Articles by "মোটিভেশন"

 


কাজী হামদুল্লাহ:

 (তরুণদেরকে বিশেষভাবে বিষয়টি চিন্তা করার আহ্বান থাকবে)

এই বিচ্ছিন্ন সমাজে খুব বেশি কিছু আশা করাটা নিতান্তই বোকামি। তাই অন্যের কাছে আশা করার চেয়ে বরং নিজের কাছেই কিছু চাওয়া বা চাহিদাই হতে পারে সবচে বড় সচেতনতা।

বিশেষ করে আজকে যারা তরুণ, তারা বিষয়টি নিয়ে ভাবতে পারেন। একটা চরম পর্যায়ের সত্য কথা হলো, আপনি এখন কাউকেই একান্ত সত্যের পক্ষে পাবেন না। এটাই বাস্তবতা, এটাই বাস্তবতা এবং এটাই বাস্তবতা।

আপনি মানেন কিংবা না মানেন তাতে আমার কিছু আসে যায় না। যেখানেই একটা দল বা গ্রুপ কিংবা গোষ্ঠী আছে; আরো সহজ করে বলতে গেলে যেখানেই একাধিক লোকের প্রচেষ্টা রয়েছে, সেখানেই কিছু না কিছু মিথ্যা আছে। সেটা আপনি দেশ বা রাষ্ট্রের একদম এলিট শ্রেণী থেকে একদম নিম্ন শ্রেণী বলুন কিংবা একদম পাক্কা বেদীন শ্রেণী থেকে নিয়ে সর্বোচ্চ উলামা মহল বলূন, সবখানেই। এটা আপনার মানতে হয়তো কষ্ট হচ্ছে। আপনি হয়তো মনে খূঁজছেন ওমুকও কী তাহলে মিথ্যা?

জি হ্যাঁ, তিনিও মিথ্যা। পুরোপুরি না হলেও কিছূ না কিছু মিথ্যা।

এখন আমরা চরমতম একটা কঠিন সময়ে অবস্থান করছি। এমন কঠিন সময়ে আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে- সবই যদি মিথ্যা হয়, সবই যদি স্বার্থবাদিতা হয় তাহলে সত্য আসলে কে? সত্যটা ঠিক কোথায়?

একটু কঠিন হলেও অথবা একটু ভিন্নরকম শোনালেও এই কঠিনতম সময়ে সবচে বড় সত্য হলো, আমরা নিজের সুস্থ বিবেক দিয়ে সত্যকে যাচাই করছি না। এটাই মূলত সত্য। এখানেই লুকিয়ে আছে আসল সত্য।

অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও বলতে বাধ্য যে, আমরা ইদানীং ধর্ম ও রাষ্ট্রীয় সেন্টিমেন্টগুলোতে ঘরের লোকের মাধ্যমেই বেশি হেনস্থা হচ্ছি, প্রতারণার শিকার হচ্ছি। রাষ্ট্রীয় কোন একটা ইস্যুতে আমরা একটুতেই ঝাঁপিয়ে পড়ি ময়দানে। বিচার করি না, যার ডাকে নামছি, কথা বলছি, মার খাচ্ছি কিংবা মরে যাচ্ছি তার আসলে উদ্দেশ্য কী।

কাঁদতে কাঁদতে বলতে ইচ্ছে করছে- ধর্মীয় ইস্যুতে এই প্রতারণাটায় আমরা একটু বেশিই ধরা খাচ্ছি। সামনে দেখি একজন ইয়া বড় আল্লামা দাঁড়িয়েছেন, ধর্মীয় কোন বিষয়; ব্যস, আমাদের নাক-কান-গলা সব বন্ধ, ঝাঁপিয়ে পড়ি ময়দানে। সামনে আমার প্রিয় নেতা তো ‘ফদাকা হায়াতি ইয়া শাইখুনা’।

প্রিয় তরুণ, ইসলাম কিন্তু এমনটা কখনোই বলেনি। বরং বলেছে একজন মুমিন কখনো একই গর্তে বারবার পা দেয় না। এমনও তো হতে পারে, যেই ‘মহা আল্লামার ডাকে আমি প্রস্তুত হলাম তার কোন ভিন্ন মাকসাদ আছে, তিনি আমাকে ব্যবহার করছেন! এমনও তো হতে পারে, যেই মহান নেতার সামনে আপনি ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি ব্যক্তি এজেন্ডায় আপনাকে ব্যবহার করছে!

যদি তা ই না হতো তাহলে ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘর্ষ দিন দিন এতো বেশি বাড়ছে কেন? নিজের ঘরেই নিজে আগুন জ্বালিয়ে কেন স্বজাতিকে হুমকির মুখে ফেলছে?

(সাম্প্রতিক বেশ কিছু উদাহরণ টানতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু আমি টানতে পারছি না। এটাও আমার ব্যক্তি স্বার্থ। একজনের উদাহরণ টানলে সে নাখোশ হবে। যদিও তাতে তার বিরোধীরা খুশি হবেন। আবার অপরজনের অপরাধ বললে আগের জন খুশি হবেন। আমি চাই না সেই রোষানলে পড়ি। কিংবা অন্যভাবে বললে আমি চাই না এই বিচ্ছিন্ন সমাজে আরেকটা বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করি। তাই কোন উদাহরণে যাচ্ছি না।)

সুতরাং কথা এসে সেখানেই দাঁড়ায়, কারো কাছে কিছু চেয়ে কোন লাভ নেই। সবার আগে নিজের কাছে চাইতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, তরুণপ্রজন্ম অনেক আপডেট। তারা অনেক বিষয় ঢেলে সাজাতে চায়। তরুণদের অনেকেই আছে সত্যকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়ায়। সেইসব সত্যকামী তরুণদেরকে বলবো, আপনি/আমি যদি সত্যকে পেতে চাই, বর্তমানে তা সম্ভব নয়। যেই সত্য আমরা চাই সেটা আমাদেরকেই প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অন্য কারো দিকে তাকিয়ে থেকে লাভ নেই। কাঙ্খিত সত্যটা বর্তমানে সম্ভব নয় এজন্যই বলছি যে, তরুণরা এখনই প্রতিষ্ঠিত সত্য চাইলে অন্য কারো কাছে চাইতে হবে। সেটা সম্ভব হবে না। তাই তরুণরা যদি এখন থেকেই প্রকৃত সত্যকে লালন করে নিজেকে গড়তে শুরু করে তাহলে ক’দিন পরে যখন এই তারুণ্য নেতৃত্ব পর্যায়ে আসবে তখন অটোমেটিক্যালি সত্য কায়েম হয়ে যাবে। 

সেই হিসেবে আমি দাবী করে বলতে পারি আজকের তারুণ্য যদি আজ থেকেই সত্যকে লালন (সত্য প্রচারের চিন্তা লালন নয়) করা শুরু করে, তাহলেই অল্প কয়েক বছরেই পৃথিবীতে সত্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। নয়তো আজীবন অন্যের দিকে চেয়ে চেয়ে সময়-কাল অতিবাহিত হবে। আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে সমাজে বাড়তে থাকবে বিচ্ছিন্নতা। সমাজে মহামারির আকার ধারণ করবে অসত্য ও অসংলগ্নতা।


হাবীব আনওয়ার: প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে একটি সুপ্ত আশা থাকে। থাকে কল্পনা ও সুদূরপ্রসারী চিন্তা চেতনা। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে মানুষ কত কষ্ট করে! রাতদিন এক করে নিজেকে নিঃশেষ করে দেয়। অনেকে লক্ষ্য পৌঁছানোর আগেই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। আবার অনেকে কষ্ট ছাড়াই সফলতার শীর্ষ চূড়ায় আহরণ করে।

আসলে আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করি নানা ঘটনার জন্মদাতা এই পৃথিবীটা স্বার্থপর না পৃথিবীর মানুষগুলো। কিন্তু কখনো এর উত্তর খুঁজে পাই না।   গত ক'দিন আগে আমার পরিচিত একজন বললো, ভাই জীবনে অনেক কষ্ট আর সংগ্রাম করেছি। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ছুটেছি। কিন্তু তেমন কোন সফলতা পাইনি।

আমি তার কথা শুনে কৌতুহলী দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবলাম, এত কষ্ট-সংগ্রাম করেও কেন সফল হতে পারলো না? তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার লক্ষ্য কী ছিল? গন্তব্য কোথায় ছিল? 

তিনি বললেন, আসলে সুনিশ্চিত কোন লক্ষ্য বা স্থির কোন গন্তব্য ছিল না। আমি তাকে বললাম, আপনি সফল না হওয়ার অন্তরায়ের একমাত্র করাণ এটাই যে, গন্তব্যহীন পথে ছুটে চলেছেন দিকহারা নাবিকের ন্যায়।

আমাদের প্রায় মানুষের বড় সমস্যা, আমরা গন্তব্যহীন চলতে থাকি। যার ফলে পথের কোন শেষ আমাদের চোখে পড়ে না। পরিণাম হতাশার আগুনে প্রতিনিয়ত দগ্ধ হই। তখন সম্ভবনার আকাশে হতাশারা ভেসে বেড়ায়। জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অনেকে তো আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়।

আমি অনেক বন্ধুকে দেখেছি, ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে সারারাত জেগে পড়তে আর দিনের বেলায় ক্লাসে বসে ঝিমুতে! সারারাত জেগে অধ্যায়নের লাভটা কী হলো, যদি ক্লাসের পড়া না ধরতে পারি! তবে এই ক্ষেত্রে অনেকের সমস্যা হলো আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। আবেগ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে তারও একটা সীমা  আছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো আমরা বড়ই সঙ্কীর্ণমনা! সফলতার জন্য সঙ্কীর্ণমনতা দূর করতে হবে। চিন্তার সঙ্কীর্ণতা দূর করে হৃদয়ের উদারতা আর চেতনার প্রশস্ততা থাকা খুবই জরুরী।


হাবীব আনওয়ার: প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে একটি সুপ্ত আশা থাকে। থাকে কল্পনা ও সুদূরপ্রসারী চিন্তা চেতনা। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে মানুষ কত কষ্ট করে। রাতদিন এক করে নিজেকে নিঃশেষ করে দেয়। অনেকে লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। আবার অনেকে কষ্ট ছাড়াই সফলতার শীর্ষ চূড়ায় আহরণ করে। 

আসলে আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করি, নানান ঘটনার জন্মদাতা এই পৃথিবীটা স্বার্থপর না পৃথিবীর মানুষগুলো? কিন্তু আজো এর উত্তর খুঁজে পাইনি। গত ক'দিন আগে আমার পরিচিত একজন বললো, জীবনে অনেক কষ্ট আর সংগ্রাম করেছি। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ছুটে চলেছি। কিন্তু তেমন কোন সফলতা পাইনি। আমি তার কথা শুনে কৌতুহলী দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। 

মনে মনে ভাবলাম, এত কষ্ট -সংগ্রাম করেও কেন সফল হতে পারলো না! তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার লক্ষ্য কী ছিল, গন্তব্য কোথায় ছিল? তিনি বললেন, আসলে সুনিশ্চিত কোন লক্ষ্য বা কোন গন্তব্য ছিল না। আমি তাকে বললাম, আপনি সফল না হওয়ার অন্তরায়ে একমাত্র করাণ এটাই যে, গন্তব্যহীন পথে ছুটে চলেছেন দিকহারা নাবিকের ন্যায়।

আমাদের প্রায় মানুষের বড় সমস্যা আমরা গন্তব্যহীন চলতে থাকি। যার ফলে পথের কোন শেষ আমাদের চোখে পরে না। পরিণামে হতাশার আগুনে প্রতিনিয়ত দগ্ধ হই। তখন সম্ভাবনার আকাশে হতাশারা ভেসে বেড়ায়। জীবন অনিশ্চিত হয়ে পরে। অনেকে তো আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। আমি অনেক বন্ধুদের দেখেছি ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে সারারাত জেগে পড়তে। আর দিনের বেলায় ক্লাসে বসে ঝিমাতে। আপনিই বলুন, সারারাত জেগে অধ্যায়নের লাভটা কী হলো? যদি ক্লাসের পড়া ধরতে না পারে! 

তবে এই ক্ষেত্রে অনেকের সমস্যা হলো আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। আবেগ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে তারও একটা সীমা  আছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমরা বড়ই সঙ্কীর্ণমনা! সফলতার জন্য সঙ্কীর্ণমনা দূর করতে হবে। চিন্তার দৈন্যতা দূর করে , হৃদয়ের উদারতা আর চেতনার প্রশস্ততার মাধ্যমে নিজেকে  আগামী দিনের জন্য তৈরি করতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, হাটহাজারী মাদরাসা, চট্টগ্রাম  ।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget