Articles by "কওমী মাদরাসা"

প্রবচন ডেস্ক: বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় প্রভাবশালী আলেম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী রহ. এর জীবনের শেষ দুইদিনের ঘটনাবলী ও হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে ‘বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি’ করে ৮ দফা প্রস্তাবনা আকারে ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষ একাধিক আলেম ও আল্লামা শফী রহ. এর খলিফাবৃন্দরা।

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার)  বিকাল ০৩ টায় বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সদ্যপ্রয়াত হেফাজত আমির আল্লামা আহমদ শফীর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে এই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়।

ঘোষণাপত্রে বিচারবিভাগীয় তদন্ত ও আল্লামা শফী রহ. শেষ জীবনে মৃত্যুকালে কিছু ছাত্রদের হাতে নিজ কক্ষ ভাংচুর হতে দেখা, জীবন দিয়ে যে মাদ্রাসা গড়েছেন সেখান থেকে তাকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য করাসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ের প্রতিবাদ করা হয়েছে।


গণমাধ্যমে প্রেরিত ৮ দফা ঘোষণাপত্র নিম্নরুপ :

সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ভক্ত ও খলিফাদের পক্ষ থেকে ঘোষিত প্রস্তাবনা।

১. আল্লামা শাহ আহমদ শফী বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়েই সমাদৃত ছিলেন। কিন্তু তার সঙ্গে শেষ সময়ে যে আচরণ করা হয়েছে তা ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক। সারা জীবনের তালিম দেয়ার পরিণতিতে মৃত্যুকালে তিনি কিছু ছাত্রদের হাতে কক্ষ ভাংচুর দেখে গেলেন। জীবন দিয়ে যে মাদ্রাসা গড়েছেন সেখান থেকে তাকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা এ পুরো বিষয়টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

২. জীবনের শেষ দুই দিন আল্লামা আহমদ শফী কোন অবস্থার মধ্যদিয়ে অতিবাহিত করেছেন, সেটি এখন বিভিন্নভাবে আমরা প্রকাশ হতে দেখছি। অত্যন্ত লজ্জার কথা, হাটহাজারী মাদ্রাসার মতো স্থানে শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফীর কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। যেহেতু আল্লামা শফীর রুমসহ হাটহাজারী মাদ্রাসার বিভিন্ন শিক্ষকদের রুমে তাণ্ডবের বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হয়েছে, তাই আমরা পুরো বিষয়টির বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।

৩. পারিবারিক ও বিভিন্ন সূত্রে আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর বিষয় নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, হযরতের কক্ষে ভাঙচুরের সময় তাকেও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে এবং এর মধ্যে বিভিন্ন সময় তিনি অক্সিজেন নিতে পারেন নি। এর সঙ্গে কারা জড়িত তাদের অবিলম্বে খুঁজে বের করে প্রতিটি অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ হযরতের পরিবার ও ভক্তরা মনে করেন, যে পরিস্থিতে হযরতের ইন্তেকাল হয়েছে এটি স্বাভাবিক ছিলো না।

মেডিসিন নিতে না দেয়া, অক্সিজেন খুলে ফেলা , হাসপাতাল নিতে বাধা প্রদান, মাদ্রাসার গেইটে দুই ঘন্টা এম্বুলেন্স আটকে রাখা- এসব বিষয় সে বিষয়টিই প্রমাণ করে।

৪. আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানের ছাত্র বা শিক্ষকরা প্রতিবাদ করতে পারেন। কিন্তু হাটহাজারী মাদ্রাসার সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভে আমরা গভীরভাবে লক্ষ্য করেছি, সেখানে অভ্যন্তরীণ বিষয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়েও দাবি তোলা হয়েছে। তাই এটির সঙ্গে বহিরাগত কোনো উস্কানি বা পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি রাখে।

৫. উদ্বেগের বিষয় হলো- একটি মহল থেকে হাটহাজারীতে কোনো ভাঙচুর হয়নি বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, এছাড়া বিভিন্নভাবে ভাঙচুরের আলামত বিনষ্ট করা হয়েছে। তাই সরকারিভাবে তদন্ত কমিটি করার আগে আলেমদের উদ্যোগে নিজস্বভাবে তা তদন্ত ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে হবে। অন্যথায় ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

৬. আল্লামা শফীর পরিবার, খাদেম ও ভক্তদের এখনই পূর্ণ নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা জানতে পেরেছি, তাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে তাদের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

৭. আমরা খুবই উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, হাটহাজারী মাদ্রাসার এ ঘটনার পর কিছু মানুষ সারাদেশে একটি উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করছেন। ‘হাটহাজারী স্টাইলে সারাদেশের মাদ্রাসাগুলোতে তারা বিপ্লবের আহ্বানও জানিয়েছেন। এ ছাড়া দেশবরেণ্য আলেমদের ব্যাপারে সরাসরি বক্তৃতাসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্নভাবে উস্কানি দেয়া হচ্ছে। এ ধরণের হিংসাত্মক মনোভাব জাতির জন্য ক্ষতিকর। তাই এগুলো পরিহার করে আমরা সবাইকে ইসলামের শাশ্বত উদারতা ও শান্তির পথে আহ্বান জানাই।

৮. আজকের এ সভা খুব শিগগিরই আল হাইয়াতুল উলয়ার উদ্যোগে আল্লামা আহমদ শফীর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আন্তর্জাতিক একটি সম্মেলনের আহ্বান জানাচ্ছে। এ ছাড়া বাংলা, আরবি ও ইংরেজিতে হযরতের জীবনী ও স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের অনুরোধ করছে।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন – মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মুফতি নুরুল আমিন, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মাওলানা ওয়াহিদুজ্জামান, মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম,  মাওলানা মুখলেছুর রহমান কাসেমী, মাওলানা মাসউদুর রহমান বিক্রমপুরী, মাওলানা রেজাউল করিম, মাওলানা আতাউর রহমান আতিকী প্রমূখ।


ডেস্ক:  হেফাজতে ইসলামের আমির শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর লাশবাহী গাড়ি চট্টগ্রাম-হাটহাজারী মাদ্রাসার উদ্দেশ্য রওনা হয়েছে।

১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ৪ টা ১৫ মিনিটে তাঁর মৃতদেহ বহনকৃত গাড়িটি চট্টগ্রাম-হাটহাজারীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়।


এ সময় ভক্ত-অনুরক্তরা অশ্রুসজল চোখে শেষ বিদায় জানান উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই আলেমে দ্বীনকে।


পূর্ব ওসিয়ত অনুযায়ী চট্টগামের দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজার‌ী মাদরাসায় অবস্থিত মাকবারায়ে জামেয়ায় তাঁকে দাফন করা হবে।

এর আগে শনিবার বাদ জোহর হাটহাজারী মাদরাসা প্রাঙ্গণে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.-এর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার এ সিদ্ধান্ত পরিবার ও আলেমদের সমন্বয়ে নেয়া হয়েছে।


এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। এরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।


চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা আল্লামা শফীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে শুক্রবার সন্ধ্যার আগে ঢাকায় এনে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রায় শতবর্ষী আল্লামা আহমদ শফী দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

হাবীব আনওয়ার: আমীরে হেফাজত, শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ২০মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন।

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসাসূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


জানা যায় গতকাল ১৭ সেপ্টেম্বর আহমদ শফীকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে আজ বিকাল ৪ টায় তাঁকে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬ টা ২০ মিনিটে সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন।

বিশেষ প্রতিবেদক: নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে আনাস মাদানীর বহিষ্কারসহ পাঁচদফা দাবী আদায়ে গতকাল ১৬  সেপ্টেম্বর বুধবার জোহরের পর থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্রবৃন্দ।

আন্দোলনরত ছাত্রদের পক্ষ থেকে প্রচার করা লিফলেটে উল্লেখ থাকা দাবীসমূহ পর্যালোচনায় দেখা গেছে সেগুলো ন্যায্য ও যৌক্তিক। বিশেষ কোন ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর উস্কানী কিংবা প্ররোচনায় নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে জুলুম ও অন্যায় অবিচারের শিকার হওয়া প্রতিবাদী ছাত্রজনতা নিজেরাই নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে উম্মুল মাদারিস হাটহাজারী মাদরাসার সোনালী ইতিহাস ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে এবং প্রাপ্য অধিকার ফিরে পেতে মূলত এ আন্দোলন করছে।

প্রতিবাদী ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে বাধাগ্রস্ত করতে কিছু সংবাদমাধ্যম এ আন্দোলনের সাথে ব্যক্তি বিশেষকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বলা হয়, তারা যৌক্তিক এই ছাত্র আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই ব্যক্তি বিশেষের উস্কানিতে এই আন্দোলন হচ্ছে বলে ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় অপপ্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

আল্লামা আহমদ শফী বা আল্লামা বাবুনগরীর মধ্যকার দ্বন্দ্বের জের ধরে এ আন্দোলন হচ্ছে বলে যেই সংবাদ মিডিয়ায় করা হচ্ছে তা নির্জলা মিথ্যাচার ও ভিত্তিহিন দাবী করা হয়েছে। 

জানা যায়, এ আন্দোলনের সাথে আল্লামা বাবুনগরী বা তাঁর সমর্থকদের বিন্দুমাত্রও যোগসূত্র নেই। এমনকি আল্লামা বাবুনগরী এ আন্দোলনের আগে-পিছে কিছুই জানেন না। আন্দোলন শুরুর পর থেকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আল্লামা বাবুনগরী নিজ রুমে তালাবদ্ধ ছিলেন। এমনকি তাঁর মোবাইলসহ খাদেম ইন'আমুল হাসান ফারুকীর মোবাইলও জব্দ করে তাদেরকে তালাবন্ধ রাখা হয়েছিল। গতকাল ও আজকে দুপুরের খাবার তিনি সন্ধ্যায় খেয়েছেন বলে সূত্র জানায়।

ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনের কোন দায় বাবুনগরীর উপর  চাপানোর চেষ্টা হলে দেশবাসী তা মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে আল্লামা বাবুনগরীর সমর্থকরা। তারা বলছেন, যেসব মিডিয়ায় আল্লামা বাবুনগরী ও আল্লামা আহমদ শফীর মধ্যকার দ্বন্দ্বের মিথ্যা বিষয়টিকে জড়িয়ে মিথ্যাচারপূর্ণ রিপোর্ট করা হয়েছে আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সুস্পষ্ট ভাষায় বলছি, এ আন্দোলনের সাথে আল্লামা বাবুনগরীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক বা যোগসূত্র নেই। শান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই ব্যক্তি বিশেষের উপর মিথ্যা অভিযোগ তুলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেিএকটি মহল।

এ ব্যাপারে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহবান জানানো হয়েছে।

হাটহাজারী মাদরাসা (ফাইল ছবি)

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে ভর্তি শুরু করছে চট্টগ্রাম দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসা।


আজ মঙ্গলবার দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম, পীরে কামেল আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফি. স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এতদ্বারা সকল ছাত্রদের অবগতির জন্য জানানাে যাচ্ছে, আগামী ২২ জিলহজ ১৪৪১ হি. মােতাবেক ১৩ আগস্ট ২০২০ রােজ বৃহস্পতিবার হইতে অত্র জামিয়ার সকল বিভাগের ভর্তি কার্যক্রম আরম্ভ হয়ে ২৩ আগস্ট ২০২০ পর্যন্ত চলবে ইনশাআল্লাহ।


উল্লেখ্য, ১৩ আগস্ট হতে সকল ছাত্রদেরকে জামিয়ার ছাত্রাবাসে সিট প্রদান করা হবে। বিঃদ্রঃ অনলাইনে আবেদনকারী ছাত্ররাও উক্ত তারিখের মধ্যেই স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ভর্তি সংক্রান্ত অবশিষ্ট কার্যাদি সম্পন্ন করার জন্য অনুরােধ রইল।

গুপ্তহত্যার মাধ্যমে দেশ অস্থির করার ...
নিজস্ব প্রতিনিধি: করোনা মহামারিতে অসহায় মানুষদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী৷

গতকাল ২১ জুন রবিবার সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী এ আহবান জানান ৷

তিনি বলেন,করোনা আতংকে কার্যত মানুষ আজ গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। নেই কাজের কোন উৎস। এই পরিস্থিতিতে বহু মানুষ অসহায় অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাই এই উদ্ভুত পরিস্থিতিতে দূর্দশাগ্রস্থ পরিবারের পাশে খাদ্যদ্রব্য, নগদ অর্থসহ জরুরী ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। 

স্থানীয় প্রশাসন,সমাজের বিত্তবান, জনপ্রতিনিধি,সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠন এবং বিশেষভাবে হেফাজত ইসলামের নেতৃবৃন্দকে যার যার অবস্থানে থেকে সাধ্যমত ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে অসহায়দের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহবান জানান হেফাজত মহাসচিব।

হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আল্লামা বাবুনগরী বলেন,আপনারা করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবায় এগিয়ে আসুন। তাদের সেবা করুন। তাদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করুন। এখলাছ ও নিষ্ঠার সাথে সেবার মহৎ কাজ করলে আল্লাহ তায়া’লার নিকট এর উত্তম বিনিময় পাওয়া যাবে। 

রোগীর দেখাশোনা ও সেবা-শুশ্রূষাও একটি ইবাদত উল্লেখ করে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা দিতে ডাক্তারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রোগীর সেবা-শুশ্রূষা করা, তাকে সান্ত্বনা দেওয়াকে সর্বোচ্চ সৎকাজ এবং গ্রহণযোগ্য ইবাদত হিসেবে ঘোষণা করেছেন।তাই আপনারা করোনায় আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা প্রদান করুন।

তিনি আরো বলেন,এই মহামারিতে কোন মুসলমান মারা গেলে রাসুল সা. এর হাদীস অনুযায়ী সে অবশ্যই শহীদ হবে। তাকে ইসলামি বিধানানুযায়ী জানাযা ও দাফন কাফন করতে হবে। দুঃখজনকভাবে বলতে হয় করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা যাচ্ছে আজ তাদের দাফন কাফনে অনেক অবহেলা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটা কভু কাম্য নয়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণকারীদেরকে ইসলামের বিধান অনুযায়ী জানাযা ও দাফন-কাফনে সেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে হেফাজত নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান তিনি ।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, করোনা ভাইরাসে আতংকিত না হয়ে শরঈ বিধানকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অভিজ্ঞ ডাক্তাররা যেসব পরামর্শ দেন তা যথাযথ ভাবে মেনে চলতে হবে।

আবদুল কুদ্দুস বেফাকের ভারপ্রাপ্ত ...
স্টাফ রিপোর্টার: করোনায় দেশের বেশিরভাগ কওমী মাদরাসার শিক্ষকগণ আর্থিক সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসা বন্ধ থাকায় কর্তৃপক্ষ বেতন দিতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। ফলে আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে বিনাবেতনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অসংখ্য মাদরাসা শিক্ষকগণ।

সেসব শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াতেই কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক একটি সাধারণ তহবিল গঠন করেছিল। বিভিন্ন জটিলতা কাটিয়ে এবার সেই তহবিল থেকে ৩ কোটি টাকা শিক্ষকদের মাঝে বণ্টনের কথা জানান আল হাইয়াতুল উলিয়ার কো চেয়ারম্যান ও বেফাকের মহাসচিব আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা একটি সাধারণ তহবিল গঠন করেছিলাম। আমাদের সেই তহবিলের সর্বমোট ৩ কোটি টাকা। সেই তহবিল থেকে আমরা বাছাইকৃত শিক্ষকদের জন্য টাকা পাঠাবো।

টাকা বন্টন এবং পৌঁছানোর জন্য আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। আশা করি কিছুদিনের মধ্যেই তারা শিক্ষকদের মাঝে সম্মাননা পৌঁছে দিতে পারবেন।

সূত্র-আওয়ার ইসলাম

বিশেষ প্রতিবেদক: গতকাল ১৭ জুন দারুল উলুম হাটহাজারীতে শূরা কমিটির একটি বৈঠকে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী কর্তৃক সহযোগী পরিচালকের পদ থেকে ইস্তফা প্রদানের বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ পায়।

এ বিষয়ে মেখল মাদরাসার পরিচালক আল্লামা নোমান ফয়জীর বরাতে দেশের বেশকিছু সংবাদমাধ্যম জানায় যে, তিনি বলেছেন, এত দিন মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী এবং সহকারী পরিচালক জুনায়েদ বাবুনগরী ছিলেন। বুধবার বৈঠকে জুনায়েদ বাবুনগরীকে অব্যাহতি দিয়ে তাঁর স্থলে মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শেখ আহমদকে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাবুনগরী নিজেও দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আহমদ শফীর অনুপস্থিতিতে শেখ আহমদই ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত থেকে পুরোপুরি মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন কি না, তা নির্ধারণ করবে পরবর্তী শুরা কমিটি।

তবে এ বিষয়ে আল্লামা বাবুনগরীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব হুজুরের সভাপতিত্বে আজ হাটহাজারী মাদরাসার মজলিসে শূরার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে  আমাকে বৈঠকে ডাকা হয়েছে। সেসব বিষয়ে আমি আমার সুস্পষ্ট বক্তব্য শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব ও শূরার সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করেছি। কিন্তু বৈঠকে শূরার সদস্যদের নিকট মুঈনে মোহতামীমের পদ থেকে পদত্যাগ  চাওয়া বা পদত্যাগের  বিষয়ে কোনধরনের সম্মতি আমি প্রকাশ করিনি। এবং উক্ত বৈঠকে আমাকে মুঈনে মোহতামীম এর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে শূরার সদস্যগণ আমাকে কিছুই বলেননি। বৈঠক শেষ হওয়ার অনেক পরে একজন শূরার সদস্য মুঈনে মোহতামীমের পদ থেকে আমাকে অব্যাহতির বিষয়টি জানিয়েছেন।

আমি জানতে পেরেছি, মাদরাসার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মাওলানা নোমান ফয়জীর বরাতে এবং একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মাওলানা নুরুল আমীন সাহেবের বরাতে প্রচারিত হচ্ছে যে,আমি মজলিসে শূরার সদস্যদের নিকট মুঈনে মোহতামীম বা সহযোগী পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগের সম্মতি প্রকাশ করায় তারা আমাকে উক্ত পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। অথচ এ কথা ভিত্তিহিন। আমি শূরার সদস্যদের নিকট কোন পদত্যাগ চাইনি।

এ সম্পর্কে শূরা সদস্য আল্লামা নোমান ফয়জীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রবচনকে বলেন, শূরার বৈঠকে বাবুনগরী ইস্তফা দেননি। তাঁর পক্ষ থেকে এমন কোন বিষয় আলোচনায় আসেনি। যারা আমার বরাতে এমন কথা বলছে তারা মিথ্যা কথা বলছে। আমি এমন কোন কথা বলিনি।

তিনি আরোও বলেন, অনেকে বলছে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছি। এটাও মিথ্যা কথা। উক্ত বৈঠকের আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা এখন পর্যন্ত দেয়া হয়নি।

বাংলাদেশে অনতিবিলম্বে ইসকন নিষিদ্ধ ...
নিজস্ব প্রতিবেদক: মজলিসে শূরার সদস্যদের নিকট হাটহাজারী মাদরাসার মুঈনে মোহতামীম বা সহযোগী পরিচালকের পদ থেকে সরাসরি পদত্যাগ  বা পদত্যাগের বিষয়ে কোন প্রকারের সম্মতি প্রকাশ করেননি আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। 

আজ ১৭ ই জুন বুধবার রাতে সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি ।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন,শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব হুজুরের সভাপতিত্বে আজ হাটহাজারী মাদরাসার মজলিসে শূরার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে  আমাকে বৈঠকে ডাকা হয়েছে। সেসব বিষয়ে আমি আমার সুস্পষ্ট বক্তব্য শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব ও শূরার সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করেছি। কিন্তু বৈঠকে শূরার সদস্যদের নিকট মুঈনে মোহতামীমের পদ থেকে পদত্যাগ  চাওয়া বা পদত্যাগের  বিষয়ে কোনধরনের সম্মতি আমি প্রকাশ করিনি। এবং উক্ত বৈঠকে আমাকে মুঈনে মোহতামীম এর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে শূরার সদস্যগণ আমাকে কিছুই বলেননি। বৈঠক শেষ হওয়ার অনেক পরে একজন শূরার সদস্য মুঈনে মোহতামীমের পদ থেকে আমাকে অব্যাহতির বিষয়টি জানিয়েছেন।

আমি জানতে পেরেছি, মাদরাসার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মাওলানা নোমান ফয়জীর বরাতে এবং একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মাওলানা নুরুল আমীন সাহেবের বরাতে প্রচারিত হচ্ছে যে,আমি মজলিসে শূরার সদস্যদের নিকট মুঈনে মোহতামীম বা সহযোগী পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগের সম্মতি প্রকাশ করায় তারা আমাকে উক্ত পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। অথচ এ কথা ভিত্তিহিন। আমি শূরার সদস্যদের নিকট কোন পদত্যাগ চাইনি।

স্বপদেই আল্লামা শফী, বাবুনগরীর স্থলে শেখ আহমদ
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী (বড় মাদরাসা) শূরা কমিটির বৈঠকে মাদরাসার মহাপরিচালক পদে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী বহাল রয়েছেন। সহযোগী মহাপরিচালকের (নায়েবে মুহতামিম) দায়িত্ব পালনকারী মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরীর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও প্রবীণ আলেম মাওলানা শেখ আহমদকে।

আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মাদরাসা কার্যালয়ে আয়োজিত শূরা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এতে ১১ জন শূরা সদস্যের উপস্থিতিতে এ সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। 

মাদরাসা কার্যালয়ে আয়োজিত শূরা কমিটি বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা হলেন হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী, আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি নুরুল আমিন, মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী, মাওলানা নোমান ফয়জী, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেপুরী, মাওলানা আবুল হাসান, মাওলানা আবুল কাসেম, মাওলানা ওমর ফারুক ও মাওলানা সোহাইব নোমানী।

বুধবার হাটহাজারী মাদ্রাসার মজলিশে ...
প্রবচন: দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার পরবর্তী মহাপরিচালক পদে বাছাই করা হচ্ছে আজ। দেশের শীর্ষ এ কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম ‘মজলিসে শূরা কমিটি’ নির্ধারণ করবে কে হচ্ছেন বর্তমান মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফীর উত্তরসূরি।

আজ বুধবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে মজলিসে শূরা কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ বিকেল ৪টার পর। 

যিনিই উত্তরসূরি নির্বাচিত হবেন তিনিই এক সময় হবেন হেফাজতে ইসলাম, বেফাক, আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে শীর্ষ কওমি আলেমের দায়িত্বও পালন করবেন। আল্লামা আহমদ শফী বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় উত্তরসূরি নির্বাচন করে যেতে চাইছেন।

তাই আজ বুধবার বৈঠকে বসছে ‘মজলিসে শূরা কমিটি’। এ কমিটি নির্ধারণ করবে মাদরাসার পরবর্তী মোহতামিম বা মহাপরিচালক। যিনি আহমদ শফীর জীবিত থাকা অবস্থার হাটহাজারী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং পরবর্তীতে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন। মজলিসে শূরার ১৭ সদস্যের মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন। তাই ১১ জন শূরা সদস্য ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নির্বাচন করবেন। তারা সবাই বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন এবং দুপুরে উক্ত বৈঠকে অংশ নেন মাদরাসার সহকারী পরিচালক ও হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। 


হাবীব আনওয়ার: করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অবনতির  কারণে, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেখল  হামিউচ্ছুন্নাহ মাদরাসার ছুটি বাড়লো আগস্টের ৮ তারিখ পর্যন্ত। 

আজ ১৫ জুন সোমবার মাদরাসার পরিচালক আল্লামা নোমান ফয়জী'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মাদরাসার সকল উস্তাদ উপস্থিত ছিলেন।

মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক ও সহকারী হল সুপার মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী তাঁর ফেসবুক পোস্ট বলেন, ঐতিহ্যবাহী মেখল হামিয়ুচ্ছুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪১/৪২ হি. ২০২০/২১ ইংরেজি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি ইচ্ছুক সকল ছাত্রদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আজ ১৫ জুন জামিয়ার সকল শিক্ষকদের এক জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে  নিম্ন লিখিত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় :
১/ আগামী ১৮ ই জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরি মোতাবেক ৮ ই আগষ্ট ২০২০ ইং শনিবার জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল খোলা হবে। এবং আবাসিক ছাত্রদের সিট দেওয়া হবে।
২/ ৯ ই আগষ্ট ২০২০ রবিবার মাদ্রাসার ভর্তি আরম্ভ হবে। 
৩/ মাদরাসা খোলার আগে  কোন ছাত্রকে  মাদ্রাসায় উপস্থিত হতে নিষেধ করা হয়েছে।

মাওলানা ফয়জী প্রবচন মিডিয়াকে বলেন, দীর্ঘ সময় এই ছুটি যদিও ছাত্রদের জন্য ক্ষতি তবুও আমরা পরিস্থিতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। তবে আমরা ছাত্রদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি,  নিজ ভবিষ্যতের জন্য নিজের অবস্থানে থেকে পড়াশোনায় নিয়জিত থাবেন। মুফতী আজম ফয়জুল্লাহ রহ. এর লিখিত নিজামুল আওকাত অনুযায়ী সময়গুলো অতিবাহিত করবেন। এবং বিশ্বিক মহামারি থেকে বাঁচার জন্য, নামাজ, রোজার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে রোনাজারি করুন।


করোনা ভাইরাসের দরূন সৃষ্ট নাজুক পরিস্থিতির কারণে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছে ঐতিহ্যবাহী 
"মাদরাসাতুল ইহসান আল-আরাবিয়া"।

অনলাইনে চলতি ১৪৪১-৪২ শিক্ষাবর্ষের মক্তব, হিফজ,১ম-৫ম বর্ষ পর্যন্ত সকল বিভাগে  ভর্তি চলছে।

প্রত্যেক বিভাগে কোটা খালি থাকা সাপেক্ষে নতুন ও পুরাতন ছাত্র ভর্তি করা হবে জানিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। 

আগ্রহী ছাত্রদের মাদরাসা অফিসে যোগাযোগ করে ভর্তির কাজ সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ভর্তির সময় : 
সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। 
ভর্তির ফিস: ৩৫০০টাকা 
ফরম : ১০০টাকা 

ঠিকানা : 
প্রধান শাখা, সেক্টর: ১১, রোড : ৯, বাড়ি : ১২, উত্তরা, ঢাকা। 

যোগাযোগঃ
মুহতামিম সাহেব দা. বা. 01715089810
জনাব সামসুজ্জামান দা. বা.
01745840496 
মুফতি নাদিম মাহমুদ দা. বা. 
01851118560
মুফতি ফারহাদ হুসাইন দা. বা.
01986826360
মাও. মুস্তাকিম হুসাইন দা. বা. 
01865940219

অনলাইন যোগাযোগ
০১৭১৫০৮৯৮১০
০১৮৫১১১৮৫৬০

বিশেষ শাখা, সেক্টর: ১৪, রোড: ১৩, বাড়ি: ২৪, উত্তরা, ঢাকা। 

যোগাযোগ 
অফিস: 01745840496
মুফতি মাজহারুল ইসলাম 01677534722
কারী ইজহারুল ইসলাম 01732524277

ডেমরা শাখা, মিনার মসজিদ সংলগ্ন, ডগাইর নতুনপাড়া, সারুলিয়া, ডেমরা, ঢাকা। 

যোগাযোগ 
অফিস 01404227680
মাও. লুতফর রহমান 01632578014
জনাব জাফর 01911679161

বি. দ্র. ৪র্থ বর্ষ (শরহে বেকায়া) "বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ" এর অধীনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।


হাবীব আনওয়ার: মুফতী আজম ফয়জুল্লাহ রহ. এর প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেখল হামিয়ুচ্ছুন্নাহ মাদরাসা খুলছে না ৩০ মে। সেই সাথে ১লা মে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান, মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী। 

মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী বলেন, আগামী ৩০ জুন মাদরাসা খোলার তারিখ থাকলেও পরিস্থিতির অবনতি হওয়াতে পূর্বনির্ধারিত ৩০ মে মাদরাসা খোলা ও ১লা জুন থেকে অনুষ্ঠিতব্য  পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এমতাবস্থায় পুরাতন এবং ভর্তি-ইচ্ছুক নতুন ছাত্রদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাদরাসা না আসার আহবান জানিয়েছেন, মাদরাসার শিক্ষাল পরিচালক মাওলানা উসমান ফয়জী।

এছাড়াও যেকোন তথ্যের জন্য  নিম্নোক্ত নম্বর সমূহে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। শিক্ষা পরিচালক, ০১৮১৭৭৩৬২৮১, সহ শিক্ষা পরিচালক, ০১৮১৮১১৯৭০০, নাজেমে একামাহ,  ০১৮১৬৮৬১০১৪,সহকারী একামাহ, ০১৮১৯৩৯২৩০৫, ০১৮১৫৯১৭১৩৩, ০১৮১৩৬২১৫৮৮

উল্লেখ্য : করোনাভাইরাস এর কারণে গত ২০ মার্চ শুক্রবার থেকে ৩০ মে পর্যন্ত  মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। 


বিশ্ববিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দ, ভারতের স্বনামধন্য শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী সাহেব আজ সকালে ইন্তেকাল করেছেন।
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।






টিভি দেখে ইমামের অনুসরণ জায়েজ নেই ...

ডেস্ক: মসজিদগুলোর মতো দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমি সীমিত আকারে হলেও মসজিদ খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। মসজিদের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়ায় সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। মসজিদের মতোই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ কওমী মাদরাসাগুলোকে খুলে দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইলম ও আমলের মারকাজ। যেখানে মহান আল্লাহর স্তুতি গাওয়া হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, জল–স্থলে বিপর্যয় মানুষের কৃতকর্মের ফল। সূরা রুম : আয়াত ৪১। এই মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন এই দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা। যত দ্রুত দীনচর্চার মারকাজ খুলে দেয়া হবে তত দ্রুত আল্লাহ তায়ালা বালা মসিবত থেকে দেশকে রক্ষা করবেন।

দেশের দীনদরদি মুসল্লিদের উদ্দেশে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, মসজিদ খুলে দেয়ায় আমাদের যেমন আনন্দ হচ্ছে তেমনি আমাদের অসতর্কতায় যেনো করোনা রোগ ছড়িয়ে না যায়। আমরা সতর্ক থাকবো। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মসজিদে যাবো ইনশাআল্লাহ। দেশ ও মানুষের স্বার্থে আমরা কিছুতেই অসতর্ক হবো না ইনশাআল্লাহ।

আল্লামা মাসঊদ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাদরাসা পরিচালনা করা কঠিন কিছু নয়। সতর্ক থেকে মাদরাসা পরিচালনা করা সম্ভব। কারণ মাদরাসাগুলোর বেশির ভাগ স্টুডেন্ট আবাসিক থাকে। রাস্তায় বের হয়ই না। সুতরাং মাদরাসা শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিমুক্তই পড়ালেখা করতে পারবে বলে আমরা মনে করি। কওমী মাদরাসার পড়ালেখা শুরু হলে দেশের জন্যই মঙ্গল হবে বলে মন্তব্য করেন আল্লামা মাসঊদ।



মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন: সর্বক্ষেত্রে দেওবন্দীধারার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওবন্দের মূলনীতি বিসর্জন না দেয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ। 
৩ মে রবিবার তানযীমুল মাদারিসের দফতর সম্পাদক আহসান হাবীব প্রেরিত এক বার্তায় এ আহ্বান জানানো হয়।
প্রেরিত বার্তায় বলা হয়, উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দ্বীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলাফগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান সরকার হুবহু ঐ মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং স্বীকৃতি সংক্রান্ত আইনের ২ (১) ধারায় কওমি মাদরাসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহীর শিক্ষা কেন্দ্রই হলো কওমি মাদরাসা। 

তাই ঐতিহাসিক সেই মূলনীতি এবং কওমী মাদরাসার সংজ্ঞাকে উপেক্ষা করে  যেকোনো সময়, যেকোনো পরিস্থিতিতে, যেকোনো সরকার থেকে আমরা কোনোভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না।

তানযীমভূক্ত মাদারিসের দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ আহ্বান, হকপন্থীদের সঙ্কটের ইতিহাস নতুন নয়। তাই সরকারি অনুদান গ্রহণ করে অনন্তকালের কুদরতি সাহায্যের রাস্তা বন্ধ করবেন না। আল্লাহ পাকের উপর দৃঢ় ভরসা রাখুন, করোনার মহামারি থেকে বিশ্ববাসী ও মুসলিম উম্মার মুক্তির জন্য দোয়া জারি রাখুন। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা আমাদের হেফাজত করবেন, ইনশাআল্লাহ।

প্রেরিত বার্তায় তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি আরশাদ রহমানী, সহ সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আলম, মাওলানা ইউনুস, মাওলানা আব্দুস সবুর, মাওলানা আব্দুল হক হক্কানী এবং তানযীমের বিভিন্ন জেলার সভাপতিদের নাম উল্লেখ করা হয়।


বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ঈদের পর

প্রবচন ডেস্ক:  বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ সরকারি অনুদান বিষয়ে আজ ২মে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মজলিসে খাসের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সহসভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সাহেব। সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ খবর জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সভায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত হয় যে, সরকারি অনুদান গ্রহণ, কওমী মাদরাসার দেড়শত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি আদর্শকে বিসর্জন দেয়া। তাই এধরনের অনুদান গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য সকল কওমী মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি আহবান জানানো হয়।

বেফাক নেত্রীবৃন্দ বলেন, উপমহাদেশব্যাপী বিস্তৃত কওমী মদরাসাসমূহ ভারতের বিখ্যাত দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ ও শিক্ষাক্রম অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়ে আসছে। দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাকালে অলঙ্ঘনীয় যে ‘উসূলে হাশতেগানা’ তথা আট মূলনীতি নির্ধারণ করে, তার অন্যতম একটি হলো ‘যে কোনো পরিস্থিতিতে সরকারী অনুদান গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। সুতরাং এই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে দেশের কোনো কওমি মাদ্রাসা সরকারী অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।

বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, এই উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দ্বীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলাফগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার হুবহু ঐ মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং স্বীকৃতি সংক্রান্ত আইনের ২(১) ধারায় কওমি মাদরাসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে “মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহীর শিক্ষা কেন্দ্রই হলো কওমী মাদরাসা। তাই ঐতিহাসিক সেই মূলনীতি এবং কওমী মাদরাসার সংজ্ঞাকে উপেক্ষা করে আমরা কোনোভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না।

বৈঠক থেকে বেফাকের সম্মানিত সভাপতি আল্লামা আহমদ শফি দা:বা: এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করেন। বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন : হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, হযরত মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, হযরত মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), হযরত মাওলানা ছফিউল্লাহ, হযরত মাওলানা মাহফুযুল হক, হযরত মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, হযরত মাওলানা মুফতি নূরুল আমিন, হযরত মাওলানা মনিরুজ্জামান।


Local Guides Connect - hathazari arbic univerchity - Local Guides ...

প্রবচন ডেস্ক: সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দেশের ৬ হাজার ৯৫৯টি কওমি মাদরাসাকে ৮ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার পর থেকেই কওমী আলেম-ওলামা এবং ছাত্রদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেয়া দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। 

এদিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় ২৪ টি মাদরাসার জন্য অনুদান বরাদ্দের খবর প্রকাশ পায় এবং সেই ২৪ মাদরাসার তালিকায় হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল মাদরাসার নামও উঠে আসে। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সরকারী অনুদান গ্রহণ করবে না বলে তা প্রত্যাখ্যান করে।

এর একদিন পর আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কওমী মাদরাসা দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসা থেকেও অফিসিয়াল বিবৃতির মাধ্যমে সরকারী অনুদান গ্রহণে অস্বীকৃতির কথা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়- কওমী মাদরাসার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা সর্বজনবিদিত। কওমী মাদরাসা হলো, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং দারুল উলূম দেওবন্দের আদর্শ, মূলনীতি ও মতপথের অনুসরণে মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহীর শিক্ষাকেন্দ্র।

কওমী মাদরাসা ঈমান, তাকওয়া ও তাওয়াক্কাল আলাল্লাহ এর উপর প্রতিষ্ঠিত এবং আকাবিরে দেওবন্দের চিন্তা-চেতনার অনুসরণ ও তালীম তরবিয়াতসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে দারুল উলূম দেওবন্দের মূলনীতি, আদর্শ ও কর্মপদ্ধতির অনুসরণকারী দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

তাই জামেয়া দারুল উলূম হাটহাজারী ও তার (মুলহাকাহ) অনুসারী মাদরাসাসমূহ সরকার কর্তৃক ঘোষিত কোন অনুদান গ্রহণ করবে না। তাই কোন কওমী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যেন এই অনুদানের বিষয়ে সংশয় ও সন্দিহানের মধ্যে না থাকে। (এরপরও যদি কেউ গ্রহণ করে থাকেন এটা একান্তই তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।)

তাছাড়া কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত গেজেটের ২ এর ১ নং ধারা এবং ২ এর (ঙ) এর ধারা অনুযায়ী কোন কওমী মাদরাসা সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।

বিবৃতির শেষে এটাও উল্লেখ করা হয় যে, এটা জামেয়া দারুল উলূম হাটহাজারীর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে সম্মিলিত কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া (বেফাক) কর্তৃপক্ষ অন্যান্য মাদরাসার জন্য আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে।

উল্লেখ্য, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, অনুদান বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১ হাজার ৭৮০টি, চট্টগ্রাম বিভাগের ১ হাজার ৪৮১টি,  রংপুর বিভাগের ৭০৩টি, রাজশাহী বিভাগের ৭০৪টি, খুলনা বিভাগের ১ হাজার ১১টি, বরিশাল বিভাগের ৪০২টি, ময়মনসিংহ বিভাগের ৩৯৭টি এবং সিলেট বিভাগের ৪৮১টি মাদরাসা রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ...


প্রবচন ডেস্ক: করোনা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দেশের ৬ হাজার ৯৫৯টি কওমি মাদরাসাকে ৮ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের খবর পাওয়া গেছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একটি সূত্র আজ বৃহস্পতিবার জানায়, এ অর্থ ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১ হাজার ৭৮০টি, চট্টগ্রাম বিভাগের ১ হাজার ৪৮১টি  রংপুর বিভাগের ৭০৩টি, রাজশাহী বিভাগের ৭০৪টি, খুলনা বিভাগের ১ হাজার ১১টি, বরিশাল বিভাগের ৪০২টি, ময়মনসিংহ বিভাগের ৩৯৭টি, সিলেট বিভাগের ৪৮১টি মাদরাসা রয়েছে। 
-বাসস। -আইটি

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget