Latest Post


আবুল কাসেম আদিল
মাঝেমধ্যে নিজের অজ্ঞতা দেখে বিস্মিত হয়ে যাই। প্রায়ই আবিষ্কার করি, অনেক আগে থেকে অন্যরা এমন অনেক কিছু জানে, যা আমি জানতাম না। এমনই একটি বিষয় হলো, ফরয নামাযের পরে সম্মিলিতভাবে হাত তুলে নিয়মিত মোনাজাত করা। আমি ছোট থেকে ভোলার বিভিন্ন মাদরাসায় হিদায়াহ আউয়ালাইন পর্যন্ত পড়াশোনা করি। ভোলার মাদরাসাগুলো হাটহাজারী মাদরাসার অনুকরণ করে। ফলে সে মাদরসাগুলোতে দেখে এসেছি এবং শুনে এসেছি, হাটহাজারী মাদরাসায় ফরয নামাযের পরে সম্মিলিত মোনাজাত বিদয়াত মনে করা হয়। আমি দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হই ২০০৬ সালে। পড়াশোনা করি ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এই ৬ বছর ধরে আগের জানা মাসআলায় হাটহাজারী মাদরাসাকে অবিচল দেখতে পাই। এর ব্যতিক্রম মাসআলাও যে কওমী অঙ্গনে চর্চিত হয়ে আসছে, তখন আমি ঘুণাক্ষরেও জানতাম না। কয়েকদিন আগে সালাফীদের সঙ্গে কিছু কওমী তরুণের বিতর্ক হয়। বিষয়: ফরয নামাযের পর সম্মিলিত মোনাজাত করা বিদয়াত কি না। আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করলাম (মূলত খেয়াল করে আশ্চর্য হলাম), কওমী তরুণদের অবস্থান বিদয়াত না হওয়ার পক্ষে। সালাফী মতাদর্শের সঙ্গে কওমীদের বেশ কিছু বিষয়ে গবেষণাগত মতবিরোধ আছে। সম্মিলিত মোনাজাতও যে তাদের সঙ্গে একটা মতবিরোধপূর্ণ বিষয়, সত্যি আমি জানতাম না। আমাদের বড়ভাই লাবীব আবদুল্লাহ এই সময়ে তর্কের চেয়ে ঐক্য জরুরি মর্মে একটি পোস্ট করে তোপের মুখে পড়েন। যাঁরা লাবীব আবদুল্লাহকে রীতিমত ‘ধুয়ে’ দেন, তাঁরা সবাই কওমী অঙ্গনের লোক। তাঁরা প্রায় সবাই সম্মিলিত মোনাজাত বিদয়াত না হওয়ার পক্ষে।

উত্তপ্ত উনুনের উপর ফুটন্ত কড়াইয়ের মতো সবাই ফুটতে শুরু করেন, যখন আমাদের আরেক বড়ভাই শায়খ আহমাদুল্লাহ ফরয নামাযের পরে সম্মিলিত মোনাজাত বিদয়াত বলেন। শায়খ আহমাদুল্লাহ ভাইয়ের চিন্তাচর্চায় সালাফী ও দেওবন্দী ঘরানার মিলিত অবদান রয়েছে। তিনি পড়াশোনা করেছেন বাংলাদেশের হাটহাজারী ও মেখল মাদরাসায়। পড়িয়েছেন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দু’টি কওমী মাদরাসায়—আরজাবাদ ও দারুর রাশাদ। এরপর দীর্ঘদিন সৌদি আরবের ইসলামিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। সব মিলিয়ে তাঁর মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ একটা ব্যাপার আছে।

ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার এক পর্যায়ে জানতে পারলাম, দারুল উলূম দেওবন্দে সম্মিলিত মোনাজাত করা হয়। দেওবন্দের কথা শুনে নড়েচড়ে বসতে হলো। হাটহাজারী মাদরাসা দেওবন্দের অনুকরণে প্রতিষ্ঠিত। এতদসত্ত্বেও দু’টি প্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্রভাবে চালিত হওয়ায় অমৌলিক দু’-একটা বিষয়ে ভিন্নমত দেখা যায়। ভিন্নমতের ক্ষেত্রে সবাই দারুল উলূম দেওবন্দের মাসআলাই বেশি গ্রহণ করে। কারণ দেওবন্দের গবেষণার মান নিঃসন্দেহে হাটহাজারী মাদরাসার চেয়ে ভালো।

মাসআলা যেটাই ‘অধিক শুদ্ধ’ হোক এটা তো নিশ্চিত যে, শায়খ আহমাদুল্লাহ নতুন কিছু বলেন নি। তিনি আজ যা বললেন, হাটহাজারী মাদরাসা ও মুফতী ফয়যুল্লাহ রহ.-এর অবস্থান এ-ই। এ-কারণে শায়খ আহমাদুল্লাহকে ‘ধুয়ে দেয়া’র মজেজা বুঝলাম না। আহমাদুল্লাহ ভাই যদি ভুলও বলেন, দেওবন্দে চর্চিত মাসআলার বিপরীতও যদি বলেন—এজন্য তাঁকে ধুয়ে দেয়ার আগে হাটহাজারী মাদরাসা ও মুফতী ফয়যুল্লাহ রহ.-কে ধুয়ে দেয়া উচিত। শায়খ আহমাদুল্লাহর জন্মেরও আগে মুফতী ফয়যুল্লাহ এটিকে বিদয়াত বলেছেন।

এই মাসআলায় দেওবন্দ ও হাটহাজারী মাদরাসার বিরোধ আলোচনার যোগ্যই নয়। এটি একেবারে অমৌলিক ও খুব ঠুনকো একটি বিষয়। তারপরও বিশেষভাবে এই ক্ষেত্রে হাটহাজারী মাদরাসার অবস্থানই আমার কাছে শক্তিশালী মনে হচ্ছে। হাটহাজারী মাদরাসা ও এই মাদরাসার অন্যতম চিন্তাগুরু মুফতী ফয়যুল্লাহর অবস্থান হলো— (১) ফরয নামাযের পরে (২) হাত তুলে (৩) সম্মিলিতভাবে (৪) নিয়মিত মোনাজাত করা বিদয়াত। শর্তগুলো খেয়াল করুন। সবগুলো শর্ত একত্রে পাওয়া গেলেই শুধু বিদয়াত। এসব শর্তের কোনো একটা অনুপস্থিত থাকলে বিদয়াত নয়। স্রেফ একটা পন্থায় বিদয়াত। এছাড়া আর যত পন্থা আছে, তাতে বিদয়াত হবে না। যেমন:
১. ফরয নামাযের পর একা একা হাত না তুলে অনিয়মিত মোনাজাত করা
২. ফরয নামাযের পর একা একা হাত তুলে অনিয়মিত মোনাজাত করা
৩. ফরয নামাযের পর একা একা হাত না তুলে নিয়মিত মোনাজাত করা
৪. ফরয নামাযের পর একা একা হাত তুলে নিয়মিত মোনাজাত করা
৫. ফরয নামাযের পর সম্মিলিতভাবে হাত না তুলে অনিয়মিত মোনাজাত করা
৬. ফরয নামাযের পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে অনিয়মিত মোনাজাত করা বিদয়াত নয়।

বর্তমান সময়ের অন্যতম বিজ্ঞ আলেম মাওলানা আবদুল মালেক হাফিযাহুল্লাহর একটা লেখা সম্মিলিত মোনাজাত প্রমাণ করার জন্য অনেকে পেশ করেছে। আমি লেখাটা পড়ে বুঝেছি, তিনি দালিলিকভাবে সম্মিলিত মোনাজাত সাব্যস্ত করেছেন। তবে ফরয নামাযের পরে সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে ‘নিয়মিত’ মোনাজাত সম্পর্কে তিনি কিছু বলেন নি। ফলে তাঁর অবস্থানের সঙ্গে মুফতী ফয়যুল্লাহ রহ.-এর অবস্থানের বিরোধ নেই।

যাঁরা ফরয নামাযের পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে নিয়মিত মোনাজাত করা বিদয়াত নয় বরং মুস্তাহাব বলছেন, আমার জানামতে তাঁদের দলিল হলো—

১. আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত,
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ بَسَطَ كَفَّيْهِ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ، ثُمَّ يَقُولُ: اللَّهُمَّ إِلَهِي وَإِلَهَ إِبْرَاهِيمَ ... إِلَّا كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ لَا يَرُدَّ يَدَيْهِ خَائِبَتَيْنِ
(মর্মার্থ) রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে বান্দা প্রত্যেক নামাযের পরে হাত সম্প্রসারিত করে দোয়া করে, আল্লাহর জন্য জরুরি যে তার হাত নিষ্ফল ফেরত না দেয়া। (আমালুল-ইয়াউম ওয়াল-লাইলাহ ১/১২১)

২. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَفَعَ يَدَهُ بَعْدَ مَا سَلَّمَ، وَهُوَ مُسْتَقْبَلٌ الْقِبْلَةَ فَقَالَ: اللَّهُمَّ خَلِّصِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ...
(মর্মার্থ) রাসূলুল্লাহ সা. সালাম ফেরানোর পর কিবলার দিকে ফিরে হাত তুলে দোয়া করেছেন। (তাফসীর ইবনে কাসীর ২/৩৯০)

৩. আবদুল্লাহ বিন যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত,
أن رجلاً رفع يديه بالدعاء قبل أن ينتهي من صلاته ، فلما فرغ قال له عبد الله : إن النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن يرفع يديه بالدعاء إلا بعد أن يفرغ من صلاته
একব্যক্তি নামায শেষ হওয়ার আগে হাত তুলে দোয়া করলেন। নামায শেষ হওয়ার পর আবদুল্লাহ বিন যুবাইর তাঁকে বললেন, নবী সা. কখনো নামায শেষ হওয়ার আগে দোয়ার জন্য হাত তুলতেন না।

খেয়াল করে দেখুন, এর কোনো একটা দলিল দ্বারাও ‘নিয়মিত’ মোনাজাত করা সাব্যস্ত হয় না। ফরয নামাযের পর সম্মিলিত বা একা একা মোনাজাত করার বিরোধিতা তো কেউ করছে না, শায়খ আহমাদুল্লাহও তা বলছেন না। এটাকে একমাত্র নিয়ম বানিয়ে ফেলা নিয়ে মতানৈক্য।

অন্যদিকে যাঁরা ফরয নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে নিয়মিত মোনাজাত করার বিরোধিতা করছেন, তাঁদের দলিলগুলো দেখুন। তাহলে আপনারা সহজেই তুলনা করতে পারবেন।

১. আনাস রা. থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي شَيْءٍ مِنَ الدُّعَاءِ إِلَّا فِي الِاسْتِسْقَاء
রাসূলুল্লাহ সা. ইস্তিসকা ছাড়া কখনো দোয়ার সময় হাত তোলেন নি। (মুসনাদ আবি ইয়া’লা ৫/৩৩৩, সুনান দারা কুতনী ২/৪২৬,

২. সাওবান রা. থেকে বর্ণিত,
قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا انْصَرَفَ مِنْ صَلَاتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلَاثًا وَقَالَ: اللهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
রাসূলুল্লাহ সা. যখন নামায শেষ করতেন, তিনবার ইস্তেগফার করতেন এবং আল্লাহুম্মা আনতাস-সালামা ওয়া মিনকাস-সালাম এই দোয়াটা পড়তেন। (সহীহ মুসলিম ১/৪১৪)

ইস্তেগফারও মূলত দোয়া। কিন্তু আমরা যেভাবে হাত তুলে দোয়া করি, এতে সেরকম দোয়া বোঝায় না। এই হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম আওযায়ী বলেছেন, ইস্তেগফার মানে তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়া। আমাদের প্রচলিত মোনাজাতের ধরন এটা নয়।

৩. মুয়াবিয়া রা. থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ، إِذَا فَرَغَ مِنَ الصَّلَاةِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
রাসূলুল্লাহ সা. নামায শেষ করে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু... দোয়াটি পড়তেন। (সহীহ মুসলিম ১/৪১৪)

এছাড়াও বেশ কিছু দোয়া ও যিকির রাসূল সা. থেকে বর্ণিত যে, এসবের ওপর তিনি নিয়মিত আমল করতেন।

এই সবগুলো হাদীসে নিত্যবৃত্ত অতীতকাল ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ এগুলো রাসূল সা.-এর নিয়মিত আমল ছিল। রাসূল সা. যে দোয়া করতেন, তাও বর্ণিত আছে। তা আমাদের মতো অনির্ধারিত নয়। নির্ধারিত কিছু দোয়া করতেন। হাদীসের ভাষ্যে নিত্যবৃত্ত অতীতকাল ব্যবহার দেখে বোঝা যায়, নির্ধারিত কিছু দোয়াই রাসূল সা. নিয়মিত করতেন। অন্যদিকে মোনাজাতের হাদীসগুলোতে এই ধরনের শব্দ নেই। যদি ধরেও নিই রাসূল মোনাজাত করেছেন, তা তাঁর নিয়মিত আমল ছিল না।

এ-বিষয়ে কারো দ্বিমত নেই যে, ফরয নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলত মোনাজাত মুস্তাহাব হলেও উত্তম ও সুন্নাহ হলো, হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নির্দিষ্ট দোয়া ও যিকির পাঠ করা। যা সর্বসম্মতিক্রমে উত্তম তা ছেড়ে জায়েয বা সর্বোচ্চ মুস্তাহাবের জন্য অনলাইন-যুদ্ধের যৌক্তিকতা আমি বুঝতে পারছি না।

পুনশ্চ: অনেকে ভুল বুঝবেন না যেন। মোনাজাত করা যে সাওয়াবের কাজ, এ-ব্যাপারে কারো সন্দেহ নেই। একটি হাদীসের ভাষ্যমতে দোয়া করা সমস্ত ইবাদতের মুল। দোয়া করা নিয়ে কোনো তর্ক নেই। তর্ক হলো, ফরয নামাযের পরে হাত তুলে সম্মিলিতভাবে নিয়মিত মোনাজাত করা ও একে অনিবার্য মনে করা নিয়ে।

️ 



হাবীব আনওয়ার: গভীর রাতে হাটহাজারীর বিভিন্ন  ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতার বাসা ঘেরাও করে পুলিশের হয়রানি চরম উদ্বেগজনক উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। 

আজ ১০ জুন বুধবার সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, হাটহাজারী একটি শান্তিপূর্ণ থানা।হাটহাজারীর মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়।হাটহাজারীতে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত রয়েছে।সম্প্রতি হাটহাজারীর ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতার বাসায় গভীর রাতে পুলিশের হয়রানির খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা চরম উদ্বেগজনক। এতে হাটহাজারীর শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন,দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে তা প্রশংসনীয়।  আমি সর্বসময় লাখো মানুষের বিশাল সমাবেশে দেশের আইন কানুন মেনে চলার ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারকে সহযোগিতা করতে জনগনকে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। 

তিনি আরো বলেন,হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন। হেফাজত প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইসলাম,মুসলমান, দেশ ও জাতীর কল্যাণে কাজ করে আসছে। হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীগণ এখলাছ ও নিষ্ঠার সাথে দ্বীনের জন্যই কাজ করেন।হেফাজতের মধ্যে কোন গ্রুপ নেই।আমীরে হেফাজত শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব হুজুর আমাদের সকলের মুরুব্বি। আমি দেশবাসীর নিকট হুজুরের পরিপূর্ণ সুস্থতার জন্য দুআর আবেদন করছি।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বলতে হচ্ছে, একটি কুচক্রী মহল অসৎ উদ্দেশ্যে হেফাজত আমীর ও মহাসচিবের গ্রুপ বলে বিভ্রান্তি চড়াচ্ছে। বাস্তবে গ্রুপ কথাটির কোন ভিত্তি নেই। এটি মিথ্যা,ভিত্তিহীন ও নির্জলা মিথ্যাচার।

তিনি আরো বলেন,হাটহাজারী মাদরাসা এশিয়া বিখ্যাত একটি মাদরাসা।পুরো বিশ্বে এর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ইসলামি অঙ্গনে হাটহাজারীর গুরুত্ব অনেক বেশি।দেশবাসী ইসলামিক বিভিন্ন বিষয়ে হাটহাজারী মাদরাসা ও হাটহাজারীর ওলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন।হাটহাজারীর শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে পুরো দেশে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই আমি আশা করবো হাটহাজারীর ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতার উপর পুলিশি হয়রানি বন্ধ করে হাটহাজারীর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার,প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকলে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।


করোনা ভাইরাসের দরূন সৃষ্ট নাজুক পরিস্থিতির কারণে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছে ঐতিহ্যবাহী 
"মাদরাসাতুল ইহসান আল-আরাবিয়া"।

অনলাইনে চলতি ১৪৪১-৪২ শিক্ষাবর্ষের মক্তব, হিফজ,১ম-৫ম বর্ষ পর্যন্ত সকল বিভাগে  ভর্তি চলছে।

প্রত্যেক বিভাগে কোটা খালি থাকা সাপেক্ষে নতুন ও পুরাতন ছাত্র ভর্তি করা হবে জানিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। 

আগ্রহী ছাত্রদের মাদরাসা অফিসে যোগাযোগ করে ভর্তির কাজ সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ভর্তির সময় : 
সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। 
ভর্তির ফিস: ৩৫০০টাকা 
ফরম : ১০০টাকা 

ঠিকানা : 
প্রধান শাখা, সেক্টর: ১১, রোড : ৯, বাড়ি : ১২, উত্তরা, ঢাকা। 

যোগাযোগঃ
মুহতামিম সাহেব দা. বা. 01715089810
জনাব সামসুজ্জামান দা. বা.
01745840496 
মুফতি নাদিম মাহমুদ দা. বা. 
01851118560
মুফতি ফারহাদ হুসাইন দা. বা.
01986826360
মাও. মুস্তাকিম হুসাইন দা. বা. 
01865940219

অনলাইন যোগাযোগ
০১৭১৫০৮৯৮১০
০১৮৫১১১৮৫৬০

বিশেষ শাখা, সেক্টর: ১৪, রোড: ১৩, বাড়ি: ২৪, উত্তরা, ঢাকা। 

যোগাযোগ 
অফিস: 01745840496
মুফতি মাজহারুল ইসলাম 01677534722
কারী ইজহারুল ইসলাম 01732524277

ডেমরা শাখা, মিনার মসজিদ সংলগ্ন, ডগাইর নতুনপাড়া, সারুলিয়া, ডেমরা, ঢাকা। 

যোগাযোগ 
অফিস 01404227680
মাও. লুতফর রহমান 01632578014
জনাব জাফর 01911679161

বি. দ্র. ৪র্থ বর্ষ (শরহে বেকায়া) "বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ" এর অধীনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।


প্রবচন ডেস্ক: রাগ ও ক্ষোভে ফুঁসছে যুক্তরাষ্ট্র। পুরো দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। জ্বলছে আগুন। চলছে ভাঙচুর লুটপাট। করোনা মহামারিতে যখন যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল, তখন সংঘাতেও ঘটছে হতাহতের ঘটনা।

২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বড় শহর মিনিয়াপলিসে পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ নির্মমভাবে নিহত হন। এরপরই শুরু হয় বিক্ষোভ। উত্তাল হয়ে ওঠে মিনিয়াপোলিস। মঙ্গল ও বুধবার বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীরে মিনিয়াপলিসের একটি থানায় আগুন জ্বালিয়ে দেন। ঐ অগ্নিসংযোগের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। বেশ কয়েকটি ভবন ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

শুক্রবার কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নেমে আসেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন সড়কে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেন। এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের সামনে কয়েকশ বিক্ষোভকারী কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা ফ্লয়েডের ছবি হাতে নিয়ে ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না’ স্লোগান দিতে থাকেন।

স্লোগানের এই কথা ফ্লয়েড মৃত্যুর আগে পুলিশ অফিসারকে বারবার বলছিলেন। যা এখন পুরো যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে।

এর আগে স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে ওয়াশিংটন ডিসিতে জড়ো হতে শুরু করেন বিক্ষোভকারী। পরে তারা হোয়াইট হাউসের দিকে অগ্রসর হলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস টুইট করে বলে, ‘আমাদের কর্মীরা বিক্ষোভ চলাকালীন অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সবাইকে শান্ত থাকতে বলছি।’

অপরদিকে সহিংস বিক্ষোভের মুখে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।

নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, আটলান্টা, পোর্টল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, টেক্সাস, ওহাইও, নর্থ ক্যারোলিনা, মিশিগান, এবং অন্যান্য শহরগুলিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।

লস এঞ্জেলস, শিকাগো, ডালাস, ডেনভার, হিউস্টন, লুইজভিল, ফিনিক্স, কলম্বাস ও মেম্ফিসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরে শুক্রবার পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়।

বিক্ষোভকারীরা আটলান্টায় বেশ কয়েকটি ভবনে ভাঙচুর চালিয়েছে। পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে। ডালাসে প্রতিবাদকারীদের ইট-পাথর ছোড়ার পর পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে।

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সড়কে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। গ্রেফতার করা হয়েছে অনেককে।

এদিকে পোর্টল্যান্ডের মেয়র টেড হুইলার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। কারফিউ জারি করেছেন। তিনি টুইটারে লিখেন, রবিবার সকাল পর্যন্ত কারফিউ চলবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘ভয়ানক ব্যাপার’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। নিহত আফ্রিকান এই আমেরিকানের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের গাড়িতে জাল নোট থাকার খবর পেয়ে তাকে পুলিশ আটক করে বলে দাবি করা হয়। এরপর তার সঙ্গে পুলিশ যা আচরণ করে তা বর্বর যুগকেও ছাড়িয়ে যায়।

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ১০ মিনিটের ভিডিওতে দেখা গেছে, হাঁটু দিয়ে তার গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার। এসময় ফ্লয়েড বারবার বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, ‘প্লিজ, আমি শ্বাস নিতে পারছি না’।

নিহত ফ্লয়েড নিরস্ত্র ছিলেন। নিঃশ্বাস নিতে না পেরে তাকে কাতরাতে দেখা যায়। শেষপর্যন্ত শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় চার পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগ। এদের মধ্যে ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে চেপে ধরা ৪৪ বছর বয়সী ডেরিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

কৃষ্ণাঙ্গদের দাবি, বর্ণবিদ্বেষের বলি হয়েছেন ফ্লয়েড। হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে এখনো বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: সিএনএন, বিবিসি, এপি বাংলাদেশে। গত বছর যদিও আরব ভূখণ্ডে ঈদ দেখার তাওফিক হয়েছিল কিন্তু ঈদ পালন করা হয় বাংলাদেশে ফিরে। জীবনের এই প্রথম ঈদ যা কিনা পালিত হলো সূর্যাস্তের দেশে। একটি অমুসলিম প্রধান দেশে। 

আমার জীবনের সুন্দর ও ভিন্নধর্মী একটি অভিজ্ঞতা হলো জাপানের ঈদে। জাপানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করলাম। জাপানে ঈদ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন ছুটি বরাদ্দ নেই। তবে এবারের ঈদ সাপ্তাহিক ছুটির দিন রবিবার হওয়ায় মুসলিম কমিউনিটির প্রত্যেকে খুব খুশি ছিল। কারণ রবিবার ছাড়া অন্য কোনোদিন ঈদ হলে হয়তো অনেকেই ঈদের জামাতেও অংশ নিতে হতে পারত না। সবমিলিয়ে রবিবার ঈদ হওয়াটা আমাদের জন্য ডাবল ঈদের আমেজ নিয়ে এসেছে। 

অনেকের সঙ্গে অন্যান্য দিনের ঈদগুলোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানতে পেরেছি, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের ঈদ মানে কোনরকমে শুধু নামাজ পড়া। এছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। পরিবারকে সময় দেওয়া যায় না। ঘোরাঘুরির ফুরসতও মিলে না। 

আর এই বছর করোনাভাইরাস জনিত কারণে বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট করে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। এখানের সব মসজিদ সরকারি
জিস্ট্রারভুক্ত নয়। আর রেজিস্ট্রারকৃত মসজিদগুলোতে পুলিশ এসে ওয়ার্নিং দিয়ে গেছে যাতে বড় জমায়েত না হয়। তাই মুসাফা কোলাকোলি ছাড়াই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকেরা তাদের সাধ্যের মধ্যে কিছু মিষ্টান্নভোজের ব্যবস্থা করেছিলেন। ফলে প্রবাসজীবনে একাকি থাকা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কিছুটা হলেও ঈদের মিষ্টিমুখ হয়েছে। তবে আজ রবিবার না হয়ে যদি অন্যদিন হতো তবে আমার অভিজ্ঞতা হয়তো অন্যভাবেই ব্যক্ত করা যেত।

-আইএফ

মহান আল্লাহ তায়ালার এই বিশ্বজাহানে অনেক ধর্ম ও বর্ণের লোক বসবাস করছে। প্রত্যেকের রয়েছে স্বতন্ত্র তাহযিব-তামাদ্দুন, কৃষ্টি-কালচার। রয়েছে নিজ নিজ ধর্মীয় ও গোষ্ঠীগত আচার-অনুষ্ঠান। এভাবেই পৃথিবীর বয়স বাড়ছে।

আমার জীবনের প্রায় আড়াই যুগ ধরে যে দেশের ঈদ উদযাপন করে এসেছি তা ছিল আমার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে। গত বছর যদিও আরব ভূখণ্ডে ঈদ দেখার তাওফিক হয়েছিল কিন্তু ঈদ পালন করা হয় বাংলাদেশে ফিরে। জীবনের এই প্রথম ঈদ যা কিনা পালিত হলো সূর্যোদয়ের দেশে। একটি অমুসলিম প্রধান দেশে। 

আমার জীবনের সুন্দর ও ভিন্নধর্মী একটি অভিজ্ঞতা হলো জাপানের ঈদে। জাপানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করলাম। জাপানে ঈদ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন ছুটি বরাদ্দ নেই। তবে এবারের ঈদ সাপ্তাহিক ছুটির দিন রবিবার হওয়ায় মুসলিম কমিউনিটির প্রত্যেকে খুব খুশি ছিল। কারণ রবিবার ছাড়া অন্য কোনোদিন ঈদ হলে হয়তো অনেকেই ঈদের জামাতেও অংশ নিতে হতে পারত না। সবমিলিয়ে রবিবার ঈদ হওয়াটা আমাদের জন্য ডাবল ঈদের আমেজ নিয়ে এসেছে। 

অনেকের সঙ্গে অন্যান্য দিনের ঈদগুলোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানতে পেরেছি, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের ঈদ মানে কোনরকমে শুধু নামাজ পড়া। এছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। পরিবারকে সময় দেওয়া যায় না। ঘোরাঘুরির ফুরসতও মিলে না। 

আর এই বছর করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট করে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। এখানের সব মসজিদ সরকারি
রেজিস্ট্রারভুক্ত নয়। আর রেজিস্ট্রারকৃত মসজিদগুলোতে পুলিশ এসে ওয়ার্নিং দিয়ে গেছে যাতে বড় জমায়েত না হয়। তাই মুসাফা কোলাকোলি ছাড়াই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকেরা তাদের সাধ্যের মধ্যে কিছু মিষ্টান্নভোজের ব্যবস্থা করেছিলেন। ফলে প্রবাসজীবনে একাকি থাকা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কিছুটা হলেও ঈদের মিষ্টিমুখ হয়েছে। তবে আজ রবিবার না হয়ে যদি অন্যদিন হতো তবে আমার অভিজ্ঞতা হয়তো অন্যভাবেই ব্যক্ত করা যেত।



প্রবচন ডেস্ক: চট্টগ্রামের নাজিরহাট বড় মাদরাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা শাহ মুহাম্মদ ইদ্রিস ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি নাজিরহাট বড় মাদরাসার মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করেন।

বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর জামিয়া নাজিরহাট বড় মাদরাসার মাঠে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর ইমামতিতে মরহুমের জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে মাদরাসা সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঢাকা, ২৭ মে। ছবি: সংগৃহীত
ডেস্ক: রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) বিস্ফোরণে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে এসি বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

ফায়ার সার্ভিস পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, আগুনের খবর পেয়ে তাঁদের তিনটি ইউনিট হাসপাতালে যায়। মূল ভবনের বাইরে আলাদা জরুরি বিভাগে আগুন লাগে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। 

মৃত ৫ জনের মধ্যে ৩ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী ছিলেন। মৃতদের সবাই লাইফসাপোর্টে ছিলেন। বুধবার রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় রাত প্রায় ১০টার কিছু আগে লাগা আগুনে ৫ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন।
মৃতরা হলেন রিয়াজুল আলম (৪৫), খোদেজা বেগম (৭০), ভেরুন এন্থনি পল (৭৪), মো. মনির হোসেন (৭৫), মো. মাহাবুব (৫০)।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীতসংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হাসপাতালের মূল ভবনের বাইরে আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লাগে ওই সময় আবহাওয়া খারাপ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মৃত ওই পাঁচজনকে নিরাপদে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় ইউনাইটেড হাসপাতাল দুঃখ প্রকাশ করেছে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের কর্তব্যরত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে নিচতলায় এসি বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে।


রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে রাত ১০টার দিকে এসি বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে।ঢাকা, ২৭ মে। ছবি: সংগৃহীত
যোগাযোগ করা হলে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানানো হয়, রাত ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে ওই আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।


হাবীব আনওয়ার: মুফতী আজম ফয়জুল্লাহ রহ. এর প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেখল হামিয়ুচ্ছুন্নাহ মাদরাসা খুলছে না ৩০ মে। সেই সাথে ১লা মে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান, মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী। 

মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী বলেন, আগামী ৩০ জুন মাদরাসা খোলার তারিখ থাকলেও পরিস্থিতির অবনতি হওয়াতে পূর্বনির্ধারিত ৩০ মে মাদরাসা খোলা ও ১লা জুন থেকে অনুষ্ঠিতব্য  পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এমতাবস্থায় পুরাতন এবং ভর্তি-ইচ্ছুক নতুন ছাত্রদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাদরাসা না আসার আহবান জানিয়েছেন, মাদরাসার শিক্ষাল পরিচালক মাওলানা উসমান ফয়জী।

এছাড়াও যেকোন তথ্যের জন্য  নিম্নোক্ত নম্বর সমূহে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। শিক্ষা পরিচালক, ০১৮১৭৭৩৬২৮১, সহ শিক্ষা পরিচালক, ০১৮১৮১১৯৭০০, নাজেমে একামাহ,  ০১৮১৬৮৬১০১৪,সহকারী একামাহ, ০১৮১৯৩৯২৩০৫, ০১৮১৫৯১৭১৩৩, ০১৮১৩৬২১৫৮৮

উল্লেখ্য : করোনাভাইরাস এর কারণে গত ২০ মার্চ শুক্রবার থেকে ৩০ মে পর্যন্ত  মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। 


আল জামিয়াতুল আরাবিয়াতুল ইসলামিয়া জিরি মাদরাসার মহাপরিচালক, পীরে কামেল আল্লামা শাহ মুহাম্মদ তৈয়্যবের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

আজ ২৫ মে সোমবার সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় আল্লামা বাবুনগরী বলেন, আল্লামা শাহ মুহাম্মদ তৈয়্যব রহ. বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা শীর্ষ আলেম ও বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি আত্মশুদ্ধির লাইনে ছিলেন একজন হক্কানী পীর। চট্টগ্রামবাসীর জন্য তিনি ছিলেন রত্নতুল্য ৷ তার ইন্তেকালে বাংলার ইলমাকাশের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র ঝরে পড়েছে ৷

চট্টগ্রামবাসী হারিয়েছে একজন নিবেদিতপ্রাণ আলেমে দ্বীনকে ৷ তাঁর ইন্তেকালে ইলমী অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা কভু পূরণ হবার নয়। ইতিহাস তার অমর কীর্তি চিরকাল স্মরণ রাখবে। আমি তার ইন্তেকালে গভীরভাবে শোকাহত।

তিনি ছাত্রদের আমাল আখলাকের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্ববান।আমালের ব্যপারে কারো সামান্য গাফলতি দেখলে তিনি সাথে সাথে তা সংশোধনী দিতেন। সুন্নতের নববীর উপর তিনি ছিলেন অটল-অবিচল। খানকায় থেকে আত্মশুদ্ধির লাইনে যারা মেহনত করতেন তিনি সব সময় তাদের তদারকি করতেন। হাদিয়া দিতেন।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, দীর্ঘ ৩৬ বছর অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে তিনি জামিয়া জিরির মহাপরিচালকের গুরু দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন। দীর্ঘদিন হাদীসের সর্বোচ্চ কিতাব বুখারী শরীফের পাঠদান করেছেন। সাবলীল উপস্থাপনা, মধুময় বাক্যশৈলী ও সর্ববোধগম্য দরস প্রদানে তিনি ছিলেন একজন আদর্শ উস্তাদ।

দরস-তাদরীস ও আত্মশুদ্ধির লাইনে মেহনতের পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঈমান আকিদা রক্ষায় ওয়াজ-নসিহতের ময়দানেও অসাধারণ খেদমত করে গেছেন তিনি। ওয়াজের ময়দানে তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় ও নন্দিত ওয়ায়েজ।

স্মৃতিচারণ করে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, আল্লামা তৈয়ব রহ. আমাকে অনেক বেশি মুহাব্বত করতে। আমার বয়ানের ভূয়সী প্রশংসা করতেন তিনি। একবার জিরি মাদরাসার মাহফিলে আমাকে দুই বয়ান করতে দিয়েছিলেন। আমার জামাতা ও জিরি মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতী মুহাম্মদ এরশাদুল্লাহ থেকে সবসময় আমার খোঁজ খবর নিতেন। সদা আমাকে সাহস যোগাতেন এবং উৎসাহ দিয়ে বলতেন যোগ্য ব্যক্তির কোন সমস্যা নেই। যোগ্য ব্যক্তি শত বাঁধা ডিঙিয়ে প্রত্যেক কাজেই সফল হয়। সফলতা সব সময় যোগ্য ব্যক্তির পদ চুম্বন করে।

স্মৃতিচারণ করে আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, আল্লামা শাহ তৈয়্যব রহ আমাদের বংশের প্রশংসায় ছিলেন পঞ্চমুখ। তিনি সব সময় আমার বড় আব্বা আল্লামা সূফী আজিজুর রহমান রহ., আমার নানা আরেফ বিল্লাহ আল্লামা শাহ হারুন বাবুনগরী রহ. এবং আব্বাজান মেশকাত শরীফের বিশ্ববিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ তানজিমুল আশতাতের রচয়িতা দারুল উলুম হাটহাজারীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস দরস জগতের সম্রাট আল্লামা আবুল হাসান রহ. এর প্রশংসা করতেন। তিনি বলতেন এমন উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন বংশ পাওয়া বড় দুস্কর।এমন উচ্চ বংশের প্রতি আসক্ত হয়েই আমি আত্মীয়তা সম্পর্ক করেছি।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, মহান প্রভুর দরবারে আমি দুআ করি, আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল দ্বীনি খেদমতকে কবুল করুন এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন, আমিন।

উল্লেখ্য, আল্লামা তৈয়ব রহ. ২৪ মে রোববার দিবাগত রাত সিজদারত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইন্তেকাল করেন। আজ ২৫ মে সোমবার জিরি মাদরাসার মাঠে হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর ইমামতিতে নামাযে জানাযা সম্পন্ন হয়।


ফাহিম আহমাদ: আজ রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা গিয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আকাশে স্পষ্টভাবে ঈদের চাঁদ দেখার খবর জানিয়েছেন প্রবচনের প্রতিনিধিরা। তবে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নাটোর, ও পাবনাসহ দেশের আরো কিছু এলাকার কিছু কিছু অংশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সেখানে চাঁদ দেখা সম্ভব হয়নি বলে জানান প্রবচন প্রতিনিধিরা।

এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বেশিরভাগ এলাকায় চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামীকাল বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে।

একজন ইসলামিক স্কলার প্রবচনকে বলেন, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের রমজান শেষে শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখামাত্রই খুশির জোয়ার বয়ে যায় প্রতিটি রোজাদারের দেহ-মনে। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পরে আগামীকাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। রোযাদারদের জন্য এটি মহান আল্লাহর বিশেষ পুরস্কার। এই ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। এই দিনে প্রতিটি মুসলমানের প্রাণে দোলা দেয় ঈদ আনন্দ।

ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ফিতরা আদায় করুন। গরীবদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে  নিন।

প্রবচন/কেএইচ


ডেস্ক নিউজ :প্রবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শনিবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিচের টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে কমিটি।

টেলিফোন নম্বর: ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭। ফ্যাক্স নম্বর: ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১।


মাওলানা ইন'আমুল হাসান ফারুকী: ২০১৮ সালের রমজানে আল্লামা বাবুনগরী হুজুর ঢাকায় যান হাটহাজারী  মাদরাসার চাঁদা কালেকশন করতে। প্রায় ১০ দিন হুজুর ঢাকাতেই ছিলেন এবং মাদরাসার জন্য কালেশন করেছেন।

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী সাহেব আমাদেরকে জানালেন, পুরানা পল্টনের সুবহান ম্যানশনে এস.এম.এম নামে একটি নতুন কুরিয়ার সার্ভিস হয়েছে। সে কুরিয়ার সার্ভিসের মালিকদের একজন মাওলানা হানিফ সাহেব। যার বাড়ি হাটহাজারীতে। তিনি কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানীর পক্ষ থেকে হাটহাজারী মাদরাসার জন্য কিছু অনুদান দেবেন। তাই মাওলানা হানিফ সাহেব বাবুনগরী হুজুরকে সেখানে ইফতারের দাওয়াত দেন।

২০১৮ সালের ১৯ রমজান। ওইদিন এসএমএম অফিসে যাওয়ার জন্য সময় ঠিক করা হলো। অন্যান্য কালেকশন শেষ করে আসরের পরে হুজুরকে নিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসটির অফিসে যাই। তারা হুজুরকে দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। কোম্পানির সকল শেয়ার হোল্ডার সেখানে ইফতারের জন্য উপস্থিত হন এবং সবাই তাদের রিলেটিভদের আমন্ত্রণ জানান। 

সেদিন ইসলামাবাদী সাহেবের আরেকটি প্রোগ্রাম ছিলো ছাত্রসমাজের ইফতার মাহফিলে। তিনি বক্তব্য দিয়ে হুজুরের সাথে ইফতার করার জন্য চলে আসেন।

ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে একজন ব্যক্তি আসলো। আমি তাঁকে চিনতাম না। উপস্থিত অফিসের একজন ডাইরেক্টর আওয়ামী লীগ নেতা জানালেন তিনি সাঈদী সাহেবের ছেলে শামীম সাঈদী।শামীম সাঈদী জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেব হুজুরকে নিজের পরিচয় দেন, বাবুনগরী সাহেব হুজুর তাকে চিনতেন না। তিনি  হুজুরের পায়ের কাছে বসেন। 

মাগরীবের নামাজের পর শামীম সাঈদী জুনায়েদ বাবুনগরী হুজুরের সাথে কথা বলতে চান। তিনি বাবুনগরী হুজুরের পাশে বসা অবস্থায় ওনার এক সহকারী আমাদের সকলের অজান্তে ছবি তুলে ফেলেন। তখন বাবুনগরী হুজুর বিষয়টা জানতে পেরে তার ওপর প্রচণ্ড রাগ হন এবং ছবিটি ডিলেট করতে বলেন।

তিনি বললেন, ছবিটা শুধু স্মৃতি হয়ে থাকবে, অন্য কিছু না। তখন উপস্থিত আজীজুল হক ইসলামাদী সাহেব এবং আমি (ইনআমুল হাসান) তাকে ছবিটি ডিলেট করার জন্য বললে তিনি বললেন ‘আচ্ছা ডিলেট করে দিচ্ছি’। কিন্তু তা ডিলিট করেননি, বরং মিথ্যা কথা বলেছে। এটাই ছিলো ছবির মূল কাহিনী।

ইফতার মাহফিলে শামীম সাঈদীর উপস্থিতিতে বাবুনগরী হুজুর বিব্রতবোধ করছিলেন। মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীও শামীম সাঈদী উপস্থিত হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে মাদরাসার জন্য অনুদানের চেকটি গ্রহণ করে আমরা চলে আসি। এটা আদৌ কোন জামাত শিবিরের মিটিং ছিলো না।

এটা ছিলো এস.এম.এম. কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানির ইফতার মাহফিল। এখানে সব রাজনৈতিক ঘরানার লোক উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের অনেক রাজনৈতিক নেতাও এখানে ছিলেন।

দুঃখজনক বিষয় হল, রমজানের কিছুদিন পরই শামীম সাঈদী বাবুনগরী হুজুরের সাথে সেদিন ইফতারের সময়ে তোলা ছবিটা ফেসবুকে ছেড়ে দেন। এই কারণে পরের বছর হুজুর আর সেখানে অনুদানের জন্য যাননি। 

এখন প্রশ্ন হলো, ২০১৮ সালের এই ছবিকে পুঁজি করে এখন কেন নানা মিথ্যা কল্পকাহিনী সাজানো হচ্ছে? কেন সরকার বিরোধী প্রমাণ করার জন্য মিডিয়ায়  মিথ্যা নিউজ করানো হচ্ছে এবং বাবুনগরী হুজুরকে জামাতি বানানোর মিথ্যা পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইফতার মাহফিলে বসার কারণে যদি হুজুর জামাতী হন তাহলে সেখানে অনেক অনেক বড় আওয়ামী লীগের নেতারাও ছিলো তাহলে তো হুজুরকে আওয়ামীলীগও বলা যাবে? 

আসলে এগুলো চক্রান্তমূলক ভাবে করা হচ্ছে। হুজুরকে আমরা চিনি, উনি সারাজীবন জামাতের বিরুদ্ধে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। বাবুনগরী হুজুর মৌদুদী সাহেবের ভ্রান্ত মতবাদের বিরুদ্ধে এখনো সবসময় ছাত্রদের সামনে ক্লাসে আলোচনা করেন। এখনো বাবুনগরী হুজুর তাঁর বয়ান বক্তৃতায় ও লিখনীতে জামাতের ভ্রান্ত মতাদর্শ সম্পর্কে জাতিকে সচেতন করে আসছেন। গত ১ জানুয়ারী ২০২০ সনে দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতির বিশাল সমাবেশে মৌদুদী ভ্রান্ত মতাদর্শ সম্পর্কে চুলচেড়া বিশ্লেষণ করেছেন। 

কিন্তু বিষয় হলো যখন ২০১৮ সালে শামীম সাঈদী ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করেছিলো, এতদিন কেন কোন প্রশ্ন করা হলো না? কেন কোন তাহকিক না করে ৩ বছর পর এই ছবি সামনে আনা হলো একটি বিশেষ মুহূর্তে? আসলে গোপন বৈঠক বলে সেই পুরান ছবি ফেসবুকে প্রচার করে আলেম ও মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করার একটি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন চলছে।

কিন্তু এখন একটি কুচক্রী মহল হুজুরকে সমালোচিত করার জন্য এই ছবিটি দিয়ে জল ঘোলাটে করার জন্য বিভিন্ন পায়তারা করে যাচ্ছে। অথচ বিষয়টি সম্পুর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোওয়াট ও অবাস্তব ।

আরেকটি আজীব ব্যাপার, মাসুদ সাঈদীর সাথে বৈঠকের যে কথাটি কুচক্রী মহল প্রচার করেছে তারা সম্পুর্ণ মিথ্যাবাদি। কারণ মাসুদ সাঈদী নামক কাউকে বাবুনগরী হুজুর চিনেনও না, কখনো নামও শুনেননি, দেখাও হয়নি।  কথাবার্তা বৈঠক এটা কল্পনাপ্রসূত এবং দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তির ব্যাপারে কোন দাবী বাবুনগরী হুজুর কখনো করেননি ও করবেনও না। 

আসল কথা হলো, যারে দেখতে নাই তার চলন বাঁকা। জেনে রাখুন সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে সাময়িক সুবিধা নেয়া যায়। কিন্তু সত্য একদিন কথা বলবে।

মোটকথা হলো, একটি কুচক্রি মহল নিজেদের কুপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ২০১৮ সনের ইফতার মাহফিলের এ ছবিটি প্রচার করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। যেসব চিহ্নিত ষড়যন্ত্রকারীরা এসব কাজ করছে শামীম সাঈদীসহ  আরো বহু মানুষের সাথে তাদেরও ছবি রয়েছে এবং অনলাইনে তাদেরও ছবি ভাইরাল হয়েছে। বাবুনগরী হুজুরের সাথে শামীম সাঈদীর ছবি থাকার কারণে যদি বাবুনগরী হুজুর জামাতি হয়ে যান তাহলে ওইসব ষড়যন্ত্রকারীরাও তো বড় জামাতি কারণ জামাতের অনেকের সাথে তাদেরও ছবি রয়েছে । 

আমি দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হুজুরের খেদমতে থেকে দেখেছি- বাবুনগরী হুজুর সদা সত্য ও ন্যায়ের ওপর অটল-অবিচল আছেন, আমরণ থাকবেন, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ সবাইকে মিথ্যা থেকে বাঁচার তাওফীক দান করুন,আমিন। 


লেখক:
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর একান্ত খাদেম

[এই লেখার সত্যাসত্য এবং বাস্তবতার সম্পূর্ণ দায়ভার লেখকের নিজের]

তাওহীদ আদনান কাসেমী: তিনি আঁধারে জ্বালতেন আলো। শিখাতেন জীবন-সমাচার। দু:খ-দুর্দশা ও কষ্ট-ক্লেশের মাঝেও দিতেন পথের দিশা। সে পথের পথিক হয়ে কত-শত পথিক সফল হয়েছে, কত অনুর্বর ভূমি ফসল দিয়েছে, কত হৃদয় আলোকিত হয়েছে, কত জীবন বিকশিত হয়েছে, তার ইলমের শাখা-প্রশাখা ও তাদরীসী খেদমতের প্রবাহিত বাতাসে কত সমুদ্রে জোয়ার বয়েছে, তার উজ্জ্বল প্রদীপ শিখায় কত আঁধার দূরিভূত হয়েছে, তার কল্পনা করাও দায়। আকাশ থেকে যখন বৃষ্টি ঝরে, তার ফোঁটা কী আর গণনা করা যায়? আর আলোকরশ্মির পরিমাপ করতে যাওয়া তো বোকামী বৈ কিছু নয়।
বলছি আমার প্রিয় উস্তাদে মুহতারাম মুফতী সাঈদ আহমাদ পালনপুরী রহ.-এর কথা। গতকালও বাদ ফজর হুজুরকে দামাত বারাকাতুহু বলেছি। আজ বাদ ফজর বলতে হচ্ছে ‘রাহিমাহুল্লাহ’। গতকালকের সকাল আর আজকের সকাল, মাত্র একদিনের ব্যবধান। গতকাল ২৫ রমজান ১৪৪১ হিজরী মোতাবেক ১৯ মে ২০২০ মঙ্গলবার বাদ ফজরও তাকে নিয়ে লিখেছি। তখন তিনি ছিলেন। আজও বাদ ফজর তাকে নিয়ে লিখছি, অথচ আজ তিনি নেই।

পালনপুরী রহ.-কে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তাঁর পরিচিতি ছিলো বিশ্বময়। তাঁর নামের সাথে পরিচিত হয়েছিলাম ইবতেদায়ী জামাত পড়াকালেই। দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর মর্যাদা ও গুরুত্ব অনুধাবনে আসে পূর্ণাঙ্গ রূপে। তখন থেকেই হৃদয়ের গহীনে জায়গা দিয়েছি তাঁকে; গহীন থেকেও গহীনে। দেওবন্দের প্রথমদিন থেকেই তাঁর প্রতি মুগ্ধতা পেয়ে বসে আমায়। মাঝারি গড়ন। সুঠাম দেহ। স্বচ্ছ অবয়ব। শুভ্র ললাট। চেহারায় ঈমানের দ্যূতি। মধ্যম দাড়ি। মাথায় সাদা আরবী রুমাল। গায়ে আরবি জুব্বা। কথা-বার্তায় দৃঢ়তা। কাজে-কর্মে ধীরস্থিরতা। চলা-ফেরায় মাধুর্যতা। উন্নত রুচিশীলতা। স্বভাব-চরিত্রে গাম্ভীর্যতা, যেখানে রুক্ষতার লেশ মাত্র নেই।

দরসের মসনদে সবসময় দেখা যেতো তাঁর আলোর ঝলক। আলোচিত বিষয়ের আলোকে হাস্য-রসের মাধ্যমে মাতিয়ে রাখতেন তিনি সকলকে যাদুময়তার সাথে। দেওবন্দে গিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম মেশকাতে। মেশকাতে তাঁর কোনো দরস না থাকলেও তাঁর চুম্বকীয় আকর্ষণ মাঝে মাঝেই আমাকে টেনে নিয়ে যেতো তাঁর দরসে হাদিসের মসনদ পানে। পরের বছর দাওরা হাদিসে ভর্তি হওয়ার পর নিয়ম মাফিক তাঁর ছাত্রত্ব গ্রহণের সৌভাগ্য অর্জন হয়। দরসের মসনদে তাঁর অনন্যতা, ইলমের প্রশস্ততা ও মুহাদ্দিসী শান সূর্যের ন্যায় আলোর বিচ্ছুরণ ঘটাতো প্রতিনিয়তই। পাঠদানের ক্ষেত্রে ছিলো তাঁর অনন্য দক্ষতা। হাদিস হোক আর ফিকাহ হোক, রিজাল শাস্ত্র হোক আর ইলমে কালাম হোক, যে কোনো বিষয়ের আলোচনা এলে সমানতালেই তিনি আলোচনা করে যেতেন অনায়সে। আলোচনার স্বচ্ছতা ছিলো আয়নার মতো। যে বিষয়ে আলোচনা করতেন তার সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্ম বিষয়েও জ্ঞান অর্জন করে ফেলতো শ্রবণকারীরা৷

তাঁর চতুর্মুখী এই অসীম যোগ্যতার কারণে ছাত্র অবস্থাতেই দেওবন্দের ইন্তেজামিয়া কমিটি তাঁকে মুঈনে মুদাররিস হিসেবে বাছাই করে নেন৷ আর ফারাগাতের কয়েক বছর পরই মজলিসে শুরা তাকে উস্তাদ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গুজরাত থেকে ডেকে আনে৷ তিনি একজন গুণবান মুহাদ্দিস ছিলেন৷ এ কারণেই তো তাঁর দরসের সময়ে কোনো ছাত্রের সামান্য দেরি হলেই আর জায়গা পাওয়া সম্ভব হতো না দরসগাহে৷ শুধু হিন্দুস্তান নয় বরং পুরো বিশ্বের আনাচে-কানাচেও ছড়িয়ে আছে তাঁর ছাত্র ও শিষ্যগণ৷

তিনি শুধু একজন শিক্ষকই ছিলেন না বরং হাদিসের মসনদে একজন অভিজ্ঞ মুহাদ্দিস, ফিকহের মাসআলায় একজন বিজ্ঞ ফকিহ আর লেখালেখির ময়দানে ছিলেন একজন সাহসী কলম সৈনিক৷ ছিলেন হাদিসের একজন কিংবদন্তি ব্যাখ্যাকার, যুগশ্রেষ্ঠ মুহাক্কিক। তিনি ছিলেন ইলমে কালামের ময়দানে লড়াকু সৈনিক৷ ছিলেন দেওবন্দিয়াতের এক উজ্জ্বল নমুনা। দেওবন্দিয়াতের ফিকরী ও নযরিয়্যাতী মধ্যমপন্থার ধারকবাহক৷ এর ফলেই তাঁকে বলা হতো তরজুমানে দারুল উলুম দেওবন্দ৷ হাদিসের শরাহের পাশাপাশি সমসাময়িক বিবিধ বিষয়ে তিনি অসামান্য সাক্ষর রেখেছেন স্বীয় ক্ষুরধার লিখনির মাধ্যমে৷ তাঁর প্রতিটি বিষয়ের কিতাবই গ্রহণযোগ্যতার চরম শিখরে পৌঁছে যেতো লেখার সাথে সাথেই৷

তাঁর লিখিত অনন্য গ্রন্থাবলীর মধ্যে অন্যতম হলো তাফসিরের কিতাব হেদায়াতুল কুরআন, আলফাউযুল কাবীরের তাশরীহ ও তা’লীক, মাবাদিউল উসুল, মাবাদিউল ফালসাফা, মিফতাহুত তাহযীব, মাহফুযাত, হায়াতে ইমাম দাউদ, মাশাহিরে মুহাদ্দিসীন, হায়াতে ইমাম ত্বহাবী, ইসলাম তাগাইয়ুর পযীর দুনিয়া মে, কেয়া মুকতাদী পর ফাতিহা ওয়াজিব হ্যায়? নবুওয় নে ইনসানিয়াত কো কেয়া দিয়া? হুরমতে মুসাহার, তাহযীবুল মুগনী, তুহফাতুল আলমায়ী শরহে তিরমিযী ৮ খ-ে, তুহফাতুল কারী শরহে বুখারী ১২ খ-ে। রহমাতুল্লাহিল ওয়াসিআহ শরহে হুজ্জাতিল্লাহিল বালিগাহ ৭ খ-ে ইত্যাদি৷ এগুলো ছাড়াও আরো বহু কিতাব তিনি লিখেছেন বিভিন্ন বিষয়ে৷ রহমাতুল্লাহিল ওয়াসিআ তো হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগার এমন একটি শরাহ যার অপেক্ষায় ছিল মানুষ প্রায় তিনশো বছর যাবৎ৷

হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ.-এর কিতাব হুজ্জাতিল বালিগা প্রায় তিনশো বছর ধরে এমন একজন কলম সৈনিকের দিকে চেয়ে ছিলো চাতক পাখির ন্যায় যেখানে কুরআন ও হাদিসের ইলমের পাশাপাশি ইসলামি ফালসাফা ও আহকামে শরঈয়্যাহ এরও আলোচনা থাকবে সমানভাবে৷ তিনি উক্ত শরাহটি এমনভাবেই লিখেছেন যে, শাহ সাহেবের সমস্ত মুরাদ এবং সকল কঠিন ও দুর্বোধ্য ইবারত সহজ হয়ে গিয়েছে পানির মতো৷ এই শরাহ লেখার আগে তো কিতাবের মুরাদ উদঘাটনের জন্য সকলকে শারিরীক শ্রমের পাশাপাশির কঠিন যেহনী শ্রম ব্যয় করতে হতো৷ তদুপুরি এর মানজিলে মাকসাদে যাওয়া ছিল দূরহ ব্যাপার৷ এই শরাহ সে সকল দুর্বোধ্যতা ও কষ্ট দূর করে দিয়েছে এখন৷ আল্লাহর রহমতে সেই কিতাবের একসেট সংগ্রহও করে নিয়ে নেওয়া হয়েছে অধমের৷ বাস্তবেই এই শরাহটা মুফতি সাহেব রহ.-এর একটি কালজয়ী রচনা৷ এটি তাঁর এমন একটি শরাহ বা রচনা যে, ইলমের গভীরতাকে যদি এই একটি কিতাবের মাঝেও সীমাবদ্ধ ধরে নেওয়া হয় তদুপুরি তার ইলমের উজ্জ্বল আলোকমালা ইলমী ময়দানে চিরদিন জ্বলজ্বল করতে থাকবে অনবরত৷

হযরত মুফতী সাহেব রহ. ১৩৬০ হিজরী মোতাবেক ১৯৪০ ঈসায়ী সনে পিতৃভূমি গুজরাতের কালিরায় পালনপুর নামক এলাকায় জন্ম গ্রহণ করেন৷ পরিবারে যদিও ইলমের বিবেচনায় বিশেষ কেউ ছিলেন না কিন্তু দ্বীনদার ছিলেন৷ দ্বীনদারী পরিবেশের কারণে ছোট থেকেই মাদরাসার আঙ্গিনায় আসা-যাওয়া শুরু হয় তাঁর৷ জন্মভূমি পালনপুরেই প্রাথমিক পড়ালেখা ও মকতব ইত্যাদি শেষ করেন৷ এরপর আরবি ও ফারসি পড়ার জন্য দারুল উলুম গুজরাত গমন করেন৷ সেখানে মামা মাওলানা আবদুর রহমান কিতাব বিভাগের উস্তাদ ছিলেন৷ তাঁর কাছেই ফারসি পড়েন৷ এরপর পালনপুরের এক মাদরাসায় শরহে জামী পর্যন্ত পড়েন৷ সেখান থেকে পড়ালেখা শেষ করে এসে মাযাহেরে উলুম সাহারানপুরে ভর্তি হন এবং টানা তিন বছর পড়েন এখানে৷

১৩৮০ হিজরীতে দারুল উলুম দেওবন্দে এসে ভর্তি হন এবং দারুল দেওবন্দের ইলমের ঝর্ণায় গোসল করেন৷ বিশেষভাবে তিনি যাঁদেও কাছ থেকে ইলমী দক্ষতা অর্জন করেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন, মাওলানা সাইয়্যেদ হাসান দেওবন্দী, মাওলানা আবদুল জলীল কিরানভী, মাওলানা আসলামুল হক আজমী, মাওলানা ক্বারী তৈয়্যব সাহেব দেওবন্দী, মাওলানা ফখরুদ্দীন মুরাদাবাদী, আল্লামা ইবরাহীম বালিয়াভী, শায়েখ মাহমুদ আবদুল ওয়াহহাব মিসরী এবং মুফতী মাহদী হাসান শাহজাহানপুরী অন্যতম৷ 

১৩৮২ সালে নম্বরে আউয়াল হয়ে ফারাগাত হাসিল করেন৷ অন্তরে ইলমের জযবা ছিল অধিক পরিমাণে৷ রব্বে কারীম যোগ্যতাও দিয়েছিলেন৷ তাই তাকাযা ছিলো ইলমের সাগরে আরো কিছুদিন ডুবে থাকবেন৷ অবস্থাদৃষ্টে দেওবন্দেই ইফতার দরখাস্ত দিয়ে দেন এবং মঞ্জুরিও এসে যায়৷ ফলে ইফতায় ভর্তিও হয়ে যান তখনই৷ আর তখনই ইন্তেজামিয়া কমিটি তাকে মুঈনে মুদাররিস হিসেবে নির্বাচন করে বসেন৷

শিক্ষাজীবন শেষ হলে আল্লামা ইবরাহীম বালিয়াভী রহ. দারুল উলুম আশরাফিয়া গুজরাতে খেদমতে দিয়ে দেন৷ ১৩৮৪ থেকে ১৩৯৩ পর্যন্ত সেখানে ইলমী আলোকরশ্মির বিচ্ছুরণ ঘটান৷ এরপর দেওবন্দের ইন্তেজামিয়া কমিটি তাঁকে উস্তাদ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সেখান থেকে ডেকে আনেন৷ তিনি নিজের সৌভাগ্য ভেবে ডাকে সাড়া দেন এবং শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত এখানেই নিয়োজিত থাকেন দরস ও তাদরিসের খেদমতে৷ এখানে বসেই তিনি ইলমী ও ফিকরী গবেষণার দুর্ভেদ্য কাজ আঞ্জাম দেন৷ এখানেই তিনি কুরআন ও হাদিসের তাশরীহাতে নিযুক্ত থাকেন; তাফসীর ও হাদিসের দরস ও তাদরীসে মশগুল থাকেন৷ শিক্ষকতার জীবনে তিনি এমন মণি-মুক্তার চমক ঘটিয়েছেন যে, বিশাল একটা জগত তাঁর প্রতি মোহিত হয়ে গেছে, এক বিশাল দুনিয়া তাঁর প্রেমাসক্তিতে প্রেমিক বনে গেছে৷ তার তাদরীসী, তাশরীহী, তাকরীরী, তাসনীফী, ইসলাহী ও তারবিয়াতী খেদমতের মূল্যায়ণ এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে সম্ভব নয়৷

ভাগ্য নির্ধারক তাঁর ভাগ্যে মৃত্যুর ফায়সালা তখনই করে রেখেছিলেন, যখন দুনিয়াবাসী তাকে নতুন করে অস্তিত্বে আনয়নের ইচ্ছায় হাবুডুবু খাচ্ছিল, যখন তাঁকে দুনিয়াবাসীর আরো বেশি প্রয়োজন ছিল।

আসলে পৃথিবীর সবকিছু তার চিরাচরিত নিয়মেই চলমান৷ পাহাড় থেকে ঝর্ণা বয়ে যাচ্ছে৷ ঝর্ণা আবার সমুদ্রের সাথে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে৷ আকাশ থেকে বৃষ্টি নামছে৷ জমিন থেকে উদ্ভিত উঠছে৷ চাঁদ-সূর্য তার আলো বিলিয়ে যাচ্ছে৷ দুনিয়ার সব কিছুই নিয়ম মাফিক চলছে৷ প্রতিটি সূচনারই একটি অন্ত রয়েছে৷ ফলে ছোট থেকে বেড়ে উঠতে উঠতে সব কিছুই আবার বিলীন হয়ে যাচ্ছে৷ পৃথিবীর এই চিরাচরিত নিয়মের আওতায়ই মুফতি সাহেব রহ.-এর ছায়াও আজ বিলীন হয়ে গেলো আমাদের থেকে৷ তাঁর সুশীতল ছায়া সরে গেলো আমাদের মাথার উপর থেকে৷ আমরা হয়ে গেলাম আশ্রয়হীন; ছায়াহীন৷ এখন শুধু সান্ত¡নার বাণীস্বরূপ বলতে হয়, তিনি যাওয়ার জন্যই এসেছিলেন৷ ফলে তিনি চলে গেছেন৷ সান্ত¡নার বাণীস্বরূপ বলতে হয়, তিনি চলে গেছেন তবে আমাদের মাঝে রেখে গেছেন তাঁর ইলমী খেদমত ৷

মুফতি সাহেব হুজুর রহ. যদিও দুনিয়া থেকে চলে গিয়েছেন কিন্তু তাঁর ইলমী খেদমতের কারণে তিনি আমাদের মাঝে জীবন্ত হয়ে থাকবেন চিরদিন৷ মৃত্যু যদিও সকলকে দুনিয়ার বুক থেকে অচেনা বানিয়ে দেয় কিন্তু মুফতী সাহেব রহ.-এর মতো মানুষেরা ইলমী খেদমতের কারণে মরেও বেঁচে থাকেন দুনিয়াবাসীর অন্তরে৷ এমন মানুষর জন্য মৃত্যুই আসল জীবনের দরজা, অভীষ্ট লক্ষ্যে সোপান। সে জীবনের জন্য তারা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন যুগের পর যুগ, সে জীবনের জন্য মানুষের অন্তরে ভালোবাসার প্রদীপ শিখা প্রজ্জ্বলিত হয় এবং আলোর পিদিম আরো আলোকিত হয়৷

মুফতী সাহেব রহ. ছিলেন একটি ফুটন্ত ফুল। দুনিয়াবাসী আজ তার সুঘ্রাণ থেকে বঞ্চিত৷ তিনি ছিলেন ইলমী অভিভাবক৷ ইলমী বিবেচনায় দুনিয়াবাসী আজ ইয়াতীম৷ ইলমের খাজানা ছিলেন তিনি৷ ইলমে নবুওয়াত অর্জনকারীরা এক মহান ব্যক্তিত্ব হারালো৷ ফিকর ও তাহকীকের সূর্য ছিলেন, যা চিরতরে অস্তমিত হয়ে গেলো৷ গতকালও বাদ ফজর হুজুরের খবর নিলাম৷ দোয়া করলাম৷ শুনলাম স্বাস্থ্য অনেক বেশি খারাপ৷ ফুসফুসে পানি এসে গিয়েছিলো৷ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে৷ মনটা খারাপ হয়েছিল৷ কিন্তু আশাহত ছিলাম না৷ দোয়া-মোনাজাত করে ঘুমুতে গেলাম৷ ঘুম থেকে জেগেই খবর পেলাম তিনি ঘুমিয়ে গেছেন চিরতরে৷ আল্লাহ পাক হুজুরকে জান্নাতবাসী করুন, আমিন৷

লেখক:
আলেম ও সাংবাদিক
ফাজেল, দারুল উলুম দেওবন্দ

অতীতের যেসব রেকর্ড ভেঙ্গে-চূড়ে ...
আবহাওয়া ডেস্ক: শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আম্পান বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করে দিয়েছে। আজ বুধবার বিকেল চারটা থেকে এটি সাগর উপকূলের পূর্ব দিকে সুন্দরবন ঘেঁষা পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ দিয়ে অতিক্রম করছে।

অতিক্রমের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে। জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, বিকেল চারটা থেকে রাত আটটার মধ্যে আম্পান বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, খুলনা অঞ্চল অতিক্রম করবে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে।

এর আগে, আবহাওয়া দপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পান বঙ্গোপসাগরে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়েছে। এটি আজ বুধবার দুপুর চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৮০ কিলোমিটার, কক্সবাজার উপকূল থেকে ৪৭০ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯০ ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এ কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকাকে ৯ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আজ সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় আম্পান আজ সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

-পিএ


আহমদ মোস্তফা:  কুতুবুল আলম শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (হাফিযাহুল্লাহ) স্বীয় মুরীদদেরকে তরীকতের যে ছয়টি সবক দিয়ে থাকেন। তা সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা হলো :

১নং সবক : তাসবীহাতে সিত্তা বা ছয় তাসবীহ

ছয় তাসবীহ আদায়ের সময় সকাল-বিকাল (ফজর এবং মাগরিবের পর)

★ সুবহানাল্লাহ ১০০বার (سبحان الله) 
★ আলহামদুলিল্লাহ ১০০বার (الحمد لله) 
★ আল্লাহু আকবার ১০০বার (الله اكبر) 
★ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ১০০বার (لا اله الا الله) 
★ ইস্তেগফার ১০০বার
استغفرالله الذي لاإله إلا هو الحي القيوم واتوب اليه، 
★ দরুদ শরীফ ১০০বার
اللهم صل على محمد وعلى آله محمد بعدد كل شيء معلوم لك، 
২ নং সবক : যিকরে ইসমে জাত

ইসমে জাত দ্বারা উদ্দেশ্য, লফয আল্লাহ। প্রতিদিন কমপক্ষে ১২ হাজার বার আল্লাহ আল্লাহ যিকির করবে। বেশির কোন সীমা নেই। আমাদের বুযুর্গানে দীন ১ লক্ষ ২৫ হাজার বার পর্যন্ত ইসমে জাতের যিকির আদায় করতেন। 
শোয়া-বসা, হাঁটা-চলা সর্বাবস্থায় এই সবক আদায় করা যায়। তবে নির্জনে বসে করলে অবশ্যই উপকার বেশি হবে।

৩ নং সবক : যিকরে পাঁচ আনফাস

পাঁচ আনফাস তথা নিঃশ্বাসের যিকির। এটা ২৪ ঘন্টার আমল। সর্বদা নিঃশ্বাস নেবার সময় খেয়াল করবে 'আল্লা' আর নিঃশ্বাস ছাড়ার সময় খেয়াল করতে হবে 'হু' দুইটা মিলে হবে 'আল্লাহু'। 
এই যিকির নিয়মিত ২-৩ মাস আদায় করলে নিঃশ্বাসের সাথে যিকির জারি হয়ে যাবে ইনশাঅাল্লাহ। তখন প্রতিদিন নিঃশ্বাসের মধ্যে ২৫ হাজারবার আল্লাহ আল্লাহ যিকির হয়ে যাবে। কারণ, একজন মানুষ স্বাভাবিক ভাবেই প্রতিদিন ২৫ হাজার বার নিঃশ্বাস নেয় ও ছাড়ে।

৪নং সবক : ১২ তাসবীহ (দোয়াজদাহ তাসবীহ)

বার তাসবীহ আদায়ের পদ্ধতি হল, শেষ রাতে ৪,৬,বা ৮ রাকাআত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে কেবলামুখী হয়ে বসবে। 
৩ বার সুরা ফাতেহা এবং ১২ বার সুরা ইখলাস ও দরুদ শরীফ পাঠ করে চার-তরীকার বুযুর্গানেদীনের জন্য ইসালে সাওয়াব করবে। তারপর আসন পেতে ডান পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে বাম পায়ের মোটা রগকে চেপে ধরে বসবে।তবে বসার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, যেন পিঠ এবং কাঁধ বরাবর থাকে। বাঁকা যেন না হয়। দুই হাত দুই হাঁটুর উপর রাখবে। ডান হাতে ১০০দানার তাসবীহ থাকবে। কলবের দিকে মুতাওয়াজ্জু হয়ে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর যিকির ২০০বার করবে। 'লা ইলাহা' বলার সময় খেয়াল করবে, আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই।আল্লাহ ব্যতীত সবকিছুর মহাব্বত অন্তর থেকে বের করে পিঠের পিছনে নিক্ষেপ করলাম। আর' ইল্লাল্লাহ' বলার সময় ধ্যান করবে আল্লাহর মহাব্বত অন্তরের অন্তস্থলে জায়গা দিলাম। ২৫-৩০বার পর পর দরুদ পাঠ ও মোরাকাবার করবে। 
দরুদ শরীফ--
سيدنا مولانا محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم، 
মোরাকাবা--
الله حاضري، الله ناظري، الله شاهدي، الله معي، 
৪০০ বার 'ইল্লাল্লাহ' এবং ৬০০বার 'আল্লাহু-আল্লাহ যিকির করবে। এই ১২০০বার মুতাকদ্দিমীন(পূর্ববর্তী) সুফিয়ায়ে কেরাম আদায় করতেন। (সেজন্য এই সবককে বার তাসবীহ বলা হয়।) 
আর মুতা-আখখিরীন (পরবর্তী) সুফিয়ায়ে কেরাম 'আল্লাহ' 'আল্লাহ' আরো ১০০বার বাড়িয়েছেন। (এ হিসেবে তেরো তাসবীহ ও বলা হয়।) প্রত্যেকটার মধ্যেই ২৫-৩০ বার পর পর একই নিয়মে দরুদ শরীফ এবং মোরাকাবা করবে।

৫ নং সবক : যিকরে কলবী

যিকরে কলবী তথা কলবের (অন্তরের) যিকির। কলবের স্থান হলো, বাম স্তনের ২-৩ আঙুল নিচে। কলব সব সময় হরকত-নড়াচড়া করে। নির্জনে বসে কলবের দিকে মুতাওয়াজ্জু হয়ে ধ্যান করবে যে, আমার অন্তর আল্লাহর মহব্বত-ভালবাসায় বেচাইন (অস্থির) হয়ে গেছে। আমার অন্তর থেকে যিকির হইতেছে 'আল্লাহ' 'আল্লাহ' এভাবে প্রতিদিন কমপক্ষে আধা ঘন্টা সময় এ সবকটি আদায় করবে। সবকটি আদায়ের উত্তম সময় হল, ফজরের পর ছয় তাসবীহ আদায় করে। অন্য সময়েও করা যাবে।

৬ নং সবক : মোরাকাবায়ে মাইয়্যাতে ইলমিয়্যা

মোরাকাবায়ে মা'ইয়্যাতে ইলমিয়্যা তথা ইলমদের ই'তেবারে আল্লাহ আমার সাথে আছেন-এই ধ্যান করা। জাতের ই'তেবারে নয়। অর্থাৎ আমি যা করি আল্লাহ তাআলা দেখেন, শোনেন, জানেন। আমার কোনো বিষয় আল্লাহ তাআলার ইলমের বাহিরে নয়। বরং সর্বাবস্হায় আমার যাবতীয় কাজ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা অবগত আছেন। এ সবক আদায়ের সময় হলো, ইশার নামাজের পর ঘুমের আগে। কলবের দিকে মনোনিবেশ করে আয়াত পড়বে আর ধ্যান করবে। 
وهومعكم أينماكنتم 
'আল্লাহ তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাকো না কেন।'

এখানে তোমরা দ্বারা উদ্দেশ্য আমরা অর্থাৎ আমরা যেখানেই থাকি না কেন আল্লাহ তাআলা আমাদের সাথেই আছেন। এ আয়াতে অর্থের দিকে লক্ষ্য করে প্রতিদিন কমপক্ষে ১ ঘন্টা মোরাকাবা করবে। মাঝে মধ্যে 
الله حاضري،الله ناظري، الله شاهدي، الله معي، 
দিলে দিলে এ কালিমাগুলোর অর্থের দিকে খেয়াল করবে।


ভারত উপমহাদেশের অন্যতম ও প্রাচীন দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসার শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরীর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন,হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও 
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন হাটহাজারী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী৷

মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী বলেন:ভারত উপমহাদেশের বিখ্যাত আলেমে দ্বীন 
আল্লামা মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. মঙ্গলবার (১২ মে ) অসুস্থ হয়ে তিনি আইসিইউতে ছিলেন। আজ ১৯ মে মোতাবেক ২৫ রমযান মঙ্গলবার সকালে চাশতের সময় তিনি ইন্তিকাল করেন।

তিনি আরো বলেন, ইলমী অঙ্গনে কঠিন বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপনার জন্য তার বিশেষ প্রসিদ্ধি রয়েছে। তার সামান্য আলোচনায়ও ইলমী বিভা ঝরতে থাকে। তিনি তার শুরু জীবনে ‘ইফাদাতে নানুতবী’ কিতাব রচনার মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করলেও শেষে এসে হিকমাহ তথা দর্শন শাস্ত্রে শাহ ওয়ালী উল্লাহ রহ. এর কালজয়ী কিতাব ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ’ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘রহমাতুল্লাহিল ওয়াসিআহ’ আরও অনেক কিতাব লেখেছেন। আমি হযরতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেসালা হুরমতে মোছাহেরাত বাংলা অনুবাদ কর‍তে গিয়ে দেখেছি হযর‍তের অসম্ভব ইলমি গভীরতা, এছাড়া পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর অসংখ্য ছাত্র ও শুভাকাংক্ষী।

তিনি আরো বলেন,আল্লামা মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. ইন্তেকালে দেশবাসী একজন নিবেদিতপ্রাণ দ্বীনের খাদেমকে হারাল৷ইতিহাস তাঁর অমর কীর্তি চিরকাল স্মরণ রাখবে।তাঁর ইন্তেকালে আমি গভীরভাবে শোকাহত।

এসময় তিনি আল্লামা মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান৷


দারুল উলুম দেওবন্দের শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

আজ ১৯ মে মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় আল্লামা বাবুনগরী বলেন,আল্লামা পালনপুরী রহ. অনেক উঁচু মাপের একজন আলেম ও বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন ইলমী অঙ্গনের একটি উজ্জল নক্ষত্র,প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ। তার দারস-পাঠদান ছিলো অত্যন্ত জনপ্রিয় ও চিত্তাকর্ষক এবং তথ্যপূর্ণ। ইলমী অঙ্গনে কঠিন বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপনার জন্য তার বিশেষ প্রসিদ্ধি রয়েছে। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি দেওবন্দের শাইখুল হাদিস পদে সমাসীন ছিলেন। তার ইন্তেকালে  ইলমাকাশের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র ঝরে পড়েছে। তাঁর ইন্তেকালে ইলমী অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা কভু পূরণ হবার নয়। লেখালেখীর ময়দানেও অসাধারণ খেদমত করে গেছেন তিনি। বিভিন্ন বিষয়ে  ছোট বড় প্রায় পঞ্চাশের কাছাক কিতাব রচনা করেছেন তিনি। আমি তাঁর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।

স্মৃতিচারণ করে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ১৯৮০ সালে দারুল উলুম দেওবন্দের সদ সালা (শতবার্ষিকী) অনুষ্ঠানে আমার আব্বাজান মেশকাত শরীফের বিশ্ববিখ্যাত ব্যখ্যা গ্রন্থ তানজিমুল আশতাতের রচয়িতা আল্লামা আবুল হাসান রহ. এর সাথে আমিও শরীক হয়েছিলাম। সে সময় তিনি আমার আব্বাজান রহ. এর রচিত তানজিমুল আশতাত কিতাবের খুব বেশী প্রশংসা করেছিলেন। কিতাবটিকে তিনি অনেক পছন্দ করেছিলেন। তাঁর বাসায় আব্বাজান ও আমাকে নিমন্ত্রণ করে অনেক আপ্যায়ন করেছিলেন। তাঁর আতিথেয়তায় আমরা সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলাম।

অতপত: আমার স্বরচিত কিতাব ইসলাম আওর সাইন্স এবং আত-তাওহিদ ওয়াশ শিরক ওআকসামুহুমা কিতাব দুটি তার নিকট পাঠিয়েছিলাম। কিতাব দু'টি পাঠ করে তিনি অত্যন্ত মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন-
আমি মনে করতাম জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেবের উর্দূ ভাষায় দক্ষতা আছে কিন্তু এখন আরবী ভাষায় লিখিত" আত তাওহিদ ওয়াশ শিরক কিতাবটি পড়ে বুঝতে পারলাম আরবী ভাষায়ও অসাধারণ দক্ষতা ও পাণ্ডিত্য রয়েছে। এবং ইসলাম আওয়ার সাইন্স কিতাবে তিনি অত্যন্ত মূল্যবান তাকরিয
(অভিমতও) লিখেছিলেন। যা প্রকাশ হয়েছে।

স্মৃতিচারণ করে আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন-গত ৪ ঠা আগস্ট ২০১৯ ইংরেজীর রবিবারে আমার মুহতারামাহ আম্মাজান ইন্তেকাল করলে তিনি এ সংবাদ পেয়ে ছাত্রদেরকে নিয়ে একনিষ্ঠভাবে আম্মাজানের জন্য মাগফিরাত ও দারাজাত বুলন্দির জন্য দুআ করেছিলেন।

পরিষেশে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, মহান প্রভুর দরবারে আমি দুআ করি, আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল দ্বীনি খেদমতকে কবুল করুন এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন,আমিন।


বিশ্ববিখ্যাত ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দ, ভারতের স্বনামধন্য শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. এর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, দারুল উলূম হাটহাজারীর মুহাদ্দিস, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী। 

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) এক শোকবার্তায় তি‌নি ব‌লেন, মুসলিম জাহানের খ্যাতিমান আলেমে দ্বীন দারুল উলুম দেওবন্দের শাইখুল হাদীস এবং দারুল উলূম দেওবন্দের আমার সবচেয়ে প্রিয় ও কাছের উস্তাদ শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতী  সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. আজ সকাল ৭টার দিকে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে তিনি ‌ইন্তেকাল করেন! ইন্না-লিল্লাহ...! আল্লামা মুফতী  সাঈদ আহমদ পালনপুরী ও আল্লামা উমর পালনপুরী রহ. এর নাম সেই ছোটকাল থেকে শুনে আসছি। আলহামদুলিল্লাহ!  আমার উভয় হযরতের সান্নিধ্য অর্জনের সৌভাগ্য হয়েছে।

 মাওলানা নিজামপুরী আরো বলেন, বিশ্বের শীর্ষ আলেমদের এভা‌বে চ‌লে যাওয়া খুবই বেদনাদায়ক। ধা‌পে ধা‌পে ইলম ও আমলদার আলেম‌দের উ‌ঠি‌য়ে নেয়ার মাধ্য‌মে মূলত ইলম উ‌ঠিয়ে নেয়া হ‌চ্ছে। হাদীস জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র আমার উস্তাদে মুহতারামের ইন্তেকালে আমি গভীরভাবে শোকাহত। 

মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী আরো বলেন, আল্লামা মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. ছিলেন আমার সবচেয়ে শফিক উস্তাদ। দেওবন্দে হযরতের কাছে তিরমিজী ও তহাবী শরীফ পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে। তিনি আমাকে খুব স্নেহ করতেন। হযরতের বাড়িতেও আমি যাওয়া আসা-করতাম। আজ হযরত ইন্তেকাল করেছেন। আমি তাঁর রুহের  মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, ছাত্র, মুরীদ ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। অাল্লাহ তায়ালা তাঁ‌কে জান্না‌তের স‌র্বোচ্চ স্থান দান করুন। তাঁর খেদমাত‌কে সদকা‌ হি‌সে‌বে জা‌রি রাখুন, অামীন! 

উ‌ল্লেখ্য, বিশ্ব বরেণ্য শাইখুল হাদীস মুফতী  আল্লামা সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ.  ভারতের উত্তর গুজরাটে বেনাস কাঁথা জেলায় ১৩৬২ হি. মোতাবেক ১৯৪২ ইংরেজিতে জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।


আরিফ জব্বার 
১. তোমাদের জীবন যেদিকেই যাক, দ্বীনী খেদমতের সাথে সবসময় নিজেকে সম্পৃক্ত রাখবে৷ এ মেরি ওসিয়্যাত হ্যাঁয়৷

২. দিল মে জিহাদ কি তামান্না রাখখো,,

৩. কোনো উস্তাদের ইন্তেকালের সংবাদ শুনলে তাঁর জানাযায় হাজির হবার কৌশিশ করবে৷ যদি সম্ভব না হয় অন্তত তিনবার সুরায়ে ইখলাস পড়ে তাঁর জন্য দোআ করবে৷ 

তাই আমরা যারা হযরতের ছাত্র আছি এবং হযরতের সকল মুহিব্বীনদের নিকট আরজি আমরা সকলেই মুহতারামের নসিহাতের উপর আমল করি, অন্তত তিনবার সুরায়ে ইখলাস পড়ে হযরতের জন্য দোআ করি৷ আল্লাহ তাআলা যেন মুহতারাম উস্তাদকে জান্নাতের সম্মানীত মেহমান হিসেবে কবুল করেন৷ আমিন!


হেফাজত আমীর ও দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক ও শাইখুল হাদীস আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফিযাহুল্লাহ সাংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় উপমহাদেশের অন্যতম ও প্রাচীন দ্বীনি এদারাহ ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরীর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং মরহুমের শোকাহত পরিবার-পরিজন, শাগরেদ-ভক্তদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি সকলকে সবরে জমিল দান করার জন্য পরম করুনাময় আল্লাহর দরবারে দোআ করেন।
হেফাজত আমীর আল্লামা মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. প্রসঙ্গে বলেন ইলমী অঙ্গনে কঠিন বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপনার জন্য তার বিশেষ প্রসিদ্ধি রয়েছে। তার সামান্য আলোচনায়ও ইলমী বিভা ঝরতে থাকে। তিনি তার শুরু জীবনে ‘ইফাদাতে নানুতবী’ কিতাব রচনার মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করলেও শেষে এসে হিকমাহ তথা দর্শন শাস্ত্রে শাহ ওয়ালী উল্লাহ রহ. এর কালজয়ী কিতাব ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ’ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘রহমাতুল্লাহিল ওয়াসিআহ’ লিখে দুনিয়ার আহলে ইলমদের দৃষ্টি কাড়েন। এজন্য দারুল উলুম দেওবন্দের মজলিসে শুরা তাকে রেজুলেশনের মাধ্যমে বিশেষ সম্মানে ভুষিত করেন। এমন শত গুনের অধিকারী দেওবন্দের শাইখুল হাদীস মুফতী সাইদ আহমদ পালনপুরী।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফিযাহুল্লাহ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন- ২০১৭ সালে আমি যখন চিকিত্‌সার জন্য ভারত গমন করি তখন দারুল উলুম দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ ও তাঁর আমন্ত্রণে দারুল উলুম দেওবন্দ গমন করলে তিনি সরাসরি প্রধান তোরণে উপস্থিত হয়ে আমাকে অভ্যার্থনা জানান এবং আতিথিয়তা করেন। তখন দারুল উলুমের শিক্ষক ও ছাত্ররা জানান তিনি কখনো কাউকে এভাবে গিয়ে অভ্যার্থনা জানাননি যা আপনার জন্য করেছেন। সেদিন আমি তাঁর আন্তরিক আতিথিয়তায় মুগ্ধ হয়েছি।

আল্লামা পালনপুরীর মৃত্যুতে মুসলিম উম্মাহ একজন কিংবদন্তী আলেম দ্বীন, দাঈ ও বহু প্রতিবার অধিকারী আলেমকে হারিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে উম্মাহর যে ক্ষতি হল তা পূরণ হবার নয়। মহান রাব্বুল আলামীন আল্লামা পালনপুরী জান্নাতে উচঁ মকাম দান করুন। আমীন

প্রসঙ্গত- কয়েকদিন যাবত শরীরের অবনতি হতে থাকে। আর আজ চাশতের সময় ইলমি জগতের এ মুকুটহীন সম্রাট লক্ষ লক্ষ ভক্তকুলকে শোক সাগরে ভাসিয়ে চলে যান না ফেরার পথে। 
মুফতি সাঈদ আহমদ পালানপুরী ১৩৬২ হিজরী মোতাবেক ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget