Articles by "রাজনীতি"

খতিবের দায়িত্ব নিয়ে আবারো ...
অনলাইন ডেস্ক: ইসলামী ঐক্যজোটের সাবেক চেয়ারম্যান, মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ. এর সন্তান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনীকে ইসলামী ঐক্যজোটের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাচিত করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শীর্ষ উলামা-মাশায়েখদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জেলার শীর্ষ আলেমদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

বিবৃতিতে উলামায়ে কেরাম বলেন, মুফতি আমিনী রহ. ছিলেন দেশের রাজনৈতিক ও ইসলামি আন্দোলনের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, দেশের সাধারণ মানুষ অধিকার ও ইসলামের পক্ষে দাবি আদায়ের আন্দোলন করে গেছেন আমৃত্যু। দেশ ও ইসলামের স্বার্থে মুফতি আমিনী রহ. যে আদর্শিক রাজনৈতির রূপরেখা তৈরি করে গেছেন, আমরা আশা করবো তার সন্তান সেই আদর্শিক রূপরেখা ধরে এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি দেশের আপোমর জনগনের সেবায় ইসলাম ও মসজিদ মাদরাসার কল্যাণে আমৃত্যু নিজেকে নিয়জিত রাখব ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শীর্ষ আলেমদের পক্ষে- জামিয়া সিরাজিয়া দারুল উলুম ভাদুঘর মাদ্রাসার পিন্সিপাল ও শাইখুল হাদিস আল্লামা মনিরুজ্জামান সিরাজী, জামিয়া ইউনুছিয়ার ছদর ও শাইখুল হাদিস আল্লামা আশেকে এলাহী ইব্রাহিমী, জামিয়া ইউনুছিয়ার পিন্সিপাল আল্লামা মুফতি মুবারকুল্লাহ, জামিয়া ইউনুছিয়ার শাইখুল হাদিস ও জামিয়া দারুল আরকাম এর পিন্সিপাল আল্লামা শায়খ সাজিদুর রহমান ।

জামিয়া ইউনুছিয়ার সহকারী শিক্ষা সচিব, মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী, জামিয়া দারুল আরকাম মাদ্রাসার ভাইস পিন্সিপাল, মাওলানা আলী আজম কাসেমী, জামিয়া কুরআনিয়া সৈয়দা সৈয়দুন্নেছা দারুল কোরআন মাদ্রাসার পিন্সিপাল, হাফেজ মাওলানা মুহা. ইদ্রিস , জামিয়া ইসলামিয়া সোনারামপুর আশুগঞ্জ মাদরাসার শাইখুল হাদিস, মুফতি বুরহান উদ্দিন কাসেমী, জামিয়া আইয়ুবিয়া দারমা মাদরাসার পিন্সিপাল, মাওলানা মেরাজুল কাসেমী, জামিয়া হুসাইনিয়া দারুল উলুম উচালিয়া পাড়া মাদ্রাসার পিন্সিপাল, মাওলানা জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

-ওআই

ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুমিনকে ...
ডেস্ক: বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম মুমিনকে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি মামলায় ভোলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় বুধবার রাতে ভোলার গাজীপুর রোডের বাসা থেকে তরিকুল ইসলাম মুমিনকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। পরে তাকে সড়কপথে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের পক্ষে তাকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার না করলেও আজ শুক্রবার ভোলা সদর মডেল থানার ওসি এনায়েত হোসেন খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

একাধিক তথ্যসূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকার কোতয়ালি থানায় একটি চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির মামলা দায়ের করার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রকল্পের কাজের তদবির করে দিবে বলে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তরিকুল ইসলাম মুমিন। এ ছাড়াও সরকারের বিশেষ কোনো ব্যক্তির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাকে ভিসি পদে নিয়োগ দেওয়ার নামে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মুমিনসহ একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সেই চক্রে একজন মন্ত্রীর পিএস সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে।

পরে সে টাকা নিয়ে মমিন উধাও হয়ে জন্মস্থান ভোলায় পলাতক হন। পরে তার অবস্থান নিশ্চিত করার পর বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মো. এনায়েত হোসেন বলেন, কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা জানা যায়নি, তবে তেজগাঁও থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতারের সহায়তা চাইলে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের মোবাইল টিম সহায়তা করে। মামলাটি চাঞ্চল্যকর না হলে এ করোনার মধ্যে তাকে গ্রেফতারের জন্য ভোলায় ঢাকা পুলিশ আশার কথা নয় বলে জানান ওসি।

-ডিআই

ছবি: প্রথম আলো 
প্রবচন ডেস্ক: হকাররা ফুটপাতে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করেছেন। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আবারও এরকম দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। যদিও প্রশাসন বারবার সতর্ক করছে সামাজিক দূরত্ব মানার জন্য।

তবে এসব হকারদের বক্তব্য হল, পেটের জন্য আমাদের আর করা কিছু নাই। ঘরের মধ্যে বইসা থাইকা মরার চাইতে কাম কইরা মরা ভাল।

সম্প্রতি আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সীমিত পরিসরে শপিংমল খুলে দেয়ার ঘোষণার পরে এরকম হকারদের উপস্থিতি বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষের মাঝেও অনেকটা বেপরোয়া ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এরকম চলতে থাকলে করোনার প্রকোপ বাংলাদেশে আরো অনেক বেড়ে যাবে। গত কয়েকদিন আগে স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক মন্তব্য করেছিলেন, শপিংমল খুলে দেয়ার করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা খেুব বেশি।


আরও আগে সেনাবাহিনী নামানো উচিত ছিল ...

নিউজ ডেস্ক: করোনা মহামারীর মধ্যে গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিয়ে টানাহেঁচড়ার পর ঈদের কেনাকাটার জন্য শপিং মল খুলে দেওয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত করছে। এটা ক্রিমিনাল অফেন্স (ফৌজদারি অপরাধ)।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) প্রদান অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ অভিযোগ করেন।

বিএনপির মহাসচিব বক্তব্যেও শুরুতেই বলেন, 'কী বলব, নির্বাক হয়ে যাচ্ছি। কারণ চারদিকে সরকারের ব্যাপার-স্যাপার দেখে এটাকে তুঘলকি বলব, না কি বলব বুঝতে পারছি না। তারা যেভাবে পরিস্থিতিকে একেবারে চূড়ান্ত বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছেন, তা অবিশ্বাস্য। কোনো ন্যূনতম দায়িত্বশীল সরকার এই ভাবে জনগণকে নিয়ে খেলা করতে পারে না।

মির্জা ফখরুল ইসলামের অভিযোগ সরকার দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিক, বিজ্ঞানী কারো কাছ থেকেই কোনো পরামর্শ নিচ্ছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু অযোগ্য, অপদার্থ আমলা এবং চাটুকার কিছু স্বাস্থ্যসেবার কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারও মতামত গ্রহণ করছেন বলে শুনিনি। মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়ে ওনারা কী করতে চাচ্ছেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে শপিং মল খুলে দিয়েছেন, কারণ ঈদের বাজার করতে হবে, ইকোনমিকে চালু রাখতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে এতদিন কী করলেন। এই যে মধ্য আয়ের দেশে চলে গেলেন, ইকোনমিতে বিশ্বের রোল মডেল হলেন। সেখানে আপনারা কী করেছেন, কেনো ইকোনমিকে ধারণ করার শক্তি উপার্জন করতে পারলেন না এই কয় দিনের জন্য। কারণ আপনারা পুরোটাই মিথ্যা কথা বলে এসেছেন, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

আজকে প্রতিটি মানুষ জীবনের ঝুঁকির মধ্যে-এমন দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, গার্মেন্টগুলো নিয়ে কী হয়েছে। যারা সংক্রমিত হয়ে ফিরে গিয়েছিল, তারা আবার ঢাকায় ফিরেছে। জাতিকে এভাবে ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া ক্ষমাহীন অপরাধ। আমিতো মনে করি, এটা ভুল নয়, ক্রিমিনাল অফেন্স। আপনারা মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের জায়গায় আঘাত করছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে 'টিপটপ জেন্টেলম্যান' উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তিনি সুযোগ পেলেই বিএনপিকে আক্রমণ করেন সুন্দর এবং তাঁর সুলতিত ভাষায়। আমি একটাই কথা বলতে চাই, আপনি যে কথাগুলো বলেন, আপনি কী সেটা পরে আবার শোনেন যে কী বলছেন। শোনা উচিত এজন্য যে, শুনলে আপনি নিজেই বুঝবেন জনগণ কথাগুলো বিশ্বাস করছে না। নিজেই বুঝবেন যে কথাগুলো সঠিক নয়। তিনি বলেন, আজকে সরকারের তরফ থেকে আক্রান্ত ও সুস্থ এবং মৃত্যুর যে ডেটা দেওয়া হচ্ছে আমার তো মনে হয় না বাংলাদেশের কোনো মানুষ তা বিশ্বাস করে।'

বিএনপির মহাসচিব বলেন, যারা এই চরম দুর্দিনে জনগণকে সঠিক তথ্য দিচ্ছে না, বিভ্রান্ত করছে, এটা ক্রিমিনাল অফেন্স না তো কি বলব। কারণ প্রশ্নটা হচ্ছে জীবনের।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'আজকে এই দু:সহ অনিশ্চয়তা, ভীতি, এবং জীবনের ঝুঁকির মধ্যেও সাংবাদিকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, তাদের কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আজকে সকালেই দেখলাম, একজন কার্টুনিস্ট এবং একজন ব্লগারকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। গতকালই দিনে দেখলাম কয়েকজন সাংবাদিককে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।'

মির্জা ফখরুল বলেন, কী দেশ, কী রাষ্ট্র, কী সরকার। যেই সাংবাদিককে গুম করে ফেলা হলো, তাঁর পরিবার অস্থির হয়ে খোঁজ করেও পলে না। যখন তাঁকে পাওয়া গেল বেনাপোলে, তখন তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে মামলা দেওয়া বেআইনি অনুপ্রবেশের। আজকে সত্য প্রকাশের দায়ে সংবাদকর্মীদের কারাগারে নেওয়া হচ্ছে। তারা কোনো ভিন্নমত তারা সহ্য করছে না।

বিএনপির মহাসচিব এই সময়ে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতির নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের চাকরি ফেরত দিতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারের ৯৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনায় সাংবাদিকদের জন্য কোনো বরাদ্দ না রাখার সমালোচনা করেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'কেন, এত সফল সরকার, এত রাজস্ব আয় তাদের; সেগুলো থেকে কী একটু আলাদা করে সাংবাদিকদের বিশেষ বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ দেওয়া যায় না?'

অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, করোনা পরিস্থিতি দিনকে দিন চরম পরিণতির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু দুর্যোগের মধ্যেও সরকারের ফ্যাসিবাদের আঘাত থামছে না। বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনাকে তারা বিকৃত করে উপহাস করে, তুচ্ছতাচ্ছিল্যভাবে উপস্থাপন করছে।


জামায়াতের সংস্কারপন্থীদের নতুন দল ...প্রবচন ডেস্ক: মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাসহ দলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বেরিয়ে আসা অংশটি নতুন দল নিয়ে রাজনীতিতে আসছে। ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি (এ বি পার্টি)’ নামে দলের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী শনিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নাম ঘোষণা করা হবে।


জানা গেছে, গত বছরের এপ্রিলে জামায়াত থেকে বেরিয়ে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের যে অংশটি ‘জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ নামের নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গঠন করেছিল, তাদের উদ্যোগেই নতুন এ দল হচ্ছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত আছে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের উপেক্ষিত নেতাকর্মীদের একটি অংশ। তবে নতুন দলটির মুখ্য নেতৃত্বে কে থাকছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও জামায়াত থেকে পদত্যাগী নেতা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের নাম আলোচনায় রয়েছে।

জনআকাঙ্ক্ষার প্রধান সমন্বয়ক মজিবুর রহমান মন্জু নতুন দল ঘোষণার কথা স্বীকার করে যুগান্তরকে বলেন, ২ মে শনিবার সকাল ১১টায় বিজয় নগরের কেন্দ্রীয় দফতরে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হবে দলের নাম, কর্মসূচি ও আহ্বায়ক কমিটি। নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটি ১৩০ সদস্যের হতে পারে। এই কমিটি দলের গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব জেলা কমিটি গঠন করবে। পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের নতুন নেতৃত্ব আসবে।

জামায়াতে ইসলামীর সংস্কার ও মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়ার প্রশ্নে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আবদুর রাজ্জাক দল থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি জামায়াতের জ্যেষ্ঠ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। তখন রাজ্জাক নতুন দল না করা এবং সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকার কথা বলেছিলেন। যদিও তার শুভাকাক্সক্ষী ও সমর্থকদের অনুরোধে তিনি মত পাল্টেছেন বলে জানা গেছে। পদত্যাগের সময় রাজ্জাকের অবস্থানকে সমর্থন করে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান। পরে তাকে সমন্বয়ক করে ‘জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ গঠন করা হয়। সংগঠকেরা বলছেন, নতুন দলের নাম ঘোষণার পর জনআকাঙ্ক্ষা নামটি থাকবে না।

এদিকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আবদুর রাজ্জাকের পদত্যাগ এবং মুজিবুর রহমানকে বহিষ্কারের প্রেক্ষাপটে জামায়াত ঘোষণা দিয়েছিল নতুন নামে দল করার। এ লক্ষ্যে জামায়াতের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে বলে তখন এক সাংগঠনিক নির্দেশনায় নেতাকর্মীদের জানিয়েছিল জামায়াত। কিন্তু এক বছর পার হলেও নতুন দল হয়নি। এর মধ্যে গত বছর শফিকুর রহমান লন্ডন সফর করেন, সেখানে দলীয় সংহতি রক্ষায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি আবদুর রাজ্জাক যাতে নতুন উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হন, সেজন্য তাকে অনুরোধ করেন। শফিকুর রহমান এখন জামায়াতে ইসলামীর আমীর।

জনআকাঙ্ক্ষার দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, জামায়াতের তৎকালীন সেক্রেটারির সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। আবদুর রাজ্জাক যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ যেসব দেশে জামায়াতের ভালো সংগঠন আছে, তাদের সংগঠিত করতে ‘জনআকাঙ্ক্ষা’কে সহায়তা করেছেন। এরই মধ্যে নতুন দল ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’র জন্য লন্ডনে জামায়াত ঘরানার তিনজনকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে নতুন দলের উদ্যোক্তারা দেশের ৪৫ জেলা সফর করেছেন। ১৫০টি সভা সেমিনার করেছেন। জনআকাঙ্ক্ষার দায়িত্বশীল একাধিক নেতা দাবি করেন, জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীলদের অনেকে ভেতরে-ভেতরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন, যারা জামায়াতে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। তাদের অনেককে নতুন দলে দেখা যাবে।

সূত্র জানায়, সোমবার নতুন দলের নাম ঘোষণা উপলক্ষে ‘জনআকাঙ্ক্ষা’র সেগুনবাগিচার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন নেতারা। এ বৈঠকেই শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে দলের নাম ঘোষণার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। সাবেক সচিব এএফএম সোলাইমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জনআকাঙ্ক্ষার প্রধান সমন্বয়ক মজিবুর রহমান মন্জু, কেন্দ্রীয় সংগঠক অধ্যাপক ডা. মেজর (অব.) ওহাব মিনার, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার যুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, যুবনেতা সাজ্জাদ হোসাইন, খালিদ হাসান, আনোয়ার সাদাত টুটুল, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, এসএম আবদুর রহমান, ডিএইচ মারুফ, ওবায়দুল্লাহ মামুন, অ্যাডভোকেট সাঈদ নোমান, আমজাদ হুসেইন, আবদুল্লাহ আল হাসান প্রমুখ।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget