার হুবহু ঐ মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং স্বীকৃতি সংক্রান্ত আইনের ২ (১) ধারায় কওমি মাদরাসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহীর শিক্ষা কেন্দ্রই হলো কওমি মাদরাসা। 

তাই ঐতিহাসিক সেই মূলনীতি এবং কওমী মাদরাসার সংজ্ঞাকে উপেক্ষা করে  যেকোনো সময়, যেকোনো পরিস্থিতিতে, যেকোনো সরকার থেকে আমরা কোনোভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না।

তানযীমভূক্ত মাদারিসের দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ আহ্বান, হকপন্থীদের সঙ্কটের ইতিহাস নতুন নয়। তাই সরকারি অনুদান গ্রহণ করে অনন্তকালের কুদরতি সাহায্যের রাস্তা বন্ধ করবেন না। আল্লাহ পাকের উপর দৃঢ় ভরসা রাখুন, করোনার মহামারি থেকে বিশ্ববাসী ও মুসলিম উম্মার মুক্তির জন্য দোয়া জারি রাখুন। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা আমাদের হেফাজত করবেন, ইনশাআল্লাহ।

প্রেরিত বার্তায় তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি আরশাদ রহমানী, সহ সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আলম, মাওলানা ইউনুস, মাওলানা আব্দুস সবুর, মাওলানা আব্দুল হক হক্কানী এবং তানযীমের বিভিন্ন জেলার সভাপতিদের নাম উল্লেখ করা হয়।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget