প্রবচন ডেস্ক: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকে আবারো ঢাকায় লাখো জনতার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ফ্রান্সে রাসূল সা. এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের ঘটনায় পূর্ব ঘোষিত ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকেই রাজধানীর বাইতুল মোকাররমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হেফাজত  কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। ১০ টা নাগাদ নেতৃবৃন্দ আসতে শুরু করেন মঞ্চে। দেখতে দেখতেই বাইতুল মোকাররম, পল্টন ও আশপাশের পুরো এলাকা লোকে লোকারণ হয়ে যায়। 

বেলা ১১ টায় হেফাজতের মঞ্চ থেকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকাগামী হেফাজতকর্মীরা পুলিশকর্তৃক বাধার শিকার হন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই মঞ্চে এসে উপস্থিত হন হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও হেফাজত ঢাকা মহানগরের আমির আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমী।

ঘেরাও কর্মসূচির পূর্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন করার দাবী জানিয়ে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, নবীর সঙ্গে ও কোরআনের সঙ্গে যারা বেয়াদবি করে তাদের মৃত্যুদণ্ডের জন্য আমাদের জাতীয় সংসদে আইন পাশ করতে হবে। এছাড়া সকল মুসলমানকে তিনি ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের আহ্বানও জানান।

সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ফ্রান্স সরকার নবীর সঙ্গে বেয়াদবি করে বিশ্বের ২’শ কোটি মুসলমানের অন্তরে আঘাত করেছে। এর একমাত্র সমাধান বিশ্বের কাছে তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে আর।রামা কাসেমী বলেন, ফ্রান্সের পণ্য বরজন করুন। সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করুন। দূতাবাস বন্ধ করুন। যদি সরকার আমাদের দাবি না মানে তাহলে আমরা আরো কঠিন আন্দোলনে যাবো ইনশাআল্লাহ।

আল্লামা মামুনুল হক উক্ত সমাবেশে বলেন, ফ্রান্সের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন না করলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সেই সাথে মসজিদের শহর ঢাকার বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মূর্তি স্থাপনের বিরোধীতা করে তিনি বলেন, মসজিদের শহরে মোড়ে মোড়ে মূর্তি বসানো হেফাজত কখনো মেনে নেবে না।

বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর হেফজতের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর নেতৃত্বে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে গুলশানের দিকে রওনা হয় হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের হাজার হাজার নেতাকর্মী। মিছিলটি শান্তিনগর মোড়ে পৌঁছালে পূর্ব ঘোষিত ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা প্রদান করে। তবে বাধা পেরিয়ে কিছুদূর অগ্রসরও হয় হেফাজত কর্মীরা এবং সেখানে বক্তব্য রাখেন হেফাজত নেতারা। এখানেই আল্লামা বাবুনগরী ও আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমীর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে সমাপ্তি টানা হয় হেফাজতের ঘেরাও কর্মসূচির।

ঘেরাও কর্মসূচির পূর্বে বাইতুল মোকাররম উত্তর গেটের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা মাহফুজুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, আহমদ আবদুল কাদের, মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আজহারী,  মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা জয়নাল আবেদীন, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা হাসান জামিলসহ হেফাজতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।