10/30/20


প্রবচন ডেস্ক: লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারীতে গুজব ছড়িয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ আগুনে পোড়ানোর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর। আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অপরদিকে র‍্যাবের পক্ষ থেকেও ছায়া তদন্ত করা হচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবক শহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রীপাড়া এলাকার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শহিদুন্নবী জুয়েল বৃহস্পতিবার বিকেলে সুলতান যোবাইয়ের আব্দার নামে একজন সঙ্গীসহ বুড়িমারী বেড়াতে আসেন। বিকেলে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন তারা।

নামাজ শেষে পাঠ করার জন্য মসজিদের সানসেটে রাখা কোরআন শরীফ নামাতে গিয়ে অসাবধনাতাবশত কয়েকটি কোরআন ও হাদিসের বই তার তার পায়ের ওপর পড়ে যায়। এ সময় তুলে চুম্বনও করেন জুয়েল। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে মুয়াজ্জিনের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সন্দেহবশত জুয়েল ও সুলতান যোবাইয়েরকে পাশে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, ওসি বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন ।

সন্ধ্যায় পুরো বাজারে এবং পাশের গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ে কোরআন অবমাননার দায়ে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। এ সময় উত্তেজিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দরজা জানালা ভেঙে প্রশাসনের কাছ থেকে জুয়েলকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ টেনে পাটগ্রাম বুড়িমারী মহাসড়কে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে।

সন্ধ্যা থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা থানা পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দফায় দফায় চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইট পাথরের আঘাতে পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন্ত কুমার মোহন্তসহ ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ১৭ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছোড়ে পুলিশ।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর ও পুলিশ সুপার (এসপি) আবিদা সুলতানা অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নিহত জুয়েলের সঙ্গী সুলতান যোবাইয়েরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি র‌্যাবের সদস্যরা টহল অব্যাহত রেখেছেন।

পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন্ত কুমার মোহন্ত সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পরিবার, পুলিশের ওপর হামলা ও ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুরের দায়ে পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে পুলিশ।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় মামলা করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রবচন ডেস্ক: ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর অবমাননাকর কার্টুন প্রদর্শনের প্রতিবাদে দেশের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আজ (৩০ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামে আন্দরকিল্লায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে। 

বিক্ষোভ সমাবেশে সরকারিভাবে ফ্রান্সের সকল পণ্য আমদানী নিষিদ্ধ ও কুটনৈতিক সম্পর্ক বর্জন আহ্বান জানান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব শায়খুল হাদিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

ফ্রান্স সরকার কর্তৃক মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অবমাননা সহ্য করার মতো নয় উল্লেখ করে হেফাজত মহাসচিব বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ হযরত রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কার্টুন প্রকাশ করে মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে চরম আঘাত হেনেছে। এ জন্য ফ্রান্সকে বিশ্ব মুসলিমের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।


চট্টগ্রাম মহানগর হেফাজতের সভাপতি মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, মাওলানা সরোয়ার কামাল আজিজী, মাওলানা আলী ওসমান, মুফতী হারুন ইজহার, মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মীর ইদরিস, মাওলানা হাফেজ তৈয়ব, মাওলানা কারী ফজলুল করিম জিহাদী, মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, মুফতী হাসান মুরাদাবাদী, মাওলানা জালালউদ্দিন,মাওলানা আনিসুর রহমান, মাওলানা আনোয়ার হোসেন রববানী, মাওলানা ইকবাল খলিল, মাওলানা সায়েম উল্লাহ, মাওলানা কামরুল ইসলাম কাসেমী প্রমূখ।


হেফাজতের আহবানে সাড়া দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও গ্রামগঞ্জে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি সর্বাত্মক সফল করায় হেফাজত নেতৃবৃন্দ, দেশবাসী ও নবীপ্রেমিক তৌহিদি জনতাকে মোবারকবাদ জানিয়ে হেফাজত মহাসচিব আল্লামা বাবুনগরী বলেন, বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। এ দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, ইসলাম ও নবীপ্রেমিক আমি দেশবাসীর প্রতি আশাবাদী, ভবিষ্যতেও হেফাজতের যে কোন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আপনারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবেন।

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, হেফাজতের কর্মসূচিতে দেশের সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এ কথা প্রমাণ করে যে, বিশ্বের যে কোন প্রান্তে আমাদের কলিজার টুকরা নবী হযরত মুহাম্মদ সা.কে নিয়ে কোন কুলাঙ্গার কটুক্তি করলে, অবমাননা করলে পৃথিবীর দেড়শ কোটি মুসলমান তা কখনো মেনে নেবে  না। প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠবে গোটা বিশ্ব।

বিশ্বনবীর ইজ্জত রক্ষায় হেফাজতে ইসলামের ঈমানী আন্দোলন ছিল, আছে, থাকবে উল্লেখ করে আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, বিশ্বনবী সা.এর অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের ঈমানী আন্দোলন চলবেই। রাসূল সা. এর অবমাননার প্রতিবাদে প্রয়োজনে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। 

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ইসলামের শি’আর তথা নিদর্শনকে অবমাননা, রাসুল সা.এর শানে কটুক্তি ও অবমাননাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে বিশ্বের সকল দেশের পার্লামেন্টে বিল পাশ করা উচিত।

অনতিবিলম্বে ফ্রান্স সরকার রাসূল সা. এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন বন্ধ না করলে বিশ্বনবীর ইজ্জত রক্ষায় পৃথিবীর দেড়শ  কোটি নবীপ্রেমিক মুমিন মুসলমান ফ্রান্সের বিরোদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে বলেও হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন হেফাজত মহাসচিব আল্লামা বাবুনগরী।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget