Latest Post

করোনাভাইরাসের মহামারি নিয়ন্ত্রণে চলমান দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে জরুরি সেবার সঙ্গে নিয়োজিতরা ছাড়া রাজধানীকে কেন্দ্র করে মানুষের আগমন-বহির্গমন ঠেকাতে কঠোর হতে বলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জাবেদ পাটোয়ারী। শনিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৈরি পোশাক শ্রমিকসহ হাজার হাজার মানুষের ঢাকামুখী ঢল নামার পর ব্যাপক সমালোনার মুখে রাতেই তিনি এ নির্দেশনা দেন। 
আজ রবিবার সকাল থেকে ঢাকার সকল সীমান্তবর্তী এলকাসহ নোঘাটসহ সড়ক মহাসড়কে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারি মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা কালের কণ্ঠকে বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের এই দুযোর্গময় পরিস্থির মধ্যে ঢাকার বাইরে থেকে ছুটে আসা শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ যেন ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে আইজিপির নির্দেশ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে।
এই পরিস্থীতি মোকাবিলায় সকলের সহযোগিতা কামনা করে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সব ধরনের চলাফেরা বন্ধ আছে। কেউ ঢাকার বাইরে যেতে পারবেন না, আপাতত ঢাকায় ঢুকতে পারবেন না। যে যেখানে আছেন সেখানে অবস্থান করবেন, কোথাও সমবেত হতে পারবেন না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তবে একান্ত জরুরি প্রয়োজন থাকলে তার বা তাদের বিষয়টি শিথিলযোগ্য হতে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে রবিবার থেকে গার্মেন্টস খোলার খবরে শনিবার দিনভর আশেপাশের জেলাগুলো থেকে হাজার হাজার শ্রমিককে ঢাকার পথে দেখা যায়। এই দৃশ্য সবাইকে আতঙ্কিত করে তোলে। সেই সঙ্গে করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে ঘরে অবস্থানের নির্দেশনার মধ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শত শত নারী-পুরুষের পায়ে হাঁটা মিছিল ও ফেরীতে শত শত মানুষের গাদাগাদি করে পদ্মা পার হওয়ার ছবি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা হয়। 
দেশজুড়ে লকডাউনের সিদ্ধান্তের মধ্যে কারখানা খোলার সিদ্ধান্তের জন্য মালিকদের এবং হাজার হাজার মানুষকে দলে দলে এতোটা পথ পাড়ি দিতে দেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে রাতে ১১ এপ্রিল সরকারঘোষিত সাধারণ ছুটি পর্যন্ত গার্মেন্টস কারখানাগুলো বন্ধ রাখতে পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মালিকদের প্রতি আহ্বান জানায়। এর পরও পরিস্থিতি উপর কড়া নজরদারি চলছে।

বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব সৃষ্টি করে চলা নোভেল করোনাভাইরাস কি সত্যিই প্রকৃতি থেকে সৃষ্টি, নাকি এটাকে চীনের ল্যাবে তৈরি করা হয়েছে? এটা নিয়ে বিতর্ক শুরু থেকেই উঠছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান দাবি করেছে, করোনা কোন ভাইরাস নয়, এটা চীনের উহানের ল্যাবে তৈরি মারাত্মক জৈব রাসায়নিক বোমা। তবে চীন জোর গলায় এটাকে 'ষড়যন্ত্র তত্ব' আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে এবার নতুন প্রমাণ সামনে এসেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে চীনের উহানের ল্যাব থেকেই ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। এটাকে এখন আর অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।
দ্য ব্লিজ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কালে প্রকাশ্যে আসা বেশ কয়েকটি নতুন প্রমাণ এই ইঙ্গিত দেয় যে ভাইরাসটি চীনের উহান শহরে একটি ভাইরোলজি ল্যাবেই তৈরি করা হয়েছিল।
শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) এ বিষয়ে ন্যাশনাল রিভিউয়ের সিনিয়র সংবাদদাতা জিম জেরাঘাটির লেখা একটি দীর্ঘ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। করোনা নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি নির্মাণের জন্য তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং ইউটিউবার ম্যাথু টাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ দিন চীনে অবস্থান করেছেন। বিশদভাবে তদন্ত করেছেন। সাম্প্রতি তিনি ইউটিউবে বেশকিছু ভিডিও আপলোড করেছেন, সেখানে ভাইরাসটির উৎস সনাক্ত করতে পেরেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
জেরাঘটি নিশ্চিতভাবে লক্ষ্য করেছেন যে, ভাইরাসটির উৎপত্তি সম্পর্কে এই ভিডিওগুলো দেখলে সহজেই বোধগম্য হবে। যে কেউ বুঝতে পারবেন ভাইরাসটির উৎপত্তি কোথায়। এখানে ভাইরাসটির উৎপত্তি সম্পর্কে প্রচুর তথ্য রয়েছে। মানুষ যাতে সহজেই বিষয়টা উপলব্ধি করতে পারে এ জন্য তিনি ভিডিওটি ইন্টারনেটে আপলোড করেছেন। বিশ্বাস না হলে ভিডিওটি দেখে নিতে পারেন।
এমন একটি প্রমাণ হল, উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি কর্তৃক গত বছরের শেষের দিকে কাকতালীয়ভাবে দুটি সন্দেহজনক চাকরির অফার পোস্ট করা হয়।
রহস্যজনক চাকরির অফার
গত বছরের ১৮ নভেম্বর, ল্যাবটি একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছিল যাতে বিজ্ঞানীদের 'করোনভাইরাস এবং বাদুড়ের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করতে' অনুরোধ করা হয়েছিল। জব অফারটিতে লেখা ছিল- "বাদুড়কে গবেষণামূলক বিষয় হিসাবে গ্রহণ করে আমি মলিকুলার মেকানিজমের মাধ্যমে এমন সব প্রক্রিয়ার উত্তর দেব যা দীর্ঘকাল ধরে কোনও রোগ ছাড়াই ইবোলা এবং সার্স সম্পর্কিত করোনভাইরাসের সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে এবং এর সাথে এটি বেশি উড়তে পারবে এবং দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। ভাইরাস, ইমিউনোলজি, সেল জীববিজ্ঞান এবং একাধিক ওমিক্স মানব এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য তুলনা করতে ব্যবহৃত হয়।"
তার একমাস পরে ২৪ ডিসেম্বর, ল্যাবটি আরও একটি কাজের উদ্বোধন করে। এবার উল্লেখ করা হয়েছে, 'গুরুত্বপূর্ণ ভাইরাস বহনকারী বাদুড়ের প্যাথোজেনিক বায়োলজির উপর দীর্ঘমেয়াদী গবেষণাটি মানব ও প্রাণিসম্পদের বড় বড় নতুন সংক্রামক রোগের বাহক হিসাবে বাদুড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যেমন- সার্স,এসএডিএস, প্রচুর পরিমাণে নতুন ব্যাট এবং দুর্যোগপূর্ণ নতুন ভাইরাস সনাক্ত করা হয়েছে।
সাবলীল চাইনিজ বলতে পারা টাই দাবি করেছেন, 'আমরা একটি নতুন এবং ভয়ানক ভাইরাস আবিষ্কার করেছি এবং এর সাথে মোকাবিলার জন্য লোক নিয়োগ করতে চাই।'
দ্বিতীয় চাকরির বিজ্ঞাপনের সময়, চীনে তথাকথিত 'রহস্যময় নিউমোনিয়া' সংক্রমণ চলছিল। তবে এরও এক সপ্তাহ পরে চীন সরকার তার জনসংখ্যাকে নোভেল করোনাভাইরাস সংক্রামিত হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করেছিল।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা পত্র
ফক্স নিউজের সঞ্চালক টাকের কার্লসন মঙ্গলবার রাতে তার প্রাইমটাইম শোতে ভিডিওটির আকর্ষণীয় একটি অংশ তুলে ধরেছিলেন। সেখানে ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ চীন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ তুলে ধরা হয়।
'গবেষণা পত্র : ২০১৯-এন কোভি করোনভাইরাসের সম্ভাব্য উৎস' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভাইরাসটি সম্ভবত এমন একটি প্রাণী থেকে এসেছিল যেটা ঘোড়ামুখো বাদুড়ের মতো দেখতে। কার্লসন বলেছিলেন, এখানে চমকপ্রদ বিষয় রয়েছে উহানের ৯০০ কিলোমিটারের মধ্যে বাদুড়ের কোনও কলোনী নেই।
এছাড়া, কার্লসন উল্লেখ করেছিলেন যে উহানের যে সামুদ্রিক বাজারে এই বিশেষ বাদুড় বিক্রি হয়েছিল বলে দাবী করা হয়েছে সেটারও কোন সত্যতা মেলেনি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিল যে, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রগুলি বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বাজারে বাদুড় উপস্থিত ছিল কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
এর আগে করোনাকে জৈব অস্ত্র দাবি করে বক্তব্য রেখেছিলেন ইসরায়েলি ও মার্কিন বিজ্ঞানীরা। 'জেনেটিক্যালি মডিফায়েড' এই করোনাভাইরাসের জন্মদাতা চীনের উহানের বায়োসেফটি ল্যাবোরেটরি লেভেল ফোর বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন আইনজীবী ও রাসায়নিক মারণাস্ত্র বিরোধী সংগঠনের অন্যতম সদস্য ড. ফ্রান্সিস বয়েল। বলেছিলেন শক্তিশালী রাসায়নিক মারণাস্ত্র করোনাভাইরাস, ছড়িয়েছে উহানের ল্যাব থেকেই।
ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েস কলেজের আইনের অধ্যাপক ড. ফ্রান্সিস বয়েল। রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সংগঠনেরও অন্যতম মাথা তিনি। তাঁর উদ্যোগেই ১৯৮৯ সালে 'বায়োলজিক্যাল ওয়েপনস অ্যান্টি-টেররিজম অ্যাক্ট' বিল পাশ হয়। নোভেল করোনাভাইরাস যে নিছকই কোনও ভাইরাসের সংক্রমণ নয়, সে বিষয়ে আগেও মুখ খুলেছিলেন ড. ফ্রান্সিস। ইজরায়েলি গোয়েন্দা ও মাইক্রোবায়োলজিস্টদের দাবির সমর্থন জানিয়েই ড. ফ্রান্সিস বয়েল বলেন, উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বায়োসেফটি লেভেল ফোর ল্যাবোরেটরিতে অতি গোপনে রাসায়নিক  মারণাস্ত্র বানানোর প্রক্রিয়া চলছে। সেখান থেকেই ছড়িয়েছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ। সি-ফুড মার্কেটের ব্যাপারটা নেহাতই চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা। আর এই কথা বিলক্ষণ জানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সব জেনেও গোটা বিষয়টাকে ধামাচাপা দেওয়ার কৌশলী চেষ্টা চলছে।
ড. ফ্রান্সিস বয়েল আরও বলেছিলেন, উহানের এই বায়োসেফটি লেভেল ফোর ল্যাবোরেটরিকে সুপার ল্যাবোরেটরির তকমা দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বলা হয়েছিল, এই ল্যাবে ভাইরাস নিয়ে কাজ হলেও তা অনেক বেশি সুরক্ষিত ও নিরাপদ। ল্যাবোরেটরির জন্যই রয়েছে আলাদা উইং যার বাইরের পরিবেশের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই।
ড. ফ্রান্সিস বলেন, সার্স ও ইবোলা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠার পরে অভিযোগের আঙুল ওঠে এই গবেষণাগারের দিকেই। রোগ প্রতিরোধ নয়, বরং প্রাণঘাতী জৈব অস্ত্র বানাতেই মত্ত গবেষকরা। যারই পরিণতি হাজার হাজার মৃত্যু। নোভেল করোনাভাইরাসের জিনগত বদল ঘটানো হয়েছে এবং উহানের এই ল্যাবোরেটরি থেকেই যে ভাইরাস ছড়িয়েছে সেটাও  জানেন ডব্লিউএইচও'র অনেক গবেষকই।
নোভেল করোনাভাইরাসকে রাসায়নিক মারণাস্ত্র দাবি করেছিলেন মার্কিন সিনেটর টম কটনও। তাঁর দাবি, চীন জীবাণুযুদ্ধের জন্য বানাচ্ছিল ওই ভাইরাস। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কথাটা লুকোতে চাইছেন কারণ আন্তর্জাতিক আইনে জীবাণুযুদ্ধ নিষিদ্ধ। তাঁরা ওই নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করছিলেন জানাজানি হলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
সূত্র- দ্য ব্লিজ।

সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরের দিন ১৪ তারিখ বাংলা নববর্ষের সরকারি ছুটি। সব মিলিয়ে সরকারি ছুটি থাকছে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ১ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপনে ঘোষিত সাধারণ ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ ও ১৩ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করা হলো। ১৪ এপ্রিলের সরকারি ছুটিও এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, এই ছুটি  জরুরি পরিসেবার (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ইত্যাদি) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া কৃষি পণ্য, সার, কীটনাশক, জ্বালানি, সংবাদপত্র, খাদ্য, শিল্প পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, জরুরি ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং কাঁচা বাজার, খাবার, ওষুধের দোকান ও হাসপাতাল এ ছুটির আওতাবহির্ভুত থাকবে। জরুরি প্রয়োজনে অফিস খোলা রাখা যাবে।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ এমনিতেই সরকারি ছুটি। এই দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে বৈশাখের আনুষ্ঠানিকতা বাতিলের চিঠি ইস্যু করেছে।

ক।
করোনা পরিস্থিতিতে অনিয়ন্ত্রিত ও ফকিহদের নির্দেশনা বহির্ভূত 'মসজিদমুখিতা' পরবর্তিতে মসজিদবিমুখতার উপলক্ষ তৈরী করবে।
মনে রাখবেন, দ্বীন ও ইবাদত আপনার আবেগের নাম নয়; দ্বীন ও ইবাদত শরিয়ার নির্দেশনার নাম।
দুই।
দু' দিন আগে লেখেছিলাম, তাবলিগ জামাতের বিচরণ নিয়ে। মসজিদ থেকে মসজিদে তারা যাচ্ছেন। কাকরাইলের প্রধান এক মুরুব্বি মাওলানা রবিউল হক সাহেবের ভাতিজা জনাব একরামুল হাসান যোগাযোগ করলেন এবং তাঁর দেয়া সূত্রে দ্রুতই কথা হলো- কেন্দ্রিয় সংশ্লিষ্ট এক যিম্মাদারের সাথে।
তিনি বললেন,দেশব্যাপী নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আগেই। এখন আবার নতুন করে দেয়া হচ্ছে। মিডিয়ায় দেখলাম তাবলিগ জামাতের তরফে সতর্কিকরণের কথা। অত:পর অতিআবেগে যারাই এলাকা থেকে এলাকায়, মসজিদ থেকে মসজিদে ঘুরছেন, তাদের উচিত এখনই নিয়মের ভেতর আসা। যারা এমনটি করবেন,তারা অবশ্যই তাবলিগ জামাতের ক্ষতি করবেন,করছেন।
তিন।
কিছু হটকারী বক্তা সব সময়ই পাবলিকের চাহিদা বুঝে কথা বলে, দ্বীনের চাহিদা তাদের কাছে মূখ্য নয়। ওরা বলেছে,করোনা মুসলিমদের জন্য নয়,এটা পাপের কারণে কাফিরদের উপর আসা আল্লাহর গযব ইত্যাদি। ওয়াজের ময়দান এসব কথায় খুব গরম হয়। ওরা বুঝে না, পাপের কারণে গজব যদি আসে, তাহলে গযবকে অনিবার্য করে, এমন এতো পাপ মুসলিমরা করে চলছি, যার কারণে যে কোন ধরণের খোদায়ী পাকড়াও থেকে আমাদের পরিত্রাণের সুযোগ খুবই কম।
হটকারী বক্তা ও মৌলভীরা এখনো নিজস্ব ফর্মুলায় পাবলিকদের মনোরঞ্জন করে চলছেন। তাদের উচিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বের শীর্ষ আলেমদের নির্দেশনার বাইরে না যাওয়া।
চার।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল। আলেম,বাগ্মী ও গবেষক। আজ জোহরের আগে কল দিলেন।
কণ্ঠে উদ্বেগ। বললেন, ঢাকায় আলীয়া মাদরাসার সাবেক প্রধানের ইন্তেকাল এবং এরপর সে এলাকায় আরো কিছু মৃত্যু ও সংক্রমন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সেখানে বিদেশী কারো মাধ্যমে পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। অন্য কোনো মজমায় তাদের উপস্থিতিও ছিলো না।
জানতে চাইলাম- সমস্যা তাহলে কোথায়?
বললেন, মসজিদে জামাতের ব্যাপারে বাতলে দেয়া পদ্ধতি মানা হচ্ছে না। খুব সম্ভবত এর ফলে ভারতের অনুকরণে এদেশে মসজিদকে হটস্পট হিসেবে প্রচার শুরু করবে ইসলামবিরোধীরা। এটা শুধু মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব হবে খুবই খারাপ।
পাঁচ।
সামনে শবে বরাত। যারা সারা বছর মসজিদমুখী হননি, তারাও তৈরী হচ্ছেন সে রাতের জন্য। কিন্তু ঘরে বসে আল্লাহকে ডাকলেও তিনি শুনেন। ভুলে যাবেন না হে বাংলার মুসলমান!

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর ওভারব্রিজের পাশে তানিম গলিতে এক পরিবারের দুজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) আক্রান্ত দুজনকে আজ রোববার সকালে বাসা থেকে নিয়ে গেছে। এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার দুটি বহুতল ভবন ও একটি টিনশেড বাড়ি লকডাউন করে দিয়েছে মিরপুর থানা-পুলিশ।


মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাজিরুর রহমান আজ প্রথম আলোকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

মোস্তাজিরুর রহমান বলেন, ওই দুজন গত দুই দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হওয়ায় আক্রান্ত দুজনকে আজ সকালে বাসা থেকে নিয়ে যায় আইইডিসিআর।

মিরপুরের যে দুটি বহুতল ভবন ও একটি টিনশেড বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে, সেখানে প্রায় ২৫টি পরিবার বসবাস বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাড়িগুলোর সামনে পুলিশ মোতায়েন করে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

ওসি মোস্তাজিরুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এলাকায় মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে। ওই সব বাড়িতে কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না পুলিশ। তবে বিশেষ প্রয়োজনে প্রতি পরিবার থেকে একজন সুরক্ষিত পোশাকে বাইরে যেতে পারছেন।


দেশে নতুন করে ১৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এক দিনে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। এ পর্যন্ত সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ৮৮। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ছিল নয়জন। আজ রোববার অনলাইনে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আজ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা নতুন আক্রান্ত ও মৃত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য জানান।

মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করেছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগ আগে সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে ছিলেন। আক্রান্ত ১৮ জনের মধ্যে ১২ জনই ঢাকার বাসিন্দা । পাঁচজন নারায়ণগঞ্জের আর একজন মাদারীপুরের।

মীরজাদী বলেন, সর্বশেষ যে ব্যক্তি মারা গেছেন তিনি নারায়ণগঞ্জের অধিবাসী। তিনি পুরুষ, বয়স ৫৫। শনাক্ত ১৮ জনের মধ্যে ১৩টিই শনাক্ত করেছে আইইডিসিআর।

মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজন আরোগ্য লাভ করেছেন। তাই এখন সংক্রমণ রয়েছে ৪৬ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা শহরের মানুষের সংখ্যা বেশি। বেশির ভাগ আক্রান্তই বিভিন্ন ক্লাস্টারের অংশ। আক্রান্তদের মধ্যে বাসাবো এলাকার নয়জন । টোলারবাগ এবং অন্য এলাকা মিলিয়ে মিরপুরে ১১জন। তিনি বলেন, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন, জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।


ফরিদপুর শহরের আলিপুর এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে নিত্যপণ্যের সঙ্গে একটি করে ইলিশ মাছ বিতরণ করেন স্থানীয় তরুণ ব্যবসায়ী মিঠু মিয়া।
শনিবার দুপুরে শহরের আশপাশের অর্ধশতাধিক পরিবারের মাঝে ব্যতিক্রমী এই ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়।
নিত্যপণ্যের সঙ্গে মাছ পেয়ে বেজায় খুশি অসহায় মানুষরা।
মিঠু বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন এসব হতদরিদ্র মানুষ চাল-ডাল, তেল-আলু পেলেও মাছ খেতে পারছে না। তাই তাদের কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ফাইল ছবি

১৪৬৯ খ্রিস্টাব্দে আরাগনের ফার্ডিন্যান্ড ও কেস্টাইলের ইসাবেলার মধ্যে বিয়ে হয় এবং উভয় রাজ্য চিরতরে এক হয়ে যায়। এই মিলন মুসলিম স্পেনের ধ্বংসের পথ অবারিত করে দেয়। এই ক্রমবর্ধমান বিপদের সম্মুখীন হওয়া নাসরিদ বংশের সাধ্যাতীত ছিল। এ বংশের শেষ সুলতান এক রক্তক্ষয়ী আত্মকলহে লিপ্ত হন এবং তার অবস্থা আরো বিপদজনক হয়ে পড়ে। ১২৩২ হতে ১৪৯২ পর্যন্ত যে ২১ জন সুলতান রাজত্ব করেন, তাদের মধ্যে ৬ জন দুইবার এবং একজন তিনবার রাজত্ব করেন।
যে সময় আমেরিকার ইতিহাসের সূচনা, ঠিক সেই ১৪৯২ সালে এক দীর্ঘ অবরোধের পর খ্রিস্টান সৈন্যদের হাতে (মুসলিম) গ্রানাডার পতন ঘটে-‘ক্রুশ হেলালকে উৎখাত করে’। ‘উদার’ সম্রাট ফার্ডিন্যান্ড  ও সম্রাজ্ঞী ও ইসাবেলা মুসলমানদের আত্মসমর্পণের শর্তগুলো পালন করলেন না। ১৪৯৯ সালে রানী ইসাবেলার ধর্মগুরু কার্ডিনাল জিমেনেজ ডি সিসনারো’র নেতৃত্বে জোর করে ধর্মান্তর গ্রহণের অভিযান শুরু হয়। কার্ডিনাল প্রথম চেষ্টা করেন ইসলাম বিষয়ক সমস্ত আরবি বই পুড়িয়ে ফেলতে। গ্রানাডায় আরবী পাণ্ডলিপি পোড়ানোর উৎসব শুরু হয়। এরপর প্রতিষ্ঠিত হয় বিধর্মী উচ্ছেদ (মুসলিম উচ্ছেদ) আদালত- ইনকুইজিশন! এর কাজ জোরেশোরে চলতে থাকে।
গ্রানাডার পতনের পর যেসব মুসলমান রয়ে যায়, তাদের সবাইকে এখন থেকে বলা হয়, মরিসকো। স্পেনীয় ভাষায় এর মানে ছোট মুর। রোমকরা পশ্চিম আফ্রিকাকে বলতো-মরেটানিয়া। আর পশ্চিম আফ্রিকার বাসিন্দাদের বলতো, ম-রী। এই ম-রী হতে স্পেনীয় মোরো এবং ইংরেজি মুর শব্দের উৎপত্তি। বারবাররাই ছিল প্রকৃত মুর। কিন্তু স্পেন ও উত্তর পশ্চিম আফ্রিকার সমস্ত মুসলমানকেই মুর বলা হয়। ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জে পাঁচ লাখ মুসলমান আছে, এদের বলা হয় মোরো। ম্যাগেলান কর্তৃক ১৫২১ সালে এই দ্বীপপুঞ্জ আবিষ্কৃত হওয়ার পর স্প্যানীয়রা তথাকার মুসলমানদের এ নাম দেয়।
মুসলিম স্পেনীয়রা একটি রোমান উপভাষায় কথা বলতো। কিন্তু ব্যবহার করত আরবি হরফ। বেশিরভাগের না হলেও অনেক মরিসকোরই পূর্বপুরুষ স্পেনীয় ছিল। কিন্তু এখন সবাইকে ‘মনে করিয়ে দেওয়া’ হয় যে, তাদের পূর্বপুরুষরা খ্রিস্টান ছিল; কাজেই তাদের হয় আবার খ্রিস্টান হতে হবে, নইলে তার ফল ভোগ করতে হবে। মুদেজারদের মরিসকোদের সঙ্গে এক শ্রেণী ভুক্ত করা হয়। এদের অনেকে প্রকাশ্যে খ্রিস্টধর্ম স্বীকার করতো, কিন্তু গোপনে ইসলামের আচার-অনুষ্ঠান পালন করতো। কেউ কেউ খৃষ্টানি মতে বিয়ে করে বাড়ি এসে গোপনে ইসলামী মতে ফের বিয়ে করতো। অনেকে বাইরে খ্রিস্টানি নাম রাখতো, আর বাড়িতে ব্যবহারের জন্য আরবি নাম রাখতো।
১৫০১ সালে কেস্টাইলে এক রাজকীয় আদেশে ঘোষণা করা হয় যে, কেস্টাইল আর লিয়নের সব মুসলমানকে হয় খ্রিস্টান হতে হবে, না হয় স্পেন ছেড়ে চলে যেতে হবে। তবে মনে হয়, এই ঘোষণা অনুযায়ী যথাযথ কাজ হয়নি।
১৫২৬ সালে আরাগনের মুসলমানদের ওপর ওই একই আদেশ জারি করা হয়। ১৫৫৬ সালে দ্বিতীয় ফিলিপ এক আইন জারি করেন যে, বাকি মুসলমানদের অনতিবিলম্বে তাদের ভাষা, নামাজ-রোজা, অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং জীবনযাত্রা প্রণালী ত্যাগ করতে হবে। তিনি এমন আদেশ দিয়ে বসেন যে, স্পেনীয় হাম্মামখানাগুলিও বিধর্মীদের চিহ্ন, কাজেই সেগুলি ভেঙ্গে ফেলতে হবে। এতে গ্রানাডা অঞ্চলে বিদ্রোহ দেখা দেয় (এই দ্বিতীয় বার) এবং পার্শ্ববর্তী পার্বত্য অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তবে সে বিদ্রোহ দমন করা হয়।
১৬০৯ সালে তৃতীয় ফিলিপ মুসলিম বিতাড়নের শেষ হুকুম নামায় দস্তখত করেন। এর ফলে স্পেনের সমস্ত মুসলমানকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়। কথিত আছে, প্রায় পাঁচ লাখ মুসলমান আফ্রিকা বা অন্য কোনো মুসলিম দেশে যাওয়ার জন্য জাহাজে উঠতে বাধ্য হয়। হিসাবে দেখা যায় যে, গ্রানাডার পতন ও সপ্তদশ শতাব্দী প্রথম দশকের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ মুসলমান হয় নির্বাসিত, না হয় নিহত হন।
( ফিলিপ কে হিট্টি লিখিত ও অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খাঁ অনূদিত ‘আরব জাতির ইতিকথা’ থেকে)

ছবি: সংগৃহীত
করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সব খেলাধুলা আপাতত স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি।
গাজীপুর থেকে নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য বলেছেন, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। এ সময়ে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সচেতন থাকতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে দেশের জনগণকে সচেতন করতে হবে। যে কোনো পর্যায়ের খেলাধুলাতে জনসমাগম ঘটে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ থাকবে।
করোনা মোকাবেলায় ইতিমধ্যে দেশের সব স্টেডিয়াম, ইনডোর স্টেডিয়াম ও জিমনেসিয়ামে অস্থায়ী হাসপাতাল বা আইসোলেশন সেন্টার করতে স্বাস্থ্য বিভাগকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগকে চাইলে এগুলো ব্যবহার করতে পারে।
ঢাকাসহ বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ে মোট ৮০টি স্টেডিয়াম, উপজেলা পর্যায়ে ১২৫টি মিনি স্টেডিয়াম রয়েছে। এ ছাড়া দেশে ২২টি জিমনেসিয়াম, ৭টি ইনডোর স্টেডিয়াম এবং ৫টি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স রয়েছে।

ফাইল ছবি
করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতি রক্ষায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের যে প্রস্তাব বিএনপি দিয়েছিল- তা প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
শনিবার বিকালে সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এর আগে সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতি রক্ষায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে সরকারকে প্রস্তাব দেন।
বিকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের অর্থনীতির সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিএনপি এই প্রস্তাব দিয়েছে। এতে সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে মির্জা ফখরুলের মতো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যখন কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে বক্তব্য রাখেন, তখন জাতি হতাশ হয়। তার বক্তব্য আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়া একজন দিশেহারা রাজনীতিকের অসংলগ্ন প্রলাপ ও ব্যর্থতার বেসামাল বহিঃপ্রকাশ।
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারীতে যখন সারা বিশ্বে সব মানুষ একযোগে এই সংকট মোকাবেলায় এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছে, তখন অর্বাচীনের মতো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাখা বক্তব্য জাতিকে বিভ্রান্ত করে। তাদের এই বালখিল্যতার কারণে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।
তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল যে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন- তা আমাদের অর্থনীতির ঊর্ধ্বগামী সম্ভাবনার বিপরীত। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য জনগণকে শুধু হতাশই করতে পারে, আর কিছু নয়।
আওয়ামী লীগ সম্পাদক বলেন, দুর্যোগের এই মুহূর্তে বিভেদ নয়, এটা তাদের (বিএনপি) বোধগম্য নয়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জনগণকে সতর্ক, সচেতন ও দায়িত্বশীল করার কাজ করে চলেছে। সারা বিশ্বের নেতারা করোনা সংক্রমণ নিয়ে দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করার সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর মির্জা ফখরুলরা ও তাদের দল এই সংকটকে ঘনীভূত করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের ঐক্যের দুর্গকে নস্যাৎ করতে চায়।

ছবি: সংগৃহীত
করোনাভাইরাসের মহামারীতে জীবন বাঁচাতে মানুষকে ঘরে থাকার বার্তা দিচ্ছে গুগল।
শুক্রবার করোনার সব তথ্য নিয়ে বিশেষ একটি ডুডল প্রদর্শন করছে গুগল। তাদের হোমপেজে গেলে এ ডুডল দেখা যাচ্ছে।
করোনার উপসর্গ, প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও কীভাবে এই ভাইরাস সারা বিশ্বে প্রভাব ফেলছে, তা ডুডলে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষ কোনো দিন বা বিশেষ কোনো ব্যক্তির জন্য সার্চ বক্সের ওপরে নিজেদের লোগো বদলে বিশেষ দিনটির সঙ্গে মানানসই নকশার যে লোগো তৈরি করে গুগল, তা-ই ডুডল।
গুগল তাদের ডুডলের ট্যাগলাইন দিয়েছে ‘স্টে হোম, সেভ লাইভস’। অর্থাৎ বাড়িতে থাকুন, জীবন বাঁচান। এ ডুডলে ক্লিক করলে করোনভাইরাস সংক্রান্ত সব তথ্য হাজির করছে গুগল।
গুগলের আজকের ডুডলে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ নির্দেশগুলো মানতে বলা হচ্ছে। বাড়িতে থাকা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, নিয়মিত হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা ও অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ যেন এক অন্য রকম যুদ্ধ। হাতে ঢাল-তলোয়ার নেই, বন্দুক কামান নেই। গোলাগুলি চলছে না, বাজছে গান।
করোনাভাইরাসের কারণে ভারতজুড়ে লকডাউনের আবহে কলকাতা পুলিশ মানুষকে সচেতন করতে এবার নেমে পড়েছে গানকে সম্বল করে।
বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছিল এই অভিযান এবং প্রথম দিন মধ্য কলকাতার এন্টালী থানার অফিসাররা মাইক নিয়ে হাততালি দিতে দিতে গেয়েছিলেন, "we shall overcome, বা “আমরা করবো জয়”। 
জনবহুল এরিয়াতে হিন্দি বাংলা এবং ইংলিশ ভাষায় এই গান গাইতে থাকেন অফিসাররা আর সাথে চলতে থাকে হাততালি। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। সেই ভিডিওতে দেখা যায় আশেপাশের মানুষ ব্যালকনি থেকে হাততালি দিচ্ছেন বা পুলিশের গান ভিডিও করছেন।
শুক্রবার গড়িয়াহাট থানার অফিসার রা নিয়ে এলেন আর একটি গান— অঞ্জন দত্তের “বেলা বোস” এর সুরে সেই গানের মাধ্যমে জানানো হলো করোনা মহামারী কিভাবে ছড়িয়ে পড়ছে ইতালি চীন এবং আমেরিকাতে।
এক সূত্র জানিয়েছেন, রাত জেগে এই গানের লিরিক লেখা হয় এবং তাতে সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং এর বার্তা, ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে চলার মতো অনেক বার্তা দেওয়া হয়।
 
পরপর দুইদিন গানের এই অভিযানের পরে আজ চলে আসে আর একটি নতুন গান —  সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী গুপী গাইন বাঘা বাইন এর “ওরে হাল্লা রাজার সেনা" র সুরে দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ অফিসাররা গাইতে শুরু করেন "ওরে শহরবাসী, তোরা বাইরে ঘুরে করবি কি তা বল?” 
এই তিনটি ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল এবং এই গান মানুষের মুখে মুখে। 
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল নেতা বলেন গানের মাধ্যমে সোশ্যাল ডিসটেন্স এর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্ল্যান আসলে মমতারই।
"করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষের মনে আতঙ্ক। এই সময় মানুষকে সোশ্যাল ডিসটেনসিনসিংনিয়ে করাকরি করলে হিতে বিপরীত হতে পারে, তাই গানের মাধ্যমে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে" বলেন ওই তৃণমূল নেতা। 
আর যেহেতু মানুষ সারাদিন বাসায় কাটাচ্ছেন, তাই এই গানের মাধ্যমে তাদের একঘেয়েমি কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। 
"বিভিন্ন থানা তাদের নিজেদের উদ্যোগে এই কাজ করছে... এবং আমরা চাই আরো থানা এগিয়ে আসুক এবং সোশ্যাল ডিসটেন্স  এর বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিক" বলেন এক পদস্থ পুলিশ অফিসার।

গত ২৪ ঘণ্টায় ইতালিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ছয়শ ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ইতালিতে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার তিনশ ৬২ জনে। ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ইতালিতে প্রায় সবকিছু বন্ধ রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। 
চীনের পর করোনা সবচেয়ে ভয়াল থাবা বসিয়েছে ইতালিতে। এই মারণ ভাইরাসের কালো থাবায় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে দেশটি। প্রতিদিনই দেশটিতে শত শত মানুষ মারা যাচ্ছেন। আক্রান্তও হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন চার হাজার আটশ পাঁচ জন। আর মোট আক্রান্তের সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৪ হাজার ছয়শ ৩২ জনে। তবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকেই। ২০ হাজার নয়শ ৯৬ জন এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। 
এদিকে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। শনিবার জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ৯৩ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন সাত হাজার আটশ ৯৬ জন মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র নিউইয়র্ক শহর। তবে নিউ অরলিন্স, শিকাগো ও ডেট্রয়েটে দ্রুত এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বলে সেসব অঞ্চলের মেয়ররা জানিয়েছেন।


ফাইল ছবি
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে দেশজুড়ে চলমান গণপরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্ত আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। তবে পণ্য পরিবহন, জরুরি সেবা, জ্বালানি, ঔষধ, পচনশীল ও ত্রাণবাহী পরিবহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
শনিবার দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, তবে জরুরি সার্ভিসের জন্য পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ওষুধ, জ্বালানি, পচনশীল দ্রব্য, ত্রাণবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। কিন্তু পণ্যবাহী পরিবহন ও ট্রাকে কোনোভাবেই যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।-খবর বাসস
তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্সের মতো উন্নত দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থা অনেক ভালো। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যথাসময়ে যথোপযুক্ত পদক্ষেপের কারণেই সম্ভব হয়েছে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, সাধারণ ছুটির মধ্যে যানবাহনের ফিটনেস কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে জরিমানা ছাড়া নির্ধারিত ফি ও কর দিয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত লাইসেন্স আবেদন করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
এ সময় কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের জন্য দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
তবে সামাজিক দূরত্ব যাতে বজায় রাখা হয় ও জমায়েত না হয়; সেদিকে লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে দেশে নতুন করে আরও পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে পৌঁছাল। এদিকে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার পরিধি বাড়ানোর পর গতকাল শুক্রবার এক দিনে সর্বোচ্চ ৫১৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর আগে এক দিনে সর্বোচ্চ ১৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পরিধি বৃদ্ধির পর গতকাল এক দিনে পাঁচজন শনাক্ত হন। তাদের মধ্যে আইইডিসিআরের ল্যাবরেটরিতে দু'জন এবং অন্যত্র তিনজন শনাক্ত হয়। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত কারও মৃত্যু হয়নি। এতে মৃতের সংখ্যা ছয়জনই রয়েছে। আগে শুধু আইইডিসিআরের মাধ্যমে পরীক্ষা হলেও গতকাল থেকে দেশের আরও ১৪টি প্রতিষ্ঠানে এটা শুরু হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নতুন করে করোনা সংক্রমণের তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সবাইকে অনুরোধ করব, আপনারা বাসায় থাকার চেষ্টা করবেন। দূরত্ব মেনে চলবেন। গতকালের ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এবং এমআইএস শাখার পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান খানও একই মঞ্চে ছিলেন। এতদিন সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া কোনো কর্মকর্তা মাস্ক ব্যবহার না করলেও গতকাল তাদের সবার মুখে মাস্ক দেখা যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
মহাপরিচালক বলেন, এ পর্যন্ত দেশের ৪৩ জেলা থেকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার নমুনা পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে আইইডিসিআর ১২৬ জনের পরীক্ষা করে দু'জন আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে। অন্যান্য ল্যাবরেটরিতে ৩৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে তিনজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ মিলেছে।
ডা. আজাদ বলেন, নতুন ল্যাবরেটরিতে তিনজন শনাক্ত হলেও তারা আরেকটু যাচাই-বাছাই করবেন। গতকাল পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ২৯ জন বর্তমানে পর্যবেক্ষণে আছেন। তাদের মধ্যে ২২ জন হাসপাতালে এবং বাকিরা বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, এ পর্যন্ত সারাদেশে ৬৪ হাজার ৪৮৪ জনকে সেলফ কোয়ারেন্টাইনে এবং ২৪৮ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনে ১৬ হাজার ৩৭৯ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৭৪ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৮২ জন। এখন পর্যন্ত ২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরাদের ব্যাপারে মহাপরিচালক বলেন, এটির জন্য একটু ব্যাখ্যা প্রয়োজন। যখন কারও শরীরে করোনাভাইরাস থাকে, তিনি অসুস্থ নাও হতে পারেন। তার শরীরে অনেক সময় মৃদু লক্ষণ থাকে। দু-এক দিনের মধ্যেই হয়তো মৃদু লক্ষণও চলে যায়। কিন্তু পরপর দু'বার পরীক্ষার পর যদি কোনো ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস না পাওয়া যায়, তখন ওই ব্যক্তিকে সুস্থ বলা যায়। এ কারণে সময় বেশি লাগে। অন্যথায় আরও আগেই অনেককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া যেত।
জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ডা. আজাদ বলেন, এই সময় জ্বর, সর্দিসহ শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে। আবার করোনা আক্রান্ত হলেও সর্দি-কাশি হতে পারে। এ কারণে মানুষ আগের চেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে। এ অবস্থায় সবার প্রতি পরামর্শ থাকবে, কারও সামান্য জ্বর-গলাব্যথা হলে বাড়িতেই চিকিৎসা নিন। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল খাবেন, গলাব্যথা থাকলে কুসুম গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করবেন। সর্দি-কাশির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন সিরাপ খেতে পারেন। অবস্থা জটিল না হলে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বেশি অসুবিধা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬২৬৩, ৩৩৩ এবং ১০৬৫৫ নম্বরে ফোন করে পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ব্রিফিংয়ে সারাদেশে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক খোলা রাখার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও প্রাইভেট চেম্বারগুলো থেকে রোগীরা সেবা না পেয়ে ফিরে গেলে সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে অনেক চিকিৎসক ব্যক্তিগত চেম্বারে বসছেন না। অনেক টেকনিশিয়ান কর্মস্থলে না থাকায় রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাও বন্ধ আছে বলে রোগীদের কাছ থেকে প্রায়ই অভিযোগ আসছে। অনেক রোগী কয়েক হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন- এমন ঘটনাও প্রায়ই গণমাধ্যমে আসছে। রোগী রেখে চিকিৎসকদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রাইভেট হাসপাতালগুলো এই সময়ে কম কাজ করছে। ক্লিনিক-চেম্বারগুলো অনেকাংশে বন্ধ হয়ে আছে। এই দুর্যোগকালে আপনাদের পিছপা হওয়াটা যুক্তিসঙ্গত নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ান, মানুষের সেবা দিন। আমরা কিন্তু এসব লক্ষ্য করছি। পরবর্তীকালে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার আমরা তা নিতে পিছপা হবো না।
করোনার উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষা করা জরুরি উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, পরীক্ষা করলে নিজেও নিরাপদে থাকবেন। আপনার অবস্থা জানতে পারবেন। সেই সঙ্গে নিজের পাশাপাশি পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। পরীক্ষায় কোনো দোষ নেই। সামাজিক কোনো বাধা নেই। পরীক্ষার মাধ্যমে করোনাভাইরাসকে চিহ্নিত করে আমরা আস্তে আস্তে এটিকে নির্মূল করতে পারব।
করোনা শনাক্তকরণে ৭১ হাজার টেস্টিং কিট মজুদ আছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বেশি বেশি করে টেস্ট করেন, টেস্ট কিটের কোনো সংকট নেই। পরীক্ষা চালিয়ে যাবেন। পরীক্ষার মাধ্যমেই আমরা জানতে পরি, কত মানুষ এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। একই সঙ্গে যথেষ্ট পিপিই মজুদ আছে। প্রতিদিনই সব হাসপাতালে পিপিই পৌঁছানোর কাজ চলছে।



করোনা ভাইরাস নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই অনেক প্রশ্ন। বিশেষ করে মুসলমানদের মনে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রয়েছে হাজারো প্রশ্ন। এসব প্রশ্নই আমরা করেছিলাম দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি জসিমুদ্দীন হাফি. এর কাছে। ভিডিওতে দেখুন তাঁর বিস্তারিত জবাব।
সাক্ষাতকারগ্রহণ: মাওলানা ইশতিয়াক সিদ্দিকী ভিডিও প্রডিউস: প্রবচন মিডিয়া এডিট: কাজী হামদু্ল্লাহ

প্রবচনের বিশেষ সংখ্যার 
মোড়ক উন্মোচন করলেন আল্লামা আহমদ শফী
সাহিত্য সাময়িকী 'প্রবচন' এর বিশেষ আয়োজন ‘আল্লামা আহমদ শফী সংখ্যা'র মোড়ক উন্মোচন করেছেন শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী।
আজ ১৪ জুন শুক্রবার দুপুর ১২ টায় আমিরে হেফাজতের কার্যালয়ে প্রবচন মিডিয়া প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যাটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আল্লামা আহমদ শফী তরুণদের বলেন, তোমরা বেশি বেশি লেখো। তোমাদের লেখালেখির পরিধি যত বাড়বে আমাদের বিষয়গুলো সাধারণ মানুষ ততটাই সঠিকভাবে জানতে পারবে। আশা করি প্রবচনের মাধ্যমে এ লাইনে অনেক কাজ হবে। তোমরা মিডিয়ার সাথে সম্পৃক্ত হও। মিডিয়াতে কাজ কর। সাংবাদিকতার নামে হলুদ সাংবাদিকতার মোকাবিলা কর। কলম দিয়ে এখন অনেক সন্ত্রাসী হয়। এগুলার বিরুদ্ধে তোমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে।।
এসময় তিনি প্রবচনের কৃতজ্ঞতা আদায় এবং প্রবচন মিডিয়ার সার্বিক অগ্রগতি কামনা করেন। পাশাপাশি সামনেও এরকম বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য উপস্থতি তরুণদের উদ্দেশ্যে বিশেষ পরামর্শ প্রদান করেন।
হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে নিয়ে সাহিত্য সাময়িকী প্রবচনের বিশেষ আয়োজন 'আল্লামা আহমদ শফী সংখ্যা'। এ সংখ্যায় হুজুরকে ঘিরে বিশিষ্টজনদের, বিশেষ করে তরুণদের আবেগ-অনুভূতি ও মতামতগুলো স্থান পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন প্রবচন সম্পাদক কাজী হামদুল্লাহ, সহকারী সম্পাদক মুহাম্মাদ এমদাদুল্লাহ, ফাহিম আহমাদ, মাও. শফিউল আলম, মাও, ইবরাহিম খলিল সিকদার, ইনসাফ টুয়েন্টিফোর ডটকমের হাটহাজারী প্রতিনিধি জুনাইদ আহমদ, রাশিদুল ইসলাম,একুশে জার্নাল হাটহাজারী প্রতিনিধি হাবীব আনওয়ার, ইউসুফ বিন মাসুম ও আহনাফ আবদুল্লাহ প্রমুখ।
(পত্রিকা সংগ্রহ করতে যোগাযোগ : 01910296951 /৪৮পৃষ্ঠা ১২টাকা)





রংপুরে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে জুতা প্রদর্শন করে বিক্ষোভ

জুতা প্রদর্শন করে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। ছবি: বাংলানিউজ

রংপুর: ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম  হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্তি করার প্রতিবাদে জুতা প্রদর্শন করে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে রংপুরের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শনিবার ( ১১ মে) দুপুর ১২টার দিকে নগরের লালবাগ মোড়ে ওসি মোয়াজ্জেমকে রংপুর রেঞ্জ থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং স্থায়ী চাকরিচ্যুত করার দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করে। 
সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের রংপুর বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক রায়হান শরীফের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার পূণ্যভূমি রংপুরে নুসরাত হত্যার সাহায্যকারী মোয়াজ্জেমের ঠাঁই হবে না। 
দেশে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এসব ঘটনার মূল কারণ বলে বক্তারা অভিমত দেন।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে জুতা প্রদর্শন করে নারী নির্যাতন ও হত্যাকারীদের সহযোগী ওসি মোয়াজ্জেমের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওসি মোয়াজ্জেমকে রংপুর রেঞ্জ থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহার, স্থায়ী চাকরিচ্যুত এবং হত্যার ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনে রংপুর কারমাইকেল কলেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
গত শুক্রবার গণমাধ্যমে ওসি মোয়াজ্জেমকে রংপুর ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে ফুলে ফেঁপে উঠেছে রংপুরের সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ আড্ডায়, গল্পে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছে রংপুরবাসী। এছাড়াও তাকে অন্যত্র বদলি না করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারী দিয়েছেন সচেতন মহল।

তারাবির সময় লন্ডনের মসজিদে গুলি
ছবি: সেভেন কিংস মসজিদ, ইলফোর্ড, লন্ডন। (ইন্টারনেট)


পূর্ব লন্ডনের একটি মসজিদের বাইরে তারাবির নামাজের সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে, এতে কেউ হতাহত হননি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ মে) পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ড এলাকায় সেভেন কিংস মসজিদের বাইরে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, এক ব্যক্তি পিস্তল নিয়ে মসজিদে ঢোকার চেষ্টা করলে মুসল্লিরা তাকে সেখান থেকে বের করে দেন। এর কিছুক্ষণ পরই বাইরে থেকে গুলির শব্দ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে তাৎক্ষিণকভাবে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


তবে, এটি কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নয় বলে নিশ্চিত করেছে লন্ডন পুলিশ। এ ঘটনায় তাৎক্ষিণকভাবে মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পরে নির্বিঘ্নেই তারাবির নামাজ আদায় করেন তারা।




সালাহুদ্দীন জাহাঙ্গির
রমজান-রামাদান বিতর্কের একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রতিফল আছে। সালাফি ঘরানার যারা এই প্রবণতায় আক্রান্ত, তারা আরবির প্রতি আকর্ষিত হয়ে এমন শুদ্ধ আরবির অনুশীলন-ব্যবহার শুরু করেছেন। কিন্তু বাংলা ভাষায় যখন আরেকটি ভাষার কোনো শব্দ অনুপ্রবেশ করে, স্বাভাবিকভাবেই সেটা বাংলাভাষার গতি-প্রকৃতি অনুসরণ করে নিজস্ব একটা রূপ দাঁড় করায়। এটা প্রত্যেক ভাষার নিজস্বতা। যেমন ইংরেজি Table (ট্যাবল) কে আমরা বলি টেবিল।
বহু শতাব্দী ধরে আরবিতে অনেক হিব্রু, ফার্সি, স্প্যানিশ শব্দ অনুপ্রবেশ করেছে। সেসবও কিন্তু আরবির গতি-প্রকৃতি অনুসরণ করে নিজস্ব ধরনে উচ্চারিত হয়ে আসছে। সেখানে মূল হিব্রু বা ল্যাটিনের স্বত্তাগত শব্দটি হুবহু উচ্চারিত না হয়ে আরবির প্রকৃতি অনুযায়ী নতুন গঠন ও উচ্চারণ তৈরি হয়েছে। যেমন স্প্যানিশ Constantinople (কনস্ট্যান্টিনোপল) আরবিতে অনুপ্রবেশ করেছে 'কস্তুনতুনিয়া' হয়ে। এটাই ভাষার সহজাত প্রক্রিয়া এবং ভাষা জন্ম নেবার পর থেকেই এ প্রক্রিয়া পৃথিবীর সর্বত্র শত শত শতাব্দী ধরে ঘটে আসছে। ভাষা প্রক্রিয়াজাতকরণের এই প্রক্রিয়া রোধ করার চেষ্টা করলে যেকোনো ভাষা তার নিজস্বতা হারাবে এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হবে।
বাংলাভাষায় ব্যবহৃত আরবি বা বিদেশি শব্দকে যদি আপনি বাংলার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াজাত হতে বাধা প্রদান করেন—এর ফলাফল হবে দু ধরনের।
এক. বাংলাভাষার নিজস্বতা নষ্ট হয়ে ভাষাটা ধীরে ধীরে দেউলিয়া হতে পারে, তখন আপনার অবস্থা হবে না ঘর কা, না ঘাট কা। আপনাকে কথা বলতে হবে যাযাবর সম্প্রদায়ের মতো মিশ্র ভাষায়।
দুই. সাধারণ বাংলাভাষী মানুষের মনে ধর্মীয় কুলীন ভাষা ব্যবহারে প্রবল ভীতি তৈরি হবে। কেননা সমাজের ৯৫% মানুষ আরবি মাখরাজ জানে না। তারা মনে করবে, আরবি মানেই যেহেতু ধর্মীয় ভাষা, সুতরাং সঠিকভাবে উচ্চারণ না করলে গোনাহ হবে। এ কারণে তাদের ভেতর খুব স্বাভাবিকভাবেই আরবি-ভীতি প্রবল হবে এবং 'তারাউইহ' 'স্বহীহ্' বা 'নাদাউই'র মতো মাখরাজধর্মী শব্দ উচ্চারণের প্রতি তাদের মনে অনীহা সৃষ্টি হবে। সম্ভবত এই ভীতি ইতোমধ্যেই জোরেশোরে শুরু হয়েছে। অনেকেই আরবিভাষা নিয়ে এমন গোঁড়ামি দেখে আরবি উচ্চারণে ইস্তফা দেয়া শুরু করেছে।
এখন একটা সম্পূরক কথা বলি। বাংলাদেশে ইসলাম আগমনের পর থেকে এ পর্যন্ত আরবি ভাষায় রচিত দশটি কিতাবের নাম বলুন তো! যেগুলো বাংলাদেশি কোনো স্কলার বাংলাদেশে থেকে আরবি ভাষায় রচনা করেছেন! দশটা আরবি কিতাবের নাম খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে নিঃসন্দেহে।
বিগত ১৩-১৪ শ বছরে এই দেশে আরব, পারস্য, হিন্দুস্তান থেকে শত সহস্র মুসলিম মনীষীর আগমন ঘটেছে। এই দেশে জন্ম নিয়ে প্রথিতযশা আলেম হয়েছেন—ইতিহাসে এমন ব্যক্তির উদাহরণও কম নয়। তারা 'স্বহীহ' আরবিতে কোনো গ্রন্থ রচনা করেননি বা 'স্বহীহ' আরবিতে কথা বলেননি বলে এ দেশ থেকে ইসলাম হারিয়ে যায়নি। বরং বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে যারাই দাওয়াতের ব্রত নিয়ে এ দেশে এসেছেন, তারা কাল পরিক্রমায় এ দেশের মানুষের ভাষায় কথা বলেছেন। তাদের নিয়ে রচিত হয়েছে বড়জোর ফার্সি বয়েত, কিন্তু অঢেল লেখা হয়েছে বাংলা পুঁথি।
বঙ্গদেশে আগত বিখ্যাত প্রত্যেকজন মুসলিম সাধককে নিয়ে বাংলায় রচিত হয়েছে পুঁথিসাহিত্য। তাতে বাংলাদেশ থেকে ইসলাম বিদায় নিয়ে ইয়েমেন চলে যায়নি। বরং তারাই এসে বাংলার মাটি-বাতাস, জল-প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের একীভূত করে নিয়েছেন।
এ কারণেই বাংলাদেশের ইসলাম আর্মেনিয়া বা স্পেনের মতো নয়। স্পেনের ইসলাম ছিল শাসকগোষ্ঠীর ধর্ম। গ্রানাডা, কর্ডোভা, মালাগা, টলেডোর সাধারণ মানুষের মাঝে ইসলামকে তারা সার্বজনীন করতে পারেনি। সেখানে উমাইয়া প্রভাবিত শাসকদের প্রশাসনিক এবং দাপ্তরিক ভাষা ছিল আরবি। স্থানীয় স্প্যানিশ জনগণ ও ভাষার সঙ্গে শাসক ও ধনিক আরবীয় বংশোদ্ভূতরা একীভূত হতে পারেনি। ফলে ফার্ডিন্যান্ড ও ঈসাবেলার হাত ধরে স্প্যানিশ খ্রিষ্টীয় জাতীয়তাবাদের ধাক্কা যখন এসেছে, ইসলাম সেখান থেকে সমূলে উপড়ে চলে এসেছে।
একই কথা আর্মেনিয়া, আজারবাইজানের ক্ষেত্রেও।
আজকে যারা বাংলাভাষায় আরবি আধিপত্যবিস্তারের এমন প্রয়াস চালাচ্ছেন, তারা হয়তো বুঝতেও পারছেন না কী ক্ষতি তারা করে চলেছেন। তারা অতি ধার্মিকতার নামে বোকার মতো বাংলাভাষা থেকে ইসলামকে ক্রমশই দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন। ক্রমশই বাংলাভাষা এবং ইসলামের মধ্যে তৈরি করছেন দুর্লঙ্ঘ প্রাচীর। একদিন দেখবেন, আপনি নিজেই আর এ প্রাচীর ভেদ করতে পারবেন না।

আতাউর রহমান আল হাদী
.
রমজান আসে বছর ঘুরে
গুনাহ মাফের জন্য
মন খুলে যে পালন করে
হয় সে পরম ধন্য।

তিরিশ রোজা রাখবে যে জন
রমজানের এই মাসে
রোজ হাশরে পাইবে ছায়া
আল্লা'র আরশ পাশে।

আল্লাহ-ভীতি আসবে মনে
ছাড়লে খারাবি
সকল গুনাহ মুছে যাবে
পড়লে তারাবি।


প্রবচন সাহিত্য সাময়িকীর বিশেষ ‘আয়োজন আল্লামা আহমদ শফী’ সংখ্যা আসছে

প্রবচনের প্রকাশিত দ্বিতীয় বই 'সাবীলুত তাযকিয়া' আমাদের হাতে চলে এসেছে। শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফিযাহুল্লাহর নির্দেশনায় বইটি লিখেছেন তাঁর অন্যতম খলিফা 'মাওলানা আহমাদ মোস্তফা'। আর প্রকাশ করেছে প্রবচন মিডিয়া পরিচালিত 'প্রবচন প্রকাশনী'।
পবিত্র মাহে রমযান আত্মশুদ্ধির মাস। মানুষ কিভাবে সঠিক পদ্ধতিতে আত্মশুদ্ধি করতে পারে, কুরআন-হাদিস ও মুজতাহিদ উলামায়ে উম্মতের কাছে আত্মশুদ্ধির অবস্থান এবং তাসাউফ ও পীর-মুরিদীসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো বিষয় স্থান পেয়েছে বইটির পাতায় পাতায়।
রয়েছে আল্লামা শাহ আহমদ শফী, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও ড. মাওলানা খলিলুর রহমান হাফিযাহুমুল্লাহর মূল্যবান অভিমত। এছাড়াও বইটির শেষাংশে সংযুক্ত হয়েছে আমিরে হেফাজত আল্লামা আহমদ শফী হাফিযাহুল্লাহর একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় আলোচনা।
গত ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার প্রবচন প্রকাশিত এ বইটির মোড়ক উন্মোচন করেছেন দারুল উলুম হাটহাজারীর সম্মানিত মুহতামিম ও প্রধান শাইখুল হাদিস, আমিরে হেফাজত, আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফিযাহুল্লাহ।
[বই পরিচিতি]
নাম: সাবীলুত তাযকিয়া
ধরণ: তাসাউফ ও আত্মশুদ্ধি
প্রকাশকাল: এপ্রিল ২০১৯
পৃষ্ঠা: ১৪৪
বিক্রয় মূল্য: মাত্র ৭০ টাকা
নির্দেশক: আল্লামা আহমদ শফী হাফি.
লেখক: আহমাদ মোস্তফা
সম্পাদক: মাওলানা আনাস মাদানী
প্রুফ সম্পাদক: ইশতিয়াক সিদ্দিকী
প্রকাশক: কাজী হামদুল্লাহ
প্রচ্ছদ: মুহাম্মাদ এমদাদুল্লাহ
প্রকাশনায়: প্রবচন প্রকাশনী

যোগাযোগ: ০১৯১০২৯৬৯৫১, ০১৬৩২৬১০০৫১ (প্রবচন)
পরিবেশক: 
- বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স, বাংলাবাজার, ঢাকা।
- আহমদ প্রকাশন, বাংলাবাজার, ঢাকা ও পটিয়া, চট্টগ্রাম।
- আল মানার লাইব্রেরি, আন্দরকিল্লা, চট্টগ্রাম।
- মুহাম্মাদিয়া লাইব্রেরি, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
- বুরহানিয়া কুতুবখানা, জুম্মাপাড়া, রংপুর।
- মাকতাবাতু আহমাদ, নাটোর।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget