Articles by "জাতীয়"
জাতীয়



বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম’সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে উগ্র কর্মীদের হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ,চরমোনাই, আলেম-উলামা ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে উস্কানীমূলক সন্ত্রাসী শ্লোগানের কড়া সমালোচনা করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজত মহাসচিব, হাটহাজারী মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

আজ (৮ নভেম্বর) রবিবার রাতে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন,হেফাজতে ইসলাম দেশের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক ঈমান-আকিদা ভিত্তিক সংগঠন। লক্ষ কোটি মুমিন মুসলমানের প্রাণের সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। হেফাজতকে নিয়ে উস্কানিমূলক সন্ত্রাসী শ্লোগান দিয়ে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। হেফাজতকে নিয়ে কোন রাম বামদের উস্কানি আর আস্ফালন সহ্য করা হবে না।

হেফাজত মহাসচিব আরো বলেন, ক'দিন আগে শাহবাগে বাম সংগঠনসমূহের অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশ শেষে ‘প্রগতিশীল গণসংগঠনসমূহ’ ব্যানারে উদীচী, ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়নসহ কিছু সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি মশাল মিছিল শহীদ মিনারে যাওয়ার পথে ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ'-এর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে  বিদ্বেষ ও উস্কানীমূলক শ্লোগান দিয়েছিল। ওরা মূলত এসব উস্কানিমূলক শ্লোগানের মাধ্যমে দেশে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে চায়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে চায়। ওরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশবিরোধী আধিপত্যবাদি শক্তির হাতে আগ্রাসনের অজুহাত তুলে দিতে চায়। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের কর্তব্য, এসব উগ্রপন্থী সংগঠনের বিরুদ্ধে যথাযথ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। 

আল্লামা আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, হেফাজতে ইসলাম বৃহত্তর অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন। ইসলাম, মুসলমান, দেশ ও জাতীর কল্যাণে সংগঠনটি শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করে যাচ্ছে। হেফাজতকে নিয়ে বাম রামদের আস্ফালনের আড়ালে ইসলাম ও দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র নিহীত বলে মনে করি। কোন আধিপত্যবাদি শক্তির হয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ষড়যন্ত্র দেশবাসী সফল হতে দিবে না। অনতিবিলম্বে এদের আস্ফালন বন্ধ করা না হলে তৌহিদি জনতা ঈমান, ইসলাম ও দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্বাধীনতা রক্ষায় ষড়যন্ত্রকারীদেরকে সমূচি জবাব দিতে বাধ্য হবে। 

হেফাজত মহাসচিব আল্লামা বাবুনগরী  বলেন, পৃথিবীর বুকে ইসলাম একমাত্র শান্তির ধর্ম। হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্ববাসীর জন্য শান্তির বার্তাবাহক হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। হাদীস শরীফে রাসুল (সা.) সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিধান বর্ণনা করেছেন। সংখ্যালঘুদের জান, মাল ও ইজ্জত- আব্রু রক্ষার আদেশ দিয়েছেন। কেবলমাত্র শান্তিরধর্ম ইসলামই সংখ্যালঘুদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং সুখ-সমৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত রয়েছে। মুসলমানরা কখনো হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের উপর হামলা করেনি। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, জাগো হিন্দু পরিষদ এসব উস্কানিমূলক শ্লোগান দিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে আধিপত্যবাদি শক্তির ছত্রছায়ায় হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

হেফাজত মহাসচিব বলেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশের জন্য চরম হুমকি। এই সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ভুল তথ্য প্রকাশ এবং বানোয়াট ও ডাহা মিথ্যা অভিযোগ করে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন করেছিল। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এ উগ্র সংগঠন আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে। দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করছে। সরকারকে এদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।


প্রবচন ডেস্ক: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকে আবারো ঢাকায় লাখো জনতার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ফ্রান্সে রাসূল সা. এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের ঘটনায় পূর্ব ঘোষিত ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকেই রাজধানীর বাইতুল মোকাররমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হেফাজত  কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। ১০ টা নাগাদ নেতৃবৃন্দ আসতে শুরু করেন মঞ্চে। দেখতে দেখতেই বাইতুল মোকাররম, পল্টন ও আশপাশের পুরো এলাকা লোকে লোকারণ হয়ে যায়। 

বেলা ১১ টায় হেফাজতের মঞ্চ থেকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকাগামী হেফাজতকর্মীরা পুলিশকর্তৃক বাধার শিকার হন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই মঞ্চে এসে উপস্থিত হন হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও হেফাজত ঢাকা মহানগরের আমির আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমী।

ঘেরাও কর্মসূচির পূর্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন করার দাবী জানিয়ে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, নবীর সঙ্গে ও কোরআনের সঙ্গে যারা বেয়াদবি করে তাদের মৃত্যুদণ্ডের জন্য আমাদের জাতীয় সংসদে আইন পাশ করতে হবে। এছাড়া সকল মুসলমানকে তিনি ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের আহ্বানও জানান।

সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ফ্রান্স সরকার নবীর সঙ্গে বেয়াদবি করে বিশ্বের ২’শ কোটি মুসলমানের অন্তরে আঘাত করেছে। এর একমাত্র সমাধান বিশ্বের কাছে তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে আর।রামা কাসেমী বলেন, ফ্রান্সের পণ্য বরজন করুন। সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করুন। দূতাবাস বন্ধ করুন। যদি সরকার আমাদের দাবি না মানে তাহলে আমরা আরো কঠিন আন্দোলনে যাবো ইনশাআল্লাহ।

আল্লামা মামুনুল হক উক্ত সমাবেশে বলেন, ফ্রান্সের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন না করলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সেই সাথে মসজিদের শহর ঢাকার বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মূর্তি স্থাপনের বিরোধীতা করে তিনি বলেন, মসজিদের শহরে মোড়ে মোড়ে মূর্তি বসানো হেফাজত কখনো মেনে নেবে না।

বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর হেফজতের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর নেতৃত্বে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে গুলশানের দিকে রওনা হয় হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের হাজার হাজার নেতাকর্মী। মিছিলটি শান্তিনগর মোড়ে পৌঁছালে পূর্ব ঘোষিত ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা প্রদান করে। তবে বাধা পেরিয়ে কিছুদূর অগ্রসরও হয় হেফাজত কর্মীরা এবং সেখানে বক্তব্য রাখেন হেফাজত নেতারা। এখানেই আল্লামা বাবুনগরী ও আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমীর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে সমাপ্তি টানা হয় হেফাজতের ঘেরাও কর্মসূচির।

ঘেরাও কর্মসূচির পূর্বে বাইতুল মোকাররম উত্তর গেটের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা মাহফুজুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, আহমদ আবদুল কাদের, মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আজহারী,  মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা জয়নাল আবেদীন, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা হাসান জামিলসহ হেফাজতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


প্রবচন ডেস্ক :  ফ্রান্সের সরকারী বহুতল ভবনে প্রজেক্টরের মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে ফ্রান্স দুতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ ৩১ অক্টোবর জামিয়া রহমানিয়ায় মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব এর সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে আগামী ২ নভেম্বর সোমবার সকাল ১১ টায় ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি  এবং ঘেরাও পূর্বক বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করবেন, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা ফজলুল করিম, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মুফতী মুনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতী কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, মুফতী আজহার,  মাওলানা জালালুদ্দিন, মাওলানা ফয়সাল, মাওলানা শরীফুল্লাহ প্রমুখ।

বৈঠকে নেতৃবৃন্দ ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সর্বস্তরের তৌহিদী জনতাকে উপস্থিত থেকে ঈমানী দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান। 


প্রবচন ডেস্ক: ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর অবমাননাকর কার্টুন প্রদর্শনের প্রতিবাদে দেশের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আজ (৩০ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামে আন্দরকিল্লায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে। 

বিক্ষোভ সমাবেশে সরকারিভাবে ফ্রান্সের সকল পণ্য আমদানী নিষিদ্ধ ও কুটনৈতিক সম্পর্ক বর্জন আহ্বান জানান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব শায়খুল হাদিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

ফ্রান্স সরকার কর্তৃক মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অবমাননা সহ্য করার মতো নয় উল্লেখ করে হেফাজত মহাসচিব বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ হযরত রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কার্টুন প্রকাশ করে মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে চরম আঘাত হেনেছে। এ জন্য ফ্রান্সকে বিশ্ব মুসলিমের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।


চট্টগ্রাম মহানগর হেফাজতের সভাপতি মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, মাওলানা সরোয়ার কামাল আজিজী, মাওলানা আলী ওসমান, মুফতী হারুন ইজহার, মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মীর ইদরিস, মাওলানা হাফেজ তৈয়ব, মাওলানা কারী ফজলুল করিম জিহাদী, মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, মুফতী হাসান মুরাদাবাদী, মাওলানা জালালউদ্দিন,মাওলানা আনিসুর রহমান, মাওলানা আনোয়ার হোসেন রববানী, মাওলানা ইকবাল খলিল, মাওলানা সায়েম উল্লাহ, মাওলানা কামরুল ইসলাম কাসেমী প্রমূখ।


হেফাজতের আহবানে সাড়া দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও গ্রামগঞ্জে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি সর্বাত্মক সফল করায় হেফাজত নেতৃবৃন্দ, দেশবাসী ও নবীপ্রেমিক তৌহিদি জনতাকে মোবারকবাদ জানিয়ে হেফাজত মহাসচিব আল্লামা বাবুনগরী বলেন, বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। এ দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, ইসলাম ও নবীপ্রেমিক আমি দেশবাসীর প্রতি আশাবাদী, ভবিষ্যতেও হেফাজতের যে কোন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আপনারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবেন।

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, হেফাজতের কর্মসূচিতে দেশের সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এ কথা প্রমাণ করে যে, বিশ্বের যে কোন প্রান্তে আমাদের কলিজার টুকরা নবী হযরত মুহাম্মদ সা.কে নিয়ে কোন কুলাঙ্গার কটুক্তি করলে, অবমাননা করলে পৃথিবীর দেড়শ কোটি মুসলমান তা কখনো মেনে নেবে  না। প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠবে গোটা বিশ্ব।

বিশ্বনবীর ইজ্জত রক্ষায় হেফাজতে ইসলামের ঈমানী আন্দোলন ছিল, আছে, থাকবে উল্লেখ করে আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, বিশ্বনবী সা.এর অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের ঈমানী আন্দোলন চলবেই। রাসূল সা. এর অবমাননার প্রতিবাদে প্রয়োজনে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। 

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ইসলামের শি’আর তথা নিদর্শনকে অবমাননা, রাসুল সা.এর শানে কটুক্তি ও অবমাননাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে বিশ্বের সকল দেশের পার্লামেন্টে বিল পাশ করা উচিত।

অনতিবিলম্বে ফ্রান্স সরকার রাসূল সা. এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন বন্ধ না করলে বিশ্বনবীর ইজ্জত রক্ষায় পৃথিবীর দেড়শ  কোটি নবীপ্রেমিক মুমিন মুসলমান ফ্রান্সের বিরোদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে বলেও হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন হেফাজত মহাসচিব আল্লামা বাবুনগরী।

বাইতুল মোকাররম উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ



প্রবচন ডেস্ক: ধর্ষণ প্রতিরোধে ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতারা। তাঁরা বলেছেন, কেবল কঠোর শাস্তির বিধান করলেই ধর্ষণ রোধ হবে না, ধর্ষণের উৎসমুখগুলোও বন্ধ করতে হবে। 

আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর সমমনা ছয়টি ইসলামি দল বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ থেকে মিছিল নিয়ে বিজয়নগরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। ‘সারা দেশে ধর্ষণ, যিনা ব্যভিচারের’ বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। 

সমাবেশে ধর্ষণ ও যিনা-ব্যভিচার প্রতিরোধে সমমনা ইসলামি দলগুলোর পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জেনা, ব্যভিচার ও ধর্ষণ প্রতিরোধে জনসমক্ষে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মাদকদ্রব্যের অবাধ প্রাপ্তি ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। নারীদের অশ্লীলভাবে উপস্থাপনা ও পণ্য হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা। আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ, বিচারকাজকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা এবং নারীর মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণে কোরআন-হাদিসের শিক্ষা জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা।

এদিকে দেশব্যাপী ক্রমবর্ধমান যিনা-ব্যভিচার, গণধর্ষণ, নারী নির্যাতন, আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য-মূল্যের ঊর্ধগতির প্রতিবাদে  রাজধানীর বাইতুল মোকাররমসহ সারাদেশে বিক্ষোভ ও গণমিছিল কর্মসূচি পালন করেছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। 

 


প্রবচন ডেস্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ঢাকাকে দিল্লির চোখ দেখে না। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার সকালে সফররত মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ষ্টিফেন বিগানের সঙ্গে আলোচনার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন। তিনি এদিন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ষ্টিফেন বিগানের সঙ্গে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে বিবেচনায় নেয় কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দিল্লির চোখ দিয়ে বাংলাদেশকে  দেখে, এটি আমাদের মিডিয়া বলে। আসলে তারা দিল্লির চোখে দেখে না।

আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। সবাই জানে আমাদের মূল্যবোধ ও নীতি আছে।

আমাদের অবস্থান সব সময় স্বাধীন। আমরা দেশের স্বার্থের জন্য যা যা দরকার, তাই করব।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে জন্য তারা আমাদের স্বাধীনভাবে দেখছে, দিল্লির চেহারা দিয়ে আমাদের দেখে না। শুধু দিল্লির চেহারা দিয়ে দেখলে এখানে আসতেন না। এখানে তারা এসেছেন আমাদের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য। বাংলাদেশের সঙ্গে তারা বন্ধুত্বটা আরও গভীর করতে চান।’

প্রবচন ডেস্ক: আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শানে এবং ইসলাম নিয়ে কটূক্তির বিরুদ্ধে করা মামলায় পিরোজপুরের এক দর্জির মাত্র সাত বছর কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল।

সুজন দে নামের ওই দর্জিকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাভোগের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আশ-শামস জগলুল হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার আগে সুজন দে ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ট্রাইব্যুনালের পেশকার শামিম আল মামুন এ তথ্য জানান।

রায়ের বিবরণে জানা যায়, আসামি সুজন দে’র বাড়ি পিরোজপুর জেলায়। তিনি দর্জি দোকানের কর্মচারী। ২০১৭ সালের ২০ মে তিনি ফেসবুক আইডিতে হজরত মোহাম্মদ (সা.) ও ইসলাম ধর্মকে নিয়ে কটূক্তি করে স্ট্যাটাস দেন, যা ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানে।

ওই ঘটনায় রাঙামাটির লংগদু থানার এসআই সালাউদ্দিন সেলিম মামলাটি দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩০ অগাস্ট সুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর ২৬ অক্টোবর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল।

মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন সাতজন।

প্রবচন ডেস্ক: ‘আল্লামা আহমদ শফী রহ. নাস্তিক-মুরতাদ ও কাদিয়ানী বিরোধী আন্দোলনে সিপাহসালারের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ছিলেন বিপ্লবী চেতনার নায়ক। নাস্তিক্যবাদ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হেফাজতের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে খোদাদ্রোহী হিন্দুত্ববাদী ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেছেন। ইতিহাসে তিনি বিপ্লবী চেতনা সৃষ্টি করে গেছেন।’

আজ ২৬ (সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম চত্বরে ‘আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর জীবনী আলোচনা ও দোয়া মাহফিল’ এ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় বক্তরা বলেন, তালীম-তারবিয়াত এর সাথে মানুষের ইহকালীন জীবন যাতে শিরক বিদআত ও কুসংস্কার মুক্ত হয় তার জন্য আজীবন চেষ্টা চালিয়ে গেছেন তিনি। ওয়াজ নসিহতের মাধ্যমে সাধারণ ধর্মপ্রাণ জনসাধারণকে অন্যায়-অনাচার, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দিয়েছেন। আল্লামা শাহ আহমদ শফি রহ. এর মত একজন মহান ব্যক্তির ইন্তেকালে জাতি একজন নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবক হারাল।

আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশ এর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা হাফেজ মোঃ নুরুল ইসলাম।

সভাপতির ভাষণে মাওলানা নুরুল ইসলাম বলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জীবনের শেষ ইচ্ছা ছিল, ভন্ড নবী ভন্ড নবী ইসলাম মির্জা গোলাম কাদীয়ানির অনুসারীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বারবার এই বিষয়ে অনুরোধ করেছেন।

মাওলানা নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হোক। অন্যথায় দেশের সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতাকে সাথে নিয়ে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করা হবে।

দোয়া মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব, এডভোকেট মিসবাহুর রহমান চৌধুরি, মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা জহুরুল ইসলাম, মাওলানা খোরশেদ আলম কাসেমী, মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানি, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা মোঃ ইউনুছ ঢালী, মাওলানা আশেক উল্লাহ, মাওলানা রাশেদ বিন নূর, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী প্রমূখ।


প্রবচন ডেস্ক: বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় প্রভাবশালী আলেম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী রহ. এর জীবনের শেষ দুইদিনের ঘটনাবলী ও হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে ‘বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি’ করে ৮ দফা প্রস্তাবনা আকারে ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষ একাধিক আলেম ও আল্লামা শফী রহ. এর খলিফাবৃন্দরা।

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার)  বিকাল ০৩ টায় বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সদ্যপ্রয়াত হেফাজত আমির আল্লামা আহমদ শফীর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে এই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়।

ঘোষণাপত্রে বিচারবিভাগীয় তদন্ত ও আল্লামা শফী রহ. শেষ জীবনে মৃত্যুকালে কিছু ছাত্রদের হাতে নিজ কক্ষ ভাংচুর হতে দেখা, জীবন দিয়ে যে মাদ্রাসা গড়েছেন সেখান থেকে তাকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য করাসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ের প্রতিবাদ করা হয়েছে।


গণমাধ্যমে প্রেরিত ৮ দফা ঘোষণাপত্র নিম্নরুপ :

সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ভক্ত ও খলিফাদের পক্ষ থেকে ঘোষিত প্রস্তাবনা।

১. আল্লামা শাহ আহমদ শফী বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়েই সমাদৃত ছিলেন। কিন্তু তার সঙ্গে শেষ সময়ে যে আচরণ করা হয়েছে তা ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক। সারা জীবনের তালিম দেয়ার পরিণতিতে মৃত্যুকালে তিনি কিছু ছাত্রদের হাতে কক্ষ ভাংচুর দেখে গেলেন। জীবন দিয়ে যে মাদ্রাসা গড়েছেন সেখান থেকে তাকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা এ পুরো বিষয়টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

২. জীবনের শেষ দুই দিন আল্লামা আহমদ শফী কোন অবস্থার মধ্যদিয়ে অতিবাহিত করেছেন, সেটি এখন বিভিন্নভাবে আমরা প্রকাশ হতে দেখছি। অত্যন্ত লজ্জার কথা, হাটহাজারী মাদ্রাসার মতো স্থানে শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফীর কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। যেহেতু আল্লামা শফীর রুমসহ হাটহাজারী মাদ্রাসার বিভিন্ন শিক্ষকদের রুমে তাণ্ডবের বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হয়েছে, তাই আমরা পুরো বিষয়টির বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।

৩. পারিবারিক ও বিভিন্ন সূত্রে আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর বিষয় নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, হযরতের কক্ষে ভাঙচুরের সময় তাকেও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে এবং এর মধ্যে বিভিন্ন সময় তিনি অক্সিজেন নিতে পারেন নি। এর সঙ্গে কারা জড়িত তাদের অবিলম্বে খুঁজে বের করে প্রতিটি অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ হযরতের পরিবার ও ভক্তরা মনে করেন, যে পরিস্থিতে হযরতের ইন্তেকাল হয়েছে এটি স্বাভাবিক ছিলো না।

মেডিসিন নিতে না দেয়া, অক্সিজেন খুলে ফেলা , হাসপাতাল নিতে বাধা প্রদান, মাদ্রাসার গেইটে দুই ঘন্টা এম্বুলেন্স আটকে রাখা- এসব বিষয় সে বিষয়টিই প্রমাণ করে।

৪. আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানের ছাত্র বা শিক্ষকরা প্রতিবাদ করতে পারেন। কিন্তু হাটহাজারী মাদ্রাসার সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভে আমরা গভীরভাবে লক্ষ্য করেছি, সেখানে অভ্যন্তরীণ বিষয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়েও দাবি তোলা হয়েছে। তাই এটির সঙ্গে বহিরাগত কোনো উস্কানি বা পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি রাখে।

৫. উদ্বেগের বিষয় হলো- একটি মহল থেকে হাটহাজারীতে কোনো ভাঙচুর হয়নি বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, এছাড়া বিভিন্নভাবে ভাঙচুরের আলামত বিনষ্ট করা হয়েছে। তাই সরকারিভাবে তদন্ত কমিটি করার আগে আলেমদের উদ্যোগে নিজস্বভাবে তা তদন্ত ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে হবে। অন্যথায় ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

৬. আল্লামা শফীর পরিবার, খাদেম ও ভক্তদের এখনই পূর্ণ নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা জানতে পেরেছি, তাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে তাদের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

৭. আমরা খুবই উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, হাটহাজারী মাদ্রাসার এ ঘটনার পর কিছু মানুষ সারাদেশে একটি উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করছেন। ‘হাটহাজারী স্টাইলে সারাদেশের মাদ্রাসাগুলোতে তারা বিপ্লবের আহ্বানও জানিয়েছেন। এ ছাড়া দেশবরেণ্য আলেমদের ব্যাপারে সরাসরি বক্তৃতাসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্নভাবে উস্কানি দেয়া হচ্ছে। এ ধরণের হিংসাত্মক মনোভাব জাতির জন্য ক্ষতিকর। তাই এগুলো পরিহার করে আমরা সবাইকে ইসলামের শাশ্বত উদারতা ও শান্তির পথে আহ্বান জানাই।

৮. আজকের এ সভা খুব শিগগিরই আল হাইয়াতুল উলয়ার উদ্যোগে আল্লামা আহমদ শফীর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আন্তর্জাতিক একটি সম্মেলনের আহ্বান জানাচ্ছে। এ ছাড়া বাংলা, আরবি ও ইংরেজিতে হযরতের জীবনী ও স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের অনুরোধ করছে।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন – মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মুফতি নুরুল আমিন, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মাওলানা ওয়াহিদুজ্জামান, মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম,  মাওলানা মুখলেছুর রহমান কাসেমী, মাওলানা মাসউদুর রহমান বিক্রমপুরী, মাওলানা রেজাউল করিম, মাওলানা আতাউর রহমান আতিকী প্রমূখ।


প্রবচন ডেস্ক: পদ্মা সেতু হয়ে রেল সংযোগ বরিশাল, কুয়াকাটা, পায়রাবন্দর পর্যন্ত নেওয়া হবে। আর আগামী বছর ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসেই যান চলাচলের জন্য পদ্মা সেতু খুলে দেওয়া হবে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদারীপুরের শিবচরের পাঁচ্চরে অ্যামিটি ক্যাফে রেস্তরায় পদ্মা সেতুর রেল লাইনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পুনর্বাসন সুবিধার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত ২৮ পরিবারের মাঝে ১ কোটি ১২ লাখ টাকার পুনর্বাসন সুবিধার চেক প্রদান করা হয়। এর আগে মন্ত্রী মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতুর রেল সংযোগের কাজ পরিদর্শন করেন। 

প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব প্রকৌশলী গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান, সিএসসির প্রধান সমন্বয়ক মেজর জেনারেল এফ এম জাহিদ হোসেন, র্ডপ চেয়ারম্যান মো. আজহার আলী তালুকদার, মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, পুলিশ সুপার মাহবুব হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রবচন ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকাভুক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র জালায়াতির ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি ‘শিগগির’ প্রতিবেদন দেবে বলে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন।

ওই প্রতিবেদন হাতে পাওয়া পর জালিয়াত চক্রে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ‘দুর্নীতি ও এনআইডি জালিয়াতি রোধে নেওয়া পদক্ষেপ’ তুলে ধরতে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সাইদুল ইসলাম।

প্রায় ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক তথ্যসহ আলাদা রোহিঙ্গা ডেটাবেজ স্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যেও জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে গত বছর ঘটনা তদন্তে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে অনুসন্ধান টিম পাঠানো হয়। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অধিকতর তদন্তে একটি কারিগরি এবং একটি প্রশাসনিক কমিটি গঠন করা হয়।

এনআইডি উইং ডিজি সাইদুল বলেন, “গেল শুক্র, শনি, রবি ও সোমবার তদন্ত কমিটি সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ডেটা এন্ট্রির কাজের ল্যাপটপ খোয়া যাওয়ার পর সেগুলো কে কে ব্যবহার করেছে, কীভাবে তা ব্যবহৃত হয়েছে, ঘরে-বাইরে কারা সম্পৃক্ত ছিল এ জালিয়াতিতে- প্রতিটি বিষয় আমরা এনালাইসি করছি। এখন তদন্ত কমিটি দ্রুততম সময়ে প্রতিবেদন দেবে।”

প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “অনৈতিক কাজ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশন বা এনআইডি উইংয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হোক এটা আমরা কিছুতেই চাই না। জালিয়াতিতে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”


রোহিঙ্গাদের এনআইডি জালিয়াতির তদন্তে ৩ কমিটি  

তদন্ত কমিটিতে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের প্রতিনিধি রয়েছে। অপরদিকে অধিকতর তদন্তের সুবিধার্থে একজন যুগ্মসচিবের নেতৃত্বে প্রশাসনিক কমিটি গঠন করা হয়।

এনআইডি জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত দুই ডেটা এন্ট্রিঅপারেটেরকে প্রকল্প থেকে চাকরিচ্যুতি ছাড়াও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান এনআইডি উইং মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগকৃত এসব লোকবল অনিয়মে জড়িত হলে চাকরিচ্যুত করা হয়।

“কিন্তু এরপরও অনেকে কৌশলে জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়ে। এজন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো জালিয়াতকারীকেই ছাড় দেব না।”

ঢাকায় এনআইডি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত আইডিইএ প্রকল্পের আউটসোর্সিং ডেটা এন্ট্রি অপারেটর দুইজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ৮ বছরে সর্বমোট ৩৯ জনকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।


লাখো দ্বৈত ভোটারের বিষয়ে তৎপরতা

ভোটার তালিকা হালনাগাদে প্রায় দুই লাখের মতো দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান এনআইডি উইং মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম ।

তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে দুই লাখ সাত হাজার দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করেছি। যারা দ্বৈত হয়েছে আমরা তাদের নোটিফাই করছি। এসএমএসের মাধ্যমেও তাদের জানিয়ে দিচ্ছি। তবে সবার মোবাইল নম্বর না থাকায় উপজেলা নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে তাদের অবহিত করার ব্যবস্থা করছি।”

দ্বৈত ভোটার পাওয়া গেলে প্রাথমিকভাবে বিধি মোতাবক প্রথমটি রেখে পরবর্তী ভোটার তথ্য ব্লক করে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তথ্য গোপন করে দ্বৈত ভোটার হওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ইতোমধ্যে ৯৩৭ জনের এনআইডি লক করাসহ ‌আইন অনুসারে নির্বাচন কমিশন ফৌজদারি মামলা দায়ের করার নির্দেশনা দিয়েছে। এ কাজে সম্পৃক্ততা ও  অবহেলার বিপরীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

“দ্বৈত ভোটারের সবার বিষয়গুলো আমরা অবজার্ভ করছি। আমরা দেখছি উদ্দেশ্য কী ছিল। তবে আমরা সবার বিরুদ্ধে মামলা করিনি, করবও না। যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব। তবে কেউ যদি সে বিষয়ে কমিশনে আবেদন করে, সেটি আমরা যাচাই-বাছাই করে কারণ জানব, যে কোন উদ্দেশ্যে তারা এটি করেছে। সেটি আমরা কমিশনকে অবহিত করে ব্যবস্থা নেব,” বলেন এনআইডি উইং মহাপরিচালক।

ইতোমধ্যে দেশব্যাপী এনআইডি সেবা কার্যক্রম তদারকিতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী ১০টি টিমের মাধ্যমে সাঁড়াশি ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হবে।

প্রবচন ডেস্ক: মধ্যরাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে আবারো হেফাজতে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার রাত ১১.৪৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিছনের গেট থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নুরকে তাদের হেফাজতে নিয়ে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

এসময় গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকা মেডিকেল-এর পকেট গেট দিয়ে গাড়িতে তুলে নুরকে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নুরের সমর্থকরা সেই গাড়িতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে পুলিশ নুরকে নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করে।

এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে মিছিল বের করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ভবন এলাকায় গেলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এসময় পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে নুরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের কিছুক্ষণ পরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী লালবাগ থানায় এ মামলাটি করেন। মামলায় মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ধর্ষণে সহযোগী হিসেবে নুরুল হক নুরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় ঢাবি ছাত্রীর করা ধর্ষণের মামলার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। এদিকে ছাত্র পরিষদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় আহত পাঁচজন পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা মামলার এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে। ধর্ষণের স্থান হিসেবে লালবাগ থানার নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ রোডে হাসান আল মামুনের বাসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নুর ও মামুন ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক (২) মো. সাইফুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মো. নাজমুল হুদা এবং ঢাবি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হিল বাকি।

প্রবচন ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে আটকের পর মুক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। আটকের পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলা হলেও  ঢাকা মেডিকেলে নুর ও সোহরাব হোসেনকে ডিবি প্রহরায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সোমবার রাতে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ থেকে নূরসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশের কাজে বাধা দেয়া এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে শাহবাগ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর এলেও বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে রমনা জোনের এডিসি হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, তাকে ছেড়ে দেয়া হবে কি না সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান জানান, নুরুল হক নুরসহ আমাদের সহযোদ্ধারা এখনও পুলিশের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন কিনা, সেই বিষয়ে আমরা নিশ্চিত করে কিছু জানি না।

এর আগে, রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া।

তিনি জানান, নুরসহ দুইজনকে ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন। আরেক জনের নাম সোহরাব হোসেন। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।


প্রবচন ডেস্ক: ধর্ষণের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সন্ধ্যায় ‘হয়রানিমূলক মামলা’র প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিক্ষোভ মিছিল থেকে ভিপি নুর আটক বিষয়টি গণমাধ্যমকে শ্চিত করেছেন ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি বিন ইয়ামীন মোল্লা।

তিনি বলেন, ভিপি নুরসহ আমাদের কয়েকজন সহযোদ্ধার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে আমরা বিক্ষোভ মিছিল করছিলাম।

বিক্ষোভ মিছিলের শেষের দিকে শাহবাগ থেকে পুলিশ ভিপি নুরকে আটক করে। এসময় পুলিশের অতর্কিত আক্রমণে নুরকে বাঁচাতে গিয়ে আমাদের অনেকেই আহত হয়েছেন। আমি নিজেও আহত হয়েছি।

এর আগে রোববার নুরসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনের ৬ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান আল মামুনকে। ধর্ষণে সহযোগী হিসাবে ভিপি নুরকে করা হয়েছে ৩ নম্বর আসামি।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ধর্ষণ এবং এতে সহযোগিতার অভিযোগে এনে লালবাগ থানায় তাদের নামে এ মামলা করা হয়।

সোমবার গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আশরাফ উদ্দিন।

মামলার বিষয়ে ওসি বলেন, অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির এক ছাত্রী বাদী হয়ে লালবাগ থানায় মামলা করেন।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে একই বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান আল মামুন ধর্ষণ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, মামলার প্রধান আসামি হাসান আল মামুন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক। তার সঙ্গে আরও পাঁচজনকে সহযোগী হিসেবে আসামি করা হয়েছে। যাদের মধ্যে নুরুল হক নুর রয়েছেন। মামলায় ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে লালবাগের নবাবগঞ্জ এলাকা।

আসামিদের তালিকায় সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরের সঙ্গে একই সংগঠনে যুক্ত নাজমুল হাসান সোহাগ, সাইফুল ইসলাম, নাজমুল হুদা ও আবদুল্লাহ হিল বাকির নাম রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসান আল মামুন বলেন, মামলার বিষয়ে কিছুই জানি না। এমন কিছুই হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে কথা বলব।

তবে মামলার খবর গণমাধ্যমে আসার পর পরই ফেসবুক লাইভে আসেন ডাকসু ভিপি নুর। মামলার বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না এবং বাদী সেই নারীকেও তিনি চেনেন না বলে দাবি করেন ভিপি নুর। মামলাটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করছেন তিনি।

লাইভ ভিডিওতে ভিপি নুর বলেন, লালবাগ থানায় না কোথায় মামলা হয়েছে সেটি আমি জানি না। এমনকি কোন মেয়ে মামলাটি করেছে তাকেও চিনি না। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা তো নতুন কিছু নয়। এসব মামলা-হামলা ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ। আমার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা হয়েছে। চুরির মামলা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলাও হয়েছে।

 
প্রবচন ডেস্ক: মালয়েশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা আনোয়ার ইবরাহীম হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। আজ সোমবার তার ফেসবুক পাতায় আল্লামা আহমদ শফীর জন্যে শোক প্রকাশ করে তার মাগফিরাত কামনা করেন।


আনোয়ার  ইবরাহীম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আল্লামা আহমদ শফী অনেক বড় একজন আলেম হওয়ার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের কওমী মাদরাসা বোর্ডের প্রধান। তার মৃত্যু গোটা মুসলিম জাতির জন্যে অনেক বড় ক্ষতি। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিন এবং জান্নাতের উচুঁ মাকাম দান করুন।


হেফাজত ইসলামের আমীর বাংলাদেশ কওমী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে। আজ শনিবার জোহরের নামাজের পর বেলা দু’টায় আল-জামিয়াতুল আহালিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।


হেফাজত ইসলামের আমীর বাংলাদেশ কওমী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে। আজ শনিবার জোহরের নামাজের পর বেলা দু’টায় আল-জামিয়াতুল আহালিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মাদ্রাসার প্রান্তর ছাড়িয়ে জানাজার সারি দীর্ঘ হয় চট্টগ্রাম- হাটহাজারী খাগড়াছড়ি- রাঙ্গামাটি মহাসড়কের প্রায় চার কিলোমিটার উত্তর দক্ষিণে। এতে প্রায় আট লক্ষের অধিক মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। হাটহাজারী মাদ্রাসার ময়দান, ঈদগা ময়দান,বাজার সড়ক, বাস স্টেশন জিরো পয়েন্ট মোড়, কলেজ গেইট, ফায়ার সার্ভিস মোড়, সরকারি মেডিকেল গেটসহ খাগড়াছড়ি রাঙ্গামাটি মহাসড়কের ওপর, বিভিন্ন বিল্ডিং এর ছাদে দাঁড়িয়ে নামাজে জানাজায় মানুষ শরিক হন।

 

দেশ-বিদেশের ও জেলার শীর্ষ আলেমরা ছাড়াও মাদ্রাসার ছাত্র এবং সাধারণ মানুষ এতে যোগ দেন। জানাজায় ইমামতি করেন আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ। অন্যদের মধ্যে যোগ দেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের এমপি সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি।


জানাজাকে ঘিরে পুরো হাটহাজারীতে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যা ব, বিজিবি মোতায়েন করা হয়। মাঠে ছিলেন সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।


জানাযার শেষে লাখো ভক্তবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধায় হাটহাজারী মাদ্রাসার ভেতরে উত্তর পাশে বায়তুল আতিক জামে মসজিদ সংলগ্ন ‘মাকবারায়ে জামেয়া’ নামক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী।


উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার আজগর আলী হসপিটালে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের সময় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দেশের শীর্ষ কওমী আলেম আল্লামা আহমদ শফীর শরীরে বাসা বেঁধেছিলো নানা রোগ। ১০৫ বছর বয়সী এ প্রবীণ আলেম ডায়াবেটিকস, উচ্চ রক্তচাপসহ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।


ডেস্ক:  হেফাজতে ইসলামের আমির শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর লাশবাহী গাড়ি চট্টগ্রাম-হাটহাজারী মাদ্রাসার উদ্দেশ্য রওনা হয়েছে।

১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ৪ টা ১৫ মিনিটে তাঁর মৃতদেহ বহনকৃত গাড়িটি চট্টগ্রাম-হাটহাজারীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়।


এ সময় ভক্ত-অনুরক্তরা অশ্রুসজল চোখে শেষ বিদায় জানান উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই আলেমে দ্বীনকে।


পূর্ব ওসিয়ত অনুযায়ী চট্টগামের দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজার‌ী মাদরাসায় অবস্থিত মাকবারায়ে জামেয়ায় তাঁকে দাফন করা হবে।

এর আগে শনিবার বাদ জোহর হাটহাজারী মাদরাসা প্রাঙ্গণে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.-এর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার এ সিদ্ধান্ত পরিবার ও আলেমদের সমন্বয়ে নেয়া হয়েছে।


এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। এরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।


চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা আল্লামা শফীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে শুক্রবার সন্ধ্যার আগে ঢাকায় এনে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রায় শতবর্ষী আল্লামা আহমদ শফী দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

হাবীব আনওয়ার: আমীরে হেফাজত, শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ২০মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন।

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসাসূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


জানা যায় গতকাল ১৭ সেপ্টেম্বর আহমদ শফীকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে আজ বিকাল ৪ টায় তাঁকে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬ টা ২০ মিনিটে সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন।

বিশেষ প্রতিবেদক: নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে আনাস মাদানীর বহিষ্কারসহ পাঁচদফা দাবী আদায়ে গতকাল ১৬  সেপ্টেম্বর বুধবার জোহরের পর থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্রবৃন্দ।

আন্দোলনরত ছাত্রদের পক্ষ থেকে প্রচার করা লিফলেটে উল্লেখ থাকা দাবীসমূহ পর্যালোচনায় দেখা গেছে সেগুলো ন্যায্য ও যৌক্তিক। বিশেষ কোন ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর উস্কানী কিংবা প্ররোচনায় নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে জুলুম ও অন্যায় অবিচারের শিকার হওয়া প্রতিবাদী ছাত্রজনতা নিজেরাই নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে উম্মুল মাদারিস হাটহাজারী মাদরাসার সোনালী ইতিহাস ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে এবং প্রাপ্য অধিকার ফিরে পেতে মূলত এ আন্দোলন করছে।

প্রতিবাদী ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে বাধাগ্রস্ত করতে কিছু সংবাদমাধ্যম এ আন্দোলনের সাথে ব্যক্তি বিশেষকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বলা হয়, তারা যৌক্তিক এই ছাত্র আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই ব্যক্তি বিশেষের উস্কানিতে এই আন্দোলন হচ্ছে বলে ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় অপপ্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

আল্লামা আহমদ শফী বা আল্লামা বাবুনগরীর মধ্যকার দ্বন্দ্বের জের ধরে এ আন্দোলন হচ্ছে বলে যেই সংবাদ মিডিয়ায় করা হচ্ছে তা নির্জলা মিথ্যাচার ও ভিত্তিহিন দাবী করা হয়েছে। 

জানা যায়, এ আন্দোলনের সাথে আল্লামা বাবুনগরী বা তাঁর সমর্থকদের বিন্দুমাত্রও যোগসূত্র নেই। এমনকি আল্লামা বাবুনগরী এ আন্দোলনের আগে-পিছে কিছুই জানেন না। আন্দোলন শুরুর পর থেকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আল্লামা বাবুনগরী নিজ রুমে তালাবদ্ধ ছিলেন। এমনকি তাঁর মোবাইলসহ খাদেম ইন'আমুল হাসান ফারুকীর মোবাইলও জব্দ করে তাদেরকে তালাবন্ধ রাখা হয়েছিল। গতকাল ও আজকে দুপুরের খাবার তিনি সন্ধ্যায় খেয়েছেন বলে সূত্র জানায়।

ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনের কোন দায় বাবুনগরীর উপর  চাপানোর চেষ্টা হলে দেশবাসী তা মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে আল্লামা বাবুনগরীর সমর্থকরা। তারা বলছেন, যেসব মিডিয়ায় আল্লামা বাবুনগরী ও আল্লামা আহমদ শফীর মধ্যকার দ্বন্দ্বের মিথ্যা বিষয়টিকে জড়িয়ে মিথ্যাচারপূর্ণ রিপোর্ট করা হয়েছে আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সুস্পষ্ট ভাষায় বলছি, এ আন্দোলনের সাথে আল্লামা বাবুনগরীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক বা যোগসূত্র নেই। শান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই ব্যক্তি বিশেষের উপর মিথ্যা অভিযোগ তুলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেিএকটি মহল।

এ ব্যাপারে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহবান জানানো হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিগত বিএনপি সরকার ‘দুর্নীতির বিষবৃক্ষ রোপণ’ করে গেছে এবং বাংলাদেশ এখন তার ফল ভোগ করছে।


তিনি বলেন, ‘বিএনপির কাছে ক্ষমতা হলো দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা কামানোর উপায় এবং দেশ এখন তাদের পাঁচ বছরের দু:শাসন কালে রোপন করা বিষবৃক্ষের মূল্য দিচ্ছে।’


ভার্চুয়াল আলোচনায় সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার একের পর এক দুর্নীতি এবং এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করছে।


২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বর্বর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার জন্য বিএনপি জামায়াত জোটকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, হত্যাকান্ড বিএনপির অভ্যাস।

তিনি বলেন, ‘(সত্যিকারেই) হত্যাকান্ড বিএনপি’র অভ্যাস, তারা দেশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না।’


২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীতে একটি সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশে ভয়াবহ বোমা হামলার ১৬ তম বার্ষিকী পালন উপলক্ষে আজ সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করে।


প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনায় অংশ নেন।


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।


দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা দলীয় কার্যালয়ে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।


অনুষ্ঠানের শুরুতে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


২১ আগস্টের হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনীসহ ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫০০ বেশি লোক আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকেই সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছেন।


সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার অশেষ রহমতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতারা কোনরকমে প্রাণে রক্ষা পান।


সূত্র : বাসস

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget