Latest Post

বাংলাদেশের আকাশে শুক্রবার সন্ধ্যায় পবিত্র মাহে রমযান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় শনিবার থেকে মাসব্যাপী রোযা শুরু হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ কথা জানানো হয়। পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার মাস রমযানে সংযম-সাধনা ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। রোযাদাররা ভোর রাতে সাহরি খেয়ে পরদিন সূর্যাস্তে ইফতার পর্যন্ত পানাহার না করে সংযম পালন করবেন।
এদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশের মসজিদগুলোতে এশা ও তারাবির নামাজের জামাতে সর্বোচ্চ ১০ মুসল্লি ও দুই হাফেজসহ মোট ১২ জন অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। সেই সাথে বলা হয়েছে, রমযান মাসে দেশে ইফতার মাহফিলের নামে কোনো ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না।
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আকাশে বৃহস্পতিবার পবিত্র মাহে রমযানের চাঁদ দেখা যাওয়ায় তারা শুক্রবার থেকে রোযা রাখা শুরু করেছে।
গলফ নিউজের খবর অনুযায়ী, মালয়েশিয়া, মিসর, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ শুক্রবার থেকে রোযা পালনের তথ্য জানিয়েছে।
-ইউএনবি

সহীহ হাদীছ দ্বারা তারাবীর নামায বিশ ...রমযানে দেশের সব মসজিদে তারাবির নামায চালু থাকবে। তবে করোনার কারণে এতে ইমাম, মুয়াযিযন, দুইজন হাফেজসহ সর্বমোট ১২ জন মুসল্লি অংশ নেবেন। এছাড়া ইফতার মাহফিলের নামে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনাসহ শুক্রবার একটি সার্কুলার জারি করা হবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয় সূত্র।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মুহা. আব্দুল্লাহ বলেছেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সীমিত আকারে দেশের মসজিদগুলোতে তারাবি চালু থাকবে। প্রত্যেক মুসল্লি ঘর থেকে অজু করে আসবেন। অসুস্থ বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা মসজিদে না এসে ঘরে নামাজ আদায় করবেন। তারাবিতে সর্বোচ্চ ১২ জন মুসল্লি উপস্থিত থাকতে পারবেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন এক বার্তায় জানান, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ১০ জন মুসল্লি ও দুইজন হাফেজসহ মোট ১২ জনের অংশগ্রহণে রমজান মাসে মসজিদগুলোতে এশা ও তারাবির নামায আদায়ের সুযোগ থাকবে। এর সাথে ইতোপূর্বে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জারিকৃত মসজিদে জুমা ও জামাত বিষয়ক নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। এছড়া রমযান মাসে ইফতার মাহফিলের নামে কোনো ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না। এ বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিস্তারিত নির্দেশনাসহ শুক্রবার একটি সার্কুলার জারি করবে।
সূত্র মতে, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে গত ৬ এপ্রিল ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের মসজিদগুলোকে মুসল্লি সংখ্যা সীমিত করা হয়। মসজিদে ইমাম, মুয়াযিযন ও খাদেমদের সমন্বয়ে পাঁচ ওয়াক্তের জামাতে সর্বোচ্চ পাঁচজন করে এবং জুমার জামাতে ১০ জন করে অংশ নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার এক বিবৃবিতে ১৪টি শর্তে সুস্থদের জন্য মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানায় কওমি মাদরাসার শীর্ষ সংস্থা আল হাইয়াতুল উলইয়া। বুধবার ওই সংস্থাটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মুহা. আবদুল্লাহ বৈঠক করেন।
বৈঠক থেকে আলেমদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ প্রশাসনের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা ফোনে মতবিনিময় করেন। সেই আলোচনায় মক্কা-মদিনায় মসজিদুল হারামাইনের আদলে রমযানে তারাবিসহ অন্যান্য নামাযের জামাতের অনুমতি দেয়ার বিষয়ে অনুরোধ জানান আলেমরা।
-এএ

অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে বলতে হয়, কওমি মাদরাসার ডালভাত, নেমক খেয়ে, কওমি মাদরাসার পাঠাগার থেকে সাহিত্য শিখে কিছু কুলাঙ্গার কওমি মাদরাসারই শেকড় কাটার কাজে ব্যস্ত। আমি বলছি না যে, এই অঙ্গনের অসঙ্গতি নিয়ে আলোচনা করা যাবে না। দেখুন, আলোচনা আর শেকড় কাটা এক নয়, তা সবাই খুব সহজেই জানে।
লেখালিখি যখন শুরু করি, সেই ২০০২/২০০৩ সালের কথা। তখন হাসানুল কাদির নামের একজন লেখক সেলেব্রিটি ছিলেন এই অঙ্গনে। মজবুত ছিলো তার লেখার হাত। নবীন লেখকদের কিছুটা আইডল ছিলেন তিনি। অনেক নবীন স্বপ্ন দেখতো, তার মতো লেখক হবে। এই লেখক শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন বামপন্থী পত্র-পত্রিকায় ঘুরে ঘুরে তাদের টোপের শিকার হয়ে কওমি মাদরাসার শেকড় কাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।
তার পরিণতিটা আপনারা সবাই ভালো করেই জানেন। এখন সে পুরোপুরি উন্মাদ-পাগল। রাস্তায় পড়ে থাকেন। নর্দমার খাবার খান। শেকল দিয়ে তাকে বেঁধে রাখা হয়। আল্লাহপাক আমাদেরকে এমন অপদস্থ জীবন থেকে হেফাজত করুন, আমীন।
এ রকম ভ্রষ্টদের তালিকা অনেক। সেদিকে যাচ্ছি না। এবার আসি মূল কথায়।
করোনার মতো বৈশ্বিক মহামারীতে যখন বাংলাদেশও ক্রমশ ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে চললো, করোনায় আক্রান্ত মৃতদেহ ফেলে আদরের স্বজনরা পর্যন্ত ভয়ে পালিয়ে যায়, লাশ দাফন করার মতো কেউ এগিয়ে আসে না; দেশ ও জাতির এমন নাজুক সময়ে আল মারকাযুল ইসলামী নামের সংগঠনটির একদল নিবেদিতপ্রাণ আলেম এগিয়ে এলেন। কওমির এসব আলেম মৃত্যুভয় ভুলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনায় মৃতদের লাশ দাফন-কাফনে এগিয়ে এলেন।
তাদের এই মহানুভবতার কাজগুলো প্রায় প্রত্যেকটি জাতীয়মানের টিভি চ্যানেলে ফলাও করে প্রচারিত হতে লাগলো। রিপোর্টারদের ভাষ্যমতে, এইসব আলেমের কাজ দেখে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে, পৃথিবী থেকে এখনো মানবতা নামক শব্দটির বিদায় হয়নি...।
এমন এক সময়ে ‘বাংলা ট্রিবিউন’ নামের জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টালে বন্ধুবর সালমান তারেক শাকিল আল মারকাযুল ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুফতি শহীদুল ইসলাম সাহেবকে ‘হুজিনেতা’ ট্যাগ লাগিয়ে কাকে/কাদেরকে খুশি করতে চাইছে বুঝলাম না। বুঝলাম না বললে ভুল হবে, হাসানুল কাদির যেই ভ্রষ্টপথে হাঁটছিলো, সালমান তারেকেও সেই পথে হাঁটছে। এবং বামপন্থী দাদাবাবুদের খুশি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। যারা ইসলাম ও ইসলামপন্থীদের কোনো উন্নতি দেখলেই এলার্জিতে ভোগে।
ওর সঙ্গে রাত জেগে দেয়ালিকা লিখতাম, তখন দেয়ালিকার সম্পাদক ছিলাম আমি। গল্প করতাম। মাদরাসার সব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আমরা একসঙ্গে কাজ করতাম। সেই দলের অনেক বন্ধুই এখন বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। তবে কখনোই ভাবিনি, সালমান তারেক এতোটা বিগড়ে যাবে।
ভাবিনি, তবে কিছুটা আঁচ করেছিলাম। সে সময়কার জনপ্রিয় একটা সাপ্তাহিক ছিলো ‘এখন’ নামে। সেই পত্রিকায় সব আলেমদের জড়িয়ে ছড়া লিখলো সালমান। ছড়াটি সম্পাদকীয় পাতায় ছেপে অনন্য মূল্যায়ন করেছিলেন ওই পত্রিকার সম্পাদক। এবং সালমানের ওই আলেমবিরোধী ছড়ার জন্য প্রশংসা করে সম্পাদক সাহেব কলামও লিখেছিলেন।
এরই জেরে আরজাবাদ মাদরাসার কিছু ছাত্র ওকে ‘সাইজ’ করতে আমাদের মাদরাসায় চলে এলো। তখনকার প্রিন্সিপাল মাওলানা ইমরান মাযহারী সাহেব তখন সামলে নিলেন এবং সালমানকে ডেকে আমাদের সামনে তওবা পড়ালেন, যেন আর কখনোই এরকম ভ্রষ্ট লেখালিখি না করে।
সালমান কিছুদিন পর জনপ্রিয় দৈনিক আমাদের সময়ের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারের দায়িত্ব পায়। সেখানে গিয়েও কম করেনি। হেফাজত নিয়ে অনেক মনগড়া তথ্য প্রকাশ করেছে। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।
প্রিয় বন্ধু! তোমার মতো কিংবা তোমার চেয়েও অনেক বড় সেলেব্রিটি সময়ের স্রোতে হারিয়ে যায়। বামঘরানার সাময়িক বাহবা পাওয়ার জন্য তোমার এতো বড় পদস্খলন মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। এখনো সূর্য ডুবে যায়নি, ফিরে এসো নীড়ে। কওমি মাদরাসা বা ইসলামের বিরুদ্ধে কলম ধরে তুমি টিকবে না, হাজারবার সত্য। বরং সময়ের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। হাসানুল কাদির আমাদের জন্য বড় শিক্ষা।
তুমি তোমার কলমের গতি পাল্টাও। আমরা তোমাকে বরণ করে নেবো সময়ের নদভী, আবু তাহের মিসবাহ, যায়নুল আবিদীনের মতো। সময় ফুরিয়ে যায়নি।
লেখক: আবৃত্তিকার ও উপস্থাপক, কলরব


এবারের রমযান কবে থেকে শুরু? | 629262 ...

রমযান মাসের তারিখ নির্ধারণে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শুক্রবার (২৪ এপিল)সন্ধ্যায়।
ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে শুক্রবার সন্ধ্যায়  ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় ১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র রমযান মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রমযান মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
টেলিফোন নম্বর-৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭।
আগামীকাল চাঁদ দেখা গেলে শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে রোযা শুরু হবে।



১. মুসলিম উম্মাহর অভিজ্ঞ সদা কর্মতৎপর পরম সচেতন পরীক্ষিত ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুরব্বী মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দামাত বারাকাতুহুম এর পরামর্শ হলো, 'অন্যান্য নামাযের মত তারাবীও ঘরে পড়া ৷ মসজিদে পড়বেন ইমাম- মুয়াজ্জিন ও খাদেমগণ৷'
২. পাকিস্তানের করোনা পরিস্থিতি এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পর্যায়ে নয়। বিশ্ব মুসলিমের আস্থাভাজন মুখপাত্র ও যুগের সেরা ফকীহ আল্লামা মুফতি তাকী উসমানী দা বা বর্তমানে তাঁর দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যা সারা দুনিয়ায় পালন করা সম্ভব নয়, যেমন আরবের উলামায়ে কেরামের সব সিদ্ধান্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করা সম্ভব নয়।
তাছাড়া, মুফতি তাকী উসমানী সাহেবের বর্তমান সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের নানা মত ও পথের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সমন্বিত। হযরতের প্রথম সিদ্ধান্তের মতো ফিকহী স্বাতন্ত্র্য ও অসাধারণত্ব এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কার্যকর থাকেনি।
৩. বাংলাদেশের জন্য উলামায়ে কেরামের প্রথম দুই মিটিংয়ে প্রদত্ত দীনি নির্দেশনা সবদিক থেকে উত্তম ও গ্রহণযোগ্য, যা তারা ইসলামিক ফাউণ্ডেশনে বসে স্বাক্ষর করে জারি করে ছিলেন। এতে মসজিদে আজান ও সীমিত আকারে জামাত জুমা চালু রাখার ব্যাপারে আলেমগণ রায় দেন। তবে উল্লেখিত শর্ত ও নিয়ম মুসল্লীদের অনেকে না মানায় সরকার জামাত ও জুমা 'সীমিত' কথাটির ব্যাখ্যা মসজিদের ইমাম খতীব মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের ৫ এবং ১০ জন আদায় করবেন বলে করে দেয়। অবশ্য এ সিদ্ধান্তটি কেবল মন্ত্রী সচিব ও কর্মকর্তা পর্যায়ে নেওয়ায় এতে মাসআলাগত একটি টেকনিক্যাল সমস্যা থেকে যায়। যে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মুফতিয়ানে কেরাম সরকারের সমালোচনা করেন। এসময় কোনো ফকীহের সাথে যোগাযোগ করে নিলে ব্যাখ্যাটি ৫ জন ১০ জন না হয়ে হতে পারতো 'জামাত ও জুমা শুদ্ধ হওয়া পরিমাণ নামাজি'। তাইলে আর সংখ্যা নির্ধারণ করার অনিয়মটি নিয়ে সমালোচিত হতে হতোনা। তাছাড়া এর আগে থেকেই দেশব্যাপী মানুষের জন্য সাধারণ চলাচল ও সমাগমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সারাদেশে দীর্ঘ ছুটি ও সহনীয় পর্যায়ের লকডাউনও শুরু হয়ে গিয়েছে । এখানে বাইরে বের হওয়া সরকারের নিষেধ , নিজে না বুঝতে পেরে মারাত্মক রোগাক্রান্ত হওয়া বা পরিবার পরিজন সহ অন্যদের রুগ্ন করার সমূহ সম্ভাবনা ও ব্যাপক প্রাণহানির ভয়, মসজিদের জামাতে না গিয়ে নিজ নিজ অবস্থানে নামাজ পড়ার এমন বেশ ক'টি কারণে মসজিদে না যাওয়ার কথা সাব্যস্ত হতে পারে। মসজিদে যেতে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গ এখানে আসে কিনা তা উলামায়ে কেরামের জানা বিষয়।
৪. সরকারের জামাত সীমিত করার সিদ্ধান্ত শুরুতেই অমান্য বা প্রয়োজনীয় সংশোধন না করে মুরব্বিদের অনেকে এটি মেনে নিয়ে একে শরীয়তসম্মত আখ্যা দিয়ে সরকারকে স্বাগত জানান। এরপর প্রয়োজনীয় সংশোধনী দিয়ে এ সিদ্ধান্তটি আরো ত্রুটিমুক্ত করা ছাড়া সংশ্লিষ্ট আলেমদের নীতিগতভাবে আর বেশী কিছু বলার সুযোগ থাকে না।
৫. আরেক দল মুরব্বি এ সিদ্ধান্তকে ইসলাম বিরোধী আখ্যা দিয়ে কঠোর ভাষায় সরকারের নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছেন। তারা একে সরাসরি কুফরি ও হারাম সিদ্ধান্ত বলে ফতওয়া দিয়েছেন।
৬. এরপর ভিন্নমত পোষণকারী আলেমগণের সাথে এক হয়ে প্রথম দিকনির্দেশদানকারী আলেমরাও নতুন করে সরকারের প্রতি শর্ত ও নিয়ম দিয়ে মসজিদে ব্যাপকভাবে মুসল্লী যাতায়াত উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবী তোলেন। আজ রমজানের দুই অথবা তিন দিন আগে পর্যন্ত মানুষ জানে না, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী আসবে।
৭. আলেমরা এক হয়ে একইসাথে একটি শরীয়াসম্মত, স্বাস্থ্যসম্মত, রাষ্ট্রীয় আইনসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে পারলে খুবই ভালো হতো। চোখের সামনে মহামারীতে রাতদিন মানুষ মরছে, সুচিকিতসা পাচ্ছে না, আক্রান্তের সংখ্যা বিপজ্জনক হারে বেড়ে চলেছে, কোভিড১৯ মহামারী নতুন রূপ নিয়ে এসেছে যার সাথে অতীতের মহামারীর চরিত্রগত কোনো মিল নেই, লাশ দাফনে জড়িত আলেমদের সাথে কথা বলে মুরব্বিরা পরিস্থিতি জানতে পারেন, চিকিৎসার সাথে জড়িত লোকজনের মাধ্যমে মহামারীর বিস্তার ও মৃত্যুর ভয়াল রূপ সম্পর্কে জানতে পারেন। এসব তথ্য আদান-প্রদান করা ও কোভিড১৯ বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে মতবিনিময় ফতওয়া এবং সিদ্ধান্ত দিতে সহায়ক হবে।
৮. দেশের ৯০% মানুষ কষ্ট করে হলেও লকডাউন মেনে চলছে। পেটের তাগিদে, বাজার, ব্যাংক, ওষুধ, ত্রাণ, চিকিৎসা, মৃত্যু ইত্যাদি প্রয়োজন আর কিছু অপ্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছে। এসব আমাদের জন্য দলিল হতে পারে না। আমাদের দলিল শরীয়তের জীবনমুখী পরম বিজ্ঞানময় নির্দেশনা। জনগণ আশা করে, উলামায়ে কেরাম এক হয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এমন একটি সমাধান দিতে সক্ষম হবেন, যাতে ইসলামের মূল প্রেরণা, সৌন্দর্য্য এবং বিধান দানে শরীয়তের মহান মানবিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটে ।

পরিশিষ্ট
৯. সময় খুবই কম। হাফেজ সাহেবগণ মনস্থির করার মতো সময় পাবেন না। সরকারের উচিৎ সব মসজিদের ৩/৪ জন দায়িত্ব পালনরত ব্যক্তির জন্য দুই মাসের খাদ্য ও জরুরী সামগ্রী উপহার হিসেবে পৌঁছে দেয়া। এদের মধ্যে যারা নিজের জন্য নেবেন না, অন্য কোনো লোককে দিয়ে দিবেন। বড়ো আকারে তারাবী না হলেও প্রতি মসজিদের কর্তৃপক্ষ, যাদের মসজিদে হাদিয়া দেওয়ার নিয়ম আছে, তারা গতবারের মতোই আগের হাফেজ সাহেবদের এবারও হাদিয়া উপহার বা সম্মানী দিয়ে দিবেন। বৈশ্বিক সংকট মুহূর্তে, জাতীয় বিপর্যয়ের সময় এটি রাষ্ট্র সরকার এবং আমার আপনার সবার কর্তব্য।
*আমাদের সকলের মুরব্বি শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী দা বা এর সিহ্হতে কামিলা আজিলা দায়িমা এবং দীর্ঘ নেক হায়াতের জন্য সবাই দোয়া করবেন।

মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভীভাইস চেয়ারম্যান, গ্লোবাল কন্সাল্টেটিভ কমিটি, ইন্টারন্যাশনাল ফিকাহ অ্যান্ড ফতওয়া কাউন্সিল (আইএফএফসি)


সারাবিশ্ব কাঁপছে করোনা আতঙ্কে। করোনার উৎপত্তিস্থল চীনে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও আবারো নতুন করে ১০ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।  যা গেলো দিনের শনাক্ত ৩০ জনের চেয়ে কম। এদিকে টানা ৬ দিনের মত চীনে নতুন কোন মৃত্যু রেকর্ড করা হয়নি।
চীনা ন্যাশনাল হেলথ কমিশন বলছে, ১০ জনের মধ্যে ৬ জন বাইরের দেশ থেকে এসেছে। করোনা আক্রান্ত যাদের মধ্যে কোন লক্ষণ প্রকাশ পায়নি সেই সংখ্যাও ৪২ থেকে নেমে ২৭ এ দাঁড়িয়েছে।
এতে চীনে মোটা করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৮২ হাজার ৭৯৮। প্রাণহানি হয়েছে ৪ হাজার ৬৩২ জনের।

তিন নম্বরে ব্যাটিং ফিরে পেয়ে ...করোনা মোকাবিলায় তামিম-মুশফিকদের মতো তারকাদের ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রি করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান করেছিলেন সাকিব আল হাসান। সেই আহ্বান শুনে মুশফিকুর রহিম তার প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির ব্যাট নিলামে তুলেছেন। সাকিবও জানিয়েছিলেন, তিনিও তার ব্যাট নিলামে তুলতে চান। মঙ্গলবার ফেসবুক লাইভে এসে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে দুই সেঞ্চুরি ও পাঁচ ফিফটি পাওয়া ব্যাটটি নিলামে তোলার ঘোষণা দেন সাকিব।
বুধবার বসে ওই ব্যাটের নিলাম অনুষ্ঠান। বিশ্বকাপের আগে ও পরে খেলা ওই ব্যাটের ভিত্তি মূল্য রাখা হয়েছিল ৫ লাখ টাকা। নিলামে দর কষাকষি শেষে সাকিবের প্রিয় ব্যাটটি ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই অর্থের পুরোটাই সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে করোনার প্রাদুর্ভাবে পড়া অসহায় মানুষের সহায়তায় খরচ করা হবে।
নিলামে সাকিবের ব্যাটটি কিনেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রাজ নামের এক বাংলাদেশি। বুধবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বকাপে সাকিব এই ব্যাট দিয়ে আট ইনিংসে করেছিলেন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬০৬ রান। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিলাম হয়েছে সাকিবের ব্যাটটি।
বুধবার রাতে নিলাম শেষ হওয়ার আগে সাকিব তার ওই ব্যাটের গল্পটাও শোনান সবাইকে, '২০১৯ আইপিএলে দুটি ব্যাট দিয়ে অনুশীলন করতাম। সাধারণত  প্র্যাকটিসের ব্যাটে আমরা ম্যাচে খেলি না। আইপিএলের পর যখন আয়ারল্যান্ডে গেলাম কাছে নতুন ম্যাচ ব্যাট ছিল, তারপরও এই ব্যাট ধরে মনে হলো, খুব ভালো অনুভব করছি। এজন্য ওই ব্যাট দিয়ে ম্যাচে খেললাম। ভালো করতে থাকার পর ওই ব্যাট দিয়েই খেলে গেলাম। বিশ্বকাপেও মনে হলো, এটি দিয়েই খেলি।'
তিনি জানান, বিশ্বকাপে ওই ব্যাটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন তিনি। ১২০ রান করার পর অন্য ব্যাট নিয়ে শুরু করেন এবং এক রান যোগ করেই আউট হয়ে যান। এরপর ওই ব্যাটের প্রতি তার ভালোবাসা আরও বাড়ে। তার ভাষায় ব্যাট দিয়ে তিনি নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার আগ পর্যন্ত খেলেছেন। সেই অর্থে এখনও ব্যাটটা নট আউট আছে।

সাভারে সন্তানের খাবার কিনতে নিজের চুল বিক্রি করে দিলেন মা। এলাকায় নতুন হওয়ার কারণে কারও সহায়তা না পেয়ে নিজের চুল বিক্রি করেন বলে জানান ওই নারী।
দুইদিন ধরে ঘরে কোনো খাবার নেই। ত্রাণের জন্য ঘুরেছেন অনেকের দরজায়। নিজের ক্ষুধা হয়ত সহ্য করা যায়, কিন্তু ১৮ মাসের শিশুর কান্না যেন তার বুকে শেলের মতো ধাক্কা দেয়। তাই হকারের (চুল ক্রেতা) কাছে মাথার চুল বিক্রি করে দিয়েছেন ওই নারী।
গত সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় ঘটে এমন ঘটনা। ওই নারীর নাম সাথী বেগম। কাজের সন্ধানে ময়মনসিংহ থেকে মাস চারেক আগে রাজধানীর মিরপুর ও তার কিছুদিন পর সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় আসেন তিনি।
সাথী বেগম বলেন, দু’দিন ধরে দুই সন্তানকে নিয়ে না খেয়ে থেকে ত্রাণের জন্য চেষ্টা করেছি। কেউ কোনো সহায়তা করেনি। সোমবার দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে পরিচয় হয় এক হকারের (চুল ক্রেতা) সঙ্গে। সে চুল দেখে তিন-চারশ’ টাকা দেওয়ার কথা বললেও ১৮০ টাকা দিয়ে চলে যায়।
তিনি বলেন, এলাকায় নতুন হওয়ার কারণে তিনি কারও সহায়তাও পাননি। ক্ষুধায় সন্তানরা কাঁদছে। ঘরে কোনো টাকা কিংবা কোন সম্পদ নেই, যা দিয়ে খাবার কিনবেন। কোনো উপায় না পেয়ে নিজের মাথার চুল ১৮০ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি।
সাথী বেগমের স্বামী মানিক পেশায় দিনমজুর, তিনি নিজেও বাসা-বাড়িতে কাজ করেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হলে দু’জনেই কাজ হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। হকারের কাছ থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে নিজের সন্তানের জন্য সামান্য পরিমাণ দুধ ও এক কেজি চাল কিনেছেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাভার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পারবেজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এমন হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। খুব দ্রুত ওই পরিবারকে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
সাভার পৌর মেয়র আব্দুল গনি জানান, তিনি পৌর এলাকার অনেক হতদরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। তবে বাচ্চার খাবারের জন্য কেউ চুল বিক্রি করেছেন, এমনটা তার জানা নেই।


Kolkata's chinese residents come to the aid of corona hit Chinaগত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় কমেছে। তবে এই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন করোনায় আক্রান্ত  হয়ে মারা গেছেন। একই সময় দেশে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন ৩৯০ জন। এ পর্যন্ত ৫৫ জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গতকাল ২ হাজার ৯৭৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। অর্থাৎ, গত ২৪ ঘণ্টায় আগের দিনের তুলনায় বেশি লোকের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ৯ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। আর করোনা শনাক্ত হয় ৪৩৪ জনের।
আজ বুধবারের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মারা গেছেন ১২০ জন। আর মোট শনাক্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৭২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হলেন ৯২ জন।
গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। আর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।


ভাড়া দিতে না পারায় ঝড়ের রাতে তিন শিশুসহ এক দম্পতিকে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত বাড়ির মালিক সেই নূর আক্তার সম্পাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে কলাবাগানের সেই বাড়ি থেকে সম্পাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এইচ এম পারভেজ আরেফিন।
এর আগে গত শনিবার মধ্যরাতে এক মাসের ভাড়া বকেয়া থাকায় ওই ভাড়াটিয়াকে বের করে দেয়া হয়। বাড়ির মালিকের কাছে অনেক অনুনয় বিনয় করলেও তাদের কোনও কথা শোনেনি বাড়িটির মালিক। ঝড়ের রাতে জোর করে তিন শিশুসহ তাদের বের করে দেওয়ার পর বাড্ডায় এক স্বজনের বাসায় ঠাঁই হয় পরিবারটির। 
পরদিন পুলিশ ও র‌্যাব বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় ওই দম্পত্তি কলাবাগান থানায় একটি মামলা করেন। এরপর থেকে বাড়ির মালিক ও তার স্বামীকে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খ লাবাহিনী। এরপর সোমবার ওই পরিবারকে বাড়িতে তুলে দেয় র‌্যাব সদস্যরা। কিন্তু তারপরও ওই দম্পত্তিকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
জানা যায়, ছোট দুই সন্তান ও কোলের দুই মাসের এক বাচ্চাসহ কলাবাগানের একটি বাসায় ছয় মাস আগে ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেছিলেন সেলিম হোসেন। তিনি একটি দোকানে কাজ করতেন। করোনাভাইরাসের কারণে তিনি এখন বেকার থাকায় এক মাসের ভাড়া দিতে পারছিলেন না।
কুলসুম-সেলিম দম্পতি জানান, তারা প্রতি মাসে ভাড়া পরিশোধ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এক মাসের ভাড়া বকেয়া পড়েছে। এতে বাড়িমালিকের কাছে অনেক অনুনয় করেছেন। কিন্তু তাদের কোনো কথা শোনেননি। বরং রাতেই বাড়ির মালিক সম্পা মিথ্যার আশ্রয় নেয়। থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন, তার ভাড়াটিয়া বাড়ি মালিককে মারধর করছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারে বিষয়টি মিথ্যা।
এর আগে করোনাভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে কাউকে বাড়ির মালিক হয়রানি করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এছাড়া  বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, করোনা ঝুঁকিতে রয়েছেন কিংবা করোনা প্রতিরোধে কর্মরত কাউকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাইলেও ওই বাড়ির গ্যাস-বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হবে।

যে কারণে ঢাকা আসছেন পাকিস্তানের ...
করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সম্প্রতি ইমরান খান এমন এক সমাজকর্মীর সংস্পর্শে এসেছেন যার শরীরে পরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে । এরপর থেকেই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। আজ বুধবার তার করোনা পরীক্ষার ফলাফল দেয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুখপাত্র ফয়সাল সুলতান বলেন, ইমরান খানের করোনা পরীক্ষা করা হবে কারণে সে ইদহি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফয়সাল ইদহির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন যার কি না পরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল পাকিস্তানের সমাজ সেবামূলক সংস্থা ইদহি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফয়সাল ইদহির সঙ্গে সাক্ষাত করেন ইমরান খান । সেদিন ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করে করোনা ভাইরাস মোকাবিলার জন্য ১০ মিলিয়নের পাকিস্তানি রুপির একটি চেক দেন ফয়সাল ইদহি ।
ওয়ার্ল্ড ও মিটারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৭শ ৪৯ জন । মারা গেছেন ২০৯ জন।

Coronavirus - The Washington Post
সম্প্রতি  করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ অভিযোগকে 'ভুয়া' বলে উড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট।

মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, গত জানুয়ারি মাসে বেইজিংস্থ মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে ডাব্লিউএইচও’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছিলেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে দুইবার, দ্বিতীয় সপ্তাহে তিনবার, তৃতীয় সপ্তাহে তিনবার এবং চতুর্থ সপ্তাহে অন্তত ১০ বার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে হয় সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন অথবা টেলিফোনে যোগাযোগ করেছেন।

ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, এসব সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন সমালোচনা থেকে রক্ষা পেতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর বিষয়টিকে সামান্য হিসেবে তুলে ধরে ট্রাম্প একে সাধারণ ফ্লু বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে দেশটিতে ভয়ঙ্করভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর চীনের সঙ্গে সহযোগিতা করার দায়ে ডাব্লিওএইচও’কে দায়ী করেন এবং এই বিশ্ব সংস্থাকে দেয়া আর্থিক সহযোগিতা বন্ধ করে দেন। 

Corona Impact: বিশ্বে ক্ষুধা দ্বিগুণ হবে ...
করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে বিশ্ব। এই সংকট শেষ পর্যন্ত আঘাত হানবে মানুষের পেটে। জাতিসংঘ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, করোনার কারণে খাদ্য নিরাপত্তার যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তাতে বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে যেতে পারে। খবর রয়টার্সের।
মঙ্গলবার জেনেভায় জাতিসংঘের সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বিশ্বে খাদ্য সংকটে ভোগা মানুষের সংখ্যা সাড়ে ১৩ কোটি। করোনার সংকটের কারণে এর সঙ্গে আর ১৩ কোটি মানুষ যুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ বিশ্বজুড়ে সাড়ে ২৬ কোটি মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগবে। পর্যটন রাজস্ব হারানো, প্রবাসীদের আয় পাঠানো কমে যাওয়া এবং ভ্রমণসহ অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার কারণে আয় কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে।
ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সংস্থাটির নিজস্ব খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে অন্তত ১০ কোটি মানুষকে খাদ্যের জোগান দেয় ডব্লিউএফপি। এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং গবেষণা, মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ পরিচালক আরিফ হুসেইন বলেন, 'ইতোমধ্যে ঝুঁকির মধ্যে থাকা লাখ লাখ মানুষের জন্য করোনাভাইরাস সম্ভবত বিপর্যয়কর হতে যাচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, 'দৈনিক মজুরি পেলেই কেবল খেতে পান এমন লাখ লাখ মানুষের জন্য এই মহামারি মারাত্মক বিপর্যয়কর। লকডাউন আর বিশ্বজুড়ে আসন্ন মন্দায় ইতোমধ্যে তাদের সামান্য সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে এই বিপর্যয় সামাল দিতে আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।'
ডব্লিউএফপি বলছে, বর্তমানে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের বেশিরভাগই নিম্ন এবং মধ্য আয়ের দেশগুলোর বাসিন্দা। খাদ্য সংকট বিষয়ক বৈশ্বিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯ সালে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা সবচেয়ে বেশি মানুষ সংঘাত কবলিত দেশের বাসিন্দা। তাদের সংখ্যা প্রায় সাত কোটি ৭০ লাখ। এর পরেই রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংকটে পড়া মানুষ। তাদের পরিমাণ তিন কোটি ৪০ লাখ। এ ছাড়া অর্থনৈতিক সংকটে পড়া আরও দুই কোটি ৪০ লাখ মানুষও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে।
বিশ্বজুড়ে নতুন করে যেসব মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে যাচ্ছে তাদের সহায়তার জন্য চলতি বছর ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল প্রয়োজন। গত বছরের রেকর্ড ৮ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে যা বেশি। তবে করোনার কারণে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়া দেশগুলো অর্থায়ন করবে কিনা তা নিয়েও চিন্তায় পড়েছে সংস্থাটি।

সময়টিভির ইউটিউব চ্যানেলে গত সোমবার বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নামে প্রচারিত একটি অডিও ক্লিপকে বানোয়াট আখ্যায়িত করে মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রচারের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহবান জানিয়েছেন মাওলানা মাহফুজুল হক। অন্যথায় টিভি চ্যানেলটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সেমাবার সময় টিভিতে আমাকে কেন্দ্র করে একটি সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আমি মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাযায় অধিক লোক জমায়েত করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীরের সাথে যোগসাজশ করেছি এবং ফোনালাপের একটি বানোয়াট অডিও ক্লিপ সময় টিভি প্রচার করেছে।
তিনি বলেন, সংবাদটি পুরোপুরি মিথ্যা, মনগড়া ও পরিকল্পিতভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। আলেম সমাজকে মানুষের সামনে ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে প্রতিপন্ন করার ভয়ংকর অপতৎপরতা।
মাওলানা মাহফুজ বলেন, আমি এবং আমাদের সংগঠন ইতিপূর্বেই আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জাতীয় গণমাধ্যমে বক্তব্য তুলে ধরেছি।জানাযায় অনাকাঙ্খিত অধিক লোক সমাগমের বিষয়টি সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত ও কাকতালীয়। ব্যাপক সমাগমের কোনো চিন্তাও আমাদের ছিল না। বরং লোকসমাগম যেন না হয় সে জন্য আমরা আমাদের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম।
তিনি বলেন, সময় টিভি কর্তৃপক্ষ যে জঘন্য মিথ্যাচার করেছে এতে আমার মারাত্মক রকম মানহানি হয়েছে। আমি কখনোই জামাতের আমীর কিংবা অন্য কারো সাথে এজাতীয় কোনো কথোপকথন বা আলোচনা করিনি। আমি অত্র প্রতিবাদ পত্রের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে বলছি সময় টিভিকে এই মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রচারের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ও ভুল স্বীকার করে সংবাদ প্রচার করতে হবে ৷ অন্যথায় আমি সময় টিভির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
সময় টিভির ইউটিউব চ্যানেলটিতে প্রচারিত ওই অডিও ক্লিপকে মিথ্যা-বানোয়াট আখ্যায়িত করে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও আলাদা প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ইসলামী দল ও সংগঠন দুটি ইসলামী দলের নেতার নামে প্রচারিত ফোনালাপের ক্লিপটিকে সম্পুর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

দিন দিন বেড়েই চলছে করোনার প্রকোপ। বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার। করোনা ভয়াবহতার মধ্যেই আসছে রমযান। রমযানে মুসলমানদের রয়েছে তারাবী এবং রোযার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
এদিকে করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সমাগম এড়িয়ে চলার পাশাপাশি মসজিদের জামাতের ব্যাপারে বিশ্বব্যাপীই রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তাই করোনা পরিস্থিতিতে আসন্ন রমযান ও তারাবী বিষয়ে মুসলমানদের প্রতি বিশেষ দিক নির্দেশনা দিয়েছে উপমহাদেশের অন্যতম দ্বীনী বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দ।
প্রতিষ্ঠানটির মোহতামিম মাওলানা আবুল কাসেম নুমানী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক তারাবীও পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের মতো নিজেদের ঘরে বা মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করার প্রতি আহ্বান করা হয়।
তবে রমযানে কুরআন তিলাওয়াত, বেশি বেশি দোয়া, দুরুদ, ইসতেগফারের ইহতামাম করার প্রতি বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রমযানের তারাবী বিষয়ে শিগগিরই দারুল উলূম থেকে ফতোয়া প্রকাশ করা হবে।
-আইটি

বাংলাদেশিসহ ৪৬ তাবলিগ জামাত সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে ভারতভিসার নিয়ম লঙ্ঘন করায় বাংলাদেশিসহ তাবলিগ জামাতের ৪৬ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে ভারত। নিয়ম লঙ্ঘন করে তারা বিহারের বিভিন্ন মসজিদে দাওয়াতি কাজ করে আসছিল। সেখান থেকে তল্লাশি করে তাদের আটক করে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। কোয়ারেন্টিন শেষে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর তাবলিগ জামাত নিয়ে কঠোর অবস্থান নেয় ভারত সরকার। এরপর বিহার পুলিশ আড়িয়া থেকে ১৮, বাক্সার জেলায় ১০ জন এবং পাটনা থেকে বাকি বিদেশিদের আটক করে। অন্য যারা আছেন তাদেরও সন্ধান চলছে।
আটক বিদেশিদের সবাই পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিল। তবে তারা ফরেনার্স অ্যাক্ট ১৯৪৬ লঙ্ঘন করে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। কারাগারে পাঠানো ৪৬ জনের মধ্য বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, কিরগিজস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন। গত মাসে তারা সবাই দিল্লির মারকাজে তাবলিগের জমায়েতে যোগ দিয়েছিল।
কারাগারে পাঠানোর আগে ৪৬ বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথি জব্দ করেছে পুলিশ।
সূত্র- নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

চাঞ্চল্যকর তথ্য, ভারতে ২ প্রজাতির বাদুড়ের শরীরে মিলল করোনাকরোনাভাইরাস যে বিশেষ প্রজাতির বাদুড়ের শরীরে রয়েছে তার সন্ধান পেলেন ভারতের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চের গবেষকরা। দেশটির কেরালা, পুদুচেরীর, তামিলনাড়ু এবং হিমাচল প্রদেশে রয়েছে এই ধরনের বাদুড়। তবে এই বাদুড় থেকে যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মানুষের শরীরে ছড়িয়েছে তার কোনো প্রমাণ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যানি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, একাধিক বাদুড়ের নমুনা সংগ্রহ করেছেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চের গবেষকরা। দেশটির প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরও এই বিষয়ে গবেষকদের সাহায্য করছে বলে জানা গেছে। 
ভারতে দুই প্রজাতির বাদুড়- ইন্ডিয়ান ফ্লায়িং ফক্স এবং ফল খাওয়া বাদুড় অর্থাৎ রসেটাস বাদুড়ের শরীরে মিলেছে বিটা-করোনাভাইরাসের ভাইরাল স্ট্রেনের খোঁজ। করোনাভাইরাসের উৎসের কারণ বাদুড় হতে পারে কি-না, আসলে সেই বিষয়টি নিয়েই গবেষণা চালাচ্ছিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (এনআইভি)। 
এই দুই গবেষক সংস্থার পক্ষ থেকে কেরালা, তামিলনাড়ু, হিমাচলপ্রদেশ এবং পুদুচেরীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ইন্ডিয়ান ফ্লায়িং ফক্স এবং রসেটাস-এই ২ প্রজাতির বাদুড় সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছিল। তবে এক্ষেত্রে উল্লেখ্যযোগ্য হলো, এই ২ প্রজাতিরই ২৫টি বাদুড়ের গলা থেকে পাওয়া নমুনার রিভার্স-ট্রান্সক্রিপশন পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন (আরটি-পিসিআর) পরীক্ষা করে এই মারণ ভাইরাসের ভাইরাল স্ট্রেনের খোঁজ পাওয়া গেছে। 
আইসিএমআরের তথ্য অনুযায়ী, মনে করা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের বাহক কিংবা উৎস এই দুই প্রজাতির বাদুড় হলেও হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এই ২ প্রজাতির বাদুড়ের থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে কি-না, সেটা এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত করে জানায়ানি দুই গবেষণা সংস্থা। চাঞ্চল্যকর এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব মেডিক্যাল রিসার্চে।

ফেসবুক লাইভে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী আটক
ফেনীতে ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন স্বামী। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর স্বামী টুটুলকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ফেনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বারাহীপুর পূর্ব বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতকের পুরো নাম ওবায়দুল হক টুটুল ভূঁইয়া, আর নৃশংসতার শিকার নারীর নাম তাহমিনা আক্তার।
ভিডিওতে দেখা যায়, খুন করার আগে টুটুল বলছিল- একজনের জন্য তার পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। ৮ মাস বয়সে তার মেয়েকে রেখে চলে যায় সে। তার সারাজীবন ধ্বংস হয়ে গেছে তার স্ত্রীর জন্য এমন দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করতে করতে এক পর্যায়ে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে টুটুল। কোপানোর পরপরই নিস্তেজ হয়ে যান ভুক্তভোগী নারী।
এরপরই টুটুল বলতে থাকে, সে এখন শেষ। আপনারা আমার বাবা-মা ও এতিম মেয়েকে দেখে রাখবেন। এই খুনের সাথে তিনি নিজেই জড়িত এবং অন্য কেউ এরসাথে সংশ্লিষ্ট নয়, এমনটা বলতে থাকেন তিনি। লাইভ ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, সবাই আমাকে ক্ষমা করবেন। আমার বাবা-মা, ভাই-বোন ও অনাথ মেয়েটার খেয়াল করবেন।
খুন করার লাইভ ভিডিওর পর, একটি মেয়েকে নিয়ে আরেকটি ভিডিও পোস্ট করে টুটুল ভুইয়া। সেখানে তার দাবি, তার মেয়ের যখন ৮ মাস বয়স তখন সে (তার স্ত্রী) ছেড়ে চলে যায়। এখন আবার সে ফেরত এসেছে। তার পুরো পরিবার ব্ল্যাকমেইল করে অনেক সমস্যায় ফেলেছে। বাচ্চা মেয়েটাকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। এরপর তিনি নিজেও আত্মহত্যার ইঙ্গিত দেয় ওই ভিডিওতে।
এই ঘটনার পরপরই টুটুলকে ফেনীর বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। ফেনী সদর থানার ওসি আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, হত্যায় অভিযুক্ত টুটুল ভুইয়ার বাড়ি ফেনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়াঈপুর এলাকায়। টুটুল ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করতো। সন্তানদের নিয়ে তার স্ত্রী বাড়িতেই থাকতো। সে ঢাকায় থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী তাহমিনা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এটা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। তাহমিনার বাড়ি থেকে টাকা চেয়ে মানসিক হয়রানি করা হতো বলে দাবি করেন টুটুল। আটকের পর টুটুল পুলিশের কাছে খুনের কথা স্বীকার করে।
এদিকে, খুন করার লাইভ ভিডিওটি ঘটনার ঘণ্টাখানেক পর আর টুটুলের ফেসবুক প্রোফাইলে পাওয়া যায়নি। পুলিশ এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, টুটুলের প্রোফাইলে লাইভ ভিডিও তারা পায়নি। তবে, তার পোস্টগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। নিহতের স্বজনরা মামলা করলে এ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

নোয়াখালী জেলাকে লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। আগামীকাল শনিবার সকাল ছয়টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে।

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ–সংক্রান্ত জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ শুক্রবার বিকেলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় দাস এ–সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন।

আদেশ অনুসারে, সড়ক ও নৌপথে অন্য জেলা থেকে কেউ এই জেলায় প্রবেশ করতে পারবেন না। একইভাবে এ জেলা থেকেও কেউ বের হতে পারবেন না। একই সঙ্গে জেলার ভেতরে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায়ও আসা–যাওয়া করা যাবে না। 
তবে জরুরি পরিষেবা, যেমন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, টেলিফোন, ইন্টারনেট সেবায় নিয়োজিত কর্মী ও গাড়ি; চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত কর্মী ও যানবাহন, ওষুধশিল্প–সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাদ্যসামগ্রী, কৃষিপণ্য, সার-কীটনাশক, জ্বালানি ইত্যাদি পণ্য পরিবহনকাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এ আদেশের আওতামুক্ত থাকবে।
এক প্রশ্নের জবাবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, মুদিদোকান ও কাঁচাবাজার আগের মতো দিনের বেলায় সীমিত সময়ের জন্য খোলা রাখা যাবে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতা–বিক্রেতাকে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

করোনা বিশ্বজুড়ে জৈব-সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটতে পারে : জাতিসংঘ

অ্যান্তনিও গুতেরেস
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেছেন, বিশ্বজুড়ে কীভাবে জৈব-সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটতে পারে, তা দেখার সুযোগ করে দিয়েছে করোনা মহামারী।
বিশ্ববাসীকে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রহীন গোষ্ঠীগুলোর হাতে প্রাণঘাতী জীবাণু অস্ত্র চলে যেতে পারে। তখন তা করোনাভাইরাস রোগের মতোই বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে।
ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হয়েছে। এতে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইকে ‘একটি প্রজন্মের যুদ্ধ’ বলে আখ্যায়িত করেন অ্যান্তনিও গুতেরেস।
বৈশ্বিক করোনা মহামারীর কারণে বিশ্বে যেসব ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে তিনি সেই তালিকা দেন। গুতেরেস বলেন, কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) সবার আগে স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। কিন্তু এই ভাইরাসের প্রভাব আরও সুদূর-প্রসারী।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন,‘এটা জাতিসংঘের নিজেরই অস্তিত্বের লড়াই। আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার বড় হুমকি এই মহামারী। এতে পরিস্থিতিকে সামাজিক অস্থিরতার দিকে নিয়ে যাবে। সহিংসতা বাড়বে। যাতে রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সক্ষমতা খর্ব হয়ে যেতে পারে।’
তিনি বলেন, এই মহামারী যেভাবে দুর্বলতা ও প্রস্তুতির অভাবের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসছে, তাতে জৈব-সন্ত্রাসী হামলা কীভাবে হতে পারে, তা দেখার একটি সুযোগ করে দিয়েছে। এতে ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রহীন গোষ্ঠীগুলোর হাতে জীবাণু অস্ত্র চলে যেতে পারে, যা দিয়ে তারা সমাজে বিপর্যয় তৈরি করতে পারে।’

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget