Latest Post

Doctor's Note: Sleep, Ramadan and the coronavirus | Coronavirus ...
ডেস্ক: বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ভীত-সন্ত্রস্ত। এরমধ্যেই আগমন করেছে মুসলমানদের অন্যতম ফরজ ইবাদত রোজা। করোনাকালে রোজায় মানুষের স্বাস্থ্যের কোন অবনতি হবে কিনা এ সংশয় নিয়ে অনেকে রোজা পালন করলেও আত্মিকভাবে প্রশান্তি খুঁজে পাচ্ছিলেন না তারা।

একটু দেরিতে হলেও রোজাদারদের সেই সংশয় কিছুটা কমে এসেছে জার্মানির একদল গবেষকদের কথায়। চিকিৎসাশাস্ত্রে অভিজ্ঞ এসব গবেষকগণ দাবি করেছেন, করোনায় রোজা রাখলে স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি হবেনা।

জার্মানির মুনস্টার ইউনিভার্সিটি অব এপ্লয়েড সায়েন্সেসের হিউম্যানিটারেইন এইড সেন্টারের পরিচালক জোয়াছিম গার্ডম্যান বলেছেন, রমজান মাসে দিনের বেলায় রোজা রাখলে স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই উদ্বেগের কারণ নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, রোজা সঠিক মাপে আহার গ্রহণকারী সুরুচিবান ব্যক্তির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করতে পারে না।

জার্মানিতে এমনিতেই রোজা পালনকে নেতিবাচকভাবে নেয়া হয়- এরমধ্যে চলতি বছরের প্রাণঘাতি মহামারি করোনা ভাইরাসের সময় রোজা রাখলে স্বাস্থ্যের অবনতি হবে কিনা- এনিয়ে দেশটিতে ব্যপক তর্ক-বিতর্ক হচ্ছিল। ঠিক এমন সময়ে গবেষকগণ এই মতামত উল্লেখ করলেন।

‘করোনাকালে নিরাপদ রমজান’ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, অন্যান্য বছরের ন্যায় এই বছরেও সুস্থ লোকেরা রোজা রাখতে পারবেন। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, কোভিড-১৯ এর সময়ে রোজা রাখায় কোন সমস্যার সৃষ্টি হবে কিংবা ভাইরাসটির সংক্রমণ হবে- এখন পর্যন্ত কোন গবেষণা এরকম দাবি করেনি।

এ প্রসঙ্গে জার্মান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ফর থেরাপিউটিক ফাস্টিং অ্যান্ড নিউট্রিশনের উপপরিচালক মার্টা রিসম্যান-ফেডরিচ বলেন, আমরা সহকর্মীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা করেছি, আমাদের সম্মিলিত মত হল, করোনাকালে প্রবীণদের রোজা পালনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। বিশেষ করে অন্যান্য রোগ-ব্যধির কারণে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আল জাজিরা

করোনায় মৃত মানুষের দাফনের দায়িত্ব ...
নিউজ ডেস্ক: প্রতিদিনই রাজধানীতে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বিশেষ করে রাজধানীর ঢাকায় নতুন নতুন এলাকায় করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। আর যার প্রভাব পড়ছে কবরস্থানে লাশ দাফনকালে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের জন্য নির্ধারিত খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে দাফনের জায়গা নেই। এমন পরিস্থিতিতে মারা যাওয়া করোনা রোগীদের দাফন করা হচ্ছে রায়েরবাজার বসিলা কবরস্থানে।

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে শুধু আক্রান্তদেরই নয়, আক্রান্ত সন্দেহে যারা মারা যাচ্ছেন তাদেরও এখানে কবর দেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব লাশ পরিবহন ও দাফনের দায়িত্বে আছে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আল-মারকাজুল ইসলামী। তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ নেওয়া হয় কবরস্থানে। 

খিলগাঁও কবরস্থানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে এ পর্যন্ত দাফন হয়েছে ১৯১ লাশ। এদের কেউ করোনা পজিটিভ ছিলেন, কাউকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে দাফন করা হয়েছে। এ কবরস্থানের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই ৯ নম্বর লাইন ধরে সোজা দক্ষিণে ঝিলপাড়ের কাছে ঝোপের আড়ালে নির্ধারণ করা হয়েছে করোনায় মৃতদের জায়গা। অন্যান্য কবর থেকে একটু আলাদাভাবে রাখা। এসব কবর খননের জন্য দায়িত্বে ছিলেন চারজন গোরখোদক। 

কবরগুলোর একপাশে আগে থেকে বাঁশ কেটে সাজিয়ে রাখা হতো। দাফন করা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে প্রতিটি কবরের মাঝখানে বাঁশ কেটে বাতা করে নাম্বারিং করে দেওয়া হয়েছে। জায়গার সংকটের কারণে গত ৩০ এপ্রিল থেকে করোনা আক্রান্তে মারা যাওয়াদের দাফন শুরু হয়েছে রায়ের বাজার বসিলা কবরস্থানে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে করোনা রোগীর লাশ কবরস্থানে নিয়ে আসা হয়। অ্যাম্বুলেন্স দুটি কবরস্থানের এক প্রান্তে পার্ক করে রাখা হয়। এক অ্যাম্বুলেন্সে বহন করা হয় দাফনের দায়িত্বে থাকা ১০ স্বেচ্ছাসেবককে। তারা প্রত্যেকে ব্যক্তিগত সুরক্ষার সরঞ্জাম (পিপিই) পরা। অপর অ্যাম্বুলেন্সে বহন করা হয় লাশ। তারা একটি স্ট্রেচারে করে সাদা কাফনে মোড়ানো লাশ নামান। এরপর কবরস্থানের ইমামসহ ১০/১২ জনের উপস্থিতিতে জানাজা নামাজ পড়ানো হয়।

জানাজা শেষে স্ট্রেচারে করে তারা লাশ কবরের কাছে আনেন। এরপর পিপিই পরা চারজন মিলে লাশ কবরে নামান। কবরে দেহ নামানোর পর মাটি দেওয়া হয়। সব শেষে যারা দাফনে অংশ নেন তারা কবরস্থানের নির্দিষ্ট একটি স্থানে গিয়ে পিপিই খুলে ফেলেন। সবাই নিজেদের গামবুট আর শরীর জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করে নেন। এরপর পিপিইগুলোতে আগুন জ্বালিয়ে নষ্ট করে দেন। দাফন কাজ শেষে তারা মৃতের জন্য হাত তুলে দোয়াও করেন।

গত ২৫ মার্চ খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া প্রথমবারের মতো এক ব্যক্তিকে দাফন করা হয়। খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানের মোহরার মো. ফেরদৌস বলেন, করোনায় যাদের দাফন হতো, তাদের বিষয়ে এক দুই ঘণ্টা আগে তাদের জানানো হয়। এরপর তারা কবরের অন্যান্য জিনিসপত্র প্রস্তুত করে রাখতেন। এরপর কবরস্থানের মসজিদের ইমাম দিয়ে জানাজা পড়ানো হতো।

জানাজার সময় প্রত্যেকে নিজের সুরক্ষার জন্য মুখে মাস্ক পরে থাকেন। দাফন শেষে প্রত্যেকে হাত-পা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় পানি জমে গেছে, ঝিলের পানি উঠে এসেছে। আবার জায়গা সংকটের কারণে খিলগাঁও কবরস্থানে এখন কোনো লাশ দাফন হচ্ছে না। রায়ের বাজারে সব লাশ দাফন হচ্ছে।

-কেকে

নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক আজ বন্ধ

► বন্ধের সিদ্ধান্ত বায়তুল মোকাররম মার্কেট
► বন্ধের সিদ্ধান্ত আসছে নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক ও চন্দ্রিমার
► খুলছে না জুয়েলারি দোকান
► ১৭টি আউটলেট খুলে দিচ্ছে আড়ং

ঈদ সামনে রেখে সরকার মার্কেট ও দোকান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না ব্যবসায়ীরা। নিজেদের করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি, পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাওয়া কর্মচারীদের ফিরিয়ে আনা, নানা ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চিন্তিত তাঁরা। এ ছাড়া বন্ধ রয়েছে পরিবহনব্যবস্থা। আর করোনারভাইরাস প্রাদুর্ভাবে দেশজুড়ে সরকারের সাধারণ ছুটি থাকায় ক্রেতা উপস্থিতি নিয়েও আশঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে দোকান খুলে লাভ দেখছেন না তাঁরা। মার্কেট সমিতিগুলোকে ঈদে দোকানপাট বন্ধ রাখতে চাপ দিচ্ছেন তাঁরা। এসব কারণে গতকাল বৃহস্পতিবারও অনেক মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সমিতি। তবে কেউ কেউ খোলার পক্ষে মত দেওয়ায় অনেক মার্কেট রয়েছে সিদ্ধান্তহীনতায়। আবার এখনো শপিং মল না খুললেও পুরান ঢাকার পাইকারি বাজারগুলোয় সীমিত পরিসরে বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানপাটও এরই মধ্যে খুলতে শুরু করেছে। কেউ বা নিচ্ছে খোলার প্রস্তুতি।

জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে গত বুধবার দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের শপিং মল বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এই বিবেচনায় গতকাল বায়তুল মোকাররম মার্কেটও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেয় মার্কেট সমিতি। এ ছাড়া দেশের সব জুয়েলারি মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস)। অন্যদিকে দেশীয় ফ্যাশন হাউস মালিকদের সংগঠন ফ্যাশন হাউস এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও ক্রেতার উপস্থিতি ও ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে শোরুম খোলায় আগ্রহী নন উদ্যোক্তারা। আর  রাজধানীর ঈদ কেনাকাটার সবচেয়ে বড় জমায়েত নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের বড় অংশও দোকান না খোলার পক্ষে। তাঁরা মালিক সমিতিকে মার্কেট বন্ধ রাখতে চাপ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি এসব মার্কেট সমিতি। দু-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে।

অবশ্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মনিহারি, হার্ডওয়্যার, চশমা, রেডিমেড কাপড়, প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকান কয়েক দিন ধরে একটু একটু করে খুলতে শুরু করেছে। পুরান ঢাকায় অনেক পাইকারি কাপড়ের দোকান খোলার প্রস্তুতির খবরও পাওয়া গেছে। এসব এলাকার দোকানগুলোয় এরই মধ্যে টেলিফোনে বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের মধ্যে এক মাস বন্ধ থাকার পর গত সোমবার সরকার শপিং মল ও মার্কেট আগামী ১০ মে থেকে খোলার অনুমতি দেয়। বেশ কিছু শর্ত মেনে প্রতিদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত দোকান খোলার সুযোগ দেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে অতিসংক্রামক এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয় আগামী ১৬ মে পর্যন্ত, সঙ্গে গণপরিবহনও বন্ধ রাখা হয়েছে। স্কুল-কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়িয়ে ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, ‘সরকার আমাদের দোকান খোলার অনুমতি দিলেও আমাদের শ্রমিকরা রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। এ অবস্থায় তারা আসতে পারবে না। গণপরিবহনও বন্ধ। আর স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা চিন্তা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ঈদের আগে দোকান খুলব না। যতক্ষণ পর্যন্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে বলে আমরা মনে করব ততক্ষণ পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখা হবে।’

দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর স্বত্বাধিকারীদের সংগঠন ফ্যাশন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি সৌমিক দাস বলেন, ‘আমরা অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দোকান বন্ধ রাখা বা চালু রাখার কোনো সিদ্ধান্ত দিইনি। যেখানে মার্কেট বন্ধ সেখানে তো এমনিতেই শোরুম খুলতে পারব না। আর মার্কেটের বাইরের শোরুমগুলো খুললেও খুব একটা বিক্রি হবে বলে মনে হয় না। দেশের এমন পরিস্থিতিতে মানুষ ঈদের কেনাকাটা করতে ঘর থেকে বের হবে না। তার পরও আমরা পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে শোরুম পরিচালকদের সিদ্ধান্ত নিতে বলেছি। যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রেখে বিক্রি করা যায়, তবে করবে।’

নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘সরকার দোকান খোলার অনুমতি দেওয়ার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে দুই ধরনের মত সৃষ্টি হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা আগামী ১০ মে থেকে মার্কেট চালু করব কি না সে সিদ্ধান্ত এখনো নিতে পারিনি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ব্যবসায়ী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সিদ্ধান্ত আসেনি চন্দ্রিমা সুপারমার্কেট, চাঁদনীচক ও রাজধানী সুপারমার্কেটের বিষয়েও। চাঁদনীচক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখনো দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নিইনি। এ পরিস্থিতিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অনেকটা আত্মঘাতী হচ্ছে। দোকান খুললে ক্রেতা আসলে সাম্প্রতিক ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যাবে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কাস্টমাররাই বা কেন আসবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে? আমরা কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।’

এদিকে রাজধানীর ইসলামপুর, নবাবপুরসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি মার্কেট খোলার প্রস্তুতি দেখা গেছে গত দুই দিন ধরে। গতকাল বেচাবিক্রির খবরও পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে পাইকাররা মোবাইলে অর্ডার দিচ্ছেন। আর চাহিদামতো মালপত্র কুরিয়ারে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, গোপীবাগ, মানিকনগরসহ বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকান কয়েক দিন ধরে খুলতে শুরু করেছে। খাদ্যপণ্য ছাড়াও বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব দোকানে বেচাবিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ মনিহারি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হাজি শফি মাহমুদ বলেন, ‘দোকানপাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে ব্যবসা হবে? এখানে প্রায় প্রতিটি দোকানের আয়তন আট/ছয় ফুট বাই আট ফুট। দোকানে দুজন কর্মচারী, একজন ম্যানেজার, মালিক একজন। সে হিসাবে মিনিমাম স্টাফ হবে চার থেকে পাঁচজন। কিন্তু তবু আমরা যতটুকু পারব মেনে দোকান চালাব। কারণ আমাদের বাঁচতে হবে।’

১৭টি আউটলেট খুলছে আড়ং
আগামী ১০ মে থেকে আউটলেটগুলো খুলে দিচ্ছে ‘আড়ং’। সারা দেশে তাদের ২১টি আউটলেটের মধ্যে ১৭টি আউটলেট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন আড়ংয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, ‘আড়ংয়ের পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ৬০ থেকে ৬৫ হাজার মানুষ। করোনাভাইরাসের কারণে বৈশাখকেন্দ্রিক বেচাকেনা বন্ধ ছিল। পণ্যগুলো স্টক হয়ে গেছে। ঈদের পণ্যও আমাদের হাতে রয়েছে। এখন আমরা চাচ্ছি এসব পণ্য ঈদের আগে কিছুটা হলেও বিক্রি করে তাদের সাপোর্ট দিতে। তা না হলে আগামীতে আমাদের উৎপাদনকারীদের সাপোর্ট দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।’

এদিকে সাদাকালো, কে-ক্রাফট, অঞ্জনস, নিপুণ, রঙ, অন্যমেলা, বাংলার মেলা, নবরূপা, নগরদোলা, দেশাল, নীলাঞ্জনাসহ দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো খোলার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

-কেকে

ছবি: প্রথম আলো 
প্রবচন ডেস্ক: হকাররা ফুটপাতে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করেছেন। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আবারও এরকম দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। যদিও প্রশাসন বারবার সতর্ক করছে সামাজিক দূরত্ব মানার জন্য।

তবে এসব হকারদের বক্তব্য হল, পেটের জন্য আমাদের আর করা কিছু নাই। ঘরের মধ্যে বইসা থাইকা মরার চাইতে কাম কইরা মরা ভাল।

সম্প্রতি আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সীমিত পরিসরে শপিংমল খুলে দেয়ার ঘোষণার পরে এরকম হকারদের উপস্থিতি বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষের মাঝেও অনেকটা বেপরোয়া ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এরকম চলতে থাকলে করোনার প্রকোপ বাংলাদেশে আরো অনেক বেড়ে যাবে। গত কয়েকদিন আগে স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক মন্তব্য করেছিলেন, শপিংমল খুলে দেয়ার করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা খেুব বেশি।

প্রতীকী ছবি
নিউজ ডেস্ক: গতকাল বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এডিবির বোর্ড সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এডিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়।

এডিবির অর্থে করোনাকালীন জরুরি সহায়তা হিসেবে প্রায় ২০ লাখ গরিব পরিবারকে মাসে ২৩ ডলার বা প্রায় ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ১০ লাখ পরিবার মাসে ২০ কেজি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় দেড় কোটি মানুষ উপকৃত হবে।

দেশে দেশে করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এডিবির গঠিত ২ হাজার কোটি ডলারের তহবিল থেকে এই অর্থ পাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে এই অর্থ সহায়তা দেওয়ার এডিবিকে ধন্যবাদ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এডিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, করোনার ভাইরাসের প্রভাবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া উদ্যোগে গতি আনতে এডিবি এই অর্থ সহায়তা দিচ্ছে।

এর আগে গত ৩ এপ্রিল করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল এডিবি। করোনা মোকাবিলায় তাৎক্ষনিক কেনাকাটায় বিশেষ করে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, টেস্টিং সামগ্রি, চিকিৎসা অবকাঠামো তৈরি ও আধুনিকায়নে এই অর্থ খরচ করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ১৭ টি মেডিকেল কলেজে আইসোলেশন ও বিশেষ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া গত মার্চ মাসে সাড়ে তিন লাখ ডলার অনুদানও দিয়েছে এডিবি।

-পিএ


ডেস্ক: ভারতের নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের গুলিতে কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধান কমান্ডার রিয়াজ নাইকু নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালের দিকে ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলায় হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধানসহ অন্তত দু’জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

জম্মু-কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলার বেইঘপুরা এলাকায় সেনাবাহিনী এবং পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ অভিযানে নিহত হয়েছেন নাইকু। কয়েক দিন ধরেই কাশ্মিরে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে স্বাধীনতাকামীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে কাশ্মিরে পৃথক তিনটি যৌথ অভিযান শুরু করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। বুধবার সকালের দিকে পুলওয়ামার প্যাম্পোর এলাকায় অন্য একটি অভিযানে আরো দু’জন নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পুলওয়ামা জেলার বেইঘপুরা এলাকায় হিজবুল মুজাহিদীনের প্রধান কমান্ডার রিয়াজ নাইকুর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনী যৌথ অভিযানে যায়। এ সময় কাশ্মির উপত্যকার অন্তত ১০টি জেলায় মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।

এর আগে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী হিজবুল মুজাহিদীনের এই প্রধানের মাথার দাম ১২ লাখ রুপি নির্ধারণ করে। হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধানের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান টার্গেটে ছিলেন তিনি। জম্মু-কাশ্মির পুলিশের সাবেক মহাপরিচালক এসপি ভেইড বলেন, ২০১৬ সালের জুলাইয়ে হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধান বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর নাইকুকে মোস্ট ওয়ান্টেড ঘোষণা করা হয়েছিল। গত মাসে কাশ্মির উপত্যকায় স্বাধীনতাকামীদের সাথে সংঘর্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাসহ অন্যান্য নিরাপত্তাবাহিনীর অন্তত ২২ সদস্য নিহত হয়।
-এনডিটিভি

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী সাদ এরশাদ
রংপুর প্রতিনিধি: চলমান করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া হতদরিদ্র মানুষের মাঝে রংপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুস্করিণী ও চন্দনপাট ইউনিয়নের ৯০০ পরিবারের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী চাল, ডাল, তেল ও চিড়াসহ বিভিন্ন পণ্য বিতরণ করে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

এ দিন সদ্যপুস্করিণী ইউনিয়নের পালিচড়া কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ৩৫০ এবং চন্দনপাট ইউনিয়নের শ্যামপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠে ৫৫০টি পরিবারের মাঝে এ সব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন সাদ এরশাদ।

এসময় জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাফিউল ইসলাম শাফি, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজলী বেগম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদার রহমান মিলন, সদ্যপুস্করিণী ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক চাঁন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম মিন্টু, চন্দনপাট ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি মাহবুবার রহমান মাহবুব ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজার রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তাপমাত্রা পরীক্ষা করছেন একজন স্বাস্থ্যকর্মী
ফাইল ছবি- বিবিসি

ডেস্ক: ব্রিটেনের সরকার বলছে তারা তুরস্ক থেকে যে চার লাখ পিপিই আনার অর্ডার দিয়েছিলেন সেগুলো মানসম্মত নয়।

গত মাসে ব্রিটেনের রয়াল এয়ারফোর্সের বিমানে অর্ডারের অর্ধেক পিপিই গাউন দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য সেবাকর্মীদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। এখন সেগুলো গুদামে বসে আছে।

তুরস্কের যে প্রতিষ্ঠানটি এই পিপিই বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে তাদের মুখপাত্র বলছেন তারা কোন অভিযোগ পাননি।

সেলেগ্না টেকস্টিল নামেও ওই সংস্থার মুখপাত্র মেহমেত দুযেন বিবিসিকে বলেছেন ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এনএইচএস, অথবা আঙ্কারায় ব্রিটিশ দূতাবাস বা ব্রিটিশ কোন কর্মকর্তা তাদের কাছে কেউই এই পিপিই-র মান নিয়ে কোন অভিযোগ করেনি।

"যে ফ্যাব্রিক এবং অন্যান্য যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে তার সবকিছুই অনুমোদিত জিনিস," তিনি বলছেন এবং জানিয়েছেন কোন ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের জন্য তারা প্রস্তুত ছিল।

ব্রিটেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলে আসছে তারা "পিপিই জোগাড় করার জন্য দিবারাত্র কাজ করছে"।

যুক্তরাজ্যে গত কয়েক মাস ধরে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলার সময় ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা গাউন, মাস্ক ও গ্লাভসের যথেষ্ট সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছিলেন।

যারা কোভিড-নাইনটিন রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন বা আক্রান্তদের মুখোমুখি যাদের হতে হচ্ছে, সেই সামনের সারির কর্মীদের জন্য পিপিই বা সুরক্ষা সরঞ্জাম অত্যাবশ্যক। কর্মীরা উদ্বেগে ছিলেন যে সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়া তারা এই ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারেন বা নিজেরাও তা ছড়াতে পারেন।

এই বিতর্কের মধ্যেই ব্রিটিশ সরকার এপ্রিল মাসে ঘোষণা করে যে তারা তুরস্ক থেকে প্রচুর পরিমাণ সুরক্ষা সরঞ্জাম আনার ব্যবস্থা করতে পেরেছে।
-বিবিসি


সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধ বাবাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত, ইমাম আটক

নিউজ ডেস্ক: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আফতাব উদ্দিন (৯০) নামে এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। সম্পত্তির লোভে তার ছেলে মো. বদরুদ্দোজা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ৮ টার দিকে শহরের মোহাম্মদিয়া হোটেল এলাকা থেকে পুলিশ বদরুদ্দোজাকে আটক করেছে। এ ঘটনায় বৃদ্ধের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

থানা পুলিশ জানায়, এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে রামগঞ্জ পৌর শহরের কাঠবাজার সড়কের একটি ভাড়া বাসায় বৃদ্ধকে পেটানোর ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহত বৃদ্ধকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহত আফতাব উদ্দিন উপজেলার কচুয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফতাব উদ্দিন উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম করপাড়ার বাসিন্দা। বয়সের ভারে এখন তিনি চোখে দেখছেন না। তার ৯ ছেলের মধ্যে ৪ জন ঢাকা ও প্রবাসে রয়েছে। তিনি ও তার (বৃদ্ধ) অসুস্থ স্ত্রী ৮ নাম্বার ছেলে বদরুদ্দোজার সঙ্গে কাঠবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

আহত আফতাব উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ভোরবেলা বদরুদ্দোজা তার নামে বাড়ির জমি লিখে দেয়ার চাপ দেয় । এতে আমি অন্য ছেলেদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলি। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার হাতে লাঠি কেড়ে নিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। অনুনয় বিনয় করেও তার থেকে রক্ষা পাইনি। আমি ও আমার স্ত্রী সেহরি না খেয়ে রোজা রেখেছি। 

এদিকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রামগঞ্জ পাটবাজার দারুস সালাম জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি শহিদ উল্যা ও তার ছেলে বাবলু ইমাম বদরোদ্দোজা মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ।

জানা গেছে, বদরুদ্দোজা গত কয়েক বছরে ৪টি বিয়ে করেছেন। মারধর করায় স্ত্রীরা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। 

এ ব্যাপারে বদরুদ্দোজা জানান, বাবা-মা তাকে হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে দিচ্ছে না। তিনি তাদেরকে খাওয়াচ্ছে। আর মা রান্নায় তেল বেশি খরচ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাবাকে মার ধর নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

জানতে চাইলে রামগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহসিন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি অমানবিক। আসামীকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।


৬০ দিনে তিনবার করোনা পজিটিভ, পাগলের মতো অবস্থা তরুণের!

প্রবচন ডেস্ক: গত দুমাসে তিনি তিনবার করোনা পজিটিভ হয়েছেন। টেক্সাসের হাউস্টন নামক অঞ্চলের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ান বার্মিয়া আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারছেন না। প্রাণঘাতী ভাইরাসের ভয়াবহ অবস্থা দেখে তিনি বুঝতে পারছেন না, আদৌ সুস্থ হবেন কি-না!

১৯ মার্চ তার শরীরে প্রথম করোনার উপস্থিতির ধরা পড়ে। মার্চ মাস থেকে এখনো পর্যন্ত ৫২ দিন আইসোলেশনে রয়েছেন তিনি। বার্মিয়া ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, আগের মতো আর ঘ্রাণশক্তি নেই। নাকে কোনো গন্ধ আর তেমন লাগে না। শরীর মারাত্মক দুর্বল থাকে সব সময়। মাথা ঘোরে। জ্বর, গলাব্যথা লেগেই রয়েছে। এতদিন ধরে ভুগছি। এবার মনে হচ্ছে যেন আর বাঁচব না। 

চলতি সপ্তাহে আরও একবার করোনা টেস্ট হবে বার্মিয়ার। সামনের কয়েক মাস তার আরও বেশ কয়েকবার টেস্ট হবে বলে জানিয়েছেন টেক্সাসের এই যুবক। আপাতত তাকে আইসোলেশনে থাকতে হবে। তবে ঠিক কতদিন তাকে আইসোলেশনে থাকতে হবে সেই সম্পর্কে ডাক্তাররাও কিছু বলতে পারছেন না।

বার্মিয়া জানিয়েছেন, এই ভাইরাস মানসিক দিক থেকেও মানুষকে শেষ করে দেয়। তিনি বললেন, সব সময় মন হয় যেন আমার শরীরে ভাইরাস রয়েছে এখনও। একটা অজানা ভয় চেপে ধরে। শরীর তো ভেঙে যাবেই, সেইসঙ্গে মানসিক দিক থেকেও দুর্বল করে দেবে এই ভাইরাস। নিজেকে পাগলের মতো মনে হবে। 

আমেরিকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। মৃত্যু এবং আক্রান্তের সংখ্যায় গোটা বিশ্বে আমেরিকা এখন শীর্ষে রয়েছে। ৭১ হাজার ৯২১ জনের মৃত্যু হয়েছে ট্রাম্পের দেশে। মোট আক্রান্ত ১২ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৬। সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪১ মানুষ।
-কেকে


আরও আগে সেনাবাহিনী নামানো উচিত ছিল ...

নিউজ ডেস্ক: করোনা মহামারীর মধ্যে গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিয়ে টানাহেঁচড়ার পর ঈদের কেনাকাটার জন্য শপিং মল খুলে দেওয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত করছে। এটা ক্রিমিনাল অফেন্স (ফৌজদারি অপরাধ)।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) প্রদান অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ অভিযোগ করেন।

বিএনপির মহাসচিব বক্তব্যেও শুরুতেই বলেন, 'কী বলব, নির্বাক হয়ে যাচ্ছি। কারণ চারদিকে সরকারের ব্যাপার-স্যাপার দেখে এটাকে তুঘলকি বলব, না কি বলব বুঝতে পারছি না। তারা যেভাবে পরিস্থিতিকে একেবারে চূড়ান্ত বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছেন, তা অবিশ্বাস্য। কোনো ন্যূনতম দায়িত্বশীল সরকার এই ভাবে জনগণকে নিয়ে খেলা করতে পারে না।

মির্জা ফখরুল ইসলামের অভিযোগ সরকার দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিক, বিজ্ঞানী কারো কাছ থেকেই কোনো পরামর্শ নিচ্ছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু অযোগ্য, অপদার্থ আমলা এবং চাটুকার কিছু স্বাস্থ্যসেবার কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারও মতামত গ্রহণ করছেন বলে শুনিনি। মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়ে ওনারা কী করতে চাচ্ছেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে শপিং মল খুলে দিয়েছেন, কারণ ঈদের বাজার করতে হবে, ইকোনমিকে চালু রাখতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে এতদিন কী করলেন। এই যে মধ্য আয়ের দেশে চলে গেলেন, ইকোনমিতে বিশ্বের রোল মডেল হলেন। সেখানে আপনারা কী করেছেন, কেনো ইকোনমিকে ধারণ করার শক্তি উপার্জন করতে পারলেন না এই কয় দিনের জন্য। কারণ আপনারা পুরোটাই মিথ্যা কথা বলে এসেছেন, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

আজকে প্রতিটি মানুষ জীবনের ঝুঁকির মধ্যে-এমন দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, গার্মেন্টগুলো নিয়ে কী হয়েছে। যারা সংক্রমিত হয়ে ফিরে গিয়েছিল, তারা আবার ঢাকায় ফিরেছে। জাতিকে এভাবে ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া ক্ষমাহীন অপরাধ। আমিতো মনে করি, এটা ভুল নয়, ক্রিমিনাল অফেন্স। আপনারা মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের জায়গায় আঘাত করছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে 'টিপটপ জেন্টেলম্যান' উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তিনি সুযোগ পেলেই বিএনপিকে আক্রমণ করেন সুন্দর এবং তাঁর সুলতিত ভাষায়। আমি একটাই কথা বলতে চাই, আপনি যে কথাগুলো বলেন, আপনি কী সেটা পরে আবার শোনেন যে কী বলছেন। শোনা উচিত এজন্য যে, শুনলে আপনি নিজেই বুঝবেন জনগণ কথাগুলো বিশ্বাস করছে না। নিজেই বুঝবেন যে কথাগুলো সঠিক নয়। তিনি বলেন, আজকে সরকারের তরফ থেকে আক্রান্ত ও সুস্থ এবং মৃত্যুর যে ডেটা দেওয়া হচ্ছে আমার তো মনে হয় না বাংলাদেশের কোনো মানুষ তা বিশ্বাস করে।'

বিএনপির মহাসচিব বলেন, যারা এই চরম দুর্দিনে জনগণকে সঠিক তথ্য দিচ্ছে না, বিভ্রান্ত করছে, এটা ক্রিমিনাল অফেন্স না তো কি বলব। কারণ প্রশ্নটা হচ্ছে জীবনের।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'আজকে এই দু:সহ অনিশ্চয়তা, ভীতি, এবং জীবনের ঝুঁকির মধ্যেও সাংবাদিকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, তাদের কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আজকে সকালেই দেখলাম, একজন কার্টুনিস্ট এবং একজন ব্লগারকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। গতকালই দিনে দেখলাম কয়েকজন সাংবাদিককে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।'

মির্জা ফখরুল বলেন, কী দেশ, কী রাষ্ট্র, কী সরকার। যেই সাংবাদিককে গুম করে ফেলা হলো, তাঁর পরিবার অস্থির হয়ে খোঁজ করেও পলে না। যখন তাঁকে পাওয়া গেল বেনাপোলে, তখন তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে মামলা দেওয়া বেআইনি অনুপ্রবেশের। আজকে সত্য প্রকাশের দায়ে সংবাদকর্মীদের কারাগারে নেওয়া হচ্ছে। তারা কোনো ভিন্নমত তারা সহ্য করছে না।

বিএনপির মহাসচিব এই সময়ে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতির নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের চাকরি ফেরত দিতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারের ৯৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনায় সাংবাদিকদের জন্য কোনো বরাদ্দ না রাখার সমালোচনা করেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'কেন, এত সফল সরকার, এত রাজস্ব আয় তাদের; সেগুলো থেকে কী একটু আলাদা করে সাংবাদিকদের বিশেষ বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ দেওয়া যায় না?'

অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, করোনা পরিস্থিতি দিনকে দিন চরম পরিণতির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু দুর্যোগের মধ্যেও সরকারের ফ্যাসিবাদের আঘাত থামছে না। বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনাকে তারা বিকৃত করে উপহাস করে, তুচ্ছতাচ্ছিল্যভাবে উপস্থাপন করছে।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।ঢাকা, ৭ মে। ছবি: পিআইডি

নিউজ ডেস্ক: ভিডিও কনফারেন্সিংসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে বিচারকাজ করা যাবে। এমন সুযোগ রেখে 'আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ,২০২০' এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। 

আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সভার সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। আর এখন যেহেতু সংসদ অধিবেশন নেই , তাই এটি অধ্যাদেশ আকারে জারি হচ্ছে। এখন আইন মন্ত্রণালয় আরেকটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে অধ্যাদেশ আকারে এটি জারি করবে। পরে সংসদ অধিবেশন বসলে প্রথম দিনেই সেটি আইন আকারে পাস হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী আদালতে মামলার পক্ষ বা তাদের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবীদের এবং স্বাক্ষীদের স্বশরীরে উপস্থিতির মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ মহামারী রোধ কল্পে মাসেরও বেশি সময় ধরে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া আদালতসহ সরকারি,বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। মানুষের সমাগম হয় এমন কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে আদালত বন্ধ থাকায় মামলাজট যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি বিচারপ্রার্থীরা বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য ও বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ভিডিও কনফারেন্সিংসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম করতে আইনি বিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

অধ্যাদেশটি কার্যকর হলে বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে ভিডিও কনফারেন্সিংসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে বিচার কার্যক্রম করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।


টিভি দেখে ইমামের অনুসরণ জায়েজ নেই ...

ডেস্ক: মসজিদগুলোর মতো দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমি সীমিত আকারে হলেও মসজিদ খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। মসজিদের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়ায় সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। মসজিদের মতোই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ কওমী মাদরাসাগুলোকে খুলে দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইলম ও আমলের মারকাজ। যেখানে মহান আল্লাহর স্তুতি গাওয়া হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, জল–স্থলে বিপর্যয় মানুষের কৃতকর্মের ফল। সূরা রুম : আয়াত ৪১। এই মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন এই দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা। যত দ্রুত দীনচর্চার মারকাজ খুলে দেয়া হবে তত দ্রুত আল্লাহ তায়ালা বালা মসিবত থেকে দেশকে রক্ষা করবেন।

দেশের দীনদরদি মুসল্লিদের উদ্দেশে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, মসজিদ খুলে দেয়ায় আমাদের যেমন আনন্দ হচ্ছে তেমনি আমাদের অসতর্কতায় যেনো করোনা রোগ ছড়িয়ে না যায়। আমরা সতর্ক থাকবো। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মসজিদে যাবো ইনশাআল্লাহ। দেশ ও মানুষের স্বার্থে আমরা কিছুতেই অসতর্ক হবো না ইনশাআল্লাহ।

আল্লামা মাসঊদ বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাদরাসা পরিচালনা করা কঠিন কিছু নয়। সতর্ক থেকে মাদরাসা পরিচালনা করা সম্ভব। কারণ মাদরাসাগুলোর বেশির ভাগ স্টুডেন্ট আবাসিক থাকে। রাস্তায় বের হয়ই না। সুতরাং মাদরাসা শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিমুক্তই পড়ালেখা করতে পারবে বলে আমরা মনে করি। কওমী মাদরাসার পড়ালেখা শুরু হলে দেশের জন্যই মঙ্গল হবে বলে মন্তব্য করেন আল্লামা মাসঊদ।


৫ মে গভীর রাতে তাহাজ্জুদের সময় নামাযরত, জিকিররত নবীপ্রেমিক তৌহিদি জনতার উপর ইতিহাসের নিকৃষ্টতম বর্বরতা চালিয়েছিল আওয়ামী প্রশাসন। গুলির মুহুর্মুহু আওয়াজে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল শাপলা চত্বরের আকাশ-বাতাস।

ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও গভীর রাত পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সাথেই স্টেজে ছিলেন মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহু। নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে তিনি কোথাও যেতে রাজি হননি। চতুর্দিক থেকে যখন বুলেটের বুক কাঁপানো আওয়াজ আসছিলো তখনো
আল্লামা বাবুনগরী স্টেজেই। আগ থেকেই ওজু করে পবিত্র অবস্থায় ছিলেন। মৃত্যু হলে শাপলা চত্বরেই হবে, প্রয়োজনে শাহাদাত বরণ করবেন কিন্তু নেতাকর্মীদের রেখে তিনি নিজে কোথাও যাবেন না। 

আহ! উম্মহর কী দরদি একজন নেতা। হ্যাঁ, প্রকৃত নেতা এমনি হওয়া চাই, যিনি নিজের নিরাপত্তার চেয়ে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাববেন।

অবস্থা মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করলো । বুলেটের আঘাতে শাপলার জমিনে লুটিয়ে পড়ছিল নবীপ্রেমিকের দেহ। প্রায় কোটি মানুষের বিশাল জমায়েত , চাইলেই কী মুহূর্তের মধ্যে স্থান ত্যাগ করা যায়? জল কামান, বুলেট ও লাঠিচার্জে দিগ্বিদিক ছুটতে হয়েছে নবীপ্রেমিকদের। 

পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে কিছু নেতাকর্মী আল্লামা বাবুনগরীকে স্টেজ থেকে নামিয়ে একটি মসজিদে নিয়ে গেলেন। যাওয়ার পথে হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে গেলেন আল্লামা বাবুনগরী। এক সাক্ষাৎকারে আল্লামা বাবুনগরীকে বলতে শুনেছি- হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে যাওয়ার পর দৌঁড়াদৌঁড়ির মধ্যে প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ মানুষ আল্লামা বাবুনগরীর গায়ের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছিল। তখন আল্লামা বাবুনগরীর দম বন্ধ হয়ে আসছিলো। প্রাণ বের হয়ে যাবার উপক্রম। তিনি কালেমা পড়ছিলেন। আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে তিনি বেঁচে ছিলেন সেদিন।

সামান্য পথ অতিক্রম করার পর বিদ্যুতের বিশাল এক তার ছিঁড়ে আল্লামা বাবুনগরীর গায়ে পড়লো। হায়! মসিবতের পর মসিবত! পুরো শরীর কারেন্ট হয়ে গেলো। যেই আল্লামা বাবুনগরীকে ধরছিল তাকেই কারেন্ট শক করছিল। এই মহাবিপদেও আল্লাহ তাআলা গায়েবী নুসরত করেছেন, বাঁচিয়েছেন তাঁকে।

আল্লামা বাবুনগরীর উভয় হাঁটুতে তখন বেশ জখম। গায়ের কাপড় ছেঁড়া, চোখে ছিল না চশমাও। দেড় থেকে দুইশ মানুষ কারো গায়ের উপর দিয়ে অতিক্রম করলে সেই মানুষটার অবস্থা কী হয় তা সহজেই অনুমেয়।

যাক, কোনমত আল্লামা বাবুনগরীকে একটি মসজিদে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখান থেকে নেয়া হলো হসপিটালে। তখন বাইরের পরিস্থিতি খুবই নাযুক। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আল্লামা বাবুনগরীকে অ্যাম্বুলেন্সে লালবাগ মাদরাসায় নিয়ে গেলেন কর্মীরা। দেশবাসীর সামনে সে রাতের বাস্তবচিত্র তুলে ধরে সাংবাদিক সম্মেলন করতে চাইলেন আল্লামা বাবুনগরী। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি দেয়া হলো না।

৬ মে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম আসার উদ্দেশ্যে লালবাগ মাদরাসা থেকে বের হলেন আল্লামা বাবুনগরী। প্রায় ২০০ গজ অতিক্রম করার পর ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হলো আল্লামা বাবুনগরীকে। ডিবি পুলিশ আল্লামা বাবুনগরীকে তাঁর বহন করা গাড়ি থেকে নামিয়ে তাদের (ডিবির)
গাড়িতে উঠিয়ে নিলো। 

বয়োবৃদ্ধ এ মুহাদ্দিসকে রিমান্ডের পর রিমান্ড দেয়া হলো। হেফাজত আন্দোলনে কেবলমাত্র বিশ্বনবী সা. এর ইজ্জত রক্ষায় আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই ত্যাগ তিতিক্ষা করেছেন তিনি। তাই আজও জেলজীবন, রিমান্ড ইত্যাদি বিষয়ে মুখ খুলে তেমন কিছুই বলেন না আল্লামা বাবুনগরী। 

একদিন কথা প্রসঙ্গে জেলজীবনের স্মৃতিচারণ করে বড় আফসোসের সাথে আল্লামা বাবুনগরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছিলেন- গ্রেফতার হওয়ার পর আমার শারীরিক অবস্থা বিশেষ করে পায়ের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। দাঁড়াতে খুবই কষ্ট হতো। দাঁড়িয়ে নামায পড়তে পারতাম না। তাই জেলখানায় একদিন বসে নামায পড়ার জন্য আমি একটি চেয়ার চেয়েছিলাম।কিন্তু সেদিন নামাযের জন্য একটি চেয়ারও দেয়া হয়নি। বলা হয়েছিল- আপনি আসামি, আসামির জন্য আবার চেয়ার কীসের! আহ!

স্রেফ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এসব ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাই হয়ত আল্লামা বাবুনগরী জেল জীবনের দুঃখ কষ্ট বলেন না। বললে জানতে পারতাম যে, জালিমের বন্দিশালায় আল্লামা বাবুনগরী কতই না জুলুম সহ্য করেছেন। না জানি কত অমানবিক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন জগদ্বিখ্যাত এ মুহাদ্দিস। 

হেফাজত আন্দোলনের সকল ত্যাগ-তিতিক্ষা আল্লাহ তাআলা কবুল করুন এবং সুস্থতার সাথে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহুকে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন, আমিন।

লেখক: শিক্ষার্থী, দারুল উলুম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।


নাস্তিক থেকে মুফাস্সির হওয়া একজন কিংবদন্তির গল্প অবলম্বনে আমাদের আজকের ভিডিও। সেই কিংবদন্তির নাম মাওলানা আব্দুল মাজেদ দরিয়াবাদী। তিনি প্রথম দিকে নাস্তিক ছিলেন। পরে পূর্ণ ইসলােমে ফিরে এসে কালজয়ী তাফসিরগ্রন্থ ‘তফিসিরে মাজেদী রচনা করেন। এই মহান ব্যক্তির গল্প অবলম্বনে আজ দেখুন ইশতিয়াক সিদ্দিকীর ভিডিও।


Download Lagu ] শেরে মিল্লাত মুফতি এ আযম ...

নিউজ ডেস্ক: ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত বাংলাদেশ’ নামক সংগঠনের চেয়ারম্যান ও জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতী ওবাইদুল হক নঈমীকে প্রধান করে একটি নতুন ফতোয়া বোর্ড গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

গতকাল (৫ এপ্রিল) মঙ্গলবার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত বাংলাদেশের দায়িত্বশীলদের ঐক্যমতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার ।

তিনি বলেন, প্রত্যেক বিভাগীয় ও জেলার সুন্নিয়তের আলেমগণের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠনের পর সদস্যদের নাম তালিকা খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।
-সিপি

আল্লামা আহমদ শফী ভালো আছেন: মুফতি ...


ডেস্ক: আল হাইআতুল উলয়া লিল- জামিআতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি ও দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মসজিদ খুলে দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।

রমজান মাসের ফযীলতের কথা বিবেচনায় নিয়ে সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ৭ মে থেকে ৫ ওয়াক্ত নামাজের জামাত, জুমা, ও তারাবি ও ইতিকাফের জন্য দেশের সকল মসজিদ খুলে দেওয়ার নির্দেশ জারি করায় আল্লামা আহমদ শফি ও দেশের শীর্ষ আলেম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ যথাযথ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সরকার কর্তৃক আরোপিত শর্তসমূহ যথাযথভাবে পালন করে আজ থেকে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্তের জামাত, জুমা, ও তারাবি আদায়ের পদক্ষেপ গ্রহণ এবং করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে তাওবা ও ইসতেগফার করার উদাত্ত আহবান জানান আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও আলেমগণ।
-ওআই



৫ মে রাতের ভয়াবহ নারকীয়  হামলার খবরে সারাদেশের মত হাটহাজারীবাসীও মর্মাহত। শোকে কাতর সবাই। রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশি পাহারা। সবার মাঝে আতংক আর উৎকণ্ঠা। বিভিন্ন জনকে নাজেহাল করার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। নিরাপত্তা বলতে কোন কিছু আছে বল মনে হচ্ছিল না।

৫ মে শাপলার মোবারক মজমায় আমরা যারা শরীক হতে পারিনি তারা ৬ মে ক্লাসে বসে বিভিন্ন দুআ দরুদ পড়ছিলাম। সবার মাঝে চাপা ক্ষোভ। প্রতিশোধের আগুনে সবাই দগ্ধ হচ্ছে। সকাল থেকে আমাদের সাথেই ছিল শাহাদাত। বিভিন্ন আমলে শরীক হলো। অনেক সময় বসে বসে গল্প করলাম। রাতের নৃশংসতার কথা স্মরণ করে কেঁদে উঠেছিল। দুপুরের বিরতিতে বাড়িতে গিয়েছিল খাবার খেতে। পরিস্থিতি বিবচনায় আমরা নিষেধ করলাম। আজকের খবারে আমাদের দস্তরখানায় শরীক হওয়ার আমন্ত্রণ জানালাম। কিন্তু, শাহাদাতের পিয়ালা হাতে বেহেশতের হুর যখন আহবান জানায় তখন দুনিয়ার সকল কিছুই তুচ্ছ মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। কোন বাধা বা সম্পর্ক শাহাদাতকে ফিরাতে পারলো না। কিন্তু এটাই যে শেষ যাওয়া তাও জানা ছিল না। প্রতিদিনের মত দুপুরের খাবার খেয়ে মাদ্রাসার পথ ধরেছে "শাহাদত হোসেন"। 

হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ডে  পৌঁছাতেই খবর পেলো আল্লামা শাহ আহমাদ শফীকে গ্রেফতার করেছে প্রশাসন। থমকে দাঁড়ায় শাহাদত। এমন দুঃসংবাদ কোনভাবেই মেনে নিতে পারে না। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তার পাশে। কী করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না! এমন সময় দেখতে পায় হাজার-হাজার তৌহিদী জনতা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছে। নারায়ে তাকবিরের ধ্বনিতে আকাশ-বাতাশ প্রকম্পিত করে তুলছে। 

শাহাদাত চৈতন্য ফিরে পেল। সারা শরীরে তারুণ্যের প্রবাহ বয়ে গেল। প্রতিশোধের দিপ্ত শপথ নিল। আল্লাহ, রাসূল ও দীনের ধারক-বাহক উলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধাচারণকারীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবে না। প্রয়োজনে শহিদ হবে, তবুও পিছু হাটবে না। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। মুষ্টিবদ্ধ হাত। হৃদয়ে শাহাদাতের তামান্না। দু'চোখে জান্নাতের স্বপ্ন। যেন হুরদের হাতছানি আর দুই কানে ভেসে আসছে  গিলমানদের অভ্যর্থনা। মুখে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে শ্লোগান। ছুটে গিয়ে শরীক হলো মোবারকময় মিছিলে। মিসে গেলো শহিদী তামান্নায় উজ্জবিত  হাজারো মানুষ ভিরে। মনের একটাই আশা, হয়তো শাহাদত, না হয় রাসূলের দুশমনের ফাঁসি। 

চলছে প্রতিবাদ মিছিল। মেখল থেকে হাটহাজারীর পথ খানিকটা দূর হওয়ায় আমরা যেতে একটু দেরি হয়ে যায়। আমি থানার সামনে আর মিছিলকারীরা হাটহাজারী মাদ্রাসার সামনে। পুলিশের এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ। চোখের সামনে যেন কিয়ামতের বিভীষিকা। চারপাশ অন্ধকার। মুহূর্তে ভয়াল পরিস্থিতি। আমরা কয়েকজন কলেজ গেটের দিকে মোড় নিলাম কাচারি রোড হয়ে। মুখে শ্লোগান বুকে ঈমানী বল।

বর্তমান  আমির এরশাদ প্লাজার সামনে যেতে না যেতেই আমাদের উপর গুলিবর্ষণ আর টিয়ারশেল নিক্ষেপ শুরু হলো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিজেকে মার্কেটের এক গলিতে আবিস্কার করি। এভাবেই ফিল্মি স্টাইলে নবীপ্রেমিক তৌহিদী জনতার আবেগ আর ভালোবাকে বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝড়া করে দেয়ার চেষ্টা করা হলো। ঝরে পড়লো ৬টি তরুতাজা প্রাণ। জীবনের তরে পঙ্গু হয়ে যায় বেশ কিছু রাসূল প্রেমিক। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে ভারি হয়ে ওঠে ইলমের নগরী হাটহাজারীর আকাশ-বাতাশ। ডুকরে কেঁদে উঠে হাজারো পরিবার।

সেদিন শহীদ হয় প্রিয় বন্ধু শাহাদাত। সেই স্মৃতি আজো আমায় কাঁদায়। আজো বাতাসের সাথে ভেসে আসে টিয়ারশেল আর বারুদের গন্ধ। চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাই হায়েনাদের পৈশাচিক উল্লাস। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে এখনো কানে ভাসে। যখনই প্রিয় বন্ধুর গুলিবিদ্ধ শরীরটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে তখনই ডুকরে কেঁদে উঠি। অনুশোচনার আগুনে দগ্ধ হই। লজ্জায় দু'চোখ বেয়ে নেমে আসে অশ্রুর ধারা।

হে শহিদ বন্ধু, ক্ষমা করে দিয়ো! তোমার জন্য আমরা কিছু করতে পারিনি। বিচার চাওয়ার পরিবর্তে নিমকহারাম কিছু গাদ্দারকে আঁতাত করতে দেখেছি। শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে বিক্রি হতে দেখছি মঞ্চ কাঁপানো অনেক মুনাফিককে। একটা আসন পাবার আশায় খুনিকে জননী ডাকতে দেখেছি। খুনির সামনে দাঁড়িয়ে বিচার চাওয়ার বিপরীতে  দাঁত কেলিয়ে মনোরঞ্জন করতে দেখছি প্রতিনিয়ত। এত এত হতাশার মাঝেও বিচারের আশায় আজ অপেক্ষায় করছি। কারণ,  আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘লা তাহযান’ হতাশ হয়ো না। আমি হাতাশ হইনি। আর মুমিন কখনো হতাশ হতে পারে না। দুআ করি আল্লাহ তোমাকেসহ সকল শহিদদের কবুল করুন।

লেখক: শিক্ষার্থী, হাটহাজারী মাদরাসা চট্টগ্রাম।

ইতিহাসের সেই ২০১৩ সাল। উত্তপ্ত রাজনীতির রোষানলে দাউ দাউ করে জ্বলছিল পুরো দেশ। দেশদ্রোহী রাজাকারের অভিযোগে একের পর এক ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হচ্ছিলো জামা‌ত নেতা‌দের। বিরোধীদল বিএনপির জন্য আন্দোলনে নামা ছিল বড় দুষ্কর। সুযোগ মত পেলেই গ্রেফতার, এরপর রিমান্ড। ফলে তারা শক্ত‌িশালী হওয়া সত্ত্ব‌েও ‌ছিল নিষ্ক্রিয়। এদিকে রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে ঢাকার শাহবা‌গে গড়ে ওঠে গণজাগরণমঞ্চ। তাদের দেখা‌দে‌খি অপরাপর জেলাগুলোতেও গড়ে ওঠে গণজাগরণমঞ্চের শাখা। পুরো দেশ রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে প্রকম্পিত করে তুলেছিল তারা। প্রথম দিকে নিজস্ব গতিতে চললেও কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর তাদের দাবী ঘুরে গিয়ে ধর্মভি‌ত্তিক রাজনী‌তি নি‌ষি‌দ্ধের দাবীও যুক্ত হয়। একপর্যা‌য়ে তাদের অনেকেই ইসলাম ধর্মের অবমাননা শুরু করে এবং রাসূল সা. এর ব্যঙ্গ করতে থাকে। নারী-পুরু‌ষের এক‌ত্রে রা‌ত্রিযাপন ও অবাধ মেলা‌মেশায় গণজাগরণমঞ্চ একপর্যায় বেহায়াপনা ও বেলেল্লাপনার আখড়ায় পরিণত হয়।

তাদের এমন অবস্থা ও অবস্থান দেখে ঘরে বসে থাকতে পারেননি শায়খুল আরব ওয়াল আযম আল্লামা হোসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর খাছ শাগরিদ, বাংলার সিংহপুরুষ, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফিযাহুল্লাহ। তিনি বাংলাদেশের শীর্ষ ওলামা-মাশায়েখ এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সাথে নিয়ে নবীর ইজ্জত রক্ষার্থে তথাকথিত গণজাগরণমঞ্চের বিরুদ্ধে এবং নাস্তিক ব্লগার‌দের সর্বোচ্চ শা‌স্তি ফাঁসির দাবিসহ মোট ১৩ দফা দাবি নিয়ে দেশের প্রতিটি জেলায় আন্দোলন গড়ে তোলেন। আন্দোলনের তীব্রতা এবং তাওহীদি জনতার গণজাগরণ দেখে সরকার হত‌বিহ্বল হ‌য়ে পড়‌ে। বাংলার জমিনে এমন আন্দোলনের দ্বিতীয় কোন নজির ছিল না। হেফাজতের অগ্রগ‌তি আটকা‌তে পা‌রে‌নি কেউ। কারণ এ আন্দোলন ছিল ঈমান, ইখলাস ও নবীপ্র‌ে‌মের। এরপরও আওয়ামী সরকার হেফাজ‌তের দাবী না মে‌নে উ‌ল্টো প্রশাসনিক সু‌বিধার মাধ্য‌মে শাহবাগী‌দের সা‌পোর্ট ‌দি‌তে থা‌কে এবং হেফাজতের বিরুদ্ধে তাদেকে খেপিয়ে তোলে।

এমন একটি মুহুর্তে সুযোগসন্ধানী হয়ে হেফাজত নেতাদের পিছু নেয় বিএনপি ও জামাত‌। সরাস‌রি টাইমলাই‌নে না এ‌সে বি‌ভিন্ন সু‌যোগ-সু‌বিধা দেয় হেফাজ‌তের সমা‌বে‌শে। এমন‌কি মুরুব্বীদের অগোচরে কিছু হেফাজত নেতাদের সাথে আতাঁত করতে সক্ষম হয়। ক্ষমতালোভী ও রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত কিছু আলেম তাদ‌ের দেয়া অফার ও সু‌যোগ সু‌বিধা গ্রহণ ক‌রে।

এভা‌বে চল‌তে চল‌তে একপর্যায়ে আন্দোলনের না‌স্তিক‌বিরোধী আন্দোলনের একটা অংশ সরকার পতন আন্দোলনে রূপ নেয়। হেফাজতের পুরো আন্দোলনটা ঘোলাটে করে নি‌জে‌দের ম‌তো ব্যবহার ক‌রে ক্ষমতালোভি সেই মহলটি।

বিশেষ করে ৫ মে ঢাকা অব‌রো‌ধে লক্ষ লক্ষ তৌহিদী জনতা ঢাকার রাজপথে বি‌ভিন্ন প‌য়েন্ট‌ে অবস্থান করছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি ঘোষণা দেয় নেতা-কর্মীদের হেফাজতের পা‌শে দাঁড়া‌তে। তাঁর এই বক্তব্যে আওয়ামী সরকার আতঙ্কিত ও ন‌ড়েচ‌ড়ে বস‌লে হেফাজতকে সন্ধ্যার আগেই শাপলাচত্তর ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। এদিকে সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাসূল সা. এর ইজ্জত রক্ষার্থে দাবি আদায়ের জন্য ময়দান ছাড়তে রাজি নয় হেফাজতের সরল মুখ‌লিস ওলামামাশায়েখ ও তাওহীদি জনতা। পরামর্শক্রমে এবং বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে রাত্রিযাপনের ঘোষণা দেয় হেফাজত নেতৃবৃন্দ।

অন্যদিকে হেফাজতের কিছু ক্ষমতালোভী নেতা বিএনপির সাথে আঁতাত করে গদি দখলের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে এবং আন্দোলনের মোড় ভিন্নভা‌বে নেয়ার অপচেষ্টা চালায় এবং তাওহী‌দি জনতাকে রাত্রিযাপনের ব্যাপা‌রে বোঝা‌তে সক্ষম হয় তারা। এ‌দি‌কে পরেরদিন রাত পেরোলেই ৬ মে ঢাকায় পল্টনে বিএনপির জনসভা। তাদের লক্ষ্য ছিল, রাত অতিবাহিত হলে হেফাজতের জনসমুদ্র‌ে সকলেই যোগদান করবে। দল ভারি করে সরকার পতনের শেষ ঘণ্টা বাজাবে তারা! কিন্তু আওয়ামী সরকার তা আঁচ কর‌তে পেরে। হা‌তে নেয় নতুন প্লান। আর ক্ষমতা‌লোভী দু'দলের খেলার গু‌টি হয় হেফাজ‌তের নিষ্পাপ-নিরাপরাধ কর্মীরা।

হেফাজত কর্মীদের উপর ৬ মে রাত দু'টায় ধর্মপ্রাণ তাওহিদী জনতার কেউ যখন তাহাজ্জুদে আর কেউ বিশ্র‌াম কর‌ছে ঠিক সে সময় বিদ্যুৎ সং‌যোগ বিচ্ছিন্ন ক‌রে তাওহিদী জনতা এবং আলেম-ওলামা পীর-মাশায়েখদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চলায় সম্মিলিত বাহিনী। নে‌মে আস‌ে তাঁদের উপর ভয়াবহ কেয়ামত। যৌথবা‌হিনী ও আওয়ামী সরকা‌রের পোষা কুকুরগুলো হাম‌লে প‌ড়ে তা‌দের উপর। ই‌তিহা‌সের বর্বরতম পাশবিক নির্যাতন করে রাতেই ঢাকা ত্যাগ করতে বাধ্য করে আওয়ামী সরকার।

যৌথবা‌হিনী রাতভর মুহুর্মুহু গু‌লি ও হামলা চা‌লি‌য়ে শতাধিক মুসল্লীকে শহীদ এবং হাজার হাজার আলেম-ওলামা ও তাওহিদী জনতাকে আহত ও পঙ্গু ক‌রে দেয়। এমন বর্বরো‌চিত হামলা স্বাধীনতার পর বাংলার জমিনে দ্বিতীয়বার সংঘটিত হয়নি। সে ক্ষত এখ‌নো আ‌ছে, থাক‌বে সারা জীবন!

এ অমানবিক হামলার দায় যেমনটি আওয়ামী সরকারের, ঠিক তেমনটি বিএনপি-জামাত জোটের। কিয়ামতের দিন উভয় ক্ষমতাধরকে আল্লাহর কাঠগড়ায়  দাঁড়াতে হবে। দাঁড়াতে হবে ঐ সমস্ত ক্ষমতালোভীদেরও যারা সেদিন হেফাজতের ভেতরেই ঘাপটি মেরে ছিল। সেইদিন আল্লাহ তাআলা এর উপযুক্ত বিচার করবেন ইনশাআল্লাহ।

৫ মে হামলার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত হেফাজত থেকে স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা চালিয়েছে বিএনপি-জামাত। একথ‌া ব‌াস্তব‌ যে, সেদিন সরকার পতনের জন্য হেফাজতকে ব্যবহার করতে চেয়েছে বিএনপি। এদিকে আওয়ামী সরকার বিএনপির অবস্থান জেনে ক্ষমতার জন্য অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে নির্দোষ নিরাপরাধ তাওহিদী জনতা এবং আলেম- ওলামাদের শাপলা চত্বর ছাড়তে বাধ্য করে।
যোগ বি‌য়োগ কর‌লে একথা প‌রিষ্কার, হেফাজতকে ক্ষমতার জন্য উভয় দল ব্যবহার করেছে। কেউ গদির পাওয়ার জন্য, কেউ গদি রক্ষার জন্য।

গতানুগতিক কথা বলছি না। এ বিষয়ে হেফাজতে শীর্ষ এক নেতার  ভিডিও সাক্ষাৎকার আমার কা‌ছেও আছে। সেখানে তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, ফরহাদ মজহারের উপস্থিতিতে বেগম জিয়ার সম্মতিক্রমে আমি এই হাতে ইসলামী রাষ্ট্রের রূপরেখা লিখেছি।
তিনি আরো বলেন, হাটহাজারী হযরতকে বলেছি, হুজুর কোন চিন্তা করবেন না, পরশু আপনি হবেন রাষ্ট্রপতি এবং বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করে আমরা ইসলামী হুকুমত কায়েম করবো।
তিনি আরো বলেন, অপারেশন চলাকালীন অর্থাৎ ৫মে রাতে বারবার হুজুর আমাকে বলেন ‌‌'এখন কী করব?' আমি হুজুরকে বলেছি, আপনি চিন্তা করবেন না।
হেফাজত নেতা বলেন, হঠাৎ আমি শুনতে পাই হুজুর নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলে দুটি টিকিট সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম চলে যাচ্ছে। এ কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কেন হুজুর চলে গেলেন তিনি না গেলে কেউ কী তাঁকে জোর করে নিয়ে যেতে পারতো?
হুজুর যদি ওই রাতে না গিয়ে মিডিয়ার সামনে বলতো ভাইয়েরা, তোমরা যে যেখানে অবস্থান করছো তোমরা থাকো, ইনশাআল্লাহ  সকালে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তাহলে পরের দিন আমরা ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে পারতাম।

সে হেফাজত নেতার কথায় সুস্পষ্ট বোঝা যায়, তারা তাওহিদী জনতার আস্থা, বিশ্বাস ও রক্তের সাথে গাদ্দারী করে নিজেদের বিক্রি করে দিয়েছিল। না হয় বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্ন দেখে কী করে?

যুগে যুগে এভা‌বে ক্ষমতালোভী আলেমই নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ইসলামকে কুলষিত করেছে।  

আমরা দেখেছি
-ক্ষমতার জন্য কাউকে তারা রাবেয়া বসরী উপাধি দিতে দ্বিধা‌বোধ করে না।
-আবার বেগম জিয়াকে গদিতে বসিয়ে ইসলামী রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতেও তাদের বুক কাঁপে না।
-আবার কেউ কওমী জননী উপাধি দিতেও পরোয়া করে না।
-কেউ ক্ষমতা ও পদের লোভে গোমরাহী আকীদা পোষণকারীদের অনুসরণ-অনুকরণ করে।
-কখনো স্বার্থ হাসিলের জন্য কওমী মাদরাসার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা ভূলুণ্ঠিত করতেও তারা দ্বিধাবোধ করে না।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিএনপি যদি সেদিন তাদের চক্রান্তে স্বার্থক হতো, হেফাজত‌কে সিঁ‌ড়ি হি‌সে‌বে ব্যবহার কর‌ে নতুন সরকার গঠন কর‌তো, তার পরও আলেম-ওলামাদের নেতৃত্ব প্রদান তো দূরের কথা বরং বি‌ভিন্ন মামলায় হেফাজতকে জেলে ভরে তারা একক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতো।

পরিশেষে, মহান আল্লাহর কাছে মিনতি করি, মুসলিম জাতিকে যেন আদর্শিকভাবে পদস্খলন না করেন। ঈমান এবং নীতি-নৈতিকতার উপর অটুট রাখেন।

লেখক: শিক্ষার্থী, দারুল উলুম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।


করোনা মোকাবিলায় জাতীয় কমিটি করতে ...

ডেস্ক: মসজিদ উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ও বিশিষ্ট ২০০ ওলামায়ে কেরাম। এক বিবৃতিতে দেশের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম বলেন, শর্ত সাপেক্ষে শপিংমল-মার্কেট, গার্মেন্টস-ইন্ডাস্ট্রি খুলে দেয়ার পরও সরকার রমজান মাসে মসজিদ উন্মুক্তের ঘোষণা না দেয়ায় দেশবাসী মর্মাহত হয়েছেন।

এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট আলেমরা।

বিবৃতিতে ওলামায়ে কেরাম বলেন, দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীসহ শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল হয়ে মসজিদ খুলে দিবেন বলে আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু দেশের বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়, শপিংমল-মার্কেট, গার্মেন্টস, কল-কারখানা চালু করার ঘোষণা আসলেও সরকারের পক্ষ থেকে সুস্থ্য সকল মুসল্লীদের মসজিদে নামাজ আদায়ের ঘোষণা আসেনি। রমজান মাস সত্ত্বেও মুসল্লীরা মসজিদে গিয়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা, তারাবিহ ও ইবাদত-বন্দেগী করতে না পেরে আর্ত চিৎকার করছে। রোযাদারদের হৃদয়ের কান্নায় সরকার বেকায়দায় পড়তে পারে।

বিবৃতিতে ওলামায়ে কেরাম আরো বলেন, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ওলামায়ে কেরামের পরামর্শ মোতাবেক পরিচালিত হওয়াই যুক্তিসঙ্গত। শর্ত সাপেক্ষে কল-কারখানা, গার্মেন্টস, হাট-বাজার, ব্যাংক ইত্যাদি চালু থাকলে সতর্কতার সাথে রহমতের স্থান মসজিদ খুলে দিতে বাঁধা কোথায়?

তারা বলেন,  উন্নত রাষ্ট্রসমূহে মসজিদের সংখ্যা খুবই স্বল্প হওয়া সত্ত্বেও সেখানে করোনায় সর্বাধিক আক্রান্ত হচ্ছে কেন? করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলা এবং আল্লাহর কাছে খালেস দিলে তাওবা-এস্তেগফার, নামাজ-রোজা, দোয়ায়ে ইউনুসসহ অন্যান্য দোয়া অব্যাহত রেখে সবধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য তাঁরা সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।

বিবৃতিদাতা বিশিষ্ট আলেমগণ হলেন, হাটহাজারী মাদরাসার প্রধান মুফতি আল্লামা আব্দুস সালাম চাটগামী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, বারিধারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী, সাবেক মন্ত্রী, শায়খুল হাদীস মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস, বাবুনগর মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, শায়খুল হাদিস আল্লামা নুরুল ইসলাম (আদীব সাহেব হুজুর), মহাপরিচালক ওলামা বাজার মাদরাসা ফেনী, মাওলানা নুরুল ইসলাম শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল, মাখজানুল উলূম খিলগাঁও, ঢাকা, শায়খুল হাদিস আল্লামা মুনিরুজ্জামান সিরাজী (বড় হুজুর) ব্রাক্ষণবাড়িয়া, জামিয়া ইউনুসিয়া ব্রাক্ষণবাড়িয়ার প্রিন্সিপাল আল্লামা মুফতি মুবারকুল্লাহ, আল্লামা শাহ মোহাম্মদ তৈয়্যব, মহাপরিচালক, জিরি মাদরাসা চট্রগ্রাম, শায়খুল হাদিস মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী আমীর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, শায়খুল হাদিস আল্লামা আব্দুল হক, খতিব ময়মনসিংহ বড় মসজিদ।

এছাড়াও বিবৃতিতে আরো সাক্ষর করেন শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বারিধারা, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, পীর সাহেব কাপাসিয়া,গাজিপুর, শায়খুল হাদিস মুফতি আব্দুল বারী, প্রিন্সিপাল, জামিয়া আশরাফিয়া সাইনবোর্ড,্মাওলানা মাহফুজুল হক প্রিন্সিপাল জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, মারকাজূল  উলুম খুলনার প্রিন্সিপাল মুফতি গোলাম রহমান, শায়খুল হাদিস আল্লামা সোলায়মান নোমানী, হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর সুযোগ্য খলিফা শায়খুল হাদিস আল্লামা ইসমাঈল বরিশালী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী মহাসচিব, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, শায়খুল হাদিস আল্লামা শেখ আজীমুদ্দীন, শায়খুল হাদিস মুফতি মহিবুল হক, মুহতামিম,দরগাহ মাদরাসা সিলেট, মুফতি জসীমুদ্দীন হাটহাজারী মাদরাসা,  জামিয়া নুরিয়ার প্রধান মুফতি আল্লামা মুজিবুর রহমান, মাওলানা আব্দুর রহমান, শায়খুল হাদিস উজানী মাদরাসা চাঁদপুর ,মুফতি ইয়াহইয়া, প্রধান মুফতি লালবাগ মাদরাসা,  মুফতি রশীদুর রহমান ফারুক, পীরসাহেব বরুণা, মাওলানা আবুল কালাম প্রিন্সিপাল, জামিয়া মুহাম্মদিয়া, মোহাম্মদপুর, শায়খুল হাদিস মাওলানা আব্দুল আউয়াল, খতিব, ডি আইটি মসজিদ, নারায়নগঞ্জ মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, প্রিন্সিপাল দেওভোগ মাদরাসা,নারায়ানগঞ্জ, মুফতি মুশতাকুন্নবী কাসেমী, মুহতামিম, দারুল ঊলূম সুধন্যপুর, কুমিল্লা।

বিবৃতিদাতা আলেমদের মধ্যে আরো রয়েছেন মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, সহ-সভাপতি জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম,ড  মাওলানা মোহাম্মদ ঈসা শাহেদী, আমীর ইসলামী ঐক্য আন্দোলন,মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ,  মাওলানামুজিবুর রহমান হামিদী, নায়েবে আমীর বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন,মাওলানা খোরশেদ আলম কাসেমী, নায়েবে আমীর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাযী, ঢাকা, মাওলানা সারোয়ার কামাল আজিজী সভাপতি, নেজামে ইসলাাম পার্টি,মাওলানা সাখাওয়াত হুসাইন নায়েবে আমীর, খেলাফত মজলিস, মাওলানা হাজী ফারুক আহমাদ, শায়খুল হাদিস ইশাআতুল উলূম লক্ষীপুর, শায়খুল হাদিস শাইখ নাসিরুদ্দিন সিলেট ও মুফতি ওমর ফারুক বিন মুফতি নুরুল্লাহ বরিশাল, মাওলানা মুফতি কুতুবুদ্দিন, শায়খুল হাদিস নানুপুর মাদরাসা চট্রগ্রাম, মাওলানা শিব্বির আহমাদ, চরমটুয়া, নোয়াখালী, মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান, পেশ ইমাম, চকবাজার শাহী মসজিদ ঢাকা, মাওলানা মাসুদুল করিম, প্রিন্সিপাল দারুল উলুম টঙ্গী, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস, জামিয়াতুল মানহাল, উত্তরা, ঢাকা, মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী, সম্পাদক মাসিক আদর্শ নারী, মুফতি গোলাম রব্বানী, নীলফামারী, মুফতি নুরুল ইসলাম খান, শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল দরগাপুর মাদরাসা, সুনামগঞ্জ, মুফতি ইফতেখারুল ইসলাম, মুহাদ্দিস, তেঘরিয়া মাদরাসা সুনামগঞ্জ, শায়খুল হাদিস মুফতি আবুল হাসান, রংপুর, মুফতি বশিরুল্লাহ মাদানীনগর মাদরাসা।,মাওলানা আনোয়ারুল করীম, মুহতামিম, রেল স্টেশন মাদরাসা যশোর,মুফতি রফিকুর রহমান খুলনা। মুফতি গোলামুর রহমান প্রিন্সিপাল ইমদাদুল উলুম খুলনা।,মাওলানা আব্দুল হামিদ, সভাপতি বৃহত্তর কুষ্টিয়া ওলামা পরিষদ, মাওলানা আকরাম আলী, বাহিরদিয়া মাদরাসা, ফরিদপুর, মাওলানা ইসমাঈল ইবরাহীম, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীস, ভবানীপুর মাদরাসা, গোপালগঞ্জ, মুফতি মুনির হুসাইন, প্রিন্সিপাল রাণীরবাজার মাদরাসা কুমিল্লা, মাওলানা আব্দুল বাসেত আজাদ (বড় হুজুর বানিয়াচং) হবিগঞ্জ,মুফতি লিহাজ উদ্দিন, মুহতামিম জামিয়া নূরিয়া, গাজিপুর, মাওলানা ইউসুফ সাদেক হক্কানী, সভাপতি, সাভার উপজেলা ওলামা পরিষদ, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, প্রিন্সিপাল জামিয়া মাআরিফুল কোরআন ঢাকা,মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, মুহতামিম, হুসনুল কুরআন মাদরাসা, ঢাকা, মুফতি শেখ মজিবুর রহমান, শায়খুল হাদিস জামিয়া আশরাফিয়া পটুয়াখালী, মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, প্রিন্সিপাল দারুল উলুম নতুনবাগ রামপুরা ঢাকা, মুফতি সাঈদুর রহমান, মুহতামিম আল কাউসার আল ইসলামিয়া, কল্যাণপুর ঢাকা, মাওলানা যাকারিয়া নোমান ফয়জী, মেখল মাদরাসা চট্টগ্রাম, মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, মহাসচিব ইত্তিফাকুল মুসলিমীন বাংলাদেশ, জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সেক্রেটারী জেনারেল মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন, মুফতি সাইফুল ইসলাম, প্রিন্সিপাল মোস্তফাগঞ্জ মাদরাসা মুন্সিগঞ্জ, শায়খুল হাদিস মুফতি হাসান ফারুক মুহতামিম জামিয়া ফারুকিয়া, গজারিয়া মুন্সিগঞ্জ, মাওলানা বশিরুদ্দিন, শায়খুল হাদিস দত্তপাড়া মাদরাসা নরসিংদী, মাওলানা আব্দুল হালিম, মুহতামিম খাজা মঈনুদ্দিন মাদরাসা,বরিশাল, মাওলানা আলী আহমাদ পীরসাহেব চন্ডিবর্দী, মাদারীপুর, মুফতি শফিউল্লাহ খান, সভাপতি, শরীয়তপুর উলামা পরিষদ, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস, মনুয়া মাদরাসা, শরীয়তপুর, মুফতি রশিদ আহমদ, প্রধান মুফতি বৌয়াকুর মাদরাসা, নরসিংদী, মুফতি রঈসুল ইসলাম, প্রধান মুফতি জামিয়া ফয়জুর রহমান, ময়মনসিংহ, মাওলানা আব্দুর রহমান খান তালুকদার, সভাপতি, সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ ভোলা, মাওলানা আবুল কাসেম, প্রিন্সিপাল, জামিয়া মিফতাহুল উলুম নেত্রকোনা, মাওলানা আব্দুল মতিন, সহকারী প্রিন্সিপাল নেত্রকোনা কামিল মাদরাসা, মুফতি আব্দুল বারী, নেত্রকোনা, মুফতি আবু দাউদ, প্রিন্সিপাল মঙ্গলবাড়ীয়া মাদরাসা কুষ্টিয়া, মুফতি মাসউদুর রহমান, প্রধান মুফতি ভবানীপুর মাদরাসাম গোপালগঞ্জ। মাওলানা আব্দুর রাশেদ ফরিদপুর,মাওলানা আব্দুল মতিন, খলিফা হাফেজ্জী হুজুর রহ.।

এছাড়া আরো বিবৃতি দিয়েছেন, মুফতি শিহাবুদ্দিন কাসেমী, কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ, মুফতি আরিফ বিল্লাহ, সভাপতি ঝিনাইদহ ওলামা পরিষদ, মাওলানা শফিউল্লাহ, মুহতামিম জামিয়া ইসলামিয়া চৌমুহনী নোয়াখালী, মুফতি আব্দুস সালাম, মুহাদ্দিস ধুলেরচর মাদরাসা টাঙ্গাইল, মাওলানা গাজী ইউসুফ, ফেনী, মাওলানা আব্দুল হাই উত্তরা, ঢাকা, মাওলানা আব্দুল হক, কক্সবাজার, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, রামু, কক্সবাজার, মাওলানা আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী, টেকনাফ কক্সবাজার, মাওলানা আব্দুল হক কাউসারী পটুয়াখালী, মুফতি আজমল হুসাইন, সভাপতি, ইত্তেহাদুল উলামা, রাজশাহী, মুফতি আব্দুল্লাহ শায়খুল হাদীস ও প্রধান মুফতি, জামিয়া ইশাআতুল উলূম, নেত্রকোনা। মাওলানা ইসমাঈল মাহমূদ, শিক্ষাসচিব, রেলওয়ে মাদরাসা, সিরাজগঞ্জ, মাওলানা শরীফুল ইসলাম,মুহতামিম, নিউটাউন মাদরাসা, দিনাজপুর, মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী দিনাজপুর।

যৌথ বিবৃতিদাতা হিসেবে আরো ছিলেন,  মাওলানা আরিফুল ইসলাম, সভাপতি, ইশাআতে ইসলাম, দিনাজপুর, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, সভাপতি বাংলাদেশ আইম্মা পরিষদ, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, প্রিন্সিপাল চরিতাবাড়ী মাদরাসা লালমনিরহাট, মুফতি আব্দুল আজীজ, হাটহাজারী, মাওলানা এনামুল হক মুসা, সভাপতি সচেতন ওলামা সমাজ, মাওলানা সাজেদুর রহমান ফয়েজী, সভাপতি ইমাম ও ওলামা পরিষদ, মুফতি ইলিয়াস মাদারীপুরী, সভাপতি জাতীয় ইমাম সমাজ কামরাঙ্গীরচর, মুফতি আবুল কালাম, প্রিন্সিপাল, দারুল উলূম মিরপুর-৬, মাওলানা মীর ইদরীস, প্রিন্সিপাল দারুল হুদা, চট্রগ্রাম, মুফতি সামসুদ্দিন বড়াইলী, মারকাজুল হুদা ঢাকা, মুফতি আখতারুজ্জামান, প্রধান মুফতি দারুল উলুম মাহমুদিয়া ঢাকা, মাওলানা আশরাফুজ্জামান পাহাড়পুরী, পরিচালক, আল মারকাযুল ইলমী বাংলাদেশ।

মসজিদ খোলার পক্ষে আরো বিবৃতি দিয়েছেন,  মাওলানা আহসান উল্লাহ, প্রিন্সিপাল মাহফুজুল কোরআন মাদরাসা, ঢাকা, মাওলানা মুফতি রেজাউল করিম, সেক্রটারী বৃহত্তর কুষ্টিয়া ওলামা পরিষদ, মুফতি আব্দুল বারী, প্রধান মুফতি মদিনাতুল উলুম আমীনবাজার ঢাকা, মাওলানা মাসউদুর রহমান বিক্রমপুরী, মুফতী ইলিয়াস মাদারীপুরী, মুফতী আঃ হাফিজ গোপালগঞ্জ, মুফতি আব্দুর রহমান আজাদ বাগেরহাট, মুফতী আব্দুর রহমান বেতাগী পটুয়াখালী, মুফতী রাইহান ফরহাত ঢাকা, মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জ, মুফতী আফজাল হুসাইন শরীয়তপুর, মুফতী হাবিবুর রহমান শরীয়তপুর, মুফতি আবু মূসা শরীয়তপুর, মুফতি জাকির বিল্লাহ মাদারীপুর, মুফতি খায়রুজ্জামান ফরিদপুর, মাওলানা বেলাল মাদারীপুর প্রমুখ।

Videos on social media purportedly of the fire showed burning debris falling from a tower engulfed in flames [Screenshot]
মঙ্গলবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় একটি আবাসিক টাওয়ারে আগুন লাগে। এসময় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার বিগ্রেডের সদস্যরা।

শারজাহের আল নাহদা এলাকার ৪৮ তলা অ্যাবকো টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ফলে সাতজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ফায়ার বিগ্রেডের মিডিয়া সেল জানিয়েছে।

ভবনটিতে আগুন লাগার পরে তার লেলিহান শিখা আকাশে দেখা যায় এবং থেকে তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে, যা সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল। কর্তৃপক্ষ অগ্নিসংযোগের তাত্ক্ষণিক কারণ জানাতে পারেনি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, শারজাহ সিভিল ডিফেন্সের (এসসিডি) সদস্যরা ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি দ্রুত ছিল নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর ছিল।

গাল্ফ নিউজ পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, এসসিডি জানিয়েছে,  স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৯. টা নাগাদ বাংলাদেশ জিএমটি) আগুন শুরু হয়েছিল।

খালিজ টাইমস জানিয়েছে, আগুনে আবাসিক টাওয়ারটির নিকটবর্তী অন্তত পাঁচটি বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং  ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যা পরে সরিয়ে নেয়া হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উঁচু উঁচু টাওয়ারগুলো প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়েছে।

ভবন সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং অন্যান্য যেসব স্থানে আগুন ধরেছে সেসব জায়গার ভবনগুলোতে ভবন নিরাপত্তা নিশ্চিতের আইন অনুযায়ী নকশা করা হয়নি এবং দ্রুত আগুন নির্বাপনেরও তেমন কোন বিশেষ ব্যবস্থা নেই।
সূত্র- আল জাজিরা ও নিউজ এজেন্সি


রাজধানীতে ধর্ষণ-খুনের অভিযোগে ...

নিউজ ডেস্ক: এই রমজানেই ইমাম মাহাদী আসবেন । প্রথম ৩১৩ সেনার তালিকায় নাম ঢোকাতে যেতে হবে সৌদি আরব। প্রকৌশলী সৈয়দ মোস্তাক মো. আরমান খানের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে একটি দল আগেই দেশ ছেড়েছিল। আরেক দল আগেই ধরা পড়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের হাতে।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ১৭ জনের একটি দলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ দলে আরও দুজন ছিলেন। তাঁরা পালিয়ে গেছেন। ওই দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

দলটিতে ছাত্ররা ছাড়াও সরকারি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক, চারজন প্রকৌশলী ও কৃষিবিদ রয়েছেন বলে জানান সাইফুল ইসলাম।

৪ মে কাকরাইল থেকে যে ১৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁরা হলেন মো. হায়দার আলী (৪৪), মো. মাহমুদুল হাসান ওরফে মাসুম, মো. জামিরুল ইসলাম (২৪), মো. বিল্লাল হোসেন (৩৮), মো. শেখ আরাফাত ওরফে জনি (৪৮), মো. ইমরুল হাসান ওরফে ইমন (২৫), মো. সাইফুল ইসলাম (২৫), মো. মোজাম্মেল হক (৩৩), মো. শাহজালাল(৩৪), মো. আক্তারুজ্জামান (৩০), মো. মাহমুদুল হাসান ওরফে সাব্বির (২৩), মো. আবিদ উল মাহমুদ ওরফে আবিদ (২২), মো. সোহাইল সরদার (৩৩), মো. ওবায়দুল ইসলাম ওরফে সুমন (৩০), মাহমুদ হাসান ওরফে শরীফ (১৮), মো. মাজেদুল ইসলাম ওরফে মুকুল ( ২৮) ও মো. সোহাগ হাসান (২০)।

এই সময় তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ১৯টি মুঠোফোন, ২ লাখ ৩৪ হাজার বাংলাদেশি টাকা ও ৯২২ আমেরিকান ডলার জব্দ করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী অতিরিক্ত উপকমিশনার তহিদুুল ইসলাম জানান, প্রকৌশলী সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান বাংলাদেশ থেকে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে যান এবং সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি ইমাম মাহাদীর সৈনিক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন এবং এবং গাজওয়াতুল হিন্দে মুসলিমদের পক্ষে জিহাদ করার আহ্বান জানিয়ে অডিও–ভিডিও প্রকাশ করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ইমাম মাহাদীর সৈনিক হিসেবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, তাঁরা সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় তাঁরা হিজরতের সিদ্ধান্ত নেন।

দলটির পরিকল্পনা ছিল তাবলিগ-জামাত পরিচয়ের আড়ালে সাতক্ষীরা বা বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তারা ভারত-কাশ্মীর সীমান্ত হয়ে সৌদি আরব পৌঁছাবেন। তাঁদের বলা হয়েছিল, করোনার দুর্যোগে আকাশ থেকে এক ধরনের গজব নেমে আসবে এবং সবকিছু ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যাবে, তখন সীমান্তে কোনো পাহারা থাকবে না। ইমানদারদের শুধু হালকা কাশি হবে। এই সময় তাঁরা যেন চলে আসেন।

এই বিশ্বাস নিয়ে গত ১৮ মার্চ তাঁরা প্রথমে সাতক্ষীরা ও পরে যশোর সীমান্তের কাছে বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান করেন। এসব কিছুই না ঘটায় তাঁরা সাতক্ষীরা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে পার হতে ব্যর্থ হন। পরে ঢাকা হয়ে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই ধরা পড়ে যান।

তহিদুুল ইসলাম বলেন, সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের প্ররোচনায় এবং তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্র গত জানুয়ারি মাসে ওমরা করতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময় সাদ, কাউসার, শরীফ, তোফাজ্জল, গিয়াসউদ্দিন, আলী আজম ও রাশেদ নামের আরও সাতজন ইমাম মাহাদীর সৈনিক হিসেবে যোগদানের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে হিজরত করেছেন বলে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশাসন ব্যর্থ ...

নিউজ ডেস্ক: তৈরি পোশাক কারখানা খোলায় ও দোকানপাটে আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে করোনাভাইরাস–সংক্রান্ত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শ কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এই কথা বলেন। 

প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মৃত্যু হচ্ছে, তার জন্য দুঃখিত, তবে মৃত্যুর হার অন্য দেশের তুলনায় কম আছে। সংক্রমণ কিছু বেড়েছে। গত আট–দশ দিনে ৪০০-৫০০ করে দেখেছি। এখন ৭০০। যেহেতু কিনা এখন স্বাভাবিকভাবেই মার্কেট খোলা হয়েছে (খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে), গার্মেন্টস খোলা হয়েছে, দোকানপাটে আনাগোনা বাড়ছে। কাজেই সংক্রমণ যে বৃদ্ধি পাবে, এটি আমরা ধরেই নিতে পারি। আমাদের যতটুকু সম্ভব এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জীবন-জীবিকা দুটোই পাশাপাশি যাবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চেষ্টা করবে যাতে রোগী না বাড়ে। আমাদের ম্যান্টেড হলো যাতে রোগীগুলো অধিক চিকিৎসা পায়।'

উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল থেকে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা খোলা হয়েছে। গতকাল সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১০ মে থেকে হাটবাজার, ব্যবসাকেন্দ্র, দোকানপাট ও শপিং মলগুলো শর্ত সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে খোলা হবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দোকানপাটও হয়তো খুলে যাবে। এ বিষয়ে কারিগরি কমিটি যে সুচিন্তিত পরামর্শ দেবে, সেগুলো যথাযথ জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হবে। তারপর সরকারের যে নির্দেশনা থাকবে, সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।

বৈঠকে কারিগরি কমিটির পক্ষ থেকে হাসপাতালগুলোতে সব ধরনের রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো রোগীকে যেন কোনো হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে না দেওয়া হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেছে কমিটি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোভিড রোগীদের পাশাপাশি অন্য রোগীদের সুচিকিৎসা বজায় রাখতে হবে।

এ ছাড়া করোনাভাইরাস শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

চিকিৎসকদের বেশি আক্রান্ত হওয়া নিয়েও কারিগরি কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। কমিটি হাসপাতালে যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের আরও উৎসাহ দেওয়া, সমস্যগুলো দূর করার পরামর্শ দিয়েছে। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারে বেশি নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। এ ছাড়া ঈদের সময় যাতায়াতের বিষয়েও কমিটি মতামত দেবে।
-পিএ

সাত খুন মামলার এক আসামি গ্রেপ্তার
প্রবচন ডেস্ক: ইসলামীক ফাউন্ডেশনের (ইফা) করোনা বিষয়ক প্রচারণায় বাধা দেয়ার মামলায় মাগুরা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুর রহিমকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মাগুরা সদর থানার ওসি জয়নাল আবেদীন জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জুমার জামায়াতে ইমামসহ সর্বোচ্চ ১২ জন মুসল্লি থাকার কথা। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত শুক্রবার শহরের ভায়না পৌর গোরস্থানে শতাধিক মানুষের জমায়েত হয়। খবর পেয়ে ইসলামীক ফাউন্ডেশন মাগুরার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান সেখানে গিয়ে মুসল্লিদের করোনা পরিস্থিতে সরকারি নির্দেশনার কথা জানান। এ সময় সেখানে উপস্থিত আব্দুর রহিম তাকে গালিগালাজ করেন এবং এক পর্যায়ে ধাক্কা দেন। 

তিনি জানান, এ ঘটনায় মনিরুজ্জামান ওই দিন সন্ধ্যায় মাগুরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যার ভিত্তিতে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আব্দুর রহিমকে পুলিশ তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে সদর থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget