Latest Post

রেডজোন রাজাবাজার রাত ১২ টার পরে লকডাউন
কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে যে তিনটি জোনে ভাগ করা হচ্ছে, তার মধ্যে লাল জোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

এছাড়া গত ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে যেভাবে অফিস চলছে, হলুদ ও সবুজ জোনে অবস্থিত অফিসগুলো ১৬ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেভাবেই চলবে জানিয়ে সোমবার আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রথমে লাল ও হলুদ জোনে সাধারণ ছুটি থাকবে বলে জানালেও রাতে আদেশ সংশোধন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, “লাল অঞ্চলে অবস্থিত সামরিক বা অ-সামরিক সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বয়ত্তশাসিত বা বেসরকারি দপ্তরগুলো এবং বসবাসকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

“হলুদ ও সবুজ অঞ্চলে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এব বেসরকারি অফিস নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে।”

সীমিত পরিসরে অফিস খোলা থাকার সময় অর্থাৎ, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের গণপরিবহনও চলাচল করতে পারবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে বলা হয়, “অনুমোদিত অঞ্চলে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহণ, যাত্রীবাহী নৌযান, রেল ও বিমান চলাচল করতে পারবে; তবে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।”

গত ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটির সময় সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়। ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে অফিস খুলে দিয়ে এই সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহণ চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার।

সীমিত পরিসরে অফিস চালু রাখার ওই সিদ্ধান্তের মেয়াদ নতুন করে ১৬ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি ওই সময় পর্যন্ত গণপরিবহন চালানোরও অনুমতি দেওয়া হল।

বিধি-নিষেধ

 সীমিত আকারে অফিস, যানবাহন খোলা থাকলেও যেসব ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে, তা ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটি এ নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

 রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (প্রয়োজনীয় ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, ওষুধ কেনা, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না; বাইরে চলাচলের সময় অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এ নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 বিধিনিষেধের সময়ে জনসাধারণ এবং সব কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই স্থাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশাবলি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

 হাটবাজার, দোকান-পাটে কেনাবেচার পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিংমলে আসা যানবাহনগুলোকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। বাজার, দোকানপাট এবং শপিংমলগুলো বিকাল ৪টার মধ্যে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

 আইনশৃঙ্খলা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাজে নিয়োজিত সংস্থা এবং জরুরি পরিষেবা যেমন- ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা-বহির্ভুত থাকবে।

 সড়ক ও নৌপথে সকল প্রকার পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাক, লরি, কার্গো ভেসেল চলাচল অব্যাহত থাকবে।

 কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্প পণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচা বাজার, খাবার, ঔষধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হবে না।

 চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী এবং ঔষধসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যম (ইলেকট্রনিক ও প্রিন্টি মিডিয়া) এবং কেবল টিভি নেটওয়ার্কে নিয়োজিত কর্মীরা এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবেন।

 ঔষধশিল্প, উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্পসহ সকল কলকারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে চালু রাখতে পারবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ প্রণীত ‘বিভিন্ন শিল্প কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

 নিষেধাজ্ঞাকালে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। তবে অনলাইন কোর্স/ডিস্টেন্স লার্নিং অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশাসনকি কার্যাবলি চালাতে পারবে।

➠ অঞ্চলভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

 অনুমোদিত অঞ্চলে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান, রেল ও বিমান চলাচল করতে পারবে; তবে মাস্ক পরা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

➠ সকল প্রকার সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত ও অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ থাকবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুশাসন ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদগুলোতে জামাতে নামাজ আদায় এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসানালয়ে প্রার্থনা করা যাবে।

➠ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রণীত ‘বাংলাদেশ রিস্ক জোন-বেইজড কোভিড-১৯ কনটেইনমেন্ট ইপ্লিমেন্টেশন স্ট্র্যাটিজি/গাইড অনুসরণ করে কর্তৃপক্ষ লাল অঞ্চল (রেড জোন), হলুদ অঞ্চল (ইয়োলো জেন) ও সবুজ অঞ্চল (গ্রিন জোন) হিসেবে ভাগ করে জেলা/উপজেলা/এলাকা/বাড়ি/মহল্লাভিত্তিক জন চলাচল/জীবনযাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি জোনের জন্য কোভিড নমুনা পরীক্ষা, কোভিড-ননকোভিড স্বাস্থ্যসেবা প্রোটোকল, কোয়ারেন্টিনন/আইসোলেশন, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, জন চলাচল, যান চলাচল, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, খাবার ও ওষুধ সরবরাহ, দরিদ্র লোকদের জন্য মানবিক সহায়তা, মসজিদ-মন্দির অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ধর্মচর্চা, জনসচেতনতা তৈরি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ব্যাংকিং সুবিধাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান/শিল্প প্রতিষ্ঠান/ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

➠ সিটি করপোরেশন এলাকায় অঞ্চলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার সার্বিক দায়িত্ব থাকবে সিটি করপোরেশনের। সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে জেলা প্রশাসন সার্বিক সমন্বয় করবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা/উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। এ কার্যক্রমে সংসদ সদস্যরাসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ স্বেচ্ছাসেবীসহ অন্যান্যদেরকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

➠ লাল অঞ্চলে অবস্থিত সামরিক বা অ-সামরিক সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি দপ্তরগুলো এবং বসবাসকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

➠ হলুদ ও সবুজ অঞ্চলে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসগুলো নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এ নিষেধাজ্ঞাকালে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। ঝুঁকিপূর্ণ, অসুস্থ কর্মচারী এবং অন্ত্বঃসত্তা নারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে জারি করা ১২ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্র ছাড়া সব সভা ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আয়োজন করতে হবে।

অবশেষে ভারতীয় দূতাবাসের দুই কর্মীকে ছেড়ে দিল পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অবশেষে দিনভর নানা নাটকীয়তা শেষে ভারতীয় দূতাবাসের আটক ২ কর্মীকে ছেড়ে দিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার সকালে পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাসের দুই কর্মীর নিখোঁজ হওয়ার খবর চাউর হয়।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে ইসলামাবাদ বিমানবন্দর যাওয়ার পথে ভারতীয় দূতাবাসের ওই দুই কর্মীর গাড়ি আটক করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।

তাদের বিরুদ্ধে 'হিট অ্যান রান কেস' দেওয়া হয়। দুপুরে তাদের আটকের কথা স্বীকার করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দুই কর্মীকে আটকের খবর পাওয়ার পরই দিল্লিতে পাক হাই কমিশনের চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স সৈয়দ হায়দার শাহকে ডেকে পাঠায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ করা হয়।

জানিয়ে দেওয়া হয়, আটক ২ কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ বা হেনস্থা করা যাবে না। তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পাকিস্তানকেই নিতে হবে।

এরপর জানা যায়, গতকাল বিকালে ইসলামাবাদ হাই কমিশনে ফিরে এসেছেন ওই ২ কর্মী।

এর আগে গত ১ জুন দিল্লিতে পাক হাই কমিশনের ২ কর্মীকে আটক করে ভারত পুলিশ। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাদের আটক করে। সেইসঙ্গে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর থেকেই থেকেই দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। 

-জি নিউজ

করোনার নমুনা সংগ্রহে অস্থায়ী ক্যাম্প পরিচালনা করছে রংপুর সিটি কর্পোরেশন
প্রবচন: রংপুরে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় সাধারণ মানুষের উৎসাহ বেড়েছে। তাই চাপ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। রংপুর মহানগরীর সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে নভেল করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহে অস্থায়ী ক্যাম্প পরিচালনা শুরু করেছে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার (১৫ জুন) নগরীর ইঞ্জিনিয়ারপাড়াস্থ বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নভেল করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহে অস্থায়ী ক্যাম্পে নমুনা দিতে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। নমুনা সংগ্রহের প্রথম দিনে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাধারণ মানুষ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যবৃন্দ নমুনা প্রদান করেন। আর এই নমুনা রংপুর সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের চুক্তিভিত্তিক ল্যাব টেকনিশিয়ান দিয়ে নমুনা গ্রহণ হচ্ছে।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা সাংবাদিকদের জানান, দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে একমাত্র রংপুর সিটি কর্পোরেশন বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছে। কিন্তু পরীক্ষায় বিলম্বের কারণে এ ভাইরাস দ্রুত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়াচ্ছে। রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় ১০লাখ মানুষের বসবাস। নগরবাসীর সুবিধার্থে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। নমুনা প্রদানে মানুষের আগ্রহ যেভাবে বেড়েছে, এতে কমপক্ষে আরো দু’তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করা প্রয়োজন। সেই তুলনায় জনবল দক্ষ টেকনিশিয়ান রংপুর সিটি কর্পোরেশনে নেই। রেড জোন রংপুরের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আরো দু’টি নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাব স্থাপন করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান তাজ জানান, রংপুর নগরীতে ভয়াবহ অবস্থা, কিন্তু আমরা অসহায়। আমাকে মাত্র ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ২০টি পুরাতন রোগী এবং নতুন ২০টি রোগী।

করোনা প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষাবিদ ফখরুল আনাম বেঞ্জুসহ সাধারণ মানুষ রংপুর সিটি মেয়রের এ উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ক্যাম্প স্থাপন করে নমুনা সংগ্রহ করার এই উদ্যোগ অত্যন্ত মহৎ কাজ। রংপুর মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনে নমুনা পরীক্ষার জন্য দুটি ল্যাব স্থাপন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রবচন ডেস্ক: রাজধানীতে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায় মিলছে করোনার নেগেটিভ কিংবা পজিটিভের জাল সনদ। রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে এমনি এক প্রতারক চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশের এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

সোমবার (১৫ মে) সকালে উত্তর মুগদা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে র‍্যাব-৩ এর একটি দল। এসময় বিপুল পরিমাণ ভুয়া সনদ ও সনদ তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

করোনায় মহামারিতে যখন অসহায় নগরবাসী, তখন ফায়দা লুটতে ব্যস্ত কিছু মানুষ। মুগদা এলাকায় ছোট্ট একটি স্টুডিও। যেখানে চলে ফটোকপির কাজও। এরই আড়ালে চলছে, করোনা পরীক্ষার জাল সনদ বেচাকেনার রমরমা ব্যবসা।

মাত্র পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকায়, নেগেটিভ কিংবা পজিটিভ ফলের সনদ দিচ্ছিলেন দোকানের ৪ কর্মী। খবর পেয়ে আজ সোমবার অভিযান চালায় র‍্যাব। গ্রেপ্তার করে তাদের।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব-৩ এর অতিরিক্ত এসপি ফাইজুল ইসলাম বলেন, চক্রটি মুগদা হাসপাতাল থেকে দেয়া করোনা রোগীর করোনা পজিটিভ রিপোর্টের কপি সংগ্রহ করে তা স্ক্যান করে সেখানে নাম বসিয়ে বিক্রি করছে। যাদের নেগেটিভ রিপোর্ট দরকার তাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভুয়া করোনার সনদ তৈরি করে বিক্রি করে আসছিল।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিকেলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে বলে র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ৪ জুন করোনা নেগেটিভের জাল সনদ বিক্রির দায়ে সাভার থেকে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়।

এদের মধ্যে সাঈদ মিয়া নামে এক যুবক সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদার স্বাক্ষর ও সিল জাল করে করোনা পরীক্ষার ভুয়া প্রত্যয়নপত্র বিক্রি করছিলেন।

এ ঘটনায় সাঈদ মিয়া ও তার সহযোগীকে পুলিশে সোপর্দ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে মালয়েশিয়ায় করোনার নেগেটিভ রিপোর্টের জাল সনদ বিক্রির ঘটনায় দুই দফায় মোট ৫ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ।

প্রিয় | ইন্টারনেট লাইফ
প্রবচন ডেস্ক: চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩০ জুলাই চলতি বছরের পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর হজ পালিত হবে কি না, সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সৌদি আরব। তবে এরই মধ্যে বিশ্বের সাতটি দেশ এ বছর হজে অংশ নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।

গতকাল রোববার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অন্তত সাতটি দেশ চলতি বছরের হজযাত্রা বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। সর্ব প্রথম এই ঘোষণা দেয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম প্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়া। একই কথা জানিয়েছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং ব্রুনাই। আর সর্বশেষ এই কথা জানিয়েছে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

হজ পালনে নাগরিকদের অনুমতি দেবে না বলে এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছে দেশগুলোর সরকার। এ ছাড়া আরো বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে হজযাত্রা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, হজ নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে সারা পৃথিবীর মুসলমানদের যেমন একটা চাপ আছে, তেমনি সৌদি আরব নিজেও প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছে একটা পরিষ্কার সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে। দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনেকেই এ বছর হজ বাতিল করার পক্ষে।

তবে সবদিক বিবেচনায় করোনাভাইরাসের টালমাটাল অবস্থার মধ্যেও সীমিত আকারে হজ আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করছে সৌদি সরকার। প্রতিটি দেশ থেকে নির্দিষ্ট কোটার ২০ শতাংশ মুসল্লিকে বিশেষ ব্যবস্থায় উড়িয়ে নেয়া হবে।

সেজন্য চলতি বছরের হজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে সৌদি সরকার। দফায় দফায় বৈঠক করেও তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছিলেন না। বিশেষজ্ঞরাও দুই ভাগে ভাগ হয়ে যান, এক দল হজ অনুষ্ঠানের পক্ষে এবং আরেক দল বিপক্ষে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, বেশ কিছু দিক বিবেচনায় নিয়ে খুব সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি ভাবছে সৌদি সরকার। হজের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত দুটি প্রস্তাব বিবেচনায় রাখা হয়েছে। একটি হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত সংখ্যক মুসল্লি নিয়ে হজ আয়োজন করা। অন্যটি হচ্ছে, হজ বাতিল করা হতে পারে।

দুটি প্রস্তাব নিয়েই বর্তমানে আলোচনা চলছে। তবে মুসল্লিদের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়েই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী দুই একদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।


হাবীব আনওয়ার: করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অবনতির  কারণে, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেখল  হামিউচ্ছুন্নাহ মাদরাসার ছুটি বাড়লো আগস্টের ৮ তারিখ পর্যন্ত। 

আজ ১৫ জুন সোমবার মাদরাসার পরিচালক আল্লামা নোমান ফয়জী'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মাদরাসার সকল উস্তাদ উপস্থিত ছিলেন।

মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক ও সহকারী হল সুপার মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী তাঁর ফেসবুক পোস্ট বলেন, ঐতিহ্যবাহী মেখল হামিয়ুচ্ছুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪১/৪২ হি. ২০২০/২১ ইংরেজি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি ইচ্ছুক সকল ছাত্রদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আজ ১৫ জুন জামিয়ার সকল শিক্ষকদের এক জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে  নিম্ন লিখিত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় :
১/ আগামী ১৮ ই জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরি মোতাবেক ৮ ই আগষ্ট ২০২০ ইং শনিবার জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল খোলা হবে। এবং আবাসিক ছাত্রদের সিট দেওয়া হবে।
২/ ৯ ই আগষ্ট ২০২০ রবিবার মাদ্রাসার ভর্তি আরম্ভ হবে। 
৩/ মাদরাসা খোলার আগে  কোন ছাত্রকে  মাদ্রাসায় উপস্থিত হতে নিষেধ করা হয়েছে।

মাওলানা ফয়জী প্রবচন মিডিয়াকে বলেন, দীর্ঘ সময় এই ছুটি যদিও ছাত্রদের জন্য ক্ষতি তবুও আমরা পরিস্থিতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। তবে আমরা ছাত্রদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি,  নিজ ভবিষ্যতের জন্য নিজের অবস্থানে থেকে পড়াশোনায় নিয়জিত থাবেন। মুফতী আজম ফয়জুল্লাহ রহ. এর লিখিত নিজামুল আওকাত অনুযায়ী সময়গুলো অতিবাহিত করবেন। এবং বিশ্বিক মহামারি থেকে বাঁচার জন্য, নামাজ, রোজার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে রোনাজারি করুন।


ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। 

আজ ১৪ ই জুন রবিবার সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় আল্লামা বাবুনগরী বলেন,ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ একজন উদার মনের মানুষ ছিলেন। মসজিদ- মাদরাসা ও  ওলামায়ে কেরামের সাথে ছিলো তাঁর সুসম্পর্ক। ওলামায়ে কেরামকে তিনি অনেক বেশি ইজ্জত সম্মান ও মুহাব্বত করতেন। ওলামায়ে কেরামের প্রতি তিনি ছিলেন যথেষ্ট আন্তরিক। 

তার জীবনী থেকে জানা যায়,গওহরডাঙ্গা মাদরাসায় পবিত্র কোরআন হেফজের মাধ্যমে তিনি তার শিক্ষাজীবন শুরু করেছিলেন। মুজাহিদে আযম খ্যাত আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহির সাথে তিনি সুসম্পর্ক রাখতেন।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন,ইসলাম,
মুসলমান,ওলামায়ে কেরাম ও মাদারিসে কওমীয়ার জন্য তিনি যেসব কল্যাণের কাজ করেছেন মহান প্রভুর দরবারে এর উত্তম বিনিময় পাবেন।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, মহান প্রভুর দরবারে আমি দুআ করি, আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল দ্বীনি খেদমতকে কবুল করুন এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে জান্নাত দান করুন,আমিন।

দেশে করোনায় নতুন ৩১৪১ জন শনাক্ত
প্রবচন ডেস্ক: বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩,১৪১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের। গতকাল শনিবারের চেয়ে আজ রবিবার ২৮৫ জন বেশি শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল শনাক্ত হয়েছিলেন ২,৮৫৬ জন। এনিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখা দাঁড়ালো ৮৭,৫২০ জন।

আজ রবিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

অনলাইন বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪,৫০৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে সকলের প্রতি আহবান জানানো হয়।

দেশে নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
প্রবচন ডেস্ক: গত রাতে মারা যাওয়া ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি হলেন বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার প্রথম কোনো সদস্য, যিনি কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত থাকা অবস্থায় মারা যান।

মারা যাওয়ার পর ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিলো। রবিবার সকালে রিপোর্ট পাওয়া যায়। যেখানে পিসিআর টেস্টে তার করোনা ধরা পড়ে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর গণসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তার মৃত্যু ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

শেখ আবদুল্লাহ টেকনোক্র্যাট হিসেবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে এখন গোপালগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ১৯৪৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার মধুমতী নদীর তীরবর্তী কেকানিয়া গ্রামের জন্মগ্রহণ করেন শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

তার বাবার নাম মতিউর রহমান এবং মা রাবেয়া খাতুন। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। স্থানীয় গওহরডাঙ্গা হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পবিত্র কোরআন হেফজের মাধ্যমে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। এরপর একই মাদ্রাসায় কওমি ধারায় পড়াশোনা করেন।

১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমকম এবং ১৯৭৪ সালে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। এরপর ১৯৭৭ সালে ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্ট মুজিব বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যোগ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

প্রবচন ডেস্ক: দেশের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী সুজানা জাফর। কয়েক বছর ধরে একজন ব্যবসায়ী হিসেবেও সুপরিচিত তিনি। পাশাপাশি একজন সমাজ সচেতন মানুষ হিসেবেও সমাদৃত।

বছর জুড়েই এতিম ও বৃদ্ধদের জন্য নানারকম উদ্যোগ থাকে তার। করোনা পরিস্থিতিতেও বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা ইউনিয়নের পাড়াগাঁও এলাকার এক বৃদ্ধার দায়িত্ব নিয়েছেন।

এবার নতুন খবর হলো অভিনয় শোবিজ জগত ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিলেন লাক্স ফটো-সুন্দরী মডেল ও অভিনেত্রী সুজানা জাফর। শোবিজ ছেলে ধর্মে-কর্মে মন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

২০১৮ সালের নভেম্বরে ওমরাহ হজ পালন করেন সুজানা। গত তিন মাস হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে নিয়মিত কোরআন, হাদিস পড়েছেন। আর ধীরে ধীরে নাকি বদলে গেছে তার মন। এমনটাই জানান তিনি।

সুজানা বলেন, ‘গত ৩ মাসে কোরআন, হাদিস থেকে যা শিখেছি সেখান থেকে আমি যে শান্তি পেয়েছি, তা আগে কখনই পাইনি। আমার মন থেকে মিডিয়ায় কাজের ইচ্ছে নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আমি মিডিয়াতে আর কাজ করবো না।’

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে মডেলিং এর মাধ্যমে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু করেন সুজানা জাফর। ২০০৩ সালে তিনি লাক্স ফটোসুন্দরী খেতাব পান। এরপর অনেক বিজ্ঞাপন, মিউজিক ভিডিও, নাটকে তার দেখা মিলেছে। গত ৩ বছর ধরে মিডিয়াতে অনিয়মিত সুজানা। বর্তমানে বুটিক্স ব্যবসা করছেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ মারা গেছেন
প্রবচন ডেস্ক: ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার ‍মৃত্যু হয়। প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব শেখ নাজমুল হক সৈকত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এর আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শনিবার রাত ১০টায় সিএমএইচ এর আইসিউতে ভর্তি করা হয় তাকে। পরে তার অবস্থার অবনতি ঘটে।

শেখ আব্দুল্লাহ ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ ১৯৪৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতী নদীর তীরবর্তী কেকানিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শেখ মো. মতিউর রহমান এবং মাতা মোসাম্মৎ রাবেয়া খাতুন। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

শেখ মো. আব্দুল্লাহ স্থানীয় গওহরডাঙ্গা হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে কোরআনে হেফজের মাধ্যমে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। এরপর একই মাদ্রাসার কওমি ধারায় পড়াশোনা করেন। ১৯৬১ সালে মেট্রিক, ১৯৬৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৬৬ সালে বি কম (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে এম কম এবং ১৯৭৪ সালে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৭ সালে ঢাকা সেন্ট্রাল ‘ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রিও নেন শেখ আব্দুল্লাহ।

শিক্ষা জীবন শেষে সুলতানশাহী কেকানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে আইনজীবী হিসেবে গোপালগঞ্জ জজ কোর্ট ও ঢাকা জজ কোর্টে প্র্যাকটিস করেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করে ছাত্রজীবনেই রাজনীতির সাথে যুক্ত হন আব্দুল্লাহ। যুব লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে তিনি আওয়ামী যুব লীগে যোগ দেন। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী যুব লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিরও দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এরপর কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালে মুজিব বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে রাজনীতিতে ঝুঁকে পড়েন শেখ আব্দুল্লাহ। দীর্ঘদিন গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ আওয়ামী লীগের বিগত কেন্দ্রীয় কমিটিতে ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

ছেলে তানভীর জানালেন: মারা গেছেন নাসিম
প্রবচন ডেস্ক: সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ শনিবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে তাঁর মৃত্যুর কথা ঘোষণা করা হয়। টানা দুই সপ্তাহ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে চলে গেলেন তিনি। রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।

হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বেলা ১১টা ১০ মিনিটে নাসিমের মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রক্তচাপজনিত সমস্যা নিয়ে ১ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। ওই দিনই তাঁর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ৪ জুন তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ৫ জুন ভোরে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়। এরপর দুই দফায় ৭২ ঘণ্টায় করে পর্যবেক্ষণে রাখে মেডিকেল বোর্ড। এর মধ্যেই পরপর তিনবার নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি তাঁর শরীরে।

কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকলেও গত বৃহস্পতিবার রক্তচাপ অস্বাভাবিক ওঠানামা করতে থাকে নাসিমের। এরপর গতকাল শুক্রবার পরিস্থিতি আরও জটিল হতে থাকে। হৃদ্‌যন্ত্রে জটিলতা দেখা দেয়।

মোহাম্মদ নাসিমের বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারের অভ্যন্তরে নিহত জাতীয় চার নেতার একজন এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম। তিনি সংসদে পঞ্চমবারের মতো সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন।

মোহাম্মদ নাসিম বর্তমান সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মুখপাত্রও তিনি।

২০১৪ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মোহাম্মদ নাসিম। এর আগে ১৯৯৬-২০০১ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।


মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী   
চট্টগ্রাম উত্তর জেলার মীরস্বরাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম শিক্ষা কেন্দ্র আবুরহাট মুনিরুল ইসলাম মাদ্রাসার মহান স্থপতি বিশ্ব বরেণ্য আলেমেদ্বীন হযরত মাওলানা গাজী এলাহী বখশ সাহেবের চতুর্থ সাহেবযাদা অত্র মাদরাসার স্বনামধন্য মুহতামিম হযরত মাওলানা নুরুল হুদা সাহেব
১৯৩৭ ইংরেজি সনে মীরস্বরাই থানার মুরাদপুর গ্ৰামে জন্ম গ্ৰহন করেন।
১৯৪২ সনে তাঁর পিতা মাওঃ এলাহি বখশ (রাহ) ইন্তেকাল করলে তিনি পাঁচ বৎসর বয়সে পিতা হারা হয়ে যান এবং এতীম হয়ে পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে যান তাঁর নানার বাড়ি মীরস্বরাই ছদমারদিঘী এলাকায় হওয়ার সুবাদে তিনি
ছদমারদিঘী প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া করেন এবং তাঁর আপন মামা মাওঃ সুলতান আহমদ খান (ফাযিলে দারুল উলুম দেওবন্দ) থেকে কায়দায়ে বোগদাদী ,আমপারা এবং বিশুদ্ধ কুরাআনের শিক্ষা গ্ৰহন করেন অতঃপর ১৯৪৪ সনে আবুরহাট মুনিরুল ইসলাম মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন এবং উর্দু,ফার্সি, আরবী ব‍্যকরণ সহ জামাতে শশম পর্যন্ত আবুরহাট মাদরাসায় লেখাপড়া করেন। অতঃপর দক্ষিণ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া কোদালা মাদরাসায় এক বছর, জামেয়া ইসলামিয়া জমিরিয়া কাসিমুল উলূম পটিয়া মাদরাসায় এক বছর লেখাপড়া করে ১৯৬২-৬৩ ইংরেজী সনে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম চাক্তাই মিয়াখাঁ নগর মোজাহিরুল উলূম মাদরাসায় মিশকাত জামাত ও দাওরা তথা উলা ও টাইটেল জামাত শেষ করে লেখাপড়ার সমাপ্তি টানেন।মোজাহিরুল উলূম মাদরাসায় দাওরায়ে হাদিস পাশ করার পর ১৯৬৩ ইংরেজী সনে নিজ পিতার প্রতিষ্ঠিত মীরস্বরাই থানার ঐতিহ্যবাহী আবুরহাট মুনিরুল ইসলাম মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে তিনি যোগদান করেন । এখানে দু'বছর শিক্ষকতা করার পর হযরত মাওলানা আমিনুল হক সাহেব রাহ.এর মধ‍্যস্ততায় এবং হযরত মাওলানা জহুরুল হক সাহেব রাহ.এর পরামর্শে দেশের পশ্চিম অঞ্চলে তথা খুলনা জেলায় চলে যান। খুলনা জেলায় জামেয়া সিদ্দিকিয়া পাটকেলঘাটা মাদরাসা সহ একাধিক সরকারীও কওমী মাদরাসায় তিনি শিক্ষকতা করেন এবং টানা একুশ বছর খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় কাটিয়ে দেন। ১৯৮২ ইংরেজী সনে আবুরহাট মুনিরুল ইসলাম মাদরাসার সাবেক মুহতামিম আমি অধম এবং আমার শ্রদ্ধেয় আব্বাজানের উস্তাদ জগৎ বিখ্যাত আলেম ( ছোট কালে যার খেদমত ও সান্নিধ্যে থাকার আমার সুযোগ হয়েছিল যার স্নেহ আমি জীবনেও ভুলতে পারবনা) হযরত মাওলানা গোলামুর রহমান রাহ.অসুস্ত হয়ে অনেকটা সাহেবেফেরাশ হয়ে গেলে তিনি স্বেচ্ছায় মাওঃ নুরুল হুদা সাহেব কে ডেকে পাঠান এবং হযরত মাওলানা নুরুল হুদা সাহেব ১৯৮২ ইংরেজি সনে আবুরহাট মুনিরুল ইসলাম মাদরাসার মুহতামিমের দায়িত্ব গ্ৰহন করেন। দায়িত্ব গ্ৰহনের পর থেকে  মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে বহাল ছিলেন। হযরত মাওলানা নুরুল হুদা সাহেবের সাথী-সঙ্গীদের মধ্যে প্রায় সকলেই এখন কবরবাসী হয়ে গেছেন-হযরত মাওলানা আমিনুল হক সাহেব রাহ. দেওখালী , হযরত মাওলানা মাকসুদ আহমদ রাহ জয়নগর ,হযরত মাওলানা সফিউল্লাহ সাহেব রাহ.লুদ্দাখালী , হযরত মাওলানা আবুতাহের সাহেব রাহ. বাঁশখালী, হযরত মাওলানা মুফিজ সাহেব রাহ. রুকুন্দীপুর,হযরত মাওলানা ইউসুফ সাহেব রাহ.ওসমানপুর,হযরত মাওলানা বেলায়েত হোসেন সাহেব রাহ. বিশুমিয়ারহাট, হযরত মাওলানা ক্বারী নুরুজ্জামান সাহেব রাহ.তেমুহানী তার সাথী-সঙ্গীদের মধ্যে অন্যতম তাঁরা এখন সবাই কবরের বাসিন্দা।
মীরস্বরাই থানায় হযরত মাওলানা নুরুল হুদা সাহেবের উস্তাদ দের মধ্যে - হযরত মাওলানা জহুরুল হক সাহেব রাহ., হযরত মাওলানা আবুবকর সাহেব রহ.পাতাকোর্ট , হযরত মাওলানা সুলতান আহমদ সাহেব রাহ.সাহেবপুর, হযরত মাওলানা আযীযুর রহমান সাহেব রাহ. গোবিনাথপুর, হযরত মাওলানা গোলামুর রহমান সাহেব রাহ. দেওখালী অন‍্যতম ।তারা সকলেই তদানীন্তন সময়ে আবুরহাট মাদরাসার উস্তাদ হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
আবুরহাট মাদরাসার প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এই পর্যন্ত দীর্ঘ একশ বারো বছরে মাত্র তিন ব‍্যক্তিই অত্র মাদরাসার মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করেন-১.হযরত মাওঃ এলাহি বখশ সাহেব রাহ. প্রতিষ্ঠাকাল ১৯০৯ থেকে ১৯৪২ সন পর্যন্ত সময়কাল: ৩৩ বছর ।  ২. হযরত মাওলানা গোলামুর রহমান সাহেব রাহ.১৯৪২ থেকে ১৯৮২ সন পর্যন্ত  সময়কাল: ৪০ বছর।  ৩.হযরত মাওলানা নূরুল হুদা সাহেব রাহ. ১৯৮২ থেকে ২০২০ ইংরেজি সন পর্যন্ত সময়কাল: ৩৮ বছর। আজ ১২/৬/২০২০ ইংরেজী রোজ: শুক্রবার সময় : দুপুর ১২.০৫ মিনিটে মীরস্বরাই উপজেলার বারৈয়ারহাট জেনারেল হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
লেখক: মুহাদ্দি, হাটহাজারী  মাদরাসা ও কেন্দ্রীয় সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ       


আবুল কাসেম আদিল
মাঝেমধ্যে নিজের অজ্ঞতা দেখে বিস্মিত হয়ে যাই। প্রায়ই আবিষ্কার করি, অনেক আগে থেকে অন্যরা এমন অনেক কিছু জানে, যা আমি জানতাম না। এমনই একটি বিষয় হলো, ফরয নামাযের পরে সম্মিলিতভাবে হাত তুলে নিয়মিত মোনাজাত করা। আমি ছোট থেকে ভোলার বিভিন্ন মাদরাসায় হিদায়াহ আউয়ালাইন পর্যন্ত পড়াশোনা করি। ভোলার মাদরাসাগুলো হাটহাজারী মাদরাসার অনুকরণ করে। ফলে সে মাদরসাগুলোতে দেখে এসেছি এবং শুনে এসেছি, হাটহাজারী মাদরাসায় ফরয নামাযের পরে সম্মিলিত মোনাজাত বিদয়াত মনে করা হয়। আমি দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হই ২০০৬ সালে। পড়াশোনা করি ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এই ৬ বছর ধরে আগের জানা মাসআলায় হাটহাজারী মাদরাসাকে অবিচল দেখতে পাই। এর ব্যতিক্রম মাসআলাও যে কওমী অঙ্গনে চর্চিত হয়ে আসছে, তখন আমি ঘুণাক্ষরেও জানতাম না। কয়েকদিন আগে সালাফীদের সঙ্গে কিছু কওমী তরুণের বিতর্ক হয়। বিষয়: ফরয নামাযের পর সম্মিলিত মোনাজাত করা বিদয়াত কি না। আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করলাম (মূলত খেয়াল করে আশ্চর্য হলাম), কওমী তরুণদের অবস্থান বিদয়াত না হওয়ার পক্ষে। সালাফী মতাদর্শের সঙ্গে কওমীদের বেশ কিছু বিষয়ে গবেষণাগত মতবিরোধ আছে। সম্মিলিত মোনাজাতও যে তাদের সঙ্গে একটা মতবিরোধপূর্ণ বিষয়, সত্যি আমি জানতাম না। আমাদের বড়ভাই লাবীব আবদুল্লাহ এই সময়ে তর্কের চেয়ে ঐক্য জরুরি মর্মে একটি পোস্ট করে তোপের মুখে পড়েন। যাঁরা লাবীব আবদুল্লাহকে রীতিমত ‘ধুয়ে’ দেন, তাঁরা সবাই কওমী অঙ্গনের লোক। তাঁরা প্রায় সবাই সম্মিলিত মোনাজাত বিদয়াত না হওয়ার পক্ষে।

উত্তপ্ত উনুনের উপর ফুটন্ত কড়াইয়ের মতো সবাই ফুটতে শুরু করেন, যখন আমাদের আরেক বড়ভাই শায়খ আহমাদুল্লাহ ফরয নামাযের পরে সম্মিলিত মোনাজাত বিদয়াত বলেন। শায়খ আহমাদুল্লাহ ভাইয়ের চিন্তাচর্চায় সালাফী ও দেওবন্দী ঘরানার মিলিত অবদান রয়েছে। তিনি পড়াশোনা করেছেন বাংলাদেশের হাটহাজারী ও মেখল মাদরাসায়। পড়িয়েছেন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দু’টি কওমী মাদরাসায়—আরজাবাদ ও দারুর রাশাদ। এরপর দীর্ঘদিন সৌদি আরবের ইসলামিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। সব মিলিয়ে তাঁর মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ একটা ব্যাপার আছে।

ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার এক পর্যায়ে জানতে পারলাম, দারুল উলূম দেওবন্দে সম্মিলিত মোনাজাত করা হয়। দেওবন্দের কথা শুনে নড়েচড়ে বসতে হলো। হাটহাজারী মাদরাসা দেওবন্দের অনুকরণে প্রতিষ্ঠিত। এতদসত্ত্বেও দু’টি প্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্রভাবে চালিত হওয়ায় অমৌলিক দু’-একটা বিষয়ে ভিন্নমত দেখা যায়। ভিন্নমতের ক্ষেত্রে সবাই দারুল উলূম দেওবন্দের মাসআলাই বেশি গ্রহণ করে। কারণ দেওবন্দের গবেষণার মান নিঃসন্দেহে হাটহাজারী মাদরাসার চেয়ে ভালো।

মাসআলা যেটাই ‘অধিক শুদ্ধ’ হোক এটা তো নিশ্চিত যে, শায়খ আহমাদুল্লাহ নতুন কিছু বলেন নি। তিনি আজ যা বললেন, হাটহাজারী মাদরাসা ও মুফতী ফয়যুল্লাহ রহ.-এর অবস্থান এ-ই। এ-কারণে শায়খ আহমাদুল্লাহকে ‘ধুয়ে দেয়া’র মজেজা বুঝলাম না। আহমাদুল্লাহ ভাই যদি ভুলও বলেন, দেওবন্দে চর্চিত মাসআলার বিপরীতও যদি বলেন—এজন্য তাঁকে ধুয়ে দেয়ার আগে হাটহাজারী মাদরাসা ও মুফতী ফয়যুল্লাহ রহ.-কে ধুয়ে দেয়া উচিত। শায়খ আহমাদুল্লাহর জন্মেরও আগে মুফতী ফয়যুল্লাহ এটিকে বিদয়াত বলেছেন।

এই মাসআলায় দেওবন্দ ও হাটহাজারী মাদরাসার বিরোধ আলোচনার যোগ্যই নয়। এটি একেবারে অমৌলিক ও খুব ঠুনকো একটি বিষয়। তারপরও বিশেষভাবে এই ক্ষেত্রে হাটহাজারী মাদরাসার অবস্থানই আমার কাছে শক্তিশালী মনে হচ্ছে। হাটহাজারী মাদরাসা ও এই মাদরাসার অন্যতম চিন্তাগুরু মুফতী ফয়যুল্লাহর অবস্থান হলো— (১) ফরয নামাযের পরে (২) হাত তুলে (৩) সম্মিলিতভাবে (৪) নিয়মিত মোনাজাত করা বিদয়াত। শর্তগুলো খেয়াল করুন। সবগুলো শর্ত একত্রে পাওয়া গেলেই শুধু বিদয়াত। এসব শর্তের কোনো একটা অনুপস্থিত থাকলে বিদয়াত নয়। স্রেফ একটা পন্থায় বিদয়াত। এছাড়া আর যত পন্থা আছে, তাতে বিদয়াত হবে না। যেমন:
১. ফরয নামাযের পর একা একা হাত না তুলে অনিয়মিত মোনাজাত করা
২. ফরয নামাযের পর একা একা হাত তুলে অনিয়মিত মোনাজাত করা
৩. ফরয নামাযের পর একা একা হাত না তুলে নিয়মিত মোনাজাত করা
৪. ফরয নামাযের পর একা একা হাত তুলে নিয়মিত মোনাজাত করা
৫. ফরয নামাযের পর সম্মিলিতভাবে হাত না তুলে অনিয়মিত মোনাজাত করা
৬. ফরয নামাযের পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে অনিয়মিত মোনাজাত করা বিদয়াত নয়।

বর্তমান সময়ের অন্যতম বিজ্ঞ আলেম মাওলানা আবদুল মালেক হাফিযাহুল্লাহর একটা লেখা সম্মিলিত মোনাজাত প্রমাণ করার জন্য অনেকে পেশ করেছে। আমি লেখাটা পড়ে বুঝেছি, তিনি দালিলিকভাবে সম্মিলিত মোনাজাত সাব্যস্ত করেছেন। তবে ফরয নামাযের পরে সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে ‘নিয়মিত’ মোনাজাত সম্পর্কে তিনি কিছু বলেন নি। ফলে তাঁর অবস্থানের সঙ্গে মুফতী ফয়যুল্লাহ রহ.-এর অবস্থানের বিরোধ নেই।

যাঁরা ফরয নামাযের পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে নিয়মিত মোনাজাত করা বিদয়াত নয় বরং মুস্তাহাব বলছেন, আমার জানামতে তাঁদের দলিল হলো—

১. আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত,
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ بَسَطَ كَفَّيْهِ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ، ثُمَّ يَقُولُ: اللَّهُمَّ إِلَهِي وَإِلَهَ إِبْرَاهِيمَ ... إِلَّا كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ لَا يَرُدَّ يَدَيْهِ خَائِبَتَيْنِ
(মর্মার্থ) রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে বান্দা প্রত্যেক নামাযের পরে হাত সম্প্রসারিত করে দোয়া করে, আল্লাহর জন্য জরুরি যে তার হাত নিষ্ফল ফেরত না দেয়া। (আমালুল-ইয়াউম ওয়াল-লাইলাহ ১/১২১)

২. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَفَعَ يَدَهُ بَعْدَ مَا سَلَّمَ، وَهُوَ مُسْتَقْبَلٌ الْقِبْلَةَ فَقَالَ: اللَّهُمَّ خَلِّصِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ...
(মর্মার্থ) রাসূলুল্লাহ সা. সালাম ফেরানোর পর কিবলার দিকে ফিরে হাত তুলে দোয়া করেছেন। (তাফসীর ইবনে কাসীর ২/৩৯০)

৩. আবদুল্লাহ বিন যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত,
أن رجلاً رفع يديه بالدعاء قبل أن ينتهي من صلاته ، فلما فرغ قال له عبد الله : إن النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن يرفع يديه بالدعاء إلا بعد أن يفرغ من صلاته
একব্যক্তি নামায শেষ হওয়ার আগে হাত তুলে দোয়া করলেন। নামায শেষ হওয়ার পর আবদুল্লাহ বিন যুবাইর তাঁকে বললেন, নবী সা. কখনো নামায শেষ হওয়ার আগে দোয়ার জন্য হাত তুলতেন না।

খেয়াল করে দেখুন, এর কোনো একটা দলিল দ্বারাও ‘নিয়মিত’ মোনাজাত করা সাব্যস্ত হয় না। ফরয নামাযের পর সম্মিলিত বা একা একা মোনাজাত করার বিরোধিতা তো কেউ করছে না, শায়খ আহমাদুল্লাহও তা বলছেন না। এটাকে একমাত্র নিয়ম বানিয়ে ফেলা নিয়ে মতানৈক্য।

অন্যদিকে যাঁরা ফরয নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে নিয়মিত মোনাজাত করার বিরোধিতা করছেন, তাঁদের দলিলগুলো দেখুন। তাহলে আপনারা সহজেই তুলনা করতে পারবেন।

১. আনাস রা. থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي شَيْءٍ مِنَ الدُّعَاءِ إِلَّا فِي الِاسْتِسْقَاء
রাসূলুল্লাহ সা. ইস্তিসকা ছাড়া কখনো দোয়ার সময় হাত তোলেন নি। (মুসনাদ আবি ইয়া’লা ৫/৩৩৩, সুনান দারা কুতনী ২/৪২৬,

২. সাওবান রা. থেকে বর্ণিত,
قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا انْصَرَفَ مِنْ صَلَاتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلَاثًا وَقَالَ: اللهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
রাসূলুল্লাহ সা. যখন নামায শেষ করতেন, তিনবার ইস্তেগফার করতেন এবং আল্লাহুম্মা আনতাস-সালামা ওয়া মিনকাস-সালাম এই দোয়াটা পড়তেন। (সহীহ মুসলিম ১/৪১৪)

ইস্তেগফারও মূলত দোয়া। কিন্তু আমরা যেভাবে হাত তুলে দোয়া করি, এতে সেরকম দোয়া বোঝায় না। এই হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম আওযায়ী বলেছেন, ইস্তেগফার মানে তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়া। আমাদের প্রচলিত মোনাজাতের ধরন এটা নয়।

৩. মুয়াবিয়া রা. থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ، إِذَا فَرَغَ مِنَ الصَّلَاةِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
রাসূলুল্লাহ সা. নামায শেষ করে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু... দোয়াটি পড়তেন। (সহীহ মুসলিম ১/৪১৪)

এছাড়াও বেশ কিছু দোয়া ও যিকির রাসূল সা. থেকে বর্ণিত যে, এসবের ওপর তিনি নিয়মিত আমল করতেন।

এই সবগুলো হাদীসে নিত্যবৃত্ত অতীতকাল ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ এগুলো রাসূল সা.-এর নিয়মিত আমল ছিল। রাসূল সা. যে দোয়া করতেন, তাও বর্ণিত আছে। তা আমাদের মতো অনির্ধারিত নয়। নির্ধারিত কিছু দোয়া করতেন। হাদীসের ভাষ্যে নিত্যবৃত্ত অতীতকাল ব্যবহার দেখে বোঝা যায়, নির্ধারিত কিছু দোয়াই রাসূল সা. নিয়মিত করতেন। অন্যদিকে মোনাজাতের হাদীসগুলোতে এই ধরনের শব্দ নেই। যদি ধরেও নিই রাসূল মোনাজাত করেছেন, তা তাঁর নিয়মিত আমল ছিল না।

এ-বিষয়ে কারো দ্বিমত নেই যে, ফরয নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলত মোনাজাত মুস্তাহাব হলেও উত্তম ও সুন্নাহ হলো, হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নির্দিষ্ট দোয়া ও যিকির পাঠ করা। যা সর্বসম্মতিক্রমে উত্তম তা ছেড়ে জায়েয বা সর্বোচ্চ মুস্তাহাবের জন্য অনলাইন-যুদ্ধের যৌক্তিকতা আমি বুঝতে পারছি না।

পুনশ্চ: অনেকে ভুল বুঝবেন না যেন। মোনাজাত করা যে সাওয়াবের কাজ, এ-ব্যাপারে কারো সন্দেহ নেই। একটি হাদীসের ভাষ্যমতে দোয়া করা সমস্ত ইবাদতের মুল। দোয়া করা নিয়ে কোনো তর্ক নেই। তর্ক হলো, ফরয নামাযের পরে হাত তুলে সম্মিলিতভাবে নিয়মিত মোনাজাত করা ও একে অনিবার্য মনে করা নিয়ে।

️ 



হাবীব আনওয়ার: গভীর রাতে হাটহাজারীর বিভিন্ন  ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতার বাসা ঘেরাও করে পুলিশের হয়রানি চরম উদ্বেগজনক উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। 

আজ ১০ জুন বুধবার সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, হাটহাজারী একটি শান্তিপূর্ণ থানা।হাটহাজারীর মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়।হাটহাজারীতে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত রয়েছে।সম্প্রতি হাটহাজারীর ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতার বাসায় গভীর রাতে পুলিশের হয়রানির খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা চরম উদ্বেগজনক। এতে হাটহাজারীর শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন,দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে তা প্রশংসনীয়।  আমি সর্বসময় লাখো মানুষের বিশাল সমাবেশে দেশের আইন কানুন মেনে চলার ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারকে সহযোগিতা করতে জনগনকে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। 

তিনি আরো বলেন,হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন। হেফাজত প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইসলাম,মুসলমান, দেশ ও জাতীর কল্যাণে কাজ করে আসছে। হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীগণ এখলাছ ও নিষ্ঠার সাথে দ্বীনের জন্যই কাজ করেন।হেফাজতের মধ্যে কোন গ্রুপ নেই।আমীরে হেফাজত শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব হুজুর আমাদের সকলের মুরুব্বি। আমি দেশবাসীর নিকট হুজুরের পরিপূর্ণ সুস্থতার জন্য দুআর আবেদন করছি।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বলতে হচ্ছে, একটি কুচক্রী মহল অসৎ উদ্দেশ্যে হেফাজত আমীর ও মহাসচিবের গ্রুপ বলে বিভ্রান্তি চড়াচ্ছে। বাস্তবে গ্রুপ কথাটির কোন ভিত্তি নেই। এটি মিথ্যা,ভিত্তিহীন ও নির্জলা মিথ্যাচার।

তিনি আরো বলেন,হাটহাজারী মাদরাসা এশিয়া বিখ্যাত একটি মাদরাসা।পুরো বিশ্বে এর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ইসলামি অঙ্গনে হাটহাজারীর গুরুত্ব অনেক বেশি।দেশবাসী ইসলামিক বিভিন্ন বিষয়ে হাটহাজারী মাদরাসা ও হাটহাজারীর ওলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন।হাটহাজারীর শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে পুরো দেশে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই আমি আশা করবো হাটহাজারীর ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতার উপর পুলিশি হয়রানি বন্ধ করে হাটহাজারীর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার,প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকলে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।


করোনা ভাইরাসের দরূন সৃষ্ট নাজুক পরিস্থিতির কারণে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছে ঐতিহ্যবাহী 
"মাদরাসাতুল ইহসান আল-আরাবিয়া"।

অনলাইনে চলতি ১৪৪১-৪২ শিক্ষাবর্ষের মক্তব, হিফজ,১ম-৫ম বর্ষ পর্যন্ত সকল বিভাগে  ভর্তি চলছে।

প্রত্যেক বিভাগে কোটা খালি থাকা সাপেক্ষে নতুন ও পুরাতন ছাত্র ভর্তি করা হবে জানিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। 

আগ্রহী ছাত্রদের মাদরাসা অফিসে যোগাযোগ করে ভর্তির কাজ সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ভর্তির সময় : 
সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। 
ভর্তির ফিস: ৩৫০০টাকা 
ফরম : ১০০টাকা 

ঠিকানা : 
প্রধান শাখা, সেক্টর: ১১, রোড : ৯, বাড়ি : ১২, উত্তরা, ঢাকা। 

যোগাযোগঃ
মুহতামিম সাহেব দা. বা. 01715089810
জনাব সামসুজ্জামান দা. বা.
01745840496 
মুফতি নাদিম মাহমুদ দা. বা. 
01851118560
মুফতি ফারহাদ হুসাইন দা. বা.
01986826360
মাও. মুস্তাকিম হুসাইন দা. বা. 
01865940219

অনলাইন যোগাযোগ
০১৭১৫০৮৯৮১০
০১৮৫১১১৮৫৬০

বিশেষ শাখা, সেক্টর: ১৪, রোড: ১৩, বাড়ি: ২৪, উত্তরা, ঢাকা। 

যোগাযোগ 
অফিস: 01745840496
মুফতি মাজহারুল ইসলাম 01677534722
কারী ইজহারুল ইসলাম 01732524277

ডেমরা শাখা, মিনার মসজিদ সংলগ্ন, ডগাইর নতুনপাড়া, সারুলিয়া, ডেমরা, ঢাকা। 

যোগাযোগ 
অফিস 01404227680
মাও. লুতফর রহমান 01632578014
জনাব জাফর 01911679161

বি. দ্র. ৪র্থ বর্ষ (শরহে বেকায়া) "বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ" এর অধীনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।


প্রবচন ডেস্ক: রাগ ও ক্ষোভে ফুঁসছে যুক্তরাষ্ট্র। পুরো দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। জ্বলছে আগুন। চলছে ভাঙচুর লুটপাট। করোনা মহামারিতে যখন যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল, তখন সংঘাতেও ঘটছে হতাহতের ঘটনা।

২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বড় শহর মিনিয়াপলিসে পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ নির্মমভাবে নিহত হন। এরপরই শুরু হয় বিক্ষোভ। উত্তাল হয়ে ওঠে মিনিয়াপোলিস। মঙ্গল ও বুধবার বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীরে মিনিয়াপলিসের একটি থানায় আগুন জ্বালিয়ে দেন। ঐ অগ্নিসংযোগের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। বেশ কয়েকটি ভবন ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

শুক্রবার কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নেমে আসেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন সড়কে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেন। এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের সামনে কয়েকশ বিক্ষোভকারী কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা ফ্লয়েডের ছবি হাতে নিয়ে ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না’ স্লোগান দিতে থাকেন।

স্লোগানের এই কথা ফ্লয়েড মৃত্যুর আগে পুলিশ অফিসারকে বারবার বলছিলেন। যা এখন পুরো যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে।

এর আগে স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে ওয়াশিংটন ডিসিতে জড়ো হতে শুরু করেন বিক্ষোভকারী। পরে তারা হোয়াইট হাউসের দিকে অগ্রসর হলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস টুইট করে বলে, ‘আমাদের কর্মীরা বিক্ষোভ চলাকালীন অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সবাইকে শান্ত থাকতে বলছি।’

অপরদিকে সহিংস বিক্ষোভের মুখে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।

নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, আটলান্টা, পোর্টল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, টেক্সাস, ওহাইও, নর্থ ক্যারোলিনা, মিশিগান, এবং অন্যান্য শহরগুলিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।

লস এঞ্জেলস, শিকাগো, ডালাস, ডেনভার, হিউস্টন, লুইজভিল, ফিনিক্স, কলম্বাস ও মেম্ফিসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরে শুক্রবার পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়।

বিক্ষোভকারীরা আটলান্টায় বেশ কয়েকটি ভবনে ভাঙচুর চালিয়েছে। পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে। ডালাসে প্রতিবাদকারীদের ইট-পাথর ছোড়ার পর পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে।

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সড়কে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। গ্রেফতার করা হয়েছে অনেককে।

এদিকে পোর্টল্যান্ডের মেয়র টেড হুইলার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। কারফিউ জারি করেছেন। তিনি টুইটারে লিখেন, রবিবার সকাল পর্যন্ত কারফিউ চলবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘ভয়ানক ব্যাপার’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। নিহত আফ্রিকান এই আমেরিকানের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের গাড়িতে জাল নোট থাকার খবর পেয়ে তাকে পুলিশ আটক করে বলে দাবি করা হয়। এরপর তার সঙ্গে পুলিশ যা আচরণ করে তা বর্বর যুগকেও ছাড়িয়ে যায়।

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ১০ মিনিটের ভিডিওতে দেখা গেছে, হাঁটু দিয়ে তার গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার। এসময় ফ্লয়েড বারবার বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, ‘প্লিজ, আমি শ্বাস নিতে পারছি না’।

নিহত ফ্লয়েড নিরস্ত্র ছিলেন। নিঃশ্বাস নিতে না পেরে তাকে কাতরাতে দেখা যায়। শেষপর্যন্ত শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় চার পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগ। এদের মধ্যে ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে চেপে ধরা ৪৪ বছর বয়সী ডেরিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

কৃষ্ণাঙ্গদের দাবি, বর্ণবিদ্বেষের বলি হয়েছেন ফ্লয়েড। হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে এখনো বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: সিএনএন, বিবিসি, এপি বাংলাদেশে। গত বছর যদিও আরব ভূখণ্ডে ঈদ দেখার তাওফিক হয়েছিল কিন্তু ঈদ পালন করা হয় বাংলাদেশে ফিরে। জীবনের এই প্রথম ঈদ যা কিনা পালিত হলো সূর্যাস্তের দেশে। একটি অমুসলিম প্রধান দেশে। 

আমার জীবনের সুন্দর ও ভিন্নধর্মী একটি অভিজ্ঞতা হলো জাপানের ঈদে। জাপানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করলাম। জাপানে ঈদ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন ছুটি বরাদ্দ নেই। তবে এবারের ঈদ সাপ্তাহিক ছুটির দিন রবিবার হওয়ায় মুসলিম কমিউনিটির প্রত্যেকে খুব খুশি ছিল। কারণ রবিবার ছাড়া অন্য কোনোদিন ঈদ হলে হয়তো অনেকেই ঈদের জামাতেও অংশ নিতে হতে পারত না। সবমিলিয়ে রবিবার ঈদ হওয়াটা আমাদের জন্য ডাবল ঈদের আমেজ নিয়ে এসেছে। 

অনেকের সঙ্গে অন্যান্য দিনের ঈদগুলোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানতে পেরেছি, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের ঈদ মানে কোনরকমে শুধু নামাজ পড়া। এছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। পরিবারকে সময় দেওয়া যায় না। ঘোরাঘুরির ফুরসতও মিলে না। 

আর এই বছর করোনাভাইরাস জনিত কারণে বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট করে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। এখানের সব মসজিদ সরকারি
জিস্ট্রারভুক্ত নয়। আর রেজিস্ট্রারকৃত মসজিদগুলোতে পুলিশ এসে ওয়ার্নিং দিয়ে গেছে যাতে বড় জমায়েত না হয়। তাই মুসাফা কোলাকোলি ছাড়াই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকেরা তাদের সাধ্যের মধ্যে কিছু মিষ্টান্নভোজের ব্যবস্থা করেছিলেন। ফলে প্রবাসজীবনে একাকি থাকা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কিছুটা হলেও ঈদের মিষ্টিমুখ হয়েছে। তবে আজ রবিবার না হয়ে যদি অন্যদিন হতো তবে আমার অভিজ্ঞতা হয়তো অন্যভাবেই ব্যক্ত করা যেত।

-আইএফ

মহান আল্লাহ তায়ালার এই বিশ্বজাহানে অনেক ধর্ম ও বর্ণের লোক বসবাস করছে। প্রত্যেকের রয়েছে স্বতন্ত্র তাহযিব-তামাদ্দুন, কৃষ্টি-কালচার। রয়েছে নিজ নিজ ধর্মীয় ও গোষ্ঠীগত আচার-অনুষ্ঠান। এভাবেই পৃথিবীর বয়স বাড়ছে।

আমার জীবনের প্রায় আড়াই যুগ ধরে যে দেশের ঈদ উদযাপন করে এসেছি তা ছিল আমার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে। গত বছর যদিও আরব ভূখণ্ডে ঈদ দেখার তাওফিক হয়েছিল কিন্তু ঈদ পালন করা হয় বাংলাদেশে ফিরে। জীবনের এই প্রথম ঈদ যা কিনা পালিত হলো সূর্যোদয়ের দেশে। একটি অমুসলিম প্রধান দেশে। 

আমার জীবনের সুন্দর ও ভিন্নধর্মী একটি অভিজ্ঞতা হলো জাপানের ঈদে। জাপানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করলাম। জাপানে ঈদ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন ছুটি বরাদ্দ নেই। তবে এবারের ঈদ সাপ্তাহিক ছুটির দিন রবিবার হওয়ায় মুসলিম কমিউনিটির প্রত্যেকে খুব খুশি ছিল। কারণ রবিবার ছাড়া অন্য কোনোদিন ঈদ হলে হয়তো অনেকেই ঈদের জামাতেও অংশ নিতে হতে পারত না। সবমিলিয়ে রবিবার ঈদ হওয়াটা আমাদের জন্য ডাবল ঈদের আমেজ নিয়ে এসেছে। 

অনেকের সঙ্গে অন্যান্য দিনের ঈদগুলোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানতে পেরেছি, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের ঈদ মানে কোনরকমে শুধু নামাজ পড়া। এছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। পরিবারকে সময় দেওয়া যায় না। ঘোরাঘুরির ফুরসতও মিলে না। 

আর এই বছর করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট করে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। এখানের সব মসজিদ সরকারি
রেজিস্ট্রারভুক্ত নয়। আর রেজিস্ট্রারকৃত মসজিদগুলোতে পুলিশ এসে ওয়ার্নিং দিয়ে গেছে যাতে বড় জমায়েত না হয়। তাই মুসাফা কোলাকোলি ছাড়াই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকেরা তাদের সাধ্যের মধ্যে কিছু মিষ্টান্নভোজের ব্যবস্থা করেছিলেন। ফলে প্রবাসজীবনে একাকি থাকা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কিছুটা হলেও ঈদের মিষ্টিমুখ হয়েছে। তবে আজ রবিবার না হয়ে যদি অন্যদিন হতো তবে আমার অভিজ্ঞতা হয়তো অন্যভাবেই ব্যক্ত করা যেত।



প্রবচন ডেস্ক: চট্টগ্রামের নাজিরহাট বড় মাদরাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা শাহ মুহাম্মদ ইদ্রিস ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি নাজিরহাট বড় মাদরাসার মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করেন।

বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর জামিয়া নাজিরহাট বড় মাদরাসার মাঠে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর ইমামতিতে মরহুমের জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে মাদরাসা সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঢাকা, ২৭ মে। ছবি: সংগৃহীত
ডেস্ক: রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) বিস্ফোরণে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে এসি বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

ফায়ার সার্ভিস পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, আগুনের খবর পেয়ে তাঁদের তিনটি ইউনিট হাসপাতালে যায়। মূল ভবনের বাইরে আলাদা জরুরি বিভাগে আগুন লাগে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। 

মৃত ৫ জনের মধ্যে ৩ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী ছিলেন। মৃতদের সবাই লাইফসাপোর্টে ছিলেন। বুধবার রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় রাত প্রায় ১০টার কিছু আগে লাগা আগুনে ৫ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন।
মৃতরা হলেন রিয়াজুল আলম (৪৫), খোদেজা বেগম (৭০), ভেরুন এন্থনি পল (৭৪), মো. মনির হোসেন (৭৫), মো. মাহাবুব (৫০)।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীতসংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হাসপাতালের মূল ভবনের বাইরে আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লাগে ওই সময় আবহাওয়া খারাপ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মৃত ওই পাঁচজনকে নিরাপদে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় ইউনাইটেড হাসপাতাল দুঃখ প্রকাশ করেছে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের কর্তব্যরত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে নিচতলায় এসি বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে।


রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে রাত ১০টার দিকে এসি বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে।ঢাকা, ২৭ মে। ছবি: সংগৃহীত
যোগাযোগ করা হলে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানানো হয়, রাত ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে ওই আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।


হাবীব আনওয়ার: মুফতী আজম ফয়জুল্লাহ রহ. এর প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেখল হামিয়ুচ্ছুন্নাহ মাদরাসা খুলছে না ৩০ মে। সেই সাথে ১লা মে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান, মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী। 

মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী বলেন, আগামী ৩০ জুন মাদরাসা খোলার তারিখ থাকলেও পরিস্থিতির অবনতি হওয়াতে পূর্বনির্ধারিত ৩০ মে মাদরাসা খোলা ও ১লা জুন থেকে অনুষ্ঠিতব্য  পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এমতাবস্থায় পুরাতন এবং ভর্তি-ইচ্ছুক নতুন ছাত্রদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাদরাসা না আসার আহবান জানিয়েছেন, মাদরাসার শিক্ষাল পরিচালক মাওলানা উসমান ফয়জী।

এছাড়াও যেকোন তথ্যের জন্য  নিম্নোক্ত নম্বর সমূহে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। শিক্ষা পরিচালক, ০১৮১৭৭৩৬২৮১, সহ শিক্ষা পরিচালক, ০১৮১৮১১৯৭০০, নাজেমে একামাহ,  ০১৮১৬৮৬১০১৪,সহকারী একামাহ, ০১৮১৯৩৯২৩০৫, ০১৮১৫৯১৭১৩৩, ০১৮১৩৬২১৫৮৮

উল্লেখ্য : করোনাভাইরাস এর কারণে গত ২০ মার্চ শুক্রবার থেকে ৩০ মে পর্যন্ত  মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। 


আল জামিয়াতুল আরাবিয়াতুল ইসলামিয়া জিরি মাদরাসার মহাপরিচালক, পীরে কামেল আল্লামা শাহ মুহাম্মদ তৈয়্যবের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

আজ ২৫ মে সোমবার সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় আল্লামা বাবুনগরী বলেন, আল্লামা শাহ মুহাম্মদ তৈয়্যব রহ. বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা শীর্ষ আলেম ও বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি আত্মশুদ্ধির লাইনে ছিলেন একজন হক্কানী পীর। চট্টগ্রামবাসীর জন্য তিনি ছিলেন রত্নতুল্য ৷ তার ইন্তেকালে বাংলার ইলমাকাশের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র ঝরে পড়েছে ৷

চট্টগ্রামবাসী হারিয়েছে একজন নিবেদিতপ্রাণ আলেমে দ্বীনকে ৷ তাঁর ইন্তেকালে ইলমী অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা কভু পূরণ হবার নয়। ইতিহাস তার অমর কীর্তি চিরকাল স্মরণ রাখবে। আমি তার ইন্তেকালে গভীরভাবে শোকাহত।

তিনি ছাত্রদের আমাল আখলাকের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্ববান।আমালের ব্যপারে কারো সামান্য গাফলতি দেখলে তিনি সাথে সাথে তা সংশোধনী দিতেন। সুন্নতের নববীর উপর তিনি ছিলেন অটল-অবিচল। খানকায় থেকে আত্মশুদ্ধির লাইনে যারা মেহনত করতেন তিনি সব সময় তাদের তদারকি করতেন। হাদিয়া দিতেন।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, দীর্ঘ ৩৬ বছর অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে তিনি জামিয়া জিরির মহাপরিচালকের গুরু দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন। দীর্ঘদিন হাদীসের সর্বোচ্চ কিতাব বুখারী শরীফের পাঠদান করেছেন। সাবলীল উপস্থাপনা, মধুময় বাক্যশৈলী ও সর্ববোধগম্য দরস প্রদানে তিনি ছিলেন একজন আদর্শ উস্তাদ।

দরস-তাদরীস ও আত্মশুদ্ধির লাইনে মেহনতের পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঈমান আকিদা রক্ষায় ওয়াজ-নসিহতের ময়দানেও অসাধারণ খেদমত করে গেছেন তিনি। ওয়াজের ময়দানে তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় ও নন্দিত ওয়ায়েজ।

স্মৃতিচারণ করে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, আল্লামা তৈয়ব রহ. আমাকে অনেক বেশি মুহাব্বত করতে। আমার বয়ানের ভূয়সী প্রশংসা করতেন তিনি। একবার জিরি মাদরাসার মাহফিলে আমাকে দুই বয়ান করতে দিয়েছিলেন। আমার জামাতা ও জিরি মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতী মুহাম্মদ এরশাদুল্লাহ থেকে সবসময় আমার খোঁজ খবর নিতেন। সদা আমাকে সাহস যোগাতেন এবং উৎসাহ দিয়ে বলতেন যোগ্য ব্যক্তির কোন সমস্যা নেই। যোগ্য ব্যক্তি শত বাঁধা ডিঙিয়ে প্রত্যেক কাজেই সফল হয়। সফলতা সব সময় যোগ্য ব্যক্তির পদ চুম্বন করে।

স্মৃতিচারণ করে আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, আল্লামা শাহ তৈয়্যব রহ আমাদের বংশের প্রশংসায় ছিলেন পঞ্চমুখ। তিনি সব সময় আমার বড় আব্বা আল্লামা সূফী আজিজুর রহমান রহ., আমার নানা আরেফ বিল্লাহ আল্লামা শাহ হারুন বাবুনগরী রহ. এবং আব্বাজান মেশকাত শরীফের বিশ্ববিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ তানজিমুল আশতাতের রচয়িতা দারুল উলুম হাটহাজারীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস দরস জগতের সম্রাট আল্লামা আবুল হাসান রহ. এর প্রশংসা করতেন। তিনি বলতেন এমন উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন বংশ পাওয়া বড় দুস্কর।এমন উচ্চ বংশের প্রতি আসক্ত হয়েই আমি আত্মীয়তা সম্পর্ক করেছি।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, মহান প্রভুর দরবারে আমি দুআ করি, আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল দ্বীনি খেদমতকে কবুল করুন এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন, আমিন।

উল্লেখ্য, আল্লামা তৈয়ব রহ. ২৪ মে রোববার দিবাগত রাত সিজদারত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইন্তেকাল করেন। আজ ২৫ মে সোমবার জিরি মাদরাসার মাঠে হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর ইমামতিতে নামাযে জানাযা সম্পন্ন হয়।


ফাহিম আহমাদ: আজ রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা গিয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার আকাশে স্পষ্টভাবে ঈদের চাঁদ দেখার খবর জানিয়েছেন প্রবচনের প্রতিনিধিরা। তবে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নাটোর, ও পাবনাসহ দেশের আরো কিছু এলাকার কিছু কিছু অংশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সেখানে চাঁদ দেখা সম্ভব হয়নি বলে জানান প্রবচন প্রতিনিধিরা।

এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বেশিরভাগ এলাকায় চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামীকাল বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে।

একজন ইসলামিক স্কলার প্রবচনকে বলেন, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের রমজান শেষে শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখামাত্রই খুশির জোয়ার বয়ে যায় প্রতিটি রোজাদারের দেহ-মনে। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পরে আগামীকাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। রোযাদারদের জন্য এটি মহান আল্লাহর বিশেষ পুরস্কার। এই ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। এই দিনে প্রতিটি মুসলমানের প্রাণে দোলা দেয় ঈদ আনন্দ।

ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ফিতরা আদায় করুন। গরীবদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে  নিন।

প্রবচন/কেএইচ

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget