Latest Post



মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও তারেকুল ইসলাম: আজ ঐতিহাসিক ৫ মে। ২০১৩ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেম শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে ‘হেফাজতে ইসলাম’ নামক একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ইসলামবিদ্বেষী ও নবী সা:-এর অবমাননাকারী ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলে। তারা দাবি আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ ‘ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি’ পালন করে শাপলা চত্বরে জমায়েত হন। কিন্তু সরকার হেফাজতের মূল দাবি আমলে না নিয়ে সেদিন মধ্যরাতে ওই এলাকার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে অন্ধকারে কাপুরুষের মতো নিরস্ত্র লাখ মানুষের ওপর বর্বরোচিত অভিযান পরিচালনা করে। এই ক্র্যাকডাউনে অনেক নিরীহ আলেম-হাফেজ-মুফতি-মুহাদ্দিস-কারি ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান শাহাদতবরণ করেন বলেই জনগণের বিশ্বাস।

যৌথবাহিনীর গুলিতে আহতের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। এখনো আহত অনেকে বুকে ও শরীরে বুলেট বহন এবং অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ব বরণ করে যন্ত্রণাকাতর জীপন যাপন করছেন। সরকার কর্তৃক বহু লাশ গুম করার অভিযোগ উঠেছিল। পরে হামলা-মামলা ও পেশিশক্তির জোরে হেফাজতের নিরীহ নেতাকর্মীদের হয়রানি ও জেল-জুলুমের মাধ্যমে এবং নানা কৌশল ও হুমকি-ধমকি দিয়ে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়। এমনকি সরকারের নানামুখী চাপে শাপলা চত্বরে নিহতদের সঠিক সংখ্যা এবং তাদের সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যাদি সংগ্রহের ক্ষেত্রেও হেফাজতকে চরমভাবে বাধা দেয়া হয়। নিবর্তনমূলক রাষ্ট্রযন্ত্রের চরম দমনপীড়ন সত্ত্বেও হেফাজতে ইসলাম শানে রেসালাত সম্মেলন, ওয়াজ-মাহফিল, তাফসির মাহফিল ও সিরাতুন্নবী সা: সম্মেলনের মাধ্যমে দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। এসব কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগম লক্ষণীয় ।

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশে মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ এবং ইসলামপন্থীদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় উদাহরণ, শাপলা চত্বরে নিহতদের সংখ্যা প্রকাশ করার ‘অপরাধে’ অধিকার-এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান শুভ্রকে গ্রেফতার করা হয়। শাপলা চত্বরের গণহত্যার ব্যাপারে সরকার মূলত দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অন্ধকারে রাখতে চায়; কিন্তু ইনশাআল্লাহ সত্য এক দিন স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হবেই।

হেফাজতের মূল দাবির সত্যতা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও মহান আল্লাহ পাক ও তাঁর রাসূল সা:-এর অবমাননাকারী, ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সরকার আদৌ মেনে নেয়নি। গণ-আন্দোলনের মুখে কয়েকজন চিহ্নিত ব্লগারকে গ্রেফতারের নাটক সাজালেও তাদের শাস্তি না দিয়ে পরে সুযোগমতো জামিনে ছেড়ে দেয়া হয়। এর পরিণতিতে ‘সুবহানাল্লাহ’ নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ধর্মদ্রোহী লতিফ সিদ্দিকী, ইসলামের সুদ তথা রিবা নিয়ে অপব্যাখ্যাদানকারী ও কওমি মাদরাসাবিরোধী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুুহিত, পর্দাবিদ্বেষী সমাজকল্যাণমন্ত্রী মহসিন আলীরা খোদ রাষ্ট্রের কোটর থেকেই একে একে স্বরূপে বেরিয়ে এসেছেন। যদি সরকার হেফাজতের দাবি আমলে নিয়ে ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারদের বিচার করত, তাহলে কোনো মন্ত্রী বা নেতা ইসলামি মূল্যবোধ ও তৌহিদি জনতার ঈমান-আকিদায় আঘাত করে কথা বলার সাহস পেতেন না।

হেফাজতে ইসলাম মুসলমানদের ঈমান-আকিদা রক্ষার লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। ঈমান-আকিদার সঠিক চর্চা, সংরক্ষণ ও লালন করা না হলে মানবজীবন অভিশপ্ত ও নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। ঈমান-আকিদাই হচ্ছে মুসলিম জীবনের সামগ্রিক ব্যবস্থার মূলভিত্তি। শুধু কালেমায়ে শাহাদাত পড়ে মুসলিম নাম ও বেশ ধারণ করলেই ঈমান-আকিদার শর্তগুলো পূরণ হয় না। আল্লাহর একক অস্তিত্বের প্রতি নিরঙ্কুশ বিশ্বাস ও তাকওয়া এবং একইসাথে মানব জাতির জন্য আল্লাহ প্রেরিত নির্দেশনামূলক সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা তথা কুরআন ও রাসূল পাক সা:-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে জীবন যাপন করাই হলো ঈমান-আকিদা মোতাবেক চলা। এখান থেকে বিচ্যুত হলেই ইহজীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে বাধ্য; কেননা ঈমান-আকিদার প্রতি উদাসীনতা এবং এর অনুপস্থিতি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বেইনসাফি ও জুলুম কায়েম হওয়ার পথ সুগম করে দেয়। ঈমান-আকিদা সার্বিক ন্যায় ও ইনসাফের কথা বলে। শুধু ভোগের মধ্যেই নয়, ত্যাগেও যে সুখ আছে সেটার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। ঈমান-আকিদা হচ্ছে মহান প্রভুর কাছে দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার ব্যাপারে উন্মুখ থাকা। ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতা ও উন্নাসিকতা দমন করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে এটা। আধ্যাত্মিক সঞ্জীবনী ও অন্তরের আত্মশুদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে শত আইন-কানুনেও মানুষের সহজাত রিপুর তাড়না ও পঞ্চ ইন্দ্রিয় সংযত করা অসম্ভব। মুসলমানদের আধ্যাত্মিক চেতনা তথা তাকওয়ার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির মূল নিয়ামক হলো ঈমান-আকিদা। ইসলাম গ্রহণের বা মুসলমান হওয়ার মূল শর্তই হলো ঈমান-আকিদার সর্বব্যাপী চর্চা ও সংরক্ষণ করা। আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম ধর্মপ্রাণ জনতাকে সাথে নিয়ে সমকালীন ফিতনা এবং ভোগবাদী ও বস্তুবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ঈমান-আকিদার চর্চা ও সংরক্ষণের লড়াই করে যাচ্ছে।

জনগণ যখন ঈমান-আকিদার ব্যাপারে উদাসীন বা অসচেতন হয়ে পড়ে, সেই সুযোগে রাষ্ট্রক্ষমতায় জালিম শাসকের অধিষ্ঠান সম্ভব হয়- এটা এক ধরনের খোদায়ী অভিশাপ। আল্লাহর জমিনে বাস করে এবং তাঁর অপার নেয়ামত ভোগ করে বান্দা কর্তৃক অবাধ্যতা ও বিরোধিতা কখনোই আল্লাহ তায়ালা বরদাশত করেন না। ঈমান-আকিদা চর্চার ফলে শাসক ও শাসিত উভয়ের মধ্যেই তাকওয়া বা আল্লাহভীতি সৃষ্টি হয়, ফলে জনগণ যখন ঈমান-আকিদার চর্চা করে, তখন তাকওয়ার কল্যাণে শাসকের পক্ষেও জুলুম-শোষণের পথে পা বাড়ানো সম্ভব হয় না। তাই ঈমান-আকিদার চর্চা এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের কর্তব্যকে হেফাজত রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে অবশ্য পালনীয় মনে করে। বিপুল ত্যাগ স্বীকার এবং প্রাণদানের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলাম ঈমান-আকিদা রক্ষার আপসহীন লড়াইয়ের পথ ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কায়েমি স্বার্থান্বেষী সব রাজনৈতিক শক্তির বিকল্প হিসেবে নিজের সম্ভাবনাকে ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

হেফাজতে ইসলাম ভুঁইফোঁড় কোনো সংগঠন নয়। হেফাজতের উত্থান এবং শাপলা চত্বরে অপরিমেয় ত্যাগ স্বীকারÑ ইতিহাস-বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনাও নয়; অধিকন্তু উপমহাদেশের ওলামায়ে কেরামের বিশাল এক সংগ্রামী ও আত্মদানের ইতিহাসের ধারাবাহিকতারই নব উপাখ্যান সৃষ্টি হয়েছে। স্বেচ্ছাচারী রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে মজলুম জনতার সঙ্ঘবদ্ধ সংগ্রামের প্রেরণা নিয়ে প্রতি বছর ঐতিহাসিক ৫ মে ফিরে আসে। এই প্রেরণা যুগে যুগে মানবিক ও নাগরিক মর্যাদা নিয়ে ঈমান-আকিদায় পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বাঁচার তাগিদে সংগ্রামী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বারবার উজ্জীবিত করে তুলবে।

শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের রক্ত ও প্রাণ বিসর্জন বৃথা যাবে না ইনশাআল্লাহ। ইতিহাসের পর্যালোচনায় দেখা যায়, পলাশীর বিপর্যয়ের পর একের পর এক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনগুলো, তথা ফরায়েজী আন্দোলন, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার ধ্বংস, বালাকোটের শাহাদতবরণ, রক্তাক্ত সিপাহি বিদ্রোহ কোনোটিই শেষ বিচারে ব্যর্থ হয়নি, বরং উপমহাদেশের ওলামায়ে কেরামের এই সুদীর্ঘ রক্ত, আত্মদান ও শাহাদতের পথ ধরেই ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির কবল থেকে ভারতকে স্বাধীন করা সম্ভব হয় এবং যথাক্রমে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সৃষ্টির পথ সুগম হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র তথা পাকিস্তান বানানো গেলেও সেটা ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি ইসলামি সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি। ঠিক তেমনই পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জুলুম-শোষণের নিগড় থেকে মুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে ৯ মাসের রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হলেও এখানে মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার ও ন্যায়-ইনসাফ নিশ্চিত করে একটি শোষণ-বঞ্চনাহীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে। তবে হেফাজতের রক্ত ও প্রাণ বিসর্জনের বদৌলতে এ দেশে শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিপীড়িত সাব-অলটার্নরা ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান হয়ে রুখে দাঁড়ানোর হিম্মত অর্জন করেছে।
বাংলাদেশে বিশুদ্ধ কুরআন-হাদিস ও ইসলামি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হলো কওমি মাদরাসা; আর এই কওমি মাদরাসার আলেম ও ছাত্র-শিক্ষকরাই ন্যায়-ইনসাফ ও শান্তির পক্ষে এবং সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, জুলুম ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কুরআন-হাদিসের বাণী প্রচার করে যাচ্ছেন। তারাই শাহ ওয়ালীউল্লাহর সংগ্রামী আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের পর উপমহাদেশে আলেম সমাজের ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ কিছুটা স্তিমিত হলেও তারা ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা-চেতনা, ইসলামি শিক্ষা, মূল্যবোধ ও দ্বীনি সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে মাদরাসা স্থাপনের কাজে ব্যাপৃত হন। হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা কাসেম নানতুবী (রহ:) ১৮৬৬ সালে ওলামায়ে কেরামের বহুল কাক্সিক্ষত প্রথম মাদরাসা বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেন। উল্লেখ্য, মাওলানা কাসেম নানতুবী (রহ:) সিপাহি বিদ্রোহের সময় ঐতিহাসিক থানাভবন ফ্রন্টে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। তিনি সুকৌশলে গ্রেফতার এড়িয়ে তার কার্যক্রম গোপনে অব্যাহত রাখেন। পর্যায়ক্রমে এই ধারার অজস্র মাদরাসা সমগ্র উপমহাদেশে গড়ে ওঠে। বাংলাদেশে এগুলো ‘কওমি মাদরাসা’ নামে পরিচিত। বিশেষত চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায় বাংলাদেশের বৃহত্তম কওমি মাদরাসা তথা দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসা ১৮৯৬ সালে স্থাপিত হয়। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ কওমি মাদরাসা। এই মাদরাসার বর্তমান মুহতামিম শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (দা.বা.)। তিনি দেওবন্দ মাদরাসার সাবেক শায়খুল হাদিস, আওলাদে রাসূল সা: সাইয়েদ হোসাইন আহমদ মাদানীর একজন সুযোগ্য ছাত্র ও শিষ্য এবং আধ্যাত্মিক জগতে তার খেলাফত লাভ করেছেন।

শায়খুলহিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসানের ইন্তেকালের পর দেওবন্দ থেকে পরিচালিত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম ত্যাগী যোদ্ধা ছিলেন সাইয়েদ হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ:)। অসহযোগ আন্দোলন থেকে শুরু করে ভারত স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত মাওলানা মাদানীর সংগ্রাম অব্যাহত থাকে। দখলদার ইংরেজ রাজশক্তি কর্তৃক ১৯২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর করাচির খালেকদিনা হলে এক নিবর্তনমূলক মামলার শুনানিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মাওলানা মাদানী নির্ভীক চিত্তে বলেছিলেন : ‘‘ধর্মীয় উত্তেজনার ফলে ১৮৫৭ সালে ভারতে সর্বত্র যখন বিপ্লবের আগুন জ্বলে উঠেছিল, তখন রানী ভিক্টোরিয়া অর্থাৎ ইংরেজ সরকার ভারতীয়দেরকে যে প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণা প্রচার করে তাদের সান্ত্বনা দিয়েছিলেন, তাতে উল্লেখ ছিল, ‘কারো ধর্মের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না, বরং ধর্মীয় বিষয়ে দেশবাসীর পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে।’ ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও তা স্বীকৃত হয়েছিল। এমনকি পরবর্তীকালে সপ্তম অ্যাডওয়ার্ড এবং পঞ্চম জর্জও এ ঘোষণা সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান সরকার যদি রানী ভিক্টোরিয়া, পরবর্তী সম্রাট ও তাদের পার্লামেন্টের প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণার কোনো মর্যাদা না দেন আর ভারতবাসীর ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপকে সঙ্গত মনে করেন, তাহলে এ দেশের কোটি কোটি মুসলমানকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে যে, তারা মুসলমান হিসেবে বেঁচে থাকতে চায়, না নিরেট ইংরেজের বশংবদ প্রজা হিসেবে। ভারতের ৩৩ কোটি হিন্দুকেও অনুরূপ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মুসলমানদের তরফ থেকে ইংরেজ সরকারকে সতর্ক করে দিতে চাই, যদি সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তাহলে মুসলমানেরা নিজের ধর্ম রক্ষার খাতিরে জীবন উৎসর্গ করে দিতেও কিছুমাত্র ইতস্তত করবে না। আর এ জন্য আমিই সর্বাগ্রে জীবন উৎসর্গ করতে এগিয়ে আসব’’ (সূত্র : আজাদি আন্দোলনে আলেম সমাজের সংগ্রামী ভূমিকা, জুলফিকার আহ্মদ কিস্মতি, পৃ: ৪৬-৪৭)। বাংলাদেশের বর্তমান আওয়ামী সরকার বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তারা আলেমসমাজ ও তৌহিদি জনতার বিশ্বাস ভঙ্গ করে একের পর এক কুরআন-সুন্নাহবিরোধী পদক্ষেপ নিয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে দেশকে ধর্মহীন করার উদ্দেশ্যে বিতর্কিত নারীনীতি ও শিক্ষানীতি প্রণয়ন, সংবিধানের মূলনীতি থেকে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ বাক্যটি বাদ দেয়া, জঙ্গিবাদের ধুয়া তুলে আলেম-ওলামা গ্রেফতার, জেল-জুলুম ও হয়রানি, কওমি মাদরাসা বন্ধের প্রয়াস ইত্যাদি সবই ছিল তৌহিদি জনতার ঈমান-আকিদার জন্য চরম হুমকি। দীর্ঘ দিন ধরে অনলাইন মাধ্যমে গোপনে চলে আসা ইসলামবিরোধী কার্যক্রম রুখতে এবং নবী সা: ও ইসলাম অবমাননাকারীদের বিচারের দাবিতে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম রাজপথে গণ-আন্দোলনের সৃষ্টি করে। শাপলা চত্বরে শহীদদের রক্ত কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছিল না। তাই এই পবিত্র রক্তধারা বৃথা যাবে না ইনশাআল্লাহ। আমিরে হেফাজত আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছিলেন, ‘শাপলা চত্বরের গণহত্যার বিচারের ভার আল্লাহর ওপর দিয়ে দিলাম। নিশ্চয়ই তিনি মজলুমের সাথে আছেন। জালিমরা একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। শাপলা চত্বরে শহীদদের রক্তের পথ বেয়েই এ দেশে একদিন ইসলামের বিজয় ঘটবে, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি দলীয় নেতৃবৃন্দ ও তৌহিদি জনতাকে ধৈর্য ধারণ করতে বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, হেফাজতের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে জাস্টিস আল্লামা ত্বকী উসমানী, ড. ইউসুফ আল কারজাভি, ভারতের দেওবন্দের মুহাদ্দিস ও জমিয়ত সভাপতি আল্লামা সৈয়দ আরশাদ মাদানীসহ বিশ্ব ওলামা যৌথ বিবৃতি দিয়েছিলেন।

বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা ইদানীং অব্যাহতভাবে ইসলাম ও ইসলামি বিধিবিধানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করে যাচ্ছেন। ইসলামের ফরজ বিধান হজ নিয়ে কটূক্তি এবং রাসূল সা:-এর নামে চরম অবমাননামূলক মিথ্যাচার, ইসলামে নিষিদ্ধ ‘সুদ’ নিয়ে আপত্তিকর অপব্যাখ্যা, পর্দাবিদ্বেষী বক্তব্য, কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় কারসাজি ইত্যাদি বর্তমান সরকারের ইসলামবিদ্বেষী অবস্থানকে আরো জোরালো করে তুলেছে।
(লেখাটি ২০১৫ সালে লিখিত বিশেষ কলাম)

লেখক : সাংগঠনিক সম্পাদক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ


ব্রিটেনে আরও এক ভারতীয় চিকিৎসকের মৃত্যু হল করোনায়

প্রবচন ডেস্ক: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হেমাটোলজিস্ট কর্নেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় প্রাণ হারালেন দেশের দুই চিকিৎসক।

রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। 

বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ডা. মনিরুজ্জামান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আবাসিক চিকিৎসক ছিলেন।

পীরগাছায় ট্রেনের ইঞ্জিনের ...
প্রবচন ডেস্ক: গাইবান্ধার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যুর ৬ দিন পর খবর প্রকাশ করল সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

মৃত কিশোর জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে গত ২৫ এপ্রিল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। ওই তারিখেই তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ২৬ এপ্রিল সে মারা যায়। গত ২৭ এপ্রিল তার নমুনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ পর রবিবার আইইডিসিআর এর পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়। 

কিশোরে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম খান। এদিকে, রংপুর মেডিকেলে নমুনা পরীক্ষায় চিকিৎসক-নার্স, পুলিশসহ নতুন করে ১১ জন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। 
আক্রান্তরা হলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসক (৫৪), সদর উপজেলার এক চিকিৎসক (৪২), রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা (৫৪), রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র নার্স (৪০), বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মকর্তা (৫৮), নগরীর মেডিকেল পাকার মাথা এলাকার এক যুবক (২৫), শালবন মিস্ত্রিপাড়া এলাকার সাড়ে ৩ বছরের এক শিশু, দক্ষিণ বাবুখাঁ এলাকার এক পুরুষ (৪৭), সেনপাড়ার এক বৃদ্ধ (৬৫), বিনোদপুর হলদিটারী এলাকার এক পুরুষ (৫২) ও পীরগাছা উপজেলার এক যুবক (২৫)। 

রবিবার রংপুর মেডিকেল কলেজে নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ওই ১১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। 

রবিবার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. একেএম নুরুন্নবী লাইজু বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিকেল কলেজে দুই দফায় ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে নতুন করে ১১ জন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে।

তিনি জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজে করোনা শনাক্তে পিসিআর মেশিন স্থাপন করা হয় গত ২ এপ্রিল। এরপর থেকে আজ ৩ মে পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৭৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখানে এখন পর্যন্ত ১৫৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আইইডিসিআরে মাধ্যমে রংপুর বিভাগে আরও ছয় জনের করোনা শনাক্ত করা হয়। এছাড়া দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয় পাঁচ জনের। 

এ নিয়ে রংপুর বিভাগের আট জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬৭ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে রংপুরে ৬৪, গাইবান্ধায় ১৮, দিনাজপুরে ২২, নীলফামারীতে ১৪, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৮, কুড়িগ্রামে ২২, লালমনিরহাটে তিন এবং পঞ্চগড় জেলার ছয়জন রয়েছেন।

-বিডিপি


10m people with low income to get Rs12,000 stipend in lump sum ...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে চলমান লকডাউনে চাকরি হারানো বেকারদের নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তার জন্য একটি কর্মসূচি চালু করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ওই কর্মসূচির আওতায় দেশটির নিবন্ধনকৃত বেকারদের সর্বোচ্চ ১২ হাজার রুপি দেওয়া হবে।

শনিবার থেকে এই কর্মসূচির কার্যক্রম চালু করেছেন ইমরান খান।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, বেকারদের তালিকা নিবন্ধনের জন্য ওয়েব পোর্টাল চালু করেছে সরকার। সেখানে এ মাস নগদ কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ১২ হাজার রুপি পর্যন্ত নগদ সহায়তা করা হবে।
ইমরান খান বলেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর করোনা ত্রাণ তহবিলে অর্থ জমা দিয়েছেন তাদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করছি, এসব অর্থ স্বচ্ছ উপায়ে ব্যয় করা হবে। এসব অর্থ কোথায় ব্যয় করা হয়েছে আপনারা জানতে পারবেন। আমি নিজেই এটা পর্যবেক্ষণ করব এবং সম্পূর্ণ খরচের বিস্তারিত বিবরণ সরবরাহ করব।

তিনি বলেন, যারা শ্রমিক হিসেবে অথবা রেস্টুরেন্টের চাকরি হারিয়েছেন তাদের নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করছে সরকার। তবে তাদের আগের চাকরির সব তথ্য সরবরাহ করতে হবে।


বিটিভি মহাপরিচালক স্ত্রীসহ করোনায় ...

প্রবচন ডেস্ক: করোনার থাবা এবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে। বিটিভির মহাপরিচালক এসএম হারুন অর রশীদ নিজের স্ত্রী ও কন্যাসহ সপরিবারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল রবিবার এ তথ্য জানা গেছে।

হারুন অর রশীদের শরীরে করোনার সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় তার সংস্পর্শে আসা বিটিভির সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এ কারণে বিটিভির নির্ধারিত কিছু অনুষ্ঠান সম্প্রচার বাতিল করে পুরনো অনুষ্ঠান চালানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত শনিবার রাত পর্যন্ত বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির মোট ১৩ জন আক্রান্ত বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দুজন রিপোর্টার, একজন নিউজ এডিটর, ছয়জন ক্যামেরাম্যান ছাড়াও নিউজ প্রেজেন্টার ও মেকাপম্যানসহ আরো চারজন রয়েছেন। তবে অনেকের রিপোর্ট এখনো আসেনি।

দেশে করোনাভাইরাস হানা দেওয়ার পর রবিবার পর্যন্ত ৫৪ সংবাদকর্মী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজন সিনিয়র সাংবাদিক মারা গেছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ১১ জন।

গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান দৈনিক সময়ের আলোর প্রধান প্রতিবেদক হুমায়ুন কবির খোকন।


ইরানের দৃষ্টিনন্দন সাইয়্যেদ মসজিদ ...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সোমবার থেকে ইরানের কিছু অঞ্চলের মসজিদ খোলা হচ্ছে। যেসব অঞ্চলকে শঙ্কামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে সেখানকার মসজিদগুলোকে খোলার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানী।

টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাতকারে হাসান রুহানী জানান, ১৩২ টি জেলা; যেখানে করোনা ছড়ানোর শঙ্কা খুব কম সেখানে শুক্রবারে জুমার নামায মসজিদে আদায় করতে পারবে ধর্মপ্রাণ মানুষ। এদিকে চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ১ মাসের জন্য স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।



মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন: সর্বক্ষেত্রে দেওবন্দীধারার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওবন্দের মূলনীতি বিসর্জন না দেয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ। 
৩ মে রবিবার তানযীমুল মাদারিসের দফতর সম্পাদক আহসান হাবীব প্রেরিত এক বার্তায় এ আহ্বান জানানো হয়।
প্রেরিত বার্তায় বলা হয়, উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দ্বীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলাফগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান সরকার হুবহু ঐ মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং স্বীকৃতি সংক্রান্ত আইনের ২ (১) ধারায় কওমি মাদরাসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহীর শিক্ষা কেন্দ্রই হলো কওমি মাদরাসা। 

তাই ঐতিহাসিক সেই মূলনীতি এবং কওমী মাদরাসার সংজ্ঞাকে উপেক্ষা করে  যেকোনো সময়, যেকোনো পরিস্থিতিতে, যেকোনো সরকার থেকে আমরা কোনোভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না।

তানযীমভূক্ত মাদারিসের দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ আহ্বান, হকপন্থীদের সঙ্কটের ইতিহাস নতুন নয়। তাই সরকারি অনুদান গ্রহণ করে অনন্তকালের কুদরতি সাহায্যের রাস্তা বন্ধ করবেন না। আল্লাহ পাকের উপর দৃঢ় ভরসা রাখুন, করোনার মহামারি থেকে বিশ্ববাসী ও মুসলিম উম্মার মুক্তির জন্য দোয়া জারি রাখুন। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা আমাদের হেফাজত করবেন, ইনশাআল্লাহ।

প্রেরিত বার্তায় তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি আরশাদ রহমানী, সহ সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আলম, মাওলানা ইউনুস, মাওলানা আব্দুস সবুর, মাওলানা আব্দুল হক হক্কানী এবং তানযীমের বিভিন্ন জেলার সভাপতিদের নাম উল্লেখ করা হয়।



প্রবচন: করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি অফিসে সাধারণ ছুটির মেয়াদ সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। এ নিয়ে ছয় দফায় ছুটি বাড়ছে।

আজ শনিবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ছুটির প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তাঁরা অবশ্য ১৫ মে পর্যন্ত প্রস্তাব করেছেন। তবে পরদিন শনিবার এমনিতেই সাপ্তাহিক ছুটি। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে আগামীকাল রোববার বা পরদিন সোমবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

করোনাভাইরাসের কারণে প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছিল। এরপর ছুটি বাড়িয়ে তা ১১ এপ্রিল করা হয়। ছুটি তৃতীয় দফা বাড়িয়ে করা হয় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর চতুর্থ দফায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। সবর্শেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ৫ মে পযন্ত বাড়ানো হয়েছিল।
সূত্র- পিএ


আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর খবর সঠিক ...

প্রবচন ডেস্ক:  করোনাভাইরাসের মহামারি আজ বিশ্বজুড়ে। আমাদের দেশেও এর প্রকোপ দিনদিন বাড়ছে। প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। আর এসব ধৈর্যসহকারে সামলে নিচ্ছে চিকিৎসকগণ। জীবনের মায়া ত্যাগ করে দিনরাত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। তাই চিকিৎসকদের জন্য পর্যাপ্ত এন-৯৫ মাস্ক সহ প্রায়োজনীয় সব সুরক্ষা সামগ্রী নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান করছি।

আজ ২ মে শনিবার বিকাল ৪টায় মাওলানা আনাস মারফত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দারুল উলূম হাটহাজারীর পরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা আহমদ শফী এ আহ্বান জানান।

আল্লামা আহমদ শফী বলেন, চিকিৎসক ও রোগীর সেবকদের জন্য রয়েছে নববী সুসংবাদ। রাসূল সা. বলেছেন, "যে ব্যক্তি সকালবেলা কোনো অসুস্থ মুসলমানকে দেখতে যায়, সত্তর হাজার ফেরেশতা বিকাল পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকে। আর বিকেলে রোগী দেখতে গেলে সকাল পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা দোয়া করে...।" (তিরমিজি শরীফ: ৯৬৭)

আমীরে হেফাজত আরো বলেন, সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী প্রায় চারশ ডাক্তার চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এটা যেমন দেশের জন্য উদ্বেগজনক তেমনি এ দুর্যোগকালে তাদের ত্যাগ প্রশংসনীয়। পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী না থাকলেও অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তারা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের সেবা ও শ্রম এ জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

আল্লামা আহমদ শফী আরো বলেন, গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী দেশের অনেক জেলা ও উপজেলায় করোনা শনাক্ত করা ও চিকিৎসা সেবা দেয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়নি। অনেক হাসপাতালে যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় অনেক চিকিৎসক ঠিকমতো রোগী দেখতে পারছেন না। ফলে অন্যান্য রোগীদের নিয়মিত সেবা ব্যহত হচ্ছে। এটা উদ্বেগজনক। জেলা-উপজেলার সব হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হোক!


বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ঈদের পর

প্রবচন ডেস্ক:  বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ সরকারি অনুদান বিষয়ে আজ ২মে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মজলিসে খাসের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সহসভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সাহেব। সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ খবর জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সভায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত হয় যে, সরকারি অনুদান গ্রহণ, কওমী মাদরাসার দেড়শত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি আদর্শকে বিসর্জন দেয়া। তাই এধরনের অনুদান গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য সকল কওমী মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি আহবান জানানো হয়।

বেফাক নেত্রীবৃন্দ বলেন, উপমহাদেশব্যাপী বিস্তৃত কওমী মদরাসাসমূহ ভারতের বিখ্যাত দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ ও শিক্ষাক্রম অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়ে আসছে। দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাকালে অলঙ্ঘনীয় যে ‘উসূলে হাশতেগানা’ তথা আট মূলনীতি নির্ধারণ করে, তার অন্যতম একটি হলো ‘যে কোনো পরিস্থিতিতে সরকারী অনুদান গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। সুতরাং এই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে দেশের কোনো কওমি মাদ্রাসা সরকারী অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।

বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, এই উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দ্বীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলাফগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার হুবহু ঐ মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং স্বীকৃতি সংক্রান্ত আইনের ২(১) ধারায় কওমি মাদরাসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে “মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহীর শিক্ষা কেন্দ্রই হলো কওমী মাদরাসা। তাই ঐতিহাসিক সেই মূলনীতি এবং কওমী মাদরাসার সংজ্ঞাকে উপেক্ষা করে আমরা কোনোভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না।

বৈঠক থেকে বেফাকের সম্মানিত সভাপতি আল্লামা আহমদ শফি দা:বা: এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করেন। বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন : হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, হযরত মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, হযরত মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), হযরত মাওলানা ছফিউল্লাহ, হযরত মাওলানা মাহফুযুল হক, হযরত মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, হযরত মাওলানা মুফতি নূরুল আমিন, হযরত মাওলানা মনিরুজ্জামান।


Local Guides Connect - hathazari arbic univerchity - Local Guides ...

প্রবচন ডেস্ক: সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দেশের ৬ হাজার ৯৫৯টি কওমি মাদরাসাকে ৮ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার পর থেকেই কওমী আলেম-ওলামা এবং ছাত্রদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেয়া দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। 

এদিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় ২৪ টি মাদরাসার জন্য অনুদান বরাদ্দের খবর প্রকাশ পায় এবং সেই ২৪ মাদরাসার তালিকায় হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল মাদরাসার নামও উঠে আসে। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সরকারী অনুদান গ্রহণ করবে না বলে তা প্রত্যাখ্যান করে।

এর একদিন পর আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কওমী মাদরাসা দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসা থেকেও অফিসিয়াল বিবৃতির মাধ্যমে সরকারী অনুদান গ্রহণে অস্বীকৃতির কথা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়- কওমী মাদরাসার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা সর্বজনবিদিত। কওমী মাদরাসা হলো, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং দারুল উলূম দেওবন্দের আদর্শ, মূলনীতি ও মতপথের অনুসরণে মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহীর শিক্ষাকেন্দ্র।

কওমী মাদরাসা ঈমান, তাকওয়া ও তাওয়াক্কাল আলাল্লাহ এর উপর প্রতিষ্ঠিত এবং আকাবিরে দেওবন্দের চিন্তা-চেতনার অনুসরণ ও তালীম তরবিয়াতসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে দারুল উলূম দেওবন্দের মূলনীতি, আদর্শ ও কর্মপদ্ধতির অনুসরণকারী দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

তাই জামেয়া দারুল উলূম হাটহাজারী ও তার (মুলহাকাহ) অনুসারী মাদরাসাসমূহ সরকার কর্তৃক ঘোষিত কোন অনুদান গ্রহণ করবে না। তাই কোন কওমী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যেন এই অনুদানের বিষয়ে সংশয় ও সন্দিহানের মধ্যে না থাকে। (এরপরও যদি কেউ গ্রহণ করে থাকেন এটা একান্তই তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।)

তাছাড়া কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত গেজেটের ২ এর ১ নং ধারা এবং ২ এর (ঙ) এর ধারা অনুযায়ী কোন কওমী মাদরাসা সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।

বিবৃতির শেষে এটাও উল্লেখ করা হয় যে, এটা জামেয়া দারুল উলূম হাটহাজারীর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে সম্মিলিত কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া (বেফাক) কর্তৃপক্ষ অন্যান্য মাদরাসার জন্য আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে।

উল্লেখ্য, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, অনুদান বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১ হাজার ৭৮০টি, চট্টগ্রাম বিভাগের ১ হাজার ৪৮১টি,  রংপুর বিভাগের ৭০৩টি, রাজশাহী বিভাগের ৭০৪টি, খুলনা বিভাগের ১ হাজার ১১টি, বরিশাল বিভাগের ৪০২টি, ময়মনসিংহ বিভাগের ৩৯৭টি এবং সিলেট বিভাগের ৪৮১টি মাদরাসা রয়েছে।


এমপি নদভীর গাড়িতে ঢিল!‌ :: BanglaNews24.com mobile

প্রবচন ডেস্ক: চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগড়া-সাতকানিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী তার এলাকার জন্য বরাদ্দ ত্রাণের ২৫ শতাংশ চেয়েছেন। এজন্য তিনি একটি চিঠি (ডিও) পাঠিয়েছেন সাতকানিয়া ও লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি চিঠিতে নির্দেশ দিয়েছেন, তার জন্য ২৫ শতাংশ পাঠানোর পর ১৫ শতাংশ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের কাছে পাঠাতে। বাকি ৬০ শতাংশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে। সংসদ সদস্যের এমন নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন দুই ইউএনও।

নিয়মানুযায়ী ত্রাণ বিতরণ করবেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা, পৌর এলাকার ক্ষেত্রে মেয়র। তাই সংসদ সদস্যের এমন চিঠিকে এখতিয়ারবহির্ভুত বলছেন জেলা প্রশাসক মুহা. ইলিয়াস হোসেন।

তিনি বলেন, নীতিমালায় রয়েছে ত্রাণ বিতরণ করবেন চেয়ারম্যানরা। সাংসদ কেন সেখান থেকে ২৫ শতাংশ চান, সেটা আল্লাহই ভালো জানেন।

এ নিয়ে সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী বলেন, সারা দেশে অনেক চেয়ারম্যান-মেম্বারদের ঘরে ত্রাণের পণ্য পাওয়া গেছে। এই চুরি ঠেকিয়ে বিষয়টিকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য ত্রাণ ভাগ করে দিয়েছি। সেখানে আমার জন্য চেয়েছি ২৫ শতাংশ। তাছাড়া আমি স্থানীয় ত্রাণ সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা, তাই এমন নির্দেশনার মধ্যে দোষের কিছু দেখি না।


প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ...


প্রবচন ডেস্ক: করোনা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দেশের ৬ হাজার ৯৫৯টি কওমি মাদরাসাকে ৮ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের খবর পাওয়া গেছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একটি সূত্র আজ বৃহস্পতিবার জানায়, এ অর্থ ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১ হাজার ৭৮০টি, চট্টগ্রাম বিভাগের ১ হাজার ৪৮১টি  রংপুর বিভাগের ৭০৩টি, রাজশাহী বিভাগের ৭০৪টি, খুলনা বিভাগের ১ হাজার ১১টি, বরিশাল বিভাগের ৪০২টি, ময়মনসিংহ বিভাগের ৩৯৭টি, সিলেট বিভাগের ৪৮১টি মাদরাসা রয়েছে। 
-বাসস। -আইটি


কওমী মাদরাসা কোনো সরকারি অনুদান নেবে না : ৭১ আলেমের বিবৃতি


| প্রবচন ডেস্ক: সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘এই প্রথম সরকারি অনুদান চাইছে কওমী মাদরাসা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের বিপরীতে সরকারী অনুদান নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ৭১ জন হক্কানি আলেম। তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, উপমহাদেশব্যাপী বিস্তৃত কওমী মাদরাসাসমূহ ভারতের বিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ ও শিক্ষাক্রম অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়ে আসছে।

২৯ এপ্রিল বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে উলামায়ে কেরাম বলেন, দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাকালে অলঙ্ঘনীয় যে ‘উসুলে হাশতেগানা’ তথা আট মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘যে কোনো পরিস্থিতিতে সরকারী অনুদান গ্রহণ করা যাবে না”। সুতরাং এই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে দেশের কোন কওমি মাদরাসা সরকারী অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।

যারা কওমী মাদরাসার নীতি-আদর্শ ও পরিচিতি বহন করে সরকারী অনুদান চেয়েছে, আমরা দারুল উলুম দেওবন্দের দীনী খেদমতের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নীতি-আদর্শ রক্ষার্থে তাদের প্রস্তাব জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করছি এবং এ বিষয়ে তাদের সাথে আমরা একমত নই।

বিবৃতিতে তাঁরা আরো বলেন, এই উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলাফগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার হুবহু ওই মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে।

তাঁরা বলেন, মৌলিকভাবে কওমী মাদরাসাসমূহের মূল শক্তিই হলো আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ও ভরসা। তাই ঐতিহাসিক সেই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে আমরা কোনভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না।

কওমী উলামা-মাশায়েখগণ আরো বলেন, যুগ যুগ ধরে আল্লাহ তা’আলা দীনদার শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাহায্য সহোযোগিতার মাধ্যমে এই দীনী প্রতিষ্ঠানসমূহ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করে আসছেন। আগামী দিনগুলোতেও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর কুদরতি সাহায্যের মাধ্যমে এই কাওমী প্রতিষ্ঠানগুলো হেফাজত করবেন, ইনশাআল্লাহ।

কওমী মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ আহ্বান, ক্ষণিকের সঙ্কট উত্তরণে সামান্য সরকারি অনুদান গ্রহণ করে অনন্তকালের কুদরতি সাহায্যের রাস্তা বন্ধ করবেন না। আল্লাহ পাকের উপর দৃঢ় ভরসা রাখুন, দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য দোয়া জারি রাখুন। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা আমাদের হেফাজত করবেন, ইনশাআল্লাহ।
 
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা শায়েখ জিয়া উদ্দিন, আল্লামা মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, আল্লামা নুরুল ইসলাম (আদীব হুজুর), আল্লামা মুফতী আব্দুস সালাম চাটগামী, আল্লামা হাফেজ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, আল্লামা আব্দুল হামীদ (পীর সাহেব মধুপুর), আল্লামা মুনিরুজ্জামান সিরাজী, আল্লামা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, আল্লামা আরশাদ রহমানী (বসুন্ধরা), আল্লামা নুরুল হক (বট্টগ্রাম হুজুর), অধ্যক্ষ মিযানুর রহমান চৌধুরী (শায়েখে দেওনা), আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা মাহমুদুল আলম (সিরাজগঞ্জ), মাওলানা আব্দুল হক হক্কানী (জামিল মাদরাসা), মুফতী মোবারকুল্লাহ (বি-বাড়ীয়া), মাওলানা আব্দুর রব ইউসূফী, মাওলানা মাহফুজুল হক (রাহমানিয়া), মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া (আরজাবাদ), মুফতী শফিকুল ইসলাম (সাইনবোর্ড), মাওলানা নুরুল ইসলাম (খিলগাঁও), মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, হাফেয মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী (বারিধারা), মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী (হাটহাজারী), মাওলানা খুরশেদ আলম কাসেমী (খতীব, আল্লা করীম), মাওলানা আব্দুল আউয়াল (নারায়ণগঞ্জ), মুফতি মুনির হোসাইন হোসাইন কাসেমী, মুফতি বশির উল্লাহ, মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, মাওলানা আব্দুল বছির (সুনামগঞ্জ), মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা জামিল আহমদ আনসারী (মৌলভীবাজার), মাওলানা বশির উদ্দিন (নরসিংদী), মাওলানা আব্দুর রহিম, মুফতি রফিকুল ইসলাম, মাওলানা বশির আহমদ (সৈয়দপুর, মুন্সিগঞ্জ), মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী (ময়মনসিংহ), মাওলানা মাহবুব উল্লাহ, মাওলানা নুরুল আবসার মাসুম, মাওলানা আবুল কাশেম (জামালপুর), মুফতি মুহিউদ্দীন মাসুম (লক্ষীপুর), মুফতি শামসুদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ খান, মুফতি আবু তাহের (নেত্রকোনা), মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ জামী (কিশোরগঞ্জ), মাওলানা সানাউল্লাহ মাহমূদী (বরিশাল-মাহমূদিয়া), মাওলানা আতাউর রহমান কাসেমী, মাওলানা লোকমান মাযহারী (কুমিল্লা), মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী, মাওলানা শাহজালাল, মাওলানা আব্দুল আজিজ (টাঙ্গাইল), মাওলানা ইয়াসিন, মাওলানা হেলাল উদ্দিন (ফরিদপুর), মুফতি কামরুজ্জামান, মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, হাফেজ মাওলানা দেলোয়ার, মাওলানা সাখাওয়াত হোছাইন (খুলনা), মুফতি শহিদুল ইসলাম, মুফতি নজরুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জ), মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা নূর মোহাম্মদ (মিরপুর), মাওলানা আলী আকবর (সাভার), মাওলানা আব্দুল খালেক শরিয়তপুরী, মাওলানা সুলাইমান নোমানী, মাওলানা আজিমুদ্দিন ও মুফতি মুজিবুর রহমান প্রমুখ।
-পিভি

প্রবচন ডেস্ক: আজ ২৯ এপ্রিল বুধবার বাসা-বাড়িতে টিভি চ্যানেলে সম্প্রচারিত তারাবীর নামার অনুসরণ করে ইক্তেদা না করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটি প্রেস রিলিজ প্রকাশ করা হয়। 

ফাউন্ডেশনের অতিরিক্ত সচিব আনিস মাহমুদ সাক্ষরিত ওই প্রেস রিলিজে বলা হয়, সম্প্রতি কোন কোন টিভি চ্যানেলে তারাবীর নামায সম্প্রচারের মাধ্যমে ইমাম সাহেবকে অনুসরণ করে নিজ নিজ বাসা-বাড়িতে তারাবীর নামায আদায় করার বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে মর্মে জানা যায়। ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, জামাতে নামায আদায়ের ক্ষেত্রে কাতারের সংলগ্নতা (ইত্তেসাল) জামাত ও ইক্তেদা সহীহ হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত এবং এটি মানা না হলে নামায সহীহ হবে না। তাই টিভি চ্যানেলে সম্প্রচারিত তারাবীর নামাযের ইমাম সাহেবের তিলাওয়াত শুনে ও রুকু-সিজদার অনুসরণে নিজ নিজ বাসা-বাড়িতে ইক্তেদা করে তারাবীহ নামাজ আদায় করা হলে তা কোনভাবেই শরীয়তসম্মত হবে না মর্মে বিশিষ্ট মুফতি ও আলেমগণ মতামত প্রদান করেছেন।

বিষয়টি অনুধাবন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি পরিহারকল্পে টিভি চ্যানেলে তারাবী নামাযসহ অন্যান্য নামায সম্প্রচার হতে বিরত থাকার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশেষভাবে অনুরােধ করা হলাে।

-কেএইচ




বিষয়: তারাবীর নামায নিয়ে একটি বিতর্ক ও তার অবসান

আলোচক:
মুফতি জসিম উদ্দীন (হাফি.),
সিনিয়র মুহাদ্দিস, দারুল উলুম হাটহাজারী


জামায়াতের সংস্কারপন্থীদের নতুন দল ...প্রবচন ডেস্ক: মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাসহ দলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বেরিয়ে আসা অংশটি নতুন দল নিয়ে রাজনীতিতে আসছে। ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি (এ বি পার্টি)’ নামে দলের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী শনিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নাম ঘোষণা করা হবে।


জানা গেছে, গত বছরের এপ্রিলে জামায়াত থেকে বেরিয়ে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের যে অংশটি ‘জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ নামের নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গঠন করেছিল, তাদের উদ্যোগেই নতুন এ দল হচ্ছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত আছে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের উপেক্ষিত নেতাকর্মীদের একটি অংশ। তবে নতুন দলটির মুখ্য নেতৃত্বে কে থাকছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও জামায়াত থেকে পদত্যাগী নেতা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের নাম আলোচনায় রয়েছে।

জনআকাঙ্ক্ষার প্রধান সমন্বয়ক মজিবুর রহমান মন্জু নতুন দল ঘোষণার কথা স্বীকার করে যুগান্তরকে বলেন, ২ মে শনিবার সকাল ১১টায় বিজয় নগরের কেন্দ্রীয় দফতরে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হবে দলের নাম, কর্মসূচি ও আহ্বায়ক কমিটি। নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটি ১৩০ সদস্যের হতে পারে। এই কমিটি দলের গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব জেলা কমিটি গঠন করবে। পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের নতুন নেতৃত্ব আসবে।

জামায়াতে ইসলামীর সংস্কার ও মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়ার প্রশ্নে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আবদুর রাজ্জাক দল থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি জামায়াতের জ্যেষ্ঠ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। তখন রাজ্জাক নতুন দল না করা এবং সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকার কথা বলেছিলেন। যদিও তার শুভাকাক্সক্ষী ও সমর্থকদের অনুরোধে তিনি মত পাল্টেছেন বলে জানা গেছে। পদত্যাগের সময় রাজ্জাকের অবস্থানকে সমর্থন করে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান। পরে তাকে সমন্বয়ক করে ‘জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ গঠন করা হয়। সংগঠকেরা বলছেন, নতুন দলের নাম ঘোষণার পর জনআকাঙ্ক্ষা নামটি থাকবে না।

এদিকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আবদুর রাজ্জাকের পদত্যাগ এবং মুজিবুর রহমানকে বহিষ্কারের প্রেক্ষাপটে জামায়াত ঘোষণা দিয়েছিল নতুন নামে দল করার। এ লক্ষ্যে জামায়াতের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে বলে তখন এক সাংগঠনিক নির্দেশনায় নেতাকর্মীদের জানিয়েছিল জামায়াত। কিন্তু এক বছর পার হলেও নতুন দল হয়নি। এর মধ্যে গত বছর শফিকুর রহমান লন্ডন সফর করেন, সেখানে দলীয় সংহতি রক্ষায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি আবদুর রাজ্জাক যাতে নতুন উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হন, সেজন্য তাকে অনুরোধ করেন। শফিকুর রহমান এখন জামায়াতে ইসলামীর আমীর।

জনআকাঙ্ক্ষার দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, জামায়াতের তৎকালীন সেক্রেটারির সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। আবদুর রাজ্জাক যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ যেসব দেশে জামায়াতের ভালো সংগঠন আছে, তাদের সংগঠিত করতে ‘জনআকাঙ্ক্ষা’কে সহায়তা করেছেন। এরই মধ্যে নতুন দল ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’র জন্য লন্ডনে জামায়াত ঘরানার তিনজনকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে নতুন দলের উদ্যোক্তারা দেশের ৪৫ জেলা সফর করেছেন। ১৫০টি সভা সেমিনার করেছেন। জনআকাঙ্ক্ষার দায়িত্বশীল একাধিক নেতা দাবি করেন, জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীলদের অনেকে ভেতরে-ভেতরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন, যারা জামায়াতে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। তাদের অনেককে নতুন দলে দেখা যাবে।

সূত্র জানায়, সোমবার নতুন দলের নাম ঘোষণা উপলক্ষে ‘জনআকাঙ্ক্ষা’র সেগুনবাগিচার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন নেতারা। এ বৈঠকেই শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে দলের নাম ঘোষণার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। সাবেক সচিব এএফএম সোলাইমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জনআকাঙ্ক্ষার প্রধান সমন্বয়ক মজিবুর রহমান মন্জু, কেন্দ্রীয় সংগঠক অধ্যাপক ডা. মেজর (অব.) ওহাব মিনার, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার যুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, যুবনেতা সাজ্জাদ হোসাইন, খালিদ হাসান, আনোয়ার সাদাত টুটুল, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, এসএম আবদুর রহমান, ডিএইচ মারুফ, ওবায়দুল্লাহ মামুন, অ্যাডভোকেট সাঈদ নোমান, আমজাদ হুসেইন, আবদুল্লাহ আল হাসান প্রমুখ।

বরিশালে খাদ্য গুদামের চাল পাচারকালে ...
প্রবচন: চাঁদপুরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পুরাণবাজারে নদীর ঘাট থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ২ হাজার ১শ’ বস্তা চাল নিয়ে একটি কার্গো উধাও হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ভোরে চাঁদপুর নদী বন্দরের ভূঁইয়ার ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত মফিজ হাজীসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী এ তথ্য জানিয়েছেন।

চাল ব্যাবসায়ীরা জানান, ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে পাবনা নগরবাড়ি ঘাট থেকে পুরান বাজারের ৫ থেকে ৭ জন চাল ব্যবসায়ী চাহিদা অনুযায়ী কয়েক হাজার বস্তা চাল আমদানি করে। একটি কার্গোতে সেই চাল পুরাণবাজার ঘাটে আনা হয়। সোমবার কিছু চাল নামানো হয়েছে। তারপর ব্যবসায়ীদের না জানিয়ে কার্গোটি রাতের অন্ধকারে ঘাট থেকে উধাও হয়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে ঘাটে চালভর্তি কার্গোটি দেখতে না পেয়ে গদিঘর লেবার ও ব্যবসায়ীরা উধাও হয়ে যাওয়া কার্গোটি খুঁজতে থাকে।

কার্গোতে পুরাণাবাজারের ব্যবসায়ী পরেশ মালাকার, মফিজ হাজী, রাজলক্ষ্মী ভান্ডারের শম্ভু সাহা, আনিছ বেপারী, মক্কা ট্রেডার্সসহ আরো কয়েকজন ব্যবসায়ীর ২ হাজার ১০০ বস্তা চাল ছিল।

এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছিম উদ্দিন বলেন, চালসহ কার্গো উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা শুনেছি। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তারা লিখিত অভিযোগ দেবেন। আমরাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

|ইশতিয়াক সিদ্দিকী: ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর নামে একটি ভুয়া বিবৃতি (বার্তা/বক্তব্য) ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে হেফাজত মহাসচিবের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনটি পয়েন্টে বলা হয়, তিনি বলেছেন-

১. ১৫০ বছর ধরে যেই আল্লাহ কওমী আলেমদের রিযিকের ব্যবস্থা করে আসছেন, সেই আল্লাহ তো মরে যাননি, তিনি চিরঞ্জীব। তিনিই কওমী আলেমদের রিযিকের ব্যবস্থা করবেন।
২. কওমী সনদের স্বীকৃতি এই শর্তের উপর দেওয়া হয়েছে যে, সরকারের কোনো দান-অনুদান গ্রহণ করা হবে না। কওমী স্বীকৃতির প্রজ্ঞাপনে এই শর্ত স্পষ্ট উল্লেখ আছে। এখন কেউ কওমী মাদরাসার নামে সরকারী অনুদান গ্রহণ করলে কওমী স্বীকৃতির স্বকীয়তা রইল কোথায়?
৩. ঈদের পর পরই সমস্ত কওমী মাদরাসা ও মসজিদ খুলে দিতে হবে। বাধা দিলে কঠিন আন্দোলন করা হবে। বাজার খোলা, গার্মেন্টস খোলা, ব্যাংক খোলা। সবকিছু খোলা থাকার পরও মাদরাসা-মসজিদ বন্ধ থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বিবৃতির শেষে বলা হয়, ‘‘দেশের সমস্ত ওলামায়ে কেরাম ও তাওহিদি জনতার কাছে আমার এই স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেন’’।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী ইনআমুল হাসান ফারুকী জানান, বিবৃতিটি ভুয়া, ভিত্তিহীন। এ জাতীয় কোন বিবৃতি হযরতের এখান থেকে দেয়া হয়নি।

ফেসবুকে ভুয়া বার্তা


ভারতেও করোনা ভাইরাস আতঙ্ক, আক্রান্ত ১১

|প্রবচন: দিন দিন জটিল হচ্ছে ভারতে করোনা পরিস্থিতি। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। বর্তমানে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে করোনা সংক্রমণে উৎপত্তিস্থল চীনের পরেই অবস্থান ভারতের।

মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। যা এশিয়ায় তৃতীয় অবস্থান। মৃত্যু হয়েছে প্রায় এক হাজার। আক্রান্তের সংখ্যায় এশিয়ায় শীর্ষে আছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৯১ হাজার ৪৭২ জন, মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৮০৬ জনের। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে উৎপত্তিস্থল চীন। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ৮৩৬ জন, মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৩ জনের।

আক্রান্ত বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, লকডাউনের শেষ পর্যায়ে এসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে লকডাউন তোলা কঠিন হয়ে পড়বে।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ২৯ হাজার ৪৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যা আগের দিনের তুলনায় ১৫শ’ ৪৩ জন বেড়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬ হাজার ৮৬৯ জন। আর মারা গেছে ৯৩৪ জন।

এদিকে সীমিত আকারে খামার ও শিল্পকারখানা চালু করার অনুমতি দিয়েছে ভারতের মোদির সরকার। একই সঙ্গে যে সব গ্রামীণ অঞ্চলে করোনা প্রাদুর্ভাব কম সেখানেও লকডাউন শিথিল করতে বলা হয়েছে।

সূত্র- ওয়ার্ল্ডওমিটার।

190245
|প্রবচন ডেস্ক: গাজীপুর মহানগরীতে মসজিদগুলো মুসল্লিদের জন্য খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বোর্ড বাজার আঞ্চলিক অফিস থেকে এক ভিডিও বার্তায় এ ঘোষণা দেন মেয়র।

ভিডিও বার্তায় মেয়র বলেন, যেহেতু গাজীপুরের গার্মেন্টসগুলো খুলে দেয়া হয়েছে তাই এ রমজান মাসে এখন আর মসজিদের অল্পসংখ্যক মুসল্লিদের জন্য সীমাবদ্ধ রাখার কোন প্রয়োজন নেই। শুক্রবারের জুমার নামাজ ও রমজানের তারাবির নামাজে মুসল্লিগণ অংশ নিতে পারবেন। এতে সিটি করপোরেশনের কোন বাধা থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, এখন যেহেতু রমজান মাস, আমরা সবাই রোজা রাখি সে হিসেবে আগামী শুক্রবার থেকে যে সব ওয়ার্ডে করোনা ভাইরাসের কোন পজিটিভ পাওয়া যায়নি সেসব এলাকার মসজিদে যদি মুসল্লিরা নামাজ পড়তে চায় তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে কোন সমস্যা হবে না। তবে ওই সব এলাকায় যেন বাইরে থেকে কোন লোক করোনার উপসর্গ নিয়ে আসতে না পারে সে দিকে সকলকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের নগরে আমরা সবাই নিরাপদে থাকব। আমাদের পরিবার ও সন্তানদের নিরাপদে রাখব।

‘গাজীপুরের গার্মেন্টস ও আশপাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যেহেতু খোলা হয়েছে সেহেতু এ এলাকার মানুষকে আর বন্দী রাখা ঠিক হবে না। ওয়ার্ড ভিত্তিক ধান কাটাসহ অন্যান্য কৃষি কাজ যেগুলো আছে তা যেন তারা করতে পারে।’

এ ব্যাপারে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস.এম তরিকুল ইসলাম জানান, মসজিদ খুলে দেয়ার ব্যাপারে সরকারিভাবে কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তবে নগর পিতা হিসেবে মেয়র সাহেব তার নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেছেন।
-ওআই 

| মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী 
বর্তমানে আমাদের দেশে তিন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে। এক. শুধু জাগতিক শিক্ষা। দুই.  ধর্মীয় ও জাগতিক উভয়ের সমন্বিত শিক্ষা। তিন. শুধু ধর্মীয় শিক্ষা।  শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড বলে আমাদের সমাজে যে বচন চালু আছে তার বাস্তব চিত্রগুলো ফুটে ওঠে জাগতিক শিক্ষার কেন্দ্রগুলোতে। যদি আরো একটু ব্যাখ্যা করি তা হলো; শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড আর একটি রাষ্ট্রের  মেরুদণ্ড হচ্ছে অর্থ।  শিক্ষা ছাড়া জাতি যেমন মেরুদণ্ডহীন, তেমনি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল রাষ্ট্রও মেরুদণ্ডহীন। একটি জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাইলে যেমন শিক্ষার প্রয়োজন, ঠিক তেমনি একটি রাষ্ট্রকে অন্য রাষ্ট্রের উপর প্রভাব বিস্তার করতে হলে অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হওয়াটাও অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।  মোটকথা জাতি ও রাষ্ট্র,  শিক্ষা এবং অর্থ একটি অপরটির সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। একটি অন্যটি ছাড়া অচল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলেও ধ্রুব সত্য যে, বর্তমানে আমাদের দেশে শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক যে ধ্বস শুরু হয়েছে,  এর সাথে জড়িত সিংহভাগ জাগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত। যারা শিক্ষিত হয়ে জাতির মেরুদণ্ড হবার পরিচয় দিচ্ছে তাঁরাই আবার রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড ভাঙ্গার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে। দেশের কোটি কোটি টাকা রাতের আঁধারে লুটপাট করছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের  পরিসংখ্যানগুলো দেখলে বিষয়টা আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, খুন-গুম, ধর্ষণ  চুরি-ডাকাতি, দুর্নীতি-চাদাবাজী, টেন্ডারবাজী ও কালোবাজারিসহ সকল অপরাধের মূলে অধিকাংশ  জাগতিক শিক্ষায় শিক্ষিতরা। এমনকি বহির্বিশ্বে স্বাধীন এই দেশটির সুনামও চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে তারাই! 

আর এর পুরো বিপরীতে রয়েছে কওমী মাদরাসা। সৎ, দক্ষ, আল্লাহভীরু ও সত্যিকারের দেশপ্রেমিক গড়ে তোলার এক অনন্য প্রতিষ্ঠান এই কওমী মাদরাসা। পদ্ধতিগতভাবে  ভারতের ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম দেওবন্দ কওমী মাদরাসার মূল মারকায বা কেন্দ্র হলেও শুরুটা হয়েছিল ১৪শ বছর আগে মসজিদে নববীর আঙিনায় মাদরাসা সুফ্ফা নামে। হযরত সাহাবায়ে কেরাম রা. ছিলেন সেই মাদরাসার ছাত্র আর আল্লাহর রাসুল সা. ছিলেন শিক্ষক। 

মাদরাসা সুফ্ফার নমুনায় সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বলিষ্ঠ চেতনায় উজ্জীবিত ও দীনি চেতনায় উদ্দীপ্ত একদল আত্মত্যাগী সৎ-দক্ষ, কর্মঠ, খোদাভীরু দেশপ্রেমিক গড়ে তোলার মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইশারায় হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা কাসেম নানুতুবী রহ. এর নেতৃত্বে যুগশ্রেষ্ঠ বুজুর্গানে দীনের হাতে ১৮৬৬ খৃষ্টাব্দের ৩০ মে ভারতের উত্তর প্রদেশস্থ সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক গ্রামে, ঐতিহাসিক সাত্তা মসজিদ প্রাঙ্গণে একটি   ডালিম গাছের নীচে, বর্তমান কওমী মাদরাসাগুলোর মূল কেন্দ্র বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়!

কওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই ঈমান আকিদা, ইসলামি তাহযিব-তামাদ্দুন, ইসলামের হেফাজত, প্রচার-প্রসার ও দেশের স্বাধীনতা  সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ অতীব জরুরি বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।  বিশেষ করে উপমহাদেশের রাজনৈতিক তৎপরতা,  উপনিবেশিক শক্তি ও পরাধীনতার জিঞ্জির ভাঙার লক্ষ্যে আযাদী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক চিন্তা, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সঠিক  শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবেশ তৈরিসহ সর্বমহলে কওমী মাদরাসা ও  উলামাদের অবদান অপরিসীম। 

ভাষা আন্দোলনে কওমী উলামায়ে কেরামদের অবদান
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের মধ্যে  অন্যতম হলেন কওমী মাদরাসার সূর্যসন্তান  মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ। দারুল উলুম  দেওবন্দের কৃতীসন্তান মাওলানা তর্কবাগীশ ছিলেন ভাষা আন্দোলনের অগ্রনায়ক।  ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার নিরীহ ছাত্রদের উপর যখন পাকিস্তানের হানাদারবাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায় তখন সর্বপ্রথম পার্লামেন্টের অধিবেশন ত্যাগ করে রাস্তায় নেমে আসেন মাওলানা তর্কবাগীশ এবং মাওলানা তর্কবাগীশই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সর্বপ্রথম  পাকিস্তানের গণপরিষদে বাংলায় বক্তৃতা করেন এবং বাংলাকে গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য করেন। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় তাঁর ত্যাগ অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে অনন্তকাল। (সূত্র: আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে)

স্বাধীনতাযুদ্ধে কওমী মাদরাসা ও উলামায়ে কেরামের অবদান
১৯৭১ সাল। পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন এদেশের মুক্তিকামী সর্বশ্রেণীর মানুষ। যাদের অবদান অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই। দেশের মুক্তিকামী সৈনিকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ রক্ষায় দ্বিধাহীনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এবং পিছিয়ে ছিলেন না এদেশের আলেম-ওলামা। নিজে যুদ্ধ করার পাশাপাশি উৎসাহিত করেছেন লাখো মানুষকেও। যাঁদের মাঝে উল্লেখ্যযোগ্য- মাওলানা আব্দুল হামীদ খান ভাসানী, মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ, মাওলানা আহমাদুল্লাহ আশরাফ, মাওলানা উবায়দুল্লা­হ বিন সাঈদ জালালবাদী, মাওলানা ওলীউর রহমান, মুহাদ্দিস আব্দুস সোবাহান, পটিয়ার শহীদ আল্লামা দানেশসহ অসংখ্য ওলামায়ে কেরাম। শুধু কি আলেমসমাজ? মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মাদরাসাসমূহ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের একেকটি ক্যাম্প। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শহীদ  মেজর জিয়াউর রহমান পটিয়া মাদরাসায় অবস্থান নিয়েই চালু করেছিলেন কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র। আজও সেই অস্থায়ী বেতার কেন্দ্র ‘পটিয়া মাদরাসার মেহমানখানা’ ইতিহাসের বিরল সাক্ষী হয়ে আছে।

যশোর রেলস্টেশন মাদরাসা প্রাঙ্গণে ২১ শহীদের গণকবরও এটাই সাক্ষী দেয় মুক্তিযোদ্ধারা মাদরাসায় অবস্থান করতেন। বরিশালের চরমোনাই মাদরাসা ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রাগার। ছিল তাদের আশ্রয় কেন্দ্র। এমন অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে যা এখানে বলে শেষ করা সম্ভব নয়।
অথচ, দুঃখের সাথে বলতে হয় আজ স্বাধীনতার ইতিহাস রচনা হয়েছে সেই মহান ব্যক্তিবর্গকে বাদ দিয়ে। সুকৌশলে বাদ দেয়া হয়েছে হযরত ওলায়ে কেরামকে। রাজাকার, আল বদর আর দেশদ্রোহীদের কাতারে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে তাদেরকে। আক্রমণ করা হচ্ছে বিভিন্নভাবে। আঁকা হয়েছে/হচ্ছে বিভিন্ন কালিগ্রাফি। নির্মাণ করা হয়েছে, এখনো হচ্ছে অসংখ্য মুভি, নাটক ও কমেডি ভিডিও! ওলামায়ে কেরামকে উপস্থান করা হচ্ছে ব্যঙ্গাত্মকভাবে। যার মূলে রয়েছে স্বাধীনতা ও দেশবিরোধী শক্তি গভীর ষড়যন্ত্র। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে আজও মেনে নিতে পারছে না।

আমাদের মনে রাখতে হবে, আলেম-ওলামা কখনো দেশবিরোধী ছিলেন না। এদেশ স্বাধীনের পেছনে যেমন আলেম-ওলামার প্রয়োজন হয়েছে, ঠিক দেশকে এগিয়ে নিতে হলেও আলেম-ওলামার প্রয়োজন আছে। আলেম-ওলামাকে এড়িয়ে দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। 

শিক্ষাব্যবস্থায় কওমী মাদরাসার অবদান
যে যাই বলুন না কেন, আমাদের মতে বর্তমান সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষা ও সুন্দরভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে কওমী মাদরাসার অবদান অপরিসীম। দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, হল দখল, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মিনি ক্যান্টনমেন্ট বা পতিতলায় তৈরি করাসহ শিক্ষার পরিবেশকে বিনষ্ট বা প্রশ্নবিদ্ধ করার যে প্রয়াস জাগতিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে চোখে পড়ে তা কওমী মাদরাসাগুলোতে কখনো কল্পনাও করা যায় না! মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, সম্প্রীতি, সহানুভূতি, একে অপরের প্রতি কল্যাণকামীতা ও সর্বোপরি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টাই একমাত্র কওমী শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য।  
একশ্রেণির জ্ঞানপাপী বুদ্ধিজীবী রয়েছেন, যারা সময়ে-অসময়ে কওমী শিক্ষাব্যবস্থা ও কওমী ওলামাদের দিকে আঙ্গুল তুলে কওমী মাদরাসাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার হীন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন-খারাবি, মাস্তানি, ধর্ষণ, গুম-হত্যা, দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ, হরতালের নামে ভাঙচুর ও উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয় তখন তাদের কলম বা মুখ কোনটাই চলে না। তারা তখন বধির ও বোবা হয়ে যায়। অথচ, কওমী ওলামাগণ যাঁরা সবসময় কুরআন-হাদিসের জ্ঞান চর্চায় লিপ্ত, প্রয়োজন ছাড়া কখনো বাইরেও যারা বের হন না, তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীর তকমা। তাদের কেন এই অপতৎপরতা, এগুলো উদ্দেশ্য কী ভাবতে হবে দেশের সচেতন মহলকে।

নিরক্ষরতা দূরিকরণে কওমী ওলামায়ে কেরাম
আমাদের দেশে বিদ্যা এখন পণ্যের মত বিক্রি হয়। বিদ্যানের কোন কদর নেই। এখন বিদ্যার্জনের আগেই বিদ্যান হওয়ার প্রতিযোগিতা হয়। আর সেজন্য পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ফাঁস এখন মামুলি ব্যাপার। আবার শোনা যায় সনদপত্র বিক্রির কথা। একজনের পরীক্ষা অন্যজন দিয়ে দেয়া বা অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেয়া এখন নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার। তাই তো দেশের মেধাবীরা বুক ফুলিয়ে বলে 'আই অ্যাম জিপিএ ফাইভ। কারণ, তারা বিদ্যার্জনের আগেই বিদ্যান হওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল আর অর্থের বিনিময়ে পেয়েছে জিপিএ ফাইভ। এ তো গেলো যাদের অর্থবিত্ত আছে তাদের কথা; অর্থের বিনিময়ে হলেও জিপিএ ফাইভটা পেয়েছে।  কিন্তু দরিদ্র্যতার কষাঘাতে জর্জরিত এই দেশের সিংহভাগ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে। স্কুল-কলেজে যাওয়া তো দূরের কথা,  ঘরে বসে প্রাথমিক শিক্ষাটুকুও তাদের মেলে না। পরীক্ষায় অর্থের হাতবদলে জিপিএ ফাইভ পাওয়ার পর  যে বইগুলো ঠোঙার দোকানে বিক্রি করে, তখন দরিদ্রতার চাপ সহ্য করতে না পেরে দেশের হাজারো শিশু সেই বইগুলো দিয়ে ঠোঙা বানাতে ব্যস্ত থাকে। অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী যখন স্কুলে যায়, তখন দেশের শতশত হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা রাস্তায় কাগজ কুড়ায়। অর্থের অভাবে যেন কোন শিশু জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই দেশের কওমী মাদরাসাগুলো শত-সহস্র  হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করছে। যা জাগতিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে বিরল। যে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে সেটি কওমী মাদরাসা সুন্দরভাবে আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে যুগ যুগ ধরে। দেশের হাজার হাজার নুরানী মাদরাসা থেকে প্রতি বছর প্রায় লক্ষাধিক কোমলমতি শিশু প্রাথমিক জ্ঞানার্জন করছে।

বেকারত্বরোধে কওমী উলামায়ে কেরাম
বেকারত্ব একটি অভিশপ্ত শব্দ। হাজারো মানুষের স্বপ্ন ভঙ্গের শব্দ বেকারত্ব। দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বেকারত্বে সর্বোচ্চ হারের দিক দিয়ে বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে। তবে বাংলাদেশের চেয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তান ও দ্বীপদেশ মালদ্বীপে বেকার মানুষের হার বেশি।

আইএলওর হিসাবে ২০১০ সালে বাংলাদেশে ২০ লাখ লোক বেকার ছিল। ২০১২ সালে ছিল ২৪ লাখ। ২০১৬ সালে তা ২৮ লাখে উঠেছে। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ৩০ লাখে ওঠার আশঙ্কা করেছিল আইএলও। (প্রথম আলো অনলাইন সংস্করণ ২৪ জানুয়ারি ২০১৮)

বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে সবাই সচেষ্ট হলেও আন্তরিকতার বড় অভাব। লাগামহীন দুর্নীতি,  চাঁদাবাজি,  চাকরির ক্ষেত্রে ঘুষের ছড়াছড়ি, নানান অনিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে আছে দেশের কর্মসংস্থানগুলো। যে দেশে জ্ঞানীর কদর নেই সে দেশে বেকারত্ব থাকাটা আশ্চর্যের কিছু নয়! এসএসসি ফেল ছাত্র যখন এসি রুমে বসে দুর্নীতির আখড়া খুলে বসে, ঠিক তখন বিসিএস ক্যাডার একটা চাকরির জন্য মানুষের দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে জুতার তলা ক্ষয় করছে। একটা চাকরি জন্য মারামারি,  রাস্তা অবরোধ, বিভিন্ন কার্যালয়ে স্মারকলিপিসহ নানান প্রতিবাদমূলক কর্মসূচি চোখে পড়ে। সর্বশেষ কোটা সংস্কার আন্দোলন আমরা সবাই প্রত্যক্ষ করেছি।

কিন্তু এর পুরো বিপরীত চিত্র দেশের কওমী মাদরাসাগুলোতে। বেকারত্বের কোন ছাপ বা কোন অভিযোগ অনুযোগ নেই কওমী ওলামাদের।  চাকরির জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম বা মিছিল-মিটিংয়ের কোন প্রয়োজন হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা শেষ করে  প্রতিবছর কওমী মাদরাসা থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বের হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন শিক্ষার্থী চাকরির জন্য কারো কাছে কোন অভিযোগ বা অনুযোগ দেয়নি। কোন আন্দোলন-সংগ্রামেরও প্রয়োজন পড়েনি। এমনকি কোন কওমী শিক্ষার্থী বেকার বসে আছে এমন চিত্রও কোথাও দেখা যায় না। মোটকথা কওমী শিক্ষার্থীরা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে নিজেদের বের করে নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে নিয়েছে। সরকার বা কোন মন্ত্রণালয়ে চাপ সৃষ্টি,  রাস্তা অবরোধ কিংবা কোন সংগ্রামের প্রয়োজন পড়েনি।  

মোটকথা, বেকারত্বদূরীকরণসহ জাতীয় প্রায় সকল ক্ষেত্রেই কওমী মাদরাসার ভূমিকা অপরিসীম।

লেখক:
মুহাদ্দিস, হাটহাজারী মাদরাসা
কেন্দ্রীয়  সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

রাশিদুল ইসলাম: চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় এই প্রথম এক ব্যক্তির (৬৯) শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি চট্টগ্রাম নগরীর সঙ্গে লাগোয়া হাটহাজারী উপজেলাধীন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ১নং জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলীর শাহ আমানত কলোনিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।
তিনি একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। মঙ্গলবার সকালেই আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করেছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমতিয়াজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনা উপসর্গ থাকায় আক্রান্ত ব্যক্তি তার পারিবারিক চিকিৎসকের পরামর্শে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষা করান। এতে তার করোনা পজেটিভ আসে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
তবে আক্রান্ত ব্যক্তি হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেননি বলে যোগ করেন ডা. ইমতিয়াজ।
এদিকে মঙ্গলবার সকালেই আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ আলম
-এস


190148| প্রবচন ডেস্ক:

উসমানীয় সাম্রাজ্যের গৌরবময় উত্থানের সত্য কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত জনপ্রিয় তুর্কি সিরিজ ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
রোববার টুইটারে এক ভিডিওবার্তায় ইমরান খান বলেন, আমাদের যুবদের উন্নত চরিত্র গঠনে ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ দারুণ অবদান রাখছে এবং এর মাধ্যমে তারা ইসলামের গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারছে।

ভিডিওতে ইমরান খানকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভিতে সম্প্রচারিত দিরিলিস আরতুগ্রুল দেখতে দেখা যায়। পাকিস্তানি যুবকদের জনপ্রিয় এই সিরিজ দেখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে পাক প্রধানমন্ত্রী এই কৌশল অবলম্বন করেন।

এর আগে গত রোববার পিটিভি ঘোষণা দেয়, ১ রমজান থেকে তারা প্রতিদিন এক পর্ব করে দিরিলিস আরতুগ্রুল দেখানো শুরু করবে এবং প্রতিটি পর্ব দৈনিক তিন বার প্রদর্শিত হবে।

পিটিভি জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় আমরা দিরিলিস আরতুগ্রুল সম্প্রচার শুরু করেছি।

গত বছরের ডিসেম্বরে ইমরান খান তুর্কি ভাষার সিরিজটিকে পিটিভিকে উর্দুতে ডাবিং করার নির্দেশ দেন এবং ওই নির্দেশনায় তিনি বলেন, সত্য ইতিহাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিরিজ পিটিভিতে সম্প্রচার করবো, আর এর উদ্দেশ্য হল, জাতিকে ইসলামি ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়া। কারণ, ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ ইসলামি সভ্যতা ইতিহাস ও মুসলিম বীরদের অত্যন্ত নিপুণতার সঙ্গে উপস্থাপন করতে পেরেছে।

এছাড়া, দিরিলিস আরতুগ্রুলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এখন পর্যন্ত একাধিক মানুষ ইসলামধর্ম গ্রহণ করেছেন। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে যে, দিরিলিস আরতুগ্রুলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এক মেক্সিকান দম্পতি মুসলিম হয়েছেন ।

তুরস্কের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মেক্সিকান দম্পতি স্বেচ্ছায় মুসলিম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তাদেরকে পবিত্র কালিমা পাঠ করান ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ এর অন্যতম চরিত্র আব্দুর রহমানের অভিনয় করা জনপ্রিয় অভিনেতা জালাল আল।

কিন্তু এর আগে মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী একাধিক ফতোয়া বিভাগ দিরিলিস আরতুগ্রুলসহ ইসলামী ট্যাগ লাগানো সকল সিনেমা-মুভি দেখা হারাম ফতোয়া দিয়েছে। পাকিস্তান থেকেও দিরিলিস আরতুগ্রুল দেখা হারাম বলে একটি প্রখ্যাত ইফতা বোর্ড সিদ্ধান্ত প্রদান করে। কয়েক পৃষ্ঠার বিস্তারিত ফতোয়ায় সেখানে বলা হয়, দিরিলিসে প্রচারিত সমস্ত ঘটনাই ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত নয়।

ইসলামের একটি সোনালি যুগকে এভাবে সত্যমিথ্যার মিশ্রণে উপস্থাপন প্রশংসিত হতে পারেনা। ইতিহাসপ্রেমিক মানুষদের এ সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য বই পড়ে জ্ঞানার্জনের আহবান জানায় ওই পাক-ইফতা বোর্ড।

পরবর্তীতে পাকিস্তানি আলেমদের এই সিদ্ধান্তের সমর্থন জানিয়ে ফতোয়া প্রদান করে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ ও মিশরের দারুল ইফতা। মোটকথা, বিশ্ব ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে একমত যে, দিরিলিস আরতুগ্রুলসহ ইসলামী ট্যাগ লাগানো সকল সিনেমা-মুভি দেখা সম্পূর্ণ হারাম।

সূত্র: আনাদুলু, আল জাজিরা


আরো ৩ মৃত্যু করোনায়, নতুন শনাক্ত ৫৪৯ | প্রবচন ডেস্ক:

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন শনাক্ত হয়েছে ৫৪৯ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৫৫ জনের। আর সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছে ছয় হাজার ৪৬২ জন।

আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন প্রকাশে অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

ডা. নাসিমা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় দেশে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুবরণকারীরা সবাই ঢাকা শহরের। বয়সে তাঁরা সবাই ষাটোর্ধ। এ নিয়ে করোনায় দেশে এ পর্যন্ত ১৫৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ ছাড়া হাসপাতালে থাকা করোনা রোগীদের ভেতর থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন আরো আটজন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ১৩৯ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

ডা. নাসিমা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে চার হাজার ৩০৯টি। আর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে চার হাজার ৩৩২টি। এর মধ্যে করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে ৫৪৯ জনকে। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ছয় হাজার ৪৬২ জন।

আইসোলেশন প্রসঙ্গে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ১১১ জনকে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত হাসপাতালের আইসোলেশনে আছেন এক হাজার ২৪৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪৭ জন এবং এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৮৫ জন। সারা দেশে আইসোলেশন শয্যা আছেন ৯ হাজার ৭৩৮টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে তিন হাজার ৯৪৪টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে আছে পাঁচ হাজার ৭৯৪টি।

কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গেও তথ্য দেওয়া হয় বুলেটিনে। বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে গেছেন দুই হাজার ৩৯২ জন। এ পর্যন্ত হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে গেছেন এক লাখ ৮১ হাজার ৭৯৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন তিন হাজার ২৩১ জন। বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৭৬ হাজার ৮৪০ জন।

সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬০১টি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে ৩০ হাজার ৬৩৫ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা প্রদান যাবে বলে জানানো হয় বুলেটিনে।

বুলেটিনে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বাতায়ন এবং আইইডিসিআর'র হটলাইনে কল এসেছে ৭২ হাজার ৪৪৭টি। এসব কলে যারা কভিড-১৯ বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছেন তাদেরকে সে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোন এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ৩১ হাজার ১২৪ জনকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর এ পর্যন্ত এ দুই মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ২১৭ জনকে।
-কেকে

| ইশতিয়াক সিদ্দিকী

করোনাভাইরাসের মহামারি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের দেশেও এর প্রকোপ দিনদিন বাড়ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। চার দফা বাড়ানো হয়েছে সরকারি ছুটি। কার্যত পুরো দেশ এখন স্তব্ধ-স্থবির। দিনমজুর থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারের সবার কপালে ভাজ পড়েছে। অভাব অনটন দেখা দিয়েছে বহু পরিবারে। আর এমন দুর্বিষহ ও দুর্যোগময় মুহূর্তে গণমানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মহাপুরুষ হাজী শরীয়তুল্লাহ রহ. এর সপ্তম পুরুষেরা।

'হাজী শরীয়তুল্লাহ (রহ.) সমাজ কল্যাণ পরিষদ বাংলাদেশ' এর ব্যানারে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন তারা। করোনার চলমান পরিস্থিতিতে নগদ অর্থ ও খাদ্য বিতরণ করছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে হাজী শরীয়তুল্লাহ (রহ.) এর বংশের সপ্তম পুরুষ মাওলানা মোহাম্মদ ত্বহা ও মহাসচিব হিসেবে মাওলানা মোহাম্মদ হানজালা দায়িত্ব পালন করছেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকা,গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ,শিবচরসহ অনেক এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ ত্বহা জানান, দুর্যোগ-দুর্ভোগে দেশের আপামর জনগণের পাশে দাঁড়ানো আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। শতবর্ষ ধরে হাজী শরীয়তুল্লাহ রহ. এর বংশধরেরা ধর্মীয় ও মানবিক ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। করোনা পরিস্থিতিতেও আমরা সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সংগঠনের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে মহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ হানজালা জানান, আমরা ৩ হাজার পরিবারকে চাল,ডাল,তেল,আলু ও পেয়াজসহ জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। ইনশাআল্লাহ অতিশীঘ্রই ৬শ আলেম পরিবারকে নগদ অর্থ ও জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। এভাবে আমরা আরো কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। হাজী শরীয়তুল্লাহ রহ. এর বংশধর এবং তাঁর নামে গঠিত 'হাজী শরীয়তুল্লাহ (রহ.) সমাজ কল্যাণ পরিষদ' সংগঠনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছি!


| মুহা. জয়নাল আবেদীন, রংপুর প্রতিনিধি:
গত ২৪ ঘন্টায় রংপুর মেডিকেলে ১৮৮ টি নমুনা পরীক্ষা করে আরও ১৯ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম. নুরুন্নবী লাইজু সোমবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে, রংপুরে – ০৯ জন (সদর-৫, তারাগঞ্জ -৩, বদরগঞ্জ-১), দিনাজপুরের হাকিমপুরে ১ জন, ঠাকুরগাঁও – ০৭ জন (পীরগবঞ্জ ২ জন, বালিয়াডাংগী ১ জন, হরিপুর ৪ জন) এবং পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ- ০২ জন। এর মধ্যে একজন ইন্টার্নসহ দুজন চিকিৎসক পজিটিভ হয়েছেন।
বিভাগের আট জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো  ১০৫ জনে।

আক্রান্তদের মধ্যে মধ্যে রংপুরে ৩০, গাইবান্ধায় ১৬, দিনাজপুরে ১৫, নীলফামারীতে ১১, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৬, কুড়িগ্রামে ৯, লালমনিরহাটে ২ এবং পঞ্চগড় জেলার ৬ জন রয়েছেন

মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী

বছরে এক মাস রমজানের রোজা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি স্তম্ভের একটি। ইসলামি শরিয়তে সুবহে সাদেক থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত পানাহার এবং নফসের কুমন্ত্রণা ও প্রবৃত্তিবাসনা পূর্ণ করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকাকেই রোজা বলা হয়।

প্রত্যেক মুসলমান জ্ঞান, প্রাপ্তবয়স্ক, পুরুষ-নারী, যার রোজা রাখার মত শক্তি রয়েছে- তার উপর রোজা রাখা ফরজ। মান্নত, কাযা এবং কাফ্ফারার রোজাও ফরজ। এছাড়া বাকি সব রোজা নফল। যা রাখলে সাওয়াব পাওয়া যাবে, না রাখলে কোন গুনাহ হবে না। তবে মনে রাখতে হবে- রমজানের ঈদের দিন, কোরবানির ঈদের দিন এবং কোরবানির ঈদের পরের তিন দিন, সর্বমোট পাঁচ দিন রোজা রাখা হারাম।

সর্বাবস্থায় ঘরে বসে এই দোয়া বেশি বেশি করে পাঠ করি-
حسبنا الله ونعم الوكيل نعم المولا ونعم النصير
উচ্চারণ- “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল, নি’মাল মাওলা ওয়া নি’মান নাসির”।
এ বছরের রোজা সারা পৃথিবীর মুসলমানরা অত্যন্ত স্পর্শকাতরভাবে আদায় করতে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ বা করোনা নামক ভাইরাসে যখন সারা পৃথিবী আক্রান্ত, ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত, ঠিক এমন সময় এসে গেলো পবিত্র মাহে রমজান।

এই রমজান মাসে রোজা অবস্থায় আমরা বেশি বেশি ইবাদত, তিলাওয়াত ও দান-সদকা করব এবং মহান আল্লাহর দিকে ফিরে আসার চেষ্টা করব। আল্লাহ তাআলা ছাড়া এই মহামারি থেকে কেউ আমাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঘরে পড়বো না মসজিদে পড়বো? জুমার নামাজ মসজিদে পড়বো না ঘরে জুমার স্থলে জোহরের নামায আদায় করবো? তারাবিহ মসজিদে পড়বো না ঘরে? ইফতার মসজিদে না ঘরে? এ সকল প্রশ্ন সিয়াম সাধনার এই মাসে পরিহার করে যার যেখানে সুযোগ হয় মসজিদে বা ঘরে এ সকল ইবাদত আদায় করার চেষ্টা করব।

এই মহামারি ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় ঘরে তারাবিহর নামাজ আদায় করলে নামাজ হবে না, জুমার দিনে জুমার নামাজের স্থলে জোহরের নামায ঘরে আদায় করে নিলে নামাজ আদায় হবে না, পাঁচ ওয়াক্ত নামায ঘরে আদায় করলে নামায আদায় হবে না; এমন ফতওয়া এই পর্যন্ত কেউ দেয়নি।

সুতরাং ‘মসজিদ খোলা থাকবে, নামাজ চলবে, জুমা চলবে, ইতিকাফ চলবে। সরকার নয় পৃথিবীর কোন শক্তি বাধা দিতে পারবে না।’ এ সকল দায়িত্বহীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত, আবেগী ও রাজনৈতিক বক্তব্য পরিহার করতে হবে।

কারণ, বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ, মসজিদ-মাদরাসার দেশ, ওলামা-মাশায়েখদের দেশ। মসজিদ বন্ধ করতে হবে, নামাজ চলবে না, জুমা চলবে না, ইতিকাফ চলতে পারে না, মসজিদে ইফতার করতে পারবে না- এধরণের কথাতো এই পর্যন্ত কেউ বলেননি। বলার সাহসও নেই।

তাই আসুন, স্বাস্থবিধি ও অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ মেনেই ইবাদত ও তিলাওয়াত জারি রাখি। তাতে পরিপূর্ণ সাওয়াবের আশা করা যায়। কাদা ছোঁড়াছুড়ি না করে তাওবা ও সিয়াম সাধনার মাধ্যমে  এই মাসে আমরা আল্লাহর দিকে ফিরে আসি। এই মাসেই দুর্দিন কেটে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

সী‌মিত আকা‌রে চালু, ধাপে ধা‌পে খুলবে ...
নতুন করে উৎপাদন শুরুর প্রথম দিনে রোববার প্রায় ৪শ’ তৈরি পোশাক কারখানা খুলেছে। উদ্যোক্তারা দাবি করেছেন, সামাজিক দূরুত্ব নিশ্চিত করতে কারখানার অভ্যন্তরের যন্ত্রপাতি স্থানান্তর করে পরিবর্তনের মাধ্যমে গড়ে ৩০ শতাংশ শ্রমিক দিয়ে প্রথম দিনের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। 
তবে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, যত বেশি সংখ্যক  কারখানা খুলে দেওয়া হবে বলে আশঙ্কা ছিল তত বেশি শেষ পর্যন্ত রোববার খোলা হয়নি। ঢাকার ভেতরের খুব কম কারখানাই খোলা হয়েছে। তার অভিযোগ, সব কারখানায় স্বাস্থ্য বিধি পুরোপুরি মানা সম্ভব হয়নি।

এই ৩০ শতাংশ শ্রমিকদের বেশিরভাগই  কারখানার আশে-পাশে বসবাস করেন। তবে কিছু শ্রমিক গণপরিবহন বন্ধ থাকার মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিল্পাঞ্চলে ফিরেছেন। এ মুুহূতে ঢাকার বাইরের শ্রমিকদের কারখানায় না আনার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর পক্ষ থেকে।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, সীমিত পরিসরে কারখানা খোলা রাখার সুযোগ চেয়ে ৮৫৮টি কারখানা কর্তৃপক্ষ থেকে সংগঠনের কাছে আবেদন আসে। তবে করোনা সংক্রমণের পর রপ্তানি আদেশ বাতিলের সাধারণ ঘটনার পর কোন কারখানায় এই মুহূর্তে কি ধরনের কাজ রয়েছে- সে বিষয়ে একটি জরিপ চালিয়েছে বিজিএমইএ। গত কয়েক দিন ধরে পরিচালিত  এই জরিপের ফলের ভিত্তিতে জরুরি কাজের কারখানাগুলোকে খুলে দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে খোলার অনুমতি পাওয়া কারখানার সংখ্যা প্রায় ৪শ’। ঢাকা মেট্রো এলাকা, এবং নারায়ণগঞ্জের তুলনামূলক বড় কারখানাগুলোকে এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকেই মাস্ক এবং হাত মোজা পড়ে  কারখানায় ঢুকতে দেওয়া হয়েছে শ্রমিকদের। প্রবেশ মুখে শ্রমিকদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়। হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত উপকরণও ছিল। সব মিলিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই প্রথম দিনের উৎপাদন কার্যক্রম চলেছে।  

কারখানা খোলার শর্ত হিসেবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ একটি গাইডলাইন করেছে । এই গাইডলাইন সদস্য কারখানায় পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়, কারখানায় প্রবেশের আগে শ্রমিকদের শরীরের তাপমাত্রা  মেপে  দেখতে হবে। কারখানা ভবনের বাইরে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। শ্রমিক কর্মচারীসহ কারখানায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সকলের জুতায় জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। এছাড়া কারখানায়  প্রবেশের আগে  জুতাগুলো  যেন পলিব্যাগে  রেখে একটি নির্দিষ্ট  রাখতে হবে। এসব স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছে কিনা তা তদারক করতে মনিটরিং টিম গঠন করেছে বিজিএমইএ। তবে রপ্তানি আদেশের কাজ না থাকা কিংবা কম থাকা কারখানাগুলো সরকারি সাধারণ ছুটির সঙ্গে মিল রেখে আগামী ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জানতে চাইলে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি আরশাদ জামাল দীপু গণমাধ্যমকে বলেন, গতবারের দুঃখজনক অভিজ্ঞতার কারণে এবার আগে-ভাগেই বিজিএমইএ  এ বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিয়েছে। সব সদস্য কারখানাকে বলে দেওয়া হয়েছে যাতে দূর দূরান্তের কোন শ্রমিককে এ মুহূর্তে  আনা না হয়।

শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম রনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক শ্রমিক শিল্পাঞ্চলে আসতে শুরু করেছে। ঝুঁকি নিয়ে তারা আসছে। কারো কোনো বাধা তারা মানছে না। আসলে চাকরি হারানোর  আতঙ্ক থেকেই এই ঝুঁকিটা নিচ্ছেন তারা। 

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget