Latest Post

এমপি পাপুল কাণ্ডে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করল কুয়েত
অনলাইন ডেস্ক: অর্থপাচার ও মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল আটকের পর থেকে বিষয়টি নিয়ে বেশ নড়েচড়ে বসেছে কুয়েত সরকার। পাপুলসহ তার সঙ্গে আর কারা সম্পৃক্ত তা তদন্তে নেমেছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ।

ইতিমধ্যেই এমপি পাপুলকে টানা আটদিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কুয়েতের প্রসিকিউশন বিভাগ। এছাড়া কুয়েত সরকার তাদের এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে।

বুধবার আরব টাইমসের খবরে বলা হয়, কুয়েতের সমাজকল্যাণ ও অর্থনীতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মরিয়ম আল আকিল সরকারের জনশক্তি কর্তৃপক্ষের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করেছেন। কুয়েতে মানবপাচারের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের স্বার্থে পাবলিক প্রসিকিউশন ওই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করে। জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কুয়েত সরকার জনশক্তি দফতরের ওই কর্মকর্তাকে ৩ মাসের জন্য বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ওই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করেনি গণমাধ্যমটি।

বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যু ১, ৩০ ...
ডেস্ক: বাংলাদেশে লকডাউনের কারণে করোনা ভাইরাসে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সময় পিছিয়েছে বলে জানিয়েছে ইমপেরিয়াল কলেজের গবেষকরা। 'ইমপেরিয়াল কলেজ কভিড ১৯ অ্যানালাইসিস টুলস'-এর দেয়া তথ্যানুসারে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা থাকবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে। এ সময় দিনে ১০ হাজার করে মানুষ মারা যেতে পারে বলে এই গবেষকরা ধারণা পোষণ করেন। অবশ্য এর আগে এই টুলস অনুসারে জুন-জুলাই মাসে হওয়ার কথা ছিল সর্বোচ্চ মৃত্যুর হার। কিন্তু লকডাউন ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ৭৫ ভাগ কম হয়েছে, যার ফলে পিছিয়েছে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সময়।

নেত্রানিউজের গত ৯ জুনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইম্পেরিয়াল কলেজের টুলসের বিশ্লেষণ অনুসারে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের মহামারি পরিস্থিতি গত সাত দিন আগের চেয়ে এ সপ্তাহে আলাদা দেখাচ্ছে। প্রথমের দিকে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি অনেক নিয়ন্ত্রিত মনে হয়েছিল।

১ জুন ইম্পেরিয়াল কলেজের কোভিড১৯ বিশ্লেষণ টুলস নতুন করে বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ আক্রান্তের সময় হিসেব করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, যদি কেউ ধরে নেয় যে বাংলাদেশের চলমান লকডাউনের ফলে করোনার সংক্রমণ ৭৫ ভাগ কমে যাবে এবং এটি দীর্ঘয়িত হবে, তাহলে আমাদের টুলস বলছে আগামী অক্টোবরেই দেশে করোনা মহামারি সর্বোচ্চ শিখরে উঠে যাবে এবং এর ফলে একদিনে ৬ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হবে।

সর্বশেষ ৭ জুন ইমপেরিয়াল কলেজের পূববর্তী ভবিষ্যৎবাণী থেকে করোনায় মৃত্যু এবং সংক্রমণ কম হওয়ায় নতুন করে ধারণা হচ্ছে, পূববর্তী ঘোষণা থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যু কম হওয়ায় এবার ধরে নেয়া হয়েছে বাংলাদেশে আগামী কয়েক মাসে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কম হবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। কিন্তু এরপর জুনের শেষ ভাগে প্রতিদিনে করোনায় ৮২ জনের মৃত্যু হবে। যা পূর্ববর্তী ভবিষ্যৎবাণী থেকে অনেক কম।

তবে দুর্ভাগ্যক্রমে ইম্পেরিয়াল কলেজের মতে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমে যাওয়ার মাত্রা এখন আর ৭৫ শতাংশের কাছাকাছি নেই। পূর্বে ধারণা করা হয়েছিল লকডাউনের কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যু যে হারে হ্রাস পাচ্ছে সে হারেই হ্রাস পাবে, কিন্তু বাংলাদেশ সরকার লকডাউন শিথিল করায় এখন এই সংক্রমণ কমার হার একই রকম থাকছে না। যা বিগত এক সপ্তাহের তথ্যানুসারে ৭৫ ভাগের পরিবর্তে ৪১ ভাগ আক্রান্ত কম হয়েছে। আর সেই বিশ্লেষণ থেকে ধারণা করা হচ্ছে সেপ্টেম্বরের শুরুতে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যায় শীর্ষের দিকে থাকবে বাংলাদেশ এবং একদিনে ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে। আর এই মহামারি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গিয়ে শেষ হবে।

অবশ্য এই ধরণের কোনও গাণিতিক মডেলে ফেলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হিসেব করাকে অনুমান নির্ভর বলে মনে করেন অধিকাংশ বিশেষজ্ঞরা। কেননা শুধু সংখ্যার গড় হার এবং অনুপাত বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ আক্রান্তের সংখ্যা বের করা সম্ভব নয়, এখানে আরও অনেকগুলো বিষয় রয়েছে যা হিসেবে আসছে না। সরকার যেভাবে এপ্রিল ও মে মাসে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে একইভাবে যদি আগামী কয়েক মাসেও দৃঢ় লকডাউনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে, তাহলে কখনই মৃত্যুর হার এত বেশি হবে না।

লকডাউনের আওতায় পড়া বেইজিংয়ের একটি মহল্লার লোকজন অনলাইনে অর্ডার দেওয়া খাবার নিতে বাড়ির বাইরে এসেছেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রায় দুই মাস পর নতুন করে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের লাখ লাখ মানুষ আবারো লকডাউনের কব্জায় আটকা পড়েছেন। রাজধানী ২৭টি মহল্লার মানুষকে বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বেইজিং থেকে ১২০০ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ৯ জুলাই পর্যন্ত ট্রেন সার্ভিস অনেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে সুইমিং পুল, জিম এবং অনেক রকম খেলাধুলো।
বুধবার বেইজিংয়ে নতুন করে ৩১ জনের দেহে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৭।

নতুন দফা এই সংক্রমণের আগে টানা ৫৭ দিন ধরে বেইজিংয়ের বাসিন্দাদের মধ্যে কোনো করোনা পজিটিভ রোগী পাওয়া নি।

ধারণা করা হচ্ছে বেইজিংয়ের শিনফানদি নামে বিশাল এক পাইকারি খাদ্যের বাজার থেকে নতুন করে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। এই বাজার থেকে বেইজিংয়ের ৮০ শতাংশ মাংস এবং সবজি সরবরাহ হয়।

নতুন দফা বিধিনিষেধের শর্ত

চীনের রাজধানীর কমপক্ষে ২৭টি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে ২৬টিতে ঝুঁকির মাত্রা মাঝারি, আর একটি এলাকা উঁচু মাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ।

এই ২৭টি এলাকার বাসিন্দারা বেইজিংয়ের বাইরে যেতে পারবেনা। এমনকি কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষজনকেও রাজধানীর বাইরে যেতে গেলে ভাইরাসের পরীক্ষা করে দেখাতে হবে তারা সংক্রমিত নন।

তবে বেইজিংয়ে এখন ভাইরাস পরীক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনটি টেস্টিং সেন্টার বিবিসিকে জানিয়েছে তাদের কাছে এত মানুষ আসছে যে জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত তারা নতুন কারো কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে পারবে না। অন্যান্য কেন্দ্রের সামনেও পরীক্ষার জন্য লম্বা লাইন চোখে পড়ছে।

নতুন করে নানা বিধিনিষেধ চালু করা হলেও, রাস্তা-ঘাট খোলা রয়েছে। কল-কারাখানা খোলা।

বেইজিংয়ে বিবিসির সংবাদদাতা স্টিভেন ম্যাকডোনেল বলছেন, গত ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চীনের রাজধানীতে নতুন কোনো সংক্রমণ না হওয়ায় রেঁস্তরা-পানশালাগুলো গমগম করে চলছিল, ট্রেনগুলো সকাল-বিকাল যাত্রীতে ভর্তি থাকতো।

“কিন্তু সেই প্রায়-স্বাভাবিক অবস্থা হঠাৎ করে যেন উধাও। একটি বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণে আবার বেইজিংকে বিধিনিষেধের বুদবুদে ঢুকে পড়তে হচ্ছে।“

সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, একেকটি মহল্লাকে এমনভাবে নজরদারি করা হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে যেন সেগুলো শহরের ভেতর আরেক শহর। তিনি বলছেন, ফেব্রুয়ারির লকডাউনের সাথে নতুন করে চাপানো এই লকডাউনের মূল পার্থক্য যে সরকারি অফিস এবং কল-কারখানা এখনো খোলা।
নতুন সংক্রমণের শুরু যেভাবে

চীনা মিডিয়াগুলো বলছে, শহরের শিনফানদি পাইকারি বাজারে আমদানি করার স্যামন মাছ কাটার একটি বোর্ডের ওপর প্রথম ভাইরাস শনাক্ত হয়।

ঐ বাজারের জেনারেল ম্যানেজারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঐ বাজারে কাজ করতেন বা গিয়েছিলেন এমন অনেক মানুষকে শহর ছাড়তে নিষেধ করা হয়েছে।প্রতিদিন বেইজিংয়ের এই পাইকারি বাজারে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়।

বাকি চীনের পরিস্থিতি কী

চীন গত মাসগুলোতে সাফল্যের সাথে ভাইরাসের সংক্রমণ বাগে আনতে সক্ষম হয়েছে। মার্চের প্রথম দিকে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮০,০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তারপর গত সাড়ে তিন মাসে নতুন করে মাত্র ৩২০০ জন শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার সারাদেশে নতুন করে ৩২জন সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনই বেইজিংয়ের চারটি মহল্লার বাসিন্দা। 

সূত্র: বিবিসি বাংলা

পাকিস্তান তো বটেই, যে কারণে চীনও উদ্বিগ্ন ভারতের এই যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শত্রুপক্ষের আক্রমণকে প্রতিহত করতে বারেবারেই নানা ধরনের অস্ত্র আবিষ্কার করেছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে এখন তাদের ভরসা ‘কালি’।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে ভারতের তৈরি ‘কালি’ যে ধরনের অস্ত্র, তা প্রায় কোনও দেশের হাতে নেই। আমেরিকাসহ বেশ কয়েকটি দেশের হাতে লেসার অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। কিন্তু ভারত লেসার অস্ত্র তৈরির পথে না হেঁটে যে অস্ত্র তৈরি করেছে, তা আরও ভয়ঙ্কর।

এক উন্নতমানের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী অস্ত্র তৈরি করেছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা৷ যাতে প্রাথমিকভাবে এসেছে সাফল্যও৷ ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী এই অস্ত্রের নাম ‘কিলো অ্যাম্পিয়ার লিনিয়র ইনজেক্টর’। যাকে সংক্ষেপে বলা হচ্ছে ‘কালি’৷
ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা আকাশপথে হওয়া যেকোনও আক্রমণ প্রতিরোধ করতে ‘কালি’ তৈরি করেছে ভারত। কিন্তু শক্তি বাড়তে বাড়তে ‘কালি’ এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, মহাকাশে ভাসমান কৃত্রিম উপগ্রহকেও ধ্বংস করতে পারে এটি।

লেসার অস্ত্র যেভাবে প্রয়োগ করা হয়, ‘কালি’র ব্যবহারও অনেকটা সে রকমই। কিন্তু লেসার অস্ত্রের চেয়েও ভয়ঙ্কর ভারতের তৈরি করা এই মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম।

১৯৮৫ সালে ‘কালি’ তৈরি শুরু করে ভারত। প্রথমে এর কর্মক্ষমতা সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানানো হয়নি। শিল্পের প্রয়োজনে ভারত নতুন প্রযুক্তির লিনিয়ার ইনজেক্টর তৈরি করছে বলে জানানো হয়েছিল। ভারতের সশস্ত্র বাহিনীতে কালির অন্তর্ভুক্তি হওয়ার পর গোটা বিশ্বের টনক নড়ে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রতিপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশেই ঝলসে দেওয়ার অস্ত্র তৈরি করে ফেলেছে ভারত।

কালি যখন প্রথম তৈরি হয়েছিল, তখন তা ০.৪ গিগাওয়াট শক্তির ইলেকট্রন স্রোত নিয়ে আঘাত করার ক্ষমতা রাখত। পরে এই ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে ঘটাতে কালি-৫০০০ বলে যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, তা বহুগুণ বেশি শক্তিশালী।

৪০ গিগাওয়াট শক্তির ইলেকট্রন স্রোত ছাড়তে পারে কালি-৫০০০। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

কোনও ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমান ধেয়ে আসছে দেখলেই, তাকে লক্ষ্য করে অসংখ্য ইলেকট্রন কণার তীব্র গতিবেগসম্পন্ন স্রোত ছাড়বে কালি-৫০০০।

এই ইলেকট্রন কণার স্রোত প্রচণ্ড তপ্ত এবং বিদ্যুৎবাহী। সেই তপ্ত কণার স্রোত বা রশ্মি তড়িৎ-চৌম্বকীয় বিকিরণে পরিণত হবে। সেই বিকিরণ মহাকাশে ছড়িয়ে থাকা মাইক্রোওয়েভের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম।

কালি-৫০০০ থেকে নির্গত ইলেকট্রন স্রোত শেষ পর্যন্ত পরিণত হবে মাইক্রোওয়েভ বিকিরণে। এই মাইক্রোওয়েভ বিকিরণ প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে গ্রাস করবে ছুটে আসা যেকোনও ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমানকে।

লেজার অস্ত্র দিয়েও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা যায়। কিন্তু লেজার রশ্মি ক্ষেপণাস্ত্রে আঘাত করে তাতে ছিদ্র তৈরি করে সেটিকে ধ্বংস করে। এই পদ্ধতি সময় সাপেক্ষ। কালি-৫০০০ যে মাইক্রোওয়েভ বিকিরণ ছাড়ে, তা ছুটন্ত ক্ষেপণাস্ত্রের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রটি ঝলসে যাবে। চোখের নিমেষে আকাশেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

পাকিস্তান তো বটেই, চীনও কালি মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমকে বিপজ্জনক হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে নয়, প্রতিপক্ষের আকাশসীমায় হামলা চালাতেও কালি-৫০০০ কার্যকরী। মাইক্রোওয়েভ বিকিরণকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে ধ্বংসলীলা চালাতে সক্ষম ভারতের এই অত্যাধুনিক অস্ত্র, তাতে মহাকাশে ভাসমান কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করাও সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

সূত্র: আনন্দবাজার

করোনায় আক্রান্ত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি
ডেস্ক: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আজ বুধবার মন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা লতিফ বকশী গণমাধ্যমে আক্রান্ত্রের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জনসংযোগ কর্মকর্তা লতিফ বকশী জানান, তিনি রাজধানী বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভার কেয়ার ( সাবেক এপেলো) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন দুই সংসদ সদস্য। তারা হলেন সাবেক প্রধান হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ এবং গণফোরামের নেতা মোকাব্বির খান। বাণিজ্যমন্ত্রীকে নিয়ে মোট ১২ সংসদ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এর আগে ১৪ জুন করোনায় আক্রান্ত্র হয়ে মারা গেছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ। 

বিশেষ প্রতিবেদক: গতকাল ১৭ জুন দারুল উলুম হাটহাজারীতে শূরা কমিটির একটি বৈঠকে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী কর্তৃক সহযোগী পরিচালকের পদ থেকে ইস্তফা প্রদানের বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ পায়।

এ বিষয়ে মেখল মাদরাসার পরিচালক আল্লামা নোমান ফয়জীর বরাতে দেশের বেশকিছু সংবাদমাধ্যম জানায় যে, তিনি বলেছেন, এত দিন মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী এবং সহকারী পরিচালক জুনায়েদ বাবুনগরী ছিলেন। বুধবার বৈঠকে জুনায়েদ বাবুনগরীকে অব্যাহতি দিয়ে তাঁর স্থলে মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শেখ আহমদকে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাবুনগরী নিজেও দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আহমদ শফীর অনুপস্থিতিতে শেখ আহমদই ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত থেকে পুরোপুরি মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন কি না, তা নির্ধারণ করবে পরবর্তী শুরা কমিটি।

তবে এ বিষয়ে আল্লামা বাবুনগরীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব হুজুরের সভাপতিত্বে আজ হাটহাজারী মাদরাসার মজলিসে শূরার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে  আমাকে বৈঠকে ডাকা হয়েছে। সেসব বিষয়ে আমি আমার সুস্পষ্ট বক্তব্য শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব ও শূরার সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করেছি। কিন্তু বৈঠকে শূরার সদস্যদের নিকট মুঈনে মোহতামীমের পদ থেকে পদত্যাগ  চাওয়া বা পদত্যাগের  বিষয়ে কোনধরনের সম্মতি আমি প্রকাশ করিনি। এবং উক্ত বৈঠকে আমাকে মুঈনে মোহতামীম এর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে শূরার সদস্যগণ আমাকে কিছুই বলেননি। বৈঠক শেষ হওয়ার অনেক পরে একজন শূরার সদস্য মুঈনে মোহতামীমের পদ থেকে আমাকে অব্যাহতির বিষয়টি জানিয়েছেন।

আমি জানতে পেরেছি, মাদরাসার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মাওলানা নোমান ফয়জীর বরাতে এবং একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মাওলানা নুরুল আমীন সাহেবের বরাতে প্রচারিত হচ্ছে যে,আমি মজলিসে শূরার সদস্যদের নিকট মুঈনে মোহতামীম বা সহযোগী পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগের সম্মতি প্রকাশ করায় তারা আমাকে উক্ত পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। অথচ এ কথা ভিত্তিহিন। আমি শূরার সদস্যদের নিকট কোন পদত্যাগ চাইনি।

এ সম্পর্কে শূরা সদস্য আল্লামা নোমান ফয়জীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রবচনকে বলেন, শূরার বৈঠকে বাবুনগরী ইস্তফা দেননি। তাঁর পক্ষ থেকে এমন কোন বিষয় আলোচনায় আসেনি। যারা আমার বরাতে এমন কথা বলছে তারা মিথ্যা কথা বলছে। আমি এমন কোন কথা বলিনি।

তিনি আরোও বলেন, অনেকে বলছে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছি। এটাও মিথ্যা কথা। উক্ত বৈঠকের আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা এখন পর্যন্ত দেয়া হয়নি।

বাংলাদেশে অনতিবিলম্বে ইসকন নিষিদ্ধ ...
নিজস্ব প্রতিবেদক: মজলিসে শূরার সদস্যদের নিকট হাটহাজারী মাদরাসার মুঈনে মোহতামীম বা সহযোগী পরিচালকের পদ থেকে সরাসরি পদত্যাগ  বা পদত্যাগের বিষয়ে কোন প্রকারের সম্মতি প্রকাশ করেননি আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। 

আজ ১৭ ই জুন বুধবার রাতে সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি ।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন,শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব হুজুরের সভাপতিত্বে আজ হাটহাজারী মাদরাসার মজলিসে শূরার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে  আমাকে বৈঠকে ডাকা হয়েছে। সেসব বিষয়ে আমি আমার সুস্পষ্ট বক্তব্য শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব ও শূরার সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করেছি। কিন্তু বৈঠকে শূরার সদস্যদের নিকট মুঈনে মোহতামীমের পদ থেকে পদত্যাগ  চাওয়া বা পদত্যাগের  বিষয়ে কোনধরনের সম্মতি আমি প্রকাশ করিনি। এবং উক্ত বৈঠকে আমাকে মুঈনে মোহতামীম এর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে শূরার সদস্যগণ আমাকে কিছুই বলেননি। বৈঠক শেষ হওয়ার অনেক পরে একজন শূরার সদস্য মুঈনে মোহতামীমের পদ থেকে আমাকে অব্যাহতির বিষয়টি জানিয়েছেন।

আমি জানতে পেরেছি, মাদরাসার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মাওলানা নোমান ফয়জীর বরাতে এবং একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মাওলানা নুরুল আমীন সাহেবের বরাতে প্রচারিত হচ্ছে যে,আমি মজলিসে শূরার সদস্যদের নিকট মুঈনে মোহতামীম বা সহযোগী পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগের সম্মতি প্রকাশ করায় তারা আমাকে উক্ত পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। অথচ এ কথা ভিত্তিহিন। আমি শূরার সদস্যদের নিকট কোন পদত্যাগ চাইনি।

স্বপদেই আল্লামা শফী, বাবুনগরীর স্থলে শেখ আহমদ
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী (বড় মাদরাসা) শূরা কমিটির বৈঠকে মাদরাসার মহাপরিচালক পদে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী বহাল রয়েছেন। সহযোগী মহাপরিচালকের (নায়েবে মুহতামিম) দায়িত্ব পালনকারী মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরীর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও প্রবীণ আলেম মাওলানা শেখ আহমদকে।

আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মাদরাসা কার্যালয়ে আয়োজিত শূরা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এতে ১১ জন শূরা সদস্যের উপস্থিতিতে এ সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। 

মাদরাসা কার্যালয়ে আয়োজিত শূরা কমিটি বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা হলেন হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী, আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি নুরুল আমিন, মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী, মাওলানা নোমান ফয়জী, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেপুরী, মাওলানা আবুল হাসান, মাওলানা আবুল কাসেম, মাওলানা ওমর ফারুক ও মাওলানা সোহাইব নোমানী।

বুধবার হাটহাজারী মাদ্রাসার মজলিশে ...
প্রবচন: দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার পরবর্তী মহাপরিচালক পদে বাছাই করা হচ্ছে আজ। দেশের শীর্ষ এ কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম ‘মজলিসে শূরা কমিটি’ নির্ধারণ করবে কে হচ্ছেন বর্তমান মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফীর উত্তরসূরি।

আজ বুধবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে মজলিসে শূরা কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ বিকেল ৪টার পর। 

যিনিই উত্তরসূরি নির্বাচিত হবেন তিনিই এক সময় হবেন হেফাজতে ইসলাম, বেফাক, আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে শীর্ষ কওমি আলেমের দায়িত্বও পালন করবেন। আল্লামা আহমদ শফী বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় উত্তরসূরি নির্বাচন করে যেতে চাইছেন।

তাই আজ বুধবার বৈঠকে বসছে ‘মজলিসে শূরা কমিটি’। এ কমিটি নির্ধারণ করবে মাদরাসার পরবর্তী মোহতামিম বা মহাপরিচালক। যিনি আহমদ শফীর জীবিত থাকা অবস্থার হাটহাজারী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং পরবর্তীতে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন। মজলিসে শূরার ১৭ সদস্যের মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন। তাই ১১ জন শূরা সদস্য ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নির্বাচন করবেন। তারা সবাই বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন এবং দুপুরে উক্ত বৈঠকে অংশ নেন মাদরাসার সহকারী পরিচালক ও হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। 

লাদাখে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে ভারত ও ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লাদাখে ভারত-চীনের সেনা সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে এমনটাই দাবি করেছে ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই। ভারতীয় সেনাকে উদ্ধৃত করে এএনআই জানিয়েছে, সোমবার রাতের সংঘর্ষে তিন জন ভারতীয় সেনা নয়, কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় পয়েন্ট ১৪ ভারত-চীন সেনার সংঘর্ষের খবর প্রকাশ্যে আসে। আনন্দবাজারের এক খবরে বলা হয়, সোমবার রাতের সংঘর্ষে, ভারতীয় সেনার ১ কর্নেলসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। সেনা এবং সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে, একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করে, চীনের অন্তত পাঁচ জন সেনা নিহত হয়েছেন সোমবার রাতের সংঘর্ষে। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। 

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, সোমবার রাতে সংঘর্ষে আরো ১৭ জন গুরুতরভাবে জখম হয়েছিলেন। হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে অবস্থান এবং খোলা আকাশের নিচে আহত অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলে তাদের মৃত্যু হয়।

এদিকে, সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, চীনা বাহিনীরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এএনআই-এর দাবি, চীনা বাহিনীর অন্তত ৪৩ জন নিহত নয়তো গুরুতর আহত হয়েছেন।

সাঈদীকে প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে কাল্পনিক 'মন্ত্রিসভা' গঠন, যুবক গ্রেপ্তার
প্রবচন ডেস্ক: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে প্রধানমন্ত্রী করে কল্পিত মন্ত্রিসভার এক ছক তৈরি করে তা পোস্ট করায় আব্দুর রহিম (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কল্পিত মন্ত্রিসভায় জামায়াত নেতা, ধর্মীয় আলোচক ও বিএনপি জোটের নেতারাও রয়েছেন। 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার আব্দুর রহিমের বাড়ি দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের সর্দারপাড়া এলাকায়। সে ওই এলাকার নায়েব আলীর ছেলে।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দেবীগঞ্জ থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ওই যুবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জায়গায় জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেই সাঈদী, ধর্মমন্ত্রীর জায়গায় মিজানুর রহমান আজহারী, অর্থমন্ত্রীর জায়গায় আন্দালিব রহমান পার্থসহ মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে জামায়াত নেতাসহ তার মনগড়া নেতাদের নাম বসিয়ে কল্পিত মন্ত্রিসভার ছক এঁকে তা তার ফেসবুকের টাইমলাইনে শেয়ার করে। সেখানে ওই যুবক লেখে যে, এই ব্যক্তিরা যদি সরকার পরিচালনা করত তাহলে কতই না ভালো হতো।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট দেয়ার পর পরই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশ অবহিত করেন। সোমবার গভীর রাতে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও জব্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই গোলজার হোসেন।

উল্লেখ্য, গত দু’দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের পছন্দের মানুষের ছবি দিয়ে ‘কল্পিত মন্ত্রিসভা’ এর ছক একে তা পোস্ট করছেন। বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হতে দেখা গিয়েছে। অনেকে জানিয়েছেন, ‘আমরা কেবল মজা করার জন্য এমনটি করেছি। এমন নয় যে, এর মাধ্যমে আমরা দেশের মন্ত্রিসভা নির্বাচন করছি।’

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু ও আক্রান্তের রেকর্ড
ডেস্ক: করোনা ভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছেন। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল এক হাজার ২৬২ জনে। একই সময়ে নতুন করে আরও তিন হাজার ৮৬২ জনের মধ্যে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ফলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৪ হাজার ৪৮১ জনে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা অনলাইনে বুলেটিন পড়েন।

তিনি মোট ৬১টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮ হাজার ৪০৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৭ হাজার ২১৪টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার ৭১৭টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ৮৬২ জনের দেহে। ফলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৪ হাজার ৪৮১ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৫৩ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হলো এক হাজার ২৬২ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও দুই হাজার ২৩৭ জন। সব মিলিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা এখন ৩৬ হাজার ২৬৪ জন।

বরাবরের মতো করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মুখে মাস্ক পরা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান ডা. নাসিমা।

রেডজোন রাজাবাজার রাত ১২ টার পরে লকডাউন
কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে যে তিনটি জোনে ভাগ করা হচ্ছে, তার মধ্যে লাল জোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

এছাড়া গত ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে যেভাবে অফিস চলছে, হলুদ ও সবুজ জোনে অবস্থিত অফিসগুলো ১৬ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেভাবেই চলবে জানিয়ে সোমবার আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রথমে লাল ও হলুদ জোনে সাধারণ ছুটি থাকবে বলে জানালেও রাতে আদেশ সংশোধন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, “লাল অঞ্চলে অবস্থিত সামরিক বা অ-সামরিক সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বয়ত্তশাসিত বা বেসরকারি দপ্তরগুলো এবং বসবাসকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

“হলুদ ও সবুজ অঞ্চলে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এব বেসরকারি অফিস নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে।”

সীমিত পরিসরে অফিস খোলা থাকার সময় অর্থাৎ, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের গণপরিবহনও চলাচল করতে পারবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে বলা হয়, “অনুমোদিত অঞ্চলে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহণ, যাত্রীবাহী নৌযান, রেল ও বিমান চলাচল করতে পারবে; তবে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।”

গত ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটির সময় সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়। ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে অফিস খুলে দিয়ে এই সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহণ চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার।

সীমিত পরিসরে অফিস চালু রাখার ওই সিদ্ধান্তের মেয়াদ নতুন করে ১৬ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি ওই সময় পর্যন্ত গণপরিবহন চালানোরও অনুমতি দেওয়া হল।

বিধি-নিষেধ

 সীমিত আকারে অফিস, যানবাহন খোলা থাকলেও যেসব ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে, তা ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটি এ নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

 রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (প্রয়োজনীয় ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, ওষুধ কেনা, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না; বাইরে চলাচলের সময় অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এ নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 বিধিনিষেধের সময়ে জনসাধারণ এবং সব কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই স্থাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশাবলি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

 হাটবাজার, দোকান-পাটে কেনাবেচার পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিংমলে আসা যানবাহনগুলোকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। বাজার, দোকানপাট এবং শপিংমলগুলো বিকাল ৪টার মধ্যে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

 আইনশৃঙ্খলা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাজে নিয়োজিত সংস্থা এবং জরুরি পরিষেবা যেমন- ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা-বহির্ভুত থাকবে।

 সড়ক ও নৌপথে সকল প্রকার পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাক, লরি, কার্গো ভেসেল চলাচল অব্যাহত থাকবে।

 কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্প পণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচা বাজার, খাবার, ঔষধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হবে না।

 চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী এবং ঔষধসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যম (ইলেকট্রনিক ও প্রিন্টি মিডিয়া) এবং কেবল টিভি নেটওয়ার্কে নিয়োজিত কর্মীরা এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবেন।

 ঔষধশিল্প, উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্পসহ সকল কলকারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে চালু রাখতে পারবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ প্রণীত ‘বিভিন্ন শিল্প কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

 নিষেধাজ্ঞাকালে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। তবে অনলাইন কোর্স/ডিস্টেন্স লার্নিং অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশাসনকি কার্যাবলি চালাতে পারবে।

➠ অঞ্চলভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

 অনুমোদিত অঞ্চলে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান, রেল ও বিমান চলাচল করতে পারবে; তবে মাস্ক পরা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

➠ সকল প্রকার সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত ও অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ থাকবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুশাসন ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদগুলোতে জামাতে নামাজ আদায় এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসানালয়ে প্রার্থনা করা যাবে।

➠ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রণীত ‘বাংলাদেশ রিস্ক জোন-বেইজড কোভিড-১৯ কনটেইনমেন্ট ইপ্লিমেন্টেশন স্ট্র্যাটিজি/গাইড অনুসরণ করে কর্তৃপক্ষ লাল অঞ্চল (রেড জোন), হলুদ অঞ্চল (ইয়োলো জেন) ও সবুজ অঞ্চল (গ্রিন জোন) হিসেবে ভাগ করে জেলা/উপজেলা/এলাকা/বাড়ি/মহল্লাভিত্তিক জন চলাচল/জীবনযাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি জোনের জন্য কোভিড নমুনা পরীক্ষা, কোভিড-ননকোভিড স্বাস্থ্যসেবা প্রোটোকল, কোয়ারেন্টিনন/আইসোলেশন, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, জন চলাচল, যান চলাচল, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, খাবার ও ওষুধ সরবরাহ, দরিদ্র লোকদের জন্য মানবিক সহায়তা, মসজিদ-মন্দির অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ধর্মচর্চা, জনসচেতনতা তৈরি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ব্যাংকিং সুবিধাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান/শিল্প প্রতিষ্ঠান/ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

➠ সিটি করপোরেশন এলাকায় অঞ্চলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার সার্বিক দায়িত্ব থাকবে সিটি করপোরেশনের। সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে জেলা প্রশাসন সার্বিক সমন্বয় করবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা/উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। এ কার্যক্রমে সংসদ সদস্যরাসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ স্বেচ্ছাসেবীসহ অন্যান্যদেরকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

➠ লাল অঞ্চলে অবস্থিত সামরিক বা অ-সামরিক সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি দপ্তরগুলো এবং বসবাসকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

➠ হলুদ ও সবুজ অঞ্চলে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসগুলো নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এ নিষেধাজ্ঞাকালে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। ঝুঁকিপূর্ণ, অসুস্থ কর্মচারী এবং অন্ত্বঃসত্তা নারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে জারি করা ১২ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্র ছাড়া সব সভা ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আয়োজন করতে হবে।

অবশেষে ভারতীয় দূতাবাসের দুই কর্মীকে ছেড়ে দিল পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অবশেষে দিনভর নানা নাটকীয়তা শেষে ভারতীয় দূতাবাসের আটক ২ কর্মীকে ছেড়ে দিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার সকালে পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাসের দুই কর্মীর নিখোঁজ হওয়ার খবর চাউর হয়।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে ইসলামাবাদ বিমানবন্দর যাওয়ার পথে ভারতীয় দূতাবাসের ওই দুই কর্মীর গাড়ি আটক করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।

তাদের বিরুদ্ধে 'হিট অ্যান রান কেস' দেওয়া হয়। দুপুরে তাদের আটকের কথা স্বীকার করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দুই কর্মীকে আটকের খবর পাওয়ার পরই দিল্লিতে পাক হাই কমিশনের চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স সৈয়দ হায়দার শাহকে ডেকে পাঠায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আটকের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ করা হয়।

জানিয়ে দেওয়া হয়, আটক ২ কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ বা হেনস্থা করা যাবে না। তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পাকিস্তানকেই নিতে হবে।

এরপর জানা যায়, গতকাল বিকালে ইসলামাবাদ হাই কমিশনে ফিরে এসেছেন ওই ২ কর্মী।

এর আগে গত ১ জুন দিল্লিতে পাক হাই কমিশনের ২ কর্মীকে আটক করে ভারত পুলিশ। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাদের আটক করে। সেইসঙ্গে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর থেকেই থেকেই দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। 

-জি নিউজ

করোনার নমুনা সংগ্রহে অস্থায়ী ক্যাম্প পরিচালনা করছে রংপুর সিটি কর্পোরেশন
প্রবচন: রংপুরে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় সাধারণ মানুষের উৎসাহ বেড়েছে। তাই চাপ বেড়েছে সাধারণ মানুষের। রংপুর মহানগরীর সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে নভেল করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহে অস্থায়ী ক্যাম্প পরিচালনা শুরু করেছে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার (১৫ জুন) নগরীর ইঞ্জিনিয়ারপাড়াস্থ বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নভেল করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহে অস্থায়ী ক্যাম্পে নমুনা দিতে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। নমুনা সংগ্রহের প্রথম দিনে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাধারণ মানুষ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যবৃন্দ নমুনা প্রদান করেন। আর এই নমুনা রংপুর সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের চুক্তিভিত্তিক ল্যাব টেকনিশিয়ান দিয়ে নমুনা গ্রহণ হচ্ছে।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা সাংবাদিকদের জানান, দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে একমাত্র রংপুর সিটি কর্পোরেশন বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছে। কিন্তু পরীক্ষায় বিলম্বের কারণে এ ভাইরাস দ্রুত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়াচ্ছে। রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় ১০লাখ মানুষের বসবাস। নগরবাসীর সুবিধার্থে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। নমুনা প্রদানে মানুষের আগ্রহ যেভাবে বেড়েছে, এতে কমপক্ষে আরো দু’তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করা প্রয়োজন। সেই তুলনায় জনবল দক্ষ টেকনিশিয়ান রংপুর সিটি কর্পোরেশনে নেই। রেড জোন রংপুরের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আরো দু’টি নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাব স্থাপন করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান তাজ জানান, রংপুর নগরীতে ভয়াবহ অবস্থা, কিন্তু আমরা অসহায়। আমাকে মাত্র ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ২০টি পুরাতন রোগী এবং নতুন ২০টি রোগী।

করোনা প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষাবিদ ফখরুল আনাম বেঞ্জুসহ সাধারণ মানুষ রংপুর সিটি মেয়রের এ উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ক্যাম্প স্থাপন করে নমুনা সংগ্রহ করার এই উদ্যোগ অত্যন্ত মহৎ কাজ। রংপুর মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনে নমুনা পরীক্ষার জন্য দুটি ল্যাব স্থাপন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রবচন ডেস্ক: রাজধানীতে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায় মিলছে করোনার নেগেটিভ কিংবা পজিটিভের জাল সনদ। রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে এমনি এক প্রতারক চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশের এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

সোমবার (১৫ মে) সকালে উত্তর মুগদা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে র‍্যাব-৩ এর একটি দল। এসময় বিপুল পরিমাণ ভুয়া সনদ ও সনদ তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

করোনায় মহামারিতে যখন অসহায় নগরবাসী, তখন ফায়দা লুটতে ব্যস্ত কিছু মানুষ। মুগদা এলাকায় ছোট্ট একটি স্টুডিও। যেখানে চলে ফটোকপির কাজও। এরই আড়ালে চলছে, করোনা পরীক্ষার জাল সনদ বেচাকেনার রমরমা ব্যবসা।

মাত্র পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকায়, নেগেটিভ কিংবা পজিটিভ ফলের সনদ দিচ্ছিলেন দোকানের ৪ কর্মী। খবর পেয়ে আজ সোমবার অভিযান চালায় র‍্যাব। গ্রেপ্তার করে তাদের।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব-৩ এর অতিরিক্ত এসপি ফাইজুল ইসলাম বলেন, চক্রটি মুগদা হাসপাতাল থেকে দেয়া করোনা রোগীর করোনা পজিটিভ রিপোর্টের কপি সংগ্রহ করে তা স্ক্যান করে সেখানে নাম বসিয়ে বিক্রি করছে। যাদের নেগেটিভ রিপোর্ট দরকার তাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভুয়া করোনার সনদ তৈরি করে বিক্রি করে আসছিল।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিকেলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে বলে র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ৪ জুন করোনা নেগেটিভের জাল সনদ বিক্রির দায়ে সাভার থেকে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়।

এদের মধ্যে সাঈদ মিয়া নামে এক যুবক সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদার স্বাক্ষর ও সিল জাল করে করোনা পরীক্ষার ভুয়া প্রত্যয়নপত্র বিক্রি করছিলেন।

এ ঘটনায় সাঈদ মিয়া ও তার সহযোগীকে পুলিশে সোপর্দ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে মালয়েশিয়ায় করোনার নেগেটিভ রিপোর্টের জাল সনদ বিক্রির ঘটনায় দুই দফায় মোট ৫ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ।

প্রিয় | ইন্টারনেট লাইফ
প্রবচন ডেস্ক: চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩০ জুলাই চলতি বছরের পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর হজ পালিত হবে কি না, সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সৌদি আরব। তবে এরই মধ্যে বিশ্বের সাতটি দেশ এ বছর হজে অংশ নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।

গতকাল রোববার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অন্তত সাতটি দেশ চলতি বছরের হজযাত্রা বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। সর্ব প্রথম এই ঘোষণা দেয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম প্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়া। একই কথা জানিয়েছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং ব্রুনাই। আর সর্বশেষ এই কথা জানিয়েছে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

হজ পালনে নাগরিকদের অনুমতি দেবে না বলে এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছে দেশগুলোর সরকার। এ ছাড়া আরো বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে হজযাত্রা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, হজ নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে সারা পৃথিবীর মুসলমানদের যেমন একটা চাপ আছে, তেমনি সৌদি আরব নিজেও প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছে একটা পরিষ্কার সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে। দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনেকেই এ বছর হজ বাতিল করার পক্ষে।

তবে সবদিক বিবেচনায় করোনাভাইরাসের টালমাটাল অবস্থার মধ্যেও সীমিত আকারে হজ আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করছে সৌদি সরকার। প্রতিটি দেশ থেকে নির্দিষ্ট কোটার ২০ শতাংশ মুসল্লিকে বিশেষ ব্যবস্থায় উড়িয়ে নেয়া হবে।

সেজন্য চলতি বছরের হজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে সৌদি সরকার। দফায় দফায় বৈঠক করেও তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছিলেন না। বিশেষজ্ঞরাও দুই ভাগে ভাগ হয়ে যান, এক দল হজ অনুষ্ঠানের পক্ষে এবং আরেক দল বিপক্ষে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, বেশ কিছু দিক বিবেচনায় নিয়ে খুব সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি ভাবছে সৌদি সরকার। হজের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত দুটি প্রস্তাব বিবেচনায় রাখা হয়েছে। একটি হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত সংখ্যক মুসল্লি নিয়ে হজ আয়োজন করা। অন্যটি হচ্ছে, হজ বাতিল করা হতে পারে।

দুটি প্রস্তাব নিয়েই বর্তমানে আলোচনা চলছে। তবে মুসল্লিদের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়েই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী দুই একদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।


হাবীব আনওয়ার: করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অবনতির  কারণে, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেখল  হামিউচ্ছুন্নাহ মাদরাসার ছুটি বাড়লো আগস্টের ৮ তারিখ পর্যন্ত। 

আজ ১৫ জুন সোমবার মাদরাসার পরিচালক আল্লামা নোমান ফয়জী'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মাদরাসার সকল উস্তাদ উপস্থিত ছিলেন।

মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক ও সহকারী হল সুপার মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী তাঁর ফেসবুক পোস্ট বলেন, ঐতিহ্যবাহী মেখল হামিয়ুচ্ছুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪১/৪২ হি. ২০২০/২১ ইংরেজি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি ইচ্ছুক সকল ছাত্রদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আজ ১৫ জুন জামিয়ার সকল শিক্ষকদের এক জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে  নিম্ন লিখিত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় :
১/ আগামী ১৮ ই জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরি মোতাবেক ৮ ই আগষ্ট ২০২০ ইং শনিবার জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল খোলা হবে। এবং আবাসিক ছাত্রদের সিট দেওয়া হবে।
২/ ৯ ই আগষ্ট ২০২০ রবিবার মাদ্রাসার ভর্তি আরম্ভ হবে। 
৩/ মাদরাসা খোলার আগে  কোন ছাত্রকে  মাদ্রাসায় উপস্থিত হতে নিষেধ করা হয়েছে।

মাওলানা ফয়জী প্রবচন মিডিয়াকে বলেন, দীর্ঘ সময় এই ছুটি যদিও ছাত্রদের জন্য ক্ষতি তবুও আমরা পরিস্থিতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। তবে আমরা ছাত্রদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি,  নিজ ভবিষ্যতের জন্য নিজের অবস্থানে থেকে পড়াশোনায় নিয়জিত থাবেন। মুফতী আজম ফয়জুল্লাহ রহ. এর লিখিত নিজামুল আওকাত অনুযায়ী সময়গুলো অতিবাহিত করবেন। এবং বিশ্বিক মহামারি থেকে বাঁচার জন্য, নামাজ, রোজার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে রোনাজারি করুন।


ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। 

আজ ১৪ ই জুন রবিবার সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় আল্লামা বাবুনগরী বলেন,ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ একজন উদার মনের মানুষ ছিলেন। মসজিদ- মাদরাসা ও  ওলামায়ে কেরামের সাথে ছিলো তাঁর সুসম্পর্ক। ওলামায়ে কেরামকে তিনি অনেক বেশি ইজ্জত সম্মান ও মুহাব্বত করতেন। ওলামায়ে কেরামের প্রতি তিনি ছিলেন যথেষ্ট আন্তরিক। 

তার জীবনী থেকে জানা যায়,গওহরডাঙ্গা মাদরাসায় পবিত্র কোরআন হেফজের মাধ্যমে তিনি তার শিক্ষাজীবন শুরু করেছিলেন। মুজাহিদে আযম খ্যাত আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহির সাথে তিনি সুসম্পর্ক রাখতেন।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন,ইসলাম,
মুসলমান,ওলামায়ে কেরাম ও মাদারিসে কওমীয়ার জন্য তিনি যেসব কল্যাণের কাজ করেছেন মহান প্রভুর দরবারে এর উত্তম বিনিময় পাবেন।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, মহান প্রভুর দরবারে আমি দুআ করি, আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল দ্বীনি খেদমতকে কবুল করুন এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে জান্নাত দান করুন,আমিন।

দেশে করোনায় নতুন ৩১৪১ জন শনাক্ত
প্রবচন ডেস্ক: বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩,১৪১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের। গতকাল শনিবারের চেয়ে আজ রবিবার ২৮৫ জন বেশি শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল শনাক্ত হয়েছিলেন ২,৮৫৬ জন। এনিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখা দাঁড়ালো ৮৭,৫২০ জন।

আজ রবিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

অনলাইন বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪,৫০৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে সকলের প্রতি আহবান জানানো হয়।

দেশে নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
প্রবচন ডেস্ক: গত রাতে মারা যাওয়া ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি হলেন বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার প্রথম কোনো সদস্য, যিনি কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত থাকা অবস্থায় মারা যান।

মারা যাওয়ার পর ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিলো। রবিবার সকালে রিপোর্ট পাওয়া যায়। যেখানে পিসিআর টেস্টে তার করোনা ধরা পড়ে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর গণসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তার মৃত্যু ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

শেখ আবদুল্লাহ টেকনোক্র্যাট হিসেবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে এখন গোপালগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ১৯৪৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার মধুমতী নদীর তীরবর্তী কেকানিয়া গ্রামের জন্মগ্রহণ করেন শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

তার বাবার নাম মতিউর রহমান এবং মা রাবেয়া খাতুন। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। স্থানীয় গওহরডাঙ্গা হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পবিত্র কোরআন হেফজের মাধ্যমে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। এরপর একই মাদ্রাসায় কওমি ধারায় পড়াশোনা করেন।

১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমকম এবং ১৯৭৪ সালে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। এরপর ১৯৭৭ সালে ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্ট মুজিব বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যোগ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

প্রবচন ডেস্ক: দেশের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী সুজানা জাফর। কয়েক বছর ধরে একজন ব্যবসায়ী হিসেবেও সুপরিচিত তিনি। পাশাপাশি একজন সমাজ সচেতন মানুষ হিসেবেও সমাদৃত।

বছর জুড়েই এতিম ও বৃদ্ধদের জন্য নানারকম উদ্যোগ থাকে তার। করোনা পরিস্থিতিতেও বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা ইউনিয়নের পাড়াগাঁও এলাকার এক বৃদ্ধার দায়িত্ব নিয়েছেন।

এবার নতুন খবর হলো অভিনয় শোবিজ জগত ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিলেন লাক্স ফটো-সুন্দরী মডেল ও অভিনেত্রী সুজানা জাফর। শোবিজ ছেলে ধর্মে-কর্মে মন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

২০১৮ সালের নভেম্বরে ওমরাহ হজ পালন করেন সুজানা। গত তিন মাস হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে নিয়মিত কোরআন, হাদিস পড়েছেন। আর ধীরে ধীরে নাকি বদলে গেছে তার মন। এমনটাই জানান তিনি।

সুজানা বলেন, ‘গত ৩ মাসে কোরআন, হাদিস থেকে যা শিখেছি সেখান থেকে আমি যে শান্তি পেয়েছি, তা আগে কখনই পাইনি। আমার মন থেকে মিডিয়ায় কাজের ইচ্ছে নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আমি মিডিয়াতে আর কাজ করবো না।’

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে মডেলিং এর মাধ্যমে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু করেন সুজানা জাফর। ২০০৩ সালে তিনি লাক্স ফটোসুন্দরী খেতাব পান। এরপর অনেক বিজ্ঞাপন, মিউজিক ভিডিও, নাটকে তার দেখা মিলেছে। গত ৩ বছর ধরে মিডিয়াতে অনিয়মিত সুজানা। বর্তমানে বুটিক্স ব্যবসা করছেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ মারা গেছেন
প্রবচন ডেস্ক: ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার ‍মৃত্যু হয়। প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব শেখ নাজমুল হক সৈকত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এর আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শনিবার রাত ১০টায় সিএমএইচ এর আইসিউতে ভর্তি করা হয় তাকে। পরে তার অবস্থার অবনতি ঘটে।

শেখ আব্দুল্লাহ ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ ১৯৪৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতী নদীর তীরবর্তী কেকানিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শেখ মো. মতিউর রহমান এবং মাতা মোসাম্মৎ রাবেয়া খাতুন। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

শেখ মো. আব্দুল্লাহ স্থানীয় গওহরডাঙ্গা হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে কোরআনে হেফজের মাধ্যমে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। এরপর একই মাদ্রাসার কওমি ধারায় পড়াশোনা করেন। ১৯৬১ সালে মেট্রিক, ১৯৬৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৬৬ সালে বি কম (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে এম কম এবং ১৯৭৪ সালে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৭ সালে ঢাকা সেন্ট্রাল ‘ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রিও নেন শেখ আব্দুল্লাহ।

শিক্ষা জীবন শেষে সুলতানশাহী কেকানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে আইনজীবী হিসেবে গোপালগঞ্জ জজ কোর্ট ও ঢাকা জজ কোর্টে প্র্যাকটিস করেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করে ছাত্রজীবনেই রাজনীতির সাথে যুক্ত হন আব্দুল্লাহ। যুব লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে তিনি আওয়ামী যুব লীগে যোগ দেন। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী যুব লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিরও দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এরপর কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালে মুজিব বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে রাজনীতিতে ঝুঁকে পড়েন শেখ আব্দুল্লাহ। দীর্ঘদিন গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ আওয়ামী লীগের বিগত কেন্দ্রীয় কমিটিতে ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

ছেলে তানভীর জানালেন: মারা গেছেন নাসিম
প্রবচন ডেস্ক: সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ শনিবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে তাঁর মৃত্যুর কথা ঘোষণা করা হয়। টানা দুই সপ্তাহ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে চলে গেলেন তিনি। রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।

হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বেলা ১১টা ১০ মিনিটে নাসিমের মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রক্তচাপজনিত সমস্যা নিয়ে ১ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। ওই দিনই তাঁর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ৪ জুন তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ৫ জুন ভোরে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়। এরপর দুই দফায় ৭২ ঘণ্টায় করে পর্যবেক্ষণে রাখে মেডিকেল বোর্ড। এর মধ্যেই পরপর তিনবার নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি তাঁর শরীরে।

কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকলেও গত বৃহস্পতিবার রক্তচাপ অস্বাভাবিক ওঠানামা করতে থাকে নাসিমের। এরপর গতকাল শুক্রবার পরিস্থিতি আরও জটিল হতে থাকে। হৃদ্‌যন্ত্রে জটিলতা দেখা দেয়।

মোহাম্মদ নাসিমের বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারের অভ্যন্তরে নিহত জাতীয় চার নেতার একজন এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম। তিনি সংসদে পঞ্চমবারের মতো সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন।

মোহাম্মদ নাসিম বর্তমান সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মুখপাত্রও তিনি।

২০১৪ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মোহাম্মদ নাসিম। এর আগে ১৯৯৬-২০০১ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।


মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী   
চট্টগ্রাম উত্তর জেলার মীরস্বরাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম শিক্ষা কেন্দ্র আবুরহাট মুনিরুল ইসলাম মাদ্রাসার মহান স্থপতি বিশ্ব বরেণ্য আলেমেদ্বীন হযরত মাওলানা গাজী এলাহী বখশ সাহেবের চতুর্থ সাহেবযাদা অত্র মাদরাসার স্বনামধন্য মুহতামিম হযরত মাওলানা নুরুল হুদা সাহেব
১৯৩৭ ইংরেজি সনে মীরস্বরাই থানার মুরাদপুর গ্ৰামে জন্ম গ্ৰহন করেন।
১৯৪২ সনে তাঁর পিতা মাওঃ এলাহি বখশ (রাহ) ইন্তেকাল করলে তিনি পাঁচ বৎসর বয়সে পিতা হারা হয়ে যান এবং এতীম হয়ে পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে যান তাঁর নানার বাড়ি মীরস্বরাই ছদমারদিঘী এলাকায় হওয়ার সুবাদে তিনি
ছদমারদিঘী প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া করেন এবং তাঁর আপন মামা মাওঃ সুলতান আহমদ খান (ফাযিলে দারুল উলুম দেওবন্দ) থেকে কায়দায়ে বোগদাদী ,আমপারা এবং বিশুদ্ধ কুরাআনের শিক্ষা গ্ৰহন করেন অতঃপর ১৯৪৪ সনে আবুরহাট মুনিরুল ইসলাম মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন এবং উর্দু,ফার্সি, আরবী ব‍্যকরণ সহ জামাতে শশম পর্যন্ত আবুরহাট মাদরাসায় লেখাপড়া করেন। অতঃপর দক্ষিণ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া কোদালা মাদরাসায় এক বছর, জামেয়া ইসলামিয়া জমিরিয়া কাসিমুল উলূম পটিয়া মাদরাসায় এক বছর লেখাপড়া করে ১৯৬২-৬৩ ইংরেজী সনে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম চাক্তাই মিয়াখাঁ নগর মোজাহিরুল উলূম মাদরাসায় মিশকাত জামাত ও দাওরা তথা উলা ও টাইটেল জামাত শেষ করে লেখাপড়ার সমাপ্তি টানেন।মোজাহিরুল উলূম মাদরাসায় দাওরায়ে হাদিস পাশ করার পর ১৯৬৩ ইংরেজী সনে নিজ পিতার প্রতিষ্ঠিত মীরস্বরাই থানার ঐতিহ্যবাহী আবুরহাট মুনিরুল ইসলাম মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে তিনি যোগদান করেন । এখানে দু'বছর শিক্ষকতা করার পর হযরত মাওলানা আমিনুল হক সাহেব রাহ.এর মধ‍্যস্ততায় এবং হযরত মাওলানা জহুরুল হক সাহেব রাহ.এর পরামর্শে দেশের পশ্চিম অঞ্চলে তথা খুলনা জেলায় চলে যান। খুলনা জেলায় জামেয়া সিদ্দিকিয়া পাটকেলঘাটা মাদরাসা সহ একাধিক সরকারীও কওমী মাদরাসায় তিনি শিক্ষকতা করেন এবং টানা একুশ বছর খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় কাটিয়ে দেন। ১৯৮২ ইংরেজী সনে আবুরহাট মুনিরুল ইসলাম মাদরাসার সাবেক মুহতামিম আমি অধম এবং আমার শ্রদ্ধেয় আব্বাজানের উস্তাদ জগৎ বিখ্যাত আলেম ( ছোট কালে যার খেদমত ও সান্নিধ্যে থাকার আমার সুযোগ হয়েছিল যার স্নেহ আমি জীবনেও ভুলতে পারবনা) হযরত মাওলানা গোলামুর রহমান রাহ.অসুস্ত হয়ে অনেকটা সাহেবেফেরাশ হয়ে গেলে তিনি স্বেচ্ছায় মাওঃ নুরুল হুদা সাহেব কে ডেকে পাঠান এবং হযরত মাওলানা নুরুল হুদা সাহেব ১৯৮২ ইংরেজি সনে আবুরহাট মুনিরুল ইসলাম মাদরাসার মুহতামিমের দায়িত্ব গ্ৰহন করেন। দায়িত্ব গ্ৰহনের পর থেকে  মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে বহাল ছিলেন। হযরত মাওলানা নুরুল হুদা সাহেবের সাথী-সঙ্গীদের মধ্যে প্রায় সকলেই এখন কবরবাসী হয়ে গেছেন-হযরত মাওলানা আমিনুল হক সাহেব রাহ. দেওখালী , হযরত মাওলানা মাকসুদ আহমদ রাহ জয়নগর ,হযরত মাওলানা সফিউল্লাহ সাহেব রাহ.লুদ্দাখালী , হযরত মাওলানা আবুতাহের সাহেব রাহ. বাঁশখালী, হযরত মাওলানা মুফিজ সাহেব রাহ. রুকুন্দীপুর,হযরত মাওলানা ইউসুফ সাহেব রাহ.ওসমানপুর,হযরত মাওলানা বেলায়েত হোসেন সাহেব রাহ. বিশুমিয়ারহাট, হযরত মাওলানা ক্বারী নুরুজ্জামান সাহেব রাহ.তেমুহানী তার সাথী-সঙ্গীদের মধ্যে অন্যতম তাঁরা এখন সবাই কবরের বাসিন্দা।
মীরস্বরাই থানায় হযরত মাওলানা নুরুল হুদা সাহেবের উস্তাদ দের মধ্যে - হযরত মাওলানা জহুরুল হক সাহেব রাহ., হযরত মাওলানা আবুবকর সাহেব রহ.পাতাকোর্ট , হযরত মাওলানা সুলতান আহমদ সাহেব রাহ.সাহেবপুর, হযরত মাওলানা আযীযুর রহমান সাহেব রাহ. গোবিনাথপুর, হযরত মাওলানা গোলামুর রহমান সাহেব রাহ. দেওখালী অন‍্যতম ।তারা সকলেই তদানীন্তন সময়ে আবুরহাট মাদরাসার উস্তাদ হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
আবুরহাট মাদরাসার প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এই পর্যন্ত দীর্ঘ একশ বারো বছরে মাত্র তিন ব‍্যক্তিই অত্র মাদরাসার মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করেন-১.হযরত মাওঃ এলাহি বখশ সাহেব রাহ. প্রতিষ্ঠাকাল ১৯০৯ থেকে ১৯৪২ সন পর্যন্ত সময়কাল: ৩৩ বছর ।  ২. হযরত মাওলানা গোলামুর রহমান সাহেব রাহ.১৯৪২ থেকে ১৯৮২ সন পর্যন্ত  সময়কাল: ৪০ বছর।  ৩.হযরত মাওলানা নূরুল হুদা সাহেব রাহ. ১৯৮২ থেকে ২০২০ ইংরেজি সন পর্যন্ত সময়কাল: ৩৮ বছর। আজ ১২/৬/২০২০ ইংরেজী রোজ: শুক্রবার সময় : দুপুর ১২.০৫ মিনিটে মীরস্বরাই উপজেলার বারৈয়ারহাট জেনারেল হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
লেখক: মুহাদ্দি, হাটহাজারী  মাদরাসা ও কেন্দ্রীয় সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ       


আবুল কাসেম আদিল
মাঝেমধ্যে নিজের অজ্ঞতা দেখে বিস্মিত হয়ে যাই। প্রায়ই আবিষ্কার করি, অনেক আগে থেকে অন্যরা এমন অনেক কিছু জানে, যা আমি জানতাম না। এমনই একটি বিষয় হলো, ফরয নামাযের পরে সম্মিলিতভাবে হাত তুলে নিয়মিত মোনাজাত করা। আমি ছোট থেকে ভোলার বিভিন্ন মাদরাসায় হিদায়াহ আউয়ালাইন পর্যন্ত পড়াশোনা করি। ভোলার মাদরাসাগুলো হাটহাজারী মাদরাসার অনুকরণ করে। ফলে সে মাদরসাগুলোতে দেখে এসেছি এবং শুনে এসেছি, হাটহাজারী মাদরাসায় ফরয নামাযের পরে সম্মিলিত মোনাজাত বিদয়াত মনে করা হয়। আমি দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হই ২০০৬ সালে। পড়াশোনা করি ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এই ৬ বছর ধরে আগের জানা মাসআলায় হাটহাজারী মাদরাসাকে অবিচল দেখতে পাই। এর ব্যতিক্রম মাসআলাও যে কওমী অঙ্গনে চর্চিত হয়ে আসছে, তখন আমি ঘুণাক্ষরেও জানতাম না। কয়েকদিন আগে সালাফীদের সঙ্গে কিছু কওমী তরুণের বিতর্ক হয়। বিষয়: ফরয নামাযের পর সম্মিলিত মোনাজাত করা বিদয়াত কি না। আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করলাম (মূলত খেয়াল করে আশ্চর্য হলাম), কওমী তরুণদের অবস্থান বিদয়াত না হওয়ার পক্ষে। সালাফী মতাদর্শের সঙ্গে কওমীদের বেশ কিছু বিষয়ে গবেষণাগত মতবিরোধ আছে। সম্মিলিত মোনাজাতও যে তাদের সঙ্গে একটা মতবিরোধপূর্ণ বিষয়, সত্যি আমি জানতাম না। আমাদের বড়ভাই লাবীব আবদুল্লাহ এই সময়ে তর্কের চেয়ে ঐক্য জরুরি মর্মে একটি পোস্ট করে তোপের মুখে পড়েন। যাঁরা লাবীব আবদুল্লাহকে রীতিমত ‘ধুয়ে’ দেন, তাঁরা সবাই কওমী অঙ্গনের লোক। তাঁরা প্রায় সবাই সম্মিলিত মোনাজাত বিদয়াত না হওয়ার পক্ষে।

উত্তপ্ত উনুনের উপর ফুটন্ত কড়াইয়ের মতো সবাই ফুটতে শুরু করেন, যখন আমাদের আরেক বড়ভাই শায়খ আহমাদুল্লাহ ফরয নামাযের পরে সম্মিলিত মোনাজাত বিদয়াত বলেন। শায়খ আহমাদুল্লাহ ভাইয়ের চিন্তাচর্চায় সালাফী ও দেওবন্দী ঘরানার মিলিত অবদান রয়েছে। তিনি পড়াশোনা করেছেন বাংলাদেশের হাটহাজারী ও মেখল মাদরাসায়। পড়িয়েছেন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দু’টি কওমী মাদরাসায়—আরজাবাদ ও দারুর রাশাদ। এরপর দীর্ঘদিন সৌদি আরবের ইসলামিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। সব মিলিয়ে তাঁর মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ একটা ব্যাপার আছে।

ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার এক পর্যায়ে জানতে পারলাম, দারুল উলূম দেওবন্দে সম্মিলিত মোনাজাত করা হয়। দেওবন্দের কথা শুনে নড়েচড়ে বসতে হলো। হাটহাজারী মাদরাসা দেওবন্দের অনুকরণে প্রতিষ্ঠিত। এতদসত্ত্বেও দু’টি প্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্রভাবে চালিত হওয়ায় অমৌলিক দু’-একটা বিষয়ে ভিন্নমত দেখা যায়। ভিন্নমতের ক্ষেত্রে সবাই দারুল উলূম দেওবন্দের মাসআলাই বেশি গ্রহণ করে। কারণ দেওবন্দের গবেষণার মান নিঃসন্দেহে হাটহাজারী মাদরাসার চেয়ে ভালো।

মাসআলা যেটাই ‘অধিক শুদ্ধ’ হোক এটা তো নিশ্চিত যে, শায়খ আহমাদুল্লাহ নতুন কিছু বলেন নি। তিনি আজ যা বললেন, হাটহাজারী মাদরাসা ও মুফতী ফয়যুল্লাহ রহ.-এর অবস্থান এ-ই। এ-কারণে শায়খ আহমাদুল্লাহকে ‘ধুয়ে দেয়া’র মজেজা বুঝলাম না। আহমাদুল্লাহ ভাই যদি ভুলও বলেন, দেওবন্দে চর্চিত মাসআলার বিপরীতও যদি বলেন—এজন্য তাঁকে ধুয়ে দেয়ার আগে হাটহাজারী মাদরাসা ও মুফতী ফয়যুল্লাহ রহ.-কে ধুয়ে দেয়া উচিত। শায়খ আহমাদুল্লাহর জন্মেরও আগে মুফতী ফয়যুল্লাহ এটিকে বিদয়াত বলেছেন।

এই মাসআলায় দেওবন্দ ও হাটহাজারী মাদরাসার বিরোধ আলোচনার যোগ্যই নয়। এটি একেবারে অমৌলিক ও খুব ঠুনকো একটি বিষয়। তারপরও বিশেষভাবে এই ক্ষেত্রে হাটহাজারী মাদরাসার অবস্থানই আমার কাছে শক্তিশালী মনে হচ্ছে। হাটহাজারী মাদরাসা ও এই মাদরাসার অন্যতম চিন্তাগুরু মুফতী ফয়যুল্লাহর অবস্থান হলো— (১) ফরয নামাযের পরে (২) হাত তুলে (৩) সম্মিলিতভাবে (৪) নিয়মিত মোনাজাত করা বিদয়াত। শর্তগুলো খেয়াল করুন। সবগুলো শর্ত একত্রে পাওয়া গেলেই শুধু বিদয়াত। এসব শর্তের কোনো একটা অনুপস্থিত থাকলে বিদয়াত নয়। স্রেফ একটা পন্থায় বিদয়াত। এছাড়া আর যত পন্থা আছে, তাতে বিদয়াত হবে না। যেমন:
১. ফরয নামাযের পর একা একা হাত না তুলে অনিয়মিত মোনাজাত করা
২. ফরয নামাযের পর একা একা হাত তুলে অনিয়মিত মোনাজাত করা
৩. ফরয নামাযের পর একা একা হাত না তুলে নিয়মিত মোনাজাত করা
৪. ফরয নামাযের পর একা একা হাত তুলে নিয়মিত মোনাজাত করা
৫. ফরয নামাযের পর সম্মিলিতভাবে হাত না তুলে অনিয়মিত মোনাজাত করা
৬. ফরয নামাযের পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে অনিয়মিত মোনাজাত করা বিদয়াত নয়।

বর্তমান সময়ের অন্যতম বিজ্ঞ আলেম মাওলানা আবদুল মালেক হাফিযাহুল্লাহর একটা লেখা সম্মিলিত মোনাজাত প্রমাণ করার জন্য অনেকে পেশ করেছে। আমি লেখাটা পড়ে বুঝেছি, তিনি দালিলিকভাবে সম্মিলিত মোনাজাত সাব্যস্ত করেছেন। তবে ফরয নামাযের পরে সম্মিলিতভাবে হাত উঠিয়ে ‘নিয়মিত’ মোনাজাত সম্পর্কে তিনি কিছু বলেন নি। ফলে তাঁর অবস্থানের সঙ্গে মুফতী ফয়যুল্লাহ রহ.-এর অবস্থানের বিরোধ নেই।

যাঁরা ফরয নামাযের পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে নিয়মিত মোনাজাত করা বিদয়াত নয় বরং মুস্তাহাব বলছেন, আমার জানামতে তাঁদের দলিল হলো—

১. আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত,
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ بَسَطَ كَفَّيْهِ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ، ثُمَّ يَقُولُ: اللَّهُمَّ إِلَهِي وَإِلَهَ إِبْرَاهِيمَ ... إِلَّا كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ لَا يَرُدَّ يَدَيْهِ خَائِبَتَيْنِ
(মর্মার্থ) রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে বান্দা প্রত্যেক নামাযের পরে হাত সম্প্রসারিত করে দোয়া করে, আল্লাহর জন্য জরুরি যে তার হাত নিষ্ফল ফেরত না দেয়া। (আমালুল-ইয়াউম ওয়াল-লাইলাহ ১/১২১)

২. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَفَعَ يَدَهُ بَعْدَ مَا سَلَّمَ، وَهُوَ مُسْتَقْبَلٌ الْقِبْلَةَ فَقَالَ: اللَّهُمَّ خَلِّصِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ...
(মর্মার্থ) রাসূলুল্লাহ সা. সালাম ফেরানোর পর কিবলার দিকে ফিরে হাত তুলে দোয়া করেছেন। (তাফসীর ইবনে কাসীর ২/৩৯০)

৩. আবদুল্লাহ বিন যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত,
أن رجلاً رفع يديه بالدعاء قبل أن ينتهي من صلاته ، فلما فرغ قال له عبد الله : إن النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن يرفع يديه بالدعاء إلا بعد أن يفرغ من صلاته
একব্যক্তি নামায শেষ হওয়ার আগে হাত তুলে দোয়া করলেন। নামায শেষ হওয়ার পর আবদুল্লাহ বিন যুবাইর তাঁকে বললেন, নবী সা. কখনো নামায শেষ হওয়ার আগে দোয়ার জন্য হাত তুলতেন না।

খেয়াল করে দেখুন, এর কোনো একটা দলিল দ্বারাও ‘নিয়মিত’ মোনাজাত করা সাব্যস্ত হয় না। ফরয নামাযের পর সম্মিলিত বা একা একা মোনাজাত করার বিরোধিতা তো কেউ করছে না, শায়খ আহমাদুল্লাহও তা বলছেন না। এটাকে একমাত্র নিয়ম বানিয়ে ফেলা নিয়ে মতানৈক্য।

অন্যদিকে যাঁরা ফরয নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে নিয়মিত মোনাজাত করার বিরোধিতা করছেন, তাঁদের দলিলগুলো দেখুন। তাহলে আপনারা সহজেই তুলনা করতে পারবেন।

১. আনাস রা. থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي شَيْءٍ مِنَ الدُّعَاءِ إِلَّا فِي الِاسْتِسْقَاء
রাসূলুল্লাহ সা. ইস্তিসকা ছাড়া কখনো দোয়ার সময় হাত তোলেন নি। (মুসনাদ আবি ইয়া’লা ৫/৩৩৩, সুনান দারা কুতনী ২/৪২৬,

২. সাওবান রা. থেকে বর্ণিত,
قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا انْصَرَفَ مِنْ صَلَاتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلَاثًا وَقَالَ: اللهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
রাসূলুল্লাহ সা. যখন নামায শেষ করতেন, তিনবার ইস্তেগফার করতেন এবং আল্লাহুম্মা আনতাস-সালামা ওয়া মিনকাস-সালাম এই দোয়াটা পড়তেন। (সহীহ মুসলিম ১/৪১৪)

ইস্তেগফারও মূলত দোয়া। কিন্তু আমরা যেভাবে হাত তুলে দোয়া করি, এতে সেরকম দোয়া বোঝায় না। এই হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম আওযায়ী বলেছেন, ইস্তেগফার মানে তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়া। আমাদের প্রচলিত মোনাজাতের ধরন এটা নয়।

৩. মুয়াবিয়া রা. থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ، إِذَا فَرَغَ مِنَ الصَّلَاةِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
রাসূলুল্লাহ সা. নামায শেষ করে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু... দোয়াটি পড়তেন। (সহীহ মুসলিম ১/৪১৪)

এছাড়াও বেশ কিছু দোয়া ও যিকির রাসূল সা. থেকে বর্ণিত যে, এসবের ওপর তিনি নিয়মিত আমল করতেন।

এই সবগুলো হাদীসে নিত্যবৃত্ত অতীতকাল ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ এগুলো রাসূল সা.-এর নিয়মিত আমল ছিল। রাসূল সা. যে দোয়া করতেন, তাও বর্ণিত আছে। তা আমাদের মতো অনির্ধারিত নয়। নির্ধারিত কিছু দোয়া করতেন। হাদীসের ভাষ্যে নিত্যবৃত্ত অতীতকাল ব্যবহার দেখে বোঝা যায়, নির্ধারিত কিছু দোয়াই রাসূল সা. নিয়মিত করতেন। অন্যদিকে মোনাজাতের হাদীসগুলোতে এই ধরনের শব্দ নেই। যদি ধরেও নিই রাসূল মোনাজাত করেছেন, তা তাঁর নিয়মিত আমল ছিল না।

এ-বিষয়ে কারো দ্বিমত নেই যে, ফরয নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলত মোনাজাত মুস্তাহাব হলেও উত্তম ও সুন্নাহ হলো, হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নির্দিষ্ট দোয়া ও যিকির পাঠ করা। যা সর্বসম্মতিক্রমে উত্তম তা ছেড়ে জায়েয বা সর্বোচ্চ মুস্তাহাবের জন্য অনলাইন-যুদ্ধের যৌক্তিকতা আমি বুঝতে পারছি না।

পুনশ্চ: অনেকে ভুল বুঝবেন না যেন। মোনাজাত করা যে সাওয়াবের কাজ, এ-ব্যাপারে কারো সন্দেহ নেই। একটি হাদীসের ভাষ্যমতে দোয়া করা সমস্ত ইবাদতের মুল। দোয়া করা নিয়ে কোনো তর্ক নেই। তর্ক হলো, ফরয নামাযের পরে হাত তুলে সম্মিলিতভাবে নিয়মিত মোনাজাত করা ও একে অনিবার্য মনে করা নিয়ে।

️ 



হাবীব আনওয়ার: গভীর রাতে হাটহাজারীর বিভিন্ন  ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতার বাসা ঘেরাও করে পুলিশের হয়রানি চরম উদ্বেগজনক উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। 

আজ ১০ জুন বুধবার সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, হাটহাজারী একটি শান্তিপূর্ণ থানা।হাটহাজারীর মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়।হাটহাজারীতে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত রয়েছে।সম্প্রতি হাটহাজারীর ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতার বাসায় গভীর রাতে পুলিশের হয়রানির খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা চরম উদ্বেগজনক। এতে হাটহাজারীর শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন,দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে তা প্রশংসনীয়।  আমি সর্বসময় লাখো মানুষের বিশাল সমাবেশে দেশের আইন কানুন মেনে চলার ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারকে সহযোগিতা করতে জনগনকে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। 

তিনি আরো বলেন,হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন। হেফাজত প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইসলাম,মুসলমান, দেশ ও জাতীর কল্যাণে কাজ করে আসছে। হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীগণ এখলাছ ও নিষ্ঠার সাথে দ্বীনের জন্যই কাজ করেন।হেফাজতের মধ্যে কোন গ্রুপ নেই।আমীরে হেফাজত শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেব হুজুর আমাদের সকলের মুরুব্বি। আমি দেশবাসীর নিকট হুজুরের পরিপূর্ণ সুস্থতার জন্য দুআর আবেদন করছি।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বলতে হচ্ছে, একটি কুচক্রী মহল অসৎ উদ্দেশ্যে হেফাজত আমীর ও মহাসচিবের গ্রুপ বলে বিভ্রান্তি চড়াচ্ছে। বাস্তবে গ্রুপ কথাটির কোন ভিত্তি নেই। এটি মিথ্যা,ভিত্তিহীন ও নির্জলা মিথ্যাচার।

তিনি আরো বলেন,হাটহাজারী মাদরাসা এশিয়া বিখ্যাত একটি মাদরাসা।পুরো বিশ্বে এর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ইসলামি অঙ্গনে হাটহাজারীর গুরুত্ব অনেক বেশি।দেশবাসী ইসলামিক বিভিন্ন বিষয়ে হাটহাজারী মাদরাসা ও হাটহাজারীর ওলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন।হাটহাজারীর শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে পুরো দেশে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই আমি আশা করবো হাটহাজারীর ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতার উপর পুলিশি হয়রানি বন্ধ করে হাটহাজারীর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার,প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকলে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget