মহান আল্লাহ তায়ালার এই বিশ্বজাহানে অনেক ধর্ম ও বর্ণের লোক বসবাস করছে। প্রত্যেকের রয়েছে স্বতন্ত্র তাহযিব-তামাদ্দুন, কৃষ্টি-কালচার। রয়েছে নিজ নিজ ধর্মীয় ও গোষ্ঠীগত আচার-অনুষ্ঠান। এভাবেই পৃথিবীর বয়স বাড়ছে।

আমার জীবনের প্রায় আড়াই যুগ ধরে যে দেশের ঈদ উদযাপন করে এসেছি তা ছিল আমার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে। গত বছর যদিও আরব ভূখণ্ডে ঈদ দেখার তাওফিক হয়েছিল কিন্তু ঈদ পালন করা হয় বাংলাদেশে ফিরে। জীবনের এই প্রথম ঈদ যা কিনা পালিত হলো সূর্যোদয়ের দেশে। একটি অমুসলিম প্রধান দেশে। 

আমার জীবনের সুন্দর ও ভিন্নধর্মী একটি অভিজ্ঞতা হলো জাপানের ঈদে। জাপানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করলাম। জাপানে ঈদ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন ছুটি বরাদ্দ নেই। তবে এবারের ঈদ সাপ্তাহিক ছুটির দিন রবিবার হওয়ায় মুসলিম কমিউনিটির প্রত্যেকে খুব খুশি ছিল। কারণ রবিবার ছাড়া অন্য কোনোদিন ঈদ হলে হয়তো অনেকেই ঈদের জামাতেও অংশ নিতে হতে পারত না। সবমিলিয়ে রবিবার ঈদ হওয়াটা আমাদের জন্য ডাবল ঈদের আমেজ নিয়ে এসেছে। 

অনেকের সঙ্গে অন্যান্য দিনের ঈদগুলোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানতে পেরেছি, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের ঈদ মানে কোনরকমে শুধু নামাজ পড়া। এছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। পরিবারকে সময় দেওয়া যায় না। ঘোরাঘুরির ফুরসতও মিলে না। 

আর এই বছর করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট করে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। এখানের সব মসজিদ সরকারি
রেজিস্ট্রারভুক্ত নয়। আর রেজিস্ট্রারকৃত মসজিদগুলোতে পুলিশ এসে ওয়ার্নিং দিয়ে গেছে যাতে বড় জমায়েত না হয়। তাই মুসাফা কোলাকোলি ছাড়াই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকেরা তাদের সাধ্যের মধ্যে কিছু মিষ্টান্নভোজের ব্যবস্থা করেছিলেন। ফলে প্রবাসজীবনে একাকি থাকা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কিছুটা হলেও ঈদের মিষ্টিমুখ হয়েছে। তবে আজ রবিবার না হয়ে যদি অন্যদিন হতো তবে আমার অভিজ্ঞতা হয়তো অন্যভাবেই ব্যক্ত করা যেত।