Articles by "রাজধানী"

প্রবচন ডেস্ক: মধ্যরাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে আবারো হেফাজতে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার রাত ১১.৪৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিছনের গেট থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নুরকে তাদের হেফাজতে নিয়ে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

এসময় গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকা মেডিকেল-এর পকেট গেট দিয়ে গাড়িতে তুলে নুরকে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নুরের সমর্থকরা সেই গাড়িতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে পুলিশ নুরকে নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করে।

এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে মিছিল বের করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ভবন এলাকায় গেলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এসময় পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে নুরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের কিছুক্ষণ পরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী লালবাগ থানায় এ মামলাটি করেন। মামলায় মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ধর্ষণে সহযোগী হিসেবে নুরুল হক নুরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় ঢাবি ছাত্রীর করা ধর্ষণের মামলার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। এদিকে ছাত্র পরিষদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় আহত পাঁচজন পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা মামলার এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে। ধর্ষণের স্থান হিসেবে লালবাগ থানার নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ রোডে হাসান আল মামুনের বাসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নুর ও মামুন ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক (২) মো. সাইফুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মো. নাজমুল হুদা এবং ঢাবি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হিল বাকি।

ডেস্ক: রাজধানীর বুড়িগঙ্গায় যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও কোস্ট গার্ড। এর আগে সোমবার সকালে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ অন্যদের উদ্ধারে এখনও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জানা যায়, সোমবার সকালে সদরঘাটের শ্যামবাজার প‌য়ে‌ন্টে ময়ূর-২ নামের লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় মর্নিং বার্ড নামের একটি লঞ্চ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও কোস্ট গার্ড। তাদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন স্থানীয়রাও। এখন পর্যন্ত ৩০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ জন পুরুষ, ৫ জন নারী ও ২ জন শিশুর লাশ রয়েছে।

এদিকে লঞ্চডুবির খবর পেয়ে শ্যামবাজার এলাকায় ছুটে আসছেন স্বজনরা। তাদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

ডেস্ক: ঢাকার তিন জায়গা থেকে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার এক বন্ধুর স্ত্রী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার শাহীনা আক্তার ওরফে মনি সরকার (২৪) নিহত ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনের (২৬) বন্ধু চার্লস রুপম সরকারের স্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাতে মনি ও তার মা রাশিদা আক্তারকে (৪৮) উত্তরা ও আব্দুল্লাহপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান জানিয়েছেন।

মনি ও তার মা এই হত্যাকাণ্ডে দোষ স্বীকার করে শুক্রবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মনি ও তার স্বামী রূপম মিলে হেলালকে হত্যার পর তার লাশ তিন টুকরো করে বস্তায় ভরে ঢাকার তিন জায়গায় ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান উপ-কমিশনার মশিউর।

তিনি বলেন, আজমপুর মধ্যপাড়া মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের দোকান করতেন হেলাল। দক্ষিণখান এলাকায় থাকতেন তিনি। দুই বছর আগে বাংলা লিংকের সিম বিক্রি করার সময় তার পরিচয় হয়েছিল রূপমের সঙ্গে, রূপমও একই কাজ করতেন।

সেই যোগাযোগ থেকে এক লাখ টাকার বেশি দামের একটি ফটোস্ট্যাট মেশিন কেনার পরিকল্পনা নিয়ে ১৪ জুন (রোববার) দুপুরে দক্ষিণখানের মোল্লারটেকে রূপমের বাসায় যান হেলাল। একটি ছোট দোতলায় স্ত্রী মনিকে নিয়ে ভাড়া থাকেন রূপম।

“জিজ্ঞাসাবাদে মনি বলেছে, হেলাল বাসায় যাওয়ার পর তাকে চা খেতে দেওয়া হয়। কিন্তু চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয় রূপম। চা খাওয়ার পর হেলাল অচেতন হয়ে পড়ে। তখন রূপম ও মনি হেলালকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মৃতদেহ বাথরুমে নিয়ে যায়। চাকু ও বটি দিয়ে তিন টুকরা করে বস্তায় ভরে পরদিন সকালে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রূপম।”

হেলালের কাছে বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের অনেক টাকা রয়েছে এমন ধারণা থেকেই তাকে হত্যার কথা মনি স্বীকার করেছেন বলে জানান উপ-কমিশনার মশিউর।

“কিন্তু হেলালকে হত্যার পর তার কাছে মাত্র ২৫৩ টাকা ছিল। পরে তার বিকাশের মোবাইল ফোন থেকে কৌশলে ৪৩ হাজার টাকা তারা উঠিয়ে নেয়,” বলেন তিনি।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা মশিউর বলেন, হেলাল উদ্দিনের দেহ কেটে তিন খণ্ড করেন রূপম-মনি দম্পতি। ১৫ জুন তার দুই অংশ দক্ষিণখান ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরদিন দক্ষিণখানের একটি খালি প্লট থেকে উদ্ধার করা হয় হেলালের মাথা।

এ ঘটনায় ১৬ জুন হেলালের বড় ভাই মো. হোজায়াফা বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এই মামলার তদন্তে গিয়ে ১৫ জুন হেলালের খণ্ডিত দেহ বস্তায় ভরে নিয়ে রূপমের একটি অটোরিকশায় উঠার ফুটেজ আসে গোয়েন্দাদের হাতে। সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই রূপমের স্ত্রী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান মশিউর রহমান।
তিনি বলেন, রূপম সরকার গত ডিসেম্বরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়ে কিছু দিন কারাগারে ছিলেন বলে তার স্ত্রী মনি জানিয়েছেন।

রূমপের শাশুড়ির অপরাধ কী- সেই প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মশিউর বলেন, “আসামির হাতিয়ে নেওয়া অর্থ তার কাছে পাওয়া যায় এবং আসামিদের পালাতে সহযোগিতা করেছেন তিনি।”

হেলালের ভাই হোজায়াফা জানান, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে দুই বছর ধরে ব্যবসা করে আসছিলেন হেলাল। তার আগে বাংলা লিংকের  সিম বিক্রি করতেন তিনি।

দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে হেলাল ছিলেন তৃতীয়। তার মৃতদেহ গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের নেছারাবাদের দইহাড়ি গ্রামে দাফন করা হয়েছে।

রূপমকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েনে পুলিশ কর্মকর্তা মশিউর।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঢাকা, ২৭ মে। ছবি: সংগৃহীত
ডেস্ক: রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) বিস্ফোরণে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে এসি বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

ফায়ার সার্ভিস পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, আগুনের খবর পেয়ে তাঁদের তিনটি ইউনিট হাসপাতালে যায়। মূল ভবনের বাইরে আলাদা জরুরি বিভাগে আগুন লাগে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। 

মৃত ৫ জনের মধ্যে ৩ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী ছিলেন। মৃতদের সবাই লাইফসাপোর্টে ছিলেন। বুধবার রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় রাত প্রায় ১০টার কিছু আগে লাগা আগুনে ৫ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন।
মৃতরা হলেন রিয়াজুল আলম (৪৫), খোদেজা বেগম (৭০), ভেরুন এন্থনি পল (৭৪), মো. মনির হোসেন (৭৫), মো. মাহাবুব (৫০)।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীতসংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হাসপাতালের মূল ভবনের বাইরে আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লাগে ওই সময় আবহাওয়া খারাপ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মৃত ওই পাঁচজনকে নিরাপদে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় ইউনাইটেড হাসপাতাল দুঃখ প্রকাশ করেছে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের কর্তব্যরত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে নিচতলায় এসি বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে।


রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে রাত ১০টার দিকে এসি বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে।ঢাকা, ২৭ মে। ছবি: সংগৃহীত
যোগাযোগ করা হলে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানানো হয়, রাত ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে ওই আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

আনসারকে ২৫ হাজার মাস্ক ও তিন হাজার পিপিই দিল বসুন্ধরা গ্রুপ
অনলাইন ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় এবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ২৫ হাজার মাস্ক ও তিন হাজার ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) দিল দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ।

গতাকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যালয়ে বাহিনীর উপমহাপরিচালক (অপারেশন) মো. মাহবুবুল ইসলামের কাছে এসব মাস্ক ও পিপিই হস্তান্তর করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক ও নিউজ টোয়েন্টিফোরের সিইও নঈম নিজাম, বাংলাদেশ আনসারের উপমহাপরিচালক (অপারেশন্স) মো. মাহবুব-উল-ইসলামসহ আনসার ব্যাটালিয়নের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপমহাপরিচালক (অপারেশন) মাহবুবুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির শুরু থেকেই আমরা মহাপরিচালক স্যারের নির্দেশে সারা দেশে স্বাধীনভাবে কাজ করছি। প্রাথমিকভাবে যখন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিমানবন্দরে ডিউটি শুরু করে তখন মহাপরিচালক স্যার নিজের উদ্যোগে পিপিই, মাস্ক ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। এর পর সারা দেশে আমাদের বাহিনীকে নিরাপত্তা সামগ্রী দিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপ যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শুধু এখনই না, দেশে যখন কোনো দুর্যোগ আসে তখনই বসুন্ধরা গ্রুপ অকাতরে সাহায্যের  হাত বাড়িয়ে দেয়। বসুন্ধরা গ্রুপের সুরক্ষা সামগ্রীতে আমরা উপকৃত হয়েছি। এসব সামগ্রী করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আনসার সদস্যদের উৎসাহিত ও সহায়তা করবে।

বৈশ্বিক মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মোকাবেলার লড়াইয়ে প্রথম থেকেই দেশ ও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এর অংশ হিসেবে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতাল তৈরিতে স্থাপনা দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করেছে এই শিল্প গ্রুপ। এ ছাড়া করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ১০ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান।

অন্যদিকে, সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তরকে এক হাজার পিপিই ও ৫০ হাজার মাস্ক দেয় বসুন্ধরা গ্রুপ। ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক (উত্তর) বিভাগকেও ২৫ হাজার মাস্ক দেয় প্রতিষ্ঠানটি। নৌবাহিনীকে ৫০ হাজার মাস্ক, ৫০০ পিপিই ও দুই ট্রাক (৭০০ প্যাকেট) খাদ্যসামগ্রী দেয় তারা। এ ছাড়া র‌্যাবকে ৫০ হাজার মাস্ক ও চার ট্রাক খাদ্যসামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে (ডিএমপি) ৫০ হাজার মাস্ক দেয় বসুন্ধরা গ্রুপ। এরপর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবিকে ২৫ হাজার মাস্ক ও এক হাজার পিপিই দেয় বসুন্ধরা গ্রুপ।

উল্লেখ্য, বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে রাজধানীর দুস্থ ও নিম্ন আয়ের কয়েক হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।

-কেকে

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বালকদের ...
অনলাইক ডেস্ক: দেশের করোনা পরিস্থিতির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের বেতন ও টিউশন ফি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বুধবার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির এক সাধারণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি নির্দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি অনলাইনে ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের রকেট ও নেক্সাসপের মাধ্যমে আদায়ের জন্য গভর্নিং বডি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে শ্রেণি শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিস্তারিত জানাবেন।

প্রতিষ্ঠানটির এই ধরনের অমানবিক সিদ্ধান্ধের জন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, দেশের এমন পরিস্থিতিতে যেখানে অভিভাবকরা বর্তমান অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দেশের দুর্যোগের এই অবস্থায় টিউশন ফি চাওয়া অনৈতিক এবং অমানবিকও বটে।

এ বিষয়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী তিন মাস অন্তর শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধ করতে হয়। সেই মোতাবেক গত এপ্রিল থেকে জুন মাসের বেতন পরিশোধের জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছে। এ নোটিশ শ্রেণি শিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী এপ্রিলের আগের মাসগুলোর বেতন পরিশোধ করেনি। তাদেরকে এসব বকেয়া পরিশোধ করার জন্য বলা হয়েছে।

-এনডি

মেয়র আতিক: চালকদের 'ডোপ টেস্ট' করা ...
ডেস্ক: সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকল্পে ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে জনগণকে সাথে নিয়েই আগামীর ঢাকা গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম। এছাড়া সিটির উন্নয়নে যে কারো যে কোন প্রকার সুন্দর মতামত গ্রহণ করবেন বলেও জানান। বুধবার দুপুর ১২ টায় মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দায়িত্ব গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে জুম ভিডিও কনফারেন্সে করা এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এসব কথা বলেন। করোনা মহামারীর পরিস্থিতিতে স্বল্প পরিসরে কম লোক সমাগম করে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন প্যানেল মেয়র মো. জামাল মোস্তফা। এসময় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আবদুল হাই,সচিব রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়া ও বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

ভবিষষ্যত ডিএনসিসি কেমন হবে তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন আতিকুল ইসলাম। এ সময় রাজধানীর দখলে থাকা বিভিণœ খাল দখলমুক্ত করে খনন করা, রাস্তাঘাট সংস্কার করা, সড়কবাতি সর্বাবস্থায় চালূ রাখা, ডেঙ্গু চিকনগুণিয়া সহ সকল প্রকার মশক নিধনে বছরব্যাপি কাজ করা, নিয়মিত শরীরচর্চা,খেলাধুলা, হাঁটাচলা করতে পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরী ও সংস্খার করা, ৩৬টি ওয়ার্ডে মশা নিধন, প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সহ অগ্নি নির্বাপণে ১টি করে স্যাটেলাইট অগ্নি নির্বাপণ স্টেশন স্থাপন, রাস্তায় আধুনিক এলইডির সড়কবাতি লাগানো, জলঅবদ্ধতা নিরসনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা,নাগরিকদের কাছ থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অভিযোগ গ্রহণ ও তথ্য প্রদান করা, ডিজিটালি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকল্পে সবার ঢাকা অ্যাপ এর কার্যক্রম চালূ করা, অনলঅইনে হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করার কথাও বলেন। এছাড়া ফেইসবুক লাইভে প্রতিমাসে একবার নাগরিকদের সমস্যা শোনাও সাথে সাথেই সমাধানের ব্যবস্থা সহ নির্বাচনী প্রতিটি ইশতেহার বাস্তবায়নের আম্বাস প্রদান করেন। তিনি যে কোন প্রকার নাগরিক সমস্যায় সরকারের সহযোগীতা নিয়ে কাজ করবেন বলেও জানান।

মেয়র আতিক বলেন, ঘন বসতিপুর্ণ আমাদের এই নগরীতে মশাবাহিত ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া প্রতি বছরের সমস্যা। প্রতি বছর বর্ষাকালীন সময়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ দেখা দেয়। করোনা ভাইরাসের মত ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়াও প্রাণঘাতী রোগ। ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া যেন অন্যান্য বছরের মত ভয়াবহ রূপ নিতে না পারে সেইজন্য আগে থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া থেকে শহরবাসীকে রক্ষা করতে আমাদের মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন,করোনা ভাইরাস সংক্রমণ কমাতে আপনারা যেমন বাসায় থাকছেন, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলছেন, ঠিক তেমনি ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া রোধেও সহযোগীতা করুন। আমরা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত লার্ভিসাইডিং, অ্যাডাল্টিসাইডিংসহ সচেতনতামুলক কার্যক্রম যেমন মাইকিং, ডিএনসিসির ফেইসবুক পেইজ এবং গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জনসাধারণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানোর লক্ষ্যে ডিএনসিসি একটি হটলাইন চালু করেছে। নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে বিনামূল্যে ডিএনসিসি এলাকার ৫টি নগর মাতৃসদন ও ২২টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১১ মে থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা যাবে। এছাড়া আগামী ১৬ মে থেকে পরিচ্ছন্নতা ও মশককর্মী দ্বারা চিরুনী অভিযান পরিচালনা করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

বিদ্যমান এই মহামারী পরিস্থিতিতে আমি নগরবাসীকে আশ্বস্থ করে মেয়র আতিক বলেন, ডিএনসিসির প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ফগার মেশিনের সাহায্যে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এছাড়া বছরব্যাপি মশক নিধনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় ডেঙ্গু রোগবাহী এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে গত ৭ অক্টোবর থেকে মশার প্রজননস্থল অর্থাৎ হটস্পট চিহ্নিত করার জন্য ২জন কীটতত্ত্ববিদ এবং ১০জন শিক্ষানবিস কীটতত্ত্ববিদ নিয়োজিত করা হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে গবেষণা করে কোন এলাকায় মশার তীব্রতা কত তা নির্ধারণ করেছেন এবং সে অনুযায়ী মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সেই সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওয়াসা, রাজউক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরগণও এই কাজের সাথে যুক্ত হবেন। নিজ-নিজ ওয়ার্ডের মশক নিয়ন্ত্রণ, পরিছন্নতাসহ যে কোনো বিষয়ে কাউন্সিলরগণ ব্যক্তিগতভাবে মনিটরিং করবেন। যদি কেউ তার দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করেন বা ব্যর্থ হন তবে তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিএনসিসি’র কর্মকা- তুলে ধরে বলেন, বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ডিএনসিসির আওতাধীন সকল রাস্তাঘাট সংস্কার করা হচ্ছে। বর্ষাকালে রাস্তায় যেন পানি না জমে সেই জন্য নগরীর ড্রেন, খাল পরিষ্কার এবং খনন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কালশি খাল খনন করা হয়েছে। ধীরে ধীরে সিটি কর্পোরেশনের ভিতরে থাকা বাকি খালগুলো দখলমুক্ত করে খনন করা হবে। নগরীর রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডিএনসিসির রাস্তায় বসানো হচ্ছে আধুনিক এলইডিবাতি। নগরবাসী যেন নিয়মিত শরীরচর্চা খেলাধুলা হাঁটাচলা করতে পারে সেই লক্ষ্যে অনেকগুলো পার্কের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।বাকি পার্কগুলোর সংস্কার কাজ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন,ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৬টি ওয়ার্ডে ১টি করে ৩৬টি স্যাটেলাইট অগ্নি নির্বাপণ স্টেশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। এ স্যাটেলাইট স্টেশনে মশা নিধন, প্রাথমিক চিকিৎসা ইত্যাদির ব্যবস্থাও থাকবে।

মেয়র বলেন, ডিজিটালি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকল্পে “সবার ঢাকা” অ্যাপ এর কার্যক্রম শুরু হবে। ‘সবার ঢাকা’ অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী যে কোনো স্থান থেকে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সেবা এবং কাজের ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ সমাধানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। তাছাড়া নাগরিকরা যাতে অনলাইনে যে কোনো স্থান থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধনসহ অনেক নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতি মাসে একবার ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরবাসীর অভিযোগ, চাওয়া-পাওয়া, সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে সরাসরি তাদের সাথে কথা বলবো। ফলে নগরবাসীর সমস্যাগুলোর ব্যাপারে তাৎক্ষণিক বা দ্রুততম সময়ে সমাধান করা সম্ভব হবে।

আতিক বলেন, দেশ, দেশের জনগণ এবং এ ঢাকা শহরকে ভালোবেসে নগরবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি। গত মেয়াদের ৯ মাসে আমি অনেক কাজ করেছি। কিছু কাজ চলমান রয়েছে। আমার পূর্বের অসম্পন্ন কাজ এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি সবাইকে নিয়েই সবার ঢাকা বাস্তবায়নে যা যা প্রয়োজন তাই করবেন বলে জানান।

-জেকে

সীরাত সাহিত্যের প্রবর্তক মাওলানা ...
প্রবচন ডেস্ক: ইসলামী চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক ও মাসিক মদীনার সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ.- এর সহধর্মীনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

আজ রোববার বিকেল ৪.২০ মিনিটে গ্যান্ডারিয়ার নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন বলে জানা গেছে।

মরহুমা দীর্ঘদীন কিডনীর রোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানা যায়। মৃত্যুকালে এই মহিয়সী নারীর বয়স হয়েছিলো ৮০ বৎসর। তিনি দুই সন্তান রেখে পরপারে পাড়ি জমান।

জানা গেছে, এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসের ২৫ তারিখে গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার পান্থপথের সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ.-এর মতই তাঁর সহধর্মীনির ফুসফুসে পানি জমেছিলো।

মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে  দোয়ার আহ্বান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,  মাওলানা মুহিউদ্দিন খান রহ. একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক, ইসলামী চিন্তাবিদ, বহু গ্রন্থ প্রণেতা ও মাসিক মদীনার সম্পাদক ছিলেন।  ২০১৬ সালের ২৫ জুন মারা যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মাসিক মদীনার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপালনের পাশাপাশি মুফতী মুহাম্মাদ শফী উসমানীর রচিত মা’রেফুল কোরআনের বাংলা অনুবাদ করেছেন তিনি।

নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক আজ বন্ধ

► বন্ধের সিদ্ধান্ত বায়তুল মোকাররম মার্কেট
► বন্ধের সিদ্ধান্ত আসছে নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক ও চন্দ্রিমার
► খুলছে না জুয়েলারি দোকান
► ১৭টি আউটলেট খুলে দিচ্ছে আড়ং

ঈদ সামনে রেখে সরকার মার্কেট ও দোকান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না ব্যবসায়ীরা। নিজেদের করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি, পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাওয়া কর্মচারীদের ফিরিয়ে আনা, নানা ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চিন্তিত তাঁরা। এ ছাড়া বন্ধ রয়েছে পরিবহনব্যবস্থা। আর করোনারভাইরাস প্রাদুর্ভাবে দেশজুড়ে সরকারের সাধারণ ছুটি থাকায় ক্রেতা উপস্থিতি নিয়েও আশঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে দোকান খুলে লাভ দেখছেন না তাঁরা। মার্কেট সমিতিগুলোকে ঈদে দোকানপাট বন্ধ রাখতে চাপ দিচ্ছেন তাঁরা। এসব কারণে গতকাল বৃহস্পতিবারও অনেক মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সমিতি। তবে কেউ কেউ খোলার পক্ষে মত দেওয়ায় অনেক মার্কেট রয়েছে সিদ্ধান্তহীনতায়। আবার এখনো শপিং মল না খুললেও পুরান ঢাকার পাইকারি বাজারগুলোয় সীমিত পরিসরে বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানপাটও এরই মধ্যে খুলতে শুরু করেছে। কেউ বা নিচ্ছে খোলার প্রস্তুতি।

জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে গত বুধবার দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের শপিং মল বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এই বিবেচনায় গতকাল বায়তুল মোকাররম মার্কেটও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেয় মার্কেট সমিতি। এ ছাড়া দেশের সব জুয়েলারি মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস)। অন্যদিকে দেশীয় ফ্যাশন হাউস মালিকদের সংগঠন ফ্যাশন হাউস এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও ক্রেতার উপস্থিতি ও ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে শোরুম খোলায় আগ্রহী নন উদ্যোক্তারা। আর  রাজধানীর ঈদ কেনাকাটার সবচেয়ে বড় জমায়েত নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের বড় অংশও দোকান না খোলার পক্ষে। তাঁরা মালিক সমিতিকে মার্কেট বন্ধ রাখতে চাপ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি এসব মার্কেট সমিতি। দু-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে।

অবশ্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মনিহারি, হার্ডওয়্যার, চশমা, রেডিমেড কাপড়, প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকান কয়েক দিন ধরে একটু একটু করে খুলতে শুরু করেছে। পুরান ঢাকায় অনেক পাইকারি কাপড়ের দোকান খোলার প্রস্তুতির খবরও পাওয়া গেছে। এসব এলাকার দোকানগুলোয় এরই মধ্যে টেলিফোনে বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের মধ্যে এক মাস বন্ধ থাকার পর গত সোমবার সরকার শপিং মল ও মার্কেট আগামী ১০ মে থেকে খোলার অনুমতি দেয়। বেশ কিছু শর্ত মেনে প্রতিদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত দোকান খোলার সুযোগ দেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে অতিসংক্রামক এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয় আগামী ১৬ মে পর্যন্ত, সঙ্গে গণপরিবহনও বন্ধ রাখা হয়েছে। স্কুল-কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়িয়ে ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, ‘সরকার আমাদের দোকান খোলার অনুমতি দিলেও আমাদের শ্রমিকরা রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। এ অবস্থায় তারা আসতে পারবে না। গণপরিবহনও বন্ধ। আর স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা চিন্তা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ঈদের আগে দোকান খুলব না। যতক্ষণ পর্যন্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে বলে আমরা মনে করব ততক্ষণ পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখা হবে।’

দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর স্বত্বাধিকারীদের সংগঠন ফ্যাশন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি সৌমিক দাস বলেন, ‘আমরা অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দোকান বন্ধ রাখা বা চালু রাখার কোনো সিদ্ধান্ত দিইনি। যেখানে মার্কেট বন্ধ সেখানে তো এমনিতেই শোরুম খুলতে পারব না। আর মার্কেটের বাইরের শোরুমগুলো খুললেও খুব একটা বিক্রি হবে বলে মনে হয় না। দেশের এমন পরিস্থিতিতে মানুষ ঈদের কেনাকাটা করতে ঘর থেকে বের হবে না। তার পরও আমরা পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে শোরুম পরিচালকদের সিদ্ধান্ত নিতে বলেছি। যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রেখে বিক্রি করা যায়, তবে করবে।’

নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘সরকার দোকান খোলার অনুমতি দেওয়ার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে দুই ধরনের মত সৃষ্টি হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা আগামী ১০ মে থেকে মার্কেট চালু করব কি না সে সিদ্ধান্ত এখনো নিতে পারিনি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ব্যবসায়ী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সিদ্ধান্ত আসেনি চন্দ্রিমা সুপারমার্কেট, চাঁদনীচক ও রাজধানী সুপারমার্কেটের বিষয়েও। চাঁদনীচক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখনো দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নিইনি। এ পরিস্থিতিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অনেকটা আত্মঘাতী হচ্ছে। দোকান খুললে ক্রেতা আসলে সাম্প্রতিক ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যাবে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কাস্টমাররাই বা কেন আসবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে? আমরা কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।’

এদিকে রাজধানীর ইসলামপুর, নবাবপুরসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি মার্কেট খোলার প্রস্তুতি দেখা গেছে গত দুই দিন ধরে। গতকাল বেচাবিক্রির খবরও পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে পাইকাররা মোবাইলে অর্ডার দিচ্ছেন। আর চাহিদামতো মালপত্র কুরিয়ারে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, গোপীবাগ, মানিকনগরসহ বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকান কয়েক দিন ধরে খুলতে শুরু করেছে। খাদ্যপণ্য ছাড়াও বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব দোকানে বেচাবিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ মনিহারি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হাজি শফি মাহমুদ বলেন, ‘দোকানপাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে ব্যবসা হবে? এখানে প্রায় প্রতিটি দোকানের আয়তন আট/ছয় ফুট বাই আট ফুট। দোকানে দুজন কর্মচারী, একজন ম্যানেজার, মালিক একজন। সে হিসাবে মিনিমাম স্টাফ হবে চার থেকে পাঁচজন। কিন্তু তবু আমরা যতটুকু পারব মেনে দোকান চালাব। কারণ আমাদের বাঁচতে হবে।’

১৭টি আউটলেট খুলছে আড়ং
আগামী ১০ মে থেকে আউটলেটগুলো খুলে দিচ্ছে ‘আড়ং’। সারা দেশে তাদের ২১টি আউটলেটের মধ্যে ১৭টি আউটলেট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন আড়ংয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, ‘আড়ংয়ের পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ৬০ থেকে ৬৫ হাজার মানুষ। করোনাভাইরাসের কারণে বৈশাখকেন্দ্রিক বেচাকেনা বন্ধ ছিল। পণ্যগুলো স্টক হয়ে গেছে। ঈদের পণ্যও আমাদের হাতে রয়েছে। এখন আমরা চাচ্ছি এসব পণ্য ঈদের আগে কিছুটা হলেও বিক্রি করে তাদের সাপোর্ট দিতে। তা না হলে আগামীতে আমাদের উৎপাদনকারীদের সাপোর্ট দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।’

এদিকে সাদাকালো, কে-ক্রাফট, অঞ্জনস, নিপুণ, রঙ, অন্যমেলা, বাংলার মেলা, নবরূপা, নগরদোলা, দেশাল, নীলাঞ্জনাসহ দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো খোলার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

-কেকে

| ইশতিয়াক সিদ্দিকী

করোনাভাইরাসের মহামারি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের দেশেও এর প্রকোপ দিনদিন বাড়ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। চার দফা বাড়ানো হয়েছে সরকারি ছুটি। কার্যত পুরো দেশ এখন স্তব্ধ-স্থবির। দিনমজুর থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারের সবার কপালে ভাজ পড়েছে। অভাব অনটন দেখা দিয়েছে বহু পরিবারে। আর এমন দুর্বিষহ ও দুর্যোগময় মুহূর্তে গণমানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মহাপুরুষ হাজী শরীয়তুল্লাহ রহ. এর সপ্তম পুরুষেরা।

'হাজী শরীয়তুল্লাহ (রহ.) সমাজ কল্যাণ পরিষদ বাংলাদেশ' এর ব্যানারে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন তারা। করোনার চলমান পরিস্থিতিতে নগদ অর্থ ও খাদ্য বিতরণ করছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে হাজী শরীয়তুল্লাহ (রহ.) এর বংশের সপ্তম পুরুষ মাওলানা মোহাম্মদ ত্বহা ও মহাসচিব হিসেবে মাওলানা মোহাম্মদ হানজালা দায়িত্ব পালন করছেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকা,গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ,শিবচরসহ অনেক এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ ত্বহা জানান, দুর্যোগ-দুর্ভোগে দেশের আপামর জনগণের পাশে দাঁড়ানো আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। শতবর্ষ ধরে হাজী শরীয়তুল্লাহ রহ. এর বংশধরেরা ধর্মীয় ও মানবিক ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। করোনা পরিস্থিতিতেও আমরা সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সংগঠনের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে মহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ হানজালা জানান, আমরা ৩ হাজার পরিবারকে চাল,ডাল,তেল,আলু ও পেয়াজসহ জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। ইনশাআল্লাহ অতিশীঘ্রই ৬শ আলেম পরিবারকে নগদ অর্থ ও জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। এভাবে আমরা আরো কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। হাজী শরীয়তুল্লাহ রহ. এর বংশধর এবং তাঁর নামে গঠিত 'হাজী শরীয়তুল্লাহ (রহ.) সমাজ কল্যাণ পরিষদ' সংগঠনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছি!


ভাড়া দিতে না পারায় ঝড়ের রাতে তিন শিশুসহ এক দম্পতিকে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত বাড়ির মালিক সেই নূর আক্তার সম্পাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে কলাবাগানের সেই বাড়ি থেকে সম্পাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এইচ এম পারভেজ আরেফিন।
এর আগে গত শনিবার মধ্যরাতে এক মাসের ভাড়া বকেয়া থাকায় ওই ভাড়াটিয়াকে বের করে দেয়া হয়। বাড়ির মালিকের কাছে অনেক অনুনয় বিনয় করলেও তাদের কোনও কথা শোনেনি বাড়িটির মালিক। ঝড়ের রাতে জোর করে তিন শিশুসহ তাদের বের করে দেওয়ার পর বাড্ডায় এক স্বজনের বাসায় ঠাঁই হয় পরিবারটির। 
পরদিন পুলিশ ও র‌্যাব বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় ওই দম্পত্তি কলাবাগান থানায় একটি মামলা করেন। এরপর থেকে বাড়ির মালিক ও তার স্বামীকে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খ লাবাহিনী। এরপর সোমবার ওই পরিবারকে বাড়িতে তুলে দেয় র‌্যাব সদস্যরা। কিন্তু তারপরও ওই দম্পত্তিকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
জানা যায়, ছোট দুই সন্তান ও কোলের দুই মাসের এক বাচ্চাসহ কলাবাগানের একটি বাসায় ছয় মাস আগে ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেছিলেন সেলিম হোসেন। তিনি একটি দোকানে কাজ করতেন। করোনাভাইরাসের কারণে তিনি এখন বেকার থাকায় এক মাসের ভাড়া দিতে পারছিলেন না।
কুলসুম-সেলিম দম্পতি জানান, তারা প্রতি মাসে ভাড়া পরিশোধ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এক মাসের ভাড়া বকেয়া পড়েছে। এতে বাড়িমালিকের কাছে অনেক অনুনয় করেছেন। কিন্তু তাদের কোনো কথা শোনেননি। বরং রাতেই বাড়ির মালিক সম্পা মিথ্যার আশ্রয় নেয়। থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন, তার ভাড়াটিয়া বাড়ি মালিককে মারধর করছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারে বিষয়টি মিথ্যা।
এর আগে করোনাভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে কাউকে বাড়ির মালিক হয়রানি করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এছাড়া  বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, করোনা ঝুঁকিতে রয়েছেন কিংবা করোনা প্রতিরোধে কর্মরত কাউকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাইলেও ওই বাড়ির গ্যাস-বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হবে।

করোনাভাইরাসের মহামারি নিয়ন্ত্রণে চলমান দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে জরুরি সেবার সঙ্গে নিয়োজিতরা ছাড়া রাজধানীকে কেন্দ্র করে মানুষের আগমন-বহির্গমন ঠেকাতে কঠোর হতে বলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জাবেদ পাটোয়ারী। শনিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৈরি পোশাক শ্রমিকসহ হাজার হাজার মানুষের ঢাকামুখী ঢল নামার পর ব্যাপক সমালোনার মুখে রাতেই তিনি এ নির্দেশনা দেন। 
আজ রবিবার সকাল থেকে ঢাকার সকল সীমান্তবর্তী এলকাসহ নোঘাটসহ সড়ক মহাসড়কে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারি মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা কালের কণ্ঠকে বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের এই দুযোর্গময় পরিস্থির মধ্যে ঢাকার বাইরে থেকে ছুটে আসা শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ যেন ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে আইজিপির নির্দেশ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে।
এই পরিস্থীতি মোকাবিলায় সকলের সহযোগিতা কামনা করে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সব ধরনের চলাফেরা বন্ধ আছে। কেউ ঢাকার বাইরে যেতে পারবেন না, আপাতত ঢাকায় ঢুকতে পারবেন না। যে যেখানে আছেন সেখানে অবস্থান করবেন, কোথাও সমবেত হতে পারবেন না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তবে একান্ত জরুরি প্রয়োজন থাকলে তার বা তাদের বিষয়টি শিথিলযোগ্য হতে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে রবিবার থেকে গার্মেন্টস খোলার খবরে শনিবার দিনভর আশেপাশের জেলাগুলো থেকে হাজার হাজার শ্রমিককে ঢাকার পথে দেখা যায়। এই দৃশ্য সবাইকে আতঙ্কিত করে তোলে। সেই সঙ্গে করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে ঘরে অবস্থানের নির্দেশনার মধ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শত শত নারী-পুরুষের পায়ে হাঁটা মিছিল ও ফেরীতে শত শত মানুষের গাদাগাদি করে পদ্মা পার হওয়ার ছবি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা হয়। 
দেশজুড়ে লকডাউনের সিদ্ধান্তের মধ্যে কারখানা খোলার সিদ্ধান্তের জন্য মালিকদের এবং হাজার হাজার মানুষকে দলে দলে এতোটা পথ পাড়ি দিতে দেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে রাতে ১১ এপ্রিল সরকারঘোষিত সাধারণ ছুটি পর্যন্ত গার্মেন্টস কারখানাগুলো বন্ধ রাখতে পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মালিকদের প্রতি আহ্বান জানায়। এর পরও পরিস্থিতি উপর কড়া নজরদারি চলছে।

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর ওভারব্রিজের পাশে তানিম গলিতে এক পরিবারের দুজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) আক্রান্ত দুজনকে আজ রোববার সকালে বাসা থেকে নিয়ে গেছে। এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার দুটি বহুতল ভবন ও একটি টিনশেড বাড়ি লকডাউন করে দিয়েছে মিরপুর থানা-পুলিশ।


মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাজিরুর রহমান আজ প্রথম আলোকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

মোস্তাজিরুর রহমান বলেন, ওই দুজন গত দুই দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হওয়ায় আক্রান্ত দুজনকে আজ সকালে বাসা থেকে নিয়ে যায় আইইডিসিআর।

মিরপুরের যে দুটি বহুতল ভবন ও একটি টিনশেড বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে, সেখানে প্রায় ২৫টি পরিবার বসবাস বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাড়িগুলোর সামনে পুলিশ মোতায়েন করে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

ওসি মোস্তাজিরুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এলাকায় মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে। ওই সব বাড়িতে কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না পুলিশ। তবে বিশেষ প্রয়োজনে প্রতি পরিবার থেকে একজন সুরক্ষিত পোশাকে বাইরে যেতে পারছেন।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget