05/08/20

করোনায় আক্রান্ত হলেন আফগান ...
ডেস্ক: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফিরোজুদ্দিন ফিরোজ। শুক্রবার দেশটির কর্মকর্তারা তার আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াহিদুল্লাহ মায়ার জানান, গত কয়েকদিন ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ ছিল। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা করা হলো করোনা পজিটিভ ধরা পড়েন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি নিজ বাস ভবনে আইসোলেশনে আছেন।

মুখপাত্র জানান, আফগানিস্তানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ১৭১ জন নতুন আক্রান্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। ফলে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৬৩ জনে।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই জনের মৃত্যু হওয়ার ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৬ জনে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৪৬৮ জন।

-ওআই

বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে পারব না ...
ডেস্ক: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে গ্রেপ্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং মত মপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাত দেশের কূটনৈতিকদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং ঢাকায় কর্মরত কূটনীতিকদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দুর্ভাগ্যজনক।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর প্রিন্সিপ্যিাল ডেপুটি অ্যাসিস্যান্ট সেক্রেটারি এলিস ওয়েলস এক টুইট বার্তায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ডিজিটাল আইনের অধীনে নতুন করে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে  বাংলাদেশে মত প্রকাশে রুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।

বাংলাদেশের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে সেটি নিশ্চিত করার আহবান জানিয়ে টুইট বার্তায় তিনি বলেন, বাক স্বাধীনতাই গণতন্ত্রের ভিত্তি এবং এই মহামারির সময়ে এটি মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে।

ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার অপর এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে মুক্ত ও স্বাধীন মিডিয়ার নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবভিত্তিক তথ্য পরিবেশন করতে পারার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে বাকস্বাধীনতা সমুন্নত রাখা এবং সাংবাদিকদের ঠিকমতো কাজ করতে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার আহবান জানিয়ে শুক্রবার আরও টুইট করেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপিয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনসে তেরিঙ্ক,যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত রবার্ট ডিকসন, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভেরওয়েজ, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শার্লোট স্লাইটার এবং ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এসট্রাপ পিটারসন। 

রাষ্ট্রদূত রেনসে তেরিঙ্ক তার টুইট বার্তায় বলেন, এই সংকটজনক সময়ে বাক স্বাধীনতা অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্যই সাংবাদিকদের স্বাধীন ও মুক্তভাবে তাদের কাজ করতে দিতে হবে, যদিও ফেক নিউজ একটি বড় ধরনের সমস্যা।  

রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন টুইট বার্তায় লিখেছেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ অপরিহার্য। অন্য চারজন রাষ্ট্রদূতও একই ধরনের টুইট বার্তা দিয়েছেন। তারা আরও লিখেছেন, তথ্যভিত্তিক সংবাদের জন্য স্বাধীন সাংবাদিকতার নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

ইউএনবি জানিয়েছে, ঢাকায় কর্মরত কূটনীতিকদের টুইট বার্তার প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমন বলেন, কূটনীতিকদের এ ধরনের বক্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। তাদের কিছু বলার থাকলে সেটা কূটনৈতিক রীতিতে সরকারকে বলতে পারতেন। তারা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন সেটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

হিউম্যান রাইট ওয়াচের বিবৃতি: করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে কার্টুনিস্ট, লেখক সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

শুক্রবার সংস্থার ওয়েব সাইটে এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, কেবলমাত্র ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ পোস্ট করার কারণে মামলা দায়ের না করে বরং আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনাগুলো গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে কোভিড -১৯-এর বিষয়ে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থায় কোন কোনো ফাঁক থাকলে তা বন্ধ করার চেষ্টা করা উচিত। সাংবাদিক, ডাক্তার এবং নার্স ও অ্যাক্টিভিস্টদের সরকারের হয়রানি করা বন্ধ করা উচিত এবং এর পরিবর্তে সহায়তা, স্বচ্ছতা এবং সম্পদ নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করা যায়গাগুলোতে কাজ করা উচিত।'

বিবৃতিতে আরও বলা হয়,  মত প্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে এমন যেকানো পদক্ষেপ গ্রহণ বন্ধ করতে হবে। ১১ জনের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে  এবং কারাগারে থাকা চারজনকে মুক্তি দিতে হবে। এ ছাড়া বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানায় হিউম্যান রাইট ওয়াচ। 


হাবীব আনওয়ার: প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে একটি সুপ্ত আশা থাকে। থাকে কল্পনা ও সুদূরপ্রসারী চিন্তা চেতনা। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে মানুষ কত কষ্ট করে। রাতদিন এক করে নিজেকে নিঃশেষ করে দেয়। অনেকে লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। আবার অনেকে কষ্ট ছাড়াই সফলতার শীর্ষ চূড়ায় আহরণ করে। 

আসলে আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করি, নানান ঘটনার জন্মদাতা এই পৃথিবীটা স্বার্থপর না পৃথিবীর মানুষগুলো? কিন্তু আজো এর উত্তর খুঁজে পাইনি। গত ক'দিন আগে আমার পরিচিত একজন বললো, জীবনে অনেক কষ্ট আর সংগ্রাম করেছি। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ছুটে চলেছি। কিন্তু তেমন কোন সফলতা পাইনি। আমি তার কথা শুনে কৌতুহলী দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। 

মনে মনে ভাবলাম, এত কষ্ট -সংগ্রাম করেও কেন সফল হতে পারলো না! তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার লক্ষ্য কী ছিল, গন্তব্য কোথায় ছিল? তিনি বললেন, আসলে সুনিশ্চিত কোন লক্ষ্য বা কোন গন্তব্য ছিল না। আমি তাকে বললাম, আপনি সফল না হওয়ার অন্তরায়ে একমাত্র করাণ এটাই যে, গন্তব্যহীন পথে ছুটে চলেছেন দিকহারা নাবিকের ন্যায়।

আমাদের প্রায় মানুষের বড় সমস্যা আমরা গন্তব্যহীন চলতে থাকি। যার ফলে পথের কোন শেষ আমাদের চোখে পরে না। পরিণামে হতাশার আগুনে প্রতিনিয়ত দগ্ধ হই। তখন সম্ভাবনার আকাশে হতাশারা ভেসে বেড়ায়। জীবন অনিশ্চিত হয়ে পরে। অনেকে তো আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। আমি অনেক বন্ধুদের দেখেছি ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে সারারাত জেগে পড়তে। আর দিনের বেলায় ক্লাসে বসে ঝিমাতে। আপনিই বলুন, সারারাত জেগে অধ্যায়নের লাভটা কী হলো? যদি ক্লাসের পড়া ধরতে না পারে! 

তবে এই ক্ষেত্রে অনেকের সমস্যা হলো আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। আবেগ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে তারও একটা সীমা  আছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমরা বড়ই সঙ্কীর্ণমনা! সফলতার জন্য সঙ্কীর্ণমনা দূর করতে হবে। চিন্তার দৈন্যতা দূর করে , হৃদয়ের উদারতা আর চেতনার প্রশস্ততার মাধ্যমে নিজেকে  আগামী দিনের জন্য তৈরি করতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, হাটহাজারী মাদরাসা, চট্টগ্রাম  ।


নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর ওষুধ রেমডেসিভির উৎপাদন সম্পন্ন করেছে দেশের খ্যাতনামা ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। উৎপাদনের সব প্রক্রিয়া শেষ করার পর আজ শুক্রবার সকালে শুরু হয়েছে বাজারজাত করার প্রস্তুতি।

এসকেএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন হোসেন বলেন, ‘করোনা–পরিস্থিতি নিয়ে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা দেশবাসীকে এই সুখবর দিতে চাই যে বিশ্বে করোনার একমাত্র কার্যকর ওষুধ বলে স্বীকৃত জেনেরিক রেমডেসিভির উৎপাদনের সব ধাপ আমরা সম্পন্ন করেছি।’

করোনার রোগীদের চিকিৎসায় মার্কিন প্রতিষ্ঠান গিলিয়েড সায়েন্সেস কোম্পানির তৈরি এই ওষুধ সারা বিশ্বে সাড়া ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) গত সপ্তাহে করোনার ওষুধ হিসেবে রেমডেসিভিরকে ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। জাপানের ওষুধ প্রশাসন ৭ মে থেকে ওষুধটি করোনার রোগীদের ওপর প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে। তবে কবে নাগাদ জাপান এর উৎপাদনে যাবে, তা এখনো ঠিক হয়নি বলে সে দেশের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠান গিলিয়েড সায়েন্সেস ওষুধটি উৎপাদনের জন্য ভারত ও পাকিস্তানের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলেও খবরে জানা গেছে। এ অবস্থায় এসকেএফই বিশ্বে প্রথম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, যারা জেনেরিক (মূল/গোত্র) রেমডেসিভির উৎপাদন করতে সক্ষম হলো। এসকেএফের উৎপাদন করা রেমডেসিভিরের বাণিজ্যিক নাম ‘রেমিভির’।

সিমিন হোসেন বলেন, ‘ওষুধ প্রশাসন গত মার্চ মাসে ওষুধটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদনের পরপরই আমাদের ফর্মুলেশন বিজ্ঞানীরা মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে রেমডেসিভির নিয়ে কাজ শুরু করেন। যেহেতু এটি একটি শিরায় দেওয়া ইনজেকশন, সে কারণে এর উৎপাদনে সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। দুই মাস ধরে এসকেএফের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই এত কম সময়ে এটা উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। ওষুধের মূল উপাদান সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি করে পর্যাপ্ত কাঁচামালের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করেছি আমরা।’

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ রোগের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি কার্যকারিতা দেখিয়েছে রেমডেসিভির। গিলিয়েডের নিজস্ব পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ওষুধ ব্যবহারে রোগীদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। মানুষের শিরায় ইনজেকশন হিসেবে এই ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। রোগের তীব্রতার ওপর এর ডোজ নির্ভর করে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য ৫ অথবা ১০ দিনের ডোজ প্রয়োজন হতে পারে।

রেমডেসিভির উৎপাদনের একচেটিয়া স্বত্ব রয়েছে গিলিয়েডের। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন অনুযায়ী, জাতিসংঘস্বীকৃত বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলো এসব পেটেন্ট বা স্বত্ব অগ্রাহ্য করতে পারে। ফলে এসব দেশ সহনীয় মূল্যে ওষুধ উৎপাদন করতে পারে। তবে এই ওষুধ বর্তমানে খোলা বাজারে দেওয়া হবে না। এটা দেওয়া হবে করোনার চিকিৎসার জন্য সরকার অনুমোদিত হাসপাতাল বা ক্লিনিককে।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের পরিচালক অ্যান্থনি এস ফাউসি হোয়াইট হাউসে এক আলোচনায় বলেন, করোনা থেকে দ্রুত সেরে ওঠার ক্ষেত্রে রেমডেসিভিরের ইতিবাচক প্রভাব পরিষ্কার। আর এই ওষুধ যেহেতু কাজ করছে বলে পরিষ্কার প্রমাণ মিলেছে, তখন তা দ্রুত মানুষকে জানানো নৈতিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে।

শিল্পপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ট্রান্সকম গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ৩০ বছর ধরে ওষুধ উৎপাদন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বাইরে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশের ৩০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে আসছে।

-পিএ

Doctor's Note: Sleep, Ramadan and the coronavirus | Coronavirus ...
ডেস্ক: বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ভীত-সন্ত্রস্ত। এরমধ্যেই আগমন করেছে মুসলমানদের অন্যতম ফরজ ইবাদত রোজা। করোনাকালে রোজায় মানুষের স্বাস্থ্যের কোন অবনতি হবে কিনা এ সংশয় নিয়ে অনেকে রোজা পালন করলেও আত্মিকভাবে প্রশান্তি খুঁজে পাচ্ছিলেন না তারা।

একটু দেরিতে হলেও রোজাদারদের সেই সংশয় কিছুটা কমে এসেছে জার্মানির একদল গবেষকদের কথায়। চিকিৎসাশাস্ত্রে অভিজ্ঞ এসব গবেষকগণ দাবি করেছেন, করোনায় রোজা রাখলে স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি হবেনা।

জার্মানির মুনস্টার ইউনিভার্সিটি অব এপ্লয়েড সায়েন্সেসের হিউম্যানিটারেইন এইড সেন্টারের পরিচালক জোয়াছিম গার্ডম্যান বলেছেন, রমজান মাসে দিনের বেলায় রোজা রাখলে স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই উদ্বেগের কারণ নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, রোজা সঠিক মাপে আহার গ্রহণকারী সুরুচিবান ব্যক্তির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করতে পারে না।

জার্মানিতে এমনিতেই রোজা পালনকে নেতিবাচকভাবে নেয়া হয়- এরমধ্যে চলতি বছরের প্রাণঘাতি মহামারি করোনা ভাইরাসের সময় রোজা রাখলে স্বাস্থ্যের অবনতি হবে কিনা- এনিয়ে দেশটিতে ব্যপক তর্ক-বিতর্ক হচ্ছিল। ঠিক এমন সময়ে গবেষকগণ এই মতামত উল্লেখ করলেন।

‘করোনাকালে নিরাপদ রমজান’ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, অন্যান্য বছরের ন্যায় এই বছরেও সুস্থ লোকেরা রোজা রাখতে পারবেন। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, কোভিড-১৯ এর সময়ে রোজা রাখায় কোন সমস্যার সৃষ্টি হবে কিংবা ভাইরাসটির সংক্রমণ হবে- এখন পর্যন্ত কোন গবেষণা এরকম দাবি করেনি।

এ প্রসঙ্গে জার্মান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ফর থেরাপিউটিক ফাস্টিং অ্যান্ড নিউট্রিশনের উপপরিচালক মার্টা রিসম্যান-ফেডরিচ বলেন, আমরা সহকর্মীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা করেছি, আমাদের সম্মিলিত মত হল, করোনাকালে প্রবীণদের রোজা পালনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। বিশেষ করে অন্যান্য রোগ-ব্যধির কারণে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আল জাজিরা

করোনায় মৃত মানুষের দাফনের দায়িত্ব ...
নিউজ ডেস্ক: প্রতিদিনই রাজধানীতে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বিশেষ করে রাজধানীর ঢাকায় নতুন নতুন এলাকায় করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। আর যার প্রভাব পড়ছে কবরস্থানে লাশ দাফনকালে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের জন্য নির্ধারিত খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে দাফনের জায়গা নেই। এমন পরিস্থিতিতে মারা যাওয়া করোনা রোগীদের দাফন করা হচ্ছে রায়েরবাজার বসিলা কবরস্থানে।

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে শুধু আক্রান্তদেরই নয়, আক্রান্ত সন্দেহে যারা মারা যাচ্ছেন তাদেরও এখানে কবর দেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব লাশ পরিবহন ও দাফনের দায়িত্বে আছে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আল-মারকাজুল ইসলামী। তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ নেওয়া হয় কবরস্থানে। 

খিলগাঁও কবরস্থানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে এ পর্যন্ত দাফন হয়েছে ১৯১ লাশ। এদের কেউ করোনা পজিটিভ ছিলেন, কাউকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে দাফন করা হয়েছে। এ কবরস্থানের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই ৯ নম্বর লাইন ধরে সোজা দক্ষিণে ঝিলপাড়ের কাছে ঝোপের আড়ালে নির্ধারণ করা হয়েছে করোনায় মৃতদের জায়গা। অন্যান্য কবর থেকে একটু আলাদাভাবে রাখা। এসব কবর খননের জন্য দায়িত্বে ছিলেন চারজন গোরখোদক। 

কবরগুলোর একপাশে আগে থেকে বাঁশ কেটে সাজিয়ে রাখা হতো। দাফন করা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে প্রতিটি কবরের মাঝখানে বাঁশ কেটে বাতা করে নাম্বারিং করে দেওয়া হয়েছে। জায়গার সংকটের কারণে গত ৩০ এপ্রিল থেকে করোনা আক্রান্তে মারা যাওয়াদের দাফন শুরু হয়েছে রায়ের বাজার বসিলা কবরস্থানে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে করোনা রোগীর লাশ কবরস্থানে নিয়ে আসা হয়। অ্যাম্বুলেন্স দুটি কবরস্থানের এক প্রান্তে পার্ক করে রাখা হয়। এক অ্যাম্বুলেন্সে বহন করা হয় দাফনের দায়িত্বে থাকা ১০ স্বেচ্ছাসেবককে। তারা প্রত্যেকে ব্যক্তিগত সুরক্ষার সরঞ্জাম (পিপিই) পরা। অপর অ্যাম্বুলেন্সে বহন করা হয় লাশ। তারা একটি স্ট্রেচারে করে সাদা কাফনে মোড়ানো লাশ নামান। এরপর কবরস্থানের ইমামসহ ১০/১২ জনের উপস্থিতিতে জানাজা নামাজ পড়ানো হয়।

জানাজা শেষে স্ট্রেচারে করে তারা লাশ কবরের কাছে আনেন। এরপর পিপিই পরা চারজন মিলে লাশ কবরে নামান। কবরে দেহ নামানোর পর মাটি দেওয়া হয়। সব শেষে যারা দাফনে অংশ নেন তারা কবরস্থানের নির্দিষ্ট একটি স্থানে গিয়ে পিপিই খুলে ফেলেন। সবাই নিজেদের গামবুট আর শরীর জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করে নেন। এরপর পিপিইগুলোতে আগুন জ্বালিয়ে নষ্ট করে দেন। দাফন কাজ শেষে তারা মৃতের জন্য হাত তুলে দোয়াও করেন।

গত ২৫ মার্চ খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া প্রথমবারের মতো এক ব্যক্তিকে দাফন করা হয়। খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানের মোহরার মো. ফেরদৌস বলেন, করোনায় যাদের দাফন হতো, তাদের বিষয়ে এক দুই ঘণ্টা আগে তাদের জানানো হয়। এরপর তারা কবরের অন্যান্য জিনিসপত্র প্রস্তুত করে রাখতেন। এরপর কবরস্থানের মসজিদের ইমাম দিয়ে জানাজা পড়ানো হতো।

জানাজার সময় প্রত্যেকে নিজের সুরক্ষার জন্য মুখে মাস্ক পরে থাকেন। দাফন শেষে প্রত্যেকে হাত-পা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় পানি জমে গেছে, ঝিলের পানি উঠে এসেছে। আবার জায়গা সংকটের কারণে খিলগাঁও কবরস্থানে এখন কোনো লাশ দাফন হচ্ছে না। রায়ের বাজারে সব লাশ দাফন হচ্ছে।

-কেকে

নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক আজ বন্ধ

► বন্ধের সিদ্ধান্ত বায়তুল মোকাররম মার্কেট
► বন্ধের সিদ্ধান্ত আসছে নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক ও চন্দ্রিমার
► খুলছে না জুয়েলারি দোকান
► ১৭টি আউটলেট খুলে দিচ্ছে আড়ং

ঈদ সামনে রেখে সরকার মার্কেট ও দোকান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না ব্যবসায়ীরা। নিজেদের করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি, পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাওয়া কর্মচারীদের ফিরিয়ে আনা, নানা ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চিন্তিত তাঁরা। এ ছাড়া বন্ধ রয়েছে পরিবহনব্যবস্থা। আর করোনারভাইরাস প্রাদুর্ভাবে দেশজুড়ে সরকারের সাধারণ ছুটি থাকায় ক্রেতা উপস্থিতি নিয়েও আশঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে দোকান খুলে লাভ দেখছেন না তাঁরা। মার্কেট সমিতিগুলোকে ঈদে দোকানপাট বন্ধ রাখতে চাপ দিচ্ছেন তাঁরা। এসব কারণে গতকাল বৃহস্পতিবারও অনেক মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সমিতি। তবে কেউ কেউ খোলার পক্ষে মত দেওয়ায় অনেক মার্কেট রয়েছে সিদ্ধান্তহীনতায়। আবার এখনো শপিং মল না খুললেও পুরান ঢাকার পাইকারি বাজারগুলোয় সীমিত পরিসরে বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানপাটও এরই মধ্যে খুলতে শুরু করেছে। কেউ বা নিচ্ছে খোলার প্রস্তুতি।

জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে গত বুধবার দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের শপিং মল বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এই বিবেচনায় গতকাল বায়তুল মোকাররম মার্কেটও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেয় মার্কেট সমিতি। এ ছাড়া দেশের সব জুয়েলারি মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস)। অন্যদিকে দেশীয় ফ্যাশন হাউস মালিকদের সংগঠন ফ্যাশন হাউস এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও ক্রেতার উপস্থিতি ও ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে শোরুম খোলায় আগ্রহী নন উদ্যোক্তারা। আর  রাজধানীর ঈদ কেনাকাটার সবচেয়ে বড় জমায়েত নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের বড় অংশও দোকান না খোলার পক্ষে। তাঁরা মালিক সমিতিকে মার্কেট বন্ধ রাখতে চাপ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি এসব মার্কেট সমিতি। দু-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে।

অবশ্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মনিহারি, হার্ডওয়্যার, চশমা, রেডিমেড কাপড়, প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকান কয়েক দিন ধরে একটু একটু করে খুলতে শুরু করেছে। পুরান ঢাকায় অনেক পাইকারি কাপড়ের দোকান খোলার প্রস্তুতির খবরও পাওয়া গেছে। এসব এলাকার দোকানগুলোয় এরই মধ্যে টেলিফোনে বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের মধ্যে এক মাস বন্ধ থাকার পর গত সোমবার সরকার শপিং মল ও মার্কেট আগামী ১০ মে থেকে খোলার অনুমতি দেয়। বেশ কিছু শর্ত মেনে প্রতিদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত দোকান খোলার সুযোগ দেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে অতিসংক্রামক এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয় আগামী ১৬ মে পর্যন্ত, সঙ্গে গণপরিবহনও বন্ধ রাখা হয়েছে। স্কুল-কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়িয়ে ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, ‘সরকার আমাদের দোকান খোলার অনুমতি দিলেও আমাদের শ্রমিকরা রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। এ অবস্থায় তারা আসতে পারবে না। গণপরিবহনও বন্ধ। আর স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা চিন্তা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ঈদের আগে দোকান খুলব না। যতক্ষণ পর্যন্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে বলে আমরা মনে করব ততক্ষণ পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখা হবে।’

দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর স্বত্বাধিকারীদের সংগঠন ফ্যাশন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি সৌমিক দাস বলেন, ‘আমরা অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দোকান বন্ধ রাখা বা চালু রাখার কোনো সিদ্ধান্ত দিইনি। যেখানে মার্কেট বন্ধ সেখানে তো এমনিতেই শোরুম খুলতে পারব না। আর মার্কেটের বাইরের শোরুমগুলো খুললেও খুব একটা বিক্রি হবে বলে মনে হয় না। দেশের এমন পরিস্থিতিতে মানুষ ঈদের কেনাকাটা করতে ঘর থেকে বের হবে না। তার পরও আমরা পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে শোরুম পরিচালকদের সিদ্ধান্ত নিতে বলেছি। যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রেখে বিক্রি করা যায়, তবে করবে।’

নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘সরকার দোকান খোলার অনুমতি দেওয়ার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে দুই ধরনের মত সৃষ্টি হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা আগামী ১০ মে থেকে মার্কেট চালু করব কি না সে সিদ্ধান্ত এখনো নিতে পারিনি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ব্যবসায়ী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সিদ্ধান্ত আসেনি চন্দ্রিমা সুপারমার্কেট, চাঁদনীচক ও রাজধানী সুপারমার্কেটের বিষয়েও। চাঁদনীচক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখনো দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নিইনি। এ পরিস্থিতিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অনেকটা আত্মঘাতী হচ্ছে। দোকান খুললে ক্রেতা আসলে সাম্প্রতিক ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যাবে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কাস্টমাররাই বা কেন আসবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে? আমরা কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।’

এদিকে রাজধানীর ইসলামপুর, নবাবপুরসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি মার্কেট খোলার প্রস্তুতি দেখা গেছে গত দুই দিন ধরে। গতকাল বেচাবিক্রির খবরও পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে পাইকাররা মোবাইলে অর্ডার দিচ্ছেন। আর চাহিদামতো মালপত্র কুরিয়ারে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, গোপীবাগ, মানিকনগরসহ বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকান কয়েক দিন ধরে খুলতে শুরু করেছে। খাদ্যপণ্য ছাড়াও বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব দোকানে বেচাবিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ মনিহারি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হাজি শফি মাহমুদ বলেন, ‘দোকানপাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে ব্যবসা হবে? এখানে প্রায় প্রতিটি দোকানের আয়তন আট/ছয় ফুট বাই আট ফুট। দোকানে দুজন কর্মচারী, একজন ম্যানেজার, মালিক একজন। সে হিসাবে মিনিমাম স্টাফ হবে চার থেকে পাঁচজন। কিন্তু তবু আমরা যতটুকু পারব মেনে দোকান চালাব। কারণ আমাদের বাঁচতে হবে।’

১৭টি আউটলেট খুলছে আড়ং
আগামী ১০ মে থেকে আউটলেটগুলো খুলে দিচ্ছে ‘আড়ং’। সারা দেশে তাদের ২১টি আউটলেটের মধ্যে ১৭টি আউটলেট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন আড়ংয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, ‘আড়ংয়ের পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ৬০ থেকে ৬৫ হাজার মানুষ। করোনাভাইরাসের কারণে বৈশাখকেন্দ্রিক বেচাকেনা বন্ধ ছিল। পণ্যগুলো স্টক হয়ে গেছে। ঈদের পণ্যও আমাদের হাতে রয়েছে। এখন আমরা চাচ্ছি এসব পণ্য ঈদের আগে কিছুটা হলেও বিক্রি করে তাদের সাপোর্ট দিতে। তা না হলে আগামীতে আমাদের উৎপাদনকারীদের সাপোর্ট দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।’

এদিকে সাদাকালো, কে-ক্রাফট, অঞ্জনস, নিপুণ, রঙ, অন্যমেলা, বাংলার মেলা, নবরূপা, নগরদোলা, দেশাল, নীলাঞ্জনাসহ দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো খোলার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

-কেকে

ছবি: প্রথম আলো 
প্রবচন ডেস্ক: হকাররা ফুটপাতে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করেছেন। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আবারও এরকম দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। যদিও প্রশাসন বারবার সতর্ক করছে সামাজিক দূরত্ব মানার জন্য।

তবে এসব হকারদের বক্তব্য হল, পেটের জন্য আমাদের আর করা কিছু নাই। ঘরের মধ্যে বইসা থাইকা মরার চাইতে কাম কইরা মরা ভাল।

সম্প্রতি আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সীমিত পরিসরে শপিংমল খুলে দেয়ার ঘোষণার পরে এরকম হকারদের উপস্থিতি বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষের মাঝেও অনেকটা বেপরোয়া ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এরকম চলতে থাকলে করোনার প্রকোপ বাংলাদেশে আরো অনেক বেড়ে যাবে। গত কয়েকদিন আগে স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক মন্তব্য করেছিলেন, শপিংমল খুলে দেয়ার করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা খেুব বেশি।

প্রতীকী ছবি
নিউজ ডেস্ক: গতকাল বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এডিবির বোর্ড সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এডিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়।

এডিবির অর্থে করোনাকালীন জরুরি সহায়তা হিসেবে প্রায় ২০ লাখ গরিব পরিবারকে মাসে ২৩ ডলার বা প্রায় ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ১০ লাখ পরিবার মাসে ২০ কেজি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় দেড় কোটি মানুষ উপকৃত হবে।

দেশে দেশে করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এডিবির গঠিত ২ হাজার কোটি ডলারের তহবিল থেকে এই অর্থ পাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে এই অর্থ সহায়তা দেওয়ার এডিবিকে ধন্যবাদ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এডিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, করোনার ভাইরাসের প্রভাবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া উদ্যোগে গতি আনতে এডিবি এই অর্থ সহায়তা দিচ্ছে।

এর আগে গত ৩ এপ্রিল করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল এডিবি। করোনা মোকাবিলায় তাৎক্ষনিক কেনাকাটায় বিশেষ করে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, টেস্টিং সামগ্রি, চিকিৎসা অবকাঠামো তৈরি ও আধুনিকায়নে এই অর্থ খরচ করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ১৭ টি মেডিকেল কলেজে আইসোলেশন ও বিশেষ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া গত মার্চ মাসে সাড়ে তিন লাখ ডলার অনুদানও দিয়েছে এডিবি।

-পিএ


ডেস্ক: ভারতের নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের গুলিতে কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধান কমান্ডার রিয়াজ নাইকু নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালের দিকে ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলায় হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধানসহ অন্তত দু’জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

জম্মু-কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলার বেইঘপুরা এলাকায় সেনাবাহিনী এবং পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ অভিযানে নিহত হয়েছেন নাইকু। কয়েক দিন ধরেই কাশ্মিরে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে স্বাধীনতাকামীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে কাশ্মিরে পৃথক তিনটি যৌথ অভিযান শুরু করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। বুধবার সকালের দিকে পুলওয়ামার প্যাম্পোর এলাকায় অন্য একটি অভিযানে আরো দু’জন নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পুলওয়ামা জেলার বেইঘপুরা এলাকায় হিজবুল মুজাহিদীনের প্রধান কমান্ডার রিয়াজ নাইকুর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনী যৌথ অভিযানে যায়। এ সময় কাশ্মির উপত্যকার অন্তত ১০টি জেলায় মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।

এর আগে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী হিজবুল মুজাহিদীনের এই প্রধানের মাথার দাম ১২ লাখ রুপি নির্ধারণ করে। হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধানের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান টার্গেটে ছিলেন তিনি। জম্মু-কাশ্মির পুলিশের সাবেক মহাপরিচালক এসপি ভেইড বলেন, ২০১৬ সালের জুলাইয়ে হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধান বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর নাইকুকে মোস্ট ওয়ান্টেড ঘোষণা করা হয়েছিল। গত মাসে কাশ্মির উপত্যকায় স্বাধীনতাকামীদের সাথে সংঘর্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাসহ অন্যান্য নিরাপত্তাবাহিনীর অন্তত ২২ সদস্য নিহত হয়।
-এনডিটিভি

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী সাদ এরশাদ
রংপুর প্রতিনিধি: চলমান করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া হতদরিদ্র মানুষের মাঝে রংপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুস্করিণী ও চন্দনপাট ইউনিয়নের ৯০০ পরিবারের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী চাল, ডাল, তেল ও চিড়াসহ বিভিন্ন পণ্য বিতরণ করে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

এ দিন সদ্যপুস্করিণী ইউনিয়নের পালিচড়া কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ৩৫০ এবং চন্দনপাট ইউনিয়নের শ্যামপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠে ৫৫০টি পরিবারের মাঝে এ সব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন সাদ এরশাদ।

এসময় জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাফিউল ইসলাম শাফি, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজলী বেগম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদার রহমান মিলন, সদ্যপুস্করিণী ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক চাঁন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম মিন্টু, চন্দনপাট ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি মাহবুবার রহমান মাহবুব ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজার রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তাপমাত্রা পরীক্ষা করছেন একজন স্বাস্থ্যকর্মী
ফাইল ছবি- বিবিসি

ডেস্ক: ব্রিটেনের সরকার বলছে তারা তুরস্ক থেকে যে চার লাখ পিপিই আনার অর্ডার দিয়েছিলেন সেগুলো মানসম্মত নয়।

গত মাসে ব্রিটেনের রয়াল এয়ারফোর্সের বিমানে অর্ডারের অর্ধেক পিপিই গাউন দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য সেবাকর্মীদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। এখন সেগুলো গুদামে বসে আছে।

তুরস্কের যে প্রতিষ্ঠানটি এই পিপিই বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে তাদের মুখপাত্র বলছেন তারা কোন অভিযোগ পাননি।

সেলেগ্না টেকস্টিল নামেও ওই সংস্থার মুখপাত্র মেহমেত দুযেন বিবিসিকে বলেছেন ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এনএইচএস, অথবা আঙ্কারায় ব্রিটিশ দূতাবাস বা ব্রিটিশ কোন কর্মকর্তা তাদের কাছে কেউই এই পিপিই-র মান নিয়ে কোন অভিযোগ করেনি।

"যে ফ্যাব্রিক এবং অন্যান্য যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে তার সবকিছুই অনুমোদিত জিনিস," তিনি বলছেন এবং জানিয়েছেন কোন ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের জন্য তারা প্রস্তুত ছিল।

ব্রিটেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলে আসছে তারা "পিপিই জোগাড় করার জন্য দিবারাত্র কাজ করছে"।

যুক্তরাজ্যে গত কয়েক মাস ধরে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলার সময় ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা গাউন, মাস্ক ও গ্লাভসের যথেষ্ট সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছিলেন।

যারা কোভিড-নাইনটিন রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন বা আক্রান্তদের মুখোমুখি যাদের হতে হচ্ছে, সেই সামনের সারির কর্মীদের জন্য পিপিই বা সুরক্ষা সরঞ্জাম অত্যাবশ্যক। কর্মীরা উদ্বেগে ছিলেন যে সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়া তারা এই ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারেন বা নিজেরাও তা ছড়াতে পারেন।

এই বিতর্কের মধ্যেই ব্রিটিশ সরকার এপ্রিল মাসে ঘোষণা করে যে তারা তুরস্ক থেকে প্রচুর পরিমাণ সুরক্ষা সরঞ্জাম আনার ব্যবস্থা করতে পেরেছে।
-বিবিসি


সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধ বাবাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত, ইমাম আটক

নিউজ ডেস্ক: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আফতাব উদ্দিন (৯০) নামে এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। সম্পত্তির লোভে তার ছেলে মো. বদরুদ্দোজা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ৮ টার দিকে শহরের মোহাম্মদিয়া হোটেল এলাকা থেকে পুলিশ বদরুদ্দোজাকে আটক করেছে। এ ঘটনায় বৃদ্ধের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

থানা পুলিশ জানায়, এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে রামগঞ্জ পৌর শহরের কাঠবাজার সড়কের একটি ভাড়া বাসায় বৃদ্ধকে পেটানোর ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহত বৃদ্ধকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহত আফতাব উদ্দিন উপজেলার কচুয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফতাব উদ্দিন উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম করপাড়ার বাসিন্দা। বয়সের ভারে এখন তিনি চোখে দেখছেন না। তার ৯ ছেলের মধ্যে ৪ জন ঢাকা ও প্রবাসে রয়েছে। তিনি ও তার (বৃদ্ধ) অসুস্থ স্ত্রী ৮ নাম্বার ছেলে বদরুদ্দোজার সঙ্গে কাঠবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

আহত আফতাব উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ভোরবেলা বদরুদ্দোজা তার নামে বাড়ির জমি লিখে দেয়ার চাপ দেয় । এতে আমি অন্য ছেলেদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলি। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার হাতে লাঠি কেড়ে নিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। অনুনয় বিনয় করেও তার থেকে রক্ষা পাইনি। আমি ও আমার স্ত্রী সেহরি না খেয়ে রোজা রেখেছি। 

এদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রামগঞ্জ পাটবাজার দারুস সালাম জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি শহিদ উল্যা ও তার ছেলে বাবলু ইমাম বদরোদ্দোজা মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ।

জানা গেছে, বদরুদ্দোজা গত কয়েক বছরে ৪টি বিয়ে করেছেন। মারধর করায় স্ত্রীরা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। 

এ ব্যাপারে বদরুদ্দোজা জানান, বাবা-মা তাকে হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে দিচ্ছে না। তিনি তাদেরকে খাওয়াচ্ছে। আর মা রান্নায় তেল বেশি খরচ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাবাকে মার ধর নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

জানতে চাইলে রামগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহসিন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি অমানবিক। আসামীকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget