Articles by "খুন"

ডেস্ক: ঢাকার তিন জায়গা থেকে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার এক বন্ধুর স্ত্রী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার শাহীনা আক্তার ওরফে মনি সরকার (২৪) নিহত ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনের (২৬) বন্ধু চার্লস রুপম সরকারের স্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাতে মনি ও তার মা রাশিদা আক্তারকে (৪৮) উত্তরা ও আব্দুল্লাহপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান জানিয়েছেন।

মনি ও তার মা এই হত্যাকাণ্ডে দোষ স্বীকার করে শুক্রবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মনি ও তার স্বামী রূপম মিলে হেলালকে হত্যার পর তার লাশ তিন টুকরো করে বস্তায় ভরে ঢাকার তিন জায়গায় ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান উপ-কমিশনার মশিউর।

তিনি বলেন, আজমপুর মধ্যপাড়া মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের দোকান করতেন হেলাল। দক্ষিণখান এলাকায় থাকতেন তিনি। দুই বছর আগে বাংলা লিংকের সিম বিক্রি করার সময় তার পরিচয় হয়েছিল রূপমের সঙ্গে, রূপমও একই কাজ করতেন।

সেই যোগাযোগ থেকে এক লাখ টাকার বেশি দামের একটি ফটোস্ট্যাট মেশিন কেনার পরিকল্পনা নিয়ে ১৪ জুন (রোববার) দুপুরে দক্ষিণখানের মোল্লারটেকে রূপমের বাসায় যান হেলাল। একটি ছোট দোতলায় স্ত্রী মনিকে নিয়ে ভাড়া থাকেন রূপম।

“জিজ্ঞাসাবাদে মনি বলেছে, হেলাল বাসায় যাওয়ার পর তাকে চা খেতে দেওয়া হয়। কিন্তু চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয় রূপম। চা খাওয়ার পর হেলাল অচেতন হয়ে পড়ে। তখন রূপম ও মনি হেলালকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মৃতদেহ বাথরুমে নিয়ে যায়। চাকু ও বটি দিয়ে তিন টুকরা করে বস্তায় ভরে পরদিন সকালে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রূপম।”

হেলালের কাছে বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের অনেক টাকা রয়েছে এমন ধারণা থেকেই তাকে হত্যার কথা মনি স্বীকার করেছেন বলে জানান উপ-কমিশনার মশিউর।

“কিন্তু হেলালকে হত্যার পর তার কাছে মাত্র ২৫৩ টাকা ছিল। পরে তার বিকাশের মোবাইল ফোন থেকে কৌশলে ৪৩ হাজার টাকা তারা উঠিয়ে নেয়,” বলেন তিনি।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা মশিউর বলেন, হেলাল উদ্দিনের দেহ কেটে তিন খণ্ড করেন রূপম-মনি দম্পতি। ১৫ জুন তার দুই অংশ দক্ষিণখান ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরদিন দক্ষিণখানের একটি খালি প্লট থেকে উদ্ধার করা হয় হেলালের মাথা।

এ ঘটনায় ১৬ জুন হেলালের বড় ভাই মো. হোজায়াফা বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এই মামলার তদন্তে গিয়ে ১৫ জুন হেলালের খণ্ডিত দেহ বস্তায় ভরে নিয়ে রূপমের একটি অটোরিকশায় উঠার ফুটেজ আসে গোয়েন্দাদের হাতে। সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই রূপমের স্ত্রী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান মশিউর রহমান।
তিনি বলেন, রূপম সরকার গত ডিসেম্বরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়ে কিছু দিন কারাগারে ছিলেন বলে তার স্ত্রী মনি জানিয়েছেন।

রূমপের শাশুড়ির অপরাধ কী- সেই প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মশিউর বলেন, “আসামির হাতিয়ে নেওয়া অর্থ তার কাছে পাওয়া যায় এবং আসামিদের পালাতে সহযোগিতা করেছেন তিনি।”

হেলালের ভাই হোজায়াফা জানান, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে দুই বছর ধরে ব্যবসা করে আসছিলেন হেলাল। তার আগে বাংলা লিংকের  সিম বিক্রি করতেন তিনি।

দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে হেলাল ছিলেন তৃতীয়। তার মৃতদেহ গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের নেছারাবাদের দইহাড়ি গ্রামে দাফন করা হয়েছে।

রূপমকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েনে পুলিশ কর্মকর্তা মশিউর।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

কোরআনে হাফেজকে পিটিয়ে হত্যা করল কিশোর গ্যাং, আটক ৬
ডেস্ক রিপোর্ট: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা প্রকাশ্যে পিটিয়ে এক কোরআনে হাফেজকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় মো. ওমর (১৮), নামে আরো একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্যকে আটক করে পুলিশ।

শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়ের ২নং ওয়ার্ডের কেজি রোডে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের নাম শেখ জাহেদ (১৮), সে ওই ওয়ার্ডের মুহরীরটেক এলাকার জয়নাল আবেদীন সারেং বাড়ির মো. রফিক উল্যার ছেলে। নিহত জাহেদ একজন কোরআনে হাফেজ এবং ইলেকট্রিক মিস্ত্রী ছিল।

নিহতের মামা রেজাউল হক সোহাগ জানান, পূর্ব শক্রতার জের ধরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই ওয়ার্ডের কিশোর গ্যাং হৃদয় গ্রুপের সদস্য আমির হোসেন, নূর হোসেন, রাসেদ, হৃদয়, অপুসহ ১৫ থেকে ২০ জন প্রকাশ্যে পিটিয়ে জাহেদকে হত্যা করে। এ ছাড়াও আগে থেকে হামলাকারী এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধান ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতের লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget