আব্দুল্লাহ আল মাসনুন:বাংলাদেশের ক্ষণজন্মা একজন মহামনীষী হচ্ছেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর অকুতোভয়-সৎসাহসী ও বীর কাণ্ডারী এই আলেমে দ্বীন একটি ঐতিহ্যময় ও ইলমী-দ্বীনী পরিবারের একজন সুসন্তান। উনার পরিবারের সুখ্যাতি ও  বংশ মর্যাদা পুরো দেশ জুড়ে সমাদৃত এবং মানুষের কাছে গৌরবান্বিত।  পারিবারিক  সিলসিলায় আল্লামা বাবুনগরী অত্যন্ত প্রখর মেধা এবং বিরল প্রতিভার অধিকারী একজন স্বনামধন্য মুহাদ্দিস। 

ইলম, আমল, তাযকিয়া, আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া এবং ন্যায়নীতির অনন্য উচ্চশিখরে অধিষ্ঠিত আছেন আল্লামা বাবুনগরী।

দেশ ও জাতির সত্যিকারের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী এবং মিল্লাতে ইসলামিয়ার একজন পরম হিতাকাঙ্ক্ষী আলেম আল্লামা বাবুনগরী। উনি আজীবন সত্য ও ন্যায়ের পথে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর বৃহৎ স্বার্থে উনি প্রতিনিয়ত নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে আসছেন। উনি সবসময় উম্মাহর কল্যাণ কামনা করেন। যে দিকে ইসলামের বৃহৎ স্বার্থ রয়েছে, উনি সেদিকেই ধাবিত থাকেন। কখনোই তিনি নিজের স্বার্থ দেখেন না, সর্বদা পদ-পদবি ও জাগতিক মোহ থেকে নিজেকে বিরত রাখেন৷ দুনিয়াবি চাকচিক্য ও লোভ-লালসা উনার অন্তরে কখনোই প্রভাব ফেলতে পারে না। 

আল্লামা বাবুনগরীর অতীত ইতিহাস ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করার অসংখ্য ঘটনায় ভরপুর। উনার জীবনের প্রতিটি প্রহর কেটেছে দ্বীন ও মিল্লাতের খেদমতে। উনি নিজেকে সদা নিয়োজিত রেখেছেন ইসলামের সুমহান খাদেম হিসেবে। কর্মজীবনে ব্যস্ত রয়েছেন ইলমে হাদীসসহ অন্যান্য শরয়ী জ্ঞানের পাঠদানে। বিশেষভাবে তিনি ইলমে হাদীস ও উলুমে হাদীসের উপর গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা ইউসুফ বান্নুরী রাহ. এর সান্নিধ্যে।  বয়ান-বক্তৃতা ও কাব্য-প্রবন্ধসহ বিভিন্ন লেখালেখির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ইসলামের বার্তা মানুষের সমাজে তুলে ধরছেন এবং তাগুত-বাতিলের যাবতীয় অপতৎপরতার জবাব দিয়ে আসছেন। 

আল্লামা বাবুনগরী কখনোই কোনো বাতিলের সাথে আপোষ করেন না। হক কথা বলতে এবং সত্য উচ্চারণ কর‍তে উনি আপোষহীন। শিরক-বিদআত, কাদিয়ানি ও দুশমনে সাহাবাসহ নাস্তিক্যবাদী অপশক্তির সমুহ কুযুক্তি ও অপব্যাখ্যার দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে আসছেন তিনি৷ দেশের স্বাধীনতা এবং দেশের শান্তি টিকিয়ে রাখার জন্য, দেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার পূর্ণরূপে আদায়ের জন্য আল্লামা বাবুনগরী সদাসর্বদা সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করে আসছেন৷ উনি একজন দেশপ্রিয় বাঙালি নাগরিক। উনি প্রিয় মাতৃভূমির একজন পরম শুভাকাঙ্ক্ষী। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উনি খুবই তৎপর থাকেন। 

আল্লামা বাবুনগরীর হৃদয় অত্যন্ত প্রশস্ত।  উনি সাময়িক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কৌশলগত কারণে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। উনার চিন্তার প্রখরতা অনেক গভীর৷ উনি স্বপ্ন দেখেন ইসলামি খেলাফতের৷ উনি আজীবন সংগ্রাম করে আসছেন আল্লাহর যমীনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য। ইসলাম বিরোধী সকল অপতৎপরতা এবং তাগুতশক্তির যাবতীয় চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়ে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করে শান্তি-সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করতে চান তিনি। বৃহৎ এ স্বার্থের জন্য তিনি অনেক ক্ষুদ্র স্বার্থ কুরবানি দিয়ে আসছেন। জেল-জুলুম, শারিরীক  নির্যাতন এবং মানসিক নিপীড়ন সহ্য করে আসছেন গত এক দশক ধরে৷ 

এই দেশের ইসলামপ্রিয় তাওহিদী জনতার আশা এবং আস্থার প্রতীক হচ্ছেন আল্লামা বাবুনগরী। ঈমানদীপ্ত তারুণ্যের আশাজাগানিয়া কাণ্ডারী এই আলেমে দ্বীন সত্য ও ন্যায়ের পথে সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। কখনো কোনো কারণে নিরাশ কিংবা হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তিনি ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বৃহৎ স্বার্থে এবং মাদ্রাসায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ভিডিওবার্তায় অংশগ্রহণ করেছেন। কারো ভুল বুঝাবুঝি যেন না হয়।  উনার ইসলামী চেতনা ও তাগুতের মোকাবেলায় দৃঢ় মনোভাব ছিল, আছে এবং থাকবে ইনশাআল্লাহ।

ভিডিওবার্তায় অংশগ্রহণ ছিল একটি সাময়িক সিদ্ধান্ত। আল্লামা বাবুনগরী উনার আদর্শ ও চেতনা থেকে সরে আসেন নি৷ 
আকাবির-আসলাফের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি আল্লামা বাবুনগরী নিজের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। জুলুম ও নির্যাতন উনার উপর অতীতেও চালানো হয়েছে, উনি দমে যান নি। বরং উনার প্রতিবাদী কণ্ঠ আরো বেগবান হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আজীবন উনার তেজস্বী চেতনা এবং উচ্চকণ্ঠ আরও প্রসারিত হবে। বাতিলের হৃদপিণ্ড কাঁপিয়ে দেবে উনার সাহসী পদক্ষেপ। বিজাতীয় দুশমন ও স্বজাতীয় গাদ্দার মুনাফেকদের কোনো ষড়যন্ত্র আল্লামা বাবুনগরীর অভিযাত্রা রুখতে পারবে না। 


ফাজেল: দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসা।