ঈদের ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ...
ডেস্ক: শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ করেই দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অভিযোগ, দেশে লকডাউন চলায় পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত বাণিজ্য খুলে দিলে কার্যত বিপদের মুখে পড়বে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ। দুই দেশেই এখন ছড়িয়ে আছে করোনাভাইরাস।

তাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লাকে গতকাল শুক্রবার এক চিঠিতে জানিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পথে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করতে দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি লিখেছেন, করোনা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক রয়েছে। পণ্যবাহী গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশের পর পণ্য খালাস করে ফিরে আসার অনুমতি দিলে সীমান্তের নাগরিকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। কারণ, করোনার প্রকোপ থেকে মুক্ত নয় প্রতিবেশী বাংলাদেশ। দেশের নাগরিকদের স্বার্থেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারতে এখন তৃতীয় পর্যায়ের লকডাউন চলছে দেশব্যাপী। এই লকডাউন শেষ হওয়ার কথা ১৭ মে। কিন্তু এই লকডাউনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে গত ৩০ এপ্রিল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত পথে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবাণিজ্য শুরু হয়। তবে তা বন্ধ হয়ে যায় তিন দিনের মাথায় গত রোববার।

এতে ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরপরেই গত মঙ্গলবার অবিলম্বে সীমান্ত বাণিজ্য শুরু করার নির্দেশ দেয়। ওই দিন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিবকে লেখা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লার এক চিঠিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সরকার গত ২৪ এপ্রিল জানিয়েছিল, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান সীমান্ত দিয়ে জরুরি পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে ছাড় দিতে হবে এবং এ-সংক্রান্ত নির্দেশ রূপায়ণে একটি রিপোর্টও পাঠাতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো রিপোর্ট দেয়নি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। চিঠিতে আরও বলা হয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানতে পেরেছে, পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে শুরু করা হয়নি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। ফলে অসংখ্য ট্রাক জরুরি পণ্য নিয়ে আটকে পড়েছে সীমান্তে। বহু ট্রাকচালক ফিরতে পারছেন না। তাঁরা অনেকেই আটকে আছেন সীমান্তে।

স্বরাষ্ট্রসচিব তাঁর চিঠিতে আরও বলেছেন, ১ মে লকডাউন বিধিসংক্রান্ত এক নির্দেশেও জানানো হয়েছিল, কোনো রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিজেদের এলাকার সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পণ্য চলাচল বা স্থলবাণিজ্য বন্ধ করতে পারবে না। বিষয়টি উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজ্যের মুখ্য সচিবকে লেখেন, এক তরফাভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্ত পথে জরুরি পণ্য চলাচল বন্ধ রেখেছে। এটা যে দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আইনি বাধ্যবাধকতার ওপর বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে, তা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব লেখেন, রাজ্য সরকারের এহেন পদক্ষেপ দেশের বিপর্যয় মোকাবিলা আইন ও সংবিধানে দেওয়া অধিকার অমান্য করার শামিল। স্বরাষ্ট্রসচিব এরপর মুখ্য সচিবকে অনুরোধ জানান, সীমান্ত বাণিজ্যে পণ্য চলাচলে ছাড় দিতে।

এরপরই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লাকে গতকাল জানিয়ে দেন, এই মুহূর্তে সীমান্ত বাণিজ্য শুরু করা সম্ভব নয় করোনার কারণে। যদিও গত ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তপথে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলবাণিজ্য শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত রোববার ৩ মে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভ ও অবরোধের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের সঙ্গে এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য।

-পিএ