05/25/20


হাবীব আনওয়ার: মুফতী আজম ফয়জুল্লাহ রহ. এর প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেখল হামিয়ুচ্ছুন্নাহ মাদরাসা খুলছে না ৩০ মে। সেই সাথে ১লা মে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান, মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী। 

মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী বলেন, আগামী ৩০ জুন মাদরাসা খোলার তারিখ থাকলেও পরিস্থিতির অবনতি হওয়াতে পূর্বনির্ধারিত ৩০ মে মাদরাসা খোলা ও ১লা জুন থেকে অনুষ্ঠিতব্য  পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এমতাবস্থায় পুরাতন এবং ভর্তি-ইচ্ছুক নতুন ছাত্রদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাদরাসা না আসার আহবান জানিয়েছেন, মাদরাসার শিক্ষাল পরিচালক মাওলানা উসমান ফয়জী।

এছাড়াও যেকোন তথ্যের জন্য  নিম্নোক্ত নম্বর সমূহে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। শিক্ষা পরিচালক, ০১৮১৭৭৩৬২৮১, সহ শিক্ষা পরিচালক, ০১৮১৮১১৯৭০০, নাজেমে একামাহ,  ০১৮১৬৮৬১০১৪,সহকারী একামাহ, ০১৮১৯৩৯২৩০৫, ০১৮১৫৯১৭১৩৩, ০১৮১৩৬২১৫৮৮

উল্লেখ্য : করোনাভাইরাস এর কারণে গত ২০ মার্চ শুক্রবার থেকে ৩০ মে পর্যন্ত  মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। 


আল জামিয়াতুল আরাবিয়াতুল ইসলামিয়া জিরি মাদরাসার মহাপরিচালক, পীরে কামেল আল্লামা শাহ মুহাম্মদ তৈয়্যবের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

আজ ২৫ মে সোমবার সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় আল্লামা বাবুনগরী বলেন, আল্লামা শাহ মুহাম্মদ তৈয়্যব রহ. বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা শীর্ষ আলেম ও বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি আত্মশুদ্ধির লাইনে ছিলেন একজন হক্কানী পীর। চট্টগ্রামবাসীর জন্য তিনি ছিলেন রত্নতুল্য ৷ তার ইন্তেকালে বাংলার ইলমাকাশের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র ঝরে পড়েছে ৷

চট্টগ্রামবাসী হারিয়েছে একজন নিবেদিতপ্রাণ আলেমে দ্বীনকে ৷ তাঁর ইন্তেকালে ইলমী অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা কভু পূরণ হবার নয়। ইতিহাস তার অমর কীর্তি চিরকাল স্মরণ রাখবে। আমি তার ইন্তেকালে গভীরভাবে শোকাহত।

তিনি ছাত্রদের আমাল আখলাকের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্ববান।আমালের ব্যপারে কারো সামান্য গাফলতি দেখলে তিনি সাথে সাথে তা সংশোধনী দিতেন। সুন্নতের নববীর উপর তিনি ছিলেন অটল-অবিচল। খানকায় থেকে আত্মশুদ্ধির লাইনে যারা মেহনত করতেন তিনি সব সময় তাদের তদারকি করতেন। হাদিয়া দিতেন।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, দীর্ঘ ৩৬ বছর অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে তিনি জামিয়া জিরির মহাপরিচালকের গুরু দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন। দীর্ঘদিন হাদীসের সর্বোচ্চ কিতাব বুখারী শরীফের পাঠদান করেছেন। সাবলীল উপস্থাপনা, মধুময় বাক্যশৈলী ও সর্ববোধগম্য দরস প্রদানে তিনি ছিলেন একজন আদর্শ উস্তাদ।

দরস-তাদরীস ও আত্মশুদ্ধির লাইনে মেহনতের পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঈমান আকিদা রক্ষায় ওয়াজ-নসিহতের ময়দানেও অসাধারণ খেদমত করে গেছেন তিনি। ওয়াজের ময়দানে তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় ও নন্দিত ওয়ায়েজ।

স্মৃতিচারণ করে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, আল্লামা তৈয়ব রহ. আমাকে অনেক বেশি মুহাব্বত করতে। আমার বয়ানের ভূয়সী প্রশংসা করতেন তিনি। একবার জিরি মাদরাসার মাহফিলে আমাকে দুই বয়ান করতে দিয়েছিলেন। আমার জামাতা ও জিরি মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতী মুহাম্মদ এরশাদুল্লাহ থেকে সবসময় আমার খোঁজ খবর নিতেন। সদা আমাকে সাহস যোগাতেন এবং উৎসাহ দিয়ে বলতেন যোগ্য ব্যক্তির কোন সমস্যা নেই। যোগ্য ব্যক্তি শত বাঁধা ডিঙিয়ে প্রত্যেক কাজেই সফল হয়। সফলতা সব সময় যোগ্য ব্যক্তির পদ চুম্বন করে।

স্মৃতিচারণ করে আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, আল্লামা শাহ তৈয়্যব রহ আমাদের বংশের প্রশংসায় ছিলেন পঞ্চমুখ। তিনি সব সময় আমার বড় আব্বা আল্লামা সূফী আজিজুর রহমান রহ., আমার নানা আরেফ বিল্লাহ আল্লামা শাহ হারুন বাবুনগরী রহ. এবং আব্বাজান মেশকাত শরীফের বিশ্ববিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ তানজিমুল আশতাতের রচয়িতা দারুল উলুম হাটহাজারীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস দরস জগতের সম্রাট আল্লামা আবুল হাসান রহ. এর প্রশংসা করতেন। তিনি বলতেন এমন উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন বংশ পাওয়া বড় দুস্কর।এমন উচ্চ বংশের প্রতি আসক্ত হয়েই আমি আত্মীয়তা সম্পর্ক করেছি।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, মহান প্রভুর দরবারে আমি দুআ করি, আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল দ্বীনি খেদমতকে কবুল করুন এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন, আমিন।

উল্লেখ্য, আল্লামা তৈয়ব রহ. ২৪ মে রোববার দিবাগত রাত সিজদারত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইন্তেকাল করেন। আজ ২৫ মে সোমবার জিরি মাদরাসার মাঠে হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর ইমামতিতে নামাযে জানাযা সম্পন্ন হয়।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget