স্টাফ রিপোর্টার: আজ ২০ সেপ্টেম্বর রবিবার রংপুরের আলেম-উলামা ও ইমাম-মুয়াযযিনগণের যৌথ উদ্দ্যোগে নগরীর সদর হাসপাতাল জামে মসজিদে বাদ আছর সদ্য প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর রুহের মাগফিরাত কামনা করে এক দোয়া-মাহফিলের আয়ােজন করা হয়। এতে উপস্থিত হয়েছিলেন রংপুর জুম্মাপাড়া মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ ইদ্রিস আলী ও নায়েবে মুহতামিম মাওলানা ইউনুস আলীসহ  রংপুরের শীর্ষস্থানীয় উলামা-মাশায়েখ ও ইমাম-খতিবগণ।


দোয়া মাহফিলে আলেমগণ বলেন, শাইখুল ইসলাম রহ. ছিলেন বাংলাদেশের কোটি জনতার হৃদয়ের স্পন্দন ও মুকুটিবিহীন সম্রাট। তিনি ছিলেন এদেশের সকল উলামায়ে কেরামের অভিভাবক এবং বাতিলের বিরুদ্ধে আপসহীন বীর সিপাহসালার। একাধারে হাদীস, তাফসির ও ফিকাহ শাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে পাণ্ডিত্য ছিল তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্য । এদেশে তাঁর অবদান অতুলনীয়। তিনি আওলাদে রাসুল আল্লামা হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর একান্ত  শাগরিদ ও খলিফা ছিলেন।


তারা বলেন, আল্লামা আহমদ শফী রহ. প্রায় চার যুগ ধরে হাদীসের দরস দিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছে তাঁর লাখ লাখ ছাত্র-শাগরিদ। তিনি ছিলেন একাধারে চট্টগ্রামের আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক, কওমী মাদরাসা শিক্ষা বাের্ড  (বেফাক) ও  আল হাইয়াতুল উলয়া-লিল জামিয়াতিল কওমীয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান।


বক্তারা আরো বলেন, আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর আহ্বানেই ২০১৩ সালে  বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ গণজমায়েত হয় ঢাকার শাপলা চত্তরে। সেসময় নাস্তিক্যবাদী সমাজের বিরুদ্ধে তাঁর এই আন্দোলন সাড়া ফেলেছিল গোটা পৃথিবীতে।

দোয়া মাহফিলের প্রধান অতিথি হাফেজ ইদ্রিস আলী বলেন, শাইখুল ইসলাম রহ. এর বিদায়ে বাংলাদেশে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা কোনদিনই পূরণ হবার নয়। আমরা উত্তরসূরী হিসেবে তাঁর রেখে যাওয়া মিশন বাস্তবায়নের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।


দোয়া-মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জুম্মাপাড়া মাদরাসার শাইখুল হাদিস মুফতি জসিম উদ্দিন, জুম্মাপাড়া সদর জামে মসজিদের খতিব  মাওলানা মাহমুদুর রহমান, দারুল আমান মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা সাইফুল ইসলাম,  মাওলানা সাইফুল ইসলাম জিহাদী,  মাওলানা আবু সাঈদ,  কারী আতাউল হক, মাওলানা কাজী হামদুল্লাহ, মাওলানা হাবীবুল্লাহ, মাওলানা নিয়ামুল হক বিপ্লবী, হাফেজ আমজাদ হােসেন, মাওলানা জোবায়ের আহমদ ও হাফেজ জয়নাল আবেদীন প্রমুখ। 


দোয়া-মাহফিলে দোয়া পরিচালনা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও জুম্মাপাড়া মাদরাসার পরিচালক হাফেজ ইদ্রিস আলী। 

 

উল্লেখ্য, শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী গত ১৮ সেপ্টম্বর  শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টা২০ মিনেটে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। পরদিন শনিবার বেলা ২টায় হাটহাজারী মাদরাসার মাঠে তাঁর জানাযা শেষে মাদরাসার প্রাতিষ্ঠানিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।