Latest Post

বাংলাদেশিসহ ৪৬ তাবলিগ জামাত সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে ভারতভিসার নিয়ম লঙ্ঘন করায় বাংলাদেশিসহ তাবলিগ জামাতের ৪৬ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে ভারত। নিয়ম লঙ্ঘন করে তারা বিহারের বিভিন্ন মসজিদে দাওয়াতি কাজ করে আসছিল। সেখান থেকে তল্লাশি করে তাদের আটক করে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। কোয়ারেন্টিন শেষে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর তাবলিগ জামাত নিয়ে কঠোর অবস্থান নেয় ভারত সরকার। এরপর বিহার পুলিশ আড়িয়া থেকে ১৮, বাক্সার জেলায় ১০ জন এবং পাটনা থেকে বাকি বিদেশিদের আটক করে। অন্য যারা আছেন তাদেরও সন্ধান চলছে।
আটক বিদেশিদের সবাই পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিল। তবে তারা ফরেনার্স অ্যাক্ট ১৯৪৬ লঙ্ঘন করে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। কারাগারে পাঠানো ৪৬ জনের মধ্য বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, কিরগিজস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন। গত মাসে তারা সবাই দিল্লির মারকাজে তাবলিগের জমায়েতে যোগ দিয়েছিল।
কারাগারে পাঠানোর আগে ৪৬ বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথি জব্দ করেছে পুলিশ।
সূত্র- নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

চাঞ্চল্যকর তথ্য, ভারতে ২ প্রজাতির বাদুড়ের শরীরে মিলল করোনাকরোনাভাইরাস যে বিশেষ প্রজাতির বাদুড়ের শরীরে রয়েছে তার সন্ধান পেলেন ভারতের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চের গবেষকরা। দেশটির কেরালা, পুদুচেরীর, তামিলনাড়ু এবং হিমাচল প্রদেশে রয়েছে এই ধরনের বাদুড়। তবে এই বাদুড় থেকে যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মানুষের শরীরে ছড়িয়েছে তার কোনো প্রমাণ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যানি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, একাধিক বাদুড়ের নমুনা সংগ্রহ করেছেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চের গবেষকরা। দেশটির প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরও এই বিষয়ে গবেষকদের সাহায্য করছে বলে জানা গেছে। 
ভারতে দুই প্রজাতির বাদুড়- ইন্ডিয়ান ফ্লায়িং ফক্স এবং ফল খাওয়া বাদুড় অর্থাৎ রসেটাস বাদুড়ের শরীরে মিলেছে বিটা-করোনাভাইরাসের ভাইরাল স্ট্রেনের খোঁজ। করোনাভাইরাসের উৎসের কারণ বাদুড় হতে পারে কি-না, আসলে সেই বিষয়টি নিয়েই গবেষণা চালাচ্ছিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (এনআইভি)। 
এই দুই গবেষক সংস্থার পক্ষ থেকে কেরালা, তামিলনাড়ু, হিমাচলপ্রদেশ এবং পুদুচেরীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ইন্ডিয়ান ফ্লায়িং ফক্স এবং রসেটাস-এই ২ প্রজাতির বাদুড় সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছিল। তবে এক্ষেত্রে উল্লেখ্যযোগ্য হলো, এই ২ প্রজাতিরই ২৫টি বাদুড়ের গলা থেকে পাওয়া নমুনার রিভার্স-ট্রান্সক্রিপশন পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন (আরটি-পিসিআর) পরীক্ষা করে এই মারণ ভাইরাসের ভাইরাল স্ট্রেনের খোঁজ পাওয়া গেছে। 
আইসিএমআরের তথ্য অনুযায়ী, মনে করা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের বাহক কিংবা উৎস এই দুই প্রজাতির বাদুড় হলেও হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এই ২ প্রজাতির বাদুড়ের থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে কি-না, সেটা এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত করে জানায়ানি দুই গবেষণা সংস্থা। চাঞ্চল্যকর এই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব মেডিক্যাল রিসার্চে।

ফেসবুক লাইভে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী আটক
ফেনীতে ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন স্বামী। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর স্বামী টুটুলকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ফেনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বারাহীপুর পূর্ব বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতকের পুরো নাম ওবায়দুল হক টুটুল ভূঁইয়া, আর নৃশংসতার শিকার নারীর নাম তাহমিনা আক্তার।
ভিডিওতে দেখা যায়, খুন করার আগে টুটুল বলছিল- একজনের জন্য তার পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। ৮ মাস বয়সে তার মেয়েকে রেখে চলে যায় সে। তার সারাজীবন ধ্বংস হয়ে গেছে তার স্ত্রীর জন্য এমন দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করতে করতে এক পর্যায়ে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে টুটুল। কোপানোর পরপরই নিস্তেজ হয়ে যান ভুক্তভোগী নারী।
এরপরই টুটুল বলতে থাকে, সে এখন শেষ। আপনারা আমার বাবা-মা ও এতিম মেয়েকে দেখে রাখবেন। এই খুনের সাথে তিনি নিজেই জড়িত এবং অন্য কেউ এরসাথে সংশ্লিষ্ট নয়, এমনটা বলতে থাকেন তিনি। লাইভ ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, সবাই আমাকে ক্ষমা করবেন। আমার বাবা-মা, ভাই-বোন ও অনাথ মেয়েটার খেয়াল করবেন।
খুন করার লাইভ ভিডিওর পর, একটি মেয়েকে নিয়ে আরেকটি ভিডিও পোস্ট করে টুটুল ভুইয়া। সেখানে তার দাবি, তার মেয়ের যখন ৮ মাস বয়স তখন সে (তার স্ত্রী) ছেড়ে চলে যায়। এখন আবার সে ফেরত এসেছে। তার পুরো পরিবার ব্ল্যাকমেইল করে অনেক সমস্যায় ফেলেছে। বাচ্চা মেয়েটাকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। এরপর তিনি নিজেও আত্মহত্যার ইঙ্গিত দেয় ওই ভিডিওতে।
এই ঘটনার পরপরই টুটুলকে ফেনীর বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। ফেনী সদর থানার ওসি আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, হত্যায় অভিযুক্ত টুটুল ভুইয়ার বাড়ি ফেনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়াঈপুর এলাকায়। টুটুল ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করতো। সন্তানদের নিয়ে তার স্ত্রী বাড়িতেই থাকতো। সে ঢাকায় থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী তাহমিনা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এটা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। তাহমিনার বাড়ি থেকে টাকা চেয়ে মানসিক হয়রানি করা হতো বলে দাবি করেন টুটুল। আটকের পর টুটুল পুলিশের কাছে খুনের কথা স্বীকার করে।
এদিকে, খুন করার লাইভ ভিডিওটি ঘটনার ঘণ্টাখানেক পর আর টুটুলের ফেসবুক প্রোফাইলে পাওয়া যায়নি। পুলিশ এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, টুটুলের প্রোফাইলে লাইভ ভিডিও তারা পায়নি। তবে, তার পোস্টগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। নিহতের স্বজনরা মামলা করলে এ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

নোয়াখালী জেলাকে লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। আগামীকাল শনিবার সকাল ছয়টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে।

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ–সংক্রান্ত জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ শুক্রবার বিকেলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় দাস এ–সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন।

আদেশ অনুসারে, সড়ক ও নৌপথে অন্য জেলা থেকে কেউ এই জেলায় প্রবেশ করতে পারবেন না। একইভাবে এ জেলা থেকেও কেউ বের হতে পারবেন না। একই সঙ্গে জেলার ভেতরে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায়ও আসা–যাওয়া করা যাবে না। 
তবে জরুরি পরিষেবা, যেমন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, টেলিফোন, ইন্টারনেট সেবায় নিয়োজিত কর্মী ও গাড়ি; চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত কর্মী ও যানবাহন, ওষুধশিল্প–সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাদ্যসামগ্রী, কৃষিপণ্য, সার-কীটনাশক, জ্বালানি ইত্যাদি পণ্য পরিবহনকাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এ আদেশের আওতামুক্ত থাকবে।
এক প্রশ্নের জবাবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, মুদিদোকান ও কাঁচাবাজার আগের মতো দিনের বেলায় সীমিত সময়ের জন্য খোলা রাখা যাবে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতা–বিক্রেতাকে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

করোনা বিশ্বজুড়ে জৈব-সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটতে পারে : জাতিসংঘ

অ্যান্তনিও গুতেরেস
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেছেন, বিশ্বজুড়ে কীভাবে জৈব-সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটতে পারে, তা দেখার সুযোগ করে দিয়েছে করোনা মহামারী।
বিশ্ববাসীকে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রহীন গোষ্ঠীগুলোর হাতে প্রাণঘাতী জীবাণু অস্ত্র চলে যেতে পারে। তখন তা করোনাভাইরাস রোগের মতোই বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে।
ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হয়েছে। এতে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইকে ‘একটি প্রজন্মের যুদ্ধ’ বলে আখ্যায়িত করেন অ্যান্তনিও গুতেরেস।
বৈশ্বিক করোনা মহামারীর কারণে বিশ্বে যেসব ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে তিনি সেই তালিকা দেন। গুতেরেস বলেন, কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) সবার আগে স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। কিন্তু এই ভাইরাসের প্রভাব আরও সুদূর-প্রসারী।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন,‘এটা জাতিসংঘের নিজেরই অস্তিত্বের লড়াই। আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার বড় হুমকি এই মহামারী। এতে পরিস্থিতিকে সামাজিক অস্থিরতার দিকে নিয়ে যাবে। সহিংসতা বাড়বে। যাতে রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সক্ষমতা খর্ব হয়ে যেতে পারে।’
তিনি বলেন, এই মহামারী যেভাবে দুর্বলতা ও প্রস্তুতির অভাবের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসছে, তাতে জৈব-সন্ত্রাসী হামলা কীভাবে হতে পারে, তা দেখার একটি সুযোগ করে দিয়েছে। এতে ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রহীন গোষ্ঠীগুলোর হাতে জীবাণু অস্ত্র চলে যেতে পারে, যা দিয়ে তারা সমাজে বিপর্যয় তৈরি করতে পারে।’

বিশ্বজুড়ে নোভেল করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা শুক্রবার এক লাখ ছাড়িয়েছে। সেইসঙ্গে দুনিয়াজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যাও ১৬ লাখে পৌঁছেছে। আক্রান্তের মধ্যে ৩ লাখের কাছাকাছি সেরেও উঠেছেন। গত আট দিনে মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। তার একটা বড় কারণ আমেরিকা, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও ব্রিটেনের মতো কয়েকটি দেশ।
আমেরিকায় শেষ চার দিনে প্রায় ৮ হাজার মানুষ করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। ফ্রান্স ও ব্রিটেনেও গতকয়েক দিন ধরে গড়ে প্রায় হাজার জন করে মারা যাচ্ছেন। ইতালি ও স্পেনে অতিমারির প্রকোপ গত এক সপ্তাহে খানিক কমলেও, মৃত্যু রোজ ৫০০-৬০০ মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, গোটা বিশ্বে এই মুহূর্তে করোনায় মৃতের সংখ্যাটা ১ লাখ ১ হাজার ৭৬২। আক্রান্ত বেড়ে হয়েছে ১৬ লাখ ৮০ হাজারা ৪৮৯। সম্পূর্ণ সেরে উঠেছেন ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫৩৮।
করোনা মৃত্যুতে আমেরিকা ও ইতালির মধ্যে ফারাক কমে উনিশ আর বিশ। এতদিন ইতালিই মৃত্যুর শিখর ছুঁয়েছিল। গতকয়েক দিনে মৃত্যুর সেই হার নেমে এসেছে। উল্টো দিকে, আমেরিকায় গড়ে গতকয়েক দিনে রোজ ২ হাজার করে মানুষ মারা যাচ্ছেন। ফলে, আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে মৃত্যুর শিখরেও উঠে আসছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবারও ১,৯০০ জন মারা গিয়েছেন ট্রাম্পের দেশে।
ইতালিতে মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার ৮৪৯। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৫৭০ জন। একদিনে আরও ৩,৯৫১ আক্রান্ত বেড়ে সংখ্যাটা হয়েছে এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৭৭। সেই হিসেবে ইতালির থেকে আমেরিকায় করোনায় মৃত্যুহার কম। কারণ, মার্কিন মুল্লুকে মোট ১৮ হাজার ০৩৪ মৃত্যু হলেও, আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। শুক্রবার রাত পর্যন্ত আমেরিকায় করোনা পজিটিভ ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪৬। স্পেনে মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ১৫ হাজার ৯৭০। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন ৫২৩ জন। অন্যদিকে, ব্রিটেনে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতের হিসেবে আরও ৯৮০ যোগ হয়েছে।
অন্যদিকে, ফ্রান্সে একদিনে বেডেছে আরও ৯৮৭ মৃত্যু। ফ্রান্স ও ব্রিটেনে মৃত্যু বেড়ে হয়েছে যথাক্রমে ১৩ হাজার ১৯৭ ও ৮ হাজার ৯৫৮। বেলজিয়ামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯৬ জন মারা গেছেন।
জার্মানিতে আরও ৮১টি মৃত্যুসহ মৃত বেড়ে হয়েছে ২,৬৮৮। গত ২৪ ঘণ্টায় গোটা বিশ্বে ৬ হাজার ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই সংখ্যাটা ছিল ৭ হাজার ২৩৪।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এক বিবৃতিতে বলেন, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ভয়াবহভাবে বিস্তার ঘটায় গণমাধ্যম, বিশেষ করে সংবাদপত্র, টেলিভিশন, ডিজিটাল নিউজ পেপার, বার্তা সংস্থার সাংবাদিক কর্মচারীদের কর্তব্য পালন হুমকির মুখে পড়েছে।
ইতিমধ্যে তিনজন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের শরীরে কোভিড-১৯ পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। এ অবস্থায় গোটা গণমাধ্যম পরিবারে তীব্র উদ্বেগ-উৎকণ্টা ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে, অজানা আতঙ্ক। 
বিবৃতিতে, আরো বলা হয়, একথাও কারো আজানা নয়, বেশিরভাগ গণমাধ্যমে বেতন-ভাতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধাদি অনিয়মিত। স্বাস্থ্যঝুঁকির কোনো ধরনের নিরাপত্তা নেই। নেই, পরিবহন সুবিধাও। তারপরেও, পাঠক চাহিদা, প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা এবং রাষ্ট্রের চতুর্থস্তম্ব হিসেবে পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে সংবাদকর্মিরা কর্তব্য পালন করে যাচ্ছেন। কিন্তু বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে সংবাদকর্মিদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে নতুন করে জরুরিভাবে চিন্তা করতে হবে। 
বিবৃতিতে ডিইউজের এই দুই নেতা বলেন, যদি রাষ্ট্র ও গণমাধ্যমের মালিকানা প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ, স্বাস্থ্যঝুঁকির নিরাপত্তা ও করোনা উপযোগী পরিবহন সুবিধা করতে না পারে, তাহলে কোনো অবস্থাতেই সাংবাদিকদের কাজে বাধ্য করাতে পারবে না। একই সঙ্গে ডিইউজে নেতারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদ্যদের চিকিৎসা ব্যয় সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে বহনের দাবি জানিয়েছেন।
ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু বিবৃতিতে আরও বলেন, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান চালু রাখা হলেও স্বগোত্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিউজ শেয়ারিং করা ও কম গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্ট পরিহার করতে হবে। তাছাড়া, ঝুঁকি কমিয়ে আনা ও অফিসের সহকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পথে-ঘাটে-মাঠে বাইরে নিউজ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকের জন্য সুরক্ষিত আলাদা নিভৃত বার্তাকক্ষের (আইসোলেশান নিউজরুম) ব্যবস্থা করতে হবে।
একই সঙ্গে, করোনা দুর্যোগের সময়ে হোটেল-রেস্টেুরেন্ট খোলা না থাকায় অফিসের অভ্যন্তরে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সকল সাংবাদিক ও কর্মিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানান নেতারা। 

আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা। ফাইল ছবি

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান।


এই নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১৬৪ জন রোগী শনাক্ত হলো। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এক দিনে ৭৯২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

মীরজাদী সেব্রিনা জানান, নতুন শনাক্ত ৪১ জনের মধ্যে ২৮ জন পুরুষ, বাকিরা নারী। ২০ জন ঢাকার, ১৫ জন নারায়ণগঞ্জের। মৃত পাঁচজনের মধ্যে দুজনের বয়স ৬০ বছরের ওপরে, দুজনের ৫০ বছরের ওপরে, একজনের বয়স ৪০ বছরের ওপরে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩৩ জন।

দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত (কোভিড-১৯) প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এক মাসের মধ্যে রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা তুলনা করলে করোনার প্রকোপ বেশি এমন দেশগুলোর কাছাকাছি (মৃত্যুর হার) চলে গেছে বাংলাদেশ।

প্রতিদিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর পর দেশে তিন-চার দিন ধরে অনেকটা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা।



সতর্কতার জন্য সরকার উলামায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করে, যে কোনো ধরনের বড় জমায়েতকে নিষেধ করেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আদেশ দিয়েছে। জামাত ও জুমার উপস্থিতিকে সীমিত রাখার আদেশ জারি করেছে। শরয়ী দৃষ্টিতে এসকল সতর্কতামূলক নির্দেশনা সঠিক ও যথার্থ। সরকার কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনাকে মূল্যায়ন করা এবং তা উত্তমরূপে গ্রহণ ও পালন করা মানবতার কল্যাণে আমাদের অপরিহার্য কর্তব্য।

তবে সতর্কতা ও ব্যবস্থা গ্রহণই আমাদের একমাত্র কাজ নয়। বরং আমাদের কৃতপাপ ও সমূহ অন্যায় থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। ভবিষ্যতে সকল অপরাধ থেকে দূরে থাকার প্রতিজ্ঞা করে খালিছ দিলে তওবা করতে হবে। ঘরে বসে দুআ,ইস্তেগফার ও নফল ইবাদাতে মাশগুল থাকতে হবে। যেন আল্লাহ তাআলা অনতিবিলম্বে আমাদের থেকে এমহামারি তুলে নেন। নিরাপদে জীবন যাপন করার তওফীক দান করেন। আমাদেরকে ও সারা বিশ্বকে এ মহামারি থেকে প্ররিত্রাণ দেন।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা যেদিন রেকর্ড ছাড়ালো, সেদিনই সরকারের দায়িত্বশীল দুই কর্মকর্তা দিলেন সংখ্যা নিয়ে দুরকমের তথ্য।
আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা প্রথমদিকে এককভাবেই করোনাভাইরাস সংক্রান্ত দৈনিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসছিলেন, কিন্তু সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও এতে যোগ দিচ্ছিলেন।
যদিও পূর্ব নির্ধারিত ব্রিফিংয়েই প্রতিদিনকার তথ্য জানানো হয়, কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী মি. মালেক সোমবার এক অনির্ধারিত অনুষ্ঠানে আকস্মিকভাবেই নতুন আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন গত চব্বিশ ঘণ্টায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তার উল্লেখ করা নতুন শনাক্ত রোগী ছিলেন ২৯ জন, এই সংখ্যাও এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
কিন্তু এর দুই ঘণ্টা পর নিয়মিত অনলাইন সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসে সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩ জন।
নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩৫ জন।
স্পষ্টতই দুই রকম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে দুজনের কাছ থেকে, যদিও দুজনেই দায়িত্বশীল পদে আছেন এবং এই দুজনের যে কোন একজনের দেয়া তথ্যই এতদিন করোনাভাইরাস সংক্রান্ত গ্রহণযোগ্য তথ্য হিসেবে গণ্য করে আসা হচ্ছিল।
এখন দেখা যাচ্ছে জাহিদ মালেকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট মৃতের সংখ্যা ১৩, শনাক্ত রোগী ১১৭।
কিন্তু মিজ ফ্লোরার দেয়া হিসেব অনুযায়ী মোট রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১২৩ জন।
তাঁর হিসেবে, নতুন যারা শনাক্ত হয়েছেন তার মধ্যে পুরুষ ৩০ জন, পাঁচজন মহিলা
এখন পর্যন্ত যারা শনাক্ত হয়েছেন তার মধ্যে ঢাকায় ৬৪ জন, নারায়ণগঞ্জে ২৩ জন।
দুরকম তথ্যের ব্যাখ্যা
মন্ত্রী ও পরিচালকের দেয়া তথ্যের মধ্যে যে অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, "মন্ত্রী ব্রিফিং করেননি। তার বক্তৃতার অংশ হিসেবে তিনি সেটা বলেছেন।"
একটি নাম ভুল করার কারণে এই ভুলটি হয়েছে, বলেন তিনি।
যদিও আইইডিআরের ওয়েবসাইটে মোট মৃতের সংখ্যা ১৩ বলে উল্লেখ রয়েছে, যা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেয়া তথ্যের সাথে মেলে, আইইডিসিআর পরিচালকের দেয়া তথ্যের সাথে নয়।

সর্বশেষ তথ্য:

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৪০১১ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে।
আর গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৪৬৮টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে।
গত চব্বিশ ঘন্টায় ৭৩৯ জনকে কোয়ারিন্টনে রাখা হয়েছে।
আইসোলেশনে আছেন ১০৭ জন।
হটলাইনে টেলিফোন এসেছে ৬৭২১০।
-bbc

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস সংক্রমণে আরো তিনজন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ১২জন। 
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে করোনাভাইরাস বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। যদিও এই ব্রিফিংয়ের কয়েক ঘণ্টা আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে নতুন করে চারজনের মৃত্যু হয়েছে আর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২৯ জন।   
আজও ব্রিফ করেন ব্রিফ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ। এতে অন্যদের মধ্যে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাও উপস্থিত ছিলেন।
ফ্লোরা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে মোট ১২ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ৩৫। এ পর্যন্ত মোট সংক্রমিত হয়েছে ১২৩ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কেউ সুস্থ হননি। তিনি বলেন, যে তিনজন সর্বশেষ মারা গেছেন তাঁদের একজন এক সপ্তাহ আগে থেকে হাসপাতালে ছিলেন। আর বাকি দুইজন হাসপাতালে আসার সাথে সাথেই মৃত্যুবরণ করেছেন। আর সর্বশেষ আক্রান্ত ৩৫ জনের মধ্যে ১১ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ছয়জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ পর্যন্ত মোট ৬৬ হাজার ৫১১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন এবং ২৯৯ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬৬ হাজার ৮১০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
ডা. আজাদ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৭০৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন আর ৩০ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় উভয় কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে ৭৩৯ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে মোট ৫৫ হাজার ৪৮০ জনকে। বর্তমানে ১১ হাজার ৩৩০ জন কোয়ারেন্টিনে আছেন। 
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৩ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। এই সময়ে কাউকে আইসোলেশন থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এ পর্যন্ত মোট ৪৪৩ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৬ জনকে আইসোলেশন থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১০৭ জন আইসোলেশনে রয়েছেন। 

করোনাভাইরাস ছড়ানো ঠেকাতে এখন থেকে মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুধু মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমরা মসজিদে নামাজ আদায় করবেন। একই নির্দেশনায় অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়ে সমবেত না হয়ে নিজ নিজ বাসস্থানে উপাসনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেউ এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাখাওয়াৎ হোসেন সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ভয়ানক করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা ছাড়া অন্য সব মুসল্লি নিজ নিজ বাসায় নামাজ আদায় করবেন। জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায় করবেন। এটা সরকারের নির্দেশ। মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ অনধিক পাঁচজন এবং জুমার জামাতে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। বাইরের মুসল্লি মসজিদে জামাতে অংশ নিতে পারবেন না। এই নির্দেশ কেউ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিষয়ে ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঠেকাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবাই কঠোরভাবে এই নির্দেশনা মানবেন বলে তিনি মনে করেন। অন্যথায় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ সময় সারা দেশে কোথাও ওয়াজ মাহফিল, তাফসির মাহফিল, তাবলিগ তালিম বা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা যাবে না। সবাই ব্যক্তিগতভাবে তিলওয়াত, জিকির, ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করবেন। অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও এ সময় কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক আচার–অনুষ্ঠানের জন্য সমবেত হতে পারবেন না।

সব ধর্মের মূলনীতির আলোকে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কমিটিকে অনুরোধ করা হলো। কোনো প্রতিষ্ঠানে এই নির্দেশ লঙ্ঘিত হলে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণান করতে গিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় বলেছে, করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশে যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে ব্যাপক সংক্রমণ এবং বিপুল প্রাণহানির আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ধর্ম মন্ত্রণালয় বলেছে, বিভিন্ন দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটেছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও এ ধরনের বিস্তার ও প্রাণহানির ঘটনার উদাহরণ আছে। পবিত্র মক্কা, মদিনাসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের মসজিদে মুসল্লিদের আগমন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সর্বসাধারণের আগমন বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। গত ২৯ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং শীর্ষস্থানীয় আলেমরা মসজিদে মুসল্লি কম রাখার আহ্বান জানিয়েছিল। পরিস্থিতি এখন দ্রুত ভয়ংকর অবনতির দিকে যাচ্ছে।

আজ এক বিশেষ সাক্ষাতকারে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকার জনগণকে নিয়ে জোক করছে। সরকারের ভাবমূর্তি ও চলাফেরায় মনে হয় না সরকার করোনার ভয়াবহতা অনুভব করেছে। সরকার করোনা মোকাবেলার করার ক্ষেত্রে মানসিকভাবেও ব্যর্থ হয়েছে। সমন্বয়হীনতার কারণে দেশে করোনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। করোনা দূরে থাক, সরকার সাধারণ চিকিৎসা দিতিই ব্যর্থ হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এই ভয়াবহ অবস্থাতেও সরকার লকডাউন করছে না। আমি মনে করি, এখন লকডাউন করা আবশ্যকীয়। 

করোনাভাইরাসের মহামারি নিয়ন্ত্রণে চলমান দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে জরুরি সেবার সঙ্গে নিয়োজিতরা ছাড়া রাজধানীকে কেন্দ্র করে মানুষের আগমন-বহির্গমন ঠেকাতে কঠোর হতে বলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জাবেদ পাটোয়ারী। শনিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৈরি পোশাক শ্রমিকসহ হাজার হাজার মানুষের ঢাকামুখী ঢল নামার পর ব্যাপক সমালোনার মুখে রাতেই তিনি এ নির্দেশনা দেন। 
আজ রবিবার সকাল থেকে ঢাকার সকল সীমান্তবর্তী এলকাসহ নোঘাটসহ সড়ক মহাসড়কে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারি মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা কালের কণ্ঠকে বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের এই দুযোর্গময় পরিস্থির মধ্যে ঢাকার বাইরে থেকে ছুটে আসা শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ যেন ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে আইজিপির নির্দেশ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে।
এই পরিস্থীতি মোকাবিলায় সকলের সহযোগিতা কামনা করে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সব ধরনের চলাফেরা বন্ধ আছে। কেউ ঢাকার বাইরে যেতে পারবেন না, আপাতত ঢাকায় ঢুকতে পারবেন না। যে যেখানে আছেন সেখানে অবস্থান করবেন, কোথাও সমবেত হতে পারবেন না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তবে একান্ত জরুরি প্রয়োজন থাকলে তার বা তাদের বিষয়টি শিথিলযোগ্য হতে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে রবিবার থেকে গার্মেন্টস খোলার খবরে শনিবার দিনভর আশেপাশের জেলাগুলো থেকে হাজার হাজার শ্রমিককে ঢাকার পথে দেখা যায়। এই দৃশ্য সবাইকে আতঙ্কিত করে তোলে। সেই সঙ্গে করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে ঘরে অবস্থানের নির্দেশনার মধ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শত শত নারী-পুরুষের পায়ে হাঁটা মিছিল ও ফেরীতে শত শত মানুষের গাদাগাদি করে পদ্মা পার হওয়ার ছবি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা হয়। 
দেশজুড়ে লকডাউনের সিদ্ধান্তের মধ্যে কারখানা খোলার সিদ্ধান্তের জন্য মালিকদের এবং হাজার হাজার মানুষকে দলে দলে এতোটা পথ পাড়ি দিতে দেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে রাতে ১১ এপ্রিল সরকারঘোষিত সাধারণ ছুটি পর্যন্ত গার্মেন্টস কারখানাগুলো বন্ধ রাখতে পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মালিকদের প্রতি আহ্বান জানায়। এর পরও পরিস্থিতি উপর কড়া নজরদারি চলছে।

বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব সৃষ্টি করে চলা নোভেল করোনাভাইরাস কি সত্যিই প্রকৃতি থেকে সৃষ্টি, নাকি এটাকে চীনের ল্যাবে তৈরি করা হয়েছে? এটা নিয়ে বিতর্ক শুরু থেকেই উঠছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান দাবি করেছে, করোনা কোন ভাইরাস নয়, এটা চীনের উহানের ল্যাবে তৈরি মারাত্মক জৈব রাসায়নিক বোমা। তবে চীন জোর গলায় এটাকে 'ষড়যন্ত্র তত্ব' আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে এবার নতুন প্রমাণ সামনে এসেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে চীনের উহানের ল্যাব থেকেই ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। এটাকে এখন আর অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।
দ্য ব্লিজ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কালে প্রকাশ্যে আসা বেশ কয়েকটি নতুন প্রমাণ এই ইঙ্গিত দেয় যে ভাইরাসটি চীনের উহান শহরে একটি ভাইরোলজি ল্যাবেই তৈরি করা হয়েছিল।
শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) এ বিষয়ে ন্যাশনাল রিভিউয়ের সিনিয়র সংবাদদাতা জিম জেরাঘাটির লেখা একটি দীর্ঘ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। করোনা নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি নির্মাণের জন্য তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং ইউটিউবার ম্যাথু টাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ দিন চীনে অবস্থান করেছেন। বিশদভাবে তদন্ত করেছেন। সাম্প্রতি তিনি ইউটিউবে বেশকিছু ভিডিও আপলোড করেছেন, সেখানে ভাইরাসটির উৎস সনাক্ত করতে পেরেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
জেরাঘটি নিশ্চিতভাবে লক্ষ্য করেছেন যে, ভাইরাসটির উৎপত্তি সম্পর্কে এই ভিডিওগুলো দেখলে সহজেই বোধগম্য হবে। যে কেউ বুঝতে পারবেন ভাইরাসটির উৎপত্তি কোথায়। এখানে ভাইরাসটির উৎপত্তি সম্পর্কে প্রচুর তথ্য রয়েছে। মানুষ যাতে সহজেই বিষয়টা উপলব্ধি করতে পারে এ জন্য তিনি ভিডিওটি ইন্টারনেটে আপলোড করেছেন। বিশ্বাস না হলে ভিডিওটি দেখে নিতে পারেন।
এমন একটি প্রমাণ হল, উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি কর্তৃক গত বছরের শেষের দিকে কাকতালীয়ভাবে দুটি সন্দেহজনক চাকরির অফার পোস্ট করা হয়।
রহস্যজনক চাকরির অফার
গত বছরের ১৮ নভেম্বর, ল্যাবটি একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছিল যাতে বিজ্ঞানীদের 'করোনভাইরাস এবং বাদুড়ের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করতে' অনুরোধ করা হয়েছিল। জব অফারটিতে লেখা ছিল- "বাদুড়কে গবেষণামূলক বিষয় হিসাবে গ্রহণ করে আমি মলিকুলার মেকানিজমের মাধ্যমে এমন সব প্রক্রিয়ার উত্তর দেব যা দীর্ঘকাল ধরে কোনও রোগ ছাড়াই ইবোলা এবং সার্স সম্পর্কিত করোনভাইরাসের সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে এবং এর সাথে এটি বেশি উড়তে পারবে এবং দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। ভাইরাস, ইমিউনোলজি, সেল জীববিজ্ঞান এবং একাধিক ওমিক্স মানব এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য তুলনা করতে ব্যবহৃত হয়।"
তার একমাস পরে ২৪ ডিসেম্বর, ল্যাবটি আরও একটি কাজের উদ্বোধন করে। এবার উল্লেখ করা হয়েছে, 'গুরুত্বপূর্ণ ভাইরাস বহনকারী বাদুড়ের প্যাথোজেনিক বায়োলজির উপর দীর্ঘমেয়াদী গবেষণাটি মানব ও প্রাণিসম্পদের বড় বড় নতুন সংক্রামক রোগের বাহক হিসাবে বাদুড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যেমন- সার্স,এসএডিএস, প্রচুর পরিমাণে নতুন ব্যাট এবং দুর্যোগপূর্ণ নতুন ভাইরাস সনাক্ত করা হয়েছে।
সাবলীল চাইনিজ বলতে পারা টাই দাবি করেছেন, 'আমরা একটি নতুন এবং ভয়ানক ভাইরাস আবিষ্কার করেছি এবং এর সাথে মোকাবিলার জন্য লোক নিয়োগ করতে চাই।'
দ্বিতীয় চাকরির বিজ্ঞাপনের সময়, চীনে তথাকথিত 'রহস্যময় নিউমোনিয়া' সংক্রমণ চলছিল। তবে এরও এক সপ্তাহ পরে চীন সরকার তার জনসংখ্যাকে নোভেল করোনাভাইরাস সংক্রামিত হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করেছিল।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা পত্র
ফক্স নিউজের সঞ্চালক টাকের কার্লসন মঙ্গলবার রাতে তার প্রাইমটাইম শোতে ভিডিওটির আকর্ষণীয় একটি অংশ তুলে ধরেছিলেন। সেখানে ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ চীন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ তুলে ধরা হয়।
'গবেষণা পত্র : ২০১৯-এন কোভি করোনভাইরাসের সম্ভাব্য উৎস' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভাইরাসটি সম্ভবত এমন একটি প্রাণী থেকে এসেছিল যেটা ঘোড়ামুখো বাদুড়ের মতো দেখতে। কার্লসন বলেছিলেন, এখানে চমকপ্রদ বিষয় রয়েছে উহানের ৯০০ কিলোমিটারের মধ্যে বাদুড়ের কোনও কলোনী নেই।
এছাড়া, কার্লসন উল্লেখ করেছিলেন যে উহানের যে সামুদ্রিক বাজারে এই বিশেষ বাদুড় বিক্রি হয়েছিল বলে দাবী করা হয়েছে সেটারও কোন সত্যতা মেলেনি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিল যে, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রগুলি বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বাজারে বাদুড় উপস্থিত ছিল কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
এর আগে করোনাকে জৈব অস্ত্র দাবি করে বক্তব্য রেখেছিলেন ইসরায়েলি ও মার্কিন বিজ্ঞানীরা। 'জেনেটিক্যালি মডিফায়েড' এই করোনাভাইরাসের জন্মদাতা চীনের উহানের বায়োসেফটি ল্যাবোরেটরি লেভেল ফোর বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন আইনজীবী ও রাসায়নিক মারণাস্ত্র বিরোধী সংগঠনের অন্যতম সদস্য ড. ফ্রান্সিস বয়েল। বলেছিলেন শক্তিশালী রাসায়নিক মারণাস্ত্র করোনাভাইরাস, ছড়িয়েছে উহানের ল্যাব থেকেই।
ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েস কলেজের আইনের অধ্যাপক ড. ফ্রান্সিস বয়েল। রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সংগঠনেরও অন্যতম মাথা তিনি। তাঁর উদ্যোগেই ১৯৮৯ সালে 'বায়োলজিক্যাল ওয়েপনস অ্যান্টি-টেররিজম অ্যাক্ট' বিল পাশ হয়। নোভেল করোনাভাইরাস যে নিছকই কোনও ভাইরাসের সংক্রমণ নয়, সে বিষয়ে আগেও মুখ খুলেছিলেন ড. ফ্রান্সিস। ইজরায়েলি গোয়েন্দা ও মাইক্রোবায়োলজিস্টদের দাবির সমর্থন জানিয়েই ড. ফ্রান্সিস বয়েল বলেন, উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বায়োসেফটি লেভেল ফোর ল্যাবোরেটরিতে অতি গোপনে রাসায়নিক  মারণাস্ত্র বানানোর প্রক্রিয়া চলছে। সেখান থেকেই ছড়িয়েছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ। সি-ফুড মার্কেটের ব্যাপারটা নেহাতই চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা। আর এই কথা বিলক্ষণ জানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সব জেনেও গোটা বিষয়টাকে ধামাচাপা দেওয়ার কৌশলী চেষ্টা চলছে।
ড. ফ্রান্সিস বয়েল আরও বলেছিলেন, উহানের এই বায়োসেফটি লেভেল ফোর ল্যাবোরেটরিকে সুপার ল্যাবোরেটরির তকমা দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বলা হয়েছিল, এই ল্যাবে ভাইরাস নিয়ে কাজ হলেও তা অনেক বেশি সুরক্ষিত ও নিরাপদ। ল্যাবোরেটরির জন্যই রয়েছে আলাদা উইং যার বাইরের পরিবেশের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই।
ড. ফ্রান্সিস বলেন, সার্স ও ইবোলা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠার পরে অভিযোগের আঙুল ওঠে এই গবেষণাগারের দিকেই। রোগ প্রতিরোধ নয়, বরং প্রাণঘাতী জৈব অস্ত্র বানাতেই মত্ত গবেষকরা। যারই পরিণতি হাজার হাজার মৃত্যু। নোভেল করোনাভাইরাসের জিনগত বদল ঘটানো হয়েছে এবং উহানের এই ল্যাবোরেটরি থেকেই যে ভাইরাস ছড়িয়েছে সেটাও  জানেন ডব্লিউএইচও'র অনেক গবেষকই।
নোভেল করোনাভাইরাসকে রাসায়নিক মারণাস্ত্র দাবি করেছিলেন মার্কিন সিনেটর টম কটনও। তাঁর দাবি, চীন জীবাণুযুদ্ধের জন্য বানাচ্ছিল ওই ভাইরাস। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কথাটা লুকোতে চাইছেন কারণ আন্তর্জাতিক আইনে জীবাণুযুদ্ধ নিষিদ্ধ। তাঁরা ওই নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করছিলেন জানাজানি হলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
সূত্র- দ্য ব্লিজ।

সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরের দিন ১৪ তারিখ বাংলা নববর্ষের সরকারি ছুটি। সব মিলিয়ে সরকারি ছুটি থাকছে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ১ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপনে ঘোষিত সাধারণ ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ ও ১৩ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করা হলো। ১৪ এপ্রিলের সরকারি ছুটিও এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, এই ছুটি  জরুরি পরিসেবার (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ইত্যাদি) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া কৃষি পণ্য, সার, কীটনাশক, জ্বালানি, সংবাদপত্র, খাদ্য, শিল্প পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, জরুরি ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং কাঁচা বাজার, খাবার, ওষুধের দোকান ও হাসপাতাল এ ছুটির আওতাবহির্ভুত থাকবে। জরুরি প্রয়োজনে অফিস খোলা রাখা যাবে।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ এমনিতেই সরকারি ছুটি। এই দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে বৈশাখের আনুষ্ঠানিকতা বাতিলের চিঠি ইস্যু করেছে।

ক।
করোনা পরিস্থিতিতে অনিয়ন্ত্রিত ও ফকিহদের নির্দেশনা বহির্ভূত 'মসজিদমুখিতা' পরবর্তিতে মসজিদবিমুখতার উপলক্ষ তৈরী করবে।
মনে রাখবেন, দ্বীন ও ইবাদত আপনার আবেগের নাম নয়; দ্বীন ও ইবাদত শরিয়ার নির্দেশনার নাম।
দুই।
দু' দিন আগে লেখেছিলাম, তাবলিগ জামাতের বিচরণ নিয়ে। মসজিদ থেকে মসজিদে তারা যাচ্ছেন। কাকরাইলের প্রধান এক মুরুব্বি মাওলানা রবিউল হক সাহেবের ভাতিজা জনাব একরামুল হাসান যোগাযোগ করলেন এবং তাঁর দেয়া সূত্রে দ্রুতই কথা হলো- কেন্দ্রিয় সংশ্লিষ্ট এক যিম্মাদারের সাথে।
তিনি বললেন,দেশব্যাপী নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আগেই। এখন আবার নতুন করে দেয়া হচ্ছে। মিডিয়ায় দেখলাম তাবলিগ জামাতের তরফে সতর্কিকরণের কথা। অত:পর অতিআবেগে যারাই এলাকা থেকে এলাকায়, মসজিদ থেকে মসজিদে ঘুরছেন, তাদের উচিত এখনই নিয়মের ভেতর আসা। যারা এমনটি করবেন,তারা অবশ্যই তাবলিগ জামাতের ক্ষতি করবেন,করছেন।
তিন।
কিছু হটকারী বক্তা সব সময়ই পাবলিকের চাহিদা বুঝে কথা বলে, দ্বীনের চাহিদা তাদের কাছে মূখ্য নয়। ওরা বলেছে,করোনা মুসলিমদের জন্য নয়,এটা পাপের কারণে কাফিরদের উপর আসা আল্লাহর গযব ইত্যাদি। ওয়াজের ময়দান এসব কথায় খুব গরম হয়। ওরা বুঝে না, পাপের কারণে গজব যদি আসে, তাহলে গযবকে অনিবার্য করে, এমন এতো পাপ মুসলিমরা করে চলছি, যার কারণে যে কোন ধরণের খোদায়ী পাকড়াও থেকে আমাদের পরিত্রাণের সুযোগ খুবই কম।
হটকারী বক্তা ও মৌলভীরা এখনো নিজস্ব ফর্মুলায় পাবলিকদের মনোরঞ্জন করে চলছেন। তাদের উচিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বের শীর্ষ আলেমদের নির্দেশনার বাইরে না যাওয়া।
চার।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল। আলেম,বাগ্মী ও গবেষক। আজ জোহরের আগে কল দিলেন।
কণ্ঠে উদ্বেগ। বললেন, ঢাকায় আলীয়া মাদরাসার সাবেক প্রধানের ইন্তেকাল এবং এরপর সে এলাকায় আরো কিছু মৃত্যু ও সংক্রমন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সেখানে বিদেশী কারো মাধ্যমে পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। অন্য কোনো মজমায় তাদের উপস্থিতিও ছিলো না।
জানতে চাইলাম- সমস্যা তাহলে কোথায়?
বললেন, মসজিদে জামাতের ব্যাপারে বাতলে দেয়া পদ্ধতি মানা হচ্ছে না। খুব সম্ভবত এর ফলে ভারতের অনুকরণে এদেশে মসজিদকে হটস্পট হিসেবে প্রচার শুরু করবে ইসলামবিরোধীরা। এটা শুধু মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব হবে খুবই খারাপ।
পাঁচ।
সামনে শবে বরাত। যারা সারা বছর মসজিদমুখী হননি, তারাও তৈরী হচ্ছেন সে রাতের জন্য। কিন্তু ঘরে বসে আল্লাহকে ডাকলেও তিনি শুনেন। ভুলে যাবেন না হে বাংলার মুসলমান!

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর ওভারব্রিজের পাশে তানিম গলিতে এক পরিবারের দুজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) আক্রান্ত দুজনকে আজ রোববার সকালে বাসা থেকে নিয়ে গেছে। এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার দুটি বহুতল ভবন ও একটি টিনশেড বাড়ি লকডাউন করে দিয়েছে মিরপুর থানা-পুলিশ।


মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাজিরুর রহমান আজ প্রথম আলোকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

মোস্তাজিরুর রহমান বলেন, ওই দুজন গত দুই দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হওয়ায় আক্রান্ত দুজনকে আজ সকালে বাসা থেকে নিয়ে যায় আইইডিসিআর।

মিরপুরের যে দুটি বহুতল ভবন ও একটি টিনশেড বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে, সেখানে প্রায় ২৫টি পরিবার বসবাস বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাড়িগুলোর সামনে পুলিশ মোতায়েন করে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

ওসি মোস্তাজিরুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এলাকায় মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে। ওই সব বাড়িতে কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না পুলিশ। তবে বিশেষ প্রয়োজনে প্রতি পরিবার থেকে একজন সুরক্ষিত পোশাকে বাইরে যেতে পারছেন।


দেশে নতুন করে ১৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এক দিনে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। এ পর্যন্ত সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ৮৮। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ছিল নয়জন। আজ রোববার অনলাইনে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আজ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা নতুন আক্রান্ত ও মৃত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য জানান।

মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করেছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগ আগে সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে ছিলেন। আক্রান্ত ১৮ জনের মধ্যে ১২ জনই ঢাকার বাসিন্দা । পাঁচজন নারায়ণগঞ্জের আর একজন মাদারীপুরের।

মীরজাদী বলেন, সর্বশেষ যে ব্যক্তি মারা গেছেন তিনি নারায়ণগঞ্জের অধিবাসী। তিনি পুরুষ, বয়স ৫৫। শনাক্ত ১৮ জনের মধ্যে ১৩টিই শনাক্ত করেছে আইইডিসিআর।

মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজন আরোগ্য লাভ করেছেন। তাই এখন সংক্রমণ রয়েছে ৪৬ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা শহরের মানুষের সংখ্যা বেশি। বেশির ভাগ আক্রান্তই বিভিন্ন ক্লাস্টারের অংশ। আক্রান্তদের মধ্যে বাসাবো এলাকার নয়জন । টোলারবাগ এবং অন্য এলাকা মিলিয়ে মিরপুরে ১১জন। তিনি বলেন, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন, জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।


ফরিদপুর শহরের আলিপুর এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে নিত্যপণ্যের সঙ্গে একটি করে ইলিশ মাছ বিতরণ করেন স্থানীয় তরুণ ব্যবসায়ী মিঠু মিয়া।
শনিবার দুপুরে শহরের আশপাশের অর্ধশতাধিক পরিবারের মাঝে ব্যতিক্রমী এই ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়।
নিত্যপণ্যের সঙ্গে মাছ পেয়ে বেজায় খুশি অসহায় মানুষরা।
মিঠু বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন এসব হতদরিদ্র মানুষ চাল-ডাল, তেল-আলু পেলেও মাছ খেতে পারছে না। তাই তাদের কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ফাইল ছবি

১৪৬৯ খ্রিস্টাব্দে আরাগনের ফার্ডিন্যান্ড ও কেস্টাইলের ইসাবেলার মধ্যে বিয়ে হয় এবং উভয় রাজ্য চিরতরে এক হয়ে যায়। এই মিলন মুসলিম স্পেনের ধ্বংসের পথ অবারিত করে দেয়। এই ক্রমবর্ধমান বিপদের সম্মুখীন হওয়া নাসরিদ বংশের সাধ্যাতীত ছিল। এ বংশের শেষ সুলতান এক রক্তক্ষয়ী আত্মকলহে লিপ্ত হন এবং তার অবস্থা আরো বিপদজনক হয়ে পড়ে। ১২৩২ হতে ১৪৯২ পর্যন্ত যে ২১ জন সুলতান রাজত্ব করেন, তাদের মধ্যে ৬ জন দুইবার এবং একজন তিনবার রাজত্ব করেন।
যে সময় আমেরিকার ইতিহাসের সূচনা, ঠিক সেই ১৪৯২ সালে এক দীর্ঘ অবরোধের পর খ্রিস্টান সৈন্যদের হাতে (মুসলিম) গ্রানাডার পতন ঘটে-‘ক্রুশ হেলালকে উৎখাত করে’। ‘উদার’ সম্রাট ফার্ডিন্যান্ড  ও সম্রাজ্ঞী ও ইসাবেলা মুসলমানদের আত্মসমর্পণের শর্তগুলো পালন করলেন না। ১৪৯৯ সালে রানী ইসাবেলার ধর্মগুরু কার্ডিনাল জিমেনেজ ডি সিসনারো’র নেতৃত্বে জোর করে ধর্মান্তর গ্রহণের অভিযান শুরু হয়। কার্ডিনাল প্রথম চেষ্টা করেন ইসলাম বিষয়ক সমস্ত আরবি বই পুড়িয়ে ফেলতে। গ্রানাডায় আরবী পাণ্ডলিপি পোড়ানোর উৎসব শুরু হয়। এরপর প্রতিষ্ঠিত হয় বিধর্মী উচ্ছেদ (মুসলিম উচ্ছেদ) আদালত- ইনকুইজিশন! এর কাজ জোরেশোরে চলতে থাকে।
গ্রানাডার পতনের পর যেসব মুসলমান রয়ে যায়, তাদের সবাইকে এখন থেকে বলা হয়, মরিসকো। স্পেনীয় ভাষায় এর মানে ছোট মুর। রোমকরা পশ্চিম আফ্রিকাকে বলতো-মরেটানিয়া। আর পশ্চিম আফ্রিকার বাসিন্দাদের বলতো, ম-রী। এই ম-রী হতে স্পেনীয় মোরো এবং ইংরেজি মুর শব্দের উৎপত্তি। বারবাররাই ছিল প্রকৃত মুর। কিন্তু স্পেন ও উত্তর পশ্চিম আফ্রিকার সমস্ত মুসলমানকেই মুর বলা হয়। ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জে পাঁচ লাখ মুসলমান আছে, এদের বলা হয় মোরো। ম্যাগেলান কর্তৃক ১৫২১ সালে এই দ্বীপপুঞ্জ আবিষ্কৃত হওয়ার পর স্প্যানীয়রা তথাকার মুসলমানদের এ নাম দেয়।
মুসলিম স্পেনীয়রা একটি রোমান উপভাষায় কথা বলতো। কিন্তু ব্যবহার করত আরবি হরফ। বেশিরভাগের না হলেও অনেক মরিসকোরই পূর্বপুরুষ স্পেনীয় ছিল। কিন্তু এখন সবাইকে ‘মনে করিয়ে দেওয়া’ হয় যে, তাদের পূর্বপুরুষরা খ্রিস্টান ছিল; কাজেই তাদের হয় আবার খ্রিস্টান হতে হবে, নইলে তার ফল ভোগ করতে হবে। মুদেজারদের মরিসকোদের সঙ্গে এক শ্রেণী ভুক্ত করা হয়। এদের অনেকে প্রকাশ্যে খ্রিস্টধর্ম স্বীকার করতো, কিন্তু গোপনে ইসলামের আচার-অনুষ্ঠান পালন করতো। কেউ কেউ খৃষ্টানি মতে বিয়ে করে বাড়ি এসে গোপনে ইসলামী মতে ফের বিয়ে করতো। অনেকে বাইরে খ্রিস্টানি নাম রাখতো, আর বাড়িতে ব্যবহারের জন্য আরবি নাম রাখতো।
১৫০১ সালে কেস্টাইলে এক রাজকীয় আদেশে ঘোষণা করা হয় যে, কেস্টাইল আর লিয়নের সব মুসলমানকে হয় খ্রিস্টান হতে হবে, না হয় স্পেন ছেড়ে চলে যেতে হবে। তবে মনে হয়, এই ঘোষণা অনুযায়ী যথাযথ কাজ হয়নি।
১৫২৬ সালে আরাগনের মুসলমানদের ওপর ওই একই আদেশ জারি করা হয়। ১৫৫৬ সালে দ্বিতীয় ফিলিপ এক আইন জারি করেন যে, বাকি মুসলমানদের অনতিবিলম্বে তাদের ভাষা, নামাজ-রোজা, অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং জীবনযাত্রা প্রণালী ত্যাগ করতে হবে। তিনি এমন আদেশ দিয়ে বসেন যে, স্পেনীয় হাম্মামখানাগুলিও বিধর্মীদের চিহ্ন, কাজেই সেগুলি ভেঙ্গে ফেলতে হবে। এতে গ্রানাডা অঞ্চলে বিদ্রোহ দেখা দেয় (এই দ্বিতীয় বার) এবং পার্শ্ববর্তী পার্বত্য অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তবে সে বিদ্রোহ দমন করা হয়।
১৬০৯ সালে তৃতীয় ফিলিপ মুসলিম বিতাড়নের শেষ হুকুম নামায় দস্তখত করেন। এর ফলে স্পেনের সমস্ত মুসলমানকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়। কথিত আছে, প্রায় পাঁচ লাখ মুসলমান আফ্রিকা বা অন্য কোনো মুসলিম দেশে যাওয়ার জন্য জাহাজে উঠতে বাধ্য হয়। হিসাবে দেখা যায় যে, গ্রানাডার পতন ও সপ্তদশ শতাব্দী প্রথম দশকের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ মুসলমান হয় নির্বাসিত, না হয় নিহত হন।
( ফিলিপ কে হিট্টি লিখিত ও অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খাঁ অনূদিত ‘আরব জাতির ইতিকথা’ থেকে)

ছবি: সংগৃহীত
করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সব খেলাধুলা আপাতত স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি।
গাজীপুর থেকে নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য বলেছেন, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। এ সময়ে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সচেতন থাকতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে দেশের জনগণকে সচেতন করতে হবে। যে কোনো পর্যায়ের খেলাধুলাতে জনসমাগম ঘটে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ থাকবে।
করোনা মোকাবেলায় ইতিমধ্যে দেশের সব স্টেডিয়াম, ইনডোর স্টেডিয়াম ও জিমনেসিয়ামে অস্থায়ী হাসপাতাল বা আইসোলেশন সেন্টার করতে স্বাস্থ্য বিভাগকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগকে চাইলে এগুলো ব্যবহার করতে পারে।
ঢাকাসহ বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ে মোট ৮০টি স্টেডিয়াম, উপজেলা পর্যায়ে ১২৫টি মিনি স্টেডিয়াম রয়েছে। এ ছাড়া দেশে ২২টি জিমনেসিয়াম, ৭টি ইনডোর স্টেডিয়াম এবং ৫টি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স রয়েছে।

ফাইল ছবি
করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতি রক্ষায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের যে প্রস্তাব বিএনপি দিয়েছিল- তা প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
শনিবার বিকালে সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এর আগে সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতি রক্ষায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে সরকারকে প্রস্তাব দেন।
বিকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের অর্থনীতির সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিএনপি এই প্রস্তাব দিয়েছে। এতে সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে মির্জা ফখরুলের মতো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যখন কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে বক্তব্য রাখেন, তখন জাতি হতাশ হয়। তার বক্তব্য আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়া একজন দিশেহারা রাজনীতিকের অসংলগ্ন প্রলাপ ও ব্যর্থতার বেসামাল বহিঃপ্রকাশ।
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারীতে যখন সারা বিশ্বে সব মানুষ একযোগে এই সংকট মোকাবেলায় এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছে, তখন অর্বাচীনের মতো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাখা বক্তব্য জাতিকে বিভ্রান্ত করে। তাদের এই বালখিল্যতার কারণে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।
তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল যে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন- তা আমাদের অর্থনীতির ঊর্ধ্বগামী সম্ভাবনার বিপরীত। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য জনগণকে শুধু হতাশই করতে পারে, আর কিছু নয়।
আওয়ামী লীগ সম্পাদক বলেন, দুর্যোগের এই মুহূর্তে বিভেদ নয়, এটা তাদের (বিএনপি) বোধগম্য নয়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জনগণকে সতর্ক, সচেতন ও দায়িত্বশীল করার কাজ করে চলেছে। সারা বিশ্বের নেতারা করোনা সংক্রমণ নিয়ে দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করার সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর মির্জা ফখরুলরা ও তাদের দল এই সংকটকে ঘনীভূত করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের ঐক্যের দুর্গকে নস্যাৎ করতে চায়।

ছবি: সংগৃহীত
করোনাভাইরাসের মহামারীতে জীবন বাঁচাতে মানুষকে ঘরে থাকার বার্তা দিচ্ছে গুগল।
শুক্রবার করোনার সব তথ্য নিয়ে বিশেষ একটি ডুডল প্রদর্শন করছে গুগল। তাদের হোমপেজে গেলে এ ডুডল দেখা যাচ্ছে।
করোনার উপসর্গ, প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও কীভাবে এই ভাইরাস সারা বিশ্বে প্রভাব ফেলছে, তা ডুডলে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষ কোনো দিন বা বিশেষ কোনো ব্যক্তির জন্য সার্চ বক্সের ওপরে নিজেদের লোগো বদলে বিশেষ দিনটির সঙ্গে মানানসই নকশার যে লোগো তৈরি করে গুগল, তা-ই ডুডল।
গুগল তাদের ডুডলের ট্যাগলাইন দিয়েছে ‘স্টে হোম, সেভ লাইভস’। অর্থাৎ বাড়িতে থাকুন, জীবন বাঁচান। এ ডুডলে ক্লিক করলে করোনভাইরাস সংক্রান্ত সব তথ্য হাজির করছে গুগল।
গুগলের আজকের ডুডলে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ নির্দেশগুলো মানতে বলা হচ্ছে। বাড়িতে থাকা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, নিয়মিত হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা ও অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ যেন এক অন্য রকম যুদ্ধ। হাতে ঢাল-তলোয়ার নেই, বন্দুক কামান নেই। গোলাগুলি চলছে না, বাজছে গান।
করোনাভাইরাসের কারণে ভারতজুড়ে লকডাউনের আবহে কলকাতা পুলিশ মানুষকে সচেতন করতে এবার নেমে পড়েছে গানকে সম্বল করে।
বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছিল এই অভিযান এবং প্রথম দিন মধ্য কলকাতার এন্টালী থানার অফিসাররা মাইক নিয়ে হাততালি দিতে দিতে গেয়েছিলেন, "we shall overcome, বা “আমরা করবো জয়”। 
জনবহুল এরিয়াতে হিন্দি বাংলা এবং ইংলিশ ভাষায় এই গান গাইতে থাকেন অফিসাররা আর সাথে চলতে থাকে হাততালি। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। সেই ভিডিওতে দেখা যায় আশেপাশের মানুষ ব্যালকনি থেকে হাততালি দিচ্ছেন বা পুলিশের গান ভিডিও করছেন।
শুক্রবার গড়িয়াহাট থানার অফিসার রা নিয়ে এলেন আর একটি গান— অঞ্জন দত্তের “বেলা বোস” এর সুরে সেই গানের মাধ্যমে জানানো হলো করোনা মহামারী কিভাবে ছড়িয়ে পড়ছে ইতালি চীন এবং আমেরিকাতে।
এক সূত্র জানিয়েছেন, রাত জেগে এই গানের লিরিক লেখা হয় এবং তাতে সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং এর বার্তা, ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে চলার মতো অনেক বার্তা দেওয়া হয়।
 
পরপর দুইদিন গানের এই অভিযানের পরে আজ চলে আসে আর একটি নতুন গান —  সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী গুপী গাইন বাঘা বাইন এর “ওরে হাল্লা রাজার সেনা" র সুরে দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ অফিসাররা গাইতে শুরু করেন "ওরে শহরবাসী, তোরা বাইরে ঘুরে করবি কি তা বল?” 
এই তিনটি ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল এবং এই গান মানুষের মুখে মুখে। 
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল নেতা বলেন গানের মাধ্যমে সোশ্যাল ডিসটেন্স এর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্ল্যান আসলে মমতারই।
"করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষের মনে আতঙ্ক। এই সময় মানুষকে সোশ্যাল ডিসটেনসিনসিংনিয়ে করাকরি করলে হিতে বিপরীত হতে পারে, তাই গানের মাধ্যমে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে" বলেন ওই তৃণমূল নেতা। 
আর যেহেতু মানুষ সারাদিন বাসায় কাটাচ্ছেন, তাই এই গানের মাধ্যমে তাদের একঘেয়েমি কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। 
"বিভিন্ন থানা তাদের নিজেদের উদ্যোগে এই কাজ করছে... এবং আমরা চাই আরো থানা এগিয়ে আসুক এবং সোশ্যাল ডিসটেন্স  এর বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিক" বলেন এক পদস্থ পুলিশ অফিসার।

গত ২৪ ঘণ্টায় ইতালিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ছয়শ ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ইতালিতে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার তিনশ ৬২ জনে। ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ইতালিতে প্রায় সবকিছু বন্ধ রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। 
চীনের পর করোনা সবচেয়ে ভয়াল থাবা বসিয়েছে ইতালিতে। এই মারণ ভাইরাসের কালো থাবায় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে দেশটি। প্রতিদিনই দেশটিতে শত শত মানুষ মারা যাচ্ছেন। আক্রান্তও হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন চার হাজার আটশ পাঁচ জন। আর মোট আক্রান্তের সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৪ হাজার ছয়শ ৩২ জনে। তবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকেই। ২০ হাজার নয়শ ৯৬ জন এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। 
এদিকে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। শনিবার জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ৯৩ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন সাত হাজার আটশ ৯৬ জন মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র নিউইয়র্ক শহর। তবে নিউ অরলিন্স, শিকাগো ও ডেট্রয়েটে দ্রুত এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বলে সেসব অঞ্চলের মেয়ররা জানিয়েছেন।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget