Latest Post



৫ মে রাতের ভয়াবহ নারকীয়  হামলার খবরে সারাদেশের মত হাটহাজারীবাসীও মর্মাহত। শোকে কাতর সবাই। রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশি পাহারা। সবার মাঝে আতংক আর উৎকণ্ঠা। বিভিন্ন জনকে নাজেহাল করার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। নিরাপত্তা বলতে কোন কিছু আছে বল মনে হচ্ছিল না।

৫ মে শাপলার মোবারক মজমায় আমরা যারা শরীক হতে পারিনি তারা ৬ মে ক্লাসে বসে বিভিন্ন দুআ দরুদ পড়ছিলাম। সবার মাঝে চাপা ক্ষোভ। প্রতিশোধের আগুনে সবাই দগ্ধ হচ্ছে। সকাল থেকে আমাদের সাথেই ছিল শাহাদাত। বিভিন্ন আমলে শরীক হলো। অনেক সময় বসে বসে গল্প করলাম। রাতের নৃশংসতার কথা স্মরণ করে কেঁদে উঠেছিল। দুপুরের বিরতিতে বাড়িতে গিয়েছিল খাবার খেতে। পরিস্থিতি বিবচনায় আমরা নিষেধ করলাম। আজকের খবারে আমাদের দস্তরখানায় শরীক হওয়ার আমন্ত্রণ জানালাম। কিন্তু, শাহাদাতের পিয়ালা হাতে বেহেশতের হুর যখন আহবান জানায় তখন দুনিয়ার সকল কিছুই তুচ্ছ মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। কোন বাধা বা সম্পর্ক শাহাদাতকে ফিরাতে পারলো না। কিন্তু এটাই যে শেষ যাওয়া তাও জানা ছিল না। প্রতিদিনের মত দুপুরের খাবার খেয়ে মাদ্রাসার পথ ধরেছে "শাহাদত হোসেন"। 

হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ডে  পৌঁছাতেই খবর পেলো আল্লামা শাহ আহমাদ শফীকে গ্রেফতার করেছে প্রশাসন। থমকে দাঁড়ায় শাহাদত। এমন দুঃসংবাদ কোনভাবেই মেনে নিতে পারে না। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তার পাশে। কী করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না! এমন সময় দেখতে পায় হাজার-হাজার তৌহিদী জনতা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছে। নারায়ে তাকবিরের ধ্বনিতে আকাশ-বাতাশ প্রকম্পিত করে তুলছে। 

শাহাদাত চৈতন্য ফিরে পেল। সারা শরীরে তারুণ্যের প্রবাহ বয়ে গেল। প্রতিশোধের দিপ্ত শপথ নিল। আল্লাহ, রাসূল ও দীনের ধারক-বাহক উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধাচারণকারীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবে না। প্রয়োজনে শহিদ হবে, তবুও পিছু হাটবে না। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। মুষ্টিবদ্ধ হাত। হৃদয়ে শাহাদাতের তামান্না। দু'চোখে জান্নাতের স্বপ্ন। যেন হুরদের হাতছানি আর দুই কানে ভেসে আসছে  গিলমানদের অভ্যর্থনা। মুখে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে শ্লোগান। ছুটে গিয়ে শরীক হলো মোবারকময় মিছিলে। মিসে গেলো শহিদী তামান্নায় উজ্জবিত  হাজারো মানুষ ভিরে। মনের একটাই আশা, হয়তো শাহাদত, না হয় রাসূলের দুশমনের ফাঁসি। 

চলছে প্রতিবাদ মিছিল। মেখল থেকে হাটহাজারীর পথ খানিকটা দূর হওয়ায় আমরা যেতে একটু দেরি হয়ে যায়। আমি থানার সামনে আর মিছিলকারীরা হাটহাজারী মাদ্রাসার সামনে। পুলিশের এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ। চোখের সামনে যেন কিয়ামতের বিভীষিকা। চারপাশ অন্ধকার। মুহূর্তে ভয়াল পরিস্থিতি। আমরা কয়েকজন কলেজ গেটের দিকে মোড় নিলাম কাচারি রোড হয়ে। মুখে শ্লোগান বুকে ঈমানী বল।

বর্তমান  আমির এরশাদ প্লাজার সামনে যেতে না যেতেই আমাদের উপর গুলিবর্ষণ আর টিয়ারশেল নিক্ষেপ শুরু হলো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিজেকে মার্কেটের এক গলিতে আবিস্কার করি। এভাবেই ফিল্মি স্টাইলে নবীপ্রেমিক তৌহিদী জনতার আবেগ আর ভালোবাকে বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝড়া করে দেয়ার চেষ্টা করা হলো। ঝরে পড়লো ৬টি তরুতাজা প্রাণ। জীবনের তরে পঙ্গু হয়ে যায় বেশ কিছু রাসূল প্রেমিক। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে ভারি হয়ে ওঠে ইলমের নগরী হাটহাজারীর আকাশ-বাতাশ। ডুকরে কেঁদে উঠে হাজারো পরিবার।

সেদিন শহীদ হয় প্রিয় বন্ধু শাহাদাত। সেই স্মৃতি আজো আমায় কাঁদায়। আজো বাতাসের সাথে ভেসে আসে টিয়ারশেল আর বারুদের গন্ধ। চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাই হায়েনাদের পৈশাচিক উল্লাস। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে এখনো কানে ভাসে। যখনই প্রিয় বন্ধুর গুলিবিদ্ধ শরীরটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে তখনই ডুকরে কেঁদে উঠি। অনুশোচনার আগুনে দগ্ধ হই। লজ্জায় দু'চোখ বেয়ে নেমে আসে অশ্রুর ধারা।

হে শহিদ বন্ধু, ক্ষমা করে দিয়ো! তোমার জন্য আমরা কিছু করতে পারিনি। বিচার চাওয়ার পরিবর্তে নিমকহারাম কিছু গাদ্দারকে আঁতাত করতে দেখেছি। শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে বিক্রি হতে দেখছি মঞ্চ কাঁপানো অনেক মুনাফিককে। একটা আসন পাবার আশায় খুনিকে জননী ডাকতে দেখেছি। খুনির সামনে দাঁড়িয়ে বিচার চাওয়ার বিপরীতে  দাঁত কেলিয়ে মনোরঞ্জন করতে দেখছি প্রতিনিয়ত। এত এত হতাশার মাঝেও বিচারের আশায় আজ অপেক্ষায় করছি। কারণ,  আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘লা তাহযান’ হতাশ হয়ো না। আমি হাতাশ হইনি। আর মুমিন কখনো হতাশ হতে পারে না। দুআ করি আল্লাহ তোমাকেসহ সকল শহিদদের কবুল করুন।

লেখক: শিক্ষার্থী, হাটহাজারী মাদরাসা চট্টগ্রাম।

ইতিহাসের সেই ২০১৩ সাল। উত্তপ্ত রাজনীতির রোষানলে দাউ দাউ করে জ্বলছিল পুরো দেশ। দেশদ্রোহী রাজাকারের অভিযোগে একের পর এক ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হচ্ছিলো জামা‌ত নেতা‌দের। বিরোধীদল বিএনপির জন্য আন্দোলনে নামা ছিল বড় দুষ্কর। সুযোগ মত পেলেই গ্রেফতার, এরপর রিমান্ড। ফলে তারা শক্ত‌িশালী হওয়া সত্ত্ব‌েও ‌ছিল নিষ্ক্রিয়। এদিকে রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে ঢাকার শাহবা‌গে গড়ে ওঠে গণজাগরণমঞ্চ। তাদের দেখা‌দে‌খি অপরাপর জেলাগুলোতেও গড়ে ওঠে গণজাগরণমঞ্চের শাখা। পুরো দেশ রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে প্রকম্পিত করে তুলেছিল তারা। প্রথম দিকে নিজস্ব গতিতে চললেও কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর তাদের দাবী ঘুরে গিয়ে ধর্মভি‌ত্তিক রাজনী‌তি নি‌ষি‌দ্ধের দাবীও যুক্ত হয়। একপর্যা‌য়ে তাদের অনেকেই ইসলাম ধর্মের অবমাননা শুরু করে এবং রাসূল সা. এর ব্যঙ্গ করতে থাকে। নারী-পুরু‌ষের এক‌ত্রে রা‌ত্রিযাপন ও অবাধ মেলা‌মেশায় গণজাগরণমঞ্চ একপর্যায় বেহায়াপনা ও বেলেল্লাপনার আখড়ায় পরিণত হয়।

তাদের এমন অবস্থা ও অবস্থান দেখে ঘরে বসে থাকতে পারেননি শায়খুল আরব ওয়াল আযম আল্লামা হোসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর খাছ শাগরিদ, বাংলার সিংহপুরুষ, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফিযাহুল্লাহ। তিনি বাংলাদেশের শীর্ষ ওলামা-মাশায়েখ এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সাথে নিয়ে নবীর ইজ্জত রক্ষার্থে তথাকথিত গণজাগরণমঞ্চের বিরুদ্ধে এবং নাস্তিক ব্লগার‌দের সর্বোচ্চ শা‌স্তি ফাঁসির দাবিসহ মোট ১৩ দফা দাবি নিয়ে দেশের প্রতিটি জেলায় আন্দোলন গড়ে তোলেন। আন্দোলনের তীব্রতা এবং তাওহীদি জনতার গণজাগরণ দেখে সরকার হত‌বিহ্বল হ‌য়ে পড়‌ে। বাংলার জমিনে এমন আন্দোলনের দ্বিতীয় কোন নজির ছিল না। হেফাজতের অগ্রগ‌তি আটকা‌তে পা‌রে‌নি কেউ। কারণ এ আন্দোলন ছিল ঈমান, ইখলাস ও নবীপ্র‌ে‌মের। এরপরও আওয়ামী সরকার হেফাজ‌তের দাবী না মে‌নে উ‌ল্টো প্রশাসনিক সু‌বিধার মাধ্য‌মে শাহবাগী‌দের সা‌পোর্ট ‌দি‌তে থা‌কে এবং হেফাজতের বিরুদ্ধে তাদেকে খেপিয়ে তোলে।

এমন একটি মুহুর্তে সুযোগসন্ধানী হয়ে হেফাজত নেতাদের পিছু নেয় বিএনপি ও জামাত‌। সরাস‌রি টাইমলাই‌নে না এ‌সে বি‌ভিন্ন সু‌যোগ-সু‌বিধা দেয় হেফাজ‌তের সমা‌বে‌শে। এমন‌কি মুরুব্বীদের অগোচরে কিছু হেফাজত নেতাদের সাথে আতাঁত করতে সক্ষম হয়। ক্ষমতালোভী ও রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত কিছু আলেম তাদ‌ের দেয়া অফার ও সু‌যোগ সু‌বিধা গ্রহণ ক‌রে।

এভা‌বে চল‌তে চল‌তে একপর্যায়ে আন্দোলনের না‌স্তিক‌বিরোধী আন্দোলনের একটা অংশ সরকার পতন আন্দোলনে রূপ নেয়। হেফাজতের পুরো আন্দোলনটা ঘোলাটে করে নি‌জে‌দের ম‌তো ব্যবহার ক‌রে ক্ষমতালোভি সেই মহলটি।

বিশেষ করে ৫ মে ঢাকা অব‌রো‌ধে লক্ষ লক্ষ তৌহিদী জনতা ঢাকার রাজপথে বি‌ভিন্ন প‌য়েন্ট‌ে অবস্থান করছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি ঘোষণা দেয় নেতা-কর্মীদের হেফাজতের পা‌শে দাঁড়া‌তে। তাঁর এই বক্তব্যে আওয়ামী সরকার আতঙ্কিত ও ন‌ড়েচ‌ড়ে বস‌লে হেফাজতকে সন্ধ্যার আগেই শাপলাচত্তর ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। এদিকে সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাসূল সা. এর ইজ্জত রক্ষার্থে দাবি আদায়ের জন্য ময়দান ছাড়তে রাজি নয় হেফাজতের সরল মুখ‌লিস ওলামামাশায়েখ ও তাওহীদি জনতা। পরামর্শক্রমে এবং বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে রাত্রিযাপনের ঘোষণা দেয় হেফাজত নেতৃবৃন্দ।

অন্যদিকে হেফাজতের কিছু ক্ষমতালোভী নেতা বিএনপির সাথে আঁতাত করে গদি দখলের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে এবং আন্দোলনের মোড় ভিন্নভা‌বে নেয়ার অপচেষ্টা চালায় এবং তাওহী‌দি জনতাকে রাত্রিযাপনের ব্যাপা‌রে বোঝা‌তে সক্ষম হয় তারা। এ‌দি‌কে পরেরদিন রাত পেরোলেই ৬ মে ঢাকায় পল্টনে বিএনপির জনসভা। তাদের লক্ষ্য ছিল, রাত অতিবাহিত হলে হেফাজতের জনসমুদ্র‌ে সকলেই যোগদান করবে। দল ভারি করে সরকার পতনের শেষ ঘণ্টা বাজাবে তারা! কিন্তু আওয়ামী সরকার তা আঁচ কর‌তে পেরে। হা‌তে নেয় নতুন প্লান। আর ক্ষমতা‌লোভী দু'দলের খেলার গু‌টি হয় হেফাজ‌তের নিষ্পাপ-নিরাপরাধ কর্মীরা।

হেফাজত কর্মীদের উপর ৬ মে রাত দু'টায় ধর্মপ্রাণ তাওহিদী জনতার কেউ যখন তাহাজ্জুদে আর কেউ বিশ্র‌াম কর‌ছে ঠিক সে সময় বিদ্যুৎ সং‌যোগ বিচ্ছিন্ন ক‌রে তাওহিদী জনতা এবং আলেম-ওলামা পীর-মাশায়েখদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চলায় সম্মিলিত বাহিনী। নে‌মে আস‌ে তাঁদের উপর ভয়াবহ কেয়ামত। যৌথবা‌হিনী ও আওয়ামী সরকা‌রের পোষা কুকুরগুলো হাম‌লে প‌ড়ে তা‌দের উপর। ই‌তিহা‌সের বর্বরতম পাশবিক নির্যাতন করে রাতেই ঢাকা ত্যাগ করতে বাধ্য করে আওয়ামী সরকার।

যৌথবা‌হিনী রাতভর মুহুর্মুহু গু‌লি ও হামলা চা‌লি‌য়ে শতাধিক মুসল্লীকে শহীদ এবং হাজার হাজার আলেম-ওলামা ও তাওহিদী জনতাকে আহত ও পঙ্গু ক‌রে দেয়। এমন বর্বরো‌চিত হামলা স্বাধীনতার পর বাংলার জমিনে দ্বিতীয়বার সংঘটিত হয়নি। সে ক্ষত এখ‌নো আ‌ছে, থাক‌বে সারা জীবন!

এ অমানবিক হামলার দায় যেমনটি আওয়ামী সরকারের, ঠিক তেমনটি বিএনপি-জামাত জোটের। কিয়ামতের দিন উভয় ক্ষমতাধরকে আল্লাহর কাঠগড়ায়  দাঁড়াতে হবে। দাঁড়াতে হবে ঐ সমস্ত ক্ষমতালোভীদেরও যারা সেদিন হেফাজতের ভেতরেই ঘাপটি মেরে ছিল। সেইদিন আল্লাহ তাআলা এর উপযুক্ত বিচার করবেন ইনশাআল্লাহ।

৫ মে হামলার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত হেফাজত থেকে স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা চালিয়েছে বিএনপি-জামাত। একথ‌া ব‌াস্তব‌ যে, সেদিন সরকার পতনের জন্য হেফাজতকে ব্যবহার করতে চেয়েছে বিএনপি। এদিকে আওয়ামী সরকার বিএনপির অবস্থান জেনে ক্ষমতার জন্য অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে নির্দোষ নিরাপরাধ তাওহিদী জনতা এবং আলেম- ওলামাদের শাপলা চত্বর ছাড়তে বাধ্য করে।
যোগ বি‌য়োগ কর‌লে একথা প‌রিষ্কার, হেফাজতকে ক্ষমতার জন্য উভয় দল ব্যবহার করেছে। কেউ গদির পাওয়ার জন্য, কেউ গদি রক্ষার জন্য।

গতানুগতিক কথা বলছি না। এ বিষয়ে হেফাজতে শীর্ষ এক নেতার  ভিডিও সাক্ষাৎকার আমার কা‌ছেও আছে। সেখানে তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, ফরহাদ মজহারের উপস্থিতিতে বেগম জিয়ার সম্মতিক্রমে আমি এই হাতে ইসলামী রাষ্ট্রের রূপরেখা লিখেছি।
তিনি আরো বলেন, হাটহাজারী হযরতকে বলেছি, হুজুর কোন চিন্তা করবেন না, পরশু আপনি হবেন রাষ্ট্রপতি এবং বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করে আমরা ইসলামী হুকুমত কায়েম করবো।
তিনি আরো বলেন, অপারেশন চলাকালীন অর্থাৎ ৫মে রাতে বারবার হুজুর আমাকে বলেন ‌‌'এখন কী করব?' আমি হুজুরকে বলেছি, আপনি চিন্তা করবেন না।
হেফাজত নেতা বলেন, হঠাৎ আমি শুনতে পাই হুজুর নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলে দুটি টিকিট সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম চলে যাচ্ছে। এ কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কেন হুজুর চলে গেলেন তিনি না গেলে কেউ কী তাঁকে জোর করে নিয়ে যেতে পারতো?
হুজুর যদি ওই রাতে না গিয়ে মিডিয়ার সামনে বলতো ভাইয়েরা, তোমরা যে যেখানে অবস্থান করছো তোমরা থাকো, ইনশাআল্লাহ  সকালে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তাহলে পরের দিন আমরা ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে পারতাম।

সে হেফাজত নেতার কথায় সুস্পষ্ট বোঝা যায়, তারা তাওহিদী জনতার আস্থা, বিশ্বাস ও রক্তের সাথে গাদ্দারী করে নিজেদের বিক্রি করে দিয়েছিল। না হয় বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্ন দেখে কী করে?

যুগে যুগে এভা‌বে ক্ষমতালোভী আলেমই নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ইসলামকে কুলষিত করেছে।  

আমরা দেখেছি
-ক্ষমতার জন্য কাউকে তারা রাবেয়া বসরী উপাধি দিতে দ্বিধা‌বোধ করে না।
-আবার বেগম জিয়াকে গদিতে বসিয়ে ইসলামী রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতেও তাদের বুক কাঁপে না।
-আবার কেউ কওমী জননী উপাধি দিতেও পরোয়া করে না।
-কেউ ক্ষমতা ও পদের লোভে গোমরাহী আকীদা পোষণকারীদের অনুসরণ-অনুকরণ করে।
-কখনো স্বার্থ হাসিলের জন্য কওমী মাদরাসার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা ভূলুণ্ঠিত করতেও তারা দ্বিধাবোধ করে না।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিএনপি যদি সেদিন তাদের চক্রান্তে স্বার্থক হতো, হেফাজত‌কে সিঁ‌ড়ি হি‌সে‌বে ব্যবহার কর‌ে নতুন সরকার গঠন কর‌তো, তার পরও আলেম-ওলামাদের নেতৃত্ব প্রদান তো দূরের কথা বরং বি‌ভিন্ন মামলায় হেফাজতকে জেলে ভরে তারা একক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতো।

পরিশেষে, মহান আল্লাহর কাছে মিনতি করি, মুসলিম জাতিকে যেন আদর্শিকভাবে পদস্খলন না করেন। ঈমান এবং নীতি-নৈতিকতার উপর অটুট রাখেন।

লেখক: শিক্ষার্থী, দারুল উলুম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।


করোনা মোকাবিলায় জাতীয় কমিটি করতে ...

ডেস্ক: মসজিদ উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ও বিশিষ্ট ২০০ ওলামায়ে কেরাম। এক বিবৃতিতে দেশের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম বলেন, শর্ত সাপেক্ষে শপিংমল-মার্কেট, গার্মেন্টস-ইন্ডাস্ট্রি খুলে দেয়ার পরও সরকার রমজান মাসে মসজিদ উন্মুক্তের ঘোষণা না দেয়ায় দেশবাসী মর্মাহত হয়েছেন।

এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট আলেমরা।

বিবৃতিতে ওলামায়ে কেরাম বলেন, দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীসহ শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল হয়ে মসজিদ খুলে দিবেন বলে আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু দেশের বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়, শপিংমল-মার্কেট, গার্মেন্টস, কল-কারখানা চালু করার ঘোষণা আসলেও সরকারের পক্ষ থেকে সুস্থ্য সকল মুসল্লীদের মসজিদে নামাজ আদায়ের ঘোষণা আসেনি। রমজান মাস সত্ত্বেও মুসল্লীরা মসজিদে গিয়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা, তারাবিহ ও ইবাদত-বন্দেগী করতে না পেরে আর্ত চিৎকার করছে। রোযাদারদের হৃদয়ের কান্নায় সরকার বেকায়দায় পড়তে পারে।

বিবৃতিতে ওলামায়ে কেরাম আরো বলেন, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ওলামায়ে কেরামের পরামর্শ মোতাবেক পরিচালিত হওয়াই যুক্তিসঙ্গত। শর্ত সাপেক্ষে কল-কারখানা, গার্মেন্টস, হাট-বাজার, ব্যাংক ইত্যাদি চালু থাকলে সতর্কতার সাথে রহমতের স্থান মসজিদ খুলে দিতে বাঁধা কোথায়?

তারা বলেন,  উন্নত রাষ্ট্রসমূহে মসজিদের সংখ্যা খুবই স্বল্প হওয়া সত্ত্বেও সেখানে করোনায় সর্বাধিক আক্রান্ত হচ্ছে কেন? করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলা এবং আল্লাহর কাছে খালেস দিলে তাওবা-এস্তেগফার, নামাজ-রোজা, দোয়ায়ে ইউনুসসহ অন্যান্য দোয়া অব্যাহত রেখে সবধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য তাঁরা সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।

বিবৃতিদাতা বিশিষ্ট আলেমগণ হলেন, হাটহাজারী মাদরাসার প্রধান মুফতি আল্লামা আব্দুস সালাম চাটগামী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, বারিধারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী, সাবেক মন্ত্রী, শায়খুল হাদীস মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস, বাবুনগর মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, শায়খুল হাদিস আল্লামা নুরুল ইসলাম (আদীব সাহেব হুজুর), মহাপরিচালক ওলামা বাজার মাদরাসা ফেনী, মাওলানা নুরুল ইসলাম শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল, মাখজানুল উলূম খিলগাঁও, ঢাকা, শায়খুল হাদিস আল্লামা মুনিরুজ্জামান সিরাজী (বড় হুজুর) ব্রাক্ষণবাড়িয়া, জামিয়া ইউনুসিয়া ব্রাক্ষণবাড়িয়ার প্রিন্সিপাল আল্লামা মুফতি মুবারকুল্লাহ, আল্লামা শাহ মোহাম্মদ তৈয়্যব, মহাপরিচালক, জিরি মাদরাসা চট্রগ্রাম, শায়খুল হাদিস মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী আমীর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, শায়খুল হাদিস আল্লামা আব্দুল হক, খতিব ময়মনসিংহ বড় মসজিদ।

এছাড়াও বিবৃতিতে আরো সাক্ষর করেন শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বারিধারা, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, পীর সাহেব কাপাসিয়া,গাজিপুর, শায়খুল হাদিস মুফতি আব্দুল বারী, প্রিন্সিপাল, জামিয়া আশরাফিয়া সাইনবোর্ড,্মাওলানা মাহফুজুল হক প্রিন্সিপাল জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, মারকাজূল  উলুম খুলনার প্রিন্সিপাল মুফতি গোলাম রহমান, শায়খুল হাদিস আল্লামা সোলায়মান নোমানী, হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর সুযোগ্য খলিফা শায়খুল হাদিস আল্লামা ইসমাঈল বরিশালী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী মহাসচিব, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, শায়খুল হাদিস আল্লামা শেখ আজীমুদ্দীন, শায়খুল হাদিস মুফতি মহিবুল হক, মুহতামিম,দরগাহ মাদরাসা সিলেট, মুফতি জসীমুদ্দীন হাটহাজারী মাদরাসা,  জামিয়া নুরিয়ার প্রধান মুফতি আল্লামা মুজিবুর রহমান, মাওলানা আব্দুর রহমান, শায়খুল হাদিস উজানী মাদরাসা চাঁদপুর ,মুফতি ইয়াহইয়া, প্রধান মুফতি লালবাগ মাদরাসা,  মুফতি রশীদুর রহমান ফারুক, পীরসাহেব বরুণা, মাওলানা আবুল কালাম প্রিন্সিপাল, জামিয়া মুহাম্মদিয়া, মোহাম্মদপুর, শায়খুল হাদিস মাওলানা আব্দুল আউয়াল, খতিব, ডি আইটি মসজিদ, নারায়নগঞ্জ মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, প্রিন্সিপাল দেওভোগ মাদরাসা,নারায়ানগঞ্জ, মুফতি মুশতাকুন্নবী কাসেমী, মুহতামিম, দারুল ঊলূম সুধন্যপুর, কুমিল্লা।

বিবৃতিদাতা আলেমদের মধ্যে আরো রয়েছেন মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, সহ-সভাপতি জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম,ড  মাওলানা মোহাম্মদ ঈসা শাহেদী, আমীর ইসলামী ঐক্য আন্দোলন,মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ,  মাওলানামুজিবুর রহমান হামিদী, নায়েবে আমীর বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন,মাওলানা খোরশেদ আলম কাসেমী, নায়েবে আমীর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাযী, ঢাকা, মাওলানা সারোয়ার কামাল আজিজী সভাপতি, নেজামে ইসলাাম পার্টি,মাওলানা সাখাওয়াত হুসাইন নায়েবে আমীর, খেলাফত মজলিস, মাওলানা হাজী ফারুক আহমাদ, শায়খুল হাদিস ইশাআতুল উলূম লক্ষীপুর, শায়খুল হাদিস শাইখ নাসিরুদ্দিন সিলেট ও মুফতি ওমর ফারুক বিন মুফতি নুরুল্লাহ বরিশাল, মাওলানা মুফতি কুতুবুদ্দিন, শায়খুল হাদিস নানুপুর মাদরাসা চট্রগ্রাম, মাওলানা শিব্বির আহমাদ, চরমটুয়া, নোয়াখালী, মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান, পেশ ইমাম, চকবাজার শাহী মসজিদ ঢাকা, মাওলানা মাসুদুল করিম, প্রিন্সিপাল দারুল উলুম টঙ্গী, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস, জামিয়াতুল মানহাল, উত্তরা, ঢাকা, মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী, সম্পাদক মাসিক আদর্শ নারী, মুফতি গোলাম রব্বানী, নীলফামারী, মুফতি নুরুল ইসলাম খান, শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল দরগাপুর মাদরাসা, সুনামগঞ্জ, মুফতি ইফতেখারুল ইসলাম, মুহাদ্দিস, তেঘরিয়া মাদরাসা সুনামগঞ্জ, শায়খুল হাদিস মুফতি আবুল হাসান, রংপুর, মুফতি বশিরুল্লাহ মাদানীনগর মাদরাসা।,মাওলানা আনোয়ারুল করীম, মুহতামিম, রেল স্টেশন মাদরাসা যশোর,মুফতি রফিকুর রহমান খুলনা। মুফতি গোলামুর রহমান প্রিন্সিপাল ইমদাদুল উলুম খুলনা।,মাওলানা আব্দুল হামিদ, সভাপতি বৃহত্তর কুষ্টিয়া ওলামা পরিষদ, মাওলানা আকরাম আলী, বাহিরদিয়া মাদরাসা, ফরিদপুর, মাওলানা ইসমাঈল ইবরাহীম, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস, ভবানীপুর মাদরাসা, গোপালগঞ্জ, মুফতি মুনির হুসাইন, প্রিন্সিপাল রাণীরবাজার মাদরাসা কুমিল্লা, মাওলানা আব্দুল বাসেত আজাদ (বড় হুজুর বানিয়াচং) হবিগঞ্জ,মুফতি লিহাজ উদ্দিন, মুহতামিম জামিয়া নূরিয়া, গাজিপুর, মাওলানা ইউসুফ সাদেক হক্কানী, সভাপতি, সাভার উপজেলা ওলামা পরিষদ, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, প্রিন্সিপাল জামিয়া মাআরিফুল কোরআন ঢাকা,মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, মুহতামিম, হুসনুল কুরআন মাদরাসা, ঢাকা, মুফতি শেখ মজিবুর রহমান, শায়খুল হাদিস জামিয়া আশরাফিয়া পটুয়াখালী, মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, প্রিন্সিপাল দারুল উলুম নতুনবাগ রামপুরা ঢাকা, মুফতি সাঈদুর রহমান, মুহতামিম আল কাউসার আল ইসলামিয়া, কল্যাণপুর ঢাকা, মাওলানা যাকারিয়া নোমান ফয়জী, মেখল মাদরাসা চট্টগ্রাম, মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, মহাসচিব ইত্তিফাকুল মুসলিমীন বাংলাদেশ, জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সেক্রেটারী জেনারেল মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন, মুফতি সাইফুল ইসলাম, প্রিন্সিপাল মোস্তফাগঞ্জ মাদরাসা মুন্সিগঞ্জ, শায়খুল হাদিস মুফতি হাসান ফারুক মুহতামিম জামিয়া ফারুকিয়া, গজারিয়া মুন্সিগঞ্জ, মাওলানা বশিরুদ্দিন, শায়খুল হাদিস দত্তপাড়া মাদরাসা নরসিংদী, মাওলানা আব্দুল হালিম, মুহতামিম খাজা মঈনুদ্দিন মাদরাসা,বরিশাল, মাওলানা আলী আহমাদ পীরসাহেব চন্ডিবর্দী, মাদারীপুর, মুফতি শফিউল্লাহ খান, সভাপতি, শরীয়তপুর উলামা পরিষদ, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস, মনুয়া মাদরাসা, শরীয়তপুর, মুফতি রশিদ আহমদ, প্রধান মুফতি বৌয়াকুর মাদরাসা, নরসিংদী, মুফতি রঈসুল ইসলাম, প্রধান মুফতি জামিয়া ফয়জুর রহমান, ময়মনসিংহ, মাওলানা আব্দুর রহমান খান তালুকদার, সভাপতি, সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ ভোলা, মাওলানা আবুল কাসেম, প্রিন্সিপাল, জামিয়া মিফতাহুল উলুম নেত্রকোনা, মাওলানা আব্দুল মতিন, সহকারী প্রিন্সিপাল নেত্রকোনা কামিল মাদরাসা, মুফতি আব্দুল বারী, নেত্রকোনা, মুফতি আবু দাউদ, প্রিন্সিপাল মঙ্গলবাড়ীয়া মাদরাসা কুষ্টিয়া, মুফতি মাসউদুর রহমান, প্রধান মুফতি ভবানীপুর মাদরাসাম গোপালগঞ্জ। মাওলানা আব্দুর রাশেদ ফরিদপুর,মাওলানা আব্দুল মতিন, খলিফা হাফেজ্জী হুজুর রহ.।

এছাড়া আরো বিবৃতি দিয়েছেন, মুফতি শিহাবুদ্দিন কাসেমী, কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ, মুফতি আরিফ বিল্লাহ, সভাপতি ঝিনাইদহ ওলামা পরিষদ, মাওলানা শফিউল্লাহ, মুহতামিম জামিয়া ইসলামিয়া চৌমুহনী নোয়াখালী, মুফতি আব্দুস সালাম, মুহাদ্দিস ধুলেরচর মাদরাসা টাঙ্গাইল, মাওলানা গাজী ইউসুফ, ফেনী, মাওলানা আব্দুল হাই উত্তরা, ঢাকা, মাওলানা আব্দুল হক, কক্সবাজার, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, রামু, কক্সবাজার, মাওলানা আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী, টেকনাফ কক্সবাজার, মাওলানা আব্দুল হক কাউসারী পটুয়াখালী, মুফতি আজমল হুসাইন, সভাপতি, ইত্তেহাদুল উলামা, রাজশাহী, মুফতি আব্দুল্লাহ শায়খুল হাদীস ও প্রধান মুফতি, জামিয়া ইশাআতুল উলূম, নেত্রকোনা। মাওলানা ইসমাঈল মাহমূদ, শিক্ষাসচিব, রেলওয়ে মাদরাসা, সিরাজগঞ্জ, মাওলানা শরীফুল ইসলাম,মুহতামিম, নিউটাউন মাদরাসা, দিনাজপুর, মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী দিনাজপুর।

যৌথ বিবৃতিদাতা হিসেবে আরো ছিলেন,  মাওলানা আরিফুল ইসলাম, সভাপতি, ইশাআতে ইসলাম, দিনাজপুর, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, সভাপতি বাংলাদেশ আইম্মা পরিষদ, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, প্রিন্সিপাল চরিতাবাড়ী মাদরাসা লালমনিরহাট, মুফতি আব্দুল আজীজ, হাটহাজারী, মাওলানা এনামুল হক মুসা, সভাপতি সচেতন ওলামা সমাজ, মাওলানা সাজেদুর রহমান ফয়েজী, সভাপতি ইমাম ও ওলামা পরিষদ, মুফতি ইলিয়াস মাদারীপুরী, সভাপতি জাতীয় ইমাম সমাজ কামরাঙ্গীরচর, মুফতি আবুল কালাম, প্রিন্সিপাল, দারুল উলূম মিরপুর-৬, মাওলানা মীর ইদরীস, প্রিন্সিপাল দারুল হুদা, চট্রগ্রাম, মুফতি সামসুদ্দিন বড়াইলী, মারকাজুল হুদা ঢাকা, মুফতি আখতারুজ্জামান, প্রধান মুফতি দারুল উলুম মাহমুদিয়া ঢাকা, মাওলানা আশরাফুজ্জামান পাহাড়পুরী, পরিচালক, আল মারকাযুল ইলমী বাংলাদেশ।

মসজিদ খোলার পক্ষে আরো বিবৃতি দিয়েছেন,  মাওলানা আহসান উল্লাহ, প্রিন্সিপাল মাহফুজুল কোরআন মাদরাসা, ঢাকা, মাওলানা মুফতি রেজাউল করিম, সেক্রটারী বৃহত্তর কুষ্টিয়া ওলামা পরিষদ, মুফতি আব্দুল বারী, প্রধান মুফতি মদিনাতুল উলুম আমীনবাজার ঢাকা, মাওলানা মাসউদুর রহমান বিক্রমপুরী, মুফতী ইলিয়াস মাদারীপুরী, মুফতী আঃ হাফিজ গোপালগঞ্জ, মুফতি আব্দুর রহমান আজাদ বাগেরহাট, মুফতী আব্দুর রহমান বেতাগী পটুয়াখালী, মুফতী রাইহান ফরহাত ঢাকা, মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জ, মুফতী আফজাল হুসাইন শরীয়তপুর, মুফতী হাবিবুর রহমান শরীয়তপুর, মুফতি আবু মূসা শরীয়তপুর, মুফতি জাকির বিল্লাহ মাদারীপুর, মুফতি খায়রুজ্জামান ফরিদপুর, মাওলানা বেলাল মাদারীপুর প্রমুখ।

Videos on social media purportedly of the fire showed burning debris falling from a tower engulfed in flames [Screenshot]
মঙ্গলবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় একটি আবাসিক টাওয়ারে আগুন লাগে। এসময় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার বিগ্রেডের সদস্যরা।

শারজাহের আল নাহদা এলাকার ৪৮ তলা অ্যাবকো টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ফলে সাতজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ফায়ার বিগ্রেডের মিডিয়া সেল জানিয়েছে।

ভবনটিতে আগুন লাগার পরে তার লেলিহান শিখা আকাশে দেখা যায় এবং থেকে তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে, যা সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল। কর্তৃপক্ষ অগ্নিসংযোগের তাত্ক্ষণিক কারণ জানাতে পারেনি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, শারজাহ সিভিল ডিফেন্সের (এসসিডি) সদস্যরা ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি দ্রুত ছিল নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর ছিল।

গাল্ফ নিউজ পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, এসসিডি জানিয়েছে,  স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৯. টা নাগাদ বাংলাদেশ জিএমটি) আগুন শুরু হয়েছিল।

খালিজ টাইমস জানিয়েছে, আগুনে আবাসিক টাওয়ারটির নিকটবর্তী অন্তত পাঁচটি বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং  ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যা পরে সরিয়ে নেয়া হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উঁচু উঁচু টাওয়ারগুলো প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়েছে।

ভবন সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং অন্যান্য যেসব স্থানে আগুন ধরেছে সেসব জায়গার ভবনগুলোতে ভবন নিরাপত্তা নিশ্চিতের আইন অনুযায়ী নকশা করা হয়নি এবং দ্রুত আগুন নির্বাপনেরও তেমন কোন বিশেষ ব্যবস্থা নেই।
সূত্র- আল জাজিরা ও নিউজ এজেন্সি


রাজধানীতে ধর্ষণ-খুনের অভিযোগে ...

নিউজ ডেস্ক: এই রমজানেই ইমাম মাহাদী আসবেন । প্রথম ৩১৩ সেনার তালিকায় নাম ঢোকাতে যেতে হবে সৌদি আরব। প্রকৌশলী সৈয়দ মোস্তাক মো. আরমান খানের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে একটি দল আগেই দেশ ছেড়েছিল। আরেক দল আগেই ধরা পড়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের হাতে।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ১৭ জনের একটি দলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ দলে আরও দুজন ছিলেন। তাঁরা পালিয়ে গেছেন। ওই দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

দলটিতে ছাত্ররা ছাড়াও সরকারি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক, চারজন প্রকৌশলী ও কৃষিবিদ রয়েছেন বলে জানান সাইফুল ইসলাম।

৪ মে কাকরাইল থেকে যে ১৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁরা হলেন মো. হায়দার আলী (৪৪), মো. মাহমুদুল হাসান ওরফে মাসুম, মো. জামিরুল ইসলাম (২৪), মো. বিল্লাল হোসেন (৩৮), মো. শেখ আরাফাত ওরফে জনি (৪৮), মো. ইমরুল হাসান ওরফে ইমন (২৫), মো. সাইফুল ইসলাম (২৫), মো. মোজাম্মেল হক (৩৩), মো. শাহজালাল(৩৪), মো. আক্তারুজ্জামান (৩০), মো. মাহমুদুল হাসান ওরফে সাব্বির (২৩), মো. আবিদ উল মাহমুদ ওরফে আবিদ (২২), মো. সোহাইল সরদার (৩৩), মো. ওবায়দুল ইসলাম ওরফে সুমন (৩০), মাহমুদ হাসান ওরফে শরীফ (১৮), মো. মাজেদুল ইসলাম ওরফে মুকুল ( ২৮) ও মো. সোহাগ হাসান (২০)।

এই সময় তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ১৯টি মুঠোফোন, ২ লাখ ৩৪ হাজার বাংলাদেশি টাকা ও ৯২২ আমেরিকান ডলার জব্দ করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী অতিরিক্ত উপকমিশনার তহিদুুল ইসলাম জানান, প্রকৌশলী সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান বাংলাদেশ থেকে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে যান এবং সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি ইমাম মাহাদীর সৈনিক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন এবং এবং গাজওয়াতুল হিন্দে মুসলিমদের পক্ষে জিহাদ করার আহ্বান জানিয়ে অডিও–ভিডিও প্রকাশ করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ইমাম মাহাদীর সৈনিক হিসেবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, তাঁরা সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় তাঁরা হিজরতের সিদ্ধান্ত নেন।

দলটির পরিকল্পনা ছিল তাবলিগ-জামাত পরিচয়ের আড়ালে সাতক্ষীরা বা বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তারা ভারত-কাশ্মীর সীমান্ত হয়ে সৌদি আরব পৌঁছাবেন। তাঁদের বলা হয়েছিল, করোনার দুর্যোগে আকাশ থেকে এক ধরনের গজব নেমে আসবে এবং সবকিছু ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যাবে, তখন সীমান্তে কোনো পাহারা থাকবে না। ইমানদারদের শুধু হালকা কাশি হবে। এই সময় তাঁরা যেন চলে আসেন।

এই বিশ্বাস নিয়ে গত ১৮ মার্চ তাঁরা প্রথমে সাতক্ষীরা ও পরে যশোর সীমান্তের কাছে বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান করেন। এসব কিছুই না ঘটায় তাঁরা সাতক্ষীরা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে পার হতে ব্যর্থ হন। পরে ঢাকা হয়ে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই ধরা পড়ে যান।

তহিদুুল ইসলাম বলেন, সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের প্ররোচনায় এবং তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্র গত জানুয়ারি মাসে ওমরা করতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময় সাদ, কাউসার, শরীফ, তোফাজ্জল, গিয়াসউদ্দিন, আলী আজম ও রাশেদ নামের আরও সাতজন ইমাম মাহাদীর সৈনিক হিসেবে যোগদানের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে হিজরত করেছেন বলে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশাসন ব্যর্থ ...

নিউজ ডেস্ক: তৈরি পোশাক কারখানা খোলায় ও দোকানপাটে আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে করোনাভাইরাস–সংক্রান্ত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শ কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এই কথা বলেন। 

প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মৃত্যু হচ্ছে, তার জন্য দুঃখিত, তবে মৃত্যুর হার অন্য দেশের তুলনায় কম আছে। সংক্রমণ কিছু বেড়েছে। গত আট–দশ দিনে ৪০০-৫০০ করে দেখেছি। এখন ৭০০। যেহেতু কিনা এখন স্বাভাবিকভাবেই মার্কেট খোলা হয়েছে (খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে), গার্মেন্টস খোলা হয়েছে, দোকানপাটে আনাগোনা বাড়ছে। কাজেই সংক্রমণ যে বৃদ্ধি পাবে, এটি আমরা ধরেই নিতে পারি। আমাদের যতটুকু সম্ভব এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জীবন-জীবিকা দুটোই পাশাপাশি যাবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চেষ্টা করবে যাতে রোগী না বাড়ে। আমাদের ম্যান্টেড হলো যাতে রোগীগুলো অধিক চিকিৎসা পায়।'

উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল থেকে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা খোলা হয়েছে। গতকাল সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১০ মে থেকে হাটবাজার, ব্যবসাকেন্দ্র, দোকানপাট ও শপিং মলগুলো শর্ত সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে খোলা হবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দোকানপাটও হয়তো খুলে যাবে। এ বিষয়ে কারিগরি কমিটি যে সুচিন্তিত পরামর্শ দেবে, সেগুলো যথাযথ জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হবে। তারপর সরকারের যে নির্দেশনা থাকবে, সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।

বৈঠকে কারিগরি কমিটির পক্ষ থেকে হাসপাতালগুলোতে সব ধরনের রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো রোগীকে যেন কোনো হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেছে কমিটি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোভিড রোগীদের পাশাপাশি অন্য রোগীদের সুচিকিৎসা বজায় রাখতে হবে।

এ ছাড়া করোনাভাইরাস শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

চিকিৎসকদের বেশি আক্রান্ত হওয়া নিয়েও কারিগরি কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। কমিটি হাসপাতালে যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের আরও উৎসাহ দেওয়া, সমস্যগুলো দূর করার পরামর্শ দিয়েছে। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারে বেশি নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। এ ছাড়া ঈদের সময় যাতায়াতের বিষয়েও কমিটি মতামত দেবে।
-পিএ

সাত খুন মামলার এক আসামি গ্রেপ্তার
প্রবচন ডেস্ক: ইসলামীক ফাউন্ডেশনের (ইফা) করোনা বিষয়ক প্রচারণায় বাধা দেয়ার মামলায় মাগুরা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুর রহিমকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মাগুরা সদর থানার ওসি জয়নাল আবেদীন জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জুমার জামায়াতে ইমামসহ সর্বোচ্চ ১২ জন মুসল্লি থাকার কথা। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত শুক্রবার শহরের ভায়না পৌর গোরস্থানে শতাধিক মানুষের জমায়েত হয়। খবর পেয়ে ইসলামীক ফাউন্ডেশন মাগুরার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সেখানে গিয়ে মুসল্লিদের করোনা পরিস্থিতে সরকারি নির্দেশনার কথা জানান। এ সময় সেখানে উপস্থিত আব্দুর রহিম তাকে গালিগালাজ করেন এবং এক পর্যায়ে ধাক্কা দেন। 

তিনি জানান, এ ঘটনায় মনিরুজ্জামান ওই দিন সন্ধ্যায় মাগুরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যার ভিত্তিতে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আব্দুর রহিমকে পুলিশ তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে সদর থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে।


তুর্কমেনিস্তানে 'করোনা' শব্দ ...

নিউজ ডেস্ক: সরকার সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়িয়েছে আরো ১১ দিন। ছুটি কার্যকর থাকবে ১৬ মে পর্যন্ত। নতুন ছুটির সময় থেকে রাত ৮টা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত বিশেষ প্রয়োজন (চিকিৎসা, লাশ দাফন, জরুরি সেবার কাজ) ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবে না।

সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আলাদা আদেশ জারি করে এ নির্দেশনা দিয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা ছিল।


প্রবচন ডেস্ক: গত কয়েকদিন আগে খবর রটে বলিউড সুপারস্টার আমির খান দিল্লির একটি বস্তি এলাকার অসহায় পরিবারকে আটার ব্যাগের মধ্যে ১৫ হাজার টাকা করে সাহায্য পাঠিয়েছেন। এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আমিরের প্রশংসায় মেতে উঠেন অনেকে। ভক্তরা এই তারকার প্রশংসা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

কিন্তু সব শেষে এটি আমির খানের কাজ নয় বলেই জানালেন তিনি।  কাজটি তার নয় বলে মন্তব্য করে টুইট বার্তায় জানান আমির খান। পাঠানো ব্যক্তি তিনি নন বলেও জানিয়েছেন।

টুইটারে আমির খান লেখেন, আটার ব্যাগের মধ্যে টাকা দেওয়ার মানুষটি আমি নই। হয় এটা সম্পূর্ণ গুজব, নয় তো সেই রবিনহুড নিজের নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক। সবাই সুস্থ থাকুন, ভালোবাসা রইলো।

ঘটনাটির সূত্রপাত হয় এক টিকটক ব্যবহারকারীর মাধ্যমে। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, আমির খান দিল্লির বস্তি এলাকায় আটার ব্যাগের মধ্যে ১৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। মুহূর্তেই বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। চলে আসে আলোচনায়।

আমির খান ব্যাগের মধ্যে টাকা না পাঠালেও করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ডে বড় অংকের সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়া সিনেমার শ্রমিকদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন তিনি।


সাজা কমিয়ে সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

নিউজ ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ওই শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ সোলায়মান ইসলাম (৪০)। তিনি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী কে এন ইনস্টিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক।

ওসি আশরাফুল আলম জানান, সোলায়মান ইসলামের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের আবুডাঙ্গা গ্রামে। গত শনিবার রাতে ফেসবুকে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে তিনি স্ট্যাটাস দেন। পরদিন (রোববার) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান।
-ওআই

দোকান-শপিংমল খোলা রাখা যাবে বিকেল ...
প্রবচন ডেস্ক: আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কেনাকাটা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য শর্তসাপেক্ষে দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। তবে তা সর্বোচ্চ বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে দেয়া এক আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়।

দোকানপাট খোলা রাখার বিষয়ে বলা হয়, রমজান ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে সীমিত পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখার স্বার্থে দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। তবে বেচাকেনার সময় পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। বড় শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিং মলে আসা যানবাহনকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। দোকানপাট এবং শপিং মল বিকেল ৫টার মধ্যে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

এ বিষয়ে মন্ত্রপরিষদ সচিব খন্দকাল আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সর্বোচ্চ পাঁচটা পর্যন্ত বলা হয়েছে। কিন্তু নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন তাঁদের সুবিধামতো নির্দেশনা দিতে পারবে। অর্থাৎ তার আগেই বন্ধ রাখার কথা বলতে পারে।

আদেশে আরও বলা হয়, সাধারণ ছুটির সময় এক জেলা থেকে আরেক জেলা এবং এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। ছুটির সময় আন্তজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।
আগে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত বাইরে যাওয়ার বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও নতুন আদেশে বলা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাত আটটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে আসা যাবে না।


রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তার দাবিতে সড়ক অবরোধ ও সিটি করপোরেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকসহ নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষ। এ সময় বিক্ষুব্ধরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে নগরীর গুরুত্ব সড়কের দু'পাশের যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

সোমবার (৪ মে) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত রংপুর সিটি করপোরেশনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল চলে। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রিকশা, ভ্যান, ঠেলা ও অটোবাইক শ্রমিকসহ শত শত দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ অংশ নেন।

নগরীর সিটি বাজারের কাছ থেকে টাউন হল চত্বর সড়ক এলাকা পর্যন্ত বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়াতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মহামারি করোনা মোকাবিলায় লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা বেকার হয়ে পড়ে আছেন। সরকারি, বেসরকারিভাবে তেমন ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন না। এতে হাত গুটিয়ে বসে থাকায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই পরিস্থিতিতে তারা বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছেন।

দিনমজুর ও শ্রমিকরা জানান, পাঁচ কেজি চাল আর সামান্য তেল ডাল দিয়ে এক মাস সংসার চালানো অসম্ভব। ঘরে রাখতে হলে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা দিতে হবে। অন্যথায় উপার্জনের বাহন নিয়ে সড়কে নামার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

এ সময় অনেকেই অভিযোগ করেন, ত্রাণ দেয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্র কার্ডের ফটোকপি নেয়া হলেও ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছেনি। খাদ্যের ব্যবস্থা করে দিতে না পারলে লকডাউন তুলে নেয়ার দাবি জানান তারা।

এদিকে বিক্ষোভকারীরা সিটি করপোরেশনের ভেতরের প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসময় সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন মিঞা, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সাফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডলসহ সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা সেখানে উপস্থিত হন। তাদের দাবি-দাওয়া শোনার পরে মেয়রের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা চলে যান। পরে স্থানীয় শ্রমিক নেতাদের সাথে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়।
-বি২


Top WhatsApp Features To Expect In 2020! - News Case

প্রবচন ডেস্ক: কভিড-১৯-এর কারণে মানুষ যখন বন্ধুবান্ধব ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নভাবে জীবনযাপন করছে, তখন যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ হয়ে উঠেছে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ডাক্তার, শিক্ষক ও দূরবর্তী প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এ সময়ে আপনার সব বার্তা এবং কলগুলোর গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। গত বছর একাধিকবার ফরোয়ার্ড করা হয়েছে- এমন মেসেজ নির্দেশ করতে 'ডাবল অ্যারো' চিহ্নটি হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করা হয়েছে। এই চিহ্নের অর্থ মেসেজটি যে পাঠিয়েছে তার নিজের লেখা নয়; বরং অন্য কারও কাছ থেকে আসা মেসেজ। কার্যত হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো সাধারণ বার্তাগুলোর তুলনায় এই বার্তাগুলো কম ব্যক্তিগত। এ সময়ে হোয়াটসঅ্যাপের এক মুখপাত্র বলেন, আমরা এখন একটি সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছি, যাতে এই বার্তাগুলো একবারে শুধু একটি চ্যাটেই ফরোয়ার্ড করা যায়।

ব্যক্তিগত মেসেজিং সার্ভিস হিসেবে আমরা চ্যাটগুলোর গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে কয়েক বছর ধরে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছি। উদাহরণস্বরূপ, মেসেজগুলো ভুল মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়া রোধ করতে ফরোয়ার্ডকৃত মেসেজগুলোর জন্য একটা সীমা নির্ধারণ করার ফলে বিশ্বব্যাপী অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ ফরোয়ার্ড হ্রাস পেয়েছে ২৫ শতাংশ।

কিন্তু সব ফরোয়ার্ডকৃত মেসেজ ভুয়া নয়। অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, মজার ভিডিও, মিম এবং যে দোয়াগুলো তাদের কাছে অর্থবোধক বলে মনে হয় সেগুলো ফরোয়ার্ড করেন। সম্প্রতি ব্যবহারকারীরা ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষে জনসমর্থন পাওয়ার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছে। তবে ফরোয়ার্ডিংয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের কাছে কখনও কখনও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভুল তথ্য ছড়াতে ভূমিকা রাখছে। হোয়াটসঅ্যাপের ওই মুখপাত্র আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই মেসেজগুলো ছড়ানোর গতি কমানোর মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপকে ব্যক্তিগত যোগাযোগের একটি মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।

এই পরিবর্তন ছাড়াও মানুষ যাতে সঠিক তথ্য পেতে পারে সে জন্য এনজিও এবং স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছে এমন ২০টিরও বেশি জাতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। এই বিশ্বস্ত মাধ্যমগুলো সেই আগ্রহী ব্যবহারকারীদের সরাসরি তথ্য ও পরামর্শ সংবলিত মেসেজ প্রেরণ করেছে। কীভাবে ভুয়া তথ্য ও গুজব করোনাভাইরাস ইনফরমেশন হাবের ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থাগুলোর কাছে রিপোর্ট করতে হবে সে সম্পর্কেও জানতে পারেন। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই পরিস্থিতিতে মানুষের একে অন্যের সঙ্গে আগের চেয়েও বেশি সংযুক্ত থাকা প্রয়োজন। এই বিশ্বব্যাপী সংকটের সময়ে হোয়াটসঅ্যাপ যাতে নির্ভরযোগ্যভাবে মানুষের যোগাযোগে ভূমিকা রাখতে পারে সে জন্য আমাদের টিম কঠোর পরিশ্রম করছে। আমরা ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া শুনে সে অনুযায়ী আপনার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করতে থাকব।

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

প্রবচন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রখ্যাত মুফাচ্ছেরে কোরআন, বাংলাদেশ খেলাফত ইসলামের সাবেক সিনিয়র নায়েবে আমির ও জামিয়া রাহমানিয়া বেড়তলা সরাইল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মরহুম আল্লামা হাফেজ যুবায়ের আহমাদ আনসারীর জানজায় অংশগ্রহণকারীদের করোর করোনা উপসর্গ দেখা দেয়নি।

জানযায় অংশগ্রহণকারী জনস্রোতকে কেন্দ্র করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানাযাস্থলের আশপাশের ১০টি গ্রাম লকডাউন করা হয়। ১০ গ্রামে করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ১৮ এপ্রিল লকডাউন করা ১০ গ্রামের জনসাধারণের সীমিত চলাচলের পাশাপাশি সেখানকার জনগণকে ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার আদেশ শুক্রবার (১ মে) শেষ হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জানাযার আশেপাশের ১০টি গ্রামে গত ১৪ দিনে কোনো উপসর্গ না পাওয়ায় কোনো ব্যক্তি সনাক্ত হয়নি। গ্রামগুলো আপাতত ঝুঁকিমুক্ত ও স্বাভাবিক মনে করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল শুক্রবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মার্কায পাড়ায় নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন আল্লামা হাফেজ যুবায়ের আহমদ আনসারী। পরদিন সকাল ১০টায় সরাইল উপজেলার জামিয়া রাহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

করোনা পরিস্থিতিতে পুরো জেলা লকডাউন থাকা সত্বেও স্বতস্ফূর্তভাবে হাজার হাজার আলেম-ওলামা, মাদরাসার ছাত্র, শিক্ষক ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ তৌহিদি জনতা উক্ত জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় জানাযার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে পার্শ্ববর্তী ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মহাসড়কে কাতারবন্দী হয়ে মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।

জনতার ঢল থামাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে সরাইল সার্কেলের এএসপি মাসুদ রানা, সরাইল থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো ও একই থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল হককে প্রত্যাহার করা হয়। সেই সাথে এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করে পুলিশ বিভাগ।

জানাযার পর বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের মন্তব্য করার পাশাপাশি জানাজা স্থলের আশপাশে করোনা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা করেন অনেকেই। কিন্তু ১০ গ্রামের হোম কোয়ারান্টাইনের ১৪ দিন পার হলেও সেখানে কোনো প্রকার করোনা শনাক্তের লক্ষণ দেখা না যাওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আলিয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এই আলেমেদ্বীনের জানাজাকে কেন্দ্র করে লকডাউন করা গ্রামগুলোতে করোনা লক্ষণ দেখা না যাওয়ার খবরে খুশি এলাকাবাসী।



মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও তারেকুল ইসলাম: আজ ঐতিহাসিক ৫ মে। ২০১৩ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেম শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে ‘হেফাজতে ইসলাম’ নামক একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ইসলামবিদ্বেষী ও নবী সা:-এর অবমাননাকারী ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলে। তারা দাবি আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ ‘ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি’ পালন করে শাপলা চত্বরে জমায়েত হন। কিন্তু সরকার হেফাজতের মূল দাবি আমলে না নিয়ে সেদিন মধ্যরাতে ওই এলাকার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে অন্ধকারে কাপুরুষের মতো নিরস্ত্র লাখ মানুষের ওপর বর্বরোচিত অভিযান পরিচালনা করে। এই ক্র্যাকডাউনে অনেক নিরীহ আলেম-হাফেজ-মুফতি-মুহাদ্দিস-কারি ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান শাহাদতবরণ করেন বলেই জনগণের বিশ্বাস।

যৌথবাহিনীর গুলিতে আহতের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। এখনো আহত অনেকে বুকে ও শরীরে বুলেট বহন এবং অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ব বরণ করে যন্ত্রণাকাতর জীপন যাপন করছেন। সরকার কর্তৃক বহু লাশ গুম করার অভিযোগ উঠেছিল। পরে হামলা-মামলা ও পেশিশক্তির জোরে হেফাজতের নিরীহ নেতাকর্মীদের হয়রানি ও জেল-জুলুমের মাধ্যমে এবং নানা কৌশল ও হুমকি-ধমকি দিয়ে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়। এমনকি সরকারের নানামুখী চাপে শাপলা চত্বরে নিহতদের সঠিক সংখ্যা এবং তাদের সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যাদি সংগ্রহের ক্ষেত্রেও হেফাজতকে চরমভাবে বাধা দেয়া হয়। নিবর্তনমূলক রাষ্ট্রযন্ত্রের চরম দমনপীড়ন সত্ত্বেও হেফাজতে ইসলাম শানে রেসালাত সম্মেলন, ওয়াজ-মাহফিল, তাফসির মাহফিল ও সিরাতুন্নবী সা: সম্মেলনের মাধ্যমে দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। এসব কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগম লক্ষণীয় ।

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশে মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ এবং ইসলামপন্থীদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় উদাহরণ, শাপলা চত্বরে নিহতদের সংখ্যা প্রকাশ করার ‘অপরাধে’ অধিকার-এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান শুভ্রকে গ্রেফতার করা হয়। শাপলা চত্বরের গণহত্যার ব্যাপারে সরকার মূলত দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অন্ধকারে রাখতে চায়; কিন্তু ইনশাআল্লাহ সত্য এক দিন স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হবেই।

হেফাজতের মূল দাবির সত্যতা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও মহান আল্লাহ পাক ও তাঁর রাসূল সা:-এর অবমাননাকারী, ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সরকার আদৌ মেনে নেয়নি। গণ-আন্দোলনের মুখে কয়েকজন চিহ্নিত ব্লগারকে গ্রেফতারের নাটক সাজালেও তাদের শাস্তি না দিয়ে পরে সুযোগমতো জামিনে ছেড়ে দেয়া হয়। এর পরিণতিতে ‘সুবহানাল্লাহ’ নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ধর্মদ্রোহী লতিফ সিদ্দিকী, ইসলামের সুদ তথা রিবা নিয়ে অপব্যাখ্যাদানকারী ও কওমি মাদরাসাবিরোধী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুুহিত, পর্দাবিদ্বেষী সমাজকল্যাণমন্ত্রী মহসিন আলীরা খোদ রাষ্ট্রের কোটর থেকেই একে একে স্বরূপে বেরিয়ে এসেছেন। যদি সরকার হেফাজতের দাবি আমলে নিয়ে ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারদের বিচার করত, তাহলে কোনো মন্ত্রী বা নেতা ইসলামি মূল্যবোধ ও তৌহিদি জনতার ঈমান-আকিদায় আঘাত করে কথা বলার সাহস পেতেন না।

হেফাজতে ইসলাম মুসলমানদের ঈমান-আকিদা রক্ষার লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। ঈমান-আকিদার সঠিক চর্চা, সংরক্ষণ ও লালন করা না হলে মানবজীবন অভিশপ্ত ও নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। ঈমান-আকিদাই হচ্ছে মুসলিম জীবনের সামগ্রিক ব্যবস্থার মূলভিত্তি। শুধু কালেমায়ে শাহাদাত পড়ে মুসলিম নাম ও বেশ ধারণ করলেই ঈমান-আকিদার শর্তগুলো পূরণ হয় না। আল্লাহর একক অস্তিত্বের প্রতি নিরঙ্কুশ বিশ্বাস ও তাকওয়া এবং একইসাথে মানব জাতির জন্য আল্লাহ প্রেরিত নির্দেশনামূলক সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা তথা কুরআন ও রাসূল পাক সা:-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে জীবন যাপন করাই হলো ঈমান-আকিদা মোতাবেক চলা। এখান থেকে বিচ্যুত হলেই ইহজীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে বাধ্য; কেননা ঈমান-আকিদার প্রতি উদাসীনতা এবং এর অনুপস্থিতি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বেইনসাফি ও জুলুম কায়েম হওয়ার পথ সুগম করে দেয়। ঈমান-আকিদা সার্বিক ন্যায় ও ইনসাফের কথা বলে। শুধু ভোগের মধ্যেই নয়, ত্যাগেও যে সুখ আছে সেটার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। ঈমান-আকিদা হচ্ছে মহান প্রভুর কাছে দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার ব্যাপারে উন্মুখ থাকা। ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতা ও উন্নাসিকতা দমন করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে এটা। আধ্যাত্মিক সঞ্জীবনী ও অন্তরের আত্মশুদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে শত আইন-কানুনেও মানুষের সহজাত রিপুর তাড়না ও পঞ্চ ইন্দ্রিয় সংযত করা অসম্ভব। মুসলমানদের আধ্যাত্মিক চেতনা তথা তাকওয়ার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির মূল নিয়ামক হলো ঈমান-আকিদা। ইসলাম গ্রহণের বা মুসলমান হওয়ার মূল শর্তই হলো ঈমান-আকিদার সর্বব্যাপী চর্চা ও সংরক্ষণ করা। আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম ধর্মপ্রাণ জনতাকে সাথে নিয়ে সমকালীন ফিতনা এবং ভোগবাদী ও বস্তুবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ঈমান-আকিদার চর্চা ও সংরক্ষণের লড়াই করে যাচ্ছে।

জনগণ যখন ঈমান-আকিদার ব্যাপারে উদাসীন বা অসচেতন হয়ে পড়ে, সেই সুযোগে রাষ্ট্রক্ষমতায় জালিম শাসকের অধিষ্ঠান সম্ভব হয়- এটা এক ধরনের খোদায়ী অভিশাপ। আল্লাহর জমিনে বাস করে এবং তাঁর অপার নেয়ামত ভোগ করে বান্দা কর্তৃক অবাধ্যতা ও বিরোধিতা কখনোই আল্লাহ তায়ালা বরদাশত করেন না। ঈমান-আকিদা চর্চার ফলে শাসক ও শাসিত উভয়ের মধ্যেই তাকওয়া বা আল্লাহভীতি সৃষ্টি হয়, ফলে জনগণ যখন ঈমান-আকিদার চর্চা করে, তখন তাকওয়ার কল্যাণে শাসকের পক্ষেও জুলুম-শোষণের পথে পা বাড়ানো সম্ভব হয় না। তাই ঈমান-আকিদার চর্চা এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের কর্তব্যকে হেফাজত রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে অবশ্য পালনীয় মনে করে। বিপুল ত্যাগ স্বীকার এবং প্রাণদানের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলাম ঈমান-আকিদা রক্ষার আপসহীন লড়াইয়ের পথ ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কায়েমি স্বার্থান্বেষী সব রাজনৈতিক শক্তির বিকল্প হিসেবে নিজের সম্ভাবনাকে ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

হেফাজতে ইসলাম ভুঁইফোঁড় কোনো সংগঠন নয়। হেফাজতের উত্থান এবং শাপলা চত্বরে অপরিমেয় ত্যাগ স্বীকারÑ ইতিহাস-বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনাও নয়; অধিকন্তু উপমহাদেশের ওলামায়ে কেরামের বিশাল এক সংগ্রামী ও আত্মদানের ইতিহাসের ধারাবাহিকতারই নব উপাখ্যান সৃষ্টি হয়েছে। স্বেচ্ছাচারী রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে মজলুম জনতার সঙ্ঘবদ্ধ সংগ্রামের প্রেরণা নিয়ে প্রতি বছর ঐতিহাসিক ৫ মে ফিরে আসে। এই প্রেরণা যুগে যুগে মানবিক ও নাগরিক মর্যাদা নিয়ে ঈমান-আকিদায় পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বাঁচার তাগিদে সংগ্রামী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বারবার উজ্জীবিত করে তুলবে।

শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের রক্ত ও প্রাণ বিসর্জন বৃথা যাবে না ইনশাআল্লাহ। ইতিহাসের পর্যালোচনায় দেখা যায়, পলাশীর বিপর্যয়ের পর একের পর এক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনগুলো, তথা ফরায়েজী আন্দোলন, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার ধ্বংস, বালাকোটের শাহাদতবরণ, রক্তাক্ত সিপাহি বিদ্রোহ কোনোটিই শেষ বিচারে ব্যর্থ হয়নি, বরং উপমহাদেশের ওলামায়ে কেরামের এই সুদীর্ঘ রক্ত, আত্মদান ও শাহাদতের পথ ধরেই ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির কবল থেকে ভারতকে স্বাধীন করা সম্ভব হয় এবং যথাক্রমে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সৃষ্টির পথ সুগম হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র তথা পাকিস্তান বানানো গেলেও সেটা ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি ইসলামি সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি। ঠিক তেমনই পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জুলুম-শোষণের নিগড় থেকে মুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে ৯ মাসের রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হলেও এখানে মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার ও ন্যায়-ইনসাফ নিশ্চিত করে একটি শোষণ-বঞ্চনাহীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে। তবে হেফাজতের রক্ত ও প্রাণ বিসর্জনের বদৌলতে এ দেশে শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিপীড়িত সাব-অলটার্নরা ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান হয়ে রুখে দাঁড়ানোর হিম্মত অর্জন করেছে।
বাংলাদেশে বিশুদ্ধ কুরআন-হাদিস ও ইসলামি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হলো কওমি মাদরাসা; আর এই কওমি মাদরাসার আলেম ও ছাত্র-শিক্ষকরাই ন্যায়-ইনসাফ ও শান্তির পক্ষে এবং সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, জুলুম ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কুরআন-হাদিসের বাণী প্রচার করে যাচ্ছেন। তারাই শাহ ওয়ালীউল্লাহর সংগ্রামী আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের পর উপমহাদেশে আলেম সমাজের ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ কিছুটা স্তিমিত হলেও তারা ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা-চেতনা, ইসলামি শিক্ষা, মূল্যবোধ ও দ্বীনি সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে মাদরাসা স্থাপনের কাজে ব্যাপৃত হন। হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা কাসেম নানতুবী (রহ:) ১৮৬৬ সালে ওলামায়ে কেরামের বহুল কাক্সিক্ষত প্রথম মাদরাসা বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেন। উল্লেখ্য, মাওলানা কাসেম নানতুবী (রহ:) সিপাহি বিদ্রোহের সময় ঐতিহাসিক থানাভবন ফ্রন্টে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। তিনি সুকৌশলে গ্রেফতার এড়িয়ে তার কার্যক্রম গোপনে অব্যাহত রাখেন। পর্যায়ক্রমে এই ধারার অজস্র মাদরাসা সমগ্র উপমহাদেশে গড়ে ওঠে। বাংলাদেশে এগুলো ‘কওমি মাদরাসা’ নামে পরিচিত। বিশেষত চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায় বাংলাদেশের বৃহত্তম কওমি মাদরাসা তথা দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসা ১৮৯৬ সালে স্থাপিত হয়। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ কওমি মাদরাসা। এই মাদরাসার বর্তমান মুহতামিম শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (দা.বা.)। তিনি দেওবন্দ মাদরাসার সাবেক শায়খুল হাদিস, আওলাদে রাসূল সা: সাইয়েদ হোসাইন আহমদ মাদানীর একজন সুযোগ্য ছাত্র ও শিষ্য এবং আধ্যাত্মিক জগতে তার খেলাফত লাভ করেছেন।

শায়খুলহিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসানের ইন্তেকালের পর দেওবন্দ থেকে পরিচালিত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম ত্যাগী যোদ্ধা ছিলেন সাইয়েদ হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ:)। অসহযোগ আন্দোলন থেকে শুরু করে ভারত স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত মাওলানা মাদানীর সংগ্রাম অব্যাহত থাকে। দখলদার ইংরেজ রাজশক্তি কর্তৃক ১৯২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর করাচির খালেকদিনা হলে এক নিবর্তনমূলক মামলার শুনানিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মাওলানা মাদানী নির্ভীক চিত্তে বলেছিলেন : ‘‘ধর্মীয় উত্তেজনার ফলে ১৮৫৭ সালে ভারতে সর্বত্র যখন বিপ্লবের আগুন জ্বলে উঠেছিল, তখন রানী ভিক্টোরিয়া অর্থাৎ ইংরেজ সরকার ভারতীয়দেরকে যে প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণা প্রচার করে তাদের সান্ত্বনা দিয়েছিলেন, তাতে উল্লেখ ছিল, ‘কারো ধর্মের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না, বরং ধর্মীয় বিষয়ে দেশবাসীর পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে।’ ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও তা স্বীকৃত হয়েছিল। এমনকি পরবর্তীকালে সপ্তম অ্যাডওয়ার্ড এবং পঞ্চম জর্জও এ ঘোষণা সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান সরকার যদি রানী ভিক্টোরিয়া, পরবর্তী সম্রাট ও তাদের পার্লামেন্টের প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণার কোনো মর্যাদা না দেন আর ভারতবাসীর ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপকে সঙ্গত মনে করেন, তাহলে এ দেশের কোটি কোটি মুসলমানকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে যে, তারা মুসলমান হিসেবে বেঁচে থাকতে চায়, না নিরেট ইংরেজের বশংবদ প্রজা হিসেবে। ভারতের ৩৩ কোটি হিন্দুকেও অনুরূপ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মুসলমানদের তরফ থেকে ইংরেজ সরকারকে সতর্ক করে দিতে চাই, যদি সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তাহলে মুসলমানেরা নিজের ধর্ম রক্ষার খাতিরে জীবন উৎসর্গ করে দিতেও কিছুমাত্র ইতস্তত করবে না। আর এ জন্য আমিই সর্বাগ্রে জীবন উৎসর্গ করতে এগিয়ে আসব’’ (সূত্র : আজাদি আন্দোলনে আলেম সমাজের সংগ্রামী ভূমিকা, জুলফিকার আহ্মদ কিস্মতি, পৃ: ৪৬-৪৭)। বাংলাদেশের বর্তমান আওয়ামী সরকার বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তারা আলেমসমাজ ও তৌহিদি জনতার বিশ্বাস ভঙ্গ করে একের পর এক কুরআন-সুন্নাহবিরোধী পদক্ষেপ নিয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে দেশকে ধর্মহীন করার উদ্দেশ্যে বিতর্কিত নারীনীতি ও শিক্ষানীতি প্রণয়ন, সংবিধানের মূলনীতি থেকে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ বাক্যটি বাদ দেয়া, জঙ্গিবাদের ধুয়া তুলে আলেম-ওলামা গ্রেফতার, জেল-জুলুম ও হয়রানি, কওমি মাদরাসা বন্ধের প্রয়াস ইত্যাদি সবই ছিল তৌহিদি জনতার ঈমান-আকিদার জন্য চরম হুমকি। দীর্ঘ দিন ধরে অনলাইন মাধ্যমে গোপনে চলে আসা ইসলামবিরোধী কার্যক্রম রুখতে এবং নবী সা: ও ইসলাম অবমাননাকারীদের বিচারের দাবিতে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম রাজপথে গণ-আন্দোলনের সৃষ্টি করে। শাপলা চত্বরে শহীদদের রক্ত কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছিল না। তাই এই পবিত্র রক্তধারা বৃথা যাবে না ইনশাআল্লাহ। আমিরে হেফাজত আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছিলেন, ‘শাপলা চত্বরের গণহত্যার বিচারের ভার আল্লাহর ওপর দিয়ে দিলাম। নিশ্চয়ই তিনি মজলুমের সাথে আছেন। জালিমরা একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। শাপলা চত্বরে শহীদদের রক্তের পথ বেয়েই এ দেশে একদিন ইসলামের বিজয় ঘটবে, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি দলীয় নেতৃবৃন্দ ও তৌহিদি জনতাকে ধৈর্য ধারণ করতে বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, হেফাজতের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে জাস্টিস আল্লামা ত্বকী উসমানী, ড. ইউসুফ আল কারজাভি, ভারতের দেওবন্দের মুহাদ্দিস ও জমিয়ত সভাপতি আল্লামা সৈয়দ আরশাদ মাদানীসহ বিশ্ব ওলামা যৌথ বিবৃতি দিয়েছিলেন।

বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা ইদানীং অব্যাহতভাবে ইসলাম ও ইসলামি বিধিবিধানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করে যাচ্ছেন। ইসলামের ফরজ বিধান হজ নিয়ে কটূক্তি এবং রাসূল সা:-এর নামে চরম অবমাননামূলক মিথ্যাচার, ইসলামে নিষিদ্ধ ‘সুদ’ নিয়ে আপত্তিকর অপব্যাখ্যা, পর্দাবিদ্বেষী বক্তব্য, কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় কারসাজি ইত্যাদি বর্তমান সরকারের ইসলামবিদ্বেষী অবস্থানকে আরো জোরালো করে তুলেছে।
(লেখাটি ২০১৫ সালে লিখিত বিশেষ কলাম)

লেখক : সাংগঠনিক সম্পাদক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ


ব্রিটেনে আরও এক ভারতীয় চিকিৎসকের মৃত্যু হল করোনায়

প্রবচন ডেস্ক: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হেমাটোলজিস্ট কর্নেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় প্রাণ হারালেন দেশের দুই চিকিৎসক।

রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। 

বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ডা. মনিরুজ্জামান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আবাসিক চিকিৎসক ছিলেন।

পীরগাছায় ট্রেনের ইঞ্জিনের ...
প্রবচন ডেস্ক: গাইবান্ধার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যুর ৬ দিন পর খবর প্রকাশ করল সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

মৃত কিশোর জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে গত ২৫ এপ্রিল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। ওই তারিখেই তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ২৬ এপ্রিল সে মারা যায়। গত ২৭ এপ্রিল তার নমুনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ পর রবিবার আইইডিসিআর এর পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়। 

কিশোরে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম খান। এদিকে, রংপুর মেডিকেলে নমুনা পরীক্ষায় চিকিৎসক-নার্স, পুলিশসহ নতুন করে ১১ জন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। 
আক্রান্তরা হলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসক (৫৪), সদর উপজেলার এক চিকিৎসক (৪২), রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা (৫৪), রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র নার্স (৪০), বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মকর্তা (৫৮), নগরীর মেডিকেল পাকার মাথা এলাকার এক যুবক (২৫), শালবন মিস্ত্রিপাড়া এলাকার সাড়ে ৩ বছরের এক শিশু, দক্ষিণ বাবুখাঁ এলাকার এক পুরুষ (৪৭), সেনপাড়ার এক বৃদ্ধ (৬৫), বিনোদপুর হলদিটারী এলাকার এক পুরুষ (৫২) ও পীরগাছা উপজেলার এক যুবক (২৫)। 

রবিবার রংপুর মেডিকেল কলেজে নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ওই ১১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। 

রবিবার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. একেএম নুরুন্নবী লাইজু বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিকেল কলেজে দুই দফায় ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে নতুন করে ১১ জন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে।

তিনি জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজে করোনা শনাক্তে পিসিআর মেশিন স্থাপন করা হয় গত ২ এপ্রিল। এরপর থেকে আজ ৩ মে পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৭৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখানে এখন পর্যন্ত ১৫৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আইইডিসিআরে মাধ্যমে রংপুর বিভাগে আরও ছয় জনের করোনা শনাক্ত করা হয়। এছাড়া দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয় পাঁচ জনের। 

এ নিয়ে রংপুর বিভাগের আট জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬৭ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে রংপুরে ৬৪, গাইবান্ধায় ১৮, দিনাজপুরে ২২, নীলফামারীতে ১৪, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৮, কুড়িগ্রামে ২২, লালমনিরহাটে তিন এবং পঞ্চগড় জেলার ছয়জন রয়েছেন।

-বিডিপি


10m people with low income to get Rs12,000 stipend in lump sum ...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে চলমান লকডাউনে চাকরি হারানো বেকারদের নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তার জন্য একটি কর্মসূচি চালু করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ওই কর্মসূচির আওতায় দেশটির নিবন্ধনকৃত বেকারদের সর্বোচ্চ ১২ হাজার রুপি দেওয়া হবে।

শনিবার থেকে এই কর্মসূচির কার্যক্রম চালু করেছেন ইমরান খান।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, বেকারদের তালিকা নিবন্ধনের জন্য ওয়েব পোর্টাল চালু করেছে সরকার। সেখানে এ মাস নগদ কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ১২ হাজার রুপি পর্যন্ত নগদ সহায়তা করা হবে।
ইমরান খান বলেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর করোনা ত্রাণ তহবিলে অর্থ জমা দিয়েছেন তাদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করছি, এসব অর্থ স্বচ্ছ উপায়ে ব্যয় করা হবে। এসব অর্থ কোথায় ব্যয় করা হয়েছে আপনারা জানতে পারবেন। আমি নিজেই এটা পর্যবেক্ষণ করব এবং সম্পূর্ণ খরচের বিস্তারিত বিবরণ সরবরাহ করব।

তিনি বলেন, যারা শ্রমিক হিসেবে অথবা রেস্টুরেন্টের চাকরি হারিয়েছেন তাদের নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করছে সরকার। তবে তাদের আগের চাকরির সব তথ্য সরবরাহ করতে হবে।


বিটিভি মহাপরিচালক স্ত্রীসহ করোনায় ...

প্রবচন ডেস্ক: করোনার থাবা এবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে। বিটিভির মহাপরিচালক এসএম হারুন অর রশীদ নিজের স্ত্রী ও কন্যাসহ সপরিবারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল রবিবার এ তথ্য জানা গেছে।

হারুন অর রশীদের শরীরে করোনার সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় তার সংস্পর্শে আসা বিটিভির সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এ কারণে বিটিভির নির্ধারিত কিছু অনুষ্ঠান সম্প্রচার বাতিল করে পুরনো অনুষ্ঠান চালানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত শনিবার রাত পর্যন্ত বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির মোট ১৩ জন আক্রান্ত বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দুজন রিপোর্টার, একজন নিউজ এডিটর, ছয়জন ক্যামেরাম্যান ছাড়াও নিউজ প্রেজেন্টার ও মেকাপম্যানসহ আরো চারজন রয়েছেন। তবে অনেকের রিপোর্ট এখনো আসেনি।

দেশে করোনাভাইরাস হানা দেওয়ার পর রবিবার পর্যন্ত ৫৪ সংবাদকর্মী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজন সিনিয়র সাংবাদিক মারা গেছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ১১ জন।

গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান দৈনিক সময়ের আলোর প্রধান প্রতিবেদক হুমায়ুন কবির খোকন।


ইরানের দৃষ্টিনন্দন সাইয়্যেদ মসজিদ ...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সোমবার থেকে ইরানের কিছু অঞ্চলের মসজিদ খোলা হচ্ছে। যেসব অঞ্চলকে শঙ্কামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে সেখানকার মসজিদগুলোকে খোলার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানী।

টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাতকারে হাসান রুহানী জানান, ১৩২ টি জেলা; যেখানে করোনা ছড়ানোর শঙ্কা খুব কম সেখানে শুক্রবারে জুমার নামায মসজিদে আদায় করতে পারবে ধর্মপ্রাণ মানুষ। এদিকে চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ১ মাসের জন্য স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।



মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন: সর্বক্ষেত্রে দেওবন্দীধারার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওবন্দের মূলনীতি বিসর্জন না দেয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ। 
৩ মে রবিবার তানযীমুল মাদারিসের দফতর সম্পাদক আহসান হাবীব প্রেরিত এক বার্তায় এ আহ্বান জানানো হয়।
প্রেরিত বার্তায় বলা হয়, উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দ্বীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলাফগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান সরকার হুবহু ঐ মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং স্বীকৃতি সংক্রান্ত আইনের ২ (১) ধারায় কওমি মাদরাসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহীর শিক্ষা কেন্দ্রই হলো কওমি মাদরাসা। 

তাই ঐতিহাসিক সেই মূলনীতি এবং কওমী মাদরাসার সংজ্ঞাকে উপেক্ষা করে  যেকোনো সময়, যেকোনো পরিস্থিতিতে, যেকোনো সরকার থেকে আমরা কোনোভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না।

তানযীমভূক্ত মাদারিসের দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ আহ্বান, হকপন্থীদের সঙ্কটের ইতিহাস নতুন নয়। তাই সরকারি অনুদান গ্রহণ করে অনন্তকালের কুদরতি সাহায্যের রাস্তা বন্ধ করবেন না। আল্লাহ পাকের উপর দৃঢ় ভরসা রাখুন, করোনার মহামারি থেকে বিশ্ববাসী ও মুসলিম উম্মার মুক্তির জন্য দোয়া জারি রাখুন। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা আমাদের হেফাজত করবেন, ইনশাআল্লাহ।

প্রেরিত বার্তায় তানযীমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি আরশাদ রহমানী, সহ সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আলম, মাওলানা ইউনুস, মাওলানা আব্দুস সবুর, মাওলানা আব্দুল হক হক্কানী এবং তানযীমের বিভিন্ন জেলার সভাপতিদের নাম উল্লেখ করা হয়।



প্রবচন: করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি অফিসে সাধারণ ছুটির মেয়াদ সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। এ নিয়ে ছয় দফায় ছুটি বাড়ছে।

আজ শনিবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ছুটির প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তাঁরা অবশ্য ১৫ মে পর্যন্ত প্রস্তাব করেছেন। তবে পরদিন শনিবার এমনিতেই সাপ্তাহিক ছুটি। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে আগামীকাল রোববার বা পরদিন সোমবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

করোনাভাইরাসের কারণে প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছিল। এরপর ছুটি বাড়িয়ে তা ১১ এপ্রিল করা হয়। ছুটি তৃতীয় দফা বাড়িয়ে করা হয় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর চতুর্থ দফায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। সবর্শেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ৫ মে পযন্ত বাড়ানো হয়েছিল।
সূত্র- পিএ


আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর খবর সঠিক ...

প্রবচন ডেস্ক:  করোনাভাইরাসের মহামারি আজ বিশ্বজুড়ে। আমাদের দেশেও এর প্রকোপ দিনদিন বাড়ছে। প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। আর এসব ধৈর্যসহকারে সামলে নিচ্ছে চিকিৎসকগণ। জীবনের মায়া ত্যাগ করে দিনরাত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। তাই চিকিৎসকদের জন্য পর্যাপ্ত এন-৯৫ মাস্ক সহ প্রায়োজনীয় সব সুরক্ষা সামগ্রী নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান করছি।

আজ ২ মে শনিবার বিকাল ৪টায় মাওলানা আনাস মারফত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দারুল উলূম হাটহাজারীর পরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা আহমদ শফী এ আহ্বান জানান।

আল্লামা আহমদ শফী বলেন, চিকিৎসক ও রোগীর সেবকদের জন্য রয়েছে নববী সুসংবাদ। রাসূল সা. বলেছেন, "যে ব্যক্তি সকালবেলা কোনো অসুস্থ মুসলমানকে দেখতে যায়, সত্তর হাজার ফেরেশতা বিকাল পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকে। আর বিকেলে রোগী দেখতে গেলে সকাল পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা দোয়া করে...।" (তিরমিজি শরীফ: ৯৬৭)

আমীরে হেফাজত আরো বলেন, সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী প্রায় চারশ ডাক্তার চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এটা যেমন দেশের জন্য উদ্বেগজনক তেমনি এ দুর্যোগকালে তাদের ত্যাগ প্রশংসনীয়। পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী না থাকলেও অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তারা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের সেবা ও শ্রম এ জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

আল্লামা আহমদ শফী আরো বলেন, গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী দেশের অনেক জেলা ও উপজেলায় করোনা শনাক্ত করা ও চিকিৎসা সেবা দেয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়নি। অনেক হাসপাতালে যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় অনেক চিকিৎসক ঠিকমতো রোগী দেখতে পারছেন না। ফলে অন্যান্য রোগীদের নিয়মিত সেবা ব্যহত হচ্ছে। এটা উদ্বেগজনক। জেলা-উপজেলার সব হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হোক!


বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ঈদের পর

প্রবচন ডেস্ক:  বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ সরকারি অনুদান বিষয়ে আজ ২মে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মজলিসে খাসের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সহসভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সাহেব। সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ খবর জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সভায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত হয় যে, সরকারি অনুদান গ্রহণ, কওমী মাদরাসার দেড়শত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি আদর্শকে বিসর্জন দেয়া। তাই এধরনের অনুদান গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য সকল কওমী মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি আহবান জানানো হয়।

বেফাক নেত্রীবৃন্দ বলেন, উপমহাদেশব্যাপী বিস্তৃত কওমী মদরাসাসমূহ ভারতের বিখ্যাত দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ ও শিক্ষাক্রম অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়ে আসছে। দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাকালে অলঙ্ঘনীয় যে ‘উসূলে হাশতেগানা’ তথা আট মূলনীতি নির্ধারণ করে, তার অন্যতম একটি হলো ‘যে কোনো পরিস্থিতিতে সরকারী অনুদান গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। সুতরাং এই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে দেশের কোনো কওমি মাদ্রাসা সরকারী অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।

বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, এই উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দ্বীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলাফগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার হুবহু ঐ মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং স্বীকৃতি সংক্রান্ত আইনের ২(১) ধারায় কওমি মাদরাসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে “মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহীর শিক্ষা কেন্দ্রই হলো কওমী মাদরাসা। তাই ঐতিহাসিক সেই মূলনীতি এবং কওমী মাদরাসার সংজ্ঞাকে উপেক্ষা করে আমরা কোনোভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না।

বৈঠক থেকে বেফাকের সম্মানিত সভাপতি আল্লামা আহমদ শফি দা:বা: এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করেন। বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন : হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, হযরত মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, হযরত মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), হযরত মাওলানা ছফিউল্লাহ, হযরত মাওলানা মাহফুযুল হক, হযরত মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, হযরত মাওলানা মুফতি নূরুল আমিন, হযরত মাওলানা মনিরুজ্জামান।


Local Guides Connect - hathazari arbic univerchity - Local Guides ...

প্রবচন ডেস্ক: সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দেশের ৬ হাজার ৯৫৯টি কওমি মাদরাসাকে ৮ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার পর থেকেই কওমী আলেম-ওলামা এবং ছাত্রদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেয়া দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। 

এদিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় ২৪ টি মাদরাসার জন্য অনুদান বরাদ্দের খবর প্রকাশ পায় এবং সেই ২৪ মাদরাসার তালিকায় হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল মাদরাসার নামও উঠে আসে। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সরকারী অনুদান গ্রহণ করবে না বলে তা প্রত্যাখ্যান করে।

এর একদিন পর আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কওমী মাদরাসা দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসা থেকেও অফিসিয়াল বিবৃতির মাধ্যমে সরকারী অনুদান গ্রহণে অস্বীকৃতির কথা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়- কওমী মাদরাসার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা সর্বজনবিদিত। কওমী মাদরাসা হলো, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং দারুল উলূম দেওবন্দের আদর্শ, মূলনীতি ও মতপথের অনুসরণে মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহীর শিক্ষাকেন্দ্র।

কওমী মাদরাসা ঈমান, তাকওয়া ও তাওয়াক্কাল আলাল্লাহ এর উপর প্রতিষ্ঠিত এবং আকাবিরে দেওবন্দের চিন্তা-চেতনার অনুসরণ ও তালীম তরবিয়াতসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে দারুল উলূম দেওবন্দের মূলনীতি, আদর্শ ও কর্মপদ্ধতির অনুসরণকারী দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

তাই জামেয়া দারুল উলূম হাটহাজারী ও তার (মুলহাকাহ) অনুসারী মাদরাসাসমূহ সরকার কর্তৃক ঘোষিত কোন অনুদান গ্রহণ করবে না। তাই কোন কওমী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যেন এই অনুদানের বিষয়ে সংশয় ও সন্দিহানের মধ্যে না থাকে। (এরপরও যদি কেউ গ্রহণ করে থাকেন এটা একান্তই তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।)

তাছাড়া কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত গেজেটের ২ এর ১ নং ধারা এবং ২ এর (ঙ) এর ধারা অনুযায়ী কোন কওমী মাদরাসা সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।

বিবৃতির শেষে এটাও উল্লেখ করা হয় যে, এটা জামেয়া দারুল উলূম হাটহাজারীর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে সম্মিলিত কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া (বেফাক) কর্তৃপক্ষ অন্যান্য মাদরাসার জন্য আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে।

উল্লেখ্য, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, অনুদান বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১ হাজার ৭৮০টি, চট্টগ্রাম বিভাগের ১ হাজার ৪৮১টি,  রংপুর বিভাগের ৭০৩টি, রাজশাহী বিভাগের ৭০৪টি, খুলনা বিভাগের ১ হাজার ১১টি, বরিশাল বিভাগের ৪০২টি, ময়মনসিংহ বিভাগের ৩৯৭টি এবং সিলেট বিভাগের ৪৮১টি মাদরাসা রয়েছে।


এমপি নদভীর গাড়িতে ঢিল!‌ :: BanglaNews24.com mobile

প্রবচন ডেস্ক: চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগড়া-সাতকানিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী তার এলাকার জন্য বরাদ্দ ত্রাণের ২৫ শতাংশ চেয়েছেন। এজন্য তিনি একটি চিঠি (ডিও) পাঠিয়েছেন সাতকানিয়া ও লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি চিঠিতে নির্দেশ দিয়েছেন, তার জন্য ২৫ শতাংশ পাঠানোর পর ১৫ শতাংশ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের কাছে পাঠাতে। বাকি ৬০ শতাংশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে। সংসদ সদস্যের এমন নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন দুই ইউএনও।

নিয়মানুযায়ী ত্রাণ বিতরণ করবেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা, পৌর এলাকার ক্ষেত্রে মেয়র। তাই সংসদ সদস্যের এমন চিঠিকে এখতিয়ারবহির্ভুত বলছেন জেলা প্রশাসক মুহা. ইলিয়াস হোসেন।

তিনি বলেন, নীতিমালায় রয়েছে ত্রাণ বিতরণ করবেন চেয়ারম্যানরা। সাংসদ কেন সেখান থেকে ২৫ শতাংশ চান, সেটা আল্লাহই ভালো জানেন।

এ নিয়ে সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী বলেন, সারা দেশে অনেক চেয়ারম্যান-মেম্বারদের ঘরে ত্রাণের পণ্য পাওয়া গেছে। এই চুরি ঠেকিয়ে বিষয়টিকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য ত্রাণ ভাগ করে দিয়েছি। সেখানে আমার জন্য চেয়েছি ২৫ শতাংশ। তাছাড়া আমি স্থানীয় ত্রাণ সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা, তাই এমন নির্দেশনার মধ্যে দোষের কিছু দেখি না।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget