Articles by "সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম"

সাঈদীকে প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে কাল্পনিক 'মন্ত্রিসভা' গঠন, যুবক গ্রেপ্তার
প্রবচন ডেস্ক: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে প্রধানমন্ত্রী করে কল্পিত মন্ত্রিসভার এক ছক তৈরি করে তা পোস্ট করায় আব্দুর রহিম (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কল্পিত মন্ত্রিসভায় জামায়াত নেতা, ধর্মীয় আলোচক ও বিএনপি জোটের নেতারাও রয়েছেন। 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার আব্দুর রহিমের বাড়ি দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের সর্দারপাড়া এলাকায়। সে ওই এলাকার নায়েব আলীর ছেলে।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দেবীগঞ্জ থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ওই যুবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জায়গায় জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেই সাঈদী, ধর্মমন্ত্রীর জায়গায় মিজানুর রহমান আজহারী, অর্থমন্ত্রীর জায়গায় আন্দালিব রহমান পার্থসহ মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে জামায়াত নেতাসহ তার মনগড়া নেতাদের নাম বসিয়ে কল্পিত মন্ত্রিসভার ছক এঁকে তা তার ফেসবুকের টাইমলাইনে শেয়ার করে। সেখানে ওই যুবক লেখে যে, এই ব্যক্তিরা যদি সরকার পরিচালনা করত তাহলে কতই না ভালো হতো।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট দেয়ার পর পরই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশ অবহিত করেন। সোমবার গভীর রাতে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও জব্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই গোলজার হোসেন।

উল্লেখ্য, গত দু’দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের পছন্দের মানুষের ছবি দিয়ে ‘কল্পিত মন্ত্রিসভা’ এর ছক একে তা পোস্ট করছেন। বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হতে দেখা গিয়েছে। অনেকে জানিয়েছেন, ‘আমরা কেবল মজা করার জন্য এমনটি করেছি। এমন নয় যে, এর মাধ্যমে আমরা দেশের মন্ত্রিসভা নির্বাচন করছি।’


মাওলানা ইন'আমুল হাসান ফারুকী: ২০১৮ সালের রমজানে আল্লামা বাবুনগরী হুজুর ঢাকায় যান হাটহাজারী  মাদরাসার চাঁদা কালেকশন করতে। প্রায় ১০ দিন হুজুর ঢাকাতেই ছিলেন এবং মাদরাসার জন্য কালেশন করেছেন।

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী সাহেব আমাদেরকে জানালেন, পুরানা পল্টনের সুবহান ম্যানশনে এস.এম.এম নামে একটি নতুন কুরিয়ার সার্ভিস হয়েছে। সে কুরিয়ার সার্ভিসের মালিকদের একজন মাওলানা হানিফ সাহেব। যার বাড়ি হাটহাজারীতে। তিনি কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানীর পক্ষ থেকে হাটহাজারী মাদরাসার জন্য কিছু অনুদান দেবেন। তাই মাওলানা হানিফ সাহেব বাবুনগরী হুজুরকে সেখানে ইফতারের দাওয়াত দেন।

২০১৮ সালের ১৯ রমজান। ওইদিন এসএমএম অফিসে যাওয়ার জন্য সময় ঠিক করা হলো। অন্যান্য কালেকশন শেষ করে আসরের পরে হুজুরকে নিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসটির অফিসে যাই। তারা হুজুরকে দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। কোম্পানির সকল শেয়ার হোল্ডার সেখানে ইফতারের জন্য উপস্থিত হন এবং সবাই তাদের রিলেটিভদের আমন্ত্রণ জানান। 

সেদিন ইসলামাবাদী সাহেবের আরেকটি প্রোগ্রাম ছিলো ছাত্রসমাজের ইফতার মাহফিলে। তিনি বক্তব্য দিয়ে হুজুরের সাথে ইফতার করার জন্য চলে আসেন।

ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে একজন ব্যক্তি আসলো। আমি তাঁকে চিনতাম না। উপস্থিত অফিসের একজন ডাইরেক্টর আওয়ামী লীগ নেতা জানালেন তিনি সাঈদী সাহেবের ছেলে শামীম সাঈদী।শামীম সাঈদী জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেব হুজুরকে নিজের পরিচয় দেন, বাবুনগরী সাহেব হুজুর তাকে চিনতেন না। তিনি  হুজুরের পায়ের কাছে বসেন। 

মাগরীবের নামাজের পর শামীম সাঈদী জুনায়েদ বাবুনগরী হুজুরের সাথে কথা বলতে চান। তিনি বাবুনগরী হুজুরের পাশে বসা অবস্থায় ওনার এক সহকারী আমাদের সকলের অজান্তে ছবি তুলে ফেলেন। তখন বাবুনগরী হুজুর বিষয়টা জানতে পেরে তার ওপর প্রচণ্ড রাগ হন এবং ছবিটি ডিলেট করতে বলেন।

তিনি বললেন, ছবিটা শুধু স্মৃতি হয়ে থাকবে, অন্য কিছু না। তখন উপস্থিত আজীজুল হক ইসলামাদী সাহেব এবং আমি (ইনআমুল হাসান) তাকে ছবিটি ডিলেট করার জন্য বললে তিনি বললেন ‘আচ্ছা ডিলেট করে দিচ্ছি’। কিন্তু তা ডিলিট করেননি, বরং মিথ্যা কথা বলেছে। এটাই ছিলো ছবির মূল কাহিনী।

ইফতার মাহফিলে শামীম সাঈদীর উপস্থিতিতে বাবুনগরী হুজুর বিব্রতবোধ করছিলেন। মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীও শামীম সাঈদী উপস্থিত হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে মাদরাসার জন্য অনুদানের চেকটি গ্রহণ করে আমরা চলে আসি। এটা আদৌ কোন জামাত শিবিরের মিটিং ছিলো না।

এটা ছিলো এস.এম.এম. কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানির ইফতার মাহফিল। এখানে সব রাজনৈতিক ঘরানার লোক উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের অনেক রাজনৈতিক নেতাও এখানে ছিলেন।

দুঃখজনক বিষয় হল, রমজানের কিছুদিন পরই শামীম সাঈদী বাবুনগরী হুজুরের সাথে সেদিন ইফতারের সময়ে তোলা ছবিটা ফেসবুকে ছেড়ে দেন। এই কারণে পরের বছর হুজুর আর সেখানে অনুদানের জন্য যাননি। 

এখন প্রশ্ন হলো, ২০১৮ সালের এই ছবিকে পুঁজি করে এখন কেন নানা মিথ্যা কল্পকাহিনী সাজানো হচ্ছে? কেন সরকার বিরোধী প্রমাণ করার জন্য মিডিয়ায়  মিথ্যা নিউজ করানো হচ্ছে এবং বাবুনগরী হুজুরকে জামাতি বানানোর মিথ্যা পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইফতার মাহফিলে বসার কারণে যদি হুজুর জামাতী হন তাহলে সেখানে অনেক অনেক বড় আওয়ামী লীগের নেতারাও ছিলো তাহলে তো হুজুরকে আওয়ামীলীগও বলা যাবে? 

আসলে এগুলো চক্রান্তমূলক ভাবে করা হচ্ছে। হুজুরকে আমরা চিনি, উনি সারাজীবন জামাতের বিরুদ্ধে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। বাবুনগরী হুজুর মৌদুদী সাহেবের ভ্রান্ত মতবাদের বিরুদ্ধে এখনো সবসময় ছাত্রদের সামনে ক্লাসে আলোচনা করেন। এখনো বাবুনগরী হুজুর তাঁর বয়ান বক্তৃতায় ও লিখনীতে জামাতের ভ্রান্ত মতাদর্শ সম্পর্কে জাতিকে সচেতন করে আসছেন। গত ১ জানুয়ারী ২০২০ সনে দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতির বিশাল সমাবেশে মৌদুদী ভ্রান্ত মতাদর্শ সম্পর্কে চুলচেড়া বিশ্লেষণ করেছেন। 

কিন্তু বিষয় হলো যখন ২০১৮ সালে শামীম সাঈদী ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করেছিলো, এতদিন কেন কোন প্রশ্ন করা হলো না? কেন কোন তাহকিক না করে ৩ বছর পর এই ছবি সামনে আনা হলো একটি বিশেষ মুহূর্তে? আসলে গোপন বৈঠক বলে সেই পুরান ছবি ফেসবুকে প্রচার করে আলেম ও মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করার একটি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন চলছে।

কিন্তু এখন একটি কুচক্রী মহল হুজুরকে সমালোচিত করার জন্য এই ছবিটি দিয়ে জল ঘোলাটে করার জন্য বিভিন্ন পায়তারা করে যাচ্ছে। অথচ বিষয়টি সম্পুর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোওয়াট ও অবাস্তব ।

আরেকটি আজীব ব্যাপার, মাসুদ সাঈদীর সাথে বৈঠকের যে কথাটি কুচক্রী মহল প্রচার করেছে তারা সম্পুর্ণ মিথ্যাবাদি। কারণ মাসুদ সাঈদী নামক কাউকে বাবুনগরী হুজুর চিনেনও না, কখনো নামও শুনেননি, দেখাও হয়নি।  কথাবার্তা বৈঠক এটা কল্পনাপ্রসূত এবং দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তির ব্যাপারে কোন দাবী বাবুনগরী হুজুর কখনো করেননি ও করবেনও না। 

আসল কথা হলো, যারে দেখতে নাই তার চলন বাঁকা। জেনে রাখুন সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে সাময়িক সুবিধা নেয়া যায়। কিন্তু সত্য একদিন কথা বলবে।

মোটকথা হলো, একটি কুচক্রি মহল নিজেদের কুপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ২০১৮ সনের ইফতার মাহফিলের এ ছবিটি প্রচার করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। যেসব চিহ্নিত ষড়যন্ত্রকারীরা এসব কাজ করছে শামীম সাঈদীসহ  আরো বহু মানুষের সাথে তাদেরও ছবি রয়েছে এবং অনলাইনে তাদেরও ছবি ভাইরাল হয়েছে। বাবুনগরী হুজুরের সাথে শামীম সাঈদীর ছবি থাকার কারণে যদি বাবুনগরী হুজুর জামাতি হয়ে যান তাহলে ওইসব ষড়যন্ত্রকারীরাও তো বড় জামাতি কারণ জামাতের অনেকের সাথে তাদেরও ছবি রয়েছে । 

আমি দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হুজুরের খেদমতে থেকে দেখেছি- বাবুনগরী হুজুর সদা সত্য ও ন্যায়ের ওপর অটল-অবিচল আছেন, আমরণ থাকবেন, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ সবাইকে মিথ্যা থেকে বাঁচার তাওফীক দান করুন,আমিন। 


লেখক:
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর একান্ত খাদেম

[এই লেখার সত্যাসত্য এবং বাস্তবতার সম্পূর্ণ দায়ভার লেখকের নিজের]

বিশেষ প্রতিবেদক: ভোলার মনপুরায় শ্রীরাম নামে এক যুবক মহানবী (সা.) ও বিবি আয়শাকে জড়িয়ে কটূক্তিমূলক ফেসবুকে পোস্ট শেয়ারকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও মুসল্লিদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার জুম্মার পর মনপুরা উপজেলার রামনেওয়াজ জামে মসজিদের মুসল্লি, কাউয়ারটেক কিল্লার পাড় জামে মসজিদের মুসল্লি ও চৌমুহনী জামে মসজিদের মুসল্লিরা রামনেওয়াজ চৌমুহনী বাজারে মিছিলসহ একত্র হয়ে প্রতিবাদ করে।

এ সময় চৌমুহনী বাজারে শ্রীরাম দাসের  দোকান ঘর ভাঙচুর করে উত্তেজিত কিছু যুবক। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে উত্তেজিত মানুষের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশ ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

এদিকে ফেইসবুকে মহানবী ও বিবি আয়েশাকে নিয়ে কটূক্তিমূলক পোস্ট শেয়ার দেওয়া যুবক শ্রীরামকে গ্রেপ্তার করেছে মনপুরা থানা পুলিশ। শ্রীরাম মনপুরা উপজেলা রামনেওয়াজ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার দুলাল চন্দ্র দাসের ছেলে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

পুলিশের ছোড়া গুলিতে মনপুরা উপজেলার বাসিন্দা জহির, সাইফুল, করিম, আল আমিন, রাহাত ও ছোট করিম আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার তিন ঘণ্টা পর আবারও মাগরিবের নামাজের পর হাজিরহাট ইউনিয়নে ফকিরহাটে কয়েকটি দোকানে উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর করে বলে জানা যায়।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মনপুরা উপজেলার রামনেওয়াজ ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার দুলাল দাসের ছেলে শ্রীরাম চন্দ্র দাস তার ফেসবুকে মহানবী (সা.) ও বিবি আয়শাকে নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্যের একটি পোস্ট শেয়ার করে। তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়।

শুক্রবার সকালে উপজেলার ইমামদেরকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্রীরামের শাস্তি নিশ্চিত করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। পরে শ্রীরামকে আটকে দেরি হলে শুক্রবার জুমার পর রামনেওয়াজ বাজার জামে মসজিদের মুসল্লি, কাউয়ারটেক কিল্লারপাড়া জামে মসজিদের মুসল্লি ও চৌমুহনী বাজার জামে মসজিদের মুসল্লিরা এই ঘটনার প্রতিবাদে মিছিলসহকারে মনপুরার রামনেওয়াজ বাজারে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবককে আটকসহ উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে কিছুসংখ্যক উত্তেজিত জনতা শ্রীরামের চৌমুহনী বাজারে ভাড়া দেয়া দোকান ঘরে হামলা করলে পুলিশ বাধা দেয়।

পরে পুলিশের সঙ্গে মুসল্লিদের ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ বাঁধে। এই ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। পুলিশের গুলিতে ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া য়ায়। আহতদেরকে মনপুরা হাসপাতালসহ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মহানবী (সা.) ও বিবি আয়শা রাযি. কে জড়িয়ে কটূক্তিমূলক পোস্ট শেয়ার দেয়া শ্রীরাম নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখন অবস্থা স্বাভাবিক আছে।

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস জানান, ফেসবুকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মনপুরায় কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। শ্রীরাম নামে এ যুবককে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন সজাগ দৃষ্টি রাখছে। এলাকাবাসী, ইমামদের ও প্রশাসকের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। 

সেতু' আর 'লাইভ' নিয়ে আছেন যে ...
ডেস্ক: দেশে যখন লকডাউন ছিল না তখন প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শিশু জন্ম হতো সিজারে। আর ক্লিনিকগুলোতে ৯৫ শতাংশ ইনকাম ছিল সিজার থেকে। করোনার মধ্যে বাংলাদেশে সিজারের সংখ্যা কমে গেছে। কিন্তু প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর হার বাড়েনি। এ থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

তিনি বলেন, বিদেশে চার শতাংশ শিশুর জন্ম হয় সিজারে। আর বাংলাদেশে সিজারে জন্ম হয় ৯৬ শতাংশ শিশু। নরমাল ডেলিভারি হয় চার শতাংশ। অথচ লকডাউনে ৯৬ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়েছে নরমাল ডেলিভারিতে।

শুক্রবার (৮মে) ফেসবুকে লাইভে এসে এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার সুমন। লাইভের শুরুতে ফেসবুকে অসমর্থিত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, করোনার সময় লকডাউনে দেশে এক লাখ ৭৫ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে, এর মধ্যে মাত্র চার শতাংশ শিশুর জন্ম সিজার অপারেশন হয়েছে। আর বাদ বাকি ৯৬ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়েছে নরমালে।

তিনি আরও বলেন, যখন লকডাউন ছিল না তখন ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শিশুর জন্ম হতো সিজারে। প্রসূতি নারীকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার এমনভাবে বোঝাতেন সিজার না করলে বাচ্চা বা মাকে বাঁচানো সম্ভব না। করোনাভাইরাস আমাদেরকে কতকিছু শেখাচ্ছে?

প্রসূতির অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে হাইকোর্টে একটি রিট করেছিলাম ব্যারিস্টার সুমন। এ প্রসঙ্গকে টেনে তিনি বলেন, তখন হাইকোর্ট একটি রুল দিয়েছিল অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে সরকার কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না। এখন আমি জানি না সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছেন। কিন্তু দেখুন, প্রকৃতি এমন ব্যবস্থা নিয়েছে যে ক্লিনিকগুলো খোলাই রাখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ক্লিনিকগুলোতে ডেকে নিয়ে যেভাবে ব্যবসা করত এখন সেগুলো বন্ধ রয়েছে। এখন আর ব্যবসা করার সুযোগ নাই। দেশে শিশুর জন্ম কিন্তু বন্ধ থাকছে না লকডাউনে। নির্দিষ্ট তারিখে শিশু জন্ম হচ্ছে। সিজার না হওয়ার একমাত্র কারণ এখন ক্লিনিকগুলো বন্ধ। আপনারা জানেন কি-না আমি তখন (রিট আবেদনে) বলেছিলাম যে, ক্লিনিকগুলোর ৯৫ শতাংশ ইনকাম হয় এই অপ্রয়োজনীয় সিজার থেকে।

‘ক্লিনিকগুলো বন্ধ থাকার কারণে এবং আজকের দুঃসময় আসার কারণে আপনারা কী দেখলেন? স্বার্থপরতা দেখলেন। ক্লিনিক বন্ধ থাকার কারণে অপ্রয়োজনীয় সিজারও বন্ধ হয়ে গেছে। আমি জানি না, কোভিড নাইনটিন পরবর্তীতে আমরা বাঁচব কি না। তবে যারা বাঁচবে তাদের জন্যেই এই ভিডিও বার্তাটি রেখে যেতে চাই’-যোগ করেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, সিজার বন্ধ হওয়ার কারণে যে প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে তাও কিন্তু না। এর মানে হচ্ছে প্রোপার রেস্ট নিলে বাড়ি ঘরে থাকলে আমাদের মা বোনদের নরমাল ডেলিভারি সম্ভব।

‘আপনারা এমন একটা বাস্তবতা দেখবেন যে ডাক্তাররা একটা কমন কথা বলেই, আমার বাচ্চার জন্মের সময় ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর একই কথা শুনেছিলাম ডাক্তারের কাছ থেকে। তারা বলেন, গর্ভের শিশু শুকনাতে পড়ে গেছে পানি ভেঙে গেছে। এই দু-একটা কথা বললেই যারা নতুন বাবা হন তাদের মাথা ঠিক থাকে না, তাদের হুশ নষ্ট হয়ে যায়। এই অবস্থায় বলেন, যা ইচ্ছা করেন কিন্তু তো আমার বাচ্চাটাকে বাঁচিয়ে রাখেন।’

তিনি বলেন, এই সুযোগ নিয়ে কিছু কিছু গাইনি ডাক্তার, সুস্থ প্রসূতির সিজার করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। আমি এই ভিডিওটা রেখে যাচ্ছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। আপনারা এটা থেকে যদি কিছু শিক্ষা দিতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চার শতাংশ সিজার প্রয়োজন হয়, বাকি ৯৬ শতাংশ সিজার প্রয়োজন পড়ে না। বিদেশে আত্মীয়-স্বজনের কাছে শুনবেন না কখনও প্রসূতির সিজারের প্রয়োজন হয়।

‘প্রকৃতির বিচারেই আমরা এখন কিছুটা মানুষ হতে শিখছি। করোনাভাইরাস হয়তো থাকবে না, আমরাই মানুষ হওয়াটা যেন জারি রাখি। আপনারা ভবিষ্যতে যারা বাবা এবং মা হবেন তাদেরকে আহ্বান জানিয়ে বলছি, আপনারা এসব অনৈতিক সিজার থেকে দূরে থাকবেন। এই ক্লিনিকগুলো থেকে দূরে থাকবেন। সাথে সাথে সরকারকেও বলছি, এটা (করোনাকালীন সময়) থেকে শিক্ষাগ্রহণ করেন, করোনা-পরবর্তী বাংলাদেশে যেন সিজারে কম শিশু জন্ম নেয়।’

-জিএন


সাজা কমিয়ে সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

নিউজ ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ওই শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ সোলায়মান ইসলাম (৪০)। তিনি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী কে এন ইনস্টিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক।

ওসি আশরাফুল আলম জানান, সোলায়মান ইসলামের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের আবুডাঙ্গা গ্রামে। গত শনিবার রাতে ফেসবুকে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে তিনি স্ট্যাটাস দেন। পরদিন (রোববার) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান।
-ওআই

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget