06/16/20

সাঈদীকে প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে কাল্পনিক 'মন্ত্রিসভা' গঠন, যুবক গ্রেপ্তার
প্রবচন ডেস্ক: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে প্রধানমন্ত্রী করে কল্পিত মন্ত্রিসভার এক ছক তৈরি করে তা পোস্ট করায় আব্দুর রহিম (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কল্পিত মন্ত্রিসভায় জামায়াত নেতা, ধর্মীয় আলোচক ও বিএনপি জোটের নেতারাও রয়েছেন। 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার আব্দুর রহিমের বাড়ি দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের সর্দারপাড়া এলাকায়। সে ওই এলাকার নায়েব আলীর ছেলে।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দেবীগঞ্জ থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ওই যুবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জায়গায় জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেই সাঈদী, ধর্মমন্ত্রীর জায়গায় মিজানুর রহমান আজহারী, অর্থমন্ত্রীর জায়গায় আন্দালিব রহমান পার্থসহ মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে জামায়াত নেতাসহ তার মনগড়া নেতাদের নাম বসিয়ে কল্পিত মন্ত্রিসভার ছক এঁকে তা তার ফেসবুকের টাইমলাইনে শেয়ার করে। সেখানে ওই যুবক লেখে যে, এই ব্যক্তিরা যদি সরকার পরিচালনা করত তাহলে কতই না ভালো হতো।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট দেয়ার পর পরই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশ অবহিত করেন। সোমবার গভীর রাতে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও জব্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই গোলজার হোসেন।

উল্লেখ্য, গত দু’দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের পছন্দের মানুষের ছবি দিয়ে ‘কল্পিত মন্ত্রিসভা’ এর ছক একে তা পোস্ট করছেন। বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হতে দেখা গিয়েছে। অনেকে জানিয়েছেন, ‘আমরা কেবল মজা করার জন্য এমনটি করেছি। এমন নয় যে, এর মাধ্যমে আমরা দেশের মন্ত্রিসভা নির্বাচন করছি।’

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু ও আক্রান্তের রেকর্ড
ডেস্ক: করোনা ভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছেন। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল এক হাজার ২৬২ জনে। একই সময়ে নতুন করে আরও তিন হাজার ৮৬২ জনের মধ্যে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ফলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৪ হাজার ৪৮১ জনে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা অনলাইনে বুলেটিন পড়েন।

তিনি মোট ৬১টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮ হাজার ৪০৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৭ হাজার ২১৪টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার ৭১৭টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ৮৬২ জনের দেহে। ফলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৪ হাজার ৪৮১ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৫৩ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হলো এক হাজার ২৬২ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও দুই হাজার ২৩৭ জন। সব মিলিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা এখন ৩৬ হাজার ২৬৪ জন।

বরাবরের মতো করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মুখে মাস্ক পরা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান ডা. নাসিমা।

রেডজোন রাজাবাজার রাত ১২ টার পরে লকডাউন
কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে যে তিনটি জোনে ভাগ করা হচ্ছে, তার মধ্যে লাল জোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

এছাড়া গত ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে যেভাবে অফিস চলছে, হলুদ ও সবুজ জোনে অবস্থিত অফিসগুলো ১৬ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেভাবেই চলবে জানিয়ে সোমবার আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রথমে লাল ও হলুদ জোনে সাধারণ ছুটি থাকবে বলে জানালেও রাতে আদেশ সংশোধন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, “লাল অঞ্চলে অবস্থিত সামরিক বা অ-সামরিক সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বয়ত্তশাসিত বা বেসরকারি দপ্তরগুলো এবং বসবাসকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

“হলুদ ও সবুজ অঞ্চলে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এব বেসরকারি অফিস নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে।”

সীমিত পরিসরে অফিস খোলা থাকার সময় অর্থাৎ, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের গণপরিবহনও চলাচল করতে পারবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে বলা হয়, “অনুমোদিত অঞ্চলে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহণ, যাত্রীবাহী নৌযান, রেল ও বিমান চলাচল করতে পারবে; তবে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।”

গত ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটির সময় সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়। ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে অফিস খুলে দিয়ে এই সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহণ চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার।

সীমিত পরিসরে অফিস চালু রাখার ওই সিদ্ধান্তের মেয়াদ নতুন করে ১৬ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি ওই সময় পর্যন্ত গণপরিবহন চালানোরও অনুমতি দেওয়া হল।

বিধি-নিষেধ

 সীমিত আকারে অফিস, যানবাহন খোলা থাকলেও যেসব ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে, তা ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটি এ নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

 রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (প্রয়োজনীয় ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, ওষুধ কেনা, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না; বাইরে চলাচলের সময় অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এ নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 বিধিনিষেধের সময়ে জনসাধারণ এবং সব কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই স্থাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশাবলি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

 হাটবাজার, দোকান-পাটে কেনাবেচার পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিংমলে আসা যানবাহনগুলোকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। বাজার, দোকানপাট এবং শপিংমলগুলো বিকাল ৪টার মধ্যে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

 আইনশৃঙ্খলা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাজে নিয়োজিত সংস্থা এবং জরুরি পরিষেবা যেমন- ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা-বহির্ভুত থাকবে।

 সড়ক ও নৌপথে সকল প্রকার পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাক, লরি, কার্গো ভেসেল চলাচল অব্যাহত থাকবে।

 কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্প পণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচা বাজার, খাবার, ঔষধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হবে না।

 চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী এবং ঔষধসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যম (ইলেকট্রনিক ও প্রিন্টি মিডিয়া) এবং কেবল টিভি নেটওয়ার্কে নিয়োজিত কর্মীরা এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবেন।

 ঔষধশিল্প, উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্পসহ সকল কলকারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে চালু রাখতে পারবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ প্রণীত ‘বিভিন্ন শিল্প কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

 নিষেধাজ্ঞাকালে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। তবে অনলাইন কোর্স/ডিস্টেন্স লার্নিং অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশাসনকি কার্যাবলি চালাতে পারবে।

➠ অঞ্চলভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

 অনুমোদিত অঞ্চলে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান, রেল ও বিমান চলাচল করতে পারবে; তবে মাস্ক পরা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

➠ সকল প্রকার সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত ও অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ থাকবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুশাসন ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদগুলোতে জামাতে নামাজ আদায় এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসানালয়ে প্রার্থনা করা যাবে।

➠ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রণীত ‘বাংলাদেশ রিস্ক জোন-বেইজড কোভিড-১৯ কনটেইনমেন্ট ইপ্লিমেন্টেশন স্ট্র্যাটিজি/গাইড অনুসরণ করে কর্তৃপক্ষ লাল অঞ্চল (রেড জোন), হলুদ অঞ্চল (ইয়োলো জেন) ও সবুজ অঞ্চল (গ্রিন জোন) হিসেবে ভাগ করে জেলা/উপজেলা/এলাকা/বাড়ি/মহল্লাভিত্তিক জন চলাচল/জীবনযাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি জোনের জন্য কোভিড নমুনা পরীক্ষা, কোভিড-ননকোভিড স্বাস্থ্যসেবা প্রোটোকল, কোয়ারেন্টিনন/আইসোলেশন, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, জন চলাচল, যান চলাচল, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, খাবার ও ওষুধ সরবরাহ, দরিদ্র লোকদের জন্য মানবিক সহায়তা, মসজিদ-মন্দির অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ধর্মচর্চা, জনসচেতনতা তৈরি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ব্যাংকিং সুবিধাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান/শিল্প প্রতিষ্ঠান/ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

➠ সিটি করপোরেশন এলাকায় অঞ্চলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার সার্বিক দায়িত্ব থাকবে সিটি করপোরেশনের। সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে জেলা প্রশাসন সার্বিক সমন্বয় করবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা/উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। এ কার্যক্রমে সংসদ সদস্যরাসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ স্বেচ্ছাসেবীসহ অন্যান্যদেরকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

➠ লাল অঞ্চলে অবস্থিত সামরিক বা অ-সামরিক সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি দপ্তরগুলো এবং বসবাসকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

➠ হলুদ ও সবুজ অঞ্চলে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসগুলো নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এ নিষেধাজ্ঞাকালে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। ঝুঁকিপূর্ণ, অসুস্থ কর্মচারী এবং অন্ত্বঃসত্তা নারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে জারি করা ১২ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্র ছাড়া সব সভা ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আয়োজন করতে হবে।

অবশেষে ভারতীয় দূতাবাসের দুই কর্মীকে ছেড়ে দিল পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অবশেষে দিনভর নানা নাটকীয়তা শেষে ভারতীয় দূতাবাসের আটক ২ কর্মীকে ছেড়ে দিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার সকালে পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাসের দুই কর্মীর নিখোঁজ হওয়ার খবর চাউর হয়।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে ইসলামাবাদ বিমানবন্দর যাওয়ার পথে ভারতীয় দূতাবাসের ওই দুই কর্মীর গাড়ি আটক করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।

তাদের বিরুদ্ধে 'হিট অ্যান রান কেস' দেওয়া হয়। দুপুরে তাদের আটকের কথা স্বীকার করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দুই কর্মীকে আটকের খবর পাওয়ার পরই দিল্লিতে পাক হাই কমিশনের চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স সৈয়দ হায়দার শাহকে ডেকে পাঠায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ করা হয়।

জানিয়ে দেওয়া হয়, আটক ২ কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ বা হেনস্থা করা যাবে না। তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পাকিস্তানকেই নিতে হবে।

এরপর জানা যায়, গতকাল বিকালে ইসলামাবাদ হাই কমিশনে ফিরে এসেছেন ওই ২ কর্মী।

এর আগে গত ১ জুন দিল্লিতে পাক হাই কমিশনের ২ কর্মীকে আটক করে ভারত পুলিশ। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাদের আটক করে। সেইসঙ্গে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর থেকেই থেকেই দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। 

-জি নিউজ

করোনার নমুনা সংগ্রহে অস্থায়ী ক্যাম্প পরিচালনা করছে রংপুর সিটি কর্পোরেশন
প্রবচন: রংপুরে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় সাধারণ মানুষের উৎসাহ বেড়েছে। তাই চাপ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। রংপুর মহানগরীর সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে নভেল করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহে অস্থায়ী ক্যাম্প পরিচালনা শুরু করেছে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার (১৫ জুন) নগরীর ইঞ্জিনিয়ারপাড়াস্থ বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নভেল করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহে অস্থায়ী ক্যাম্পে নমুনা দিতে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। নমুনা সংগ্রহের প্রথম দিনে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাধারণ মানুষ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যবৃন্দ নমুনা প্রদান করেন। আর এই নমুনা রংপুর সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের চুক্তিভিত্তিক ল্যাব টেকনিশিয়ান দিয়ে নমুনা গ্রহণ হচ্ছে।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা সাংবাদিকদের জানান, দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে একমাত্র রংপুর সিটি কর্পোরেশন বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছে। কিন্তু পরীক্ষায় বিলম্বের কারণে এ ভাইরাস দ্রুত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়াচ্ছে। রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় ১০লাখ মানুষের বসবাস। নগরবাসীর সুবিধার্থে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। নমুনা প্রদানে মানুষের আগ্রহ যেভাবে বেড়েছে, এতে কমপক্ষে আরো দু’তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করা প্রয়োজন। সেই তুলনায় জনবল দক্ষ টেকনিশিয়ান রংপুর সিটি কর্পোরেশনে নেই। রেড জোন রংপুরের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আরো দু’টি নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাব স্থাপন করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান তাজ জানান, রংপুর নগরীতে ভয়াবহ অবস্থা, কিন্তু আমরা অসহায়। আমাকে মাত্র ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ২০টি পুরাতন রোগী এবং নতুন ২০টি রোগী।

করোনা প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষাবিদ ফখরুল আনাম বেঞ্জুসহ সাধারণ মানুষ রংপুর সিটি মেয়রের এ উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ক্যাম্প স্থাপন করে নমুনা সংগ্রহ করার এই উদ্যোগ অত্যন্ত মহৎ কাজ। রংপুর মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনে নমুনা পরীক্ষার জন্য দুটি ল্যাব স্থাপন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget