Latest Post

বখাটের উৎপাতে ভোগানিত্ম মাঠে কাজ ...
নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা পরিস্থিতিতে দুই মার্কেটের সকল দোকানের দুই মাসের ভাড়া মওকুফ করেছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর এক মার্কেট মালিক। শনিবার সকালে এন জহুর শপিং সেন্টার এবং সিটি সেন্টারের মালিক সরওয়ার মোর্শেদ মার্কেটের দোকানদারদের সঙ্গে বৈঠক করে এ ঘোষণা দেন। সেই সাথে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মার্কেট বন্ধ রাখার কথাও বলেন তিনি।

সরওয়ার মোর্শেদ বলেন, ‘করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। তাই মানবিক বিষয়ে চিন্তা করে আমার মালিকানাধীন দুই মার্কেটের পৌনে চারশ দোকানের এপ্রিল ও মে মাসের দোকান ভাড়া মওকুফ করা হয়েছে। একই সাথে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মার্কেট বন্ধ থাকবে।

সিটি সেন্টার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে ব্যবসা হচ্ছে না। দোকানদাররা খুব কষ্টের সাথে জীবনযাপন করছে। ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে মার্কেট মালিক কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার কোন তুলনায় নেই।


First Clinical Trial for Potential COVID-19 Vaccine Approved in ...
ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারীর থাবায় বিশ্ব আজ জবুথুবু হয়ে পড়েছে। একের পর এক দেশে চলছে লকডাউন, স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতির চাকা। ঠিক এসম সময়ে সুখবর দিল চীন। সম্প্রতি বানরের শরীরে একটি নতুন উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন (প্রতিষেধক) প্রয়োগ করে শতভাগ সাফল্য পেয়েছেন চীনা গবেষকরা। খবর ডিএনএ ইন্ডিয়ার।

তারা বলছেন, বানরের শরীরে একটি নতুন উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে শতভাগ সাফল্য পেয়েছেন। ভ্যাকসিনটির নাম পিকোভ্যাক। বেইজিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক এ ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রচলিত ভাইরাসপ্রতিরোধী প্রক্রিয়াই অনুসরণ করেই ভ্যাকসিনটি তৈরি করা হয়েছে। কোনো প্রাণীর শরীরে এটি প্রয়োগ করলে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা ভাইরাস ধ্বংস করতে সহায়তা করে।

টাইমস অব ইন্ডিয়াতে বলা হয়েছে, মার্চ মাসের শুরুতে রিসাস ম্যাকাকিউস প্রজাতির একদল বানরের শরীরে নতুন উদ্ভাবিত পিকোভ্যাক ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করেন চীনা গবেষকরা। এর তিন সপ্তাহ পরে বানরগুলোকে করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে নেয়া হয়। এক সপ্তাহ পরে দেখা যায়, যেসব বানরের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছিল তারা করোনায় সংক্রমিত হয়নি।
আর যেসব বানরকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়নি তাদের ফুসফুসে করোনাভাইরাসে উপস্থিতি পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে কয়েকটির শরীরে নিউমোনিয়ার উপসর্গও দেখা দেয়। এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যায়ে এ গবেষণার ফলাফল লাভের পর মানবদেহেও পিকোভ্যাকের ট্রায়াল শুরু করে বিজ্ঞানীরা।

উল্লেখ্য, মহামারী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এর ভ্যাকসিন তৈরিতে গবেষণাগারে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ভ্যাকসিনটির দ্রুত আবিষ্কারে ঝুঁকি নিয়েই সরাসরি মানবদের এর প্রাথমিক পরীক্ষা চালিয়েছেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইরোলজিস্টরা। সেসব পরীক্ষায় এখনও শতভাগ সাফল্য না আসলেও ভিন্ন এক সফলতার কথা জানাল চীনের বিজ্ঞানীরা।

-বিপি

ময়মনসিংহে অস্ত্রসহ গ্রেফতার যুবলীগ নেতা শাওনকে বহিষ্কার
ডেস্ক: বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গ্রেফতার ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের সদস্য ইয়াসিন আরাফাত শাওনকে (৩৬) সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

মহানগর যুবলীগের আহবায়ক শাহীনুর রহমান শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কেন্দীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিলের নির্দেশে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে, শনিবার ভোরে মহানগরীর চামড়াগুদামের বাসায় অভিযান চালিয়ে ছয় সহযোগীসহ শাওনকে গ্রেফতার করা হয়। 
গ্রেফতার অন্যরা হচ্ছেন, মাসুদ পারভেজ (৩০), রায়হান আহমেদ রাজীব (২৮), মানিক মিয়া (২৭), হৃদয় আহমেদ (১৮), রাজীব (৩০) ও বাপ্পী খা (৩৬)।

শনিবার বিকালে র‌্যাব-১৪’র কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এমন তথ্য জানিয়ে অধিনায়ক লে. কর্নেল এফতেখার উদ্দিন বলেন, তাদের কাছ থেকে দুইটি পিস্তল, একটি রিভালভার, তিনটি ম্যাগাজিন দুইটি শর্টগান, একটি টেলিস্কোপিক সাইট, সাতটি রামদাসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ, ইয়াবা এবং অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ইয়াসিন আরাফাত শাওন ও তার ভাই মাসুদ পারভেজ ময়মনসিংহের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, চাঁদাবাজি, চোরাচালান, ছিনতাই ডাকাতি ও মাদকের সাত থেকে আটটি মামলা রয়েছে।

-বিপি

ঈদের ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ...
ডেস্ক: শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ করেই দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অভিযোগ, দেশে লকডাউন চলায় পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত বাণিজ্য খুলে দিলে কার্যত বিপদের মুখে পড়বে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ। দুই দেশেই এখন ছড়িয়ে আছে করোনাভাইরাস।

তাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লাকে গতকাল শুক্রবার এক চিঠিতে জানিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পথে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করতে দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি লিখেছেন, করোনা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক রয়েছে। পণ্যবাহী গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশের পর পণ্য খালাস করে ফিরে আসার অনুমতি দিলে সীমান্তের নাগরিকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। কারণ, করোনার প্রকোপ থেকে মুক্ত নয় প্রতিবেশী বাংলাদেশ। দেশের নাগরিকদের স্বার্থেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারতে এখন তৃতীয় পর্যায়ের লকডাউন চলছে দেশব্যাপী। এই লকডাউন শেষ হওয়ার কথা ১৭ মে। কিন্তু এই লকডাউনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে গত ৩০ এপ্রিল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত পথে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবাণিজ্য শুরু হয়। তবে তা বন্ধ হয়ে যায় তিন দিনের মাথায় গত রোববার।

এতে ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরপরেই গত মঙ্গলবার অবিলম্বে সীমান্ত বাণিজ্য শুরু করার নির্দেশ দেয়। ওই দিন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিবকে লেখা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লার এক চিঠিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সরকার গত ২৪ এপ্রিল জানিয়েছিল, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান সীমান্ত দিয়ে জরুরি পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে ছাড় দিতে হবে এবং এ-সংক্রান্ত নির্দেশ রূপায়ণে একটি রিপোর্টও পাঠাতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো রিপোর্ট দেয়নি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। চিঠিতে আরও বলা হয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানতে পেরেছে, পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে শুরু করা হয়নি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। ফলে অসংখ্য ট্রাক জরুরি পণ্য নিয়ে আটকে পড়েছে সীমান্তে। বহু ট্রাকচালক ফিরতে পারছেন না। তাঁরা অনেকেই আটকে আছেন সীমান্তে।

স্বরাষ্ট্রসচিব তাঁর চিঠিতে আরও বলেছেন, ১ মে লকডাউন বিধিসংক্রান্ত এক নির্দেশেও জানানো হয়েছিল, কোনো রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিজেদের এলাকার সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পণ্য চলাচল বা স্থলবাণিজ্য বন্ধ করতে পারবে না। বিষয়টি উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজ্যের মুখ্য সচিবকে লেখেন, এক তরফাভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্ত পথে জরুরি পণ্য চলাচল বন্ধ রেখেছে। এটা যে দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আইনি বাধ্যবাধকতার ওপর বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে, তা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব লেখেন, রাজ্য সরকারের এহেন পদক্ষেপ দেশের বিপর্যয় মোকাবিলা আইন ও সংবিধানে দেওয়া অধিকার অমান্য করার শামিল। স্বরাষ্ট্রসচিব এরপর মুখ্য সচিবকে অনুরোধ জানান, সীমান্ত বাণিজ্যে পণ্য চলাচলে ছাড় দিতে।

এরপরই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লাকে গতকাল জানিয়ে দেন, এই মুহূর্তে সীমান্ত বাণিজ্য শুরু করা সম্ভব নয় করোনার কারণে। যদিও গত ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তপথে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলবাণিজ্য শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত রোববার ৩ মে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভ ও অবরোধের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের সঙ্গে এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য।

-পিএ

কুড়িগ্রামে খাবারের দাবিতে সড়ক ...
ডেস্ক: কুড়িগ্রামে ত্রাণের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের বাজার এলাকায় কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন প্রামানিকটারী, শিবরাম, ভানুরভিটা ও খামারসহ বিভিন্ন গ্রামের তিন শতাধিক মানুষ। 

অবরোধকারীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদের আইডি কার্ডের ফটোকপি নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়নি। কর্মহীন থাকায় কষ্টে পড়ে তারা রাস্তায় নেমেছেন।  

এ অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম, থানার ওসি মো. মাহফুজার রহমান ও কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক দুলাল ঘটনাস্থলে যান। এ সময় ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ত্রাণ পাওয়া না পাওয়া নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়। এরই এক পর্যায় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ির পেছনের গ্লাস ভাংচুর করার ঘটনা ঘটলে তারা সেখান থেকে চলে আসেন। 

এরপর উপজেলা চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু ও থানার ওসি মো. মাহফুজার রহমান অবরোধকারীদের শান্ত করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় যারা পাননি তাদের ত্রাণ দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিলে অবরোধকারী বাড়ি ফিরে যান।  

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক দুলাল জানান, তার ইউনিয়নে কর্মহীন হওয়ার কারণে কষ্টে পড়েছেন এমন ৭ হাজার মানুষের তালিকা করা হয়েছে। এরমধ্যে ১ হাজার ৭৬১ জনকে সরকারি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সরকারের মানবিক সহায়তার জন্য ১ হাজার ৩৪২ জনের তালিকা করা হয়েছে। এছাড়া এখানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল পাচ্ছেন ২ হাজার ৪৪১ জন। ভিজিডি কার্ডের আওতায় বিনামূল্যে ৩০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন ৩০১ জন। সেইসাথে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন ১ হাজার ৩৮৭ জন। তারপরও কারও যদি ত্রাণ প্রয়োজন হয় তা চাইলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানালেও অবরোধকারীরা তা মানেননি। 

তিনি অভিযোগ করেন, মহিলা সদস্য মর্জিনা বেগম ও তার ছেলে এলাকার লোকজন দিয়ে এ অবরোধ করিয়েছেন। 

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম জানান, কেউ ত্রাণ না পেয়ে থাকলে তাকে দেওয়া হবে- এমন কথা বলা হলেও তারা তা না শুনে চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। এরই এক পর্যায়ে গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙ্গে দেয় তারা। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

-পিএ

দরুদ শরীফ : দুআ কবুলের গুরুত্বপূর্ণ ...
ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক বিচারপতি, ফকিহুল আসর, মুফতি তাকি উসমানী দারুল উলুম করাচিতে মাহে রমজান বিষয়ক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, রমজান শুধু তারাবি আর রোজা রাখার মাঝে যেন সীমাবদ্ধ না হয়। বরং রমজানে আরও দুটি কাজ গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলো মেনে চললে মাসটি আমাদের জন্য সারাজীবনের খুশি আর আনন্দের মাধ্যম হতে পারে। পরকালে নাজাতের উসিলা হতে পারে।

[সে দুটি কাজের মধ্যে একটি হচ্ছে, এ নিয়ত করা যে আমি পবিত্র মাসটি তে কোনেও ধরনের গুনাহ করবো না। সব ধরনের গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবো। এমন কোনো কাজও করবো না যেগুলো গুনাহের দিকে নিয়ে যায়।

রমজানে মানুষ আল্লাহর জন্যেই খাবার খাওয়া পানি পান করা ছেড়ে দেয়। খাবার পানীয় আমাদের জন্য হালাল ছিলো, আমরা সেগুলো আল্লাহর জন্য হারাম করে নিয়েছি। শুধু একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য। আবার এমন খাবার বা কাজ যেগুলো আগের থেকেই হারাম সেগুলো যদি আমরা না ছাড়ি তাহলেও এ রমজানে আমাদের সফলতা সম্ভব নয়।

যেমন কেউ গীবত করলো, অথবা মিথ্য বললো। সেগুলোও তার জন্য হারাম। আমরা রোজা রাখলাম ঠিকই, কিন্তু মিথ্যা ছাড়লাম না। গীবত ছাড়লাম না। তাহলে তো আমাদের তাকওয়া অর্জন হলো না।

এমনকি কোনো নারীর দিকে তাকালো যেটা তারজন্য হারাম। তাহলে কীভাবে রমজানে কীভাবে আমাদের তাকওয়া অর্জন হবে? কমপক্ষে আমরা সবাই এ ওয়াদা করতে পারি, এ রমজানে আমরা কোনও ধরেণের গুনাহ করবো না। কানে এমন কিছু শুনবো না যাতে গুনাহ হয়। মুখে এমন কিছু বলবো না যাতে গুনাহ হয়। হাতে এমন কিছু করবো না যাতে গুনাহ হয়।

আর সবচেয়ে বড় গুরুত্বের বিষয় হলো আমার মুখে যেন কোনও হারাম লোকমা না যায়, হারাম খাদ্য না যায়। এটা কেমন কথা, আমি সারাদিন আল্লাহর জন্য রোজা রাখলাম আর ইফতার করলাম হারাম খাবার দিয়ে। ধোকার টাকা দিয়ে, সুদের টাকা দিয়ে। তাহলে কিভাবে আমার রোজা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ ইবাদতের মাসে বেশি বেশি ইবাদত করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন। 

সূত্র: ইন্টারনেট

চীনা নারী রংপুর মেডিকেল করোনা ...
ডেস্ক: রংপুরে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।একদিনেই ৩১ জন শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জনই পুলিশ সদস্য। তিনজন নার্স। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর রংপুর মেডিকেল কলেজের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে গত এক মাস সাত দিনের ব্যবধানে রংপুরে করোনাভাইরাস শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ জনে। এর মধ্যে সাতজন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এই ১২০ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী ২৮ জন, পুলিশ সদস্য ২৩ জন, ব্যাংক কর্মী ১৯ জন এবং চিকিৎসক ৯ জন। বাকি ৪১ জন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

জেলা করোনাভাইরাস কমিটি ও রংপুর মেডিকেল কলেজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রংপুরে গত ২ এপ্রিল থেকে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। গত এপ্রিল মাসে রোগী ছিল ৪৪ জন। চলতি মাসের শুরুতে এক সপ্তাহের মধ্যে রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ জনে।


পুলিশের একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, মহানগর এলাকায় একটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ ২৩ জন পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় পুলিশের মধ্যেও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ মাঠের মধ্যে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকছেন পুলিশ সদস্যরা। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে খাদ্য ও ত্রাণ বিতরণেও পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন।

মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি ও মিডিয়া) আলতাফ হোসেন বলেন, 'এতো সতর্কভাবে কাজ করার পরও দিন দিন পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু এরপরও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।' তবে তিনি জনগণকে আরও সচেতন হয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে এ জেলায় দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে চলেছে। সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের ১৯ জন ব্যাংক কর্মীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় লেনদেন করতে আসা মানুষজনসহ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সোনালী ব্যাংক বাজার শাখার কার্যক্রম ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক আবদুল বারেক চৌধুরী জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, 'মানুষদের সেবা দিতে ব্যাংকে প্রতিদিন কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু সেভাবে কোনো সুরক্ষা নেই। ভীতি ও শঙ্কার মধ্যেও লেনদেনের কাজে মানুষদের সেবা দিয়ে চলেছি।'

জেলা সিভিল সার্জন ও জেলা করোনাভাইরাস কমিটির সদস্য সচিব হিরম্ব কুমার রায় বলেন, প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আরও অনেক সচেতন হতে হবে। দোকানপাট খুললেও সামাজিক দূরত্ব বজায় থেকে কেনাকাটা করতে হবে। বাজারে চলাচল করতে গেলেও নিয়ম মানতে হবে। আর তা না হলে রোগী আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

-পিএ

ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুমিনকে ...
ডেস্ক: বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম মুমিনকে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি মামলায় ভোলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় বুধবার রাতে ভোলার গাজীপুর রোডের বাসা থেকে তরিকুল ইসলাম মুমিনকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। পরে তাকে সড়কপথে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের পক্ষে তাকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার না করলেও আজ শুক্রবার ভোলা সদর মডেল থানার ওসি এনায়েত হোসেন খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

একাধিক তথ্যসূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকার কোতয়ালি থানায় একটি চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির মামলা দায়ের করার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রকল্পের কাজের তদবির করে দিবে বলে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তরিকুল ইসলাম মুমিন। এ ছাড়াও সরকারের বিশেষ কোনো ব্যক্তির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাকে ভিসি পদে নিয়োগ দেওয়ার নামে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মুমিনসহ একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সেই চক্রে একজন মন্ত্রীর পিএস সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে।

পরে সে টাকা নিয়ে মমিন উধাও হয়ে জন্মস্থান ভোলায় পলাতক হন। পরে তার অবস্থান নিশ্চিত করার পর বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মো. এনায়েত হোসেন বলেন, কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা জানা যায়নি, তবে তেজগাঁও থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতারের সহায়তা চাইলে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের মোবাইল টিম সহায়তা করে। মামলাটি চাঞ্চল্যকর না হলে এ করোনার মধ্যে তাকে গ্রেফতারের জন্য ভোলায় ঢাকা পুলিশ আশার কথা নয় বলে জানান ওসি।

-ডিআই

কোরআনে হাফেজকে পিটিয়ে হত্যা করল কিশোর গ্যাং, আটক ৬
ডেস্ক রিপোর্ট: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা প্রকাশ্যে পিটিয়ে এক কোরআনে হাফেজকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় মো. ওমর (১৮), নামে আরো একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্যকে আটক করে পুলিশ।

শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়ের ২নং ওয়ার্ডের কেজি রোডে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের নাম শেখ জাহেদ (১৮), সে ওই ওয়ার্ডের মুহরীরটেক এলাকার জয়নাল আবেদীন সারেং বাড়ির মো. রফিক উল্যার ছেলে। নিহত জাহেদ একজন কোরআনে হাফেজ এবং ইলেকট্রিক মিস্ত্রী ছিল।

নিহতের মামা রেজাউল হক সোহাগ জানান, পূর্ব শক্রতার জের ধরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই ওয়ার্ডের কিশোর গ্যাং হৃদয় গ্রুপের সদস্য আমির হোসেন, নূর হোসেন, রাসেদ, হৃদয়, অপুসহ ১৫ থেকে ২০ জন প্রকাশ্যে পিটিয়ে জাহেদকে হত্যা করে। এ ছাড়াও আগে থেকে হামলাকারী এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধান ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতের লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সেতু' আর 'লাইভ' নিয়ে আছেন যে ...
ডেস্ক: দেশে যখন লকডাউন ছিল না তখন প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শিশু জন্ম হতো সিজারে। আর ক্লিনিকগুলোতে ৯৫ শতাংশ ইনকাম ছিল সিজার থেকে। করোনার মধ্যে বাংলাদেশে সিজারের সংখ্যা কমে গেছে। কিন্তু প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর হার বাড়েনি। এ থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

তিনি বলেন, বিদেশে চার শতাংশ শিশুর জন্ম হয় সিজারে। আর বাংলাদেশে সিজারে জন্ম হয় ৯৬ শতাংশ শিশু। নরমাল ডেলিভারি হয় চার শতাংশ। অথচ লকডাউনে ৯৬ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়েছে নরমাল ডেলিভারিতে।

শুক্রবার (৮মে) ফেসবুকে লাইভে এসে এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার সুমন। লাইভের শুরুতে ফেসবুকে অসমর্থিত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, করোনার সময় লকডাউনে দেশে এক লাখ ৭৫ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে, এর মধ্যে মাত্র চার শতাংশ শিশুর জন্ম সিজার অপারেশন হয়েছে। আর বাদ বাকি ৯৬ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়েছে নরমালে।

তিনি আরও বলেন, যখন লকডাউন ছিল না তখন ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শিশুর জন্ম হতো সিজারে। প্রসূতি নারীকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার এমনভাবে বোঝাতেন সিজার না করলে বাচ্চা বা মাকে বাঁচানো সম্ভব না। করোনাভাইরাস আমাদেরকে কতকিছু শেখাচ্ছে?

প্রসূতির অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে হাইকোর্টে একটি রিট করেছিলাম ব্যারিস্টার সুমন। এ প্রসঙ্গকে টেনে তিনি বলেন, তখন হাইকোর্ট একটি রুল দিয়েছিল অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে সরকার কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না। এখন আমি জানি না সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছেন। কিন্তু দেখুন, প্রকৃতি এমন ব্যবস্থা নিয়েছে যে ক্লিনিকগুলো খোলাই রাখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ক্লিনিকগুলোতে ডেকে নিয়ে যেভাবে ব্যবসা করত এখন সেগুলো বন্ধ রয়েছে। এখন আর ব্যবসা করার সুযোগ নাই। দেশে শিশুর জন্ম কিন্তু বন্ধ থাকছে না লকডাউনে। নির্দিষ্ট তারিখে শিশু জন্ম হচ্ছে। সিজার না হওয়ার একমাত্র কারণ এখন ক্লিনিকগুলো বন্ধ। আপনারা জানেন কি-না আমি তখন (রিট আবেদনে) বলেছিলাম যে, ক্লিনিকগুলোর ৯৫ শতাংশ ইনকাম হয় এই অপ্রয়োজনীয় সিজার থেকে।

‘ক্লিনিকগুলো বন্ধ থাকার কারণে এবং আজকের দুঃসময় আসার কারণে আপনারা কী দেখলেন? স্বার্থপরতা দেখলেন। ক্লিনিক বন্ধ থাকার কারণে অপ্রয়োজনীয় সিজারও বন্ধ হয়ে গেছে। আমি জানি না, কোভিড নাইনটিন পরবর্তীতে আমরা বাঁচব কি না। তবে যারা বাঁচবে তাদের জন্যেই এই ভিডিও বার্তাটি রেখে যেতে চাই’-যোগ করেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, সিজার বন্ধ হওয়ার কারণে যে প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে তাও কিন্তু না। এর মানে হচ্ছে প্রোপার রেস্ট নিলে বাড়ি ঘরে থাকলে আমাদের মা বোনদের নরমাল ডেলিভারি সম্ভব।

‘আপনারা এমন একটা বাস্তবতা দেখবেন যে ডাক্তাররা একটা কমন কথা বলেই, আমার বাচ্চার জন্মের সময় ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর একই কথা শুনেছিলাম ডাক্তারের কাছ থেকে। তারা বলেন, গর্ভের শিশু শুকনাতে পড়ে গেছে পানি ভেঙে গেছে। এই দু-একটা কথা বললেই যারা নতুন বাবা হন তাদের মাথা ঠিক থাকে না, তাদের হুশ নষ্ট হয়ে যায়। এই অবস্থায় বলেন, যা ইচ্ছা করেন কিন্তু তো আমার বাচ্চাটাকে বাঁচিয়ে রাখেন।’

তিনি বলেন, এই সুযোগ নিয়ে কিছু কিছু গাইনি ডাক্তার, সুস্থ প্রসূতির সিজার করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। আমি এই ভিডিওটা রেখে যাচ্ছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। আপনারা এটা থেকে যদি কিছু শিক্ষা দিতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চার শতাংশ সিজার প্রয়োজন হয়, বাকি ৯৬ শতাংশ সিজার প্রয়োজন পড়ে না। বিদেশে আত্মীয়-স্বজনের কাছে শুনবেন না কখনও প্রসূতির সিজারের প্রয়োজন হয়।

‘প্রকৃতির বিচারেই আমরা এখন কিছুটা মানুষ হতে শিখছি। করোনাভাইরাস হয়তো থাকবে না, আমরাই মানুষ হওয়াটা যেন জারি রাখি। আপনারা ভবিষ্যতে যারা বাবা এবং মা হবেন তাদেরকে আহ্বান জানিয়ে বলছি, আপনারা এসব অনৈতিক সিজার থেকে দূরে থাকবেন। এই ক্লিনিকগুলো থেকে দূরে থাকবেন। সাথে সাথে সরকারকেও বলছি, এটা (করোনাকালীন সময়) থেকে শিক্ষাগ্রহণ করেন, করোনা-পরবর্তী বাংলাদেশে যেন সিজারে কম শিশু জন্ম নেয়।’

-জিএন

দুস্থদের সাহায্যে মুশফিকের ব্যাট ...
ডেস্ক: বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে সবার আগে স্মারক নিলামে তোলার ঘোষণাটা মুশফিকুর রহিমই দিয়েছিলেন। ২০১৩ সালের মার্চে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন যে ব্যাট দিয়ে সেটিই মুশফিক নিলামে তুলতে চান। অবশেষে তাঁর মূল্যবান স্মারকটা নিলামে উঠছে আজ। সেটিও আবার তাঁর জন্মদিনে। 

আজ রাত ১০টায় মুশফিকের ব্যাট নিলামে উঠছে 'স্পোর্টস ফর লাইফে'র ফেসবুক পেজে। নিলাম নিয়ে ভক্তদের প্রতি একটি অনুরোধ আছে মুশফিকের, 'নিলামে তুলতে একটু দেরি হয়েছে কারণ, নিজের মধ্যে দ্বিধাদন্ধ কাজ করছিল। সবার প্রতি আমার অনুরোধ, শুধু আমার ব্যাট হিসেবে না, সবাই যেন ভাবে এটা অনেক বড় ব্যাটসম্যানের ব্যাট; যাতে অনেক টাকা দিয়ে কিনতে পারে। টাকাটা করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের পেছনে ব্যয় হবে।' এর আগে ২০১৯ বিশ্বকাপে ব্যবহৃত সাকিবের ব্যাট নিলামে ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

কাল নিলামে উঠছে দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার মোনেম মুন্নার জার্সিও। ১৯৮৯ সালে ঢাকায় প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ লাল দলে মুন্নার '২' নম্বর জার্সিটা নিলামে তোলা হচ্ছে। 'অকশন ফোর অ্যাকশনের' ফেসবুক পেজে রাত সাড়ে দশটায় শুরু হবে মুন্নার নিলাম। জার্সির ভিত্তিমূল্য ২ লাখ টাকা।

কাল রাতে 'স্পোর্টস ফর লাইফ' নিলামে তুলছে যুব বিশ্বকাপজয়ী আকবর আলীর জার্সি ও গ্লাভস। এই নিলামে থাকছে মোহাম্মদ নাঈমের ভারতের বিপক্ষে ৮১ রান করা ব্যাট আর মোসাদ্দেক হোসেনের ২০১৯ সালে ডাবলিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৭ বলে অপরাজিত ৫২ রান করে ফাইনাল জেতানো ব্যাটও।
সব মিলিয়ে কাল রাতটা যেন নিলাম-রাত!

-পিএ

সোনাদিয়ার পশ্চিমে সাগরে ৭ ফিশিং ...
আব্দুর রহমান ইমন, সন্দ্বীপ প্রতিনিধি: সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইতের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত দূর্গচরণ খাল (প্রকাশ সওদাগর হাট ঘাট) থেকে গতকাল রাত ৮ টায় মাছ ধরতে যাওয়া মেঘনার মোহনায় একটি নৌকা প্রবল বাতাসে উল্টে নদীতে ডুবে যায়। আজ সকালে নৌকাটির সন্ধান পাওয়া গেলেও সন্ধান মেলেনি ৩ জেলের। 

নৌকায় থাকা জেলেরা হলেন, ভূবণ জলদাসের ছেলে মনতুষ জলদাস, সাদু জলদাস ও জতিষ জলদাসের ছেলে জহল লাল জলদাস।

নিখোঁজ হওয়া জেলেদের সন্ধানে নৌকা নিয়ে সাগরে সারাদিন তল্লাশি করছেন সারিকাইত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম পনির, সারিকাইত ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ জামশেদুর রহমান, আতাউল উল্লাহ মেহরাব, মো. শাহিন, মুহাম্মদ সাইফুল ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৪ সদস্যর একটি টিম। সকাল ১০ টায় বাংলাবাজার ঘাট থেকে জাহাজ্জার চরসহ ভাসানচরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে তাদের খুঁজতে থাকেন তারা। বেলা ৪ টা পর্যন্ত খুঁজেও তাদের সন্ধান পাওয়া না গেলে চেয়ারম্যানসহ তার প্রতিনিধি দল নদী থেকে ফিরে আসেন।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম পনিরের কাছে ৩ জেলের ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রবচনকে তিনি বলেন, ৩ জেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর আমি জানতে পারি সকাল ১০ টায়। সাথে সাথে আমি বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যদের অবহিত করে সারাদিন নদীতে খুঁজতে থাকি। কিন্তু তাদের কোন সন্ধান আমরা জানতে পারিনি। আমাদের অভিযান অব্যহত থাকবে।

অবশেষে শুক্রবার রাত ৯ টা নাগাদ তাদেরকে সীতাকুণ্ড চ্যানেলে পাওয়া গেছে। কুমিরার মাছ ধরার ১ টি নৌকায় করে তাদেরকে সন্দ্বীপে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে ৩ জেলে সুস্থ আছেন।

করোনায় আক্রান্ত হলেন আফগান ...
ডেস্ক: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফিরোজুদ্দিন ফিরোজ। শুক্রবার দেশটির কর্মকর্তারা তার আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াহিদুল্লাহ মায়ার জানান, গত কয়েকদিন ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ ছিল। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা করা হলো করোনা পজিটিভ ধরা পড়েন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি নিজ বাস ভবনে আইসোলেশনে আছেন।

মুখপাত্র জানান, আফগানিস্তানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ১৭১ জন নতুন আক্রান্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। ফলে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৬৩ জনে।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই জনের মৃত্যু হওয়ার ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৬ জনে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৪৬৮ জন।

-ওআই

বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে পারব না ...
ডেস্ক: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে গ্রেপ্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং মত মপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাত দেশের কূটনৈতিকদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং ঢাকায় কর্মরত কূটনীতিকদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দুর্ভাগ্যজনক।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর প্রিন্সিপ্যিাল ডেপুটি অ্যাসিস্যান্ট সেক্রেটারি এলিস ওয়েলস এক টুইট বার্তায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ডিজিটাল আইনের অধীনে নতুন করে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে  বাংলাদেশে মত প্রকাশে রুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।

বাংলাদেশের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে সেটি নিশ্চিত করার আহবান জানিয়ে টুইট বার্তায় তিনি বলেন, বাক স্বাধীনতাই গণতন্ত্রের ভিত্তি এবং এই মহামারির সময়ে এটি মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে।

ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার অপর এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে মুক্ত ও স্বাধীন মিডিয়ার নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবভিত্তিক তথ্য পরিবেশন করতে পারার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে বাকস্বাধীনতা সমুন্নত রাখা এবং সাংবাদিকদের ঠিকমতো কাজ করতে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার আহবান জানিয়ে শুক্রবার আরও টুইট করেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপিয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনসে তেরিঙ্ক,যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত রবার্ট ডিকসন, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভেরওয়েজ, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শার্লোট স্লাইটার এবং ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এসট্রাপ পিটারসন। 

রাষ্ট্রদূত রেনসে তেরিঙ্ক তার টুইট বার্তায় বলেন, এই সংকটজনক সময়ে বাক স্বাধীনতা অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্যই সাংবাদিকদের স্বাধীন ও মুক্তভাবে তাদের কাজ করতে দিতে হবে, যদিও ফেক নিউজ একটি বড় ধরনের সমস্যা।  

রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন টুইট বার্তায় লিখেছেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ অপরিহার্য। অন্য চারজন রাষ্ট্রদূতও একই ধরনের টুইট বার্তা দিয়েছেন। তারা আরও লিখেছেন, তথ্যভিত্তিক সংবাদের জন্য স্বাধীন সাংবাদিকতার নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

ইউএনবি জানিয়েছে, ঢাকায় কর্মরত কূটনীতিকদের টুইট বার্তার প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমন বলেন, কূটনীতিকদের এ ধরনের বক্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। তাদের কিছু বলার থাকলে সেটা কূটনৈতিক রীতিতে সরকারকে বলতে পারতেন। তারা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন সেটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

হিউম্যান রাইট ওয়াচের বিবৃতি: করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে কার্টুনিস্ট, লেখক সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

শুক্রবার সংস্থার ওয়েব সাইটে এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, কেবলমাত্র ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ পোস্ট করার কারণে মামলা দায়ের না করে বরং আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনাগুলো গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে কোভিড -১৯-এর বিষয়ে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থায় কোন কোনো ফাঁক থাকলে তা বন্ধ করার চেষ্টা করা উচিত। সাংবাদিক, ডাক্তার এবং নার্স ও অ্যাক্টিভিস্টদের সরকারের হয়রানি করা বন্ধ করা উচিত এবং এর পরিবর্তে সহায়তা, স্বচ্ছতা এবং সম্পদ নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করা যায়গাগুলোতে কাজ করা উচিত।'

বিবৃতিতে আরও বলা হয়,  মত প্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে এমন যেকানো পদক্ষেপ গ্রহণ বন্ধ করতে হবে। ১১ জনের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে  এবং কারাগারে থাকা চারজনকে মুক্তি দিতে হবে। এ ছাড়া বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানায় হিউম্যান রাইট ওয়াচ। 


হাবীব আনওয়ার: প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে একটি সুপ্ত আশা থাকে। থাকে কল্পনা ও সুদূরপ্রসারী চিন্তা চেতনা। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে মানুষ কত কষ্ট করে। রাতদিন এক করে নিজেকে নিঃশেষ করে দেয়। অনেকে লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। আবার অনেকে কষ্ট ছাড়াই সফলতার শীর্ষ চূড়ায় আহরণ করে। 

আসলে আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করি, নানান ঘটনার জন্মদাতা এই পৃথিবীটা স্বার্থপর না পৃথিবীর মানুষগুলো? কিন্তু আজো এর উত্তর খুঁজে পাইনি। গত ক'দিন আগে আমার পরিচিত একজন বললো, জীবনে অনেক কষ্ট আর সংগ্রাম করেছি। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ছুটে চলেছি। কিন্তু তেমন কোন সফলতা পাইনি। আমি তার কথা শুনে কৌতুহলী দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। 

মনে মনে ভাবলাম, এত কষ্ট -সংগ্রাম করেও কেন সফল হতে পারলো না! তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার লক্ষ্য কী ছিল, গন্তব্য কোথায় ছিল? তিনি বললেন, আসলে সুনিশ্চিত কোন লক্ষ্য বা কোন গন্তব্য ছিল না। আমি তাকে বললাম, আপনি সফল না হওয়ার অন্তরায়ে একমাত্র করাণ এটাই যে, গন্তব্যহীন পথে ছুটে চলেছেন দিকহারা নাবিকের ন্যায়।

আমাদের প্রায় মানুষের বড় সমস্যা আমরা গন্তব্যহীন চলতে থাকি। যার ফলে পথের কোন শেষ আমাদের চোখে পরে না। পরিণামে হতাশার আগুনে প্রতিনিয়ত দগ্ধ হই। তখন সম্ভাবনার আকাশে হতাশারা ভেসে বেড়ায়। জীবন অনিশ্চিত হয়ে পরে। অনেকে তো আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। আমি অনেক বন্ধুদের দেখেছি ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে সারারাত জেগে পড়তে। আর দিনের বেলায় ক্লাসে বসে ঝিমাতে। আপনিই বলুন, সারারাত জেগে অধ্যায়নের লাভটা কী হলো? যদি ক্লাসের পড়া ধরতে না পারে! 

তবে এই ক্ষেত্রে অনেকের সমস্যা হলো আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। আবেগ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে তারও একটা সীমা  আছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমরা বড়ই সঙ্কীর্ণমনা! সফলতার জন্য সঙ্কীর্ণমনা দূর করতে হবে। চিন্তার দৈন্যতা দূর করে , হৃদয়ের উদারতা আর চেতনার প্রশস্ততার মাধ্যমে নিজেকে  আগামী দিনের জন্য তৈরি করতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, হাটহাজারী মাদরাসা, চট্টগ্রাম  ।


নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর ওষুধ রেমডেসিভির উৎপাদন সম্পন্ন করেছে দেশের খ্যাতনামা ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। উৎপাদনের সব প্রক্রিয়া শেষ করার পর আজ শুক্রবার সকালে শুরু হয়েছে বাজারজাত করার প্রস্তুতি।

এসকেএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন হোসেন বলেন, ‘করোনা–পরিস্থিতি নিয়ে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা দেশবাসীকে এই সুখবর দিতে চাই যে বিশ্বে করোনার একমাত্র কার্যকর ওষুধ বলে স্বীকৃত জেনেরিক রেমডেসিভির উৎপাদনের সব ধাপ আমরা সম্পন্ন করেছি।’

করোনার রোগীদের চিকিৎসায় মার্কিন প্রতিষ্ঠান গিলিয়েড সায়েন্সেস কোম্পানির তৈরি এই ওষুধ সারা বিশ্বে সাড়া ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) গত সপ্তাহে করোনার ওষুধ হিসেবে রেমডেসিভিরকে ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। জাপানের ওষুধ প্রশাসন ৭ মে থেকে ওষুধটি করোনার রোগীদের ওপর প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে। তবে কবে নাগাদ জাপান এর উৎপাদনে যাবে, তা এখনো ঠিক হয়নি বলে সে দেশের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠান গিলিয়েড সায়েন্সেস ওষুধটি উৎপাদনের জন্য ভারত ও পাকিস্তানের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলেও খবরে জানা গেছে। এ অবস্থায় এসকেএফই বিশ্বে প্রথম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, যারা জেনেরিক (মূল/গোত্র) রেমডেসিভির উৎপাদন করতে সক্ষম হলো। এসকেএফের উৎপাদন করা রেমডেসিভিরের বাণিজ্যিক নাম ‘রেমিভির’।

সিমিন হোসেন বলেন, ‘ওষুধ প্রশাসন গত মার্চ মাসে ওষুধটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদনের পরপরই আমাদের ফর্মুলেশন বিজ্ঞানীরা মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে রেমডেসিভির নিয়ে কাজ শুরু করেন। যেহেতু এটি একটি শিরায় দেওয়া ইনজেকশন, সে কারণে এর উৎপাদনে সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। দুই মাস ধরে এসকেএফের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই এত কম সময়ে এটা উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। ওষুধের মূল উপাদান সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি করে পর্যাপ্ত কাঁচামালের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করেছি আমরা।’

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ রোগের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি কার্যকারিতা দেখিয়েছে রেমডেসিভির। গিলিয়েডের নিজস্ব পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ওষুধ ব্যবহারে রোগীদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। মানুষের শিরায় ইনজেকশন হিসেবে এই ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। রোগের তীব্রতার ওপর এর ডোজ নির্ভর করে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য ৫ অথবা ১০ দিনের ডোজ প্রয়োজন হতে পারে।

রেমডেসিভির উৎপাদনের একচেটিয়া স্বত্ব রয়েছে গিলিয়েডের। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন অনুযায়ী, জাতিসংঘস্বীকৃত বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলো এসব পেটেন্ট বা স্বত্ব অগ্রাহ্য করতে পারে। ফলে এসব দেশ সহনীয় মূল্যে ওষুধ উৎপাদন করতে পারে। তবে এই ওষুধ বর্তমানে খোলা বাজারে দেওয়া হবে না। এটা দেওয়া হবে করোনার চিকিৎসার জন্য সরকার অনুমোদিত হাসপাতাল বা ক্লিনিককে।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের পরিচালক অ্যান্থনি এস ফাউসি হোয়াইট হাউসে এক আলোচনায় বলেন, করোনা থেকে দ্রুত সেরে ওঠার ক্ষেত্রে রেমডেসিভিরের ইতিবাচক প্রভাব পরিষ্কার। আর এই ওষুধ যেহেতু কাজ করছে বলে পরিষ্কার প্রমাণ মিলেছে, তখন তা দ্রুত মানুষকে জানানো নৈতিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে।

শিল্পপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ট্রান্সকম গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ৩০ বছর ধরে ওষুধ উৎপাদন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বাইরে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশের ৩০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে আসছে।

-পিএ

Doctor's Note: Sleep, Ramadan and the coronavirus | Coronavirus ...
ডেস্ক: বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ভীত-সন্ত্রস্ত। এরমধ্যেই আগমন করেছে মুসলমানদের অন্যতম ফরজ ইবাদত রোজা। করোনাকালে রোজায় মানুষের স্বাস্থ্যের কোন অবনতি হবে কিনা এ সংশয় নিয়ে অনেকে রোজা পালন করলেও আত্মিকভাবে প্রশান্তি খুঁজে পাচ্ছিলেন না তারা।

একটু দেরিতে হলেও রোজাদারদের সেই সংশয় কিছুটা কমে এসেছে জার্মানির একদল গবেষকদের কথায়। চিকিৎসাশাস্ত্রে অভিজ্ঞ এসব গবেষকগণ দাবি করেছেন, করোনায় রোজা রাখলে স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি হবেনা।

জার্মানির মুনস্টার ইউনিভার্সিটি অব এপ্লয়েড সায়েন্সেসের হিউম্যানিটারেইন এইড সেন্টারের পরিচালক জোয়াছিম গার্ডম্যান বলেছেন, রমজান মাসে দিনের বেলায় রোজা রাখলে স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই উদ্বেগের কারণ নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, রোজা সঠিক মাপে আহার গ্রহণকারী সুরুচিবান ব্যক্তির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করতে পারে না।

জার্মানিতে এমনিতেই রোজা পালনকে নেতিবাচকভাবে নেয়া হয়- এরমধ্যে চলতি বছরের প্রাণঘাতি মহামারি করোনা ভাইরাসের সময় রোজা রাখলে স্বাস্থ্যের অবনতি হবে কিনা- এনিয়ে দেশটিতে ব্যপক তর্ক-বিতর্ক হচ্ছিল। ঠিক এমন সময়ে গবেষকগণ এই মতামত উল্লেখ করলেন।

‘করোনাকালে নিরাপদ রমজান’ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, অন্যান্য বছরের ন্যায় এই বছরেও সুস্থ লোকেরা রোজা রাখতে পারবেন। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, কোভিড-১৯ এর সময়ে রোজা রাখায় কোন সমস্যার সৃষ্টি হবে কিংবা ভাইরাসটির সংক্রমণ হবে- এখন পর্যন্ত কোন গবেষণা এরকম দাবি করেনি।

এ প্রসঙ্গে জার্মান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ফর থেরাপিউটিক ফাস্টিং অ্যান্ড নিউট্রিশনের উপপরিচালক মার্টা রিসম্যান-ফেডরিচ বলেন, আমরা সহকর্মীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা করেছি, আমাদের সম্মিলিত মত হল, করোনাকালে প্রবীণদের রোজা পালনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। বিশেষ করে অন্যান্য রোগ-ব্যধির কারণে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আল জাজিরা

করোনায় মৃত মানুষের দাফনের দায়িত্ব ...
নিউজ ডেস্ক: প্রতিদিনই রাজধানীতে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বিশেষ করে রাজধানীর ঢাকায় নতুন নতুন এলাকায় করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। আর যার প্রভাব পড়ছে কবরস্থানে লাশ দাফনকালে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের জন্য নির্ধারিত খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে দাফনের জায়গা নেই। এমন পরিস্থিতিতে মারা যাওয়া করোনা রোগীদের দাফন করা হচ্ছে রায়েরবাজার বসিলা কবরস্থানে।

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে শুধু আক্রান্তদেরই নয়, আক্রান্ত সন্দেহে যারা মারা যাচ্ছেন তাদেরও এখানে কবর দেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব লাশ পরিবহন ও দাফনের দায়িত্বে আছে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আল-মারকাজুল ইসলামী। তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ নেওয়া হয় কবরস্থানে। 

খিলগাঁও কবরস্থানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে এ পর্যন্ত দাফন হয়েছে ১৯১ লাশ। এদের কেউ করোনা পজিটিভ ছিলেন, কাউকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে দাফন করা হয়েছে। এ কবরস্থানের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই ৯ নম্বর লাইন ধরে সোজা দক্ষিণে ঝিলপাড়ের কাছে ঝোপের আড়ালে নির্ধারণ করা হয়েছে করোনায় মৃতদের জায়গা। অন্যান্য কবর থেকে একটু আলাদাভাবে রাখা। এসব কবর খননের জন্য দায়িত্বে ছিলেন চারজন গোরখোদক। 

কবরগুলোর একপাশে আগে থেকে বাঁশ কেটে সাজিয়ে রাখা হতো। দাফন করা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে প্রতিটি কবরের মাঝখানে বাঁশ কেটে বাতা করে নাম্বারিং করে দেওয়া হয়েছে। জায়গার সংকটের কারণে গত ৩০ এপ্রিল থেকে করোনা আক্রান্তে মারা যাওয়াদের দাফন শুরু হয়েছে রায়ের বাজার বসিলা কবরস্থানে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে করোনা রোগীর লাশ কবরস্থানে নিয়ে আসা হয়। অ্যাম্বুলেন্স দুটি কবরস্থানের এক প্রান্তে পার্ক করে রাখা হয়। এক অ্যাম্বুলেন্সে বহন করা হয় দাফনের দায়িত্বে থাকা ১০ স্বেচ্ছাসেবককে। তারা প্রত্যেকে ব্যক্তিগত সুরক্ষার সরঞ্জাম (পিপিই) পরা। অপর অ্যাম্বুলেন্সে বহন করা হয় লাশ। তারা একটি স্ট্রেচারে করে সাদা কাফনে মোড়ানো লাশ নামান। এরপর কবরস্থানের ইমামসহ ১০/১২ জনের উপস্থিতিতে জানাজা নামাজ পড়ানো হয়।

জানাজা শেষে স্ট্রেচারে করে তারা লাশ কবরের কাছে আনেন। এরপর পিপিই পরা চারজন মিলে লাশ কবরে নামান। কবরে দেহ নামানোর পর মাটি দেওয়া হয়। সব শেষে যারা দাফনে অংশ নেন তারা কবরস্থানের নির্দিষ্ট একটি স্থানে গিয়ে পিপিই খুলে ফেলেন। সবাই নিজেদের গামবুট আর শরীর জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করে নেন। এরপর পিপিইগুলোতে আগুন জ্বালিয়ে নষ্ট করে দেন। দাফন কাজ শেষে তারা মৃতের জন্য হাত তুলে দোয়াও করেন।

গত ২৫ মার্চ খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া প্রথমবারের মতো এক ব্যক্তিকে দাফন করা হয়। খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানের মোহরার মো. ফেরদৌস বলেন, করোনায় যাদের দাফন হতো, তাদের বিষয়ে এক দুই ঘণ্টা আগে তাদের জানানো হয়। এরপর তারা কবরের অন্যান্য জিনিসপত্র প্রস্তুত করে রাখতেন। এরপর কবরস্থানের মসজিদের ইমাম দিয়ে জানাজা পড়ানো হতো।

জানাজার সময় প্রত্যেকে নিজের সুরক্ষার জন্য মুখে মাস্ক পরে থাকেন। দাফন শেষে প্রত্যেকে হাত-পা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় পানি জমে গেছে, ঝিলের পানি উঠে এসেছে। আবার জায়গা সংকটের কারণে খিলগাঁও কবরস্থানে এখন কোনো লাশ দাফন হচ্ছে না। রায়ের বাজারে সব লাশ দাফন হচ্ছে।

-কেকে

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget