Articles by "অন্যান্য"


বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ঈদের পর

প্রবচন ডেস্ক:  বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ সরকারি অনুদান বিষয়ে আজ ২মে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মজলিসে খাসের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সহসভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সাহেব। সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ খবর জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সভায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত হয় যে, সরকারি অনুদান গ্রহণ, কওমী মাদরাসার দেড়শত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি আদর্শকে বিসর্জন দেয়া। তাই এধরনের অনুদান গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য সকল কওমী মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি আহবান জানানো হয়।

বেফাক নেত্রীবৃন্দ বলেন, উপমহাদেশব্যাপী বিস্তৃত কওমী মদরাসাসমূহ ভারতের বিখ্যাত দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ ও শিক্ষাক্রম অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়ে আসছে। দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাকালে অলঙ্ঘনীয় যে ‘উসূলে হাশতেগানা’ তথা আট মূলনীতি নির্ধারণ করে, তার অন্যতম একটি হলো ‘যে কোনো পরিস্থিতিতে সরকারী অনুদান গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। সুতরাং এই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে দেশের কোনো কওমি মাদ্রাসা সরকারী অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।

বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, এই উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দ্বীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলাফগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার হুবহু ঐ মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং স্বীকৃতি সংক্রান্ত আইনের ২(১) ধারায় কওমি মাদরাসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে “মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহীর শিক্ষা কেন্দ্রই হলো কওমী মাদরাসা। তাই ঐতিহাসিক সেই মূলনীতি এবং কওমী মাদরাসার সংজ্ঞাকে উপেক্ষা করে আমরা কোনোভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না।

বৈঠক থেকে বেফাকের সম্মানিত সভাপতি আল্লামা আহমদ শফি দা:বা: এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করেন। বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন : হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, হযরত মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, হযরত মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), হযরত মাওলানা ছফিউল্লাহ, হযরত মাওলানা মাহফুযুল হক, হযরত মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, হযরত মাওলানা মুফতি নূরুল আমিন, হযরত মাওলানা মনিরুজ্জামান।


এমপি নদভীর গাড়িতে ঢিল!‌ :: BanglaNews24.com mobile

প্রবচন ডেস্ক: চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগড়া-সাতকানিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী তার এলাকার জন্য বরাদ্দ ত্রাণের ২৫ শতাংশ চেয়েছেন। এজন্য তিনি একটি চিঠি (ডিও) পাঠিয়েছেন সাতকানিয়া ও লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি চিঠিতে নির্দেশ দিয়েছেন, তার জন্য ২৫ শতাংশ পাঠানোর পর ১৫ শতাংশ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের কাছে পাঠাতে। বাকি ৬০ শতাংশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে। সংসদ সদস্যের এমন নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন দুই ইউএনও।

নিয়মানুযায়ী ত্রাণ বিতরণ করবেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা, পৌর এলাকার ক্ষেত্রে মেয়র। তাই সংসদ সদস্যের এমন চিঠিকে এখতিয়ারবহির্ভুত বলছেন জেলা প্রশাসক মুহা. ইলিয়াস হোসেন।

তিনি বলেন, নীতিমালায় রয়েছে ত্রাণ বিতরণ করবেন চেয়ারম্যানরা। সাংসদ কেন সেখান থেকে ২৫ শতাংশ চান, সেটা আল্লাহই ভালো জানেন।

এ নিয়ে সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী বলেন, সারা দেশে অনেক চেয়ারম্যান-মেম্বারদের ঘরে ত্রাণের পণ্য পাওয়া গেছে। এই চুরি ঠেকিয়ে বিষয়টিকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য ত্রাণ ভাগ করে দিয়েছি। সেখানে আমার জন্য চেয়েছি ২৫ শতাংশ। তাছাড়া আমি স্থানীয় ত্রাণ সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা, তাই এমন নির্দেশনার মধ্যে দোষের কিছু দেখি না।


কওমী মাদরাসা কোনো সরকারি অনুদান নেবে না : ৭১ আলেমের বিবৃতি


| প্রবচন ডেস্ক: সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘এই প্রথম সরকারি অনুদান চাইছে কওমী মাদরাসা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের বিপরীতে সরকারী অনুদান নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ৭১ জন হক্কানি আলেম। তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, উপমহাদেশব্যাপী বিস্তৃত কওমী মাদরাসাসমূহ ভারতের বিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ ও শিক্ষাক্রম অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়ে আসছে।

২৯ এপ্রিল বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে উলামায়ে কেরাম বলেন, দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাকালে অলঙ্ঘনীয় যে ‘উসুলে হাশতেগানা’ তথা আট মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘যে কোনো পরিস্থিতিতে সরকারী অনুদান গ্রহণ করা যাবে না”। সুতরাং এই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে দেশের কোন কওমি মাদরাসা সরকারী অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।

যারা কওমী মাদরাসার নীতি-আদর্শ ও পরিচিতি বহন করে সরকারী অনুদান চেয়েছে, আমরা দারুল উলুম দেওবন্দের দীনী খেদমতের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নীতি-আদর্শ রক্ষার্থে তাদের প্রস্তাব জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করছি এবং এ বিষয়ে তাদের সাথে আমরা একমত নই।

বিবৃতিতে তাঁরা আরো বলেন, এই উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলাফগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার হুবহু ওই মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে।

তাঁরা বলেন, মৌলিকভাবে কওমী মাদরাসাসমূহের মূল শক্তিই হলো আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ও ভরসা। তাই ঐতিহাসিক সেই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে আমরা কোনভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না।

কওমী উলামা-মাশায়েখগণ আরো বলেন, যুগ যুগ ধরে আল্লাহ তা’আলা দীনদার শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাহায্য সহোযোগিতার মাধ্যমে এই দীনী প্রতিষ্ঠানসমূহ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করে আসছেন। আগামী দিনগুলোতেও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর কুদরতি সাহায্যের মাধ্যমে এই কাওমী প্রতিষ্ঠানগুলো হেফাজত করবেন, ইনশাআল্লাহ।

কওমী মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ আহ্বান, ক্ষণিকের সঙ্কট উত্তরণে সামান্য সরকারি অনুদান গ্রহণ করে অনন্তকালের কুদরতি সাহায্যের রাস্তা বন্ধ করবেন না। আল্লাহ পাকের উপর দৃঢ় ভরসা রাখুন, দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য দোয়া জারি রাখুন। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা আমাদের হেফাজত করবেন, ইনশাআল্লাহ।
 
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা শায়েখ জিয়া উদ্দিন, আল্লামা মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, আল্লামা নুরুল ইসলাম (আদীব হুজুর), আল্লামা মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী, আল্লামা হাফেজ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, আল্লামা আব্দুল হামীদ (পীর সাহেব মধুপুর), আল্লামা মুনিরুজ্জামান সিরাজী, আল্লামা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, আল্লামা আরশাদ রহমানী (বসুন্ধরা), আল্লামা নুরুল হক (বট্টগ্রাম হুজুর), অধ্যক্ষ মিযানুর রহমান চৌধুরী (শায়েখে দেওনা), আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা মাহমুদুল আলম (সিরাজগঞ্জ), মাওলানা আব্দুল হক হক্কানী (জামিল মাদরাসা), মুফতী মোবারকুল্লাহ (বি-বাড়ীয়া), মাওলানা আব্দুর রব ইউসূফী, মাওলানা মাহফুজুল হক (রাহমানিয়া), মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া (আরজাবাদ), মুফতী শফিকুল ইসলাম (সাইনবোর্ড), মাওলানা নুরুল ইসলাম (খিলগাঁও), মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, হাফেয মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী (বারিধারা), মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী (হাটহাজারী), মাওলানা খুরশেদ আলম কাসেমী (খতীব, আল্লা করীম), মাওলানা আব্দুল আউয়াল (নারায়ণগঞ্জ), মুফতি মুনির হোসাইন হোসাইন কাসেমী, মুফতি বশির উল্লাহ, মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, মাওলানা আব্দুল বছির (সুনামগঞ্জ), মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা জামিল আহমদ আনসারী (মৌলভীবাজার), মাওলানা বশির উদ্দিন (নরসিংদী), মাওলানা আব্দুর রহিম, মুফতি রফিকুল ইসলাম, মাওলানা বশির আহমদ (সৈয়দপুর, মুন্সিগঞ্জ), মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী (ময়মনসিংহ), মাওলানা মাহবুব উল্লাহ, মাওলানা নুরুল আবসার মাসুম, মাওলানা আবুল কাশেম (জামালপুর), মুফতি মুহিউদ্দীন মাসুম (লক্ষীপুর), মুফতি শামসুদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ খান, মুফতি আবু তাহের (নেত্রকোনা), মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ জামী (কিশোরগঞ্জ), মাওলানা সানাউল্লাহ মাহমূদী (বরিশাল-মাহমূদিয়া), মাওলানা আতাউর রহমান কাসেমী, মাওলানা লোকমান মাযহারী (কুমিল্লা), মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী, মাওলানা শাহজালাল, মাওলানা আব্দুল আজিজ (টাঙ্গাইল), মাওলানা ইয়াসিন, মাওলানা হেলাল উদ্দিন (ফরিদপুর), মুফতি কামরুজ্জামান, মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, হাফেজ মাওলানা দেলোয়ার, মাওলানা সাখাওয়াত হোছাইন (খুলনা), মুফতি শহিদুল ইসলাম, মুফতি নজরুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জ), মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা নূর মোহাম্মদ (মিরপুর), মাওলানা আলী আকবর (সাভার), মাওলানা আব্দুল খালেক শরিয়তপুরী, মাওলানা সুলাইমান নোমানী, মাওলানা আজিমুদ্দিন ও মুফতি মুজিবুর রহমান প্রমুখ।
-পিভি

বরিশালে খাদ্য গুদামের চাল পাচারকালে ...
প্রবচন: চাঁদপুরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পুরাণবাজারে নদীর ঘাট থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ২ হাজার ১শ’ বস্তা চাল নিয়ে একটি কার্গো উধাও হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ভোরে চাঁদপুর নদী বন্দরের ভূঁইয়ার ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত মফিজ হাজীসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী এ তথ্য জানিয়েছেন।

চাল ব্যাবসায়ীরা জানান, ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে পাবনা নগরবাড়ি ঘাট থেকে পুরান বাজারের ৫ থেকে ৭ জন চাল ব্যবসায়ী চাহিদা অনুযায়ী কয়েক হাজার বস্তা চাল আমদানি করে। একটি কার্গোতে সেই চাল পুরাণবাজার ঘাটে আনা হয়। সোমবার কিছু চাল নামানো হয়েছে। তারপর ব্যবসায়ীদের না জানিয়ে কার্গোটি রাতের অন্ধকারে ঘাট থেকে উধাও হয়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে ঘাটে চালভর্তি কার্গোটি দেখতে না পেয়ে গদিঘর লেবার ও ব্যবসায়ীরা উধাও হয়ে যাওয়া কার্গোটি খুঁজতে থাকে।

কার্গোতে পুরাণাবাজারের ব্যবসায়ী পরেশ মালাকার, মফিজ হাজী, রাজলক্ষ্মী ভান্ডারের শম্ভু সাহা, আনিছ বেপারী, মক্কা ট্রেডার্সসহ আরো কয়েকজন ব্যবসায়ীর ২ হাজার ১০০ বস্তা চাল ছিল।

এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছিম উদ্দিন বলেন, চালসহ কার্গো উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা শুনেছি। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তারা লিখিত অভিযোগ দেবেন। আমরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

|ইশতিয়াক সিদ্দিকী: ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর নামে একটি ভুয়া বিবৃতি (বার্তা/বক্তব্য) ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে হেফাজত মহাসচিবের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনটি পয়েন্টে বলা হয়, তিনি বলেছেন-

১. ১৫০ বছর ধরে যেই আল্লাহ কওমী আলেমদের রিযিকের ব্যবস্থা করে আসছেন, সেই আল্লাহ তো মরে যাননি, তিনি চিরঞ্জীব। তিনিই কওমী আলেমদের রিযিকের ব্যবস্থা করবেন।
২. কওমী সনদের স্বীকৃতি এই শর্তের উপর দেওয়া হয়েছে যে, সরকারের কোনো দান-অনুদান গ্রহণ করা হবে না। কওমী স্বীকৃতির প্রজ্ঞাপনে এই শর্ত স্পষ্ট উল্লেখ আছে। এখন কেউ কওমী মাদরাসার নামে সরকারী অনুদান গ্রহণ করলে কওমী স্বীকৃতির স্বকীয়তা রইল কোথায়?
৩. ঈদের পর পরই সমস্ত কওমী মাদরাসা ও মসজিদ খুলে দিতে হবে। বাধা দিলে কঠিন আন্দোলন করা হবে। বাজার খোলা, গার্মেন্টস খোলা, ব্যাংক খোলা। সবকিছু খোলা থাকার পরও মাদরাসা-মসজিদ বন্ধ থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বিবৃতির শেষে বলা হয়, ‘‘দেশের সমস্ত ওলামায়ে কেরাম ও তাওহিদি জনতার কাছে আমার এই স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেন’’।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী ইনআমুল হাসান ফারুকী জানান, বিবৃতিটি ভুয়া, ভিত্তিহীন। এ জাতীয় কোন বিবৃতি হযরতের এখান থেকে দেয়া হয়নি।

ফেসবুকে ভুয়া বার্তা

ঢাকা থেকে সুস্থ হয়ে এইমাত্র হাটহাজারী মাদরাসায় হেলিকপ্টারযোগে পৌঁছলেন আল্লামা আহমদ শফী।
প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আল্লামা আহমদ শফীকে চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ের সিএসসিআর নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে থাকেন।
এরপর আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়। আজ পর্যন্ত তিনি পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।



১. মুসলিম উম্মাহর অভিজ্ঞ সদা কর্মতৎপর পরম সচেতন পরীক্ষিত ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুরব্বী মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দামাত বারাকাতুহুম এর পরামর্শ হলো, 'অন্যান্য নামাযের মত তারাবীও ঘরে পড়া ৷ মসজিদে পড়বেন ইমাম- মুয়াজ্জিন ও খাদেমগণ৷'
২. পাকিস্তানের করোনা পরিস্থিতি এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পর্যায়ে নয়। বিশ্ব মুসলিমের আস্থাভাজন মুখপাত্র ও যুগের সেরা ফকীহ আল্লামা মুফতি তাকী উসমানী দা বা বর্তমানে তাঁর দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যা সারা দুনিয়ায় পালন করা সম্ভব নয়, যেমন আরবের উলামায়ে কেরামের সব সিদ্ধান্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করা সম্ভব নয়।
তাছাড়া, মুফতি তাকী উসমানী সাহেবের বর্তমান সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের নানা মত ও পথের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সমন্বিত। হযরতের প্রথম সিদ্ধান্তের মতো ফিকহী স্বাতন্ত্র্য ও অসাধারণত্ব এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কার্যকর থাকেনি।
৩. বাংলাদেশের জন্য উলামায়ে কেরামের প্রথম দুই মিটিংয়ে প্রদত্ত দীনি নির্দেশনা সবদিক থেকে উত্তম ও গ্রহণযোগ্য, যা তারা ইসলামিক ফাউণ্ডেশনে বসে স্বাক্ষর করে জারি করে ছিলেন। এতে মসজিদে আজান ও সীমিত আকারে জামাত জুমা চালু রাখার ব্যাপারে আলেমগণ রায় দেন। তবে উল্লেখিত শর্ত ও নিয়ম মুসল্লীদের অনেকে না মানায় সরকার জামাত ও জুমা 'সীমিত' কথাটির ব্যাখ্যা মসজিদের ইমাম খতীব মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের ৫ এবং ১০ জন আদায় করবেন বলে করে দেয়। অবশ্য এ সিদ্ধান্তটি কেবল মন্ত্রী সচিব ও কর্মকর্তা পর্যায়ে নেওয়ায় এতে মাসআলাগত একটি টেকনিক্যাল সমস্যা থেকে যায়। যে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মুফতিয়ানে কেরাম সরকারের সমালোচনা করেন। এসময় কোনো ফকীহের সাথে যোগাযোগ করে নিলে ব্যাখ্যাটি ৫ জন ১০ জন না হয়ে হতে পারতো 'জামাত ও জুমা শুদ্ধ হওয়া পরিমাণ নামাজি'। তাইলে আর সংখ্যা নির্ধারণ করার অনিয়মটি নিয়ে সমালোচিত হতে হতোনা। তাছাড়া এর আগে থেকেই দেশব্যাপী মানুষের জন্য সাধারণ চলাচল ও সমাগমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সারাদেশে দীর্ঘ ছুটি ও সহনীয় পর্যায়ের লকডাউনও শুরু হয়ে গিয়েছে । এখানে বাইরে বের হওয়া সরকারের নিষেধ , নিজে না বুঝতে পেরে মারাত্মক রোগাক্রান্ত হওয়া বা পরিবার পরিজন সহ অন্যদের রুগ্ন করার সমূহ সম্ভাবনা ও ব্যাপক প্রাণহানির ভয়, মসজিদের জামাতে না গিয়ে নিজ নিজ অবস্থানে নামাজ পড়ার এমন বেশ ক'টি কারণে মসজিদে না যাওয়ার কথা সাব্যস্ত হতে পারে। মসজিদে যেতে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গ এখানে আসে কিনা তা উলামায়ে কেরামের জানা বিষয়।
৪. সরকারের জামাত সীমিত করার সিদ্ধান্ত শুরুতেই অমান্য বা প্রয়োজনীয় সংশোধন না করে মুরব্বিদের অনেকে এটি মেনে নিয়ে একে শরীয়তসম্মত আখ্যা দিয়ে সরকারকে স্বাগত জানান। এরপর প্রয়োজনীয় সংশোধনী দিয়ে এ সিদ্ধান্তটি আরো ত্রুটিমুক্ত করা ছাড়া সংশ্লিষ্ট আলেমদের নীতিগতভাবে আর বেশী কিছু বলার সুযোগ থাকে না।
৫. আরেক দল মুরব্বি এ সিদ্ধান্তকে ইসলাম বিরোধী আখ্যা দিয়ে কঠোর ভাষায় সরকারের নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছেন। তারা একে সরাসরি কুফরি ও হারাম সিদ্ধান্ত বলে ফতওয়া দিয়েছেন।
৬. এরপর ভিন্নমত পোষণকারী আলেমগণের সাথে এক হয়ে প্রথম দিকনির্দেশদানকারী আলেমরাও নতুন করে সরকারের প্রতি শর্ত ও নিয়ম দিয়ে মসজিদে ব্যাপকভাবে মুসল্লী যাতায়াত উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবী তোলেন। আজ রমজানের দুই অথবা তিন দিন আগে পর্যন্ত মানুষ জানে না, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী আসবে।
৭. আলেমরা এক হয়ে একইসাথে একটি শরীয়াসম্মত, স্বাস্থ্যসম্মত, রাষ্ট্রীয় আইনসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে পারলে খুবই ভালো হতো। চোখের সামনে মহামারীতে রাতদিন মানুষ মরছে, সুচিকিতসা পাচ্ছে না, আক্রান্তের সংখ্যা বিপজ্জনক হারে বেড়ে চলেছে, কোভিড১৯ মহামারী নতুন রূপ নিয়ে এসেছে যার সাথে অতীতের মহামারীর চরিত্রগত কোনো মিল নেই, লাশ দাফনে জড়িত আলেমদের সাথে কথা বলে মুরব্বিরা পরিস্থিতি জানতে পারেন, চিকিৎসার সাথে জড়িত লোকজনের মাধ্যমে মহামারীর বিস্তার ও মৃত্যুর ভয়াল রূপ সম্পর্কে জানতে পারেন। এসব তথ্য আদান-প্রদান করা ও কোভিড১৯ বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে মতবিনিময় ফতওয়া এবং সিদ্ধান্ত দিতে সহায়ক হবে।
৮. দেশের ৯০% মানুষ কষ্ট করে হলেও লকডাউন মেনে চলছে। পেটের তাগিদে, বাজার, ব্যাংক, ওষুধ, ত্রাণ, চিকিৎসা, মৃত্যু ইত্যাদি প্রয়োজন আর কিছু অপ্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছে। এসব আমাদের জন্য দলিল হতে পারে না। আমাদের দলিল শরীয়তের জীবনমুখী পরম বিজ্ঞানময় নির্দেশনা। জনগণ আশা করে, উলামায়ে কেরাম এক হয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এমন একটি সমাধান দিতে সক্ষম হবেন, যাতে ইসলামের মূল প্রেরণা, সৌন্দর্য্য এবং বিধান দানে শরীয়তের মহান মানবিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটে ।

পরিশিষ্ট
৯. সময় খুবই কম। হাফেজ সাহেবগণ মনস্থির করার মতো সময় পাবেন না। সরকারের উচিৎ সব মসজিদের ৩/৪ জন দায়িত্ব পালনরত ব্যক্তির জন্য দুই মাসের খাদ্য ও জরুরী সামগ্রী উপহার হিসেবে পৌঁছে দেয়া। এদের মধ্যে যারা নিজের জন্য নেবেন না, অন্য কোনো লোককে দিয়ে দিবেন। বড়ো আকারে তারাবী না হলেও প্রতি মসজিদের কর্তৃপক্ষ, যাদের মসজিদে হাদিয়া দেওয়ার নিয়ম আছে, তারা গতবারের মতোই আগের হাফেজ সাহেবদের এবারও হাদিয়া উপহার বা সম্মানী দিয়ে দিবেন। বৈশ্বিক সংকট মুহূর্তে, জাতীয় বিপর্যয়ের সময় এটি রাষ্ট্র সরকার এবং আমার আপনার সবার কর্তব্য।
*আমাদের সকলের মুরব্বি শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী দা বা এর সিহ্হতে কামিলা আজিলা দায়িমা এবং দীর্ঘ নেক হায়াতের জন্য সবাই দোয়া করবেন।

মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভীভাইস চেয়ারম্যান, গ্লোবাল কন্সাল্টেটিভ কমিটি, ইন্টারন্যাশনাল ফিকাহ অ্যান্ড ফতওয়া কাউন্সিল (আইএফএফসি)


ফরিদপুর শহরের আলিপুর এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে নিত্যপণ্যের সঙ্গে একটি করে ইলিশ মাছ বিতরণ করেন স্থানীয় তরুণ ব্যবসায়ী মিঠু মিয়া।
শনিবার দুপুরে শহরের আশপাশের অর্ধশতাধিক পরিবারের মাঝে ব্যতিক্রমী এই ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়।
নিত্যপণ্যের সঙ্গে মাছ পেয়ে বেজায় খুশি অসহায় মানুষরা।
মিঠু বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন এসব হতদরিদ্র মানুষ চাল-ডাল, তেল-আলু পেলেও মাছ খেতে পারছে না। তাই তাদের কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget