05/10/20

ওবামার ফোন কল ফাঁস, করোনা ইস্যুতে ধুয়ে দিলেন ট্রাম্পকে!
ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে করোনা মহামারি মোকাবেলা করছেন তা এককথায় ‘নৈরাজ্যকর’। ফলে মহামারির বিরুদ্ধে লড়তে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে নিয়ে এমন মন্তব্য করলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত শনিবার একটি সূত্র জানায়, প্রশাসনের সাবেক সদস্যদের সঙ্গে এক কনফারেন্স কলে এ মন্তব্য করেন ওবামা। 

অথচ ট্রাম্পের সমালোচনা থেকে সবসময় দূরে ছিলেন তিনি। এমনকি যখন করোনা নিয়ে ওবামার সমালোচনা ট্রাম্প করেছিলেন তার জবাবেও কিছু বলেন নি। কিন্তু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় ওবামা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। করোনায় আমেরিকায় এ পর্যণ্ত ৭৫ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। ওবামা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৩ হাজার সদস্যের সঙ্গে ওই ফোন কলে সবাইকে ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন এর পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন ওবামা। আগামী ৩ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 ওই কলে কি কথা হয়েছে তা প্রথম প্রকাশ করে ইয়াহু নিউজ। পরবর্তীতে রয়টার্স বিষয়টি নিশ্চিত হয় একটি সূত্র থেকে। ওবামা বলেন, ‘আমরা যে যুদ্ধে লড়তে যাচ্ছি তা কোন ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয় বরং স্বার্থপরতা, বর্ণবাদ, বিভক্তি এবং যারা অন্যদের শত্রু মনেকরে তাদের বিরুদ্ধে। আর এসব প্রবণতা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে আমেরিকানদের জীবনযাত্রায়। এ মহামারির বিরুদ্ধে দাাঁড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের যে দূর্বলতা এটিও তার একটি কারণ।’

ওবামা বলেন, ‘আমার কি সুবিধা তা দেখব, বাকীরা গোল্লায় যাক- এ ধরণের মানষিকতা একটি উত্তম সরকারের জন্যও মন্দ। এমনকি এটি অত্যন্ত বিশৃংখল ও বিপর্যয়কর, যখন এ ধরণের মানষিকতা কাজ করে। আর তা আমাদের সরকারে এখন ক্রিয়াশীল।’ তিনি বলেন, ‘এ জন্য আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাকী যে সময় আছে নির্বাচন পর্যণ্ত ততদিন আমি জো বাইডেনের সঙ্গে কাজ করব এবং তার পাশে থাকব।’ 

এ ফোন কলের ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেনি ওবামা অফিস। তবে হোয়াইট হাউজের তরফ থেকে বলা হয়েছে অসাধারণভাবে করোনা মোকাবেলা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সূত্র: রয়টার্স

চীনে করোনা-ভাইরাস পরিস্থিতি ভয়াবহ ...
ডেস্ক: চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানকে করোনাভাইরাসের আঁতুরঘর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।এদিকে, নতুন এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, চীনে করোনার কবল থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন যারা তাদের ৫ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ ফের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। 

সংবাদমাধ্যম  ‘ব্লুমবার্গ’ এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আর এই  তথ্যই চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের চিকি‍ৎসকদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

‘ব্লুমবার্গ’ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা নিয়ে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলনে বৃহস্পতিবার এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিভাগের পরিচালক ওয়াং গুইকিয়াং। 

তিনি জানান, বিভিন্ন অঞ্চলে করোনা মুক্ত রুগীর ফের মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার হার ভিন্ন। কোথাও ৫ শতাংশ, আবার কোথাও ১৫ শতাংশ।  তাছাড়া যারা দ্বিতীয়বার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের অনেকের মধ্যেই রোগের কোনও উপসর্গ ছিল না। যা বেশ উদ্বেগজনক।

এদিকে, কেন ফের সুস্থ রুগীরা আক্রান্ত হচ্ছেন তা বুঝতে পারছেন না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। 

তবে অনেকেই মনে করছেন যে, করোনা পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য মিলছে না।

দয়া করে ইদ উপলক্ষে লকডাউন শিথিল ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনা লকডাউনের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে চলছে মুসলমানদের পবিত্র রোজা পালন। ব্যতিক্রম নয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। সেখানেও লকডাউনের মধ্যেই রোজা করছেন মুসলিমরা। কিন্তু ঈদে কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মধ্যেই। ঈদে কি লকডাউন শিথিল হবে? না কি ঘরবন্দি হয়েই কাটবে এবারের খুশির ঈদ? এসব জল্পনার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিল ইমামদের সংগঠন। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীকে তাদের অনুরোধ, দয়া করে ঈদে লকডাউন শিথিল করবেন না।

আনুমানিক আগামী ২৫ মে ঈদ। মুসলিম সম্প্রদায়ের সব থেকে বড় এই উৎসবে এবার ঝুলছে লকডাউনের কাঁটা। এরই মধ্যে ঈদের কেনাকাটা লাটে উঠেছে। তাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মন খারাপ ব্যবসায়ীদেরও। তবে করোনা সংক্রমণ যে হারে ছড়াচ্ছে তার মধ্যে লকডাউনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন না কেউ। মুসলমানরাও না।

বিশেষ করে রাজ্যের একাধিক মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় সংক্রমণের বয়াল চেহারা। এই পরিস্থিতিতে লকডাউন শিথিল হলে কী যে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে তা বিলক্ষণ জানা আছে ইমামদের। তাই মুখ্যমন্ত্রীকে ঈদ উপলক্ষে লকডাউন না তোলার বিনীত অনুরোধ করেছেন তারা।

সঙ্গে ইমামদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার ৩০ মে-র আগে লকডাউন তুলে নিলেও রাজ্য সরকার যেন তা না করে।

চিঠির একটি অংশে লেখা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থে অন্তত ৩০ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়িয়ে দিন। আগে মানুষ বাঁচুক, তার পর উৎসব। আমরা এত ত্যাগ করেছি, আরো করব।’

সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস।

করোনা শনাক্তে মোবাইল অ্যাপ – www ...
প্রযুক্তি ডেস্ক: করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ যাচাইয়ে একটি মুঠোফোন অ্যাপ আনার পরিকল্পনা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। চলতি মাসেই অ্যাপটি চালুর কথা রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তথ্য কর্মকর্তা বার্নার্দো মারিয়ানো টেলিফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে গত শুক্রবার বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, মুঠোফোনে ইনস্টল করার পর অ্যাপটি ব্যবহারকারীর উপসর্গ সম্পর্কে জানতে চাইবে। এরপর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অ্যাপটি বলে দেবে, ব্যবহারকারীর করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা আছে কি না।

বার্নার্দো মারিয়ানো বলেন, সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে কীভাবে পরীক্ষা করাতে হবে, তা–ও জানিয়ে দেবে অ্যাপটি। এ ক্ষেত্রে অবশ্য দেশভেদে তথ্যের ভিন্নতা থাকবে। অ্যাপের বৈশ্বিক একটি সংস্করণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অ্যাপ স্টোরে ছাড়বে। এরপর যেকোনো দেশের সরকার চাইলে অ্যাপের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এতে নতুন সুবিধা যোগ করে নিজেদের মতো সংস্করণ ছাড়তে পারবে।

করোনা মোকাবিলায় ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে সরকারিভাবে নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে মুঠোফোন অ্যাপ ছেড়েছে। এসব অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারী উপসর্গের ভিত্তিতে কোথায় গিয়ে করোনা পরীক্ষা করানো যাবে, তা জানতে পারছেন। একই সঙ্গে রোগী ও সন্দেহভাজন রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজেও সহায়ক হচ্ছে এসব অ্যাপ।


আব্দুর রহমান ইমন, সন্দ্বীপ প্রতিনিধি: কোভিড-১৯ এর প্রভাবে থমকে আছে পুরো বিশ্ব। চারদিকে হাহাকার আর বাতাসে লাশের গন্ধ। চীন থেকে উৎপত্তি হয়ে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের প্রায় উন্নত দেশগুলো করোনায় নাকাল। বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা ছড়িয়েছে লক্ষাধিক। কোন উপায় ভেবে পাচ্ছে না উন্নত দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।

বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজারেরও বেশি আক্রান্ত, মৃত্যুর সংখ্যা ২ শত  ছাড়িয়েছে। 

দেশের বিচ্ছিন্ন উপজেলা সন্দ্বীপ। নদী মাতৃক এই দ্বীপে ৪ লক্ষেরও অধিক মানুষের বসবাস। কোভিড-১৯ এই দ্বীপেও হানা দিয়েছে। গাছুয়া ইউনিয়নে নাহিদ নামে একজনকে প্রথম সনাক্ত করা হয়। ৩ মে নাহিদের বন্ধু সার্কেল অনেকের নমুনা সংগ্রহ করে আজ ঘোষাণা আসে তাদের মধ্যে ৬ জন আক্রান্ত।

আক্রান্ত বাড়ছে কিন্তু সচেতনতা নেই দ্বীপে। দ্বীপের বাসিন্দারা এখনো অনিরাপদভাবে রাস্তাঘাটে চলাচল করছে। এখনো হাট-বাজারে সামাজিক দূরত্ব না মেনে চলা হচ্ছে না। সরকার কর্তৃক নির্দেশনা মেনে সীমিত পরিসরে ঈদ উপলক্ষে দোকানপাট খোলার নির্দেশ আসলেও কোন দোকানদার মানছে না সেই নির্দেশনা। নিয়ম ভঙ্গ করে চলছে বেচাকেনা। করোনা প্রতিরোধে নেই কোন সচেতনতাও। 

সরেজমিন ঘুরে এমনও দেখা গেছে, অনেক ছোট ছোট দোকানে এক সাথে ১০/১৫জন ক্রেতার ভীড়। শুধু বাজারে নয় সচেতনতা নেই ব্যাংকেও। অনিরাপদভাবে চলছে ব্যাংকিং। সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না সেখানেও। রাস্তাঘাটে লোকজন দেখে মনে হবার উপায় নেই যে, দেশে একটা ভয়াবহ অবস্থা চলছে। প্রশাসন টহল দিলে একটু সচেতনতার ভাব দেখালেও এর পর যার যার মতো চলছে সবাই। 

বিশিষ্টজনরা মনে করছেন, নিয়ম-নির্দেশনা না মেনে এরকম অনিরাপদ চলাচল সন্দ্বীপের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ৭ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ জন থেকে ৭ শতজন হয়ে যাওয়াটা আশ্চর্যের কিছু হবে না।

কর্মহীন জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সহায়তা ...
ডেস্ক: করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে শেষ পর্যন্ত আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১৪ মে বৃহস্পতিবার এ টাকা দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করার কথা। শুরু হওয়ার পর চলবে ঈদের আগ পর্যন্ত। এতে সরকারের এক হাজার ২৫০ কোটি টাকা খরচ হবে। 

অর্থ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান গতকাল শনিবার বলেন, 'করোনাভাইরাসের কারণে যেসব পরিবার বিপদে পড়েছে, তাদের মধ্য থেকে ৫০ লাখ পরিবারের একটি তালিকা করা হয়েছে। সেসব পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ঈদের আগে টাকাটা তাদের কাজে লাগবে।' গ্রাম-শহর নির্বিশেষে এ টাকা দেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

জানা গেছে, উদ্যোগটির সঙ্গে জড়িত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। আর পরিবার চিহ্নিত করা হয়েছে স্থানীয় সরকার অর্থাৎ জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং ইউনিয়ন পরিষদকে নিয়ে। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেওয়ার পর পরিবার প্রতি এক হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল। পরে ভাবা হয় দুই হাজার টাকা করে দেওয়ার। কিন্তু শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ টাকা ছাড় করবে।

তালিকায় রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, দোকানের কর্মচারী, ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসায় কর্মরত শ্রমিক, পোলট্রি খামারের শ্রমিক, বাস-ট্রাকের পরিবহন শ্রমিক ও হকারসহ নানা পেশার মানুষকে তালিকার মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানান দুর্যোগসচিব মো. শাহ্‌ কামাল। সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সহায়তায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী বর্তমানে যেসব সহায়তা পাচ্ছে, এ তালিকায় তাদের অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি বলে জানা গেছে। তালিকার কাজ শেষ করা হয়েছে গত ৭ মে। অবশ্য এখনও যাচাইয়ের কাজ চলছে।

যোগাযোগ করলে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস গতকাল শনিবার মোবাইল ফোনে বলেন, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন হতে পারে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানানো হবে।

জানা গেছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল জেলায় একটা মডেল দাঁড় করানো হয়েছে। সেই মডেল অনুসরণ করেই করা হয়েছে তালিকা। কত পরিবারকে নগদ টাকা দেওয়া হবে-এ জন্য জেলাওয়ারি কোটাও বেধে দেওয়া হয়। তবে সিটি করপোরেশনের তালিকা করা হয়েছে বিভাগীয় কমিশনারদের তত্ত্বাবধানে। 
তালিকা করার প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত খান শনিবার বলেন, তাঁর জেলায় নগদ টাকা পাবে ৭৫ হাজার পরিবার। আর তালিকা করার কাজটি করেছে একটি কমিটি। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, সদস্য, সমাজের গণমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটিগুলো প্রায় এক মাস ধরে এ তালিকা তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন। একইভাবে পেৌরসভা পর্যায়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি কাজ করেছে। 
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দৈনিক ২ ডলারের নিচে আয় করেন-দেশে এমন লোক আছেন ১৫ শতাংশের মতো, সংখ্যায় যা আড়াই কোটির কাছাকাছি। সরকার প্রতি পরিবারের সদস্য ৪ জন ধরে দিয়ে এখানে দুই কোটি মানুষকে বিবেচনায় রেখেছে। 

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি র্মিজ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আরও বাড়বে। তারপরও আমি বলব এটা অবশ্যই সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

মির্জ্জা আজিজ তালিকা তৈরির স্বচ্ছতা বিষয়ে জোর দেন। বলেন, 'আগে দেখা গেছে, যারা সাহায্য পাওয়ার দরকার তাদের পরিবর্তে শুধুই রাজনৈতিক বিবেচনায় তালিকা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দলমত নির্বিশেষে তালিকা করা হয়েছে বলেই আমি আস্থা রাখতে চাই।'
মির্জ্জা আজিজের কথার সূত্র ধরে তালিকাটি রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট কিনা জানতে চাইলে সচিব শাহ্‌ কামাল বলেন, প্রতিটি এলাকার তালিকা থেকে ১০ শতাংশ করে নমুনাভিত্তিতে ইতিমধ্যে তা যাচাইয়ের কাজ চলছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে ওই এলাকার ১০০ শতাংশ তালিকা নতুন করে করা হবে।

পৌঁছানোর খরচ ৭৫ কোটি টাকা:
সূত্রগুলো জানায়, পরিবারগুলোকে টাকা দেওয়া হবে মূলত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে। এর মধ্যে রয়েছে বিকাশ, রকেট, নগদ এবং শিউরক্যাশ। অর্থাৎ নগদ সহায়তা হলেও কাউকে নগদে টাকা দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে এমএফএসগুলো বড় আকারের ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। টাকা পৌঁছানোর জন্য এমএফএসগুলো পাবে প্রতি হাজারে মাত্র ৬ টাকা। হাজারে ৬ টাকা হিসাবেই পৌঁছানোর মোট খরচ দাঁড়ায় ৭৫ কোটি টাকা। এ টাকা সরকার বহন করবে। পরিবারগুলোর কোনো টাকা দিতে হবে না। তারা পুরো আড়াই হাজার টাকাই পাবে।

মোট ৫০ লাখ পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোর কাজের মধ্যে বিকাশের ভাগে রয়েছে ১৫ লাখের দায়িত্ব। সবচেয়ে বেশি ১৭ লাখ পরিবারের কাছে টাকা পাঠাবে নগদ। বাকি ১৮ লাখ পরিবারের কাছে পৌঁছাবে রকেট ও শিউরক্যাশ। 
বিকাশের করপোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম আজ রোববার বলেন, ‌'বিকাশে লেনদেনের খরচ হাজারে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। আমরা পাব ৬ টাকা। বাকি ১২ টাকা ৫০ পয়সা ভর্তুকি দিতে হবে আমাদের। তবু আমরা এই শুভ উদে্যাগের সঙ্গে থাকতে পেরে খুশি।'

সীরাত সাহিত্যের প্রবর্তক মাওলানা ...
প্রবচন ডেস্ক: ইসলামী চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক ও মাসিক মদীনার সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ.- এর সহধর্মীনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

আজ রোববার বিকেল ৪.২০ মিনিটে গ্যান্ডারিয়ার নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন বলে জানা গেছে।

মরহুমা দীর্ঘদীন কিডনীর রোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানা যায়। মৃত্যুকালে এই মহিয়সী নারীর বয়স হয়েছিলো ৮০ বৎসর। তিনি দুই সন্তান রেখে পরপারে পাড়ি জমান।

জানা গেছে, এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসের ২৫ তারিখে গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার পান্থপথের সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ.-এর মতই তাঁর সহধর্মীনির ফুসফুসে পানি জমেছিলো।

মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে  দোয়ার আহ্বান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,  মাওলানা মুহিউদ্দিন খান রহ. একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক, ইসলামী চিন্তাবিদ, বহু গ্রন্থ প্রণেতা ও মাসিক মদীনার সম্পাদক ছিলেন।  ২০১৬ সালের ২৫ জুন মারা যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মাসিক মদীনার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপালনের পাশাপাশি মুফতী মুহাম্মাদ শফী উসমানীর রচিত মা’রেফুল কোরআনের বাংলা অনুবাদ করেছেন তিনি।

কে এই 'ক্রিকেট পাগল' আকবর আলী
ডেস্ক: তাদের বৃহস্পতি ছিল তুঙ্গে, প্রজাপতির মত ডান মেলে ওড়ার কথা ছিল এখন। কিন্তু করোনা এসে সব লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। খেলাধুলা একদমই বন্ধ। কেমন যাচ্ছে দিনকাল? কোয়ারেন্টাইনের সময় কাটছে কীভাবে, সে কথা জানিয়েছিলেন যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী।

এখনও তাই বলছেন, ‘বিকেএসপিতে ২০১২ সালে ভর্তির পর থেকে এত বড় ছুটি পাইনি আমরা। একমাসের ওপরে বাসায় থাকা হয়নি কখনও। সেদিক থেকে এ ছুটি অন্যরকম। রমজানের আগে মুভি দেখে সময় কাটানোর চেষ্টা করেছি। তবে রোজা শুরুর পর থেকে আর মুভি দেখা হয় না। ওসব বাদ দিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে কুরআন শরীফ তেলাওয়াতের চেষ্টা করি।’

যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্যবহৃত জার্সি ও ব্যাটিং গ্লাভস নিলামে তোলা উপলক্ষে করা ফেসবুক লাইভেও নিজের ব্যাটিংয়ের মতই পরিপাটি ও সাজানো গোছানো আকবর। নিজের স্মারক নিলামে তোলার ব্যাপারে তার ব্যাখ্যা, ‘বিশ্বকাপের সবগুলো স্মারকই স্পেশাল। এগুলো দিয়ে যদি কারও সাহায্য হয়, তাহলে অন্যরকম সন্তুষ্টি। আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াসে যদি একটু হলেও কারও সাহায্য হয় সেটাও অনেক বড়।’

ফাইনালে ব্যাটিংয়ের সময় কি খুব নার্ভাস ছিলেন? ফেসবুক লাইভে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে আকবর আলী জানিয়ে দিলেন, ‘নাহ! নার্ভাস না ঠিক। ঐ সময়টা বাড়তি চাপ ছিল, ফাইনাল ম্যাচ। শুধু ফাইনাল না, ঐ কন্ডিশনে একটু তো চাপ থাকারই কথা। তবে আমরা নার্ভটা ঠিক রাখার চেষ্টা করেছিলাম। বল প্রচুর ছিল। রান কম দরকার ছিল। চেষ্টা করেছিলাম যাতে বেশি সময় উইকেটে থেকে বেশি বল খেলা যায়।’

যুব বিশ্বকাপে শিরোপা জেতানোর নায়ক ভাবা হচ্ছে তাকে। কিন্তু শুনে অবাক হবেন, আকবর মোটেও নিজের কৃতিত্বকে বড় করে দেখছেন না। তার বিশ্বাস, ওটা মহান সৃষ্টিকর্তার দয়া ও কৃপার ফল।

ফাইনালে দল জেতানো ব্যাটিং সম্পর্কে বলতে গিয়ে আকবর আলী বলেন, ‘আল্লাহর রহমত ছিল। আল্লাহর ইচ্ছেতেই হয়েছে। আমরা বিশ্বকাপের অগে দুই বছর অনেক প্র্যাকটিস করেছি। কষ্ট করেছি। আল্লাহ সেটারই ফল দিয়েছেন। আমি সৌভাগ্যবান যে ঐ সময়ে পারফরম করতে পেরেছি।’

শিরোপা জেতার পরের অনুভূতি সম্পর্কে আকবরের মন্তব্য, ‘ফাইনাল জেতার পরের দুই-তিন ঘন্টার অনুভুতি বলে বোঝাতে পারব না। তবে একটি কথা বলে রাখি, তা হলো আসলে আমি তো আর একা জিতিনি। খেলেছে আমাদের দল। পুরো দলের কষ্ট ও পরিশ্রমের ফসল ছিল ঐ বিশ্বকাপ জয়। এ কৃতিত্ব প্রতিটি ক্রিকেটারের । আমার একার না।’

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget