Latest Post

অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাইসিন নামক মারাত্মক বিষাক্ত পদার্থ মেশানো চিঠি পাঠানোর অভিযোগে সন্দেহভাজন এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশটির আইনপ্রয়োগকারী এক কর্মকর্তা রবিবার এই তথ্য জানিয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, নিউ ইয়র্ক সীমান্তে ওই নারী কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন, সেসময় তার সঙ্গে বন্দুক ছিল।

এফবিআই অফিসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্দেহজনক চিঠি পাঠানোর অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, এ নিয়ে তদন্ত চলছে।

গতকাল মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, ট্রাম্পের নামে পাঠানো একটি চিঠিতে রাইসিন নামক এক মারাত্মক বিষাক্ত পদার্থ মেশানো ছিল। তবে হোয়াইট হাউজে পৌঁছানোর আগেই সেই চিঠি জব্দ করা হয়। বিবিসি,

 

প্রবচন ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জন গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির চার প্রকৌশলীসহ আটজন রয়েছেন। গ্রেফতার ৯ জনকেই রিমান্ডে নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। এই ঘটনার সাথে কারোর সম্পৃক্ততা পেলে তাদেরও গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।


এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রশাসন, তিতাস, ফায়ার সার্ভিসের পৃথক তদন্ত প্রতিবেদনে মসজিদ কমিটির গাফিলতির বিষয়টি উঠে এসেছে। এমন অবস্থায় গ্রেফতার আতঙ্কে আছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির লোকজন। যদিও বিস্ফোরণে মারা গেছেন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হান্নান সাউদ ও কোষাধ্যক্ষ জেলা প্রশাসনের কর্মচারী শামীম হাসান। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।


এ ঘটনায় পৃথক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তিতাস গ্যাস কোম্পানি, জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে উৎসারিত আগুন এবং তিতাসের গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে মসজিদের অভ্যন্তরে জমা হওয়া গ্যাস থেকে বিস্ফোরণটি হয়েছে। ঘটনার পর টানা তিনদিন মসজিদের পাশে খোঁড়াখুড়ির পর তিতাসের গ্যাস লাইনের পাইপে ছয়টি লিকেজ পাওয়া যায়। তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদনে তিতাস ছাড়াও ডিপিডিসি ও মসজিদ কমিটির অবহেলার বিষয়টিও উঠে এসেছে।


অপরদিকে এই দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন মিডিয়াতে গ্যাস লিকেজ মেরামতের জন্য তিতাস গ্যাসের লোকজন ৫০ হাজার টাকা চেয়েছে বলে মসজিদ কমিটির সভাপতি একটি অভিযোগ এনেছিলেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিতাস গ্যাস নারায়ণগঞ্জ অফিসের গত ছয় মাসের অভিযোগ রেজিস্টার পরীক্ষা করে কোনও কিছু পাওয়া যায়নি। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কাছে তিতাসের কোন লোক টাকা চেয়েছে, তার নাম, পদবি, ফোন নম্বর ইত্যাদি চাওয়া হয়। তবে তারা এ বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে পারেননি। স্থানীয় কমিশনার, মসজিদের মুসল্লিসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষাৎকারে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। কিন্তু মসজিদ কমিটির সভাপতির এ ধরনের মিথ্যা বক্তব্যে তিতাস গ্যাসের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বলে তিতাস তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করে।


বিস্ফোরণের ঘটনার পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হলেও বিদ্যুৎ, গ্যাস কর্মকর্তাসহ মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে অবহেলা গাফিলতির অভিযোগ করা হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত শনিবার ভোরে তিতাসের সাময়িক বরখাস্ত ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালায় সিআইডি।


গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন-তিতাস গ্যাস কোম্পানির নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা জোনের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান রাব্বী, সহকারী প্রকৌশলী এসএম হাসান শাহরিয়ার, সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া, সিনিয়র সুপারভাইজার মনিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র উন্নয়নকারী আইউব আলী, সাহায্যকারী হানিফ মিয়া, ওয়েল্ডার ইসমাইল প্রধান।


গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে বিস্ফোরণের ঘটনার পর ৭ সেপ্টেম্বর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে তিতাস। গত শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে সিআইডির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ডিআইজি মাইনুল হাসান বলেন, ‘তিতাস, বিদ্যুৎ বিভাগ, স্থানীয় মসজিদ কমিটির অবহেলা আছে কিনা সেই বিষয়গুলো আমরা তদন্ত করে দেখছি। আমরা বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি, স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এছাড়া অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছি। সেসবের ভিত্তিতে তিতাসের স্থানীয় যে কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন তাদের মধ্যে ৮ জনকে আমরা গ্রেফতার করেছি। এই তদন্ত কাজ চলাকালে আরও যে ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’


এদিকে গত শনিবার রাতেই গ্রেফতার করা হয় মোবারেক হোসেন নামে পশ্চিম তল্লা এলাকার স্থানীয় বিদ্যুৎ মিস্ত্রিকে।


এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক বাবুল হোসেন বলেন, ‘পশ্চিম তল্লার ওই মসজিদে দু’টি বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল। যার মধ্যে একটি বৈধ এবং অপরটি অবৈধ। অভিযোগ রয়েছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগটি স্থানীয় বিদ্যুৎ মিস্ত্রি মোবারক হোসেনের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে। এতে ডিপিডিসির সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছি। বাকিটা জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যাবে।’


এদিকে গ্রেফতার হতে পারেন বায়তুস সালাত জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির লোকজনও। বিদ্যুৎ মিস্ত্রি মোবারক হোসেনের পর গ্রেফতারের আশঙ্কা করছেন তারা।


বর্তমানে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুল গফুর। তিনি বলেন, ‘শনিবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় বিদ্যুতের মিস্ত্রিকে। পরে গ্রেফতার করছে শুনলাম। আমরাও গ্রেফতারের আশঙ্কা করছি। আমরা তো ডিপিডিসিকে জানিয়েই গত রোজায় বিদ্যুতের লাইনটি নিয়েছিলাম। সব মসজিদই এই কাজটি করে।’

প্রবচন ডেস্ক: মধ্যরাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে আবারো হেফাজতে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার রাত ১১.৪৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিছনের গেট থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নুরকে তাদের হেফাজতে নিয়ে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

এসময় গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকা মেডিকেল-এর পকেট গেট দিয়ে গাড়িতে তুলে নুরকে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নুরের সমর্থকরা সেই গাড়িতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে পুলিশ নুরকে নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করে।

এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে মিছিল বের করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ভবন এলাকায় গেলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এসময় পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে নুরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের কিছুক্ষণ পরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী লালবাগ থানায় এ মামলাটি করেন। মামলায় মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ধর্ষণে সহযোগী হিসেবে নুরুল হক নুরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় ঢাবি ছাত্রীর করা ধর্ষণের মামলার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। এদিকে ছাত্র পরিষদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় আহত পাঁচজন পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা মামলার এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে। ধর্ষণের স্থান হিসেবে লালবাগ থানার নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ রোডে হাসান আল মামুনের বাসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নুর ও মামুন ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক (২) মো. সাইফুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মো. নাজমুল হুদা এবং ঢাবি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হিল বাকি।

প্রবচন ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে আটকের পর মুক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। আটকের পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলা হলেও  ঢাকা মেডিকেলে নুর ও সোহরাব হোসেনকে ডিবি প্রহরায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সোমবার রাতে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ থেকে নূরসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশের কাজে বাধা দেয়া এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে শাহবাগ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর এলেও বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে রমনা জোনের এডিসি হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, তাকে ছেড়ে দেয়া হবে কি না সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান জানান, নুরুল হক নুরসহ আমাদের সহযোদ্ধারা এখনও পুলিশের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন কিনা, সেই বিষয়ে আমরা নিশ্চিত করে কিছু জানি না।

এর আগে, রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া।

তিনি জানান, নুরসহ দুইজনকে ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন। আরেক জনের নাম সোহরাব হোসেন। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।


প্রবচন ডেস্ক: ধর্ষণের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সন্ধ্যায় ‘হয়রানিমূলক মামলা’র প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিক্ষোভ মিছিল থেকে ভিপি নুর আটক বিষয়টি গণমাধ্যমকে শ্চিত করেছেন ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি বিন ইয়ামীন মোল্লা।

তিনি বলেন, ভিপি নুরসহ আমাদের কয়েকজন সহযোদ্ধার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে আমরা বিক্ষোভ মিছিল করছিলাম।

বিক্ষোভ মিছিলের শেষের দিকে শাহবাগ থেকে পুলিশ ভিপি নুরকে আটক করে। এসময় পুলিশের অতর্কিত আক্রমণে নুরকে বাঁচাতে গিয়ে আমাদের অনেকেই আহত হয়েছেন। আমি নিজেও আহত হয়েছি।

এর আগে রোববার নুরসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনের ৬ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান আল মামুনকে। ধর্ষণে সহযোগী হিসাবে ভিপি নুরকে করা হয়েছে ৩ নম্বর আসামি।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ধর্ষণ এবং এতে সহযোগিতার অভিযোগে এনে লালবাগ থানায় তাদের নামে এ মামলা করা হয়।

সোমবার গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আশরাফ উদ্দিন।

মামলার বিষয়ে ওসি বলেন, অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির এক ছাত্রী বাদী হয়ে লালবাগ থানায় মামলা করেন।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে একই বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান আল মামুন ধর্ষণ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, মামলার প্রধান আসামি হাসান আল মামুন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক। তার সঙ্গে আরও পাঁচজনকে সহযোগী হিসেবে আসামি করা হয়েছে। যাদের মধ্যে নুরুল হক নুর রয়েছেন। মামলায় ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে লালবাগের নবাবগঞ্জ এলাকা।

আসামিদের তালিকায় সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরের সঙ্গে একই সংগঠনে যুক্ত নাজমুল হাসান সোহাগ, সাইফুল ইসলাম, নাজমুল হুদা ও আবদুল্লাহ হিল বাকির নাম রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসান আল মামুন বলেন, মামলার বিষয়ে কিছুই জানি না। এমন কিছুই হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে কথা বলব।

তবে মামলার খবর গণমাধ্যমে আসার পর পরই ফেসবুক লাইভে আসেন ডাকসু ভিপি নুর। মামলার বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না এবং বাদী সেই নারীকেও তিনি চেনেন না বলে দাবি করেন ভিপি নুর। মামলাটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করছেন তিনি।

লাইভ ভিডিওতে ভিপি নুর বলেন, লালবাগ থানায় না কোথায় মামলা হয়েছে সেটি আমি জানি না। এমনকি কোন মেয়ে মামলাটি করেছে তাকেও চিনি না। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা তো নতুন কিছু নয়। এসব মামলা-হামলা ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ। আমার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা হয়েছে। চুরির মামলা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলাও হয়েছে।

 
প্রবচন ডেস্ক: মালয়েশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা আনোয়ার ইবরাহীম হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। আজ সোমবার তার ফেসবুক পাতায় আল্লামা আহমদ শফীর জন্যে শোক প্রকাশ করে তার মাগফিরাত কামনা করেন।


আনোয়ার  ইবরাহীম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আল্লামা আহমদ শফী অনেক বড় একজন আলেম হওয়ার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের কওমী মাদরাসা বোর্ডের প্রধান। তার মৃত্যু গোটা মুসলিম জাতির জন্যে অনেক বড় ক্ষতি। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিন এবং জান্নাতের উচুঁ মাকাম দান করুন।

স্টাফ রিপোর্টার: আজ ২০ সেপ্টেম্বর রবিবার রংপুরের আলেম-উলামা ও ইমাম-মুয়াযযিনগণের যৌথ উদ্দ্যোগে নগরীর সদর হাসপাতাল জামে মসজিদে বাদ আছর সদ্য প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর রুহের মাগফিরাত কামনা করে এক দোয়া-মাহফিলের আয়ােজন করা হয়। এতে উপস্থিত হয়েছিলেন রংপুর জুম্মাপাড়া মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ ইদ্রিস আলী ও নায়েবে মুহতামিম মাওলানা ইউনুস আলীসহ  রংপুরের শীর্ষস্থানীয় উলামা-মাশায়েখ ও ইমাম-খতিবগণ।


দোয়া মাহফিলে আলেমগণ বলেন, শাইখুল ইসলাম রহ. ছিলেন বাংলাদেশের কোটি জনতার হৃদয়ের স্পন্দন ও মুকুটিবিহীন সম্রাট। তিনি ছিলেন এদেশের সকল উলামায়ে কেরামের অভিভাবক এবং বাতিলের বিরুদ্ধে আপসহীন বীর সিপাহসালার। একাধারে হাদীস, তাফসির ও ফিকাহ শাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে পাণ্ডিত্য ছিল তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্য । এদেশে তাঁর অবদান অতুলনীয়। তিনি আওলাদে রাসুল আল্লামা হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর একান্ত  শাগরিদ ও খলিফা ছিলেন।


তারা বলেন, আল্লামা আহমদ শফী রহ. প্রায় চার যুগ ধরে হাদীসের দরস দিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছে তাঁর লাখ লাখ ছাত্র-শাগরিদ। তিনি ছিলেন একাধারে চট্টগ্রামের আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক, কওমী মাদরাসা শিক্ষা বাের্ড  (বেফাক) ও  আল হাইয়াতুল উলয়া-লিল জামিয়াতিল কওমীয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান।


বক্তারা আরো বলেন, আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর আহ্বানেই ২০১৩ সালে  বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ গণজমায়েত হয় ঢাকার শাপলা চত্তরে। সেসময় নাস্তিক্যবাদী সমাজের বিরুদ্ধে তাঁর এই আন্দোলন সাড়া ফেলেছিল গোটা পৃথিবীতে।

দোয়া মাহফিলের প্রধান অতিথি হাফেজ ইদ্রিস আলী বলেন, শাইখুল ইসলাম রহ. এর বিদায়ে বাংলাদেশে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা কোনদিনই পূরণ হবার নয়। আমরা উত্তরসূরী হিসেবে তাঁর রেখে যাওয়া মিশন বাস্তবায়নের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।


দোয়া-মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জুম্মাপাড়া মাদরাসার শাইখুল হাদিস মুফতি জসিম উদ্দিন, জুম্মাপাড়া সদর জামে মসজিদের খতিব  মাওলানা মাহমুদুর রহমান, দারুল আমান মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা সাইফুল ইসলাম,  মাওলানা সাইফুল ইসলাম জিহাদী,  মাওলানা আবু সাঈদ,  কারী আতাউল হক, মাওলানা কাজী হামদুল্লাহ, মাওলানা হাবীবুল্লাহ, মাওলানা নিয়ামুল হক বিপ্লবী, হাফেজ আমজাদ হােসেন, মাওলানা জোবায়ের আহমদ ও হাফেজ জয়নাল আবেদীন প্রমুখ। 


দোয়া-মাহফিলে দোয়া পরিচালনা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও জুম্মাপাড়া মাদরাসার পরিচালক হাফেজ ইদ্রিস আলী। 

 

উল্লেখ্য, শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী গত ১৮ সেপ্টম্বর  শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টা২০ মিনেটে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। পরদিন শনিবার বেলা ২টায় হাটহাজারী মাদরাসার মাঠে তাঁর জানাযা শেষে মাদরাসার প্রাতিষ্ঠানিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।



হেফাজত ইসলামের আমীর বাংলাদেশ কওমী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে। আজ শনিবার জোহরের নামাজের পর বেলা দু’টায় আল-জামিয়াতুল আহালিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।


হেফাজত ইসলামের আমীর বাংলাদেশ কওমী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে। আজ শনিবার জোহরের নামাজের পর বেলা দু’টায় আল-জামিয়াতুল আহালিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মাদ্রাসার প্রান্তর ছাড়িয়ে জানাজার সারি দীর্ঘ হয় চট্টগ্রাম- হাটহাজারী খাগড়াছড়ি- রাঙ্গামাটি মহাসড়কের প্রায় চার কিলোমিটার উত্তর দক্ষিণে। এতে প্রায় আট লক্ষের অধিক মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। হাটহাজারী মাদ্রাসার ময়দান, ঈদগা ময়দান,বাজার সড়ক, বাস স্টেশন জিরো পয়েন্ট মোড়, কলেজ গেইট, ফায়ার সার্ভিস মোড়, সরকারি মেডিকেল গেটসহ খাগড়াছড়ি রাঙ্গামাটি মহাসড়কের ওপর, বিভিন্ন বিল্ডিং এর ছাদে দাঁড়িয়ে নামাজে জানাজায় মানুষ শরিক হন।

 

দেশ-বিদেশের ও জেলার শীর্ষ আলেমরা ছাড়াও মাদ্রাসার ছাত্র এবং সাধারণ মানুষ এতে যোগ দেন। জানাজায় ইমামতি করেন আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ। অন্যদের মধ্যে যোগ দেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের এমপি সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি।


জানাজাকে ঘিরে পুরো হাটহাজারীতে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যা ব, বিজিবি মোতায়েন করা হয়। মাঠে ছিলেন সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।


জানাযার শেষে লাখো ভক্তবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধায় হাটহাজারী মাদ্রাসার ভেতরে উত্তর পাশে বায়তুল আতিক জামে মসজিদ সংলগ্ন ‘মাকবারায়ে জামেয়া’ নামক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী।


উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার আজগর আলী হসপিটালে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের সময় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দেশের শীর্ষ কওমী আলেম আল্লামা আহমদ শফীর শরীরে বাসা বেঁধেছিলো নানা রোগ। ১০৫ বছর বয়সী এ প্রবীণ আলেম ডায়াবেটিকস, উচ্চ রক্তচাপসহ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।



রাশিদুল ইসলাম


এক. শাইখুল ইসলামের সন্ধান

তখন নাহবেমীর জামাতে পড়ি। বয়সে অনেক ছোট। তাই দেশ-বিদেশের বিখ্যাত মাদরাসা ও যুগশ্রেষ্ঠ আলেম উলামা সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। গ্রামের এক ছোট্ট মাদরাসায় লেখাপড়া করতাম। এতকিছু জানার উপায়ও ছিল না। উস্তাদগণ সেসব ইতিহাস শোনালেও স্মরণ রাখতে পারতাম না। কারণ আমার বয়স কম। 


ছুটির সময় আমাদের মাদরাসায় এক সাথীর সাক্ষাত হল। সে মোবাইল থেকে একটি ছবি দেখিয়ে আমাকে বলল, ছবিটি কার বলতে পারবি? 

ছবিটি দেখে বললাম, চিনি না তো! কে ইনি? সে অবাক হয়ে বলল, ইনি হলেন বাংলাদেশের সবচে’ বড় আর সর্বপ্রথম মাদরাসা; হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা আহমদ শফী সাহেব। এ বছর আমার বড়ভাই তাঁর কাছে বুখারি শরিফ পড়ে মাওলানা হয়েছে।


তার কথাগুলো খুব মনযোগ দিয়ে শুনলাম। ভাবতে লাগলাম, ইস! আমিও যদি শাইখকে দেখতে পেতাম, আমিও তার কাছে বুখারি পড়তে পারতাম!

সাথীকে বললাম, আমিও তাঁর কাছে বুখারি শরিফ পড়বো ইনশাআল্লাহ!


দুই. শাইখুল ইসলামের সন্ধান দর্শন লাভ 

ইসলামবিরোধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-সহ ১৩ দফা দাবী নিয়ে মাঠে নেমেছে হেফাজতে ইসলাম। তখন আমি কুড়িগ্রাম জেলার অন্যতম মাদরাসা হামিচ্ছুন্নাহতে কাফিয়া পড়ি। একদিন আমাদের দরসে একজন উস্তাদ বললেন, দেশের দুই সিংহপুরুষ শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর হাতে হাত রেখে হেফাজতের ব্যানারে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। ৬ এপ্রিল ঐতিহাসি ঢাকা লংমার্চ করা হয়েছে। লংমার্চ পরবর্তী সমাবেশে দেশের প্রতিটি বিভাগেও সমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে। সেই অনুযায়ী উত্তরবঙ্গে বগুড়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ফকিহুল মিল্লাত আল্লামা মুফতী আব্দুর রহমান রহ. এর সভাপতিত্বে ২৯ এপ্রিল ২০১৩ শানে রেসালাত মহাসম্মেলনের তারিখ দেয়া হয়। এতে আমিরে হেফাজত শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী ও মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ দেশের বড় বড় উলামায়ে কেরাম যোগ দেবেন।


সংবাদটি শুনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত হই। কুড়িগ্রাম থেকে শানে রেসালাত সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিই। সবার প্রস্তুতির চেয়ে আমার প্রস্তুতিটা ছিল একটু ভিন্ন। কারণ এটাই ছিল আমার জীবনে সর্বপ্রথম কোন আন্দোলনে যোগদান। দ্বিতীয়ত প্রাণপ্রিয় শাইখদের একনজর দেখার জন্য বহুদিনের অপেক্ষা। শাইখুল ইসলামের মত আধ্যাত্মিক রাহবার; যাকে না দেখেও প্রতিদিন তাঁর প্রতি মুগ্ধতা আর ভালবাসা বেড়েই চলেছে। 


শতবাধা উপেক্ষা করে একপর্যায় আমরা মাঠে পৌঁছলাম। আল্লাহু আকবার! শাইখুল ইসলামের আহ্বানে শানে রেসালাত সম্মেলনে লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ তাওহিদী জনতার ঢল নেমেছে। পুরো ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ। আমরা কয়েকজন স্টেজের সামনে গিয়ে বসলাম। এখনো মাঠে পৌঁছেননি আমিরে হেফাজত, মহাসচিব ও ফকিহুল মিল্লাত। অপেক্ষার প্রহর গুণতে গুণতে একসময় সংবাদ এল, তাঁরা মাঠের দিকে রওনা দিয়েছেন। তাঁদের আগমন সংবাদে নারায়ে তাকবির স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠল পুরো ময়দান। তিন শায়খকে স্টেজে তোলা হল। এ সম্মেলন উপলক্ষ্যে তিন জীবন্ত আকাবিরকে জীবনে সর্বপ্রথম দেখার সৌভাগ্য হল আলহামদুলিল্লাহ।


 তিন. প্রথম বাইআত এবং তাসবিহ কথন

যেদিন শুনেছি আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফি. তাসাউফের প্রসিদ্ধ চার তরিকার পীর ও মুরশিদ সেদিন থেকেই তাঁর কাছে ‘বাইআত আলাত তাওবা’ করে আমলের মাধ্যমে জীবন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। হৃদয়ে সর্বোচ্চ সম্মানের স্থানে জায়গা দিয়েছি তাঁেক। 


কবে তাঁর সোহবত পাবো এইই ছিল ভাবনা। একদিন শুনতে পেলাম, শাইখুল ইসলাম রংপুর হাজীপাড়া মাদরাসায় মেশকাতের সমাপনী দরস দিতে আসবেন। এদিকে শাইখুল ইসলামের আগমনে আমাদের মাদরাসা থেকে দু’টি বাস রিজার্ভ করা হয়েছে। ছাত্রদেরও যাওয়ার সুযোগ আছে। আমি শুনে অত্যন্ত খুশি হলাম। ভাবলাম আজ মাহেন্দ্রক্ষণ। আজ শাইখের হাতে বাইআত হতে পারবো। 

হাজীপাড়ায় পৌঁছার কিছুক্ষণ পর শাইখ এলেন। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মুসাফাহা করা সম্ভব হয়নি। সংক্ষিপ্ত সময়ে আলেম-উলামা এবং ছাত্রদের উদ্দেশ্যে তিনি সময়োপযোগী মূল্যবান নসিহত করলেন। এরপর সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। সেদিন আর  কোন কিছুর সুযোগ হল না।


একসময় উস্তাদগণের পরামর্শে ঢাকার যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় হিদায়া জামাতে ভর্তি হলাম। আমাদের কিছু সাথী উম্মুল মাদারিস হাটহাজারীতে ভর্তি হল। তাদের সাথে যোগাযোগ রেখে শাইখের খোঁজ-খবর রাখতাম। একদিন সাথীরা ফোনে জানালো, এবার হাটহাজারী মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে সফরে আসতে পারো। মাহফিলের দিন শাইখের হাতে বাইআত হওয়ার সুযোগ মিলতে পারে। 

দারুণ উৎসাহিত হলাম। ট্রেনের দীর্ঘ সফর শেষে হাটহাজারী এলাম। মাদরাসার গেটের সামনে আসতেই মনটা জুড়িয়ে গেল। আশ্চর্যের বিষয় হল, গেট দিয়ে প্রবেশ করা মাত্রই দেখতে পেলাম, এহাতা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আমাদের প্রাণপ্রিয় শাইখ বসে আছেন। লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ মুসাফাহা করছে। আমরা আনন্দে দৌঁড়ে গিয়ে মুসাফাহার জন্য লাইনে দাঁড়ালাম। সালাম দিয়ে দু’হাত বাড়িয়ে মুসাফাহা করলাম।

এরপর আমার শাইখে সানি আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর দেখা পেলাম। দুঃখজনক কথা হল, সে সফরেও শাইখের কাছে বাইআত হওয়ার সুযোগ হল না।


বছরের শেষে একবার শুনতে পেলাম শাইখ ঢাকা ফরিদাবাদ মাদরাসায় বুখারি শরিফের আখেরি দরস দেবেন এবং বাইআত করাবেন। হয়তো এবার আল্লাহ তাআলা দিলের আশাটুকু পূরণ করবেন। মাগরিব নামায শেষে হাজার হাজার আলেম উলামা এবং ছাত্রদের নিয়ে শাইখ বুখারি শরিফের আখেরি দরস দিলেন। সবশেষে এলান করা হল, ফজরের পরে বাইআত করানো হবে। বাদ ফজর বাইআতের উদ্দেশ্যে শাইখ রুমাল বাড়িয়ে দিলে তাঁর হাতের সাথে হাত লাগিয়ে রুমাল ধরার সুযোগ হয়। বাইআত শেষে তিনটি আমলের সবক দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাদবাকি আমল কখনো হাটহাজারী গেলে আমার সাথে দেখা করে নিবেন অথবা মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সাহেবকে আমি বলে রাখবো তাঁর কাছে নিয়ে নিবেন’। আমি শাইখের সামনে বসা ছিলাম, শাইখ আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,ও মিয়া, তোমার তাসবিহ আছে ? হালকা মাথা নাড়িয়ে ক্ষীণ আওয়াজে বললাম, নেই। শাইখ বলেন, ‘এখান থেকে যাওয়ার পর একশত দানার তাসবিহ খরিদ করবেন, সকাল-সন্ধা ছয়শত বার আল্লাহর যিকির করবেন’। আমি বললাম, জী ইনশাআল্লাহ। শেষ বারের মত শাইখের সাথে মুসাফাহা করে যাত্রাবাড়ীর দিকে রওনা হলাম এবং পৌঁছেই শাইখের কথামত জীবনের প্রথম তাসবিহ ক্রয় করলাম। 


বছর শেষ হলে আসাতেযায়ে কেরামের পরামর্শে হাটহাজারীতে ভর্তি হই এবং শাইখের নিসবতে খানকায়ে মাদানীতে যথাসাধ্য সময় দেয়ার চেষ্ট করি। ২০১৮ সালে শাইখের কাছে রাসুল সা. এর ঐশী বাণী হাদিসের সর্বোচ্চ কিতাব বুখারি শরিফ ও শামায়েল তিরমিযি এবং মসনবী শরিফ দরসান পড়ার সৌভাগ্য হয়। এছাড়াও বেশকিছু কিতাবের ইজাযত পেয়ে তাঁর নগন্য শাগরিদ হওয়ার সৌভাগ্য হয়, যেটা আমার বহুদিনের সাধনা এবং জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।


শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী নিছক একটি নাম নয় একটি পরিবর্তনের ইতিহাস। তাঁর মেহনতের বদৌলতে হাজারো মানুষের অন্তরে আল্লাহর ধ্যান ও মুরাকাবার দৌলত অর্জিত হয়, যারা রাতের শেষাংশে জাগ্রত হয়ে আল্লাহ কুদরতি পায়ে সিজদায় লুটে পড়ে, যিকিরে মাশগুল হয়। তাঁর সাহসিকতায় আজ আলেম উলামা একতাবদ্ধভাবে দীনের কাজ আঞ্জাম দেয়ার হিম্মত পায়। 


লেখক, ফাজেলে দারুল উলুম হাটহাজারী


ডেস্ক:  হেফাজতে ইসলামের আমির শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর লাশবাহী গাড়ি চট্টগ্রাম-হাটহাজারী মাদ্রাসার উদ্দেশ্য রওনা হয়েছে।

১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ৪ টা ১৫ মিনিটে তাঁর মৃতদেহ বহনকৃত গাড়িটি চট্টগ্রাম-হাটহাজারীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়।


এ সময় ভক্ত-অনুরক্তরা অশ্রুসজল চোখে শেষ বিদায় জানান উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই আলেমে দ্বীনকে।


পূর্ব ওসিয়ত অনুযায়ী চট্টগামের দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজার‌ী মাদরাসায় অবস্থিত মাকবারায়ে জামেয়ায় তাঁকে দাফন করা হবে।

এর আগে শনিবার বাদ জোহর হাটহাজারী মাদরাসা প্রাঙ্গণে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.-এর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার এ সিদ্ধান্ত পরিবার ও আলেমদের সমন্বয়ে নেয়া হয়েছে।


এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। এরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।


চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা আল্লামা শফীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে শুক্রবার সন্ধ্যার আগে ঢাকায় এনে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রায় শতবর্ষী আল্লামা আহমদ শফী দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

এইজ এম জুনাঈদ: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর ও দারুল উলুম হাটহাজারীর দীর্ঘদিনের মোহতামীম শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হাটহাজারী মাদরাসার স্বনামধন্য মুহাদ্দিস ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

আজ ১৮ ই সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধায় সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় আল্লামা বাবুনগরী বলেন- আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব হুজুর আমার উস্তাদ ও মুরুব্বি ছিলেন। হুজুরের ইন্তেকালে আমি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছি।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন- আল্লামা আহমদ শফী সাহেব হুজুর তাঁর হায়াতে যে সকল দ্বীনি খিদমাত আঞ্জাম দিয়েছেন তা সকলের নিকট স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, মহান প্রভুর দরবারে আমি দুআ করি, আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল দ্বীনি খেদমতকে কবুল করুন এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন, আমিন।

হাবীব আনওয়ার: আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার সাবেক পরিচালক, বর্তমান সদরে মুহতামিম (উপদেষ্টা) ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর  শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী'র ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, মেখল হামিয়ুচ্ছুন্নাহ মাদরাসার পরিচালক ও হাটহাজারী মাদরাসার শূরা সদস্য আল্লামা নোমান ফয়জী। 

আজ ১৮ ই সেপ্টেম্বর শুক্রবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় আল্লামা নোমান ফয়জী  বলেন, শাইখুল ইসলাম  আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব হুজুর ছিলেন আমার প্রিয় উস্তাদ ও পীর।  হুজুরের ইন্তেকালে আমি মর্মহত।

আল্লামা নোমান ফয়জী বলেন, শায়খুল ইসলাম রহ. ছিলেন, বর্তমান বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা। পথহারা উম্মাহর রাহবার। লক্ষাধিক আলেমের সম্মানিত উস্তাদ।  তিনি যে সকল দ্বীনি খিদমাত আঞ্জাম দিয়েছেন তা বিশ্ববাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, ১৯৮৫ সালে তদানীন্তন জামিয়ার পরিচালক ক্বারী আল্লামা হামেদ রহ. পরলোক গমন করলে জামিয়ার মজলিসে শূরার সর্বসম্মতিক্রমে জামিয়ার পরিচালনার গুরু দায়িত্ব অর্পন করা হয়, শাইখুল হাদীস আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর উপর। দায়িত্ব অর্পিত হওয়ার পর থেকেই হযরত সুনাম ও দক্ষতার সাথে জামিয়ার অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, ছাত্র-শিক্ষকদের ইলমী-আমলী সুন্দর পরিবেশ তৈরী এবং সর্বক্ষেত্রই উন্নতি করেছেন। শুধু হাটহাজারী মাদরাসা নয়, সারাদেশের অসংখ্য মাদরাসা-মসজিদ দায়িত্বশীলতার সাথে পরিচালনা করে আসছেন। এছাড়াও সম্মিলিত কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড আল হায়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যাহ বাংলাদেশ এর সভাপতি, বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক) এর চেয়ারম্যানের গুরুদায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন। 

আল্লামা নোমান ফয়জী  মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, মহান আল্লাহ তার সকল দ্বীনি খেদমতকে কবুল করুন এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন, আমিন।

হাবীব আনওয়ার: আমীরে হেফাজত, শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ২০মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন।

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসাসূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


জানা যায় গতকাল ১৭ সেপ্টেম্বর আহমদ শফীকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে আজ বিকাল ৪ টায় তাঁকে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬ টা ২০ মিনিটে সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন।

বিশেষ প্রতিবেদক: নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে আনাস মাদানীর বহিষ্কারসহ পাঁচদফা দাবী আদায়ে গতকাল ১৬  সেপ্টেম্বর বুধবার জোহরের পর থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্রবৃন্দ।

আন্দোলনরত ছাত্রদের পক্ষ থেকে প্রচার করা লিফলেটে উল্লেখ থাকা দাবীসমূহ পর্যালোচনায় দেখা গেছে সেগুলো ন্যায্য ও যৌক্তিক। বিশেষ কোন ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর উস্কানী কিংবা প্ররোচনায় নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে জুলুম ও অন্যায় অবিচারের শিকার হওয়া প্রতিবাদী ছাত্রজনতা নিজেরাই নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে উম্মুল মাদারিস হাটহাজারী মাদরাসার সোনালী ইতিহাস ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে এবং প্রাপ্য অধিকার ফিরে পেতে মূলত এ আন্দোলন করছে।

প্রতিবাদী ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে বাধাগ্রস্ত করতে কিছু সংবাদমাধ্যম এ আন্দোলনের সাথে ব্যক্তি বিশেষকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বলা হয়, তারা যৌক্তিক এই ছাত্র আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই ব্যক্তি বিশেষের উস্কানিতে এই আন্দোলন হচ্ছে বলে ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় অপপ্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

আল্লামা আহমদ শফী বা আল্লামা বাবুনগরীর মধ্যকার দ্বন্দ্বের জের ধরে এ আন্দোলন হচ্ছে বলে যেই সংবাদ মিডিয়ায় করা হচ্ছে তা নির্জলা মিথ্যাচার ও ভিত্তিহিন দাবী করা হয়েছে। 

জানা যায়, এ আন্দোলনের সাথে আল্লামা বাবুনগরী বা তাঁর সমর্থকদের বিন্দুমাত্রও যোগসূত্র নেই। এমনকি আল্লামা বাবুনগরী এ আন্দোলনের আগে-পিছে কিছুই জানেন না। আন্দোলন শুরুর পর থেকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আল্লামা বাবুনগরী নিজ রুমে তালাবদ্ধ ছিলেন। এমনকি তাঁর মোবাইলসহ খাদেম ইন'আমুল হাসান ফারুকীর মোবাইলও জব্দ করে তাদেরকে তালাবন্ধ রাখা হয়েছিল। গতকাল ও আজকে দুপুরের খাবার তিনি সন্ধ্যায় খেয়েছেন বলে সূত্র জানায়।

ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনের কোন দায় বাবুনগরীর উপর  চাপানোর চেষ্টা হলে দেশবাসী তা মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে আল্লামা বাবুনগরীর সমর্থকরা। তারা বলছেন, যেসব মিডিয়ায় আল্লামা বাবুনগরী ও আল্লামা আহমদ শফীর মধ্যকার দ্বন্দ্বের মিথ্যা বিষয়টিকে জড়িয়ে মিথ্যাচারপূর্ণ রিপোর্ট করা হয়েছে আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সুস্পষ্ট ভাষায় বলছি, এ আন্দোলনের সাথে আল্লামা বাবুনগরীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক বা যোগসূত্র নেই। শান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই ব্যক্তি বিশেষের উপর মিথ্যা অভিযোগ তুলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেিএকটি মহল।

এ ব্যাপারে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহবান জানানো হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার: কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীর কারণে বাজার স্বাভাবিক থাকলেও  সবজির বাজারে মূল্য বৃদ্ধিতে হতাশ অনেক ক্রেতা। বাজারে অস্বাভাবিক দরপতন; মনিটরিংয়ে মাঠে নেই ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় বেশি সময় ধরে বন্যার কারণে সারাদেশে সবজির উৎপাদন নষ্ট হয়েছে। যার প্রভাবে বাজারে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। রংপুরের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হওয়া আলু, পটল, বেগুন, বরবটি, ঢেঁড়স, ঝিঙা, করলা, কাচাকলা, লাউ, পেঁপেসহ প্রায় সব ধরনের সবজির মূল্য বেড়েছে। তবে চলতি সপ্তাহে মরিচের দাম কমেছে। 

নগরীর সিটি বাজার, ষ্টেশন, কামারপাড়া, সাতমাথা, মাহিগন্জ, মিস্ত্রীপাড়া, কামালকাছনা ও শাপলাসহ বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মান ও বাজারভেদে বেগুন কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ৪৫ টাকা, পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কচুর মুখী ৫০ টাকা, কাকরোল ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা, ঢেড়স ৫০ টাকা, দুধকুষি ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

গত সপ্তাহে কাঁচামরিচের কেজি ২০০ টাকা বিক্রি হলেও চলতি সপ্তাহে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সবজির মূল্য বৃদ্ধিতে অনেক ক্রেতা কেনাকাটার পরিমান কমিয়ে দিয়েছে। নুতন করে চলতি সপ্তাহে বিভন্ন প্রকার শাকের আটির মূল্য বেড়েছে। যেখানে কয়েক সপ্তাহ শাকের ২টি আটি ১৫ টাকা করে পাওয়া যেত সেখানে চলতি সপ্তাহে প্রতি আটি ১৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির জন্য বর্ষাকেই দুষছেন ব্যবসায়ীরা। বাজার করতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান আসলে সবকিছুই কন্ট্রোলের বাইরে রয়েছে। করোনার সময় হাতের অবস্থাও ভালো নয়। এর সাথে পাল্লা দিয়ে দাম বাড়ছে। আমরা সাধারণ জনগনের নাভিশ্বাস উঠার উপক্রম।

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিগত বিএনপি সরকার ‘দুর্নীতির বিষবৃক্ষ রোপণ’ করে গেছে এবং বাংলাদেশ এখন তার ফল ভোগ করছে।


তিনি বলেন, ‘বিএনপির কাছে ক্ষমতা হলো দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা কামানোর উপায় এবং দেশ এখন তাদের পাঁচ বছরের দু:শাসন কালে রোপন করা বিষবৃক্ষের মূল্য দিচ্ছে।’


ভার্চুয়াল আলোচনায় সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার একের পর এক দুর্নীতি এবং এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করছে।


২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বর্বর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার জন্য বিএনপি জামায়াত জোটকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, হত্যাকান্ড বিএনপির অভ্যাস।

তিনি বলেন, ‘(সত্যিকারেই) হত্যাকান্ড বিএনপি’র অভ্যাস, তারা দেশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না।’


২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীতে একটি সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশে ভয়াবহ বোমা হামলার ১৬ তম বার্ষিকী পালন উপলক্ষে আজ সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করে।


প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনায় অংশ নেন।


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।


দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা দলীয় কার্যালয়ে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।


অনুষ্ঠানের শুরুতে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


২১ আগস্টের হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনীসহ ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫০০ বেশি লোক আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকেই সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছেন।


সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার অশেষ রহমতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতারা কোনরকমে প্রাণে রক্ষা পান।


সূত্র : বাসস

অনলাইন ডেস্ক: করোনা সংকটে গণপরিবহনে ৬০ শতাংশ বর্ধিত বাসভাড়া প্রত্যাহার করে আগের ভাড়া বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি।


মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবি জানান।


বিবৃতিতে বলা হয়, করোনা সংকট রয়ে গেলেও দেশে এখন কোনো গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। যেসব শর্ত অনুসরণ করে বর্ধিত ভাড়া আদায়ের কথা বলা হয়েছিল, তার কোনোটাই মানা হচ্ছে না বাসগুলোতে। সেই পুরনো কায়দায় গাদাগাদি করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। আবার এই করোনাকালে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য সরকারের বর্ধিত ৬০ শতাংশ ভাড়ার চেয়েও অধিকাংশ রুটে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এতে করোনা সংকটে কর্মহীন ও আয় কমে যাওয়া দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।


বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার যাত্রী প্রতিনিধি বাদ দিয়ে মালিকদের নিয়ে বৈঠক করে এই সংকটে জনগণের ওপর একচেটিয়াভাবে বাসের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। এ ঘোষণার পর পরই দেশব্যাপী চলাচলরত বাস-মিনিবাসের সঙ্গে লেগুনা, হিউম্যান হলার, টেম্পো, অটোরিকশা, প্যাডেলচালিত রিকশা, ইজিবাইক, নসিমন-করিমন, টেক্সিক্যাবসহ সব যানবাহনের ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। এতে যাত্রীস্বার্থ চরমভাবে উপেক্ষিত হয়।


বিবৃতিতে অনতিবিলম্বে স্বাস্থ্যবিধির নামে গণপরিবহনের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করে দেশের প্রতিটি রুটে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানানো হয়। 

হাটহাজারী মাদরাসা (ফাইল ছবি)

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে ভর্তি শুরু করছে চট্টগ্রাম দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসা।


আজ মঙ্গলবার দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম, পীরে কামেল আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফি. স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এতদ্বারা সকল ছাত্রদের অবগতির জন্য জানানাে যাচ্ছে, আগামী ২২ জিলহজ ১৪৪১ হি. মােতাবেক ১৩ আগস্ট ২০২০ রােজ বৃহস্পতিবার হইতে অত্র জামিয়ার সকল বিভাগের ভর্তি কার্যক্রম আরম্ভ হয়ে ২৩ আগস্ট ২০২০ পর্যন্ত চলবে ইনশাআল্লাহ।


উল্লেখ্য, ১৩ আগস্ট হতে সকল ছাত্রদেরকে জামিয়ার ছাত্রাবাসে সিট প্রদান করা হবে। বিঃদ্রঃ অনলাইনে আবেদনকারী ছাত্ররাও উক্ত তারিখের মধ্যেই স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ভর্তি সংক্রান্ত অবশিষ্ট কার্যাদি সম্পন্ন করার জন্য অনুরােধ রইল।

জয়নাল আবেদীন: নীলফামারীর ডোমারে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে নদী ভাঙ্গন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (৫আগষ্ট) বিকালে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের ধনীপাড়া গ্রামে এ বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। এ সময় হরিণচড়া ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ১০টি পরিবারের মাঝে ৩ হাজার ৫শ টাকা করে মোট ৩৫ হাজার টাকা এবং ১৮ টি পরিবারের মাঝে ২ হাজার টাকা করে মোট ৩৬ হাজার টাকাসহ ১টি মসজিদে ১৪ হাজার টাকা বিতরণ করেন তিনি।

এ সময় রংপুর জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ওয়ায়েজ মাও. মাহামুদুর রহমান, সংগঠক মুফতি আলহাজ্ব মাহমুদ বিন আলম, গোলাম আরশাদ, মাষ্টার তাজুল ইসলাম, যুব জমিয়ত ডোমার উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ন মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও তার ছোট ভাই আমেরিকা প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার জাহিদুল ইসলাম মুন।

এ ছাড়াও গত ঈদুল আযহার দিনে স্থানীয় ৩ শতাধীক গরীব ও দুস্থদের মাঝে কোরবানীর গোস্ত বিতরণের ব্যবস্থা করেন এবং ১৩টি ইউনিয়নে ১৩টি খাসি দলীয় কর্মীদের মাধ্যমে কোরবানী করিয়ে অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, মহামারী করোনার কারনে দোকান পাট বন্ধ হয়ে মানুষ যখন কর্মহীন হয়ে পড়েছে সে সময় ডোমার-ডিমলা এলাকায় ৫ দফায় প্রায় ৩ হাজার পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, চিনি , আটা ও লবনসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন বলে দলের মহাসচিব জানান।

আব্দুল্লাহ আল মাসনুন:বাংলাদেশের ক্ষণজন্মা একজন মহামনীষী হচ্ছেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর অকুতোভয়-সৎসাহসী ও বীর কাণ্ডারী এই আলেমে দ্বীন একটি ঐতিহ্যময় ও ইলমী-দ্বীনী পরিবারের একজন সুসন্তান। উনার পরিবারের সুখ্যাতি ও  বংশ মর্যাদা পুরো দেশ জুড়ে সমাদৃত এবং মানুষের কাছে গৌরবান্বিত।  পারিবারিক  সিলসিলায় আল্লামা বাবুনগরী অত্যন্ত প্রখর মেধা এবং বিরল প্রতিভার অধিকারী একজন স্বনামধন্য মুহাদ্দিস। 

ইলম, আমল, তাযকিয়া, আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া এবং ন্যায়নীতির অনন্য উচ্চশিখরে অধিষ্ঠিত আছেন আল্লামা বাবুনগরী।

দেশ ও জাতির সত্যিকারের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী এবং মিল্লাতে ইসলামিয়ার একজন পরম হিতাকাঙ্ক্ষী আলেম আল্লামা বাবুনগরী। উনি আজীবন সত্য ও ন্যায়ের পথে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর বৃহৎ স্বার্থে উনি প্রতিনিয়ত নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে আসছেন। উনি সবসময় উম্মাহর কল্যাণ কামনা করেন। যে দিকে ইসলামের বৃহৎ স্বার্থ রয়েছে, উনি সেদিকেই ধাবিত থাকেন। কখনোই তিনি নিজের স্বার্থ দেখেন না, সর্বদা পদ-পদবি ও জাগতিক মোহ থেকে নিজেকে বিরত রাখেন৷ দুনিয়াবি চাকচিক্য ও লোভ-লালসা উনার অন্তরে কখনোই প্রভাব ফেলতে পারে না। 

আল্লামা বাবুনগরীর অতীত ইতিহাস ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করার অসংখ্য ঘটনায় ভরপুর। উনার জীবনের প্রতিটি প্রহর কেটেছে দ্বীন ও মিল্লাতের খেদমতে। উনি নিজেকে সদা নিয়োজিত রেখেছেন ইসলামের সুমহান খাদেম হিসেবে। কর্মজীবনে ব্যস্ত রয়েছেন ইলমে হাদীসসহ অন্যান্য শরয়ী জ্ঞানের পাঠদানে। বিশেষভাবে তিনি ইলমে হাদীস ও উলুমে হাদীসের উপর গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা ইউসুফ বান্নুরী রাহ. এর সান্নিধ্যে।  বয়ান-বক্তৃতা ও কাব্য-প্রবন্ধসহ বিভিন্ন লেখালেখির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ইসলামের বার্তা মানুষের সমাজে তুলে ধরছেন এবং তাগুত-বাতিলের যাবতীয় অপতৎপরতার জবাব দিয়ে আসছেন। 

আল্লামা বাবুনগরী কখনোই কোনো বাতিলের সাথে আপোষ করেন না। হক কথা বলতে এবং সত্য উচ্চারণ কর‍তে উনি আপোষহীন। শিরক-বিদআত, কাদিয়ানি ও দুশমনে সাহাবাসহ নাস্তিক্যবাদী অপশক্তির সমুহ কুযুক্তি ও অপব্যাখ্যার দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে আসছেন তিনি৷ দেশের স্বাধীনতা এবং দেশের শান্তি টিকিয়ে রাখার জন্য, দেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার পূর্ণরূপে আদায়ের জন্য আল্লামা বাবুনগরী সদাসর্বদা সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করে আসছেন৷ উনি একজন দেশপ্রিয় বাঙালি নাগরিক। উনি প্রিয় মাতৃভূমির একজন পরম শুভাকাঙ্ক্ষী। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উনি খুবই তৎপর থাকেন। 

আল্লামা বাবুনগরীর হৃদয় অত্যন্ত প্রশস্ত।  উনি সাময়িক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কৌশলগত কারণে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। উনার চিন্তার প্রখরতা অনেক গভীর৷ উনি স্বপ্ন দেখেন ইসলামি খেলাফতের৷ উনি আজীবন সংগ্রাম করে আসছেন আল্লাহর যমীনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য। ইসলাম বিরোধী সকল অপতৎপরতা এবং তাগুতশক্তির যাবতীয় চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়ে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করে শান্তি-সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করতে চান তিনি। বৃহৎ এ স্বার্থের জন্য তিনি অনেক ক্ষুদ্র স্বার্থ কুরবানি দিয়ে আসছেন। জেল-জুলুম, শারিরীক  নির্যাতন এবং মানসিক নিপীড়ন সহ্য করে আসছেন গত এক দশক ধরে৷ 

এই দেশের ইসলামপ্রিয় তাওহিদী জনতার আশা এবং আস্থার প্রতীক হচ্ছেন আল্লামা বাবুনগরী। ঈমানদীপ্ত তারুণ্যের আশাজাগানিয়া কাণ্ডারী এই আলেমে দ্বীন সত্য ও ন্যায়ের পথে সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। কখনো কোনো কারণে নিরাশ কিংবা হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তিনি ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বৃহৎ স্বার্থে এবং মাদ্রাসায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ভিডিওবার্তায় অংশগ্রহণ করেছেন। কারো ভুল বুঝাবুঝি যেন না হয়।  উনার ইসলামী চেতনা ও তাগুতের মোকাবেলায় দৃঢ় মনোভাব ছিল, আছে এবং থাকবে ইনশাআল্লাহ।

ভিডিওবার্তায় অংশগ্রহণ ছিল একটি সাময়িক সিদ্ধান্ত। আল্লামা বাবুনগরী উনার আদর্শ ও চেতনা থেকে সরে আসেন নি৷ 
আকাবির-আসলাফের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি আল্লামা বাবুনগরী নিজের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। জুলুম ও নির্যাতন উনার উপর অতীতেও চালানো হয়েছে, উনি দমে যান নি। বরং উনার প্রতিবাদী কণ্ঠ আরো বেগবান হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আজীবন উনার তেজস্বী চেতনা এবং উচ্চকণ্ঠ আরও প্রসারিত হবে। বাতিলের হৃদপিণ্ড কাঁপিয়ে দেবে উনার সাহসী পদক্ষেপ। বিজাতীয় দুশমন ও স্বজাতীয় গাদ্দার মুনাফেকদের কোনো ষড়যন্ত্র আল্লামা বাবুনগরীর অভিযাত্রা রুখতে পারবে না। 


ফাজেল: দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসা।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget